বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬, ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩
বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬, ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩

আশাশুনির মহিষকুড় আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর নির্মাণের একবছরেও বরাদ্ধ দেয়া হয়নি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১ জুলাই, ২০২৬, ৪:৩৭ অপরাহ্ণ
আশাশুনির মহিষকুড় আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর নির্মাণের একবছরেও বরাদ্ধ দেয়া হয়নি

পত্রদূত রিপোর্ট: সাতক্ষীরার উপকূলীয় আশাশুনি উপজেলার শ্রীউলা ইউনিয়নের মহিষকুড় এলাকায় আশ্রয়ণ প্রকল্পের অধিনে প্রায় ৪৭ লাখ টাকা ব্যয়ে ১৮ টি ঘর নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে গত এক বছরের বেশি সময়।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের দাবি নানা সমস্যার কারনে নির্মাণ করা ওই ঘরগুলো আজও ভুমিহীন বা বাস্তহারা পরিবারদের নিকট হস্তান্তর করা সম্ভব হয়নি।

এদিকে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে দ্রুত প্রকৃত অসহায় ও ভুমিহীনদের মাঝে ওই ঘর বরাদ্ধ দেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রশাসকনকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আশাশুনি ঘোলা সড়কের মহিষগুড় নামক এলাকায় সরকারের ক্রয় সুত্রে প্রাপ্ত মহিষকুড় মৌজার ৫৫ শতক জমির ওপর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অধিনে নির্মাণ করা হয় ১৮টি ঘর। তিন কক্ষ ও একটি পায়খানাঘরসহ প্রতিটি ঘর নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ২ লাখ ৫৯ হাজার ৫০০ টাকা। ওই হিসাব অনুযায়ী ১৮ টি ঘরের নির্মাণ ব্যয় হয়েছে ৪৬ লাখ ৭১ হাজার টাকা। কিন্তু নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার এক বছরের বেশি সময় পার হলেও ঘরগুলো ভুমিহীনদের মাঝে হস্তান্তর করা হয়নি।

সরেজমিনে গেলে মহিষকুড় গ্রামের স্থানীয়বাসিন্দা ও ভুমিহীন নারী সামছুন্নাহার (৫৫) জানান, আড়াই শতক খাস জমির উপর কোনো রকম বসবাস করেন। ১০ বছর আগে তার স্বামী মোহাম্মাদ আলী মারা যায়। তিনটি মেয়ে ছাড়া তার কোনো ছেলে সন্তান নেই। অনেক কষ্টের মধ্যে দিনকাটছে তার। প্রকৃত ভুমিহীন হওয়ার পরও তাকে ঘর দেয়া হয়নি বা ঘরের তালিকায় তার নাম রাখা হয়নি।

একই ধরনের বর্নণা দিলেন ওই গ্রামের হতদরিত্র গৃহবধু হালিমা খাতুন ও আছমা খাতুন। তারা বলেন, গ্রামের সবচেয়ে নিঃশ্ব ও অসহায় হয়েও আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর পাননি। ঘর দেয়ার জন্য পুর্বে যে তালিকা করা হয়েছে তাতেও তাদের নাম রাখা হয়নি। কাদের জন্য ওই ঘর নির্মাণ করা হয়েছে তা নিয়েও শঙ্কা রয়েছে বলে জানান তারা।

স্থানীয় শ্রীউলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রভাষক দিপংকর বাছাড় জানান, মহিষকুড় গ্রামে আশ্রয়ণ প্রকল্পের অধিনে ১৮ টি ঘর নির্মাণ করা হলেও সেখানে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া হয়নি। ইতমধ্যে দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকায় পায়খানা ঘরের স্লাপগুলো ধ্বসে পড়ার উপক্রম হয়েছে। ঘরগুলোর তিন পাশে নোনা ঘেরের জল থৈ থৈ করছে। এছাড়া শুরুতে ঘর বরাদ্ধের যে তালিকা করা হয়েছে তাতে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রকৃত ভুমিহীন বা বাস্তাহারা মানুষের জন্য এই ঘর বরাদ্ধের নিয়ম থাকলেও প্রথম পর্যায়ে যে তালিকা প্রণয়ন করা হয় তাতে স্বচ্ছল বা সম্পদশালী পরিবারের নাম রয়েছে।

 

ফলে এসব অনিয়ম ও সমস্যার কারনে বিতর্ক সৃষ্টি হওয়ায় আজ ওই ঘর বরাদ্ধ দেয়া হয়নি বলে জানান তিনি। দিপংকর বাছাড় আরো জানান, দ্রুত ওই ঘরগুলো প্রকৃত ভুমিহীনদের তালিকা করে বরাদ্ধের দেয়া হোক।

আশাশুনি উপজেলা নির্বাহী অফিসার শ্যামানন্দ কুন্ড জানান, পুর্বের তালিকা বাদ দিয়ে জেলা প্রশাসকের নির্দেশক্রমে নতুন তালিকা প্রণয়নের কাজ শুরু হয়েছে। খুব শীঘ্রই প্রকৃত নিঃশ্ব ও গৃহহীন পরিবারদের মাঝে এই ঘর বিতরণ করা হবে। তবে পুর্বে কারা কি ভাবে অনিয়মের মাধ্যমে তালিকা তৈরী করেছিলো সে বিষয় তার জানা নেই বলে জানান।

সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক মিজ কাউসার আজিজ জানান, দ্রুত প্রকৃত অসহায় ও ভুমিহীনদের মাঝে ওই বরাদ্ধ দেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রশাসকনকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। শুধু আশাশুনির মহিষকুড় নয় জেলার অন্যান্য উপজেলাতেও আশ্রয় প্রকল্পের অধিনে নির্মাণ করা ঘর বরাদ্ধ বা সমস্যা থাকলে দ্রুত সমাধান করা হবে। তিনি আরো জানান, সরকারের নির্মাণ করা এসব ঘর জেলার প্রকৃত ভুমিহীনদের মাঝেই বরাদ্ধ নিশ্চিত করা হবে। এছাড়া মহিষকুড়ে দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ ব্যবস্থাও করবেন বলেও জানান।

 

 

Ads small one

কলারোয়া সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ছয় লক্ষাধিক টাকার মালামাল আটক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১ জুলাই, ২০২৬, ৭:০৭ অপরাহ্ণ
কলারোয়া সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ছয় লক্ষাধিক টাকার মালামাল আটক

পত্রদূত রিপোর্ট: বুধবার (০১ জুলাই ২০২৬) সাতক্ষীরা ৩৩ বিজিবি ব্যাটালিয়ন এর অধীনস্থ কাকডাঙ্গা, মাদরা ও হিজলদী বিওপির টহলদল দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় চোরাচালান বিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ভারতীয় মোবাইল ফোনের যন্ত্রাংশ ও ঔষধ আটক করেছে।

সাতক্ষীরা ৩৩ বিজিবি ব্যাটালিয়ন জানায়, কাকডাঙ্গা বিওপির আভিযানে কলারোয়া থানার বালিয়ারি হতে ৪ লাখ ৫৫ হাজার টাকার ভারতীয় ঔষধ আটক করে। মাদরা বিওপির আভিযানে কলারোয়া থানার রাজপুর হতে ১ লাখ ০৫ হাজার টাকার ভারতীয় ঔষধ আটক করে।

এছাড়াও, হিজলদী বিওপির আভিযানে কলারোয়া থানার বড়ালি হতে ৩০ হাজার টাকার ভারতীয় মোবাইল ফোনের যন্ত্রাংশ আটক করে। আটক পন্যের সর্বমোট ৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

বিজিবি আরো জানায়, চোরাকারবারী কর্তৃক বর্ণিত মালামাল শুল্ককর ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে ভারত হতে বাংলাদেশে পাচার করায় জব্দ করা হয়। এভাবে ভারতীয় দ্রব্য সামগ্রী মাদক চোরাচালানের কারণে দেশীয় শিল্প ক্ষতিগ্রস্থ হবার পাশাপাশি দেশ উল্লেখযোগ্য রাজস্ব আয় হতে বঞ্চিত হচ্ছে। দেশের রাজস্ব ফাঁকি রোধ করে স্থানীয় শিল্প বিকাশে বিজিবি’র এরূপ দেশপ্রেমিক ও জনস্বার্থে পরিচালিত অভিযানে উপস্থিত স্থানীয় জনগন সাধুবাদ জ্ঞাপন করে এ ধরণের অভিযান অব্যাহত রাখার জন্য অনুরোধ করেন।

সাগরদাঁড়ী দত্তবাড়ির প্রাচীন স্থাপত্য সংস্কার না করায় জৌলুস হারাচ্ছে মধুপল্লী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১ জুলাই, ২০২৬, ৬:৫৯ অপরাহ্ণ
সাগরদাঁড়ী দত্তবাড়ির প্রাচীন স্থাপত্য সংস্কার না করায় জৌলুস হারাচ্ছে মধুপল্লী

এম আব্দুল করিম, কেশবপুর (যশোর): যশোরের কেশবপুর উপজেলার সাগরদাঁড়ীতে কপোতাক্ষ তীরে অবস্থিত মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের স্মৃতি বিজড়িত প্রাচীন স্থাপত্য নিদর্শনগুলো দীর্ঘদিন সংস্কার না করায় জৌলুস হারাচ্ছে মধুপল্লী, আর সরকার হারাচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকার রাজস্ব।

প্রায় ৪ একর ৩৩ শতক জমির ওপর অবস্থিত মধুকবির জমিদার বাড়ির বিভিন্ন স্থাপত্য ও নিদর্শন নিয়ে স্থাপিত মধুপল্লী নানাবিধ সংকটে নিজের জৌলুস হারাতে বসেছে। পর্যটকদের বিনোদনের খোরাক মেটাতে এখানকার ছোট-বড় একাধিক স্থাপনা, মন্দির ও পুকুর ঘাট সংস্কার করা জরুরী হয়ে পড়েছে। ১৮৬৫ সালে তৎকালিন সরকার কবি ভক্তদের থাকার জন্যে চার শয্যা বিশিষ্ট একটি রেস্টহাউজ নির্মাণ করে। এই রেস্ট হাউজের একটি রুমেই করা হয় পাঠাগার।

 

১৯৬৬ সালে কবির বাড়িটি প্রতœতত্ত্ব বিভাগের কাছে সরকার ন্যস্ত করে। প্রতœতত্ত্ব বিভাগ জমিদার বাড়ি, পুকুর সংস্কারসহ পুরো এলাকাটি পাঁচিল দিয়ে ঘিরে ফেলে। ১৯৯৮ সালে এর পুনঃসংস্কার কাজ শুরু হয়ে ২০০১ সালে শেষ হয়। এরপর দীর্ঘ দিনে দত্তবাড়ি, মন্দিরসহ প্রাচীন নিদর্শনগুলো সংস্কার না হওয়ায় এর জানালা, দরজা ভেঙে যাচ্ছে। ছাদেও ফাটল ধরেছে। নষ্ট হয়ে যাচ্ছে সংরক্ষিত আসবাবপত্রগুলো। কবির প্রসূতিস্থান খ্যাত ঘরটি এখন তুলসি গাছের ঠিকানা।

মধুপল্লীর উন্নয়নে ১০ জুন ২০১৮ সালে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিখিল রঞ্জন রায় স্বাক্ষরিত বিটিবি যশোর-পর্যটন/২০১৮(৬৪২)/১৯৮০ নং স্মারকে ১ কোটি টাকা অর্থ বরাদ্দ দেয়া হয়। কিন্তু অজানা কারনে বরাদ্ধ বাস্তবায়ন হয়নি। ৬/৭ মাস আগে মধুমেলাকে সামনে রেখে নামে মাত্র ঘষামাজার কাজ হলেও সংশ্লিষ্টদের নজর নেই মুল স্থাপনায়। যার ফলে জরাজীর্ণ এই স্থাপত্য শুধু সৌন্দয্যই হারাচ্ছে না সাথে সরকার, হারাচ্ছে লক্ষ-লক্ষ টাকার রাজস্ব। তাই দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের সরকারি রাজস্ব আয়ের একমাত্র পর্যটন কেন্দ্রটি অতি দ্রুত সংস্কারের দাবি এই অঞ্চলের মানুষের।

মধুপল্লীর কাস্টডিয়ান হাসানানুজ্জামান বলেন, মধুমেলায় প্রতি বছর ৫ থেকে ৬ লাখ দর্শণার্থীর আগমন ঘটে থাকে। এছাড়া সারা বছরজুড়ে দেশী বিদেশী পর্যটকরা মধুপল্লী ভ্রমণ করে থাকে। নানা সমস্যার কারণে পর্যটকরা দিনের আলো থাকতেই ফিরে যেতে বাধ্য হয়। দর্শণার্থীদের বিনোদন মেটাতে ও সরকারি রাজস্ব বাড়াতে মধুপল্লীর উন্নয়ন খুব জরুরী।

প্রতœতত্ত্ব অধিদপ্তরের রিজিওনাল ডাইরেক্টর (আরডি) মহিদুল ইসলাম বলেন, যশোরের সাগরদাঁড়ি মাইকেল মধুসূদন দত্ত বাড়ি প্রতি বছরেই জন্ম জয়ন্তীর আগে কিছু কাজ করা হয় তবে সাগরদাঁড়িতে যে ভবনগুলো রয়েছে ২০২৬-২০২৭ অর্থ বছরে সেগুলাতে সব ধরনের সংস্কার কাজ করা হবে, এছাড়া মধুপল্লীতে একটি প্রকল্প গ্রহণের কাজ অব্যহত রয়েছে, আশা করি এই মেঘা প্রকল্পের মাধ্যমে এর ব্যপক উন্নয়ন করা সম্ভব হবে।

‘নজরুল বর্ষ’ উপলক্ষে সাতক্ষীরায় বৃহস্পতিবার থেকে তিনদিনের অনুষ্ঠান

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১ জুলাই, ২০২৬, ৬:৫৪ অপরাহ্ণ
‘নজরুল বর্ষ’ উপলক্ষে সাতক্ষীরায় বৃহস্পতিবার থেকে তিনদিনের অনুষ্ঠান

পত্রদূত রিপোর্ট: জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জয়ন্তী উপলক্ষে ২৫ মে, ২০২৬ থেকে ২৫ মে, ২০২৭ পর্যন্ত সময়কে ‘নজরুল বর্ষ’ ঘোষণা করা হয়েছে। ‘নজরুল বর্ষ’ উদযাপনের অংশ হিসেবে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসন ও জেলা শিল্পকলা একাডেমি, সাতক্ষীরার উদ্যোগে আগামী ২ হতে ৪ জুলাই ২০২৬ তিন দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠান আয়োজিত হতে যাচ্ছে।

সাতক্ষীরা জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে তিনদিনব্যাপি অনুষ্ঠানসূচির মধ্যে রয়েছে ২ জুলাই বিকাল ৪ টায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ও পুরষ্কার বিতরণী। ৩ জুলাই বিকাল ৪ টায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং ৪ বিকাল ৪ টায় সমাপনী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।