নি:শব্দে বয়ে যাওয়া
জহুরুল হক জুলু
তুমি চলে গেলে
সময় থেমে থাকেনি,
দেয়ালে ক্যালেন্ডারের পাতা
উল্টে গেছে নির্দ্বিধায়
তবু আমার ভেতরে
এক জায়গা আজও আগের মতোই স্থির,
সেখানে তুমি আছো,
না ফেরার প্রতিশ্রুতি হয়ে।
নতুন আলো আসে,
নতুন সংলাপ বুনে রাখি প্রতিদিন,
তবু এক অন্তর্লীন স্তরে
তোমার অনুপস্থিতি নিরবধি শব্দে বাজে
না বলা কথার মতো,
যা শুধুই অনুভবযোগ্য, উচ্চারণ নয়।
কথোপকথন নেই, ছবি নেই,
তবু হঠাৎ করেই
কোনো সুর, কোনো গন্ধ,
বা কোনো ছায়া
টেনে আনে আমাকে তোমার দিকে-
যেন মনের অতল থেকে উঠে আসে
আমার দেওয়া কোনো এক ডাকনাম,
যা শুধু তুমিই জানতে, আর কেহ নয়।
প্রতিদিন নিজেকে সাজাই ব্যস্ততার মুখোশে,
হাসি দেই, কথা বলি,
কিন্তু একাকিত্বের নিরব ক্ষরণ থামে না কখনো-
কারণ কিছু অনুভূতি
সময়ের ধারায় মুছে যায় না,
বরং সময়কে উপেক্ষা করেই টিকে থাকে।
আমার বুকের গভীরে
একটি অলিখিত চিঠি আজও অপেক্ষায়-
হয়তো কোনোদিন পাঠানো হবে না,
তবুও প্রতিটি অক্ষরে গাঁথা থাকে তুমি,
যার ঠিকানা এখনো হারিয়ে যাওয়া নয়,
শুধু অপরিবর্তিত।
আমি বদলে গেছি হয়তো,
খোলস পাল্টেছে জীবন,
কিন্তু হৃদয়ের যে খুঁটি,
সেখানে আজও তোমার ছায়া—
ধুলোপড়া কাচের ভেতর থেকে
আলো হয়ে জ্বলে,
নিঃশব্দে, নিঃশেষে।
তুমি না থেকেও আছো-
আমার প্রতিটি মৌনতায়,
প্রতিটি নিশ্বাসে,
প্রতিটি না বলা কষ্টে।
এই অনুভূতির নেই কোনো ভাষা,
নেই কোনো পরিণতি-
আছে শুধু এক দীর্ঘস্থায়ী প্রমাণ:
ভালোবাসা কখনো মুছে যায় না।












