মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ২ আষাঢ় ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ২ আষাঢ় ১৪৩৩

সম্পাদকীয়/অনিয়মিত বিদ্যুৎ ও নিয়মিত দুর্ভোগ: সমাধান কোথায়?

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬, ১২:৩৬ পূর্বাহ্ণ
সম্পাদকীয়/অনিয়মিত বিদ্যুৎ ও নিয়মিত দুর্ভোগ: সমাধান কোথায়?

গ্রীষ্মের প্রচ- দাবদাহ আর আষাঢ়ের ভ্যাপসা গরমে সাতক্ষীরা জেলার জনজীবন বর্তমানে এক চরম বিপর্যয়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। দিনে-রাতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লোডশেডিংয়ের কারণে জেলার কয়েক লাখ গ্রাহকের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা স্থবির হয়ে পড়েছে। গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, শহরের তুলনায় গ্রামাঞ্চলে, বিশেষ করে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতাধীন এলাকাগুলোতে এই পরিস্থিতি আরও বেশি শোচনীয়। চাহিদার তুলনায় বরাদ্দের এই বিশাল ঘাটতি কেবল যে মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে বিষিয়ে তুলছে তা নয়, বরং স্থবির করে দিচ্ছে জেলার সামগ্রিক অর্থনীতিকে।
বিদ্যুৎ সংকটের এই ভয়াবহ প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ছে শিশু, বৃদ্ধ এবং শিক্ষার্থীদের ওপর। প্রচ- গরমে একদিকে যেমন রোগব্যাধির প্রকোপ বাড়ছে, অন্যদিকে লোডশেডিংয়ের কারণে স্কুলপড়ুয়া ছেলেমেয়েদের পড়াশোনা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। আধুনিক ডিজিটাল বাংলাদেশে যখন গ্রামাঞ্চলের শিক্ষার্থীদের বাধ্য হয়ে মোমবাতি কিংবা হারিকেন জ্বালিয়ে পড়তে বসতে হয়, তখন তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক ও দুর্ভাগ্যজনক বাস্তবতাকে স্মরণ করিয়ে দেয়।
কেবল গৃহস্থালি ভোগান্তিই নয়, এই বিদ্যুৎ বিপর্যয় সাতক্ষীরার ব্যবসা-বাণিজ্য ও রাজস্ব আদায়ে বড় ধরনের আঘাত হানছে। জেলার অন্যতম অর্থনৈতিক চালিকাশক্তি ভোমরা স্থলবন্দর ও কাস্টমস হাউস। বর্তমানের শতভাগ অনলাইননির্ভর দাপ্তরিক যুগে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় ইন্টারনেট ও কম্পিউটার বন্ধ থাকছে। ফলে আমদানি-রপ্তানি পণ্যের ফাইল তদারকি ও পণ্য খালাসে দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হচ্ছে, যা দেশের সামগ্রিক রাজস্ব আয়ের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। পাশাপাশি ঘন ঘন ভোল্টেজ ওঠানামা করায় সাধারণ মানুষের বাসাবাড়ির ফ্রিজ, টেলিভিশনসহ দামি বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম যেমন নষ্ট হচ্ছে, তেমনই কলকারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়ছেন শিল্পোদ্যোক্তারা।
পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির বক্তব্য অনুযায়ী, চাহিদার তুলনায় বরাদ্দ কম থাকার কারণেই তারা এলাকাভিত্তিক ‘ফিডার’ ধরে লোডশেডিং দিতে বাধ্য হচ্ছেন। আমরা বুঝি, জাতীয় গ্রিড থেকে পর্যাপ্ত সরবরাহ না পেলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সীমাবদ্ধতা থাকে। কিন্তু এই তীব্র গরমে দিনের পর দিন এভাবে একটি উৎপাদনশীল জেলাকে অন্ধকারে ডুবিয়ে রাখা কোনো টেকসই সমাধান হতে পারে না।
আমরা মনে করি, সাতক্ষীরার অর্থনৈতিক গুরুত্ব বিবেচনা করে এই জেলায় বিদ্যুতের বরাদ্দ অবিলম্বে বাড়ানো প্রয়োজন। বিদ্যুৎ বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের উচিত দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে জাতীয় গ্রিড থেকে সাতক্ষীরায় বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা। একই সঙ্গে, লোডশেডিং যদি দিতেই হয়, তবে তা যেন সুনির্দিষ্ট ও পরিকল্পিত সূচি মেনে দেওয়া হয়, যাতে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা মানসিকভাবে এবং কর্মক্ষেত্রে আগাম প্রস্তুতি নিতে পারেন। আমরা আশা করি, বিদ্যুৎ বিভাগ স্রেফ ‘চেষ্টা চলছে’ আশ্বাসের বৃত্ত থেকে বেরিয়ে দ্রুততম সময়ে সাতক্ষীরাবাসীকে এই দুঃসহ পরিস্থিতি থেকে মুক্তি দেবে।

Ads small one

তালায় বীমার নামে ২৫ লক্ষ টাকার আত্মসাতের প্রতিবাদে মানববন্ধন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬, ১২:৩৯ পূর্বাহ্ণ
তালায় বীমার নামে ২৫ লক্ষ টাকার আত্মসাতের প্রতিবাদে মানববন্ধন

নিজস্ব প্রতিনিধি: তালা সদর ইউনিয়নের সংরক্ষিত ৪, ৫, ৬ নং ওয়ার্ডের সদস্য সাহিদা বেগমের বিরুদ্ধে বীমার নামে ১শত ৮ জনের ২৫লক্ষ টাকার আত্মসাতের অভিযোগে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন ভুক্তোভোগী পরিবার। এসময় ভুক্তোভোগীরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), থানা পুলিশ, জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) বিকেল ৪টায় উপজেলার ডাঙ্গা নলতা মাঝারপাড়া এলাকায় অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে ডাঙ্গানলতা, জাতপুর, আটরাই, খানপুর, জেয়ালা ও আশপাশের এলাকার শতাধিক ভুক্তভোগী অংশগ্রহণ করেন। পপুলার হেলথ এন্ড এডুকেশন সঞ্চয় ও ঋণদান কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেডের নামে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে সংগৃহীত প্রায় ২৫লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারী বক্তরা হলেন, কতুব উদ্দীন মাহমুদ, নুর আলি শেখ, পীর আলি শেখ, কালাম মাহামুদ, আরিজুল মালি, জহিরুল ইসলাম, জিহাদ মালি, নীলিমা বেগম, সুফিয়া বেগম, পারভীন, সুফিয়া রশিদা, রিজিয়া,সোরাইয়া, মুক্তা প্রমুখ।
সমাবেশ ও মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন তালা সদর ইউনিয়নের ৪, ৫ ও ৬নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত সদস্য, জামায়াতে ইসলামীর মহিলা রোকন, পরলোভী, অর্থ আত্মসাতকারী সাহিদা বেগম পপুলার হেলথ এন্ড এডুকেশন সঞ্চয় ও ঋণদান কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেডের কর্মী হিসেবে পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন প্রলোভন ও অধিক মুনাফার আশ্বাস দিয়ে এলাকার সাধারণ মানুষকে সদস্য করেন। পরে প্রায় ১০৮ জন সদস্যের কাছ থেকে সঞ্চয় ও বীমার নামে প্রায় ২৫ লাখ টাকা সংগ্রহ করা হয়।
ভুক্তভোগীরা জানান, প্রতিষ্ঠানটির বীমা প্রকল্পের মেয়াদ ছিল ৫ বছর। কিন্তু বীমার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও ৮ থেকে ৯ বছর অতিবাহিত হলেও তারা তাদের জমাকৃত টাকা ও প্রাপ্য মুনাফা ফেরত পাননি। বারবার টাকা ফেরতের জন্য যোগাযোগ করা হলেও নানা অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
তারা আরও জানান, দিনমজুরির আয়, ভ্যান চালানোর উপার্জন, ডিম বিক্রির টাকা, ক্ষুদ্র ব্যবসার লাভ এবং প্রবাসী স্বজনদের পাঠানো অর্থসহ কষ্টার্জিত সঞ্চয় ওই প্রতিষ্ঠানে জমা রেখেছিলেন। কিন্তু নির্ধারিত সময় পার হওয়ার পরও অর্থ ফেরত না পেয়ে তারা চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন।
বক্তারা বলেন, বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিক সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সালিশে সাহিদা বেগম নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে টাকা পরিশোধের অঙ্গীকার করে স্ট্যাম্প ও ব্ল্যাংক চেক প্রদান করেন। কিন্তু প্রতিশ্রুত সময় পেরিয়ে গেলেও তিনি অর্থ পরিশোধ করেননি বলে অভিযোগ করা হয়।
মানববন্ধনে বক্তরা আরও বলেন, বিষয়টি নিয়ে জামায়াতে ইসলামী সাতক্ষীরা জেলা আমীর, উজেলা আমীর, ইউনিয়ন আমীরসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতাদের কাছে অভিযোগ দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত তারা কোনো কার্যকর প্রতিকার পাননি। দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে আত্মসাতের অভিযোগের সুষ্ঠু বিচার এবং ভুক্তভোগীদের পাওনা অর্থ ফেরত দেওয়ার দাবি জানান তারা।
তবে অভিযোগের বিষয়ে সংরক্ষিত মহিলা সদস্য শাহিদা বেগমের কাছে মোবাইল ফোনে জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে বলেন আমি খুলনা থেকে বাড়িতে আসছি। গাড়িতে থাকায় কিছু শোনা যাচ্ছেনা বলে মোবাইল সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন ।

বিশ্বজুড়ে সংকটে শরণার্থী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬, ১২:৩৬ পূর্বাহ্ণ
বিশ্বজুড়ে সংকটে শরণার্থী

প্রকাশ ঘোষ বিধান
বিশ্বজুড়ে রেকর্ড সংখ্যক মানুষ যুদ্ধ, সহিংসতা ও নিপীড়নের কারণে বাস্তুচ্যুত হচ্ছে। তাই মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে তাদের পাশে দাঁড়ানো আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়সহ আমাদের সবার দায়িত্ব। শরণার্থীদের প্রতি মানবিক হোন, এই আহ্বান অত্যন্ত সময়োপযোগী ও বৈশ্বিক নৈতিকতার দাবি।
আদিকাল থেকে নিপীড়ন থকে বাঁচতে অনেকে মাতৃভূমি ত্যাগ করেছেন। শরণার্থীর বেঁচে থাকার এবং নিরাপদে আশ্রয় খোঁজার মৌলিক মানবাধিকার রয়েছে। তাদের সঙ্গে কোনো প্রকার বৈষম্যমূলক আচরণ না করে সহানুভূতিশীল হওয়া প্রয়োজন। শরণার্থীদের প্রতি মানবিক আচরণ করা আমাদের নৈতিক ও বৈশ্বিক দায়িত্ব। বলপ্রয়োগ, যুদ্ধ এবং সহিংসতার কারণে নিজের মাতৃভূমি ছাড়তে বাধ্য হওয়া এই মানুষদের পাশে দাঁড়ানো প্রতিটি সচেতন নাগরিকের কর্তব্য।
২০ জুন বিশ্ব শরণার্থী দিবস। ২০০১ সালের ২০ জুন প্রথম বিশ্ব শরণার্থী দিবস পালিত হয়। ২০০০ সালের ডিসেম্বরের আগে দিবসটি আফ্রিকা শরণার্থী দিবস হিসেবে পালিত হতো। ১৯৫১ সালে শরণার্থীদের স্বীকৃতির বিষয়ে জাতিসংঘের সনদ গৃহীত হয়।
নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে ছুটে আসা এই মানুষগুলোর জন্য খাবার, বস্ত্র, চিকিৎসা ও আশ্রয়ের মতো জরুরি সহায়তা প্রয়োজন হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা নিজ নিজ অবস্থান থেকে শরণার্থীদের মানবেতর জীবনযাপন সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করা এবং তাদের প্রতি সহানুভূতিশীল হতে অন্যদের উৎসাহিত করা। বাস্তুচ্যুতদের পুনর্বাসন ও সুরক্ষায় কাজ করে এমন বিশ্বস্ত সংস্থাগুলোকে সহায়তা বা অনুদান প্রদান করতে পারেন।
বিশ্বজুড়ে দিন দিন বেড়েই চলেছে শরণার্থীদের সংখ্যা। বিশ্বজুড়ে যুদ্ধ, সংঘাত ও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা প্রায় ১২ কোটি, যার মধ্যে প্রায় ৪ কোটিরও বেশি মানুষ আন্তর্জাতিক শরণার্থী। ক্রমবর্ধমান এই বাস্তুচ্যুতির বিপরীতে জাতিসংঘের ইউএনএইচসিআর-এর তহবিল ও অন্যান্য মানবিক সহায়তা উল্লেখযোগ্য হারে কমে গেছে। এর ফলে বিশ্বজুড়ে লাখ লাখ শরণার্থী তীব্র খাদ্য সংকট ও মানবেতর জীবনযাপনে বাধ্য হচ্ছেন।
জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থার সর্বশেষ বৈশ্বিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুদ্ধ, সংঘাত, নিপীড়ন এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের কারণে বর্তমানে বিশ্বজুড়ে অন্তত ১১ কোটি ৭৮ লাখ মানুষ জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত অবস্থায় জীবনযাপন করছেন। মোট বাস্তুচ্যুত মানুষের মধ্যে প্রায় ৪ কোটি ৫০ লাখই শিশু। অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুত হয়ে ৬ কোটি ৮৬ লাখ মানুষ সংঘাতের কারণে নিজ দেশের ভেতরেই গৃহহীন হয়েছেন। ২০২৬ সালের মার্চের শুরু থেকে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ায় কেবল লেবাননেই ১০ লাখের বেশি মানুষ নতুন করে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। এক দশকের মধ্যে প্রথমবারের মতো ২০২৫ সালে এই সংখ্যা কিছুটা হ্রাস পেলেও, ২০২৬ সালের শুরুতে মধ্যপ্রাচ্যের নতুন সংঘাত পরিস্থিতিকে আবারও মারাত্মক করে তুলেছে।
বিশ্বজুড়ে শরণার্থীদের প্রায় ৭৩ ভাগ নি¤œ ও মধ্যম আয়ের দেশে বসবাস করায় তারা খাদ্য, বাসস্থান ও চিকিৎসার চরম সংকটে ভুগছেন। এর ওপর আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তা তহবিল কাটছাঁট হওয়ায় সংকট আরও ঘনীভূত হচ্ছে। বিশ্বব্যাপী ৭০ শতাংশ শরণার্থীই ৫ বছর বা তার বেশি সময় ধরে দীর্ঘমেয়াদি নির্বাসিত জীবন কাটাচ্ছেন। আন্তর্জাতিক তহবিল সংকটের কারণে মানবিক সহায়তা সংকুচিত হচ্ছে, যা শরণার্থীদের মৌলিক স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সুরক্ষাকে চরম ঝুঁকিতে ফেলছে। এই সংকট উত্তরণে জাতিসংঘ ২০৩৫ সালের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি শরণার্থীদের মানবিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীলতা অর্ধেকে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে, যার মূল চাবিকাঠি হলো শরণার্থীদের স্থানীয় কর্মসংস্থান ও শিক্ষার সুযোগ দেওয়া এবং নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ স্বেচ্ছায় প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করা।
পৃথিবীর প্রতি ৭০ জন মানুষের মধ্যে ১ জন বর্তমানে নিজের ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে বিপন্ন শরণার্থী জীবন বেছে নিতে বাধ্য হয়েছেন। যদিও গত এক দশকের মধ্যে প্রথমবারের মতো বিশ্বব্যাপী বাস্তুচ্যুতির সামগ্রিক সংখ্যা সামান্য কমেছে, তবুও দীর্ঘমেয়াদি শরণার্থী সংকট ও মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে শুরু হওয়া সংঘাত বিশ্বব্যাপী চরম উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। শরণার্থীদের দুই-তৃতীয়াংশ সাত দেশের অধিবাসী। সে গুলো হলো- সিরিয়া, আফগানিস্তান, দক্ষিণ সুদান, ফিলিস্তিন, সুদান, মিয়ানমার ও সোমালিয়া। যাদের প্রায় সবাই মুসলিম।
জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থার তথ্য বলছে, ২০২৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বিশ্বে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা ১২ কোটি ১২ লাখ, যা ২০২৩ সালের চেয়ে ৬ দশমিক ২ শতাংশ বেড়েছে। বাস্তুচ্যুত মানুষের মধ্যে শিশু ৪০ শতাংশ (৪ কোটি ৪৯ লাখ) এবং শরণার্থীর সংখ্যা ৩ কোটি ৬৮ লাখ। আর বিশ্বে শরণার্থী হিসেবে বিভিন্ন দেশে থাকা মানুষের ৬৯ শতাংশের উৎস ৫ দেশ। এই ৫ দেশের মধ্যে ভেনেজুয়েলা থেকে ৬২ লাখ, সিরিয়া থেকে ৬০ লাখ, আফগানিস্তান থেকে ৫৮ লাখ, ইউক্রেন থেকে ৫১ লাখ ও দক্ষিণ সুদান থেকে ২৩ লাখ মানুষ বিভিন্ন দেশে শরণার্থী হিসেবে আশ্রয় নিয়েছে। ইউএনএইচসিআরের পরিসংখ্যান বলছে, ৩৭ শতাংশ শরণার্থী অবস্থান করছে ৫টি দেশে। এর মধ্যে ইরানে রয়েছে ৩৫ লাখ, তুর্কিতে রয়েছে ৩৩ লাখ, কলম্বিয়াতে রয়েছে ২৮ লাখ, জার্মানিতে ২৭ লাখ ও উগান্ডায় রয়েছে ১৮ লাখ। প্রতি বছর শরণার্থী হিসেবে জন্ম নিচ্ছে ২৩ লাখ শিশু। মোট শরণার্থীর ৭৩ শতাংশের আশ্রয়দাতা নি¤œ ও মধ্যবিত্ত দেশ এবং ৬৭ শতাংশ শরণার্থীর আশ্রয়দাতা প্রতিবেশী দেশ।
শরণার্থী প্রসঙ্গে দুটি বিষয় কাজ করে। একটি অতিত বা পুরোনো, আরেকটি এখনও চলমান। ১৯৭১ সালে প্রায় ১ কোটি বাংলাদেশিকে স্বাধীনতা সংগ্রামে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে শরণার্থী হিসেবে আশ্রয় গ্রহণ করতে হয়েছিল। আর স্বাধীনতার পর থেকে প্রতিবেশী দেশ মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের আগমন শুরু হয়। আরাকানে সৃষ্ট রাষ্ট্রীয় নির্যাতন ও সহিংসতা থেকে জীবন বাঁচানোর লক্ষ্যে রোহিঙ্গাদের দলগত আগমন বাংলাদেশে আশ্রয় গ্রহণের প্রচেষ্টা অব্যাহত। বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় ১৩ লাখ রোহিঙ্গা অবস্থান করছে।
শরণার্থী সংকট সমাধানে জাতিসংঘ শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা সংস্থাগুলো বিশ্বব্যাপী কাজ করে যাচ্ছে। বিশ্বজুড়ে যুদ্ধ, সহিংসতা, মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বর্তমানে রেকর্ড সংখ্যক মানুষ শরণার্থী হিসেবে জীবনযাপন করছেন। এর মধ্যে একটি বিশাল অংশ হলো নারী ও শিশু, যারা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। এই সংকট মোকাবিলায় নিরাপদ আশ্রয় নিশ্চিত করা, মানবিক সহায়তা প্রদান এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানো অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে। লেখক: সাংবাদিক ও কলামিস্ট

বাগদা ডিমের কারবারে নতুন শঙ্কায় সাতক্ষীরা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬, ১২:৩৫ পূর্বাহ্ণ
বাগদা ডিমের কারবারে নতুন শঙ্কায় সাতক্ষীরা

সচ্চিদানন্দ দে সদয়
সাতক্ষীরার অর্থনীতির কথা উঠলে যে কয়েকটি শব্দ অনিবার্যভাবে সামনে আসে, তার মধ্যে অন্যতম ‘চিংড়ি’। দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের এই সীমান্তবর্তী জেলা শুধু চিংড়ি উৎপাদনের জন্য পরিচিত নয়, বরং বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ খাতের অন্যতম ভিত্তি হিসেবেও বিবেচিত। শ্যামনগরের উপকূল, আশাশুনির বিলাঞ্চল, কালীগঞ্জের ঘের, দেবহাটার জলাভূমি কিংবা সদর উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকায় ছড়িয়ে থাকা অসংখ্য চিংড়িঘের শুধু মাছ উৎপাদনের ক্ষেত্র নয়; এগুলো হাজারো পরিবারের জীবন-জীবিকার কেন্দ্র। সেই সাতক্ষীরাতেই সম্প্রতি আশাশুনি উপজেলায় অবৈধ ভারতীয় বাগদা চিংড়ির ফুটানো ডিম জব্দ হওয়ার ঘটনা নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। প্রশাসনের অভিযানে আট পলি বাগদা ডিম জব্দ, পরিবহনকারীকে জরিমানা এবং ডিম নদীতে অবমুক্ত করার ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে আলোচিত হয়েছে। কিন্তু এই ঘটনার তাৎপর্য একটি মোবাইল কোর্ট বা একটি চালান জব্দ হওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। বরং এটি সাতক্ষীরার চিংড়ি শিল্পের ভেতরে লুকিয়ে থাকা একটি গভীর সমস্যার আভাস দেয়। প্রশ্ন হলো, কেন সীমান্ত পেরিয়ে অবৈধ বাগদা ডিম আসছে? কারা এর সঙ্গে জড়িত? এর প্রভাব কী? আর সবচেয়ে বড় কথা, এর ফলে সাতক্ষীরার ভবিষ্যৎ কতটা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে? বাংলাদেশে বাগদা চিংড়ি চাষের ইতিহাসে সাতক্ষীরার নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। কয়েক দশক আগে যখন উপকূলীয় অঞ্চলে চিংড়ি চাষের প্রসার শুরু হয়, তখন থেকেই সাতক্ষীরা এই শিল্পের অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে গড়ে ওঠে। বর্তমানে জেলার শ্যামনগর, আশাশুনি, কালীগঞ্জ, তালা, দেবহাটা ও সদর উপজেলায় হাজার হাজার হেক্টর জমিতে চিংড়ি চাষ হয়। স্থানীয় অর্থনীতির একটি বড় অংশ এই খাতের ওপর নির্ভরশীল। শুধু ঘের মালিক নয়, শ্রমিক, জেলে, পরিবহনকর্মী, বরফকল মালিক, আড়তদার, খাদ্য সরবরাহকারী, হ্যাচারি ব্যবসায়ীÑঅসংখ্য মানুষের আয়-রোজগার জড়িয়ে আছে এই শিল্পের সঙ্গে। অনেক গ্রামে কৃষির চেয়ে চিংড়ি চাষই এখন প্রধান অর্থনৈতিক কর্মকা-। ফলে এই শিল্পে সামান্য অস্থিরতাও হাজারো মানুষের জীবনে প্রভাব ফেলে।চিংড়ি শিল্পের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদানগুলোর একটি হলো ডিম ও পোনা। একটি ভালো মানের ডিম থেকে সুস্থ পোনা উৎপাদিত হয়, আর সেই পোনা ঘেরে গিয়ে বড় হয়ে রপ্তানিযোগ্য চিংড়িতে পরিণত হয়। অন্যদিকে নি¤œমানের বা রোগাক্রান্ত ডিম পুরো উৎপাদন ব্যবস্থাকে বিপর্যস্ত করে দিতে পারে। সাধারণ মানুষের কাছে বিষয়টি তেমন গুরুত্বপূর্ণ মনে না হলেও চিংড়ি শিল্পে ডিমের গুণগত মানই মূল ভিত্তি। তাই অবৈধ বা অজানা উৎসের ডিমের প্রবেশ শুধু একটি আইনি অপরাধ নয়; এটি পুরো শিল্পের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। চিংড়ি চাষে লাভের সম্ভাবনা বেশি। ফলে ডিম ও পোনার চাহিদাও ব্যাপক। এই চাহিদাকে কেন্দ্র করে বৈধ বাজারের পাশাপাশি অবৈধ বাজারও তৈরি হয়েছে।
সীমান্তবর্তী জেলা হওয়ায় ভারতের বিভিন্ন এলাকা থেকে চোরাইপথে নানা পণ্য আসার অভিযোগ বহু পুরোনো। বাগদা ডিমও সেই তালিকায় যুক্ত হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। কম দামে ডিম সংগ্রহ করে বেশি দামে বিক্রি করার সুযোগ থাকায় কিছু অসাধু ব্যবসায়ী এই পথে ঝুঁকে পড়ে। অনেক সময় পরিবহনকারী জানেনও না তিনি কী বহন করছেন। আবার অনেক ক্ষেত্রে পুরো বিষয়টি একটি সংগঠিত নেটওয়ার্কের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। গত কয়েক দশকে বিভিন্ন ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়া জনিত রোগের কারণে উপকূলীয় অঞ্চলের বহু চাষি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। হোয়াইট স্পট সিনড্রোম সহ বিভিন্ন রোগের কারণে অনেক ঘেরে উৎপাদন কমে গেছে, কোথাও কোথাও পুরো মৌসুমই নষ্ট হয়েছে। অবৈধ ও মান যাচাইবিহীন ডিম ব্যবহার করলে এই ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। কারণ ডিম কোথা থেকে এসেছে, সেটি স্বাস্থ্য পরীক্ষার মধ্য দিয়ে গেছে কি না, কোনো রোগ বহন করছে কি নাÑএসব বিষয়ে নিশ্চিত হওয়ার সুযোগ থাকে না। একটি হ্যাচারিতে যদি রোগাক্রান্ত ডিম প্রবেশ করে, তাহলে সেখান থেকে উৎপাদিত পোনা শত শত ঘেরে ছড়িয়ে পড়তে পারে। ফলে ক্ষতির পরিমাণও বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। সাতক্ষীরার চাষিরা এমনিতেই চাপে ও সাতক্ষীরার চিংড়ি চাষিরা বর্তমানে নানা সমস্যার মুখোমুখি। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে লবণাক্ততার মাত্রা বাড়ছে। ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে ঘের ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা তীব্র হয়েছে। এর মধ্যে মানহীন বা অবৈধ ডিমের ব্যবহার পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
একজন চাষি যখন একটি মৌসুমে কয়েক লাখ টাকা বিনিয়োগ করেন, তখন তিনি আশা করেন ভালো উৎপাদন পাবেন। কিন্তু যদি শুরুতেই নি¤œমানের পোনা পান, তাহলে পুরো বিনিয়োগ ঝুঁকির মুখে পড়ে। অবৈধ ডিমের আরেকটি বড় প্রভাব পড়ে বৈধ হ্যাচারি ব্যবসার ওপর।একটি বৈধ হ্যাচারি পরিচালনা করতে বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করতে হয়। লাইসেন্স, মান নিয়ন্ত্রণ, স্বাস্থ্য পরীক্ষা, প্রশিক্ষিত জনবলÑসবকিছুর জন্য ব্যয় রয়েছে। কিন্তু অবৈধ উৎসের ডিম বাজারে এলে তারা অসম প্রতিযোগিতার মুখে পড়ে। ফলে যারা নিয়ম মেনে ব্যবসা করছে, তারাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দীর্ঘমেয়াদে এটি পুরো শিল্পের মানকে নিচের দিকে নামিয়ে আনে। সাতক্ষীরার ভৌগোলিক অবস্থান একদিকে সম্ভাবনা, অন্যদিকে চ্যালেঞ্জ। ভারতের সঙ্গে দীর্ঘ সীমান্ত থাকার কারণে বৈধ বাণিজ্যের পাশাপাশি চোরাচালানের ঝুঁকিও সবসময় থাকে। সীমান্তবর্তী অনেক এলাকায় নদী, খাল ও বিল থাকায় নজরদারি কঠিন হয়ে পড়ে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়মিত অভিযান চালালেও চোরাকারবারিরা নতুন নতুন পথ খুঁজে নেয়।
ফলে একটি চালান আটক হওয়া মানে এই নয় যে সমস্যা শেষ। বরং এটি ইঙ্গিত দেয় যে আরও বড় কোনো নেটওয়ার্ক সক্রিয় থাকতে পারে। আশাশুনির ঘটনার সবচেয়ে ইতিবাচক দিক হলো স্থানীয় মানুষের সচেতনতা। সন্দেহজনক ভাবে ডিম বহন করা গাড়ি দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দিয়েছেন। পরে প্রশাসন ব্যবস্থা নিয়েছে। এটি প্রমাণ করে যে সামাজিক সচেতনতা থাকলে অনেক অপরাধ প্রতিরোধ করা সম্ভব। একই সঙ্গে ঘটনাটি আরেকটি প্রশ্ন সামনে আনেÑযদি স্থানীয়দের সন্দেহ না হতো, তাহলে কি চালানটি গন্তব্যে পৌঁছে যেত? এই প্রশ্নের উত্তরই দেখিয়ে দেয় সমস্যার গভীরতা।
অনেক সময় দেখা যায়, এ ধরনের ঘটনায় পরিবহনকারী বা নি¤œস্তরের কর্মচারী ধরা পড়েন, কিন্তু মূল ব্যবসায়ী ধরা-ছোঁয়ার বাইরে থেকে যান। ফলে অবৈধ ব্যবসা বন্ধ হয় না।যদি কোনো হ্যাচারি বা ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান অবৈধ উৎসের ডিম গ্রহণ করে থাকে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। নয়তো অভিযানের ভয় থাকবে শুধু পরিবহনকারীর জন্য, মূল চক্রের জন্য নয়। চিংড়ি শিল্পের আলোচনায় অর্থনীতির বিষয়টি বেশি আসে, কিন্তু পরিবেশগত দিকটিও গুরুত্বপূর্ণ। অজানা উৎসের ডিম ও পোনা জলজ পরিবেশে নতুন রোগজীবাণু প্রবেশ করাতে পারে। এটি শুধু চিংড়ি নয়, অন্যান্য জলজ প্রাণীর জন্যও ক্ষতিকর হতে পারে। সাতক্ষীরা এমনিতেই জলবায়ু পরিবর্তনের প্রথম সারির ভুক্তভোগী জেলা। সুন্দরবনের নিকটবর্তী এই অঞ্চল ঘূর্ণিঝড়, লবণাক্ততা ও নদীভাঙনের মতো সমস্যায় জর্জরিত। এ অবস্থায় নতুন পরিবেশগত ঝুঁকি তৈরি করা কোনোভাবেই কাম্য নয়।
বাংলাদেশের চিংড়ি মূলত বিদেশে রপ্তানি হয়। বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে খাদ্য নিরাপত্তা, মান নিয়ন্ত্রণ ও পণ্যের উৎস সম্পর্কে ক্রেতারা আগের চেয়ে অনেক বেশি সচেতন। যদি বাংলাদেশের চিংড়ি শিল্পে অনিয়ন্ত্রিত ও অবৈধ উৎসের ডিম ব্যবহারের অভিযোগ বাড়ে, তাহলে আন্তর্জাতিক বাজারে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। রপ্তানি খাতের জন্য এটি মোটেও সুখকর হবে না। প্রথমত, সীমান্ত এলাকায় নজরদারি আরও জোরদার করতে হবে। দ্বিতীয়ত, হ্যাচারিগুলোর নিয়মিত তদারকি নিশ্চিত করতে হবে। তৃতীয়ত, ডিম ও পোনার উৎস শনাক্ত করার জন্য আধুনিক ট্রেসেবিলিটি ব্যবস্থা চালু করা প্রয়োজন। চতুর্থত, চাষিদের সচেতন করতে হবে যাতে তারা অজানা উৎসের পোনা ব্যবহার না করেন। পঞ্চমত, অবৈধ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত মূল ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।
আশাশুনিতে আট পলি বাগদা ডিম জব্দ হওয়ার ঘটনাটি হয়তো একটি দিনের খবর। কিন্তু এর ভেতরে লুকিয়ে আছে সাতক্ষীরার অর্থনীতি, পরিবেশ এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় উদ্বেগ। চিংড়ি শুধু একটি পণ্য নয়; এটি সাতক্ষীরার মানুষের স্বপ্ন, সংগ্রাম ও জীবিকার প্রতীক। সেই শিল্পকে যদি অবৈধ ডিমের কারবার, রোগের ঝুঁকি এবং অনিয়ন্ত্রিত বাণিজ্যের কাছে ছেড়ে দেওয়া হয়, তাহলে ক্ষতিগ্রস্ত হবে শুধু কয়েকজন চাষি নয়; ক্ষতিগ্রস্ত হবে পুরো জেলা। তাই আশাশুনির ঘটনাকে একটি বিচ্ছিন্ন অভিযান হিসেবে না দেখে একটি সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা প্রয়োজন। কারণ আজ যে অবৈধ ডিমের চালান ধরা পড়েছে, সেটি হয়তো একটি সমস্যার মুখ। আর সেই সমস্যার শিকড় খুঁজে বের করে এখনই ব্যবস্থা নেওয়া না গেলে ভবিষ্যতে সাতক্ষীরার ‘সাদা সোনা’ খ্যাত চিংড়ি শিল্প বড় ধরনের সংকটের মুখে পড়তে পারে।