বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬, ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩
বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬, ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩

সাতক্ষীরা সদরে সুবিধাবঞ্চিত শিশু ও পরিবারের মাঝে ফ্যামিলি কিটস বিতরণ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১ জুলাই, ২০২৬, ৩:৫১ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরা সদরে সুবিধাবঞ্চিত শিশু ও পরিবারের মাঝে ফ্যামিলি কিটস বিতরণ

সংবাদদাতা: সাতক্ষীরা সদর উপজেলায় কেস ম্যানেজমেন্টের আওতাভুক্ত সুবিধাবঞ্চিত, প্রতিবন্ধী ও ঝুঁকিপূর্ণ শিশু এবং তাদের পরিবারের মাঝে ফ্যামিলি কিটস বিতরণ করা হয়েছে।

বুধবার (১ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টায় উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের সামনে উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়, সাতক্ষীরা সদর-এর আয়োজনে এবং ইউনিসেফ বাংলাদেশের সহযোগিতায় এ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়।
সদর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা শরীফুল ইসলাম’র সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অর্ণব দত্ত।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সমবায় কর্মকর্তা মুর্শিদ হাসান তালুকদার, জনতা ব্যাংকের ব্যবস্থাপক শাহিনুর রহমান। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন ফিল্ড সুপারভাইজার মির শরিফুল ইসলাম, ইউনিয়ন সমাজকর্মী টিপু সুলতান ও সাদ্দাম হোসেন, শিশু সুরক্ষা সমাজকর্মী বাশিয়ার রহমানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

বিতরণকৃত প্রতিটি ফ্যামিলি কিটবক্সে ছিল ২টি বড় কম্বল, ২টি শিশুদের কম্বল, ২টি গোসলের সাবান, ২টি কাপড় ধোয়ার সাবান, ২টি বড় টুথপেস্ট, ৪টি টুথব্রাশ, ৪টি মশারি, একটি রিচার্জেবল ব্যাটারিচালিত টর্চলাইট, ২টি তোয়ালে/গামছা এবং একটি ওয়াটারপ্রুফ ক্যারি ব্যাগ।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এই সহায়তার আওতায় কেস ম্যানেজমেন্টের অন্তর্ভুক্ত আইনের সংঘাতে জড়িত শিশু, আইনের সংস্পর্শে আসা শিশু এবং তীব্র ঝুঁকিতে থাকা শিশুদের পরিবারকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এছাড়া থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত, প্রতিবন্ধী, হরিজন সম্প্রদায়ের শিশু, পিতৃহীন-মাতৃহীন শিশু এবং রেল কলোনি ও সুইপার কলোনির সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পরিবারকেও ফ্যামিলি কিট প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠানে আয়োজকরা জানান, “থাকলে শিশু সুরক্ষিত, উন্নয়ন হবে অদম্য”-এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে শিশু সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর লক্ষ্যেই এ সহায়তা কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

 

Ads small one

আশাশুনির মহিষকুড় আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর নির্মাণের একবছরেও বরাদ্ধ দেয়া হয়নি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১ জুলাই, ২০২৬, ৪:৩৭ অপরাহ্ণ
আশাশুনির মহিষকুড় আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর নির্মাণের একবছরেও বরাদ্ধ দেয়া হয়নি

পত্রদূত রিপোর্ট: সাতক্ষীরার উপকূলীয় আশাশুনি উপজেলার শ্রীউলা ইউনিয়নের মহিষকুড় এলাকায় আশ্রয়ণ প্রকল্পের অধিনে প্রায় ৪৭ লাখ টাকা ব্যয়ে ১৮ টি ঘর নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে গত এক বছরের বেশি সময়।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের দাবি নানা সমস্যার কারনে নির্মাণ করা ওই ঘরগুলো আজও ভুমিহীন বা বাস্তহারা পরিবারদের নিকট হস্তান্তর করা সম্ভব হয়নি।

এদিকে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে দ্রুত প্রকৃত অসহায় ও ভুমিহীনদের মাঝে ওই ঘর বরাদ্ধ দেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রশাসকনকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আশাশুনি ঘোলা সড়কের মহিষগুড় নামক এলাকায় সরকারের ক্রয় সুত্রে প্রাপ্ত মহিষকুড় মৌজার ৫৫ শতক জমির ওপর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অধিনে নির্মাণ করা হয় ১৮টি ঘর। তিন কক্ষ ও একটি পায়খানাঘরসহ প্রতিটি ঘর নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ২ লাখ ৫৯ হাজার ৫০০ টাকা। ওই হিসাব অনুযায়ী ১৮ টি ঘরের নির্মাণ ব্যয় হয়েছে ৪৬ লাখ ৭১ হাজার টাকা। কিন্তু নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার এক বছরের বেশি সময় পার হলেও ঘরগুলো ভুমিহীনদের মাঝে হস্তান্তর করা হয়নি।

সরেজমিনে গেলে মহিষকুড় গ্রামের স্থানীয়বাসিন্দা ও ভুমিহীন নারী সামছুন্নাহার (৫৫) জানান, আড়াই শতক খাস জমির উপর কোনো রকম বসবাস করেন। ১০ বছর আগে তার স্বামী মোহাম্মাদ আলী মারা যায়। তিনটি মেয়ে ছাড়া তার কোনো ছেলে সন্তান নেই। অনেক কষ্টের মধ্যে দিনকাটছে তার। প্রকৃত ভুমিহীন হওয়ার পরও তাকে ঘর দেয়া হয়নি বা ঘরের তালিকায় তার নাম রাখা হয়নি।

একই ধরনের বর্নণা দিলেন ওই গ্রামের হতদরিত্র গৃহবধু হালিমা খাতুন ও আছমা খাতুন। তারা বলেন, গ্রামের সবচেয়ে নিঃশ্ব ও অসহায় হয়েও আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর পাননি। ঘর দেয়ার জন্য পুর্বে যে তালিকা করা হয়েছে তাতেও তাদের নাম রাখা হয়নি। কাদের জন্য ওই ঘর নির্মাণ করা হয়েছে তা নিয়েও শঙ্কা রয়েছে বলে জানান তারা।

স্থানীয় শ্রীউলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রভাষক দিপংকর বাছাড় জানান, মহিষকুড় গ্রামে আশ্রয়ণ প্রকল্পের অধিনে ১৮ টি ঘর নির্মাণ করা হলেও সেখানে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া হয়নি। ইতমধ্যে দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকায় পায়খানা ঘরের স্লাপগুলো ধ্বসে পড়ার উপক্রম হয়েছে। ঘরগুলোর তিন পাশে নোনা ঘেরের জল থৈ থৈ করছে। এছাড়া শুরুতে ঘর বরাদ্ধের যে তালিকা করা হয়েছে তাতে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রকৃত ভুমিহীন বা বাস্তাহারা মানুষের জন্য এই ঘর বরাদ্ধের নিয়ম থাকলেও প্রথম পর্যায়ে যে তালিকা প্রণয়ন করা হয় তাতে স্বচ্ছল বা সম্পদশালী পরিবারের নাম রয়েছে।

 

ফলে এসব অনিয়ম ও সমস্যার কারনে বিতর্ক সৃষ্টি হওয়ায় আজ ওই ঘর বরাদ্ধ দেয়া হয়নি বলে জানান তিনি। দিপংকর বাছাড় আরো জানান, দ্রুত ওই ঘরগুলো প্রকৃত ভুমিহীনদের তালিকা করে বরাদ্ধের দেয়া হোক।

আশাশুনি উপজেলা নির্বাহী অফিসার শ্যামানন্দ কুন্ড জানান, পুর্বের তালিকা বাদ দিয়ে জেলা প্রশাসকের নির্দেশক্রমে নতুন তালিকা প্রণয়নের কাজ শুরু হয়েছে। খুব শীঘ্রই প্রকৃত নিঃশ্ব ও গৃহহীন পরিবারদের মাঝে এই ঘর বিতরণ করা হবে। তবে পুর্বে কারা কি ভাবে অনিয়মের মাধ্যমে তালিকা তৈরী করেছিলো সে বিষয় তার জানা নেই বলে জানান।

সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক মিজ কাউসার আজিজ জানান, দ্রুত প্রকৃত অসহায় ও ভুমিহীনদের মাঝে ওই বরাদ্ধ দেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রশাসকনকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। শুধু আশাশুনির মহিষকুড় নয় জেলার অন্যান্য উপজেলাতেও আশ্রয় প্রকল্পের অধিনে নির্মাণ করা ঘর বরাদ্ধ বা সমস্যা থাকলে দ্রুত সমাধান করা হবে। তিনি আরো জানান, সরকারের নির্মাণ করা এসব ঘর জেলার প্রকৃত ভুমিহীনদের মাঝেই বরাদ্ধ নিশ্চিত করা হবে। এছাড়া মহিষকুড়ে দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ ব্যবস্থাও করবেন বলেও জানান।

 

 

জেলা পরিষদ প্রশাসকের সঙ্গে জনতা ব্যাংকের ফুলেল শুভেচ্ছা বিনিময়

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১ জুলাই, ২০২৬, ৪:২৯ অপরাহ্ণ
জেলা পরিষদ প্রশাসকের সঙ্গে জনতা ব্যাংকের ফুলেল শুভেচ্ছা বিনিময়

সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের নবনিযুক্ত প্রশাসক ও সাবেক সংসদ সদস্য হাবিবুল ইসলাম হাবিবের সঙ্গে জনতা ব্যাংক পিএলসি, সাতক্ষীরা-এর কর্মকর্তারা ফুলেল শুভেচ্ছা বিনিময় ও মতবিনিময় করেছেন।

বুধবার (১ জুলাই) দুপুর ১টায় সাতক্ষীরা জেলা পরিষদ কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ সৌজন্য সাক্ষাতে জনতা ব্যাংকের কর্মকর্তারা নবনিযুক্ত প্রশাসককে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। পরে উভয় পক্ষের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় জনতা ব্যাংকের কর্মকর্তারা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে জনতা ব্যাংক পিএলসির ভূমিকা তুলে ধরেন। জবাবে জেলা পরিষদ প্রশাসক হাবিবুল ইসলাম হাবিব জেলার উন্নয়ন, শান্তি-শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা রক্ষায় সকলের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তিনি জেলার সার্বিক কল্যাণে সবসময় জনগণের পাশে থাকার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানে জনতা ব্যাংক পিএলসির পক্ষে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা এরিয়া প্রধান (ডিজিএম) রোকনুজ্জামান, এজিএম রবিউল ইসলাম, এরিয়া অফিসের সিনিয়র অফিসার মোহাম্মদ নাহিদ পারভেজ, সাতক্ষীরা কর্পোরেট শাখার এসপিও শেখ মহিবুল ইসলাম, প্রিন্সিপাল অফিসার বাবলু ভঞ্জ চৌধুরী, সিনিয়র অফিসার আজিজুর রহমান, ব্যাংক ব্যবস্থাপক শাহিনুর রহমানসহ ব্যাংকের অন্যান্য কর্মকর্তা।

 

 

সাতক্ষীরায় টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে জেলা পরিষদের প্রশাসককে স্মারকলিপি দিল নাগরিক কমিটি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১ জুলাই, ২০২৬, ৪:১৯ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে জেলা পরিষদের প্রশাসককে স্মারকলিপি দিল নাগরিক কমিটি

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা জেলার টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে এবং শহরের জলাবদ্ধতা নিরসন ও জলবায়ু পরিবর্তনজনিত দুর্যোগ মোকাবিলায় সুন্দরবন উপকূলীয় বোর্ড ও মন্ত্রণালয় গঠনের দাবিতে সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের প্রশাসক হাবিবুল ইসলাম হাবিবের সাথে মতবিনিময় এবং স্মারকলিপি দিয়েছে সাতক্ষীরা জেলা নাগরিক কমিটি।
বুধবার (১ জুলাই) দুপুরে সাতক্ষীরা জেলা পরিষদ প্রশাসক হাবিবুল ইসলাম হাবিবের বরাবর ২১ দফা দাবি সম্বলিত এই স্মারকলিপি পেশ করা হয়।

স্মারকলিপি প্রদানকালে সাতক্ষীরা জেলা নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট শেখ আজাদ হোসেন বেলালের নেতৃত্বে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সাবেক অধ্যক্ষ আব্দুল হামিদ, কিশোরী মোহন সরকার, হেনরী সরদার, যুগ্ম সদস্য সচিব আলিনুর খান বাবু, মানবাধিকার কর্মী মাধব চন্দ্র দত্ত, সিনিয়র সাংবাদিক মমতাজ আহমেদ বাপী, এম কামরুজ্জামান, সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ, কণ্ঠশিল্পী আবু আফফান রোজবাবু, সুশীলনের উপ-পরিচালক জিএম মনিরুজ্জামান এবং বাইজিদ হোসেন।

স্মারকলিপিতে নাগরিক কমিটির নেতৃবৃন্দ আশা প্রকাশ করেন যে, সাতক্ষীরার সামগ্রিক অর্থনৈতিক অবদান বিবেচনা করে এবং এর ভৌগোলিক ঝুঁকি দূর করতে অবিলম্বে ২১ দফা দাবি বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন। বিশেষ করে আগামী বর্ষা মৌসুমের আগেই যেন উপকূলের বেড়িবাঁধ সংস্কার ও জলাবদ্ধতা নিরসনে জরুরি ভিত্তিতে উদ্যোগ নেওয়া হয়।

সাতক্ষীরা জেলা নাগরিক কমিটির প্রধান দাবিগুলো হলো: সুন্দরবন উপকূলীয় এলাকাকে ‘দুর্যোগ প্রবণ এলাকা’ ঘোষণা এবং টেকসই উন্নয়নের জন্য “সুন্দরবন উপকূলীয় বোর্ড ও মন্ত্রণালয়” গঠন করে বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ রাখা। সাতক্ষীরা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও একাডেমিক কার্যক্রম আগামী শিক্ষাবর্ষ (বর্তমান সেশন) থেকেই দ্রুত চালু করা।

সাতক্ষীরা থেকে মুন্সীগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত রেললাইন নির্মাণ কাজ দ্রুত শুরু করা। এছাড়া শহরের প্রধান সড়ক চার লেনে উন্নীত করা এবং ঢাকার সাথে দূরত্ব কমাতে মাওয়া-ভাঙ্গা-নড়াইল-চুকনগর-সাতক্ষীরা পর্যন্ত সড়ক নির্মাণ করা।