বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩
বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন করে হামলায় কাঁপছে ইরান

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই, ২০২৬, ৫:৫৭ অপরাহ্ণ
যুক্তরাষ্ট্রের নতুন করে হামলায় কাঁপছে ইরান

মধ্যপ্রাচ্যে আবারও তীব্র সামরিক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সামরিক বাহিনীর (সেন্টকম) দাবি, ইরানের সাম্প্রতিক হামলার জবাবে দেশটির দক্ষিণাঞ্চল ও উপকূলীয় এলাকায় প্রায় ৯০টি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে নির্ভুল হামলা চালানো হয়েছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের দাবি, হামলায় কয়েকজন সেনাসদস্য নিহত এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। তবে হতাহতের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। নিহতদের মধ্যে বিমান বাহিনী ও নৌবাহিনীর সদস্য রয়েছেন। হামলায় দক্ষিণাঞ্চলের বান্দার আব্বাস ও বুশেহর এলাকায় উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

 

হামলার পরপরই ইরানও উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটি ও মিত্র দেশগুলোর দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছুড়ে পাল্টা জবাব দিয়েছে। এতে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন হামলাটি শুরু হয় স্থানীয় সময় বুধবার (৮ জুলাই) ভোরের আগে, যখন মার্কিন সামরিক বাহিনী একযোগে ইরানের দক্ষিণাঞ্চল ও পারস্য উপসাগরসংলগ্ন একাধিক সামরিক স্থাপনায় বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। হামলার সময় ইরানের বিভিন্ন শহরে একের পর এক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায় এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় হয়ে ওঠে।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, হামলাটি ছিল পূর্বপরিকল্পিত এবং এতে প্রায় ৯০টি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হয়। লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে ছিল ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র, ড্রোন ঘাঁটি, সামরিক বিমানঘাঁটি, রানওয়ে, সেতু, রাডার স্টেশন, নৌঘাঁটি এবং সামরিক লজিস্টিক অবকাঠামো।

বিশেষ করে বান্দার আব্বাস, সিরিক, কেশম দ্বীপ এবং হরমুজ প্রণালির আশপাশের সামরিক স্থাপনাগুলোতে ব্যাপক হামলা চালানো হয়। মার্কিন বাহিনীর দাবি, এসব স্থাপনা থেকেই সম্প্রতি বাণিজ্যিক জাহাজ ও মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হচ্ছিল।

সেন্টকমের দাবি, এসব হামলার মাধ্যমে ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করাই ছিল উদ্দেশ্য।

মার্কিন দাবি অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালিতে তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের হামলার জবাব হিসেবেই এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।

ইরানি গণমাধ্যম জানিয়েছে, ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের বান্দার আব্বাস, সিরিক, কোনারাক ও চাবাহার এলাকায় বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হলেও একাধিক স্থানে বিস্ফোরণ ঘটে। বান্দার আব্বাস ও আশপাশের এলাকায় বিস্ফোরণের পর কয়েক ঘণ্টা আগুন জ্বলতে দেখা যায়। স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হয়।

খুজেস্তান প্রদেশের আহভাজ শহরের কাছে এক হামলায় অন্তত তিনজন নিহত এবং কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

মার্কিন হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানায় ইরান। ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানায়, তারা বাহরাইন, কুয়েত ও কাতারে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এরপর মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয় এবং পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ও মিত্রবাহিনীর নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়।

ইরানের সামরিক বাহিনীর দাবি, এই হামলার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে যে, ইরানের ওপর যেকোনো আগ্রাসনের জবাব দেওয়া হবে। তবে এসব হামলায় মার্কিন বাহিনীর ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

হামলার পরদিন (৯ জুলাই) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেন, ইরানের সঙ্গে কার্যকর থাকা অন্তর্বর্তী যুদ্ধবিরতি শেষ হয়ে গেছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, ইরান যদি আন্তর্জাতিক নৌপথ বা মার্কিন স্বার্থে আবারও হামলা চালায়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র আরও কঠোর সামরিক অভিযান পরিচালনা করবে।

ট্রাম্প বলেন, “ইরান যদি থামে না, তাহলে আমরা কাজ শেষ করব। আমরা দীর্ঘ যুদ্ধ চাই না, কিন্তু আমাদের স্বার্থ রক্ষায় যা প্রয়োজন, তাই করা হবে।” তিনি আরও বলেন, বর্তমান যুদ্ধবিরতি কার্যত শেষ হয়ে গেছে এবং এখন পরিস্থিতি পুরোপুরি ইরানের আচরণের ওপর নির্ভর করছে।

ট্রাম্পের দাবি, ইরান যুদ্ধবিরতির সমঝোতা লঙ্ঘন করেছে। তাই প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্র আরও সামরিক অভিযান চালাতে পারে। তবে তিনি একই সঙ্গে বলেন, পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ আবার শুরু হবে বলে তিনি মনে করেন না।

ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, “আমেরিকা ভেবেছে হামলা চালিয়ে ইরানকে ভয় দেখানো যাবে। কিন্তু প্রতিটি হামলার জবাব আরও শক্তভাবে দেওয়া হবে।” একই সঙ্গে তেহরান জানিয়েছে, প্রয়োজনে হরমুজ প্রণালিতে নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করা হবে।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যুক্তরাষ্ট্রের হামলাকে সমঝোতা ও আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন বলে অভিযোগ করেছে। জাতিসংঘে ইরানের রাষ্ট্রদূত আমির সাঈদ ইরাভানি নিরাপত্তা পরিষদের কাছে অভিযোগ জানিয়ে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র জাতিসংঘ সনদ এবং দুই দেশের সমঝোতা ভঙ্গ করেছে।

ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ বলেছেন, “হরমুজ প্রণালি কখন খুলবে, সেই সিদ্ধান্ত ইরানই নেবে। আমাদের ওপর হামলা হলে তার জবাবও দেওয়া হবে।”

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই অভিযোগ করেছেন, ন্যাটোভুক্ত যেসব দেশ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে ঘাঁটি বা অবকাঠামো ব্যবহার করতে দিয়েছে, তারাও এই যুদ্ধের দায় এড়াতে পারে না। তিনি ন্যাটো মহাসচিবের বক্তব্যেরও সমালোচনা করেন।

অন্যদিকে ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুটে বলেছেন, ইরান যুদ্ধবিরতি ভঙ্গ করে হরমুজ প্রণালিতে হামলা চালানোর পর যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক প্রতিক্রিয়া ছিল “একেবারেই প্রয়োজনীয়”।

এ ঘটনার পর বিশ্বজুড়ে তেলের বাজারে অস্থিরতা দেখা দেয় এবং হরমুজ প্রণালি ঘিরে নিরাপত্তা উদ্বেগ আরও বেড়ে যায়।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, চলমান সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। বর্তমানে সীমিত সংখ্যক জাহাজ ইরানের অনুমোদিত রুট ব্যবহার করে চলাচল করছে, যা আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ ও বিশ্ববাজারে নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

সংঘাতের সরাসরি প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও। হামলার পরদিনই ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১ শতাংশের বেশি বেড়ে ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৭৯ ডলারে পৌঁছায়। বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের সংকট দেখা দিতে পারে এবং বিশ্ববাজারে তেলের দাম আরও বাড়তে পারে।

জাতিসংঘসহ ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ উভয় পক্ষকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে। কূটনৈতিক মহলের আশঙ্কা, বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে সংঘাত শুধু ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে একটি বৃহৎ আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নিতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পাল্টাপাল্টি হামলা শুধু মধ্যপ্রাচ্যেই নয়, বৈশ্বিক নিরাপত্তা, জ্বালানি সরবরাহ এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ওপরও বড় প্রভাব ফেলতে পারে। হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা অব্যাহত থাকলে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার পাশাপাশি বিশ্ব অর্থনীতিতেও নতুন চাপ সৃষ্টি হতে পারে।

Ads small one

সাংবাদিকদের নিয়ে স্বাস্থ্য কর্মকর্তার ফেসবুক পোস্ট, তালা প্রেসক্লাবের নিন্দা ও প্রতিবাদ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:০৪ অপরাহ্ণ
সাংবাদিকদের নিয়ে স্বাস্থ্য কর্মকর্তার ফেসবুক পোস্ট, তালা প্রেসক্লাবের নিন্দা ও প্রতিবাদ

তালা প্রতিনিধি: সাংবাদিকদের নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া একটি পোস্টের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে তালা প্রেসক্লাব। তালা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মিজানুর রহমানের ওই পোস্টকে কেন্দ্র করে জেলাজুড়ে বিতর্ক ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

২০ অক্টোবর রাতে নিজের ফেসবুক আইডিতে ডা. মিজানুর রহমান লিখেন, “আমার মনে হয় কেয়ামতের ময়দান থেকে সবচেয়ে বেশি জাহান্নামে যাবে মিডিয়া কর্মী।” তাঁর এ মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর সাংবাদিকদের মধ্যে প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। ২১ অক্টোবর সকাল থেকে তালা ও সাতক্ষীরার বিভিন্ন সাংবাদিক এ মন্তব্যের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।

এক বিবৃতিতে তালা প্রেসক্লাবের সভাপতি সেলিম হায়দার, সিনিয়র সহ-সভাপতি গাজী জাহিদুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক জোয়ার্দ্দার ফারুকসহ ক্লাবের নেতারা এ ঘটনার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। তাঁরা বলেন, সাংবাদিকেরা বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন এবং জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট অনিয়ম ও দুর্নীতির তথ্য তুলে ধরার মাধ্যমে সমাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। একজন দায়িত্বশীল সরকারি কর্মকর্তা ও চিকিৎসকের কাছ থেকে সাংবাদিকদের নিয়ে এমন মন্তব্য অনাকাক্সিক্ষত।

পরে ২১ অক্টোবর দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে নিজের ফেসবুক আইডিতে আরেকটি পোস্ট দিয়ে আগের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দেন ডা. মিজানুর রহমান। সেখানে তিনি লেখেন, “কেয়ামতের ময়দান থেকে সবচেয়ে বেশি জাহান্নামে যাবে কে, একমাত্র আল্লাহই ভালো জানেন। আমার দেওয়া পোস্ট এক্সপ্লেইন করলাম। আমার পোস্টে কোনো মিডিয়াকর্মী কষ্ট পেলে আমি দুঃখিত।”

প্রতিবাদ জানানো নেতারা হলেন-তালা প্রেসক্লাবের সভাপতি সেলিম হায়দার, সিনিয়র সহ-সভাপতি গাজী জাহিদুর রহমান, সহ-সভাপতি কাজী আরিফুল হক ভুলু, আছাদুজ্জামান রাজু ও খলিলুর রহমান লিথু, সাধারণ সম্পাদক জোয়ার্দ্দার ফারুক, যুগ্ম সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান রেন্টু, সহ-সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস হোসেন ও মো. খলিলুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর হোসেন, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক তরিকুল ইসলাম, অর্থ সম্পাদক মো. মুতাহিরুল হক শাহিন, দপ্তর সম্পাদক শফিকুল ইসলাম শফি, প্রচার সম্পাদক সেকেন্দার আবু জাফর বাবলু, উপ-প্রচার সম্পাদক আরিফ বিল্লাহ, সাহিত্য সম্পাদক অর্জুন বিশ্বাস, সমাজকল্যাণ সম্পাদক আজমল হোসেন জুয়েল, ক্রীড়া সম্পাদক কাজী লিয়াকত হোসেন এবং তথ্য ও প্রযুক্তি সম্পাদক রিয়াদ হোসেন।

এ ছাড়া নির্বাহী সদস্য প্রণব ঘোষ বাবলু, রোকনুজ্জামান টিপু, কে এম শাহিনুর রহমান, এস এম নাহিদ হাছান, শিরিনা সুলতানা, জয়দেব চক্রবর্তী, আজিজুর রহমান ও মো. ইমরান হোসেন এবং সদস্য নূর ইসলাম, তপন চক্রবর্তী, সব্যসাচী মজুমদার বাপ্পী, সরদার মশিয়ার রহমান, আব্দুল্লাহ আল ফারুক (সাগর), মুকুল হোসেন, তাপস সরকার, এস. কে. রায়হান, সুমন রায় গণেশ, মীর ইমরান মাহমুদ হিল্লোল, তাজমুল ইসলাম, সৈয়দ মারুফ হোসেন, সন্তোষ ঘোষ, শেখ বিল্লাল হোসেন, মো. কামাল হোসেন, আব্দুল্লাহ আল-মামুন (সৈকত), রফিকুল ইসলাম নয়ন, শামীম হোসেন, মোস্তাফিজুল রহমান মোখলেস, খায়রুল আলম, সেলিম হোসেন, শাহিনুর ইসলাম ও হারুন অর রশিদ।

 

পাটকেলঘাটায় ৮০০ লিটার ভেজাল নারকেল তেল আটক, দুই ভ্যানচালক থানায়

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৫৭ অপরাহ্ণ
পাটকেলঘাটায় ৮০০ লিটার ভেজাল নারকেল তেল আটক, দুই ভ্যানচালক থানায়

পত্রদূত ডেস্ক: পাটকেলঘাটায় ভেজাল সন্দেহে দুই ভ্যানে বহন করা ৮০০ লিটার নারকেল তেল জব্দ করেছে পুলিশ। ২১ অক্টোবর বিকেলে পাটকেলঘাটা পুরাতন থানার সামনে পাকা সড়ক থেকে ১৬টি ড্রামে ভর্তি এসব তেল জব্দ করা হয়। এ সময় দুই ভ্যানচালককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নেওয়া হয়।

পুলিশ ও গোয়েন্দা সূত্রে জানা যায়, বিকেলে পাটকেলঘাটা পুরাতন থানার সামনে দিয়ে দুটি ভ্যানে করে ১৬টি ড্রামে তেল পরিবহন করা হচ্ছিল। এ সময় ভ্যান দুটিতে বিপুল পরিমাণ তেল দেখে সন্দেহ হয় পাটকেলঘাটা থানার ডিএসবি ওয়াচার কনস্টেবল মো. হাবিবুর রহমানের। পরে তিনি ভ্যানচালকদের জিজ্ঞাসাবাদ করলে তাঁদের কথায় ভিন্নতা পাওয়া যায়। বিষয়টি তিনি পাটকেলঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) অবহিত করেন। পরে পুলিশ তেলসহ ভ্যান দুটি আটক করে এবং চালকদের থানায় নিয়ে যায়।

আটক দুই ভ্যানচালক হলেন সাতক্ষীরা সদর উপজেলার পুরাতন সাতক্ষীরা এলাকার দেলদার সানার ছেলে নুর ইসলাম (৪২) এবং ধুলিহর সানাপাড়া এলাকার মো. মোসলেম আলীর ছেলে মো. ইউনুস আলী (৪৮)।

সূত্রে জানা যায়, জে আর জে ফুড অ্যান্ড অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, কল্যাণপুর, ঢাকা থেকে ২০ অক্টোবর ২০২৬ তারিখের ২১ নম্বর মেমোর মাধ্যমে ১৬টি ড্রামে মোট ৮০০ লিটার তেল সরবরাহ করা হয়েছে বলে কাগজপত্রে উল্লেখ রয়েছে। তেলগুলো সাতক্ষীরা সদর এলাকার ‘গ্রামীণ জীবন’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের জন্য আনা হয়েছিল বলে জানা গেছে। এ-সংক্রান্ত তথ্যে ০১৮৯২১৪৫৩৬৯ নম্বরের একটি মুঠোফোন নম্বরও উল্লেখ রয়েছে।

তবে জব্দ করা তেল ভেজাল কি না, তা এখনো পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়নি। তেলের গুণগত মান, প্রকৃত ধরন এবং সরবরাহ-সংক্রান্ত কাগজপত্র যাচাইয়ের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এদিকে, ঘটনাটির বিষয়ে এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি ও তথ্য সংগ্রহ অব্যাহত রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

আন্তর্জাতিক তোতলামি সচেতনতা দিবস: দুর্বলতা নয়, সহমর্মিতা চাই

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:৩২ অপরাহ্ণ
আন্তর্জাতিক তোতলামি সচেতনতা দিবস: দুর্বলতা নয়, সহমর্মিতা চাই

সাকিবুর রহমান বাবলা

২২ অক্টোবর বিশ্বজুড়ে পালিত হয় আন্তর্জাতিক তোতলামি সচেতনতা দিবস। তোতলামি নিয়ে প্রচলিত ভুল ধারণা দূর করা, আক্রান্ত ব্যক্তিদের অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করা এবং তাদের সঙ্গে সহমর্মিতাপূর্ণ আচরণ গড়ে তোলাই এ দিবসের মূল উদ্দেশ্য। ১৯৯৮ সালে ইন্টারন্যাশনাল স্টাটারিং অ্যাসোসিয়েশন, ইন্টারন্যাশনাল ফ্লুয়েন্সি অ্যাসোসিয়েশন এবং ইউরোপিয়ান লীগ অব স্টাটারিং অ্যাসোসিয়েশনসের যৌথ উদ্যোগে দিবসটি প্রথম পালিত হয়। এর আগে ১৯৯৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার ওকল্যান্ডের মাইকেল সুগারম্যান একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে দিবসটি পালনের প্রস্তাব দেন।

২০২৬ সালের প্রতিপাদ্য ‘তোতলামির নানা রূপ—আপনারটি কেমন?’ এই প্রতিপাদ্য মনে করিয়ে দেয়, সবার তোতলামির অভিজ্ঞতা এক রকম নয়। এর প্রকাশভঙ্গি ও চ্যালেঞ্জও ভিন্ন হতে পারে। তাই তাদের অভিজ্ঞতা বোঝা, এই বৈচিত্র্যকে সম্মান করা এবং সচেতনতা বাড়ানো জরুরি। বিশ্বে প্রায় এক শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক এবং প্রায় পাঁচ শতাংশ শিশু কোনো না কোনো সময় তোতলামির সমস্যায় ভোগে। সাধারণত তিন থেকে পাঁচ বছর বয়সে এর লক্ষণ দেখা দেয়। ছেলেদের মধ্যে এটি মেয়েদের তুলনায় প্রায় দুই থেকে তিন গুণ বেশি দেখা যায়।

তোতলামি হলো কথা বলার গতি ও স্বাভাবিক প্রবাহের একটি সমস্যা। কথা বলার সময় একই বর্ণ বা শব্দ বারবার বলা, কোনো ধ্বনি টেনে উচ্চারণ করা কিংবা হঠাৎ আটকে যাওয়া এর সাধারণ লক্ষণ। একজন ব্যক্তি মনে মনে কী বলতে চান, তা পরিষ্কারভাবে জানলেও মুখে স্বাভাবিক ছন্দে প্রকাশ করতে অসুবিধা হতে পারে। এটি বুদ্ধির ঘাটতি, অলসতা বা মানসিক দুর্বলতার লক্ষণ নয়। কথা বলার সময় মস্তিষ্কের প্রক্রিয়া ও স্নায়বিক সমন্বয়ের পার্থক্য এবং বংশগত বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে তোতলামির সম্পর্ক থাকতে পারে। বিভিন্ন গবেষণায় বলা হয়েছে, আক্রান্ত ব্যক্তিদের প্রায় ৬০ শতাংশের পরিবারে তোতলামির ইতিহাস রয়েছে।

শিশুর ভাষা শেখার দ্রুত বিকাশের সময় তোতলামি শুরু হতে পারে। অনেক শিশুর ক্ষেত্রে বয়স বাড়ার সঙ্গে এটি কমে যায়। আনুমানিক ৭৫ থেকে ৮০ শতাংশ শিশু বিকাশজনিত তোতলামি থেকে সেরে ওঠে। তবে সবার ক্ষেত্রে এমনটি হয় না। ভয়, উদ্বেগ বা মানসিক চাপ তোতলামির মূল কারণ নয়। কিন্তু এসব কারণে সমস্যা বেড়ে যেতে পারে। তাই লক্ষণ দীর্ঘদিন থাকলে, অথবা শিশুর কথা বলা, পড়াশোনা ও সামাজিক যোগাযোগে সমস্যা হলে দ্রুত স্পিচ অ্যান্ড ল্যাঙ্গুয়েজ প্যাথলজিস্টের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

তোতলামি মোকাবিলায় স্পিচ-ল্যাঙ্গুয়েজ থেরাপি গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষজ্ঞরা ব্যক্তির প্রয়োজন অনুযায়ী কথা বলার কৌশল শেখান। তারা বাচনপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণ এবং যোগাযোগে স্বাচ্ছন্দ্য বাড়ানোর অনুশীলনও করান। তোতলামির কারণে ভয়, লজ্জা বা উদ্বেগ তৈরি হলে কগনিটিভ বিহেভিওরাল থেরাপি সহায়ক হতে পারে। তোতলামি পুরোপুরি দূর করার জন্য সর্বজনস্বীকৃত কোনো নির্দিষ্ট ওষুধ নেই। তবে অন্য কোনো মানসিক সমস্যা থাকলে চিকিৎসক প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা দিতে পারেন। ধীরে ও স্বচ্ছন্দে কথা বলার অনুশীলন, শ্বাস-প্রশ্বাসের কৌশল, বই পড়া এবং নিজের কথা রেকর্ড করে শোনা কিছুটা সহায়ক হতে পারে। তবে এসব অনুশীলনের ফল সবার ক্ষেত্রে এক নয় এবং এগুলো পেশাদার থেরাপির বিকল্প নয়।

তোতলামি মানুষের সম্ভাবনা বা সাফল্যের পথে অনিবার্য বাধা নয়। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন শৈশবে তোতলামির অভিজ্ঞতার কথা বলেছেন। অভিনেতা জেমস আর্ল জোন্স, এমিলি ব্লান্ট ও রোয়ান অ্যাটকিনসন এবং সংগীতশিল্পী এড শিরানও জীবনের বিভিন্ন সময়ে বাচনগত সমস্যার কথা জানিয়েছেন। তাদের জীবন দেখায়, কোনো একটি সীমাবদ্ধতা দিয়ে মানুষের প্রতিভা ও অর্জন বিচার করা উচিত নয়। সাফল্যের জন্য তোতলামি পুরোপুরি দূর হওয়া জরুরি নয়। তোতলামি থাকলেও একজন মানুষ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জীবন ও কর্মক্ষেত্রে এগিয়ে যেতে পারেন।

এ ক্ষেত্রে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কেউ কথা বলতে গিয়ে আটকে গেলে ধৈর্য ধরে তার কথা শুনতে হবে। মাঝপথে বাধা দেওয়া বা তার হয়ে বাক্য শেষ করে দেওয়া যাবে না। তার কথা বলার ধরন নকল করে হাসাহাসি, ব্যঙ্গ বা কটূক্তি করা বন্ধ করতে হবে। অপমানজনক নামে ডাকাও উচিত নয়। ‘আস্তে বলো’, ‘গভীর শ্বাস নাও’ বা ‘আগে ভেবে নাও’-এ ধরনের অযাচিত উপদেশ অনেক সময় তার মানসিক চাপ বাড়িয়ে দিতে পারে। বরং স্বাভাবিক চোখের যোগাযোগ রেখে তাকে কথা শেষ করার যথেষ্ট সময় দিতে হবে। শ্রেণিকক্ষ, সভা, কর্মক্ষেত্র ও সামাজিক অনুষ্ঠানে তাদের মতামত প্রকাশের সমান সুযোগ নিশ্চিত করা জরুরি।

তোতলামি কারও নিজের তৈরি সমস্যা নয়। এর পেছনে জৈবিক, স্নায়বিক ও বংশগত কারণ থাকতে পারে। তাই আক্রান্ত ব্যক্তিকে দোষ দেওয়া বা তার মেধা ও যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা অন্যায়। শুরুতেই বিশেষজ্ঞের সহায়তা, পরিবারের সহযোগিতা এবং সমাজের গ্রহণযোগ্যতা তাদের জীবনকে সহজ করতে পারে। আন্তর্জাতিক তোতলামি সচেতনতা দিবসের শিক্ষা হোক-কথা বলার ধরন নয়, মানুষের চিন্তা, প্রতিভা ও মানবিক মূল্যবোধ দিয়েই তাকে বিচার করা উচিত। সহমর্মিতা, ধৈর্য ও সম্মানের মাধ্যমে আমরা এমন একটি সমাজ গড়তে পারি, যেখানে সবাই নির্ভয়ে নিজের কথা বলতে এবং নিজের মতো করে বিকশিত হতে পারে।