সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬, ১৫ আষাঢ় ১৪৩৩
সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬, ১৫ আষাঢ় ১৪৩৩

দূষণ-বিষে প্রাণ হারাচ্ছে আশাশুনির নদী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৯ জুন, ২০২৬, ৪:০৬ অপরাহ্ণ
দূষণ-বিষে প্রাণ হারাচ্ছে আশাশুনির নদী

আশাশুনি সংবাদদাতা: একসময় আশাশুনি উপজেলার বেতনা, কপোতাক্ষ ও খোলপেটুয়া নদী ছিল দেশীয় মাছের অন্যতম অভয়াশ্রম। এসব নদীকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছিল হাজারো জেলে পরিবারের জীবন-জীবিকা। ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত নদীতে জাল ফেললেই মিলত টেংরা, কৈ, শোল, গজার, বোয়াল, বাইন, চিংড়িসহ নানা প্রজাতির মাছ। কিন্তু এখন সেই চিত্র সম্পূর্ণ পাল্টে গেছে।

 

দূষণ, নদীতে বিষ প্রয়োগ, নাব্যতা সংকট ও অব্যাহত পরিবেশ ধ্বংসের কারণে নদীগুলোতে দিন দিন কমে যাচ্ছে মাছের উৎপাদন। ফলে সংকটে পড়েছেন জেলে পরিবারগুলো। সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, নদীর বিভিন্ন স্থানে গৃহস্থালির আবর্জনা, বাজারের বর্জ্য, পোল্ট্রি খামারের উচ্ছিষ্ট, প্লাস্টিক ও পলিথিন ফেলা হচ্ছে। কোথাও কোথাও নর্দমার ময়লা ও পয়ঃবর্জ্য সরাসরি নদীতে গিয়ে পড়ছে।

 

এতে নদীর পানি দূষিত হয়ে মাছের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। স্থানীয় জেলেদের অভিযোগ, কিছু অসাধু ব্যক্তি মাছ ধরার জন্য নদীতে বিষাক্ত কীটনাশক ও বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার করছে। বিষের প্রভাবে মাছ অচেতন হয়ে ভেসে ওঠে। পরে সহজেই সেগুলো ধরে বিক্রি করা হয়। এতে শুধু বড় মাছ নয়, রেণু ও পোনা মাছও মারা যাচ্ছে। ফলে দেশীয় মাছের বংশবিস্তার মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

 

উপজেলার প্রতাপনগর এলাকার জেলে আব্দুর রহিম বলেন, “আগে এক জাল ফেললেই কয়েক কেজি মাছ পাওয়া যেত। এখন সারাদিন নদীতে থেকেও তেমন মাছ মেলে না। সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।” স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, নদীতে অতিরিক্ত পলি জমে নাব্যতা কমে গেছে। অনেক স্থানে চর জেগে উঠেছে। দীর্ঘদিন খনন না হওয়ায় মাছের বিচরণ ও প্রজনন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। একই সঙ্গে লবণাক্ততা বৃদ্ধি ও মিষ্টি পানির প্রবাহ কমে যাওয়াও মাছের সংকটকে আরও তীব্র করেছে।

 

স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, নদীতে বিষ প্রয়োগ বন্ধ, দূষণ নিয়ন্ত্রণ, নিয়মিত নদী খনন, দেশীয় মাছের পোনা অবমুক্তকরণ এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে অদূর ভবিষ্যতে বেতনা, কপোতাক্ষ ও খোলপেটুয়া নদী দেশীয় মাছশূন্য হয়ে পড়বে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টরা জানান, নদী রক্ষায় প্রশাসন, মৎস্য বিভাগ ও স্থানীয় জনগণের সমন্বিত উদ্যোগই পারে আশাশুনির নদীগুলোকে আবারও প্রাণ ফিরিয়ে দিতে।

Ads small one

কেশবপুরে গোপনে মাদ্রাসা কমিটি গঠনের প্রতিবাদ করায় হামলার অভিযোগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬, ১:৩১ পূর্বাহ্ণ
কেশবপুরে গোপনে মাদ্রাসা কমিটি গঠনের প্রতিবাদ করায় হামলার অভিযোগ

কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি: যশোরের কেশবপুর উপজেলার চিংড়া-ধর্মপুর দারুস সুন্নাহ আলিম মাদ্রাসায় নিয়মবহির্ভূতভাবে গোপনে গভর্নিং বডি গঠনের প্রতিবাদ করায় হামলার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন প্রতিষ্ঠানের দাতা ও প্রতিষ্ঠাতা সদস্যরা। সোমবার সন্ধ্যায় কেশবপুর প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মাদ্রাসার দাতা সদস্য আব্দুল হামিদ বলেন, মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা সিরাজুল ইসলাম কোনো নিয়ম না মেনে অতি গোপনে একটি মনগড়া কমিটি গঠন করে অনুমোদনের জন্য শিক্ষা বোর্ডে পাঠিয়েছেন। গত রোববার এই বিষয়ে কথা বলতে গেলে অধ্যক্ষ সদুত্তর না দিয়ে বহিরাগত ২০-২৫ জনকে ডেকে এনে তাঁদের ওপর অতর্কিত হামলা চালান।

 

এমনকি অধ্যক্ষ নিজে টেবিলের মগ দিয়ে প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হাফেজ রাহাজ উদ্দীনকে আঘাত করার চেষ্টা করেন। পরবর্তীতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে অভিযোগ দিতে গেলেও তাঁরা হেনস্তার শিকার হন। অধ্যক্ষের এমন কর্মকা-ে মাদ্রাসার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে দাবি করে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান হাফেজ রাহাজউদ্দীন, মুহসিন উদ্দীন, হাবিবুর রহমান ও কবিরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

শ্যামনগরে স্বাস্থ্যসেবা বিষয়ক সংলাপ, সরকারি হাসপাতালের ওপর জোর

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬, ১:২৭ পূর্বাহ্ণ
শ্যামনগরে স্বাস্থ্যসেবা বিষয়ক সংলাপ, সরকারি হাসপাতালের ওপর জোর

পত্রদূত ডেস্ক: শ্যামনগরে স্থানীয় সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীদের অংশগ্রহণে স্বাস্থ্যসেবা বিষয়ক এক সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের হলরুমে বেসরকারি উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘বারসিক’ এই সংলাপের আয়োজন করে। এতে সহযোগিতা করে নেটজ-পার্টনারশিপ ফর ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড জাস্টিস।

সংলাপে বক্তারা বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিক বা প্রতিষ্ঠানে না গিয়ে সরকারি স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণের জন্য সাধারণ মানুষকে উৎসাহিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সরকারি দপ্তরে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা এবং স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মীদের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়।

মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের জয়িতাপ্রাপ্ত কৃষাণী শঙ্করী রানীর সভাপতিত্বে সংলাপে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জিয়াউর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. জি এম তরিকুল ইসলাম ও এনজিও সমন্বয় পরিষদের সদস্যসচিব গাজী আল ইমরান। বারসিকের ইউনিট ম্যানেজার মননজয় মন্ডলের সঞ্চালনায় সংবাদের শুরুতে লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য তুলে ধরেন প্রকল্প ম্যানেজার মাসুম বিল্লাহ।

পাইকগাছা থেকে অপহৃত কিশোরী খাগড়াছড়িতে উদ্ধার, গ্রেপ্তার ১

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬, ১:২৩ পূর্বাহ্ণ
পাইকগাছা থেকে অপহৃত কিশোরী খাগড়াছড়িতে উদ্ধার, গ্রেপ্তার ১

পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি: খুলনার পাইকগাছা থেকে অপহৃত ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরীকে খাগড়াছড়ির রামগড় থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। এই ঘটনার মূল অভিযুক্ত ইমনকে (২০) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সোমবার ভোরে তাঁদের পাইকগাছায় নিয়ে আসা হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ৮ জুন প্রেমের সম্পর্কের সূত্র ধরে পাহাড় দেখানোর প্রলোভন দেখিয়ে পাইকগাছার ঘোষাল এলাকার ওই কিশোরীকে বাড়ি থেকে নিয়ে যান খাগড়াছড়ির রামগড় থানার সোনাইপুল গ্রামের ইমনের। কিশোরী নিখোঁজ হওয়ার পর ১১ জুন তার পরিবার পাইকগাছা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে। পরবর্তীতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তাঁদের অবস্থান শনাক্ত করার পর গতকাল রোববার কিশোরীর মামী বাদী হয়ে পাইকগাছা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা করেন।

মামলা দায়েরের পর সহকারী পুলিশ সুপার (ডি-সার্কেল) মো. আমির হামজার দিকনির্দেশনায় এবং পাইকগাছা থানার ওসি মো. গোলাম কিবরিয়ার তত্ত্বাবধানে পুলিশের একটি দল রামগড় থানা পুলিশের সহযোগিতায় অভিযান চালায়। রোববার সন্ধ্যা ৭টার দিকে ইমনের নিজ বাড়ি থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং কিশোরীকে উদ্ধার করা হয়। পাইকগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. গোলাম কিবরিয়া বলেন, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আসামির অবস্থান নিশ্চিত হয়ে এই অভিযান চালানো হয়। গ্রেপ্তার আসামির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।