রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

বিদায়, বিচ্ছেদ ও আমরা/ সচ্চিদা নন্দ দে সদয়

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬, ১২:০৫ পূর্বাহ্ণ
বিদায়, বিচ্ছেদ ও আমরা/ সচ্চিদা নন্দ দে সদয়

সচ্চিদা নন্দ দে সদয়

বিদায় কখনো সহজ নয়। বিশেষ করে যখন বিদায় বলতে হয় এমন কাউকে, যার উপস্থিতি একটি পরিবার, একটি সমাজ কিংবা একটি জনপদের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে থাকে। তখন বিদায় শুধু একজন মানুষের প্রস্থান নয়, বরং একটি অভ্যাস, একটি অনুভূতি এবং এক ধরনের নিরাপত্তা বোধেরও অবসান ঘটায়।

 

ইতিহাস, সাহিত্য ও লোক কাহিনিতে এমন অসংখ্য বিদায়ের গল্প রয়েছে, যা যুগের পর যুগ মানুষকে আবেগ তাড়িত করেছে। কারণ মানুষ যত আধুনিকই হোক, বিচ্ছেদের বেদনা তার চিরন্তন সঙ্গী। প্রিয় মানুষকে হারানোর ভয়, দূরে চলে যাওয়ার কষ্ট কিংবা স্মৃতির ভারÑএসব অনুভূতি সময় ও সমাজের সীমা অতিক্রম করে সব মানুষের জীবনেই কমবেশি উপস্থিত। একটি জনপদের কথা কল্পনা করা যাক, যেখানে একজন তরুণের উপস্থিতি ছিল সবার জীবনের অংশ। তিনি ছিলেন শিশুদের খেলার সাথি, বৃদ্ধদের আনন্দের কারণ, বন্ধুদের নির্ভরতার জায়গা এবং পরিবারের সবচেয়ে আদরের সদস্য। প্রতিদিন সকালে তাঁকে না দেখে কারও দিন শুরু হতো না। মাঠে, নদীর পাড়ে, বাজারে কিংবা গ্রামের পথ ঘাটে তাঁর পদচারণা ছিল পরিচিত দৃশ্য।

হঠাৎ একদিন খবর এল, তাঁকে চলে যেতে হবে। জীবনের নতুন দায়িত্ব, নতুন সংগ্রাম এবং বৃহত্তর বাস্তবতার মুখোমুখি হওয়ার সময় এসেছে। হয়তো তিনি নিজেও যেতে চাননি, কিন্তু সময়ের দাবি উপেক্ষা করার সুযোগ ছিল না। খবরটি ছড়িয়ে পড়ার পর পুরো এলাকায় এক ধরনের অদ্ভুত নীরবতা নেমে এল। মানুষ বুঝতে পারছিল না, কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবে। কেউ প্রকাশ্যে কিছু বলছিল না, কিন্তু সবার ভেতরেই ছিল এক ধরনের শূন্যতা।

 

পরিবারের সদস্যদের অবস্থা ছিল সবচেয়ে কঠিন। একজন মা তাঁর সন্তানের ভবিষ্যতের কথা ভেবে আনন্দিত হওয়ার চেষ্টা করেন, কিন্তু মনের গভীরে জমে থাকা কষ্ট লুকাতে পারেন না। সন্তানের জন্য রান্না করতে করতে হঠাৎ থমকে যান। মনে পড়ে, আর হয়তো প্রতিদিন তাঁর জন্য খাবার পরিবেশন করা হবে না। একজন বাবা বাইরে থেকে নিজেকে দৃঢ় রাখার চেষ্টা করেন। পরিবারের অন্যদের সাহস দেন। কিন্তু একা হলে তাঁর মনেও প্রশ্ন জাগেÑযে সন্তানকে এতদিন নিজের চোখের সামনে বড় হতে দেখেছেন, সে হঠাৎ এত দূরে চলে যাবে কীভাবে?

বন্ধুদের অবস্থাও কম বেদনাদায়ক নয়। প্রতিদিন একসঙ্গে কাটানো সময়, আড্ডা, হাসি-ঠাট্টা, পরিকল্পনাÑসবকিছু যেন এক মুহূর্তে স্মৃতিতে পরিণত হতে শুরু করে। তারা জানে, যোগাযোগ থাকবে, ফোনে কথা হবে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে খবর পাওয়া যাবে। তবুও কাছের মানুষকে পাশে না পাওয়ার অভাব কোনো প্রযুক্তিই পূরণ করতে পারে না। বিদায়ের দিন যত ঘনিয়ে আসে, মানুষের আবেগ তত তীব্র হতে থাকে। অনেক সময় দেখা যায়, যাঁরা সাধারণত খুব বেশি আবেগ প্রকাশ করেন না, তাঁরাও সেই মুহূর্তে চোখের জল লুকাতে পারেন না।

 

বিদায়ের দৃশ্যগুলো প্রায় সব জায়গাতেই একই রকম। কেউ বারবার প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেয়। কেউ শেষবারের মতো জড়িয়ে ধরে। কেউ ভবিষ্যতের জন্য শুভ কামনা জানায়। আবার কেউ নীরবে দূরে দাঁড়িয়ে থাকে, কারণ তার পক্ষে নিজের অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব হয় না। মানুষের জীবনে এমন বিদায়ের ঘটনা নতুন নয়। গ্রাম থেকে শহরে পড়তে যাওয়া শিক্ষার্থী, বিদেশে পাড়ি জমানো শ্রমিক, চাকরির প্রয়োজনে অন্য জেলায় চলে যাওয়া তরুণ কিংবা যুদ্ধক্ষেত্রে যাওয়া সৈনিকÑসবার জীবনেই এমন মুহূর্ত আসে। বাংলাদেশের বাস্তবতাও এর ব্যতিক্রম নয়।

 

দেশের লাখো মানুষ জীবিকার সন্ধানে পরিবার ছেড়ে দূরে বসবাস করেন। কেউ রাজধানীতে, কেউ শিল্পাঞ্চলে, কেউ বিদেশে। তাঁদের অনেকেই বছরের পর বছর প্রিয়জনদের কাছ থেকে দূরে থাকেন। একজন প্রবাসী শ্রমিক যখন গ্রামের বাড়ি থেকে বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা দেন, তখন তাঁর পরিবারের আবেগ অনেকটা একই রকম থাকে। মা কান্না করেন, বাবা চুপচাপ থাকেন, স্ত্রী ভবিষ্যতের স্বপ্ন আর বিচ্ছেদের কষ্টের মধ্যে দোদুল্যমান থাকেন, সন্তান বুঝতে না পারলেও বাবার অনুপস্থিতি পরে অনুভব করতে শুরু করে। এ ধরনের বিচ্ছেদ শুধু মানুষের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না। অনেক সময় একটি পুরো সমাজও তার প্রভাব অনুভব করে।

 

একজন জনপ্রিয় শিক্ষক অন্যত্র বদলি হলে শিক্ষার্থীরা মন খারাপ করে। একজন দক্ষ চিকিৎসক চলে গেলে রোগীরা উদ্বিগ্ন হয়। একজন সমাজসেবক কিংবা সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব অন্যত্র চলে গেলে একটি জনপদ তার অভাব অনুভব করে। কারণ মানুষের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক কেবল প্রয়োজনের ভিত্তিতে গড়ে ওঠে না। দীর্ঘদিনের সহাবস্থান, বিশ্বাস, ভালোবাসা ও স্মৃতির সমন্বয়ে একটি অদৃশ্য বন্ধন তৈরি হয়। আর সেই বন্ধনেই বিচ্ছেদ কষ্টদায়ক হয়ে ওঠে। মনোবিজ্ঞানীরা বলেন, মানুষ স্বভাবগতভাবে সম্পকর্ নির্ভর প্রাণী।

 

পরিবার, বন্ধু, প্রতিবেশী এবং পরিচিত সামাজিক পরিবেশ তাকে মানসিক নিরাপত্তা দেয়। যখন সেই পরিবেশে বড় ধরনের পরিবর্তন আসে, তখন মানুষের মনে শূন্যতা তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। তবে বিচ্ছেদের একটি ইতিবাচক দিকও রয়েছে। অনেক সময় দূরত্ব মানুষকে সম্পর্কের প্রকৃত মূল্য উপলব্ধি করতে সাহায্য করে। যাঁকে প্রতিদিন দেখা যায়, তাঁর গুরুত্ব অনেক সময় আমরা বুঝতে পারি না। কিন্তু তিনি দূরে চলে গেলে তাঁর অনুপস্থিতি আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়, তিনি আমাদের জীবনে কতটা গুরুত্বপূর্ণ ছিলেন। এ কারণেই বহু সম্পর্ক বিচ্ছেদের পর আরও গভীর হয়ে ওঠে।

 

দূরত্ব মানুষকে স্মৃতিময় করে তোলে। অতীতের ছোট ছোট মুহূর্তগুলো তখন নতুন অর্থ পায়। একসঙ্গে হাঁটা, এক কাপ চা ভাগাভাগি করে খাওয়া, বিকেলের আড্ডা, কোনো উৎসবে একত্র হওয়াÑএসব সাধারণ ঘটনা পরবর্তীকালে অমূল্য স্মৃতিতে পরিণত হয়। সাহিত্যে বিচ্ছেদ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বাংলা সাহিত্যেও এর অসংখ্য উদাহরণ রয়েছে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর থেকে শুরু করে জীবনানন্দ দাশ, শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় থেকে বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়Ñঅনেক লেখক তাঁদের সৃষ্টিতে বিচ্ছেদের অনুভূতিকে গভীরভাবে তুলে ধরেছেন। কারণ বিচ্ছেদ মানুষের হৃদয়ের এমন একটি অভিজ্ঞতা, যা প্রায় সবাই কোনো না কোনোভাবে অনুভব করে।

 

ফলে পাঠক খুব সহজেই এসব গল্পের সঙ্গে নিজেকে মিলিয়ে নিতে পারেন। বর্তমান যুগে যোগাযোগ প্রযুক্তির ব্যাপক উন্নয়ন ঘটেছে। ভিডিও কল, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, তাৎক্ষণিক বার্তা আদান-প্রদানÑসবকিছুই মানুষকে আগের তুলনায় অনেক বেশি সংযুক্ত রেখেছে। তবুও বিচ্ছেদের বেদনা কমেনি। কারণ প্রযুক্তি কণ্ঠস্বর পৌঁছে দিতে পারে, ছবি দেখাতে পারে, কিন্তু প্রিয় মানুষের উপস্থিতির অনুভূতি পুরোপুরি পৌঁছে দিতে পারে না। একজন মা ভিডিও কলে সন্তানের মুখ দেখতে পারেন, কিন্তু সন্তানের মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে পারেন না। একজন বন্ধু অনলাইনে কথা বলতে পারেন, কিন্তু একসঙ্গে বসে চায়ের কাপ ভাগাভাগি করতে পারেন না। এই সীমাবদ্ধতার কারণেই মানুষ আজও সম্পর্কের উষ্ণতাকে মূল্য দেয়।

 

বিদায়ের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো স্মৃতি। মানুষ চলে যায়, কিন্তু স্মৃতি থেকে যায়। কখনো কোনো পথ, কোনো গাছ, কোনো ঘাট কিংবা কোনো পুরোনো বাড়ি একজন মানুষের স্মৃতি বহন করে। অনেক বছর পর সেই জায়গায় গেলে হঠাৎ মনে পড়ে যায়, এখানে একসময় কার সঙ্গে হাঁটা হয়েছিল, কোথায় বসে গল্প করা হয়েছিল, কিংবা কোন মুহূর্তটি জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছিল। স্মৃতি মানুষের জীবনে এক অদ্ভুত শক্তি হিসেবে কাজ করে। এটি একদিকে কষ্ট দেয়, অন্যদিকে সান্ত¡নাও দেয়। কারণ স্মৃতির মধ্যেই মানুষ হারিয়ে যাওয়া সময়কে খুঁজে পায়।সময়ের সঙ্গে সঙ্গে জীবনের গতি বদলে যায়।

 

নতুন মানুষ আসে, নতুন সম্পর্ক গড়ে ওঠে, নতুন দায়িত্ব তৈরি হয়। কিন্তু কিছু মানুষ এবং কিছু মুহূর্ত হৃদয়ের গভীরে স্থায়ী আসন গড়ে নেয়। তাঁরা হয়তো শারীরিক ভাবে উপস্থিত থাকেন না, কিন্তু তাঁদের প্রভাব থেকে যায়। একজন শিক্ষকের শিক্ষা, একজন বন্ধুর সহযোগিতা, একজন অভিভাবকের স্নেহ কিংবা একজন প্রিয়জনের ভালোবাসা মানুষের চরিত্র ও জীবন বোধকে দীর্ঘ সময় ধরে প্রভাবিত করে। তাই বিদায়কে সবসময় শেষ হিসেবে দেখা যায় না। অনেক সময় বিদায় একটি নতুন অধ্যায়ের শুরু।

 

যে তরুণটি একদিন নিজের গ্রাম ছেড়ে বেরিয়ে যায়, সে হয়তো পরে সফল হয়ে ফিরে আসে। যে শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষার জন্য দূরে যায়, সে অর্জিত জ্ঞান নিয়ে সমাজের কল্যাণে কাজ করে। যে শ্রমিক বিদেশে যায়, সে পরিবারের আর্থিক অবস্থার উন্নয়ন ঘটায়। অর্থাৎ বিচ্ছেদের মধ্যে ভবিষ্যতের সম্ভাবনাও লুকিয়ে থাকে।তবুও মানুষ বিদায়ের মুহূর্তে কাঁদে। কারণ আবেগ যুক্তির চেয়ে শক্তিশালী। হৃদয় জানে, সামনে ভালো কিছু অপেক্ষা করছে; কিন্তু একই সঙ্গে এটাও জানে, পরিচিত সময় আর আগের মতো ফিরে আসবে না। এটাই বিদায়ের সবচেয়ে বড় সত্য। জীবনের প্রতিটি অধ্যায়ের একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা রয়েছে।

 

শৈশব, কৈশোর, শিক্ষাজীবন, কর্মজীবনÑসবকিছুই একসময় পরিবর্তিত হয়। মানুষকে এগিয়ে যেতে হয়। কিন্তু এগিয়ে যাওয়ার অর্থ অতীতকে ভুলে যাওয়া নয়। বরং অতীতের স্মৃতি, সম্পর্ক ও শিক্ষা নিয়েই মানুষ সামনে এগিয়ে যায়। তাই কোনো প্রিয় মানুষের বিদায় আমাদের কষ্ট দিলেও সেটি জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দেয়। তা হলোÑসম্পর্কের মূল্য বুঝতে হলে তাকে যতœ করতে হয়, সময় দিতে হয় এবং কাছে থাকা অবস্থাতেই তার গুরুত্ব উপলব্ধি করতে হয়। কারণ মানুষ চিরকাল পাশে থাকে না।

 

সময় একসময় তাকে নতুন পথে নিয়ে যায়। কিন্তু ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও স্মৃতি থেকে যায়। আর সেখানেই বিদায়ের গভীর তাৎপর্য। বিদায় মানে শুধু চলে যাওয়া নয়; বিদায় মানে এমন কিছু রেখে যাওয়া, যা দীর্ঘদিন মানুষের হৃদয়ে বেঁচে থাকে। কোনো কোনো বিদায় তাই একটি যুগের সমাপ্তি নয়, বরং অসংখ্য স্মৃতির সূচনা। এই কারণেই যুগে যুগে বিচ্ছেদের গল্প মানুষকে কাঁদিয়েছে, ভাবিয়েছে এবং নতুন করে সম্পর্কের মূল্য উপলব্ধি করতে শিখিয়েছে।

লেখক: সংবাদ কর্মী

 

 

 

 

 

 

Ads small one

খুলনায় ফজরের নামাজের সময় অস্ত্র নিয়ে মসজিদে ঢুকে মুসল্লিদের গুলি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬, ১২:৫০ পূর্বাহ্ণ
খুলনায় ফজরের নামাজের সময় অস্ত্র নিয়ে মসজিদে ঢুকে মুসল্লিদের গুলি

খুলনায় ফজরের নামাজ চলাকালে মসজিদের ভেতরে ঢুকে মুসল্লিকে লক্ষ্য করে গুলির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় মসজিদ কমিটির এক নেতাসহ দুই জন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। তাদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

রবিবার (১৪ জুন) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে নগরের দৌলতপুর থানার পশ্চিম কাশীপুর বিদ্যুৎকেন্দ্র জামে মসজিদে এ ঘটনা ঘটে।

গুলিবিদ্ধ ব্যক্তিরা হলেন- মসজিদ কমিটির সেক্রেটারি লোকমান হাকিম (৪৫) ও আলম শেখ (৫৫)।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ফজরের নামাজ চলাকালে কয়েকজন সশস্ত্র দুর্বৃত্ত আকস্মিকভাবে মসজিদের ভেতরে ঢোকে। তারা সরাসরি লোকমান হাকিমকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এতে আলম শেখও গুলিবিদ্ধ হন। রক্তাক্ত অবস্থায় তারা মসজিদের মেঝেতে লুটিয়ে পড়েন। দুর্বৃত্তরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

গুলির শব্দ শুনে অন্য মুসল্লি ও স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে যান। পরে তারা আহত দুই জনকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে লোকমান হাকিমের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকদের পরামর্শে জরুরি ভিত্তিতে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়।

খুলনা মহানগর পুলিশের সহকারী পুলিশ কমিশনার (দৌলতপুর জোন) শফিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। আশপাশের সিসিটিভি ক্যামেরা ফুটেজ সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। হামলার সঠিক কারণ এবং জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় উদ্ঘাটনে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে।

পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘লোকমান হাকিম ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (ওজোপাডিকো) একজন ঠিকাদার ও জ্বালানি তেল ব্যবসায়ী। পূর্বশত্রুতার জেরে এ হামলার ঘটনা ঘটেছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’

নারীদের জন্য হচ্ছে দুটি বিশেষায়িত হাসপাতাল, নিয়োগ পাবে ১ লাখ কর্মী: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬, ১২:৩৭ পূর্বাহ্ণ
নারীদের জন্য হচ্ছে দুটি বিশেষায়িত হাসপাতাল, নিয়োগ পাবে ১ লাখ কর্মী: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, ‘দেশের মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে কাজ করছে সরকার। সারা দেশে শুধু নারীদের জন্য দেড় হাজার শয্যার দুটি বিশেষায়িত হাসপাতাল করা হবে। এতে নিয়োগ পাবে এক লাখ কর্মী। এ ছাড়া সারা দেশে ১ হাজার শয্যার ২০টি হাসপাতাল করা হবে।’

রবিবার (১৪ জুন) সকাল ১০টায় নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে (ভিক্টোরিয়া) আয়োজিত অনুষ্ঠানে ১০ জেলায় নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

অনুষ্ঠান থেকে একযোগে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালসহ (ভিক্টোরিয়া) ১০টি জেলায় আইসিইউ উদ্বোধন করা হয়। ভার্চুয়ালি উদ্বোধন করা হয় মুন্সিগঞ্জ, টাঙ্গাইল, সুনামগঞ্জ, গোপালগঞ্জ, চুয়াডাঙ্গা, যশোর, শেরপুর, মাদারীপুর ও বাগেরহাট জেলা হাসপাতালের আইসিইউ।

বাজেট প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বাজেটে আমাদের নেতা তারেক রহমান দিকনিদের্শনা দিয়েছেন। শুধু টাকা নয়, কীভাবে দেশটাকে উন্নত করা যাবে, কোথায় কোথায় উন্নতি করতে হবে, তার আভাস দিয়েছেন জাতিকে। স্বাস্থ্য খাতে জিডিপির ১ দশমিক শূন্য ২ শতাংশ, অর্থাৎ ৬৯ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছেন। স্বাস্থ্য খাতকে জনগণের দোরগোড়ায় নিয়ে যাওয়ার জন্য কাজ করছে সরকার।’

সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘বাংলাদেশে শুধু মেয়েদের জন্য দুটি স্পেশালাইজড (বিশেষায়িত) হাসপাতাল হবে। একেকটি হাসপাতাল হবে ১ হাজার ৫০০ শয্যার। হাসপাতাল দুটিতে চারটি কিডনি অ্যানালাইসিস, ডায়ালাইসিস সেন্টার থাকবে। মেয়েদের ব্রেস্ট ক্যানসারের চিকিৎসা, প্রসূতির ডেলিভারি ও জেনারেল হাসপাতাল থাকবে। সারা দেশে ১ হাজার শয্যার ২০টি হাসপাতাল হবে। পাঁচটি করে অত্যাধুনিক অ্যাম্বুলেন্স দেওয়া হবে। চারটি হেলিকপ্টার থাকবে। আমাদের প্রধানমন্ত্রী স্বাস্থ্যসেবায় একটি বৈপ্লবিক পরিবর্তনের চিন্তাভাবনা করছেন। ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে, যার মধ্যে ৮০ হাজার হবে নারী। আমাদের ১০টি জেলায় আইসিইউ সেবা চালু করেছি। একটু শ্বাসকষ্ট হলেই রেফার করবেন না।’

স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব কামরুজ্জামান চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য আবুল কালাম, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেন খান, নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মামুন মাহমুদ, নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মাশুকুল ইসলাম। অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, স্বাস্থ্য অধিদফতরের ঢাকা বিভাগীয় পরিচালক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক রায়হান কবির, পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান মুন্সী ও জেলা সিভিল সার্জন মুশিউর রহমান।

আর্জেন্টিনা দলে নতুন ‘সমস্যা’

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬, ১২:৩৫ পূর্বাহ্ণ
আর্জেন্টিনা দলে নতুন ‘সমস্যা’

কানসাসে আজও অনুশীলন করবে আর্জেন্টিনা দল। তবে সেখানে সাংবাদিকদের প্রবেশের অনুমতি নেই। ফুটবলের ভাষায় যাকে বলা হয় ‘ক্লোজড ডোর’ অনুশীলন। ফলে কানসাসে গিয়েও অনেকের মেসিদের অনুশীলন না দেখতে পারার আক্ষেপ থেকেই যাচ্ছে।

তবে আর্জেন্টিনা এগোচ্ছে নিজেদের পরিকল্পনা অনুযায়ী। ৩৬ বছর পর গতবার বিশ্বকাপ জিতেছে লিওনেল মেসির দল। এবার সেই শিরোপা ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ। ফলে দলটির ওপর বাড়তি চাপ থাকাটাই স্বাভাবিক। এর মধ্যেই কোচ লিওনেল স্কালোনির সামনে দেখা দিয়েছে নতুন এক ‘সমস্যা’।

আগামী বুধবার সকাল ৭টায় বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে আলজেরিয়ার মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা। তার আগে শুরুর একাদশে ‘নাম্বার নাইন’ পজিশন নিয়ে মধুর সমস্যায় পড়তে হচ্ছে স্কালোনিকে।

এতদিন লাওতারো মার্তিনেজকে ঘিরেই এগোচ্ছিলেন আর্জেন্টাইন কোচ। তিনিই ছিলেন স্কালোনির প্রথম পছন্দ। কারণ হুলিয়ান আলভারেজ আগে থেকেই পায়ের গোড়ালির চোটে ভুগছিলেন। তাঁর অনুপস্থিতিতে হন্ডুরাস ও আইসল্যান্ডের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে লাওতারোকেই খেলানো হয়েছে।

স্কালোনির আস্থার প্রতিদানও দিয়েছেন লাওতারো। হন্ডুরাসের বিপক্ষে বল পায়ে ছিলেন উজ্জ্বল। একটি গোল করার পাশাপাশি সতীর্থ জুলিয়ানো সিমিওনেকেও গোল করিয়েছেন।

তবে এখন পরিস্থিতি বদলে গেছে। চোট কাটিয়ে ফিরেছেন আলভারেজ। ফলে আক্রমণভাগ নিয়ে নতুন করে পরিকল্পনা সাজাতে হচ্ছে স্কালোনিকে। এরই মধ্যে দলের সঙ্গে অনুশীলনও শুরু করেছেন তিনি। ফলে আলভারেজ ও লাওতারোর মধ্যে জায়গার লড়াই আরও জমে উঠেছে। বিশেষ করে অনুশীলনে কোচের মন জয় করাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

তবে এখনই চূড়ান্ত কিছু বলা কঠিন। শুরুর একাদশে ‘নাম্বার নাইন’ হিসেবে কে খেলবেন, তা জানতে শেষ পর্যন্ত অপেক্ষা করতেই হবে। টিওয়াইসি স্পোর্টস জানিয়েছে, আলভারেজ ফিটনেস পরীক্ষায় উতরে গেলে কোচের পছন্দের তালিকায় এগিয়ে থাকতে পারেন।

অবশ্য দুজনই আছেন দুর্দান্ত ফর্মে। ক্লাব ফুটবলেও নিয়মিত পারফর্ম করছেন তারা। লা লিগার দল অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদের হয়ে আলভারেজ ৪৯ ম্যাচে করেছেন ২০ গোল। অন্যদিকে ইন্টার মিলানের জার্সিতে লাওতারোর গোল ৪১ ম্যাচে ২২টি।

তবে কাতার বিশ্বকাপের পারফরম্যান্স বিবেচনায় আলভারেজ কিছুটা এগিয়ে। ওই আসরে সাত ম্যাচে চার গোল করার পাশাপাশি একটি অ্যাসিস্টও করেছিলেন তিনি। অন্যদিকে লাওতারো ছয় ম্যাচ খেলেও গোলের দেখা পাননি।

স্কালোনি বিচক্ষণ কোচ। কাতার বিশ্বকাপের অভিজ্ঞতা, সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স ও খেলোয়াড়দের ফিটনেস বিবেচনা করেই তিনি একাদশ ঠিক করবেন। ম্যাচের আগেই সেই চিত্র পরিষ্কার হয়ে যাবে।