মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩

কালের স্বাক্ষী হয়ে দাড়িয়ে আছে পরিত্যাক্ত পাটকেলঘাটা অডিটরিয়াম

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬, ৪:৫০ অপরাহ্ণ
কালের স্বাক্ষী হয়ে দাড়িয়ে আছে পরিত্যাক্ত পাটকেলঘাটা অডিটরিয়াম

এমএম জামান মনি, পাটকেলঘাটা: পাটকেলঘাটা একমাত্র অডিটরিয়াম এখন নেশাখোরদের আড্ডাখানা। সরকারি এই জরাজীর্ণ ভবনটি এখনো কালের স্বাক্ষী হিসেবে স্রণ করিয়ে দেয় পাটকেলঘাটা বানিজ্য কেন্দ্রে ইতিহাস ঐতিহ্যের কথা। রাজনৈতিক মঞ্চে এই অডিটরিয়াম সংস্কারে নেতারা বিভিন্ন সময়ে ওয়াদা-প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবে কেউ কথা রাখেনি।

জানা গেছে, ১৯৭৯ সালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সরকারের আমলে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. আফতাবুজ্জামান-এমপি পাটকেলঘাটা হাই স্কুলের মধ্যে একটি অডিটরিয়াম নির্মাণ করার পরিকল্পনা করেন। তৎকালীন সময়ের স্কুলে জমিদাতা তালা উপজেলা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি প্রয়াত এবিএম আলতাফ হোসেন, তৎকালীন সময়ের সাধারণ সম্পাদক জমিদাতা প্রয়াত মফিদুল ইসলাম, জমিদাতা প্রয়াত আবু বক্কার, তৎকালীন সময়ের প্রধান শিক্ষক পশুপতিসহ ১০সদস্যের একটি বাস্তবায়ন কমিটি গঠন করেন। এক হাজার মানুষের ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন একটি বিল্ডিং নির্মাণ করা হয়। একই বিল্ডিংয়ে একটি উঁচু বিশাল স্টেজ তৈরি করা হয়। দক্ষিণ পাশে বিশাল দুটি রেস্ট রুম করা হয়।

উপরে টিনের ছাউনি তৈরি করা হয়। গরমের দিনের কথা চিন্তা করে বড় বড় জানালা তৈরি করা হয়। এক বছর সময় লাগে। ১৯৮০ সালের আনুষ্ঠানিকভাবে বিশাল আয়োজনে ঐতিহাসিক অডিটরিয়ামটি উদ্বোধন করা হয়। এরপর সেটি সকলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়।

সেই থেকে রাজনৈতিক দলের সভা, সমাবেশ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, শিক্ষকদের ট্রেনিং, দর্জি প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন ধরনের সভা সমাবেশ অনুষ্ঠানের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠে পাটকেলঘাটা অডিটরিয়াম। অডিটরিয়াম এর রক্ষাণাবেক্ষণ, তত্ত্বাবধায়ন ও নিয়ন্ত্রণ ছিল স্কুলের হাতে। কিন্তু ১৯৯৬ সালে অডিটরিয়ামের নিয়ন্ত্রণ চলে যায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার হাতে। তখন থেকে অডিটরিয়ামে কোন অনুষ্ঠান করতে হলে তালায় অবস্থিত ইউএনও অফিসের অনুমতি নেওয়ার বিধান চালু হয়।

 

আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এবং অডিটরিয়াম থেকে ইউএনও অফিসের অবস্থান ভিন্ন হওয়ায় ধীরে ধীরে অডিটরিয়াম ব্যবহারে নিরুৎসাহিত হতে থাকে ব্যবহারকারীরা। বিকল্প হিসেবে খোলামেলা স্থানে অনুষ্ঠান করার প্রচলন শুরু হয়। ফলে অডিটরিয়াম ব্যবহার কমতে কমতে এক সময় সেটা পরিত্যাক্ত ভবনে পরিণত হয়।

এমন অবস্থায় ২০০৮ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পাটকেলঘাটার কৃতি সন্তান ইঞ্জিনিয়ার শেখ মুজিবুর রহমান সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পরে অডিটরিয়ামটির সংস্কারের উদ্যোগ নেন। ২০১১ সালের দিকে সংস্কারের জন্য দুই লাখ টাকা বরাদ্দও দেন। কিন্তু জরাজীর্ণ এই ভবনের সংস্কারে সেই অর্থ খুবই অপ্রতুল হওয়ায় নামমাত্র সংস্কার হলেও তা ব্যবহার উপযোগী করা হয়নি। অন্যান্য সময়ে জনপ্রতিনিধিরা অডিটরিয়ামটির সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিলেও কেউ তা বাস্তবায়নে এগিয়ে আসেনি।

পাটকেলঘাটা হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক মোঃ সাইফুল ইসলাম বলেন, অডিটরিয়াম সংস্কার করার কোন অর্থ আমাদের ফান্ডে নেই।

তালা উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফেরদৌসী আফরোজা স্বর্ণা বলেন, এই মুহূর্তে আমাদের কাছে সরকারি কোন অর্থ নেই। যদি পাই তাহলে বিষয়টি দেখব।

যুগীপুকুর গ্রামের রেজাউল বিশ্বাস, জাসদ নেতা আবুল কালাম আজাদ মিলন, পাটকেলঘাটা প্রেসক্লাবের সভাপতি আব্দুল মমিন, সাবেক সভাপতি শেখ জহুরুল হক বলেন পাটকেলঘাটা অডিটরিয়ামটি এখন জরাজীর্ণ। এই ভবনই পাটকেলঘাটা বানিজ্য কেন্দ্রের ঐতিহ্যের সাক্ষ্য দেয়। তারা অডিটরিয়ামটি দ্রুত সংস্কারের দাবী জানান।

Ads small one

সাতক্ষীরায় ১০ অসচ্ছল পরিবার পেল বিনামূল্যে ছাগল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬, ১২:০০ পূর্বাহ্ণ
সাতক্ষীরায় ১০ অসচ্ছল পরিবার পেল বিনামূল্যে ছাগল

নিজস্ব প্রতিনিধি: বাংলাদেশ এনজিও ফাউন্ডেশনের (বিএনএফ) আর্থিক সহযোগিতায় সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ধূলিহর ইউনিয়নের পূর্ব দামারপোতা গ্রামের ১০টি সুবিধাবঞ্চিত ও অসচ্ছল পরিবারের মাঝে বিনামূল্যে ছাগল বিতরণ করা হয়েছে। ‘নব জীবন’ নামের একটি বেসরকারি সংস্থার আয়োজনে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়। মঙ্গলবার আয়োজিত এ কর্মসূচির আওতায় বাছাইকৃত ১০টি পরিবারের প্রতিটিকে দুটি করে মোট ২০টি ছাগল তুলে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সাতক্ষীরা সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মশিউর রহমান। তিনি জানান, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর আত্মনির্ভরশীলতাই গ্রামীণ অর্থনীতির মূল শক্তি। দরিদ্র পরিবারের হাতে আয়ের মাধ্যম হিসেবে ছাগল তুলে দেওয়া তাদের অর্থনৈতিক মুক্তির সূচনা করবে। বিতরণকৃত ছাগলগুলোর চিকিৎসাসেবা, টিকাদান ও কৃমিনাশক প্রয়োগসহ সব ধরনের কারিগরি সহায়তায় প্রাণিসম্পদ দপ্তর পাশে থাকবে। নব জীবনের কার্যনির্বাহী পরিষদের সভাপতি মো. শামসুল আলম খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক তারেকুজ্জামান খান।
অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন নব জীবনের পরিচালক খান ফাহিম আল ফুয়াদ। অনুষ্ঠানে সংস্থার প্রকল্প ব্যবস্থাপক অছিউল আলমসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

পাটকেলঘাটা ফুটবল মাঠ পরিদর্শন করলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক হাবিবুল ইসলাম

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৬, ১১:৫৬ অপরাহ্ণ
পাটকেলঘাটা ফুটবল মাঠ পরিদর্শন করলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক হাবিবুল ইসলাম

পাটকেলঘাটা প্রতিনিধি: যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল ইসলামের ৩০ আগস্ট আগমন উপলক্ষে সাতক্ষীরার পাটকেলঘাটার ঐতিহাসিক ফুটবল মাঠ পরিদর্শন করেছেন জেলা পরিষদের প্রশাসক ও সাবেক সংসদ সদস্য হাবিবুল ইসলাম হাবিব। মঙ্গলবার বিকেলে তিনি মাঠের সার্বিক পরিস্থিতি ঘুরে দেখেন।
পরিদর্শনকালে সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের প্রশাসক হাবিবুল ইসলাম হাবিবের সঙ্গে পাটকেলঘাটা ও তালা উপজেলার বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
পরিদর্শন শেষে জেলা পরিষদের প্রশাসক মাঠে থাকা তরুণ খেলোয়াড়দের সঙ্গে কথা বলেন এবং ছবি তোলেন। এ সময় তিনি খেলোয়াড়দের খেলার প্রতি আরও আন্তরিক ও মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে আগামী ৩০ আগস্ট প্রতিমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে স্থানীয়দের উপস্থিত থাকার আমন্ত্রণ জানান।

বুশরা গ্রুপের সম্পত্তি বিক্রি ঠেকাতে জেলা প্রশাসকের কাছে আমানতকারীদের আবেদন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৬, ১১:৫৩ অপরাহ্ণ
বুশরা গ্রুপের সম্পত্তি বিক্রি ঠেকাতে জেলা প্রশাসকের কাছে আমানতকারীদের আবেদন

 

বিশেষ প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে বুশরা গ্রুপের প্রায় ১০ হাজার আমানতকারীর পাওনা অর্থ ফেরত দিতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং প্রতিষ্ঠানটির কালিগঞ্জ শাখা অফিস সিলগালা করে সম্পত্তি বিক্রি বন্ধের দাবি জানিয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন ভুক্তভোগী আমানতকারীরা।
মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের কাছে কালিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিলন সাহার মাধ্যমে এ আবেদন করা হয়। আবেদনে বুশরা গ্রুপের চেয়ারম্যান শেখ শরিফুল ইসলাম এবং নির্বাহী পরিচালক ইকবাল কবির পলাশকে বিবাদী করা হয়েছে।
আবেদনে উল্লেখ করা হয়, বুশরা গ্রুপের বুশরা কেন্দ্রীয় সার্বিক গ্রাম উন্নয়ন সমবায় সমিতি লিমিটেড এবং বুশরা ইসলামী মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেডের অধীনে আমানতকারীরা দীর্ঘদিন ধরে অর্থ জমা রেখে আসছেন। প্রতিষ্ঠানটির প্রচলিত নিয়ম ও শর্তের প্রতি আস্থা রেখে তারা কষ্টার্জিত অর্থ জমা রাখেন।
অভিযোগে আরও জানানো হয়, প্রয়োজনের সময় আমানত উত্তোলনের প্রতিশ্রুতি থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে অনেক আমানতকারী জমাকৃত অর্থ ফেরত পাচ্ছেন না। কেউ এক বছর, কেউ দুই বছর কিংবা তারও বেশি সময় আগে মূল আমানত উত্তোলনের জন্য আবেদন করলেও তা পরিশোধ করা হয়নি।
আমানতকারীদের মধ্যে মো. হাসানুজ্জামান, মো. আব্দুল মান্নান, এস এম রেদওয়ানুল ফেরদাউস রনি, মমতাজ বেগমসহ কয়েক শ গ্রাহকের অভিযোগ, টাকা ফেরত পাওয়ার বিষয়ে যোগাযোগ করতে গেলে নানা হয়রানি ও দীর্ঘসূত্রতার শিকার হতে হচ্ছে। এতে অনেক আমানতকারী ও তাঁদের পরিবার চরম আর্থিক সংকটে পড়েছে।
আবেদনকারীদের আশঙ্কা, বুশরা গ্রুপের কালিগঞ্জ শাখা অফিসের সম্পত্তি বিক্রির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সম্পত্তি বিক্রি হয়ে গেলে ভবিষ্যতে পাওনা অর্থ আদায় আরও জটিল ও অনিশ্চিত হয়ে পড়তে পারে।
এ কারণে আমানতকারীরা জেলা প্রশাসকের কাছে বিষয়টি দ্রুত প্রশাসনিক নজরদারির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়ার কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বিষয়টির তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কালিগঞ্জ শাখা অফিসের সম্পত্তি বিক্রি, হস্তান্তর বা অন্য কোনোভাবে লেনদেন না করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
আবেদনের সঙ্গে কালিগঞ্জ শাখা অফিসের সম্পত্তির বিবরণও সংযুক্ত করা হয়। সেখানে দলিল নম্বর ১৯৯৬/২০২০, মৌজা বাজারগ্রাম, সিএস খতিয়ান ০৫, এসএ খতিয়ান ১১ এবং দাগ নম্বর ৩৪০/৩৪২ উল্লেখ করা হয়। জমির পরিমাণ প্রায় ০.২৯৭২ একর।
আবেদনের অনুলিপি কালিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, কালিগঞ্জ সহকারী কমিশনার (ভূমি), কালিগঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রার ও কালিগঞ্জ দলিল লেখক সমিতির সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদকের কাছে পাঠানো হয়েছে।
স্মারকিলিপি দেওয়ার সময় সাতক্ষীরা-৩ আসনের সংসদ সদস্য হাফেজ মুহাম্মদ রবিউল বাশারের কাছেও অভিযোগ করেন আমানতকারীরা। এ সময় তিনি বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন।