এক্সপ্রেস সার্ভিসের নামে গ্রাহক হয়রানির অভিযোগ সাতক্ষীরা প্রধান ডাকঘরে
নিজস্ব প্রতিনিধি: বাংলাদেশ ডাক বিভাগের দ্রুততম সেবা ‘গ্যারান্টিড এক্সপ্রেস পোস্ট’ (জিইপি) নিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাতক্ষীরার সাধারণ মানুষ ও পেশাজীবীরা। চড়া মাশুল দিয়েও দুই সপ্তাহে রাজধানীর গন্তব্যে পৌঁছায়নি অতি জরুরি দাপ্তরিক নথি। সাতক্ষীরা প্রধান ডাকঘরের চরম উদাসীনতা, দায়িত্বজ্ঞানহীনতা আর অব্যবস্থাপনায় এই ‘এক্সপ্রেস’ সেবা এখন গ্রাহকদের জন্য প্রহসনে পরিণত হয়েছে।
ভুক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে, গত ২ জুলাই সাতক্ষীরা প্রধান ডাকঘর থেকে ‘গ্যারান্টিড এক্সপ্রেস পোস্ট’-এর মাধ্যমে ঢাকার মোহাম্মদপুরে একটি অতি জরুরি দাপ্তরিক নথি পাঠানো হয়। পাঠানোর ১৪ দিন পার হয়ে ১৬ জুলাই হলেও নথিটি প্রাপকের হাতে পৌঁছায়নি।
ভুক্তভোগী পেশাজীবী মো. হোসেন আলী জানান, চিঠি পৌঁছাতে অস্বাভাবিক দেরি দেখে তিনি সাতক্ষীরা প্রধান ডাকঘরের পোস্টমাস্টার দেবাশীষ কর্মকারের কাছে যান। তখন পোস্টমাস্টার অনলাইনে ট্র্যাকিং দেখে দ্রুতই প্রাপক চিঠি পাবেন বলে আশ্বাস দিয়েছিলেন। কিন্তু ১৬ জুলাই পুনরায় যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, জরুরি নথিটি ঢাকা থেকে নাকি আবার সাতক্ষীরাতেই ফেরত পাঠানো হয়েছে।
সরকারি সেবার এমন নজিরবিহীন গাফিলতির সুনির্দিষ্ট কোনো ব্যাখ্যা না দিয়ে পোস্টমাস্টার ভুক্তভোগী গ্রাহককে সরাসরি ডাকপিওনের সাথে যোগাযোগ করার পরামর্শ দিয়ে নিজের কক্ষ ত্যাগ করেন। পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট ডাকপিওন আক্তারুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, তাঁর কাছে এখনো কোনো চিঠি আসেনি, আসলে তিনি গ্রাহককে ডেকে নেবেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সাতক্ষীরা প্রধান ডাকঘরে এ ধরনের ঘটনা এবারই প্রথম নয়। এর আগেও হাবিবুল ইসলাম নামের এক তরুণ পেশাজীবী অত্যন্ত জরুরি নথিপত্র ঢাকা পাঠানোর জন্য এই এক্সপ্রেস সার্ভিসে বুকিং করেছিলেন। একই কায়দায় দীর্ঘদিন সময়ক্ষেপণ করার পর প্রাপকের কাছে না পাঠিয়ে চিঠিটি পুনরায় সাতক্ষীরায় ফেরত পাঠানো হয়।
গ্রাহকদের প্রশ্ন, যে চিঠি রাজধানীতে পৌঁছানোর কথা, তা প্রাপকের ঠিকানায় না গিয়ে কেন এবং কার ভুলে পুনরায় সাতক্ষীরায় ফেরত আসছে? আর ফেরত আসার পরেও কেন তা গ্রাহককে না জানিয়ে দীর্ঘদিন ফেলে রাখা হচ্ছে?
এ বিষয়ে জানতে ডাক বিভাগের দক্ষিণাঞ্চল খুলনার পোস্টমাস্টার জেনারেল (চলতি দায়িত্বে) কবির আহমেদের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়। দ্রুততম সময়ে এই হয়রানি ও কর্মকর্তাদের খামখেয়ালিপনা বন্ধে ডাক বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন স্থানীয় ভুক্তভোগীরা।






