বেনাপোল বন্দরে পণ্য চুরির হিড়িক, কাস্টমস ও আনসার সদস্যসহ ৬১ জনের নামে মামলা
বেনাপোল (যশোর) প্রতিনিধি: দেশের সর্ববৃহৎ স্থলবন্দর বেনাপোলে কাস্টমস ও বন্দরের গুদাম থেকে পণ্য চুরি ও শুল্ক ফাঁকি দিয়ে মালামাল পাচারের ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। গত দুই সপ্তাহের ব্যবধানে বেনাপোল বন্দরে পৃথক চারটি ঘটনায় কাস্টমস কর্মকর্তা, আনসার সদস্য ও নিরাপত্তাকর্মীসহ ৬১ জনের নামে মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের অধিকাংশকেই এখনো গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।
বন্দর ও কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার রাতে ঝিকরগাছার আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান মেসার্স আরাফ এন্টারপ্রাইজের নামে সরিষার খৈলবাহী একটি ভারতীয় ট্রাক বেনাপোল বন্দরে প্রবেশ করে। গত বৃহস্পতিবার ট্রাকটি একটি শেডে খালাসের তথ্য দেখিয়ে বের করে নেওয়া হয়। পরে ভারতীয় ট্রাকটি থেকে অবৈধভাবে ৫০ বস্তা দামি শাড়ি, থ্রিপিস ও প্রসাধনী পণ্য একটি বাংলাদেশি ট্রাকে স্থানান্তর করা হয়।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে শুল্ক ফাঁকি দেওয়া পণ্যসহ বাংলাদেশি ট্রাক ও চালককে আটক করা হয়। ট্রাকটি ওজন করার পর ঘোষিত ওজনের তুলনায় ২ হাজার ৭৮৪ কেজি পণ্যের ঘাটতি ধরা পড়ে। এই ঘটনায় গত শনিবার বেনাপোল স্থলবন্দরের সহকারী পরিচালক মো. ওবাইদুল মিয়া বাদী হয়ে বেনাপোল পোর্ট থানায় ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
এদিকে বন্দরের শেড থেকে আমদানিকারক ও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টের যোগসাজশে পণ্য পাচার ও শুল্ক ফাঁকির অভিযোগে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ আরও দুটি মামলা দায়ের করেছে। এই দুই মামলায় ২৪ জনকে আসামি করা হয়েছে এবং রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগে চারটি সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টের লাইসেন্স স্থগিত করা হয়েছে। এর আগে সাত কোটি টাকার আমদানি পণ্য পাচারের অভিযোগে ১৯ জনের বিরুদ্ধে আরও একটি মামলা হয়েছিল। এছাড়া কাস্টমস কর্মকর্তাসহ সাতজনের বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
বেনাপোল স্থলবন্দরের পরিচালক শামীম হোসেন জানান, বন্দর থেকে পুরো বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। অপরাধের সঙ্গে বন্দর, কাস্টমস বা ব্যবসায়ী—যারাই জড়িত থাকুক না কেন, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।












