শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬, ২৬ আষাঢ় ১৪৩৩
শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬, ২৬ আষাঢ় ১৪৩৩

আন্তর্জাতিক আশা দিবস: মানসিক শক্তির আলোকবর্তিকা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২৬, ১০:২৬ অপরাহ্ণ
আন্তর্জাতিক আশা দিবস: মানসিক শক্তির আলোকবর্তিকা

সাকিবুর রহমান বাবলা

মানবসভ্যতার ইতিহাসে এমন কিছু শক্তি রয়েছে, যা যুদ্ধ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, বৈষম্য, দারিদ্র্য এবং ব্যক্তিগত সংকটের মধ্যেও মানুষকে সামনে এগিয়ে যাওয়ার সাহস জুগিয়েছে। সেই শক্তিগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো ‘আশা’। আশা মানুষকে হতাশা থেকে মুক্তি দেয়, সংকট মোকাবিলার শক্তি জোগায় এবং উন্নত ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখতে শেখায়। এই উপলব্ধি থেকেই জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ ২০২৫ সালের ৪ মার্চ গৃহীত এ/আরইএস/৭৯/২৭০ নম্বর প্রস্তাবের মাধ্যমে ১২ জুলাইকে ‘ইন্টারন্যাশনাল ডে অব হোপ’ হিসেবে ঘোষণা করে।

আন্তর্জাতিক আশা দিবসের মূল লক্ষ্য হলো বিশ্বব্যাপী আশা, শান্তি, সহনশীলতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, সামাজিক সংহতি এবং মানবকল্যাণের চেতনাকে শক্তিশালী করা। জাতিসংঘের মতে, আশা কেবল একটি আবেগ নয়; এটি এমন এক ইতিবাচক শক্তি, যা ব্যক্তি, পরিবার, রাষ্ট্র এবং পুরো বিশ্বকে সংকট অতিক্রম করে উন্নতির পথে এগিয়ে নিতে সাহায্য করে। খ্যাতনামা মার্কিন কবি এমিলি ডিকিনসনের ভাষায়Ñআশা হলো ডানাওয়ালা এক পাখি, যা আমাদের আত্মার গভীরে বাসা বাঁধে এবং বিনা শব্দে সুর তুলে যায়।

বর্তমান বিশ্ব নানা চ্যালেঞ্জে আক্রান্ত। যুদ্ধ-বিগ্রহ, জলবায়ু পরিবর্তন, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, সামাজিক বিভাজন এবং মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা মানুষের জীবনে গভীর প্রভাব ফেলছে। এমন বাস্তবতায় আশা এক অমূল্য সামাজিক সম্পদে পরিণত হয়েছে। আশা মানুষকে একে অপরের প্রতি সহমর্মী হতে শেখায় এবং বিভক্ত সমাজকে ঐক্যের পথে এগিয়ে নিতে সাহায্য করে। ক্ষমা, পুনর্মিলন ও মানবিক মূল্যবোধের বিকাশে আশার ভূমিকা অপরিসীম।

মনোবিজ্ঞানীদের ভাষায় ‘আশা’ একটি বৈজ্ঞানিকভাবে স্বীকৃত ইতিবাচক শক্তি। বিশিষ্ট মনোবিজ্ঞানী সি.আর. স্নাইডার তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ ‘দ্য সাইকোলজি অব হোপ’-এ আশাকে লক্ষ্য অর্জনের ইচ্ছাশক্তি এবং সেই লক্ষ্যে পৌঁছানোর পথ খুঁজে বের করার সক্ষমতার সমন্বয় হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। তাঁর গবেষণায় দেখা গেছে, আশাবাদী মানুষ সাধারণত অধিক আত্মবিশ্বাসী হন এবং সংকট মোকাবিলায় তাঁরা অন্যদের চেয়ে এগিয়ে থাকেন। আধুনিক স্নায়ুবিজ্ঞানও নিশ্চিত করেছে যে, আশা মানুষের মস্তিষ্কের কর্মস্পৃহা ও ইতিবাচক আবেগকে উদ্দীপ্ত করে, যা মানসিক সুস্থতা বৃদ্ধিতে সহায়ক। একইভাবে ভিক্টর ফ্রাঙ্কল তাঁর কালজয়ী গ্রন্থ ‘ম্যানস সার্চ ফর মিনিং’-এ দেখিয়েছেন যে, জীবনের অর্থ ও আশা মানুষকে চরম দুঃসময়েও টিকে থাকার শক্তি জোগায়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, সুস্থ মানসিক স্বাস্থ্য মানে কেবল রোগের অনুপস্থিতি নয়; বরং জীবনের চাপ মোকাবিলা করে উৎপাদনশীল থাকা এবং সমাজে ইতিবাচক অবদান রাখা। এ ক্ষেত্রে আশা একটি মূল উপাদান। মানুষের মানসিক স্থিতি বজায় রাখা এবং সংকট মোকাবিলার সক্ষমতা গড়ে তুলতে আশার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সাতক্ষীরায় মাঠপর্যায়ের কাজের অভিজ্ঞতায় আত্মহত্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে একটি বিষয় স্পষ্ট হয়েছেÑআত্মহত্যার পথে পা বাড়ানো প্রায় প্রত্যেকের ক্ষেত্রেই মূল কারণ ছিল হঠাৎ বা দীর্ঘদিনের তীব্র হতাশা এবং ভবিষ্যতের প্রতি সব ধরনের প্রত্যাশা হারিয়ে ফেলা। যারা আত্মহত্যার পথ থেকে ফিরে এসেছেন, তাঁরাও স্বীকার করেছেন যে, সেই চরম মুহূর্তে তাঁদের প্রয়োজন ছিল সামান্য সহমর্মিতা, আন্তরিক শ্রবণ এবং ভবিষ্যতের প্রতি নতুন করে আশা জাগানোর মতো একটি মানবিক স্পর্শ। এই বাস্তবতা আমাদের বারবার মনে করিয়ে দেয় যে, আত্মহত্যা কোনো বিচ্ছিন্ন দুর্ঘটনা নয়, বরং দীর্ঘদিনের আশাহীনতার ভয়াবহ পরিণতি।

এ দিবসটি আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে, মানবসভ্যতার অগ্রযাত্রা কেবল প্রযুক্তি বা ক্ষমতার ওপর নির্ভর করেনি; বরং নির্ভর করেছে মানুষের অন্তর্গত সাহস ও বিশ্বাসের ওপর। আজকের অনিশ্চিত বিশ্বে আশা হতে পারে শান্তি ও টেকসই উন্নয়নের মূল অনুপ্রেরণা। তাই ব্যক্তি, পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং রাষ্ট্রÑসবার সম্মিলিত দায়িত্ব হলো এমন একটি পরিবেশ গড়ে তোলা, যেখানে মানুষ আশাবাদী হতে শেখে।

আন্তর্জাতিক আশা দিবসের মূল বার্তা একটাইÑ “অন্ধকার যত গভীরই হোক, আশার প্রদীপ নিভে যায় না। সেই আলোকধারাই মানুষকে বাঁচতে, এগিয়ে যেতে এবং একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ নির্মাণে অনুপ্রাণিত করে।” আসুন, আজ আন্তর্জাতিক আশা দিবসে আমরা অন্তত একজন হতাশ মানুষকে সাহস জোগাই, একটি ভালো কথা বলি এবং সমাজে আশার আলো ছড়িয়ে দেওয়ার অঙ্গীকার করি।

Ads small one

সম্পাদকীয়/প্রসঙ্গ: সাতক্ষীরার চিরচেনা জলাবদ্ধতা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২৬, ১১:৫৫ অপরাহ্ণ
সম্পাদকীয়/প্রসঙ্গ: সাতক্ষীরার চিরচেনা জলাবদ্ধতা

দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরার মানুষের কাছে ‘জলাবদ্ধতা’ কোনো নতুন শব্দ নয়, বরং এটি তাদের জীবনের এক বার্ষিক অভিশাপ। সম্প্রতি মাত্র এক রাতের ১৪৬ মিলিমিটার রেকর্ড বৃষ্টিতে সাতক্ষীরা পৌরসভাসহ বিভিন্ন উপজেলার বিস্তীর্ণ অঞ্চল যেভাবে পানিতে তলিয়ে গেছে, তা আবারও প্রমাণ করল যেÑআমাদের নগর পরিকল্পনা ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা কতটা ভঙ্গুর। সরকারি দপ্তর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আবাসিক এলাকাগুলোতে হাঁটুসমান পানি জমে জনজীবন স্থবির হয়ে পড়া এবং মানুষের ঘরে সাপ-খোপ ঢুকে পড়ার মতো পরিস্থিতি কোনো আধুনিক ও দায়িত্বশীল নাগরিক সমাজের চিত্র হতে পারে না।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের ক্ষোভ অত্যন্ত যৌক্তিক। বিশ বছর ধরে এক অবর্ণনীয় দুর্ভোগের মধ্য দিয়ে চলছেন তারা। ‘দক্ষিণবঙ্গের অক্সফোর্ড’ খ্যাত সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ রোড, মাছখোলা এলাকা কিংবা কলারোয়ার ঐতিহ্যবাহী বেত্রবতী আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং দক্ষিণ দেবনগর ও শ্রীফলকাটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠ ও শ্রেণিকক্ষ পানিতে ডুবে থাকার দৃশ্য শুধু শিক্ষার পরিবেশকেই ব্যাহত করছে না, বরং আমাদের কোমলমতি শিশুদের চরম স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে। খাবার পানি ও স্যানিটেশন ব্যবস্থার বিপর্যয় পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। অন্যদিকে, দিনমজুর ও ভ্যানচালকদের মতো খেটে খাওয়া মানুষ কাজ হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন, যা গ্রামীণ অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা।
মূল সংকট কোথায়? স্থানীয়দের অভিযোগ পরিষ্কারÑঅপরিকল্পিত নগরায়ণ, পর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থার অভাব, ড্রেন নিয়মিত পরিষ্কার না করা এবং স্লুইস গেটগুলোর সঠিক ব্যবস্থাপনা না থাকা।
নতুন সরকারের অধীনে নদী ও খাল খননের যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয় এবং আশাব্যঞ্জক। সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) আশ্বাসের পরিপ্রক্ষিতে বলা যায়, শহরের প্রাণসায়ের খালের সাথে ড্রেনেজ ব্যবস্থার সংযোগ সচল করা এবং স্লুইস গেটগুলো সময়মতো খুলে দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। তবে এই কাজগুলো শুধু কাগজের পরিকল্পনা বা সাময়িক সংস্কারের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না; এর জন্য প্রয়োজন একটি সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদি মহাপরিকল্পনা।
আমরা মনে করি, সাতক্ষীরার এই চিরচেনা দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পেতে জেলা প্রশাসন, পৌর কর্তৃপক্ষ ও পানি উন্নয়ন বোর্ডকে একযোগে কাজ করতে হবে। পানি নিষ্কাশনের প্রাকৃতিক পথগুলো সচল করা, অবৈধ দখলদারদের হাত থেকে খাল ও জলাশয় উদ্ধার করা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মাঠ ভরাট ও উঁচুকরণ এখন সময়ের দাবি। নতুন সরকারের সংস্কারের প্রতিশ্রুতির সুফল যেন সাতক্ষীরার মানুষ বাস্তবে পায়Ñসংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

আশাশুনি কলেজ কেন্দ্রে চার পরীক্ষার্থী বহিস্কার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২৬, ১১:১৩ অপরাহ্ণ
আশাশুনি কলেজ কেন্দ্রে চার পরীক্ষার্থী বহিস্কার

আশাশুনি প্রতিনিধি: চলতি এইচএসসি পরীক্ষায় আশাশুনি সরকারি কলেজ কেন্দ্রে ৪ কলেজের ৪জন পরীক্ষার্থীকে অসদুপায় অবলম্বনের দায়ে বহিস্কার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত বিজনেস ইংলিশ সাবজেক্টের পরীক্ষায় তাদেরকে বহিস্কার করা হয়।
কেন্দের হল সুপার প্রভাষক রবিউল ইসলাম জানান, ভিজিলেন্স টিম সদস্য পরীক্ষা চলাকালে কারিগরি শিক্ষা বিভাগের কক্ষে ৪ পরীক্ষার্থীকে অনৈতিক উপায় অবলম্বনের দায়ে খাতা, নকল, মোবাইল উদ্ধার করেন। পরে তাদেরকে (আশাশুনি সরকারি কলেজের একজন-মোবাইল পাওয়ায়, বড়দল আফতাব উদ্দীন কলেজিয়েট স্কুলের একজন-নকল পাওয়ায়, হাজী জালাল উদ্দীন কলেজের একজন-নকল পাওয়ায় ও বুধহাটা সুন্দরবন টেকনিক্যাল কলেজের একজন-নকল পাওয়ায়) বহিস্কার করা হয়।

শ্যামনগর উপজেলা প্রেসক্লাবের সাংবাদিকদের সাথে নবাগত ওসির মতবিনিময়

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২৬, ১১:১৩ অপরাহ্ণ
শ্যামনগর উপজেলা প্রেসক্লাবের সাংবাদিকদের সাথে নবাগত ওসির মতবিনিময়

শ্যামনগর প্রতিনিধি: রাস্ট্র ও সমাজ গঠনে সাংবাদিকদের কলমের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। একটি অন্ধকার সমাজকে আলোকিত করতে পারে সাংবাদিকরা। বস্তনিষ্ট সংবাদ সমাজকে আলোকিত করে। শনিবার (১০ জুলাই) বেলা ১১টায় শ্যামনগর উপজেলা প্রেসক্লাবের হলরুমে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় কালে কথাগুলো বলেছেন অফিসার ইনচার্জ শাফিউল ইসলাম পাটোয়ারী।
সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় কালে তিনি আরও বলেন পুলিশ ও সাংবাদিকদের মধ্যে সুসম্পর্ক সমাজকে অন্ধকার থেকে আলোয় নিয়ে যেতে পারে। কোন নিরিহ মানুষ যাতে হয়রাণী না হয় এবং অধিকার থেকে বঞ্চিত না হয় সেদিকে তিনি খেয়াল রাখবেন বলে আশ্বস্থ করেন। স্কুল, কলেজ সহ অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বাল্য বিবাহ, মাদক, ইভটিজিং বিষয়ে সচেতনতামূলক সভা করবেন বলে জানান।শ্যামনগর উপজেলাকে একটি মডেল উপজেলা করার জন্য চেষ্টা করবেন মতবিনিময় সভায় অবহিত করেন। শ্যামনগর উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি সহকারী অধ্যাপক ছামিউল আযম মনিরের সভাপতিত্বে সভায় অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন শ্যামনগর থানার উপ-পরিদর্শক বিপ্লব হোসেন।
উপজেলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতিসহ অন্যান্য বিষয়ে বক্তব্য রাখেন উপজেলা প্রেসক্লাবের কর্মরত সাংবাদিক প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এস এম মোস্তফা কামাল, সাংবাদিক শেখ আফজালুর রহমান, রনজিৎ বর্মন, আবু কওছার, এম কামরুজ্জামান, হাজী মুরাদ, হোসাইন বিন আফতাব, মাহমুদুল ফিরোজ বাবুল, গাজী মিশুক প্রমুখ।
উল্লেখ্য, শ্যামনগর থানার নবাগত অফিসার ইনচার্জ ২জুলাই যোগদান করেন। তিনি জেলা শহর সাতক্ষীরায় ডিবি পুলিশে কর্মরত ছিলেন। তার বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায়। তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া করেছেন।