রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬, ২৭ আষাঢ় ১৪৩৩
রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬, ২৭ আষাঢ় ১৪৩৩

এবার শাহজালাল মাজারের দানবাক্সে ১৮ দিনে মিললো ৪৭ লাখ টাকা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২৬, ৯:৩৬ অপরাহ্ণ
এবার শাহজালাল মাজারের দানবাক্সে ১৮ দিনে মিললো ৪৭ লাখ টাকা

সিলেটের হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারে ১৮ দিন পর দ্বিতীয়বারের মতো জেলা প্রশাসনের সিলগালা করা ঐতিহাসিক ডেগ আর নতুন স্থাপন করা দানবাক্স খুলে ৪৭ লাখ ১০ হাজার ১৫৩ টাকা পাওয়া গেছে।

শনিবার (১১ জুলাই) বেলা সোয়া ১১টার পর থেকে মাজার প্রাঙ্গণে টাকা গণনার কাজ শুরু হয়। সন্ধ্যা ৬টার দিকে গণনা শেষ হয়। হজরত শাহজালাল (রহ.) মাজার মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা গণনার কাজে অংশ নেন।

গণনা শেষে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও সার্বিক পরিচালনার স্বচ্ছতা আনতে গঠিত কমিটির সদস্য আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, ‌‘ডেগ ও নতুন দানবাক্স খুলে ৪৭ লাখ ১০ হাজার ১৫৩ টাকা পাওয়া গেছে। এ ছাড়া বিভিন্ন বৈদেশিক মুদ্রা, স্বর্ণ ও রৌপ্যও পাওয়া যায়। এসব অর্থ ও স্বর্ণালঙ্কার জেলা প্রশাসকের নামে খোলা ব্যাংক হিসাবে জমা রাখা হবে।’

তিনি জানান, বৈদেশিক মুদ্রার মধ্যে রয়েছে সৌদি আরবের ১৩৫ রিয়াল, যুক্তরাষ্ট্রের ২০ ডলার, ভারতের ২ হাজার ৫৩২ রুপি, কাতারের ২২ দিরহাম, মালয়েশিয়ার ৬ রিঙ্গিত, হংকংয়ের ২০ ডলার, ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২০ ইউরো, ওমানের ১ দশমিক ৪৫০ দিনার, সংযুক্ত আরব আমিরাতের ৫৪ দশমিক ২০ দিরহাম, ইন্দোনেশিয়ার ৪ হাজার রুপিয়াহ, পাকিস্তানের ৬০ রুপি এবং সিঙ্গাপুরের ১০ ডলার। এ ছাড়া দানবাক্সে ৯ গ্রাম স্বর্ণ, ১০ গ্রাম স্বর্ণসদৃশ বস্তু এবং ৩৯ দশমিক ৪ গ্রাম রৌপ্য পাওয়া গেছে। পাশাপাশি একটি গরু, ৬৫টি ছাগল পাওয়া গেছে। এর মধ্যে গরু ও ৪০টি ছাগল রান্না করে মাজারের ভক্ত ও অনুরাগীদের খাওয়ানো হয়েছে। ২৫টি ছাগল বিক্রি করা হয়েছে, যার বিক্রয়মূল্য ১ লাখ ১৫ হাজার ৪০৩ টাকা।

মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও সার্বিক পরিচালনার স্বচ্ছতা আনতে গঠিত কমিটির ওপর আস্থা রাখায় সিলেটবাসীকে ধন্যবাদ জানিয়ে আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, ‘হজরত শাহজালালের (রহ.) মাজার, দরগাহ মসজিদ ও মাদ্রাসার পরিচালনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে গঠিত কমিটির পরবর্তী সভা আগামী বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হবে। ওই সভার সিদ্ধান্তের আলোকে এক মাসের মধ্যে আমরা এসব প্রতিষ্ঠানের অর্থ ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনায় একটা নীতিমালা চূড়ান্ত করবো। এর মধ্য দিয়ে অর্থের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করবো।’

এর আগে গত ২২ জুন আটটি ডেগ আর দানবাক্স খুলে চার দিনে মোট ১৭ লাখ ৫৪৯ টাকা নগদ পাওয়া যায়। এ ছাড়া ৭ আনা স্বর্ণালঙ্কার এবং সৌদি ৫ রিয়ালের দুটি নোট পাওয়া গিয়েছিল। পরে জেলা প্রশাসকের ব্যবস্থাপনায় নতুন করে চালু করা একটি ব্যাংক হিসাবে এসব টাকা জমা রাখা হয়।

স্থানীয় প্রশাসন ও মাজার কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, গত ১২ জুন হজরত শাহজালাল (রহ.) ও হজরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজার পরিদর্শনে যান সিলেটের তৎকালীন জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম। এ সময় তিনি মাজারের আয় ও ব্যয়ের ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে উদ্যোগ নেওয়ার ঘোষণা দেন। এর অংশ হিসেবে ১৮ জুন বিকালে মাজারে থাকা আগের দানবাক্স সিলগালা করে নতুন দানবাক্স স্থাপন করা হয়। পাশাপাশি মাজারে মানুষের দানের অর্থ রাখার জন্য থাকা ঐতিহাসিক তিনটি দানের ডেগ সিলগালা করা হয়।

এ ঘটনার পর জেলা প্রশাসকের পক্ষে-বিপক্ষে বিস্তর আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হয়। কেউ জেলা প্রশাসকের উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে অভিহিত করেন। আবার প্রশাসনের ব্যবস্থাপনায় দানবাক্স স্থাপনের বিষয়ে অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এ রকম আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার করে নেয় সরকার। সরকারের একাধিক মন্ত্রী অবশ্য জেলা প্রশাসক বদলির ঘটনাকে ‘রুটিন ওয়ার্ক’ বলে মন্তব্য করেছিলেন।

এরপর হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার ইস্যুতে স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরের উদ্যোগে গত ২৬ জুন সিলেট সার্কিট হাউসে এক সভা হয়। সেখানে মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও সার্বিক পরিচালনায় স্বচ্ছতা আনতে ১৩ সদস্যের কমিটি হয়। আজ ওই কমিটির উদ্যোগেই প্রথমবারের মতো মাজারের দানের টাকা গণনার কাজ শুরু হয়।

Ads small one

কালিগঞ্জ থানার পরিত্যক্ত ভবন ভাঙতে গিয়ে ককটেল বিস্ফোরণে দুই শ্রমিক আহত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১২ জুলাই, ২০২৬, ১১:৪৭ অপরাহ্ণ
কালিগঞ্জ থানার পরিত্যক্ত ভবন ভাঙতে গিয়ে ককটেল বিস্ফোরণে দুই শ্রমিক আহত

বিশেষ প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ থানার পরিত্যক্ত ভবন ভাঙার কাজ চলাকালে মাটির নিচে থাকা একটি ককটেল বিস্ফোরিত হয়ে দুই শ্রমিক আহত হয়েছেন। রবিবার (১২ জুলাই) বেলা দেড়টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও আহত শ্রমিকরা জানান, কয়েকদিন যাবত থানার পুরাতন ভবন ভাঙার করছেন শ্রমিকরা। রবিবার থানা চত্ত্বরে কোদালের সাহায্যে মাটি সরানোর সময় উপজেলার বাজারগ্রাম এলাকার গফফার মোড়লের ছেলে রফিকুল ইসলাম (৪২) এর কোদালের আঘাতে একটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটে। এতে তার দুই হাতসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে রক্তাক্ত জখম হয়। এ সময় বাজারগ্রাম এলাকার কামরুল হাসান (৩০) নামে আরও এক শ্রমিক আহত হন।
ককটেল বিস্ফোরণের বিকট শব্দ শুনে পুলিশ ও স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে যেয়ে আহত দুই শ্রমিককে চিকিৎসার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। বর্তমানে সেখানে তাদের চিকিৎসা চলছে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
কালিগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মো. শহিদুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে ককটেলটি দীর্ঘদিন ধরে ভবনের ফ্লোরের পাশে মাটির নিচে পরিত্যক্ত অবস্থায় ছিল। বিষয়টি অধিকতর তদন্ত চলছে। তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় সাতক্ষীরা সিলভার জুবিলি মডেল স্কুলের বড় সাফল্য

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১২ জুলাই, ২০২৬, ১১:৪৭ অপরাহ্ণ
প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় সাতক্ষীরা সিলভার জুবিলি মডেল স্কুলের বড় সাফল্য

নিজস্ব প্রতিনিধি: ২০২৫ সালের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছে সাতক্ষীরা সিলভার জুবিলি মডেল স্কুল। এ বছর বিদ্যালয়টি থেকে ২৩ জন শিক্ষার্থী বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ১৪ জনই বৃত্তি পাওয়ার গৌরব অর্জন করেছে।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বৃত্তিপ্রাপ্ত ১৪ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ১১ জন ট্যালেন্টপুলে (মেধাবৃত্তি) এবং ৩ জন সাধারণ গ্রেডে বৃত্তি পেয়েছে। পাসের হার ও মেধার ভিত্তিতে এই ফলাফলকে বিদ্যালয়টির অন্যতম সেরা সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিদ্যালয়ের এই অর্জনে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং ম্যানেজিং কমিটির সদস্যদের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন নবনির্বাচিত সভাপতি। তিনি বলেন, শিক্ষকদের অক্লান্ত পরিশ্রম, শিক্ষার্থীদের গভীর অধ্যাবসায় এবং অভিভাবকদের সার্বিক সহযোগিতার কারণেই এই গৌরবোজ্জ্বল অর্জন সম্ভব হয়েছে। সাফল্যের এই ধারা ভবিষ্যতেও বজায় থাকবে এবং শিক্ষার্থীরা আগামীতে দেশ ও জাতির কল্যাণে অবদান রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

পাটকেলঘাটায় ২০ বছর ধরে বেহাল দূর্বাডাঙ্গা-গাছা সড়ক, চরম দুর্ভোগে বাসিন্দারা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১২ জুলাই, ২০২৬, ১১:৪৪ অপরাহ্ণ
পাটকেলঘাটায় ২০ বছর ধরে বেহাল দূর্বাডাঙ্গা-গাছা সড়ক, চরম দুর্ভোগে বাসিন্দারা

পাটকেলঘাটা প্রতিনিধি: পাটকেলঘাটা থানার দূর্বাডাঙ্গা-গাছা গ্রামের ১ কিলোমিটারেরও বেশি দীর্ঘ একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক দীর্ঘ ২০ বছর ধরে সংস্কারহীন অবস্থায় পড়ে রয়েছে। সড়কটি স্থায়ীভাবে মেরামত না করায় চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন এলাকার হাজারো মানুষ।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দুর্ভোগ এখন চরমে, বিশেষ করে সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কটি কাদাময় ও চলাচলের সম্পূর্ণ অনুপযোগী হয়ে পড়ে। ফলে প্রতিদিন শিক্ষার্থী, কৃষক, চাকরিজীবীসহ সাধারণ মানুষকে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, হাঁটুসমান কাদা মাড়িয়ে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা জুতা হাতে নিয়ে খালি পায়ে স্কুলে যেতে বাধ্য হচ্ছে। এতে যেমন শিক্ষার্থীদের নিয়মিত বিদ্যালয়ে যাতায়াত ব্যাহত হচ্ছে, তেমনি বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরে একাধিকবার সড়কটি সংস্কারের দাবি জানানো হলেও কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বর্ষা মৌসুমে এই দুর্ভোগ তীব্র আকার ধারণ করে। ফলে জরুরি প্রয়োজনে কোনো রোগীকে হাসপাতালে নেওয়া, কৃষিপণ্য পরিবহন এবং দৈনন্দিন যাতায়াত মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, খলিসখালি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মো. মোজাফফর রহমানের আমলে রাস্তাটি মাটি দিয়ে উঁচু করা হয়েছিল, যার ফলে সে সময় সাময়িক কিছুটা স্বস্তি মিলেছিল। স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য পঙ্কজ কুমার এলাকার মানুষের যাতায়াতের এই গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাটি দ্রুত সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। বছরের পর বছর ধরে চলা এই দুর্ভোগের অবসান ঘটিয়ে সাধারণ মানুষের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে সড়কটি দ্রুত পাকাকরণের জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।