শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ১৩ আষাঢ় ১৪৩৩
শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ১৩ আষাঢ় ১৪৩৩

ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ও মৃত্যুতে শীর্ষে পুরুষ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬, ১১:০৯ অপরাহ্ণ
ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ও মৃত্যুতে শীর্ষে পুরুষ

ডেঙ্গুর উপসর্গ নিয়ে সম্প্রতি ময়মনসিংহের স্বদেশ হাসপাতালে ভর্তি হন আল-আমিন। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর নিশ্চিত হয় তিনি ডেঙ্গুতে আক্রান্ত। চিকিৎসকের পরামর্শে বাড়িতেই চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। অবস্থার অবনতি হলে আবারও তাকে স্বদেশ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি ঘটলে বুধবার বিকেলে তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেদিন সন্ধ্যায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

শুধু আল-আমিনই নয়, চলতি বছরে ২৫ জুন পর্যন্ত সরকারি হিসেবে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে পুরুষের সংখ্যা বেশি। কারণ হিসেবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কর্মক্ষেত্রে বা বাইরে বেশি সময় কাটানো, যার ফলে মশার সংস্পর্শে আসার সম্ভাবনা বাড়ে। এছাড়া, কিছু ক্ষেত্রে সচেতনতার অভাব বা চিকিৎসার জন্য দেরিতে হাসপাতালে যাওয়ায় পরিস্থিতি জটিল হতে পারে। এমনকি মৃত্যু পর্যন্ত ঘটছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, চলতি বছরের শুরু থেকে ২৫ জুন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মারা যাওয়া ১৩ জনের মধ্যে ৬১.৫ শতাংশ পুরুষ এবং ৩৮.৫ শতাংশ নারী। অর্থাৎ মৃত্যুর হারেও পুরুষ এগিয়ে। একই সময়ে দেশের সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ৫ হাজার ৫১৫ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। এর মধ্যে ৬২.২ শতাংশ পুরুষ এবং ৩৭.৮ শতাংশ নারী। অর্থাৎ আক্রান্তের ক্ষেত্রেও পুরুষের আধিক্য স্পষ্ট।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এর পেছনে রয়েছে একাধিক কারণ। কর্মক্ষেত্রে বা বাইরে পুরুষদের বেশি সময় কাটানো, ফলে এডিস মশার সংস্পর্শে বেশি আসা, সচেতনতার ঘাটতি এবং অনেক ক্ষেত্রে চিকিৎসা নিতে দেরি করাও পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলছে।

এ বিষয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের কীটতত্ত্ববিদ অধ্যাপক কবিরুল বশার বলেন, স্ত্রী এডিস মশা ডিম ধারণের সময় রক্তকে প্রধান খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে। এ সময় প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষদের বেশি কামড়ানোর প্রবণতা দেখা যায়। বিশেষ করে ১৮ থেকে ৪০ বছর বয়সী পুরুষদের বিপাকক্রিয়া তুলনামূলক দ্রুত হওয়ায় এবং তারা বেশি চলাফেরা করায় শরীরের তাপমাত্রা ও ঘাম বৃদ্ধি পায়। ফলে শরীর থেকে বেশি পরিমাণে কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসৃত হয়, যা মশাকে আকৃষ্ট করে। এছাড়া অনেকেই জ্বরকে গুরুত্ব না দিয়ে চিকিৎসা নিতে দেরি করেন। এতে ডেঙ্গু জটিল রূপ নিতে পারে এবং মৃত্যুঝুঁকি বেড়ে যায়।

অধ্যাপক কবিরুল বশার আরও বলেন, ডেঙ্গুর এই মৌসুমে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। জ্বর হলে তিন দিনের মধ্যে পরীক্ষা করে নিশ্চিত হতে হবে ডেঙ্গু হয়েছে কি না। ডেঙ্গু শনাক্ত হলে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা নিতে হবে।

অধ্যাপক কবিরুল বশার বলেন, ডেঙ্গুর এই সময়টায় পরিবারের সবাইকে অত্যন্ত সচেতন থাকতে হবে। ডেঙ্গুতে আক্রান্ত নারী বা পুরুষ কারো ক্ষেত্রেই অবহেলা করা উচিত নয়। জ্বর হলে তিন দিনের মধ্যে পরীক্ষা করে নিশ্চিত হতে হবে ডেঙ্গু হলো কি না। যদি ডেঙ্গু হয় তাহলে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শে চিকিৎসা নিতে হবে।

জাতীয় প্রতিষেধক ও সামাজিক চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের (নিপসম) কীটতত্ত্ব বিভাগের প্রধান কীটতত্ত্ববিদ অধ্যাপক গোলাম সারোয়ার বলেন, ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশার ভয়ংকর গাণিতিক বৃদ্ধির বিপরীতে যতগুলো প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা আছে তার সবগুলোরই উপযুক্ত প্রয়োগ আবশ্যক। নিশ্চিত করতে হবে ক্রমবর্ধমান মশার প্রজনন ক্ষেত্রের নিয়মিত ধ্বংস ও ম্যানেজমেন্ট।

তিনি বলেন, এডিস মশা নিয়ন্ত্রণের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো ব্রিডিং সোর্স ম্যানেজমেন্ট। ফুলের টব, প্লাস্টিকের পাত্র, পরিত্যক্ত টায়ার, নির্মাণাধীন ভবনের পানির ট্যাংক, বহুতল ভবনের বেইসমেন্টে জমে থাকা পানি, ঘরের ড্রাম বা বালতিতে সংরক্ষিত পানি—এসব স্থান নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে অথবা পানি জমতে দেওয়া যাবে না। যেসব স্থানে পানি অপসারণ সম্ভব নয়, সেখানে প্রয়োজন অনুযায়ী কীটনাশক প্রয়োগ করতে হবে।

তার মতে, শুধু সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। সাধারণ মানুষকেও সম্পৃক্ত হতে হবে। প্রত্যেক নাগরিককে নিজ নিজ বাড়ি ও আশপাশে এডিস মশার প্রজননের উপযোগী পরিবেশ সৃষ্টি না হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।

Ads small one

কপিলমুনিতে হত্যা মামলার আসামিকে গ্রেপ্তারের দাবিতে মানববন্ধন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৮ জুন, ২০২৬, ১২:২০ পূর্বাহ্ণ
কপিলমুনিতে হত্যা মামলার আসামিকে গ্রেপ্তারের দাবিতে মানববন্ধন

oplus_0

 

কপিলমুনি (খুলনা) প্রতিনিধি: কপিলমুনির কাশিমনগর গ্রামের মাদক ব্যবসায়ী ও হত্যা মামলার আসামি মহিদুল গাজীকে দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে কাশিমনগর বাজারের প্রধান সড়কে মানববন্ধন, পথসভা ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২৭ জুন) বিকেল সাড়ে পাঁচটায় স্থানীয় এলাকাবাসীর উদ্যোগে এই কর্মসূচি পালন করা হয়।
সমাজসেবক এম বুলবুল আহমেদের সভাপতিত্বে পথসভায় বক্তব্য দেন পাইকগাছা উপজেলা মানবাধিকার সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি শেখ সেকেন্দার আলী, সাবেক ইউপি সদস্য মাজেদা পারভীন, মাওলানা আবু মুসা, গোলাম মোস্তফা গাজী ও তাসমিরা খাতুন।
বক্তারা অভিযোগ করেন, মাদক ব্যবসায়ী ও নিজের ভাবিকে হত্যাকারী মহিদুল গাজীকে অনতিবিলম্বে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে হবে। নিহতের মেয়ে তাসমিরা খাতুন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমার চাচা মহিদুল গাজী আমার মাকে হত্যা করেছে। এ ঘটনায় পাইকগাছা থানায় মামলা হলে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করেছিল। কিন্তু গত ২১ এপ্রিল জামিনে বেরিয়ে আসার পর থেকে সে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য আমাদের ক্রমাগত হুমকি দিচ্ছে।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, আসামিরা উল্টো তাদের ও মামলার সাক্ষীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছে। এই পরিস্থিতিতে তারা প্রশাসনের কাছে ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও পরিবারের নিরাপত্তা দাবি করেন।

২৩ শতক জমি নিয়ে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি দাবি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৮ জুন, ২০২৬, ১২:১৭ পূর্বাহ্ণ
২৩ শতক জমি নিয়ে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি দাবি

সংবাদদাতা: সাতক্ষীরা সদর উপজেলার বল্লী ইউনিয়নের ঘরচালা মাঠপাড়া গ্রামে প্রায় ২৩ শতক জমির মালিকানা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছে। উভয় পক্ষই নিজেদের জমির বৈধ মালিক দাবি করে আসায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। বিষয়টি বর্তমানে আদালত ও ভূমি প্রশাসনের বিভিন্ন প্রক্রিয়ার অধীনে রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বল্লী ইউনিয়নের রঘুনাথপুর মৌজার সাবেক ২৪৮, ২৮৪, ২৮৭ সহ কয়েকটি দাগের অন্তর্ভুক্ত ২৩ শতক জমি নিয়ে এই বিরোধের সূত্রপাত। বাদীপক্ষের মাসুরা খাতুন ও উজির আলী ফকির বিএস খতিয়ানে রেকর্ড সংশোধনের আবেদনসহ সায়েদ আলী মোড়লের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন।
অন্যদিকে বিবাদী সায়েদ আলী মোড়ল দাবি করেন, বিরোধপূর্ণ জমির নামজারি (মিউটেশন) তার নামে সম্পন্ন হয়েছে এবং তিনি নিয়মিত সরকারি খাজনা পরিশোধ করছেন। আবেশ আলী সরদারের কাছ থেকে তিনি জমিটি বৈধভাবে ক্রয় করেছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রতিপক্ষ তাকে জমিতে প্রবেশে বাধা দিচ্ছে। তবে অন্য অংশীদার আবু তালেব ফকির এই দাবি অস্বীকার করে বলেন, সায়েদ আলীর কাগজপত্র জাল। জমিটি বর্তমানে তাদের দখলে রয়েছে এবং এই জালিয়াতির বিরুদ্ধে তারা সহকারী জজ ভূমি আদালতে মামলা দায়ের করেছেন। প্রকৃত মালিকানা নির্ধারণে প্রশাসনের সুষ্ঠু তদন্ত প্রত্যাশা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

মাসউকের তিন দিনব্যাপী ‘প্রশিক্ষক প্রশিক্ষণ’ কর্মসূচির সমাপনী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৮ জুন, ২০২৬, ১২:১৩ পূর্বাহ্ণ
মাসউকের তিন দিনব্যাপী ‘প্রশিক্ষক প্রশিক্ষণ’ কর্মসূচির সমাপনী

নিজস্ব প্রতিনিধি: মানব সম্পদ উন্নয়ন কেন্দ্র (মাসউক) সাতক্ষীরার উদ্যোগে ‘ভালনারেবল উইমেন বেনিফিট’ (ভিডব্লিউবি) কর্মসূচির ২০২৫-২০ছঞ মেয়াদের প্রশিক্ষকদের তিন দিনব্যাপী ‘প্রশিক্ষক প্রশিক্ষণ’ (টিওটি) কোর্স সম্পন্ন হয়েছে। মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে লোহাগড়া উপজেলা অডিটোরিয়ামে এই প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়।
এর আগে নড়াইল মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক মৌসুমী রানী মজুমদার প্রধান অতিথি হিসেবে এই প্রশিক্ষণের উদ্বোধন করেন। লোহাগড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাম্মী কায়সারের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মোছা. শিরিনা খাতুন, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা সালমা জামান, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসির লোহাগড়া শাখা ব্যবস্থাপক মো. আলমগীর ফারুক এবং মানবাধিকার কর্মী সৈয়দ খায়রুল আলম।
তিন দিনব্যাপী এই প্রশিক্ষণে জীবন দক্ষতামূলক ও আয়বৃদ্ধিমূলক বিভিন্ন মডিউলের ওপর বিস্তারিত প্রশিক্ষণ দেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুনমুন সাহা, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. শ্যামল চন্দ্র রায় এবং মাস্টার ট্রেইনার মো. গিয়াসউদ্দিন। প্রশিক্ষণে মোট ১০জন প্রশিক্ষক অংশ নেন। সমাপনী দিনে মাসউকের হলরুমে প্রশিক্ষণার্থীদের মাঝে সনদ বিতরণ করেন উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মোছা. শিরিনা খাতুন।