বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬, ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩
বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬, ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩

আশাশুনির হাটবাজারে আশফলের মৌ মৌ গন্ধে মুখরিত চারপাশ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১ জুলাই, ২০২৬, ৩:৪৩ অপরাহ্ণ
আশাশুনির হাটবাজারে আশফলের মৌ মৌ গন্ধে মুখরিত চারপাশ

সচ্চিদানন্দদে সদয়, আশাশুনি: আশাশুনির বিভিন্ন হাটবাজারে এখন আশফলের মৌসুমি আমেজে ভরে উঠেছে চারপাশ। রাস্তা-ঘাট, বাজারের মোড় থেকে শুরু করে হাটের ভিড়Ñসবখানেই চোখে পড়ছে রসালো ও সুস্বাদু এই ফল আশফলের জমজমাট বিক্রি। বিক্রেতারা কেউ ভ্যানে, কেউ বা আবার ঝুড়িতে সাজিয়ে আশফল বিক্রি করছেন বিভিন্ন বাজারে। বিশেষ করে বুধহাটা বাজার, কাদাকাটি বাজার ও বড়দল বাজারের ব্যস্ততম জায়গাগুলোতে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

 

প্রতিটি কুড়ি (২০টি) আশফল বিক্রি হচ্ছে ২০ থেকে ৩০ টাকায়। সাইজ অনুযায়ী একশ’ আশফল ১০০ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। হাটে বাজার করতে আসা মানুষজনও বাড়ি ফেরার সময় ব্যাগ ভরে নিচ্ছেন এই মৌসুমি ফল। শিশুদের চোখে আশফল যেন বাড়তি আনন্দÑফলটি দেখলেই তারা বাবা-মায়ের কাছে আবদার করছে কিনে দেওয়ার জন্য। অনেক অভিভাবকও সন্তানদের সেই আবদার হাসিমুখে পূরণ করছেন। গ্রামাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকা থেকে ব্যবসায়ীরা গাছ কিনে অথবা সরাসরি বাগান থেকে ফল সংগ্রহ করে হাটে নিয়ে আসছেন। কেউ কেউ আবার আগেই গ্রামে গাছ চুক্তিভিত্তিক কিনে রেখেছেন পুরো মৌসুমে ব্যবসার জন্য।

 

ফলে আশফলের একটি সক্রিয় সরবরাহ চেইন গড়ে উঠেছে গ্রাম থেকে শহর পর্যন্ত।বুধহাটা খেয়াঘাট রোডে আশফল কিনতে আসা কুল্যা গ্রামের নিতাই বলেন, “২০ টাকা কুড়ি দরে চার কুড়ি আশফল কিনেছি। এটি খুবই রসালো ও সুস্বাদু ফল। ছোট-বড় সবাই আনন্দ নিয়ে খায়।” একই বাজারের ক্রেতা আনোয়ার হোসেন বলেন, “আশফল গ্রীষ্ম মৌসুমের খুব জনপ্রিয় ফল। এখন প্রায় সব মোড়েই বিক্রি হচ্ছে। ৩০ টাকা কুড়ি দরে দুই কুড়ি কিনেছি, তবে এ বছর দাম একটু বেশি মনে হচ্ছে।”

স্থানীয়রা জানান, লিচুর মৌসুম শেষ হওয়ার পরপরই বাজারে আশফলের চাহিদা বেড়ে যায়। সাধারণত জুলাই মাসের শেষ দিক থেকে এই ফল পাকতে শুরু করে এবং তখনই বাজারে এর সরব উপস্থিতি দেখা যায়। পুষ্টিবিদদের মতে, আশফলে রয়েছে প্রচুর পানি, শর্করা, ভিটামিন সি, ভিটামিন এসহ বিভিন্ন খনিজ উপাদান। প্রতি ১০০ গ্রাম ভক্ষণ যোগ্য অংশে প্রায় ৭২ শতাংশ পানি, ১০৯ কিলোক্যালোরি শক্তি, ৮.০ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি, ২৮০ আইইউ ভিটামিন এ, ক্যালসিয়াম, ফসফরাস সহ প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান বিদ্যমান।

 

এছাড়া আশফলের শুকনো শাঁস ভেষজ চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয় বলে জানা যায়। এটি পাকস্থলীর প্রদাহ, অনিদ্রা ও কিছু ক্ষেত্রে বিষের প্রতিষেধক হিসেবে ব্যবহারের কথা প্রচলিত রয়েছে। গাছের পাতাও বিভিন্ন রোগ, যেমন অ্যালার্জি, ডায়াবেটিস ও হৃদরোগজনিত সমস্যায় উপকারী হিসেবে ব্যবহৃত হয় বলে স্থানীয়ভাবে জানা যায়।

Ads small one

কলারোয়া সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ছয় লক্ষাধিক টাকার মালামাল আটক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১ জুলাই, ২০২৬, ৭:০৭ অপরাহ্ণ
কলারোয়া সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ছয় লক্ষাধিক টাকার মালামাল আটক

পত্রদূত রিপোর্ট: বুধবার (০১ জুলাই ২০২৬) সাতক্ষীরা ৩৩ বিজিবি ব্যাটালিয়ন এর অধীনস্থ কাকডাঙ্গা, মাদরা ও হিজলদী বিওপির টহলদল দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় চোরাচালান বিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ভারতীয় মোবাইল ফোনের যন্ত্রাংশ ও ঔষধ আটক করেছে।

সাতক্ষীরা ৩৩ বিজিবি ব্যাটালিয়ন জানায়, কাকডাঙ্গা বিওপির আভিযানে কলারোয়া থানার বালিয়ারি হতে ৪ লাখ ৫৫ হাজার টাকার ভারতীয় ঔষধ আটক করে। মাদরা বিওপির আভিযানে কলারোয়া থানার রাজপুর হতে ১ লাখ ০৫ হাজার টাকার ভারতীয় ঔষধ আটক করে।

এছাড়াও, হিজলদী বিওপির আভিযানে কলারোয়া থানার বড়ালি হতে ৩০ হাজার টাকার ভারতীয় মোবাইল ফোনের যন্ত্রাংশ আটক করে। আটক পন্যের সর্বমোট ৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

বিজিবি আরো জানায়, চোরাকারবারী কর্তৃক বর্ণিত মালামাল শুল্ককর ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে ভারত হতে বাংলাদেশে পাচার করায় জব্দ করা হয়। এভাবে ভারতীয় দ্রব্য সামগ্রী মাদক চোরাচালানের কারণে দেশীয় শিল্প ক্ষতিগ্রস্থ হবার পাশাপাশি দেশ উল্লেখযোগ্য রাজস্ব আয় হতে বঞ্চিত হচ্ছে। দেশের রাজস্ব ফাঁকি রোধ করে স্থানীয় শিল্প বিকাশে বিজিবি’র এরূপ দেশপ্রেমিক ও জনস্বার্থে পরিচালিত অভিযানে উপস্থিত স্থানীয় জনগন সাধুবাদ জ্ঞাপন করে এ ধরণের অভিযান অব্যাহত রাখার জন্য অনুরোধ করেন।

সাগরদাঁড়ী দত্তবাড়ির প্রাচীন স্থাপত্য সংস্কার না করায় জৌলুস হারাচ্ছে মধুপল্লী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১ জুলাই, ২০২৬, ৬:৫৯ অপরাহ্ণ
সাগরদাঁড়ী দত্তবাড়ির প্রাচীন স্থাপত্য সংস্কার না করায় জৌলুস হারাচ্ছে মধুপল্লী

এম আব্দুল করিম, কেশবপুর (যশোর): যশোরের কেশবপুর উপজেলার সাগরদাঁড়ীতে কপোতাক্ষ তীরে অবস্থিত মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের স্মৃতি বিজড়িত প্রাচীন স্থাপত্য নিদর্শনগুলো দীর্ঘদিন সংস্কার না করায় জৌলুস হারাচ্ছে মধুপল্লী, আর সরকার হারাচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকার রাজস্ব।

প্রায় ৪ একর ৩৩ শতক জমির ওপর অবস্থিত মধুকবির জমিদার বাড়ির বিভিন্ন স্থাপত্য ও নিদর্শন নিয়ে স্থাপিত মধুপল্লী নানাবিধ সংকটে নিজের জৌলুস হারাতে বসেছে। পর্যটকদের বিনোদনের খোরাক মেটাতে এখানকার ছোট-বড় একাধিক স্থাপনা, মন্দির ও পুকুর ঘাট সংস্কার করা জরুরী হয়ে পড়েছে। ১৮৬৫ সালে তৎকালিন সরকার কবি ভক্তদের থাকার জন্যে চার শয্যা বিশিষ্ট একটি রেস্টহাউজ নির্মাণ করে। এই রেস্ট হাউজের একটি রুমেই করা হয় পাঠাগার।

 

১৯৬৬ সালে কবির বাড়িটি প্রতœতত্ত্ব বিভাগের কাছে সরকার ন্যস্ত করে। প্রতœতত্ত্ব বিভাগ জমিদার বাড়ি, পুকুর সংস্কারসহ পুরো এলাকাটি পাঁচিল দিয়ে ঘিরে ফেলে। ১৯৯৮ সালে এর পুনঃসংস্কার কাজ শুরু হয়ে ২০০১ সালে শেষ হয়। এরপর দীর্ঘ দিনে দত্তবাড়ি, মন্দিরসহ প্রাচীন নিদর্শনগুলো সংস্কার না হওয়ায় এর জানালা, দরজা ভেঙে যাচ্ছে। ছাদেও ফাটল ধরেছে। নষ্ট হয়ে যাচ্ছে সংরক্ষিত আসবাবপত্রগুলো। কবির প্রসূতিস্থান খ্যাত ঘরটি এখন তুলসি গাছের ঠিকানা।

মধুপল্লীর উন্নয়নে ১০ জুন ২০১৮ সালে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিখিল রঞ্জন রায় স্বাক্ষরিত বিটিবি যশোর-পর্যটন/২০১৮(৬৪২)/১৯৮০ নং স্মারকে ১ কোটি টাকা অর্থ বরাদ্দ দেয়া হয়। কিন্তু অজানা কারনে বরাদ্ধ বাস্তবায়ন হয়নি। ৬/৭ মাস আগে মধুমেলাকে সামনে রেখে নামে মাত্র ঘষামাজার কাজ হলেও সংশ্লিষ্টদের নজর নেই মুল স্থাপনায়। যার ফলে জরাজীর্ণ এই স্থাপত্য শুধু সৌন্দয্যই হারাচ্ছে না সাথে সরকার, হারাচ্ছে লক্ষ-লক্ষ টাকার রাজস্ব। তাই দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের সরকারি রাজস্ব আয়ের একমাত্র পর্যটন কেন্দ্রটি অতি দ্রুত সংস্কারের দাবি এই অঞ্চলের মানুষের।

মধুপল্লীর কাস্টডিয়ান হাসানানুজ্জামান বলেন, মধুমেলায় প্রতি বছর ৫ থেকে ৬ লাখ দর্শণার্থীর আগমন ঘটে থাকে। এছাড়া সারা বছরজুড়ে দেশী বিদেশী পর্যটকরা মধুপল্লী ভ্রমণ করে থাকে। নানা সমস্যার কারণে পর্যটকরা দিনের আলো থাকতেই ফিরে যেতে বাধ্য হয়। দর্শণার্থীদের বিনোদন মেটাতে ও সরকারি রাজস্ব বাড়াতে মধুপল্লীর উন্নয়ন খুব জরুরী।

প্রতœতত্ত্ব অধিদপ্তরের রিজিওনাল ডাইরেক্টর (আরডি) মহিদুল ইসলাম বলেন, যশোরের সাগরদাঁড়ি মাইকেল মধুসূদন দত্ত বাড়ি প্রতি বছরেই জন্ম জয়ন্তীর আগে কিছু কাজ করা হয় তবে সাগরদাঁড়িতে যে ভবনগুলো রয়েছে ২০২৬-২০২৭ অর্থ বছরে সেগুলাতে সব ধরনের সংস্কার কাজ করা হবে, এছাড়া মধুপল্লীতে একটি প্রকল্প গ্রহণের কাজ অব্যহত রয়েছে, আশা করি এই মেঘা প্রকল্পের মাধ্যমে এর ব্যপক উন্নয়ন করা সম্ভব হবে।

‘নজরুল বর্ষ’ উপলক্ষে সাতক্ষীরায় বৃহস্পতিবার থেকে তিনদিনের অনুষ্ঠান

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১ জুলাই, ২০২৬, ৬:৫৪ অপরাহ্ণ
‘নজরুল বর্ষ’ উপলক্ষে সাতক্ষীরায় বৃহস্পতিবার থেকে তিনদিনের অনুষ্ঠান

পত্রদূত রিপোর্ট: জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জয়ন্তী উপলক্ষে ২৫ মে, ২০২৬ থেকে ২৫ মে, ২০২৭ পর্যন্ত সময়কে ‘নজরুল বর্ষ’ ঘোষণা করা হয়েছে। ‘নজরুল বর্ষ’ উদযাপনের অংশ হিসেবে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসন ও জেলা শিল্পকলা একাডেমি, সাতক্ষীরার উদ্যোগে আগামী ২ হতে ৪ জুলাই ২০২৬ তিন দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠান আয়োজিত হতে যাচ্ছে।

সাতক্ষীরা জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে তিনদিনব্যাপি অনুষ্ঠানসূচির মধ্যে রয়েছে ২ জুলাই বিকাল ৪ টায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ও পুরষ্কার বিতরণী। ৩ জুলাই বিকাল ৪ টায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং ৪ বিকাল ৪ টায় সমাপনী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।