সোমবার, ৩ আগস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩
সোমবার, ৩ আগস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩

একটি প্রতিষ্ঠানের অধ্যায়ের সমাপ্তি, সাংবাদিকতার নয়

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২ আগস্ট, ২০২৬, ৫:০১ অপরাহ্ণ
একটি প্রতিষ্ঠানের অধ্যায়ের সমাপ্তি, সাংবাদিকতার নয়

সচ্চিদানন্দ দে সদয়

প্রথম আলোর সাতক্ষীরা প্রতিনিধি হিসেবে দীর্ঘ কর্মজীবনের পর কল্যাণ ব্যানার্জী বয়সসীমা-সংক্রান্ত নীতিমালা অনুযায়ী অবসরে গেছেন। সংবাদপত্রের একটি প্রতিষ্ঠানে তাঁর দায়িত্বের এখানেই সমাপ্তি। কিন্তু সাংবাদিকতার সঙ্গে তাঁর পথচলা থেমে যায়নি। তিনি এখনও সক্রিয়ভাবে সংবাদ পেশায় যুক্ত আছেন, বর্তমানে কাজ করছেন ডেইলি স্টার-এর সঙ্গে। ফলে এটি কোনো সাংবাদিকের বিদায় নয়; বরং একটি প্রতিষ্ঠানে তাঁর দীর্ঘ ও গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সমাপ্তি। তবু ঘটনাটি গুরুত্বের দাবি রাখে। কারণ একটি জাতীয় দৈনিকে দীর্ঘদিন কাজ করা কোনো সাংবাদিক কেবল সংবাদ পাঠান না; তিনি একটি জনপদের স্মৃতি, পরিবর্তন, সংকট ও সম্ভাবনার ধারাবাহিক সাক্ষী হয়ে ওঠেন।

 

একটি জেলার সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত বাস্তবতা সম্পর্কে যে গভীর বোধ বছরের পর বছর মাঠে কাজ করার মাধ্যমে তৈরি হয়, সেটি সহজে অর্জন করা যায় না। সাংবাদিকতার প্রকৃত শক্তি প্রযুক্তি, ক্যামেরা বা পরিচয়পত্রে নয়; এর শক্তি নিহিত থাকে বিশ্বাস যোগ্যতায়। আর বিশ্বাস যোগ্যতা তৈরি হয় সময়, সততা, ধৈর্য ও দায়িত ¡বোধের সমন্বয়ে।

 

একজন অভিজ্ঞ সাংবাদিক জানেন, কোন তথ্য প্রকাশের আগে আরও একবার যাচাই করতে হয়, কোন অভিযোগের বিপরীত পক্ষের বক্তব্য নেওয়া জরুরি এবং কোন সংবাদটি তাৎক্ষণিক আলোড়নের চেয়ে দীর্ঘমেয়াদে জনস্বার্থে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এই অভিজ্ঞতার কোনো শর্টকাট নেই। সাতক্ষীরার মতো একটি জেলার বাস্তবতা আরও জটিল। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, উপকূলীয় মানুষের জীবন সংগ্রাম, নদী ও পরিবেশের সংকট, সীমান্ত-সংক্রান্ত নানা বিষয়, কৃষি, মৎস্য, দুর্যোগ ও স্থানীয় প্রশাসনের কার্যক্রমÑএসব নিয়ে ধারা বাহিকভাবে কাজ করতে হলে কেবল সংবাদ লেখার দক্ষতা যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন এলাকার মানুষের আস্থা ও দীর্ঘ মাঠ-অভিজ্ঞতা। একজন অভিজ্ঞ জেলা প্রতিনিধির সবচেয়ে বড় শক্তি এখানেই।

 

অবশ্য কোনো প্রতিষ্ঠান কখনোই একজন মানুষকে ঘিরে দাঁড়িয়ে থাকে না। নতুন মানুষ আসবেন, নতুন দৃষ্টিভঙ্গি যোগ হবে, সাংবাদিকতা এগিয়ে যাবে। এটাই স্বাভাবিক নিয়ম। কিন্তু একই সঙ্গে এটাও সত্য, একজন অভিজ্ঞ সংবাদকর্মী একটি প্রতিষ্ঠান ছেড়ে গেলে তাঁর সঙ্গে কিছু প্রাতিষ্ঠানিক স্মৃতি, কিছু সম্পর্ক, কিছু অভিজ্ঞতাও সরে যায়। নতুনরা সে সব গড়ে তুলবেন, তবে তার জন্য সময় প্রয়োজন।

 

বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমে বয়সসীমা বা অবসরের নীতিমালা নতুন কোনো বিষয় নয়। বড় প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের নিজস্ব নীতির ভিত্তিতে এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেয়। এটি প্রশাসনিক বাস্তবতা। কিন্তু একজন সাংবাদিকের পেশাগত জীবন কেবল একটি প্রতিষ্ঠানের চাকরির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। যাঁদের লেখনী, সততা ও পেশাগত দক্ষতার প্রতি মানুষের আস্থা রয়েছে, তাঁরা অন্য কোনো সংবাদমাধ্যমে বা অন্য ভূমিকায় থেকেও সমাজের জন্য অবদান রাখতে পারেন। কল্যাণ ব্যানার্জীর বর্তমান পেশাগত অবস্থান সেই বাস্তবতারই একটি উদাহরণ। এই ঘটনা আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে আনে।

 

আমরা কি অভিজ্ঞ সাংবাদিকদের অভিজ্ঞতাকে যথাযথভাবে কাজে লাগাতে পারছি? একটি জেলা থেকে জাতীয় পর্যায়ে সংবাদ পাঠানোর ক্ষেত্রে যে বিচক্ষণতা, তথ্যসূত্র গড়ে তোলার সক্ষমতা এবং জনস্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার মানসিকতা প্রয়োজন, তা নতুন প্রজন্মের কাছে কীভাবে পৌঁছাবে? সংবাদ মাধ্যমের ভবিষ্যৎ নির্ভর করে কেবল নতুন মুখের ওপর নয়; বরং অভিজ্ঞতা ও নবীন শক্তির সমন্বয়ের ওপর। বর্তমান সময়ে সাংবাদিকতা কঠিন এক সন্ধিক্ষণ অতিক্রম করছে।

 

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের বিস্তার তথ্যপ্রবাহকে সহজ করেছে, কিন্তু একই সঙ্গে বাড়িয়েছে গুজব, বিভ্রান্তি ও যাচাইহীন তথ্যের ঝুঁকি। এই সময়ে অভিজ্ঞ সাংবাদিকদের ভূমিকা আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কারণ তাঁরা জানেন, দ্রুত হওয়ার চেয়ে নির্ভুল হওয়া কেন বেশি জরুরি। জেলা সাংবাদিকতার ক্ষেত্রেও নতুন কিছু চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। অনেক জায়গায় সংবাদ মাধ্যমের সংখ্যা বেড়েছে, কিন্তু সব ক্ষেত্রে পেশাদার সাংবাদিকতার চর্চা সমানভাবে শক্তিশালী হয়নি। পরিচয়পত্র পাওয়া সহজ হলেও বিশ্বাস যোগ্যতা অর্জন সহজ নয়।

 

সংবাদ সংগ্রহের চেয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উপস্থিতি অনেকের কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। এই বাস্তবতায় অভিজ্ঞ সাংবাদিকদের উপস্থিতি নতুনদের জন্য একটি মানদ- তৈরি করে। তবে অভিজ্ঞতার মূল্যায়ন করতে গিয়ে নতুনদের সম্ভাবনাকেও খাটো করা উচিত নয়। প্রতিটি প্রজন্মই সাংবাদিকতায় নতুন চিন্তা, নতুন প্রযুক্তি ও নতুন দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে আসে। প্রয়োজন এমন একটি পরিবেশ, যেখানে অভিজ্ঞতা পথ দেখাবে এবং নতুনরা সেই পথকে আরও প্রসারিত করবে। প্রতিযোগিতা থাকবে, কিন্তু সেটি হবে পেশাগত উৎকর্ষ অর্জনের প্রতিযোগিতা; ব্যক্তিগত বিরোধের নয়।

 

একটি জেলার সাংবাদিকতার মান নির্ধারণ হয় না সেখানে কতটি প্রেসক্লাব আছে, কতটি অনলাইন পোর্টাল আছে বা কতজন পরিচয় পত্রধারী ব্যক্তি আছেনÑতা দিয়ে। এর মান নির্ধারণ হয় কতটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হচ্ছে, কতটা তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ পাচ্ছে, কতটা নিরপেক্ষভাবে মানুষের কথা তুলে ধরা হচ্ছে এবং কতটা সাহসের সঙ্গে জনস্বার্থের প্রশ্ন উত্থাপন করা হচ্ছেÑতা দিয়ে। কল্যাণ ব্যানার্জীর প্রথম আলো থেকে অবসর সেই অর্থে একটি উপলক্ষ। এই উপলক্ষ আমাদের মনে করিয়ে দেয়, একজন সাংবাদিকের প্রকৃত পরিচয় তাঁর প্রতিষ্ঠান নয়, তাঁর কাজ। একটি প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব শেষ হতে পারে, কিন্তু সাংবাদিকতার দায় শেষ হয় না।

 

সত্য অনুসন্ধান, মানুষের কথা বলা এবং ক্ষমতার জবাবদিহি নিশ্চিত করার দায়িত্ব একজন পেশাদার সাংবাদিক সারাজীবন বহন করেন। সাংবাদিকতার ইতিহাসে ব্যক্তি আসবেন, ব্যক্তি যাবেন; প্রতিষ্ঠানও সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হবে। কিন্তু টিকে থাকবে পেশার মৌলিক মূল্যবোধÑসত্য, নিরপেক্ষতা, দায়িত্ববোধ এবং জনস্বার্থ। এই মূল্যবোধ যত শক্তিশালী হবে, ততই শক্তিশালী হবে জেলা সাংবাদিকতা।

 

তাই কল্যাণ ব্যানার্জীর প্রথম আলো থেকে অবসরকে কেবল একজন সাংবাদিকের বিদায় হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি একটি প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘ কর্মজীবনের সমাপ্তি, কিন্তু সাংবাদিকতার নয়। বরং এটি মনে করিয়ে দেয়Ñঅভিজ্ঞতাকে সম্মান জানিয়ে নতুন প্রজন্মকে আরও দক্ষ, দায়িত্বশীল ও অনুসন্ধানী করে গড়ে তোলাই এখন সময়ের দাবি। কারণ শক্তিশালী জেলা সাংবাদিকতা শুধু একটি পেশার প্রয়োজন নয়; এটি একটি গণতান্ত্রিক সমাজেরও অপরিহার্য শর্ত।

লেখক: সংবাদকর্মী

 

Ads small one

দেবহাটায় পৈতৃক জমি দখলের অভিযোগ প্রবাসীর, সংবাদ সম্মেলন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২৬, ১:০৫ পূর্বাহ্ণ
দেবহাটায় পৈতৃক জমি দখলের অভিযোগ প্রবাসীর, সংবাদ সম্মেলন

সংবাদদাতা: দেবহাটায় কোটি টাকা মূল্যের পৈতৃক জমি অবৈধভাবে দখলের অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন এক প্রবাসী। সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সুলতানপুর এলাকার বাসিন্দা মো. শরিফুল ইসলাম লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন।
লিখিত বক্তব্যে শরিফুল ইসলাম অভিযোগ করেন, দেবহাটার বালিথা মৌজার ‘ধাপার ঘের’ এলাকায় তাঁদের ৮.১৫ একর পৈতৃক জমি রয়েছে। ২০১৮ সালে স্থানীয় রওশন আরা রুবি ও তাঁর ছেলে জায়েদ বিন কাদেরসহ কয়েকজন উক্ত জমি জবরদখল করে মৎস্য চাষ শুরু করেন। জমিতে গেলে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলেও তিনি জানান। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে ও প্রশাসনের মাধ্যমে একাধিকবার সালিশ-বৈঠকের চেষ্টা করা হলেও অভিযুক্ত পক্ষ তা এড়িয়ে গেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে রওশন আরা রুবি জানিয়েছেন, শরিফুল ইসলাম তাঁর দেবর। ২০০২ সালে স্বামী মারা যাওয়ার পর থেকে দীর্ঘ সময় প্রতিপক্ষ পৈতৃক সম্পত্তি দখল করে রেখেছিল। পরবর্তীতে সন্তানরা বড় হলে তিনি আইনি প্রক্রিয়ায় জমি উদ্ধার করেন। বালিথা মৌজার ওই জমি নিয়ে নি¤œ আদালত থেকে সর্বোচ্চ আদালত পর্যন্ত মামলায় শরিফুল ইসলামের পরিবার হেরে গিয়ে এখন ভিত্তিহীন ও মনগড়া অভিযোগ তুলছে বলে দাবি করেন তিনি।

ভয়াবহ জলাবদ্ধতায় জনদুর্ভোগপ্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি জেলা নাগরিক কমিটির

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৫৮ পূর্বাহ্ণ
ভয়াবহ জলাবদ্ধতায় জনদুর্ভোগপ্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি জেলা নাগরিক কমিটির

খাল দখল ও নেটপাটায় পানিপ্রবাহ বন্ধ
নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ফিংড়ী ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় সরকারি খাল অবৈধ দখল, নেটপাটা ও বাঁশের বেড়ি দিয়ে পানিপ্রবাহ বন্ধ করে মাছ চাষের কারণে ভয়াবহ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে শত শত পরিবার ও কৃষিজমি দীর্ঘদিন ধরে পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় দখলদাররা দিন দিন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে।
গত ১ আগস্ট জেলা নাগরিক কমিটির জলাবদ্ধতা নিরসনবিষয়ক পরামর্শ সভার সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতায় সোমবার (৩ আগস্ট) বিকেলে জেলা নাগরিক কমিটির যুগ্ম সদস্য সচিব আলি নুর খান বাবলু ও কমিটির অন্যতম সদস্য শেখ সিদ্দিকুর রহমান সদর উপজেলার ফিংড়ী ইউনিয়নের জলাবদ্ধতাপ্রবণ এলাকা সরেজমিন পরিদর্শন করেন।
পরিদর্শনকালে দেখা যায়, গাভা স্বাস্থ্যকল্যাণ কেন্দ্রের সামনে কালভার্টের মুখ বাঁশের নেটপাটা দিয়ে সম্পূর্ণ বন্ধ করে রাখা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় ঘের মালিক সুকুমার রায় মাছ চাষের স্বার্থে পানিপ্রবাহ বন্ধ করে রেখেছেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি দম্ভভরে বলেন, “যারা জলাবদ্ধতার শিকার তারা তো কিছু বলে না, আপনি বলছেন কেন? আমি যা করেছি ঠিকই করেছি।”
এরপর প্রতিনিধি দল জোড়দিয়া কোচের বিল এলাকার সরকারি কোচের খাল পরিদর্শন করে। সেখানে অভিযোগ ওঠে, প্রাক্তন আওয়ামী লীগ নেতার অবৈধ দখলে থাকা সরকারি খালে জোড়দিয়া গ্রামের সদরউদ্দীনের ছেলে রেজাউল ইসলাম কেনা নেটপাটা ও বাঁশের বেড়ি দিয়ে পানিপ্রবাহ বন্ধ করে মাছ চাষ করছেন। স্থানীয়রা জানান, খালে সাদা মাছ ছাড়া থাকায় ইচ্ছাকৃতভাবে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বন্ধ রাখা হয়েছে।
সরেজমিনে উপস্থিত শত শত গ্রামবাসী অভিযোগ করেন, সরকারি খাল অবৈধভাবে দখল করে বছরের পর বছর মাছ চাষ করা হলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। প্রতিবাদ করলেও দখলদারদের প্রভাবের কারণে পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন হচ্ছে না। এ সময় প্রাক্তন ইউপি সদস্য শেখ জাকিরুল হক, প্রাক্তন সদস্য নজরুল ইসলাম, মিন্টুসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা খাল দখল ও জলাবদ্ধতার বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
স্থানীয়রা জানান, ২০২৪ সালে একই এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দিলে জোড়দিয়ার কোচের খাল ও বোড়ামারা খালের নেটপাটা এবং অবৈধ বাঁধ জনসাধারণ অপসারণ করেন। পরে গাভা গ্রামের মনজুরুল আহমেদ (পিতা: মৃত আলাউদ্দিন মোড়ল) সাতক্ষীরা সদর আদালতে নিরীহ ১০ জন গ্রামবাসীর বিরুদ্ধে সি আর-১২৫৭/২৪, তারিখ ২৯ অক্টোবর ২০২৪, একটি মামলা দায়ের করেন। এরপর থেকেই দখলদার চক্র আরও বেপরোয়া হয়ে বিভিন্ন স্থানে নেটপাটা ও বাঁধ দিয়ে সরকারি খালে মাছ চাষ অব্যাহত রেখেছে।
বর্তমানে জোড়দিয়া, কোচের বিল ও আশপাশের এলাকায় শত শত বসতবাড়ি এবং বিস্তীর্ণ কৃষিজমি দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতায় মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছে। এলাকাবাসীর দাবি, অবিলম্বে সরকারি খাল অবৈধ দখলমুক্ত, নেটপাটা ও বাঁধ অপসারণ এবং খাল খননের মাধ্যমে পানিনিষ্কাশনের ব্যবস্থা করতে হবে।
এ বিষয়ে সন্ধ্যায় ফিংড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান লুৎফর রহমান বলেন, “গাভায় কালভার্টের মুখ বন্ধ করার ঘটনায় সুকুমারকে একাধিকবার তিরস্কার করা হলেও তিনি তা শোনেননি। জোড়দিয়ার কোচের বিল ও বোড়ামারা খালের নাব্যতা প্রায় শেষ হয়ে গেছে। জরুরি ভিত্তিতে খাল খনন প্রয়োজন। খাল বন্ধ করে মাছ চাষ করায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়েছে।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, কৈখালী-২ স্লুইস গেটের পাট স্থাপনের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীকে বারবার তাগিদ দেওয়া হলেও আজ পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তার দাবি, পানি উন্নয়ন বোর্ডের দায়িত্বহীনতা এবং প্রভাবশালী দখলদারদের প্রতি পরোক্ষ প্রশ্রয়ের কারণেই জলাবদ্ধতা দিন দিন ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে।
এলাকাবাসী অবিলম্বে প্রশাসনের কঠোর অভিযান পরিচালনা করে সরকারি খাল দখলমুক্ত, নেটপাটা ও অবৈধ বাঁধ অপসারণ এবং জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন।

 

 

দৈনিক পত্রদূতে খবর প্রকাশের পর প্রতিবন্ধী আবুবকরের পাশে জেলা প্রশাসন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৫৭ পূর্বাহ্ণ
দৈনিক পত্রদূতে খবর প্রকাশের পর প্রতিবন্ধী আবুবকরের পাশে জেলা প্রশাসন

জিএম আমিনুল হক: সাতক্ষীরা সদরের ধূলিহর ইউনিয়নের বেড়বাড়ী গ্রামের শারীরিক ও বাকপ্রতিবন্ধী আবুবকর সিদ্দিক (২৫) ও তাঁর বৃদ্ধা নানি সোনাভান বিবির মানবেতর জীবন নিয়ে পত্রদূতে সংবাদ প্রকাশের পর তাঁদের পাশে দাঁড়িয়েছে জেলা প্রশাসন।
জেলা প্রশাসক মোস্তাক আহমেদের নির্দেশে জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. আলাউদ্দিন এবং সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. শাহিনুল ইসলাম ৩ আগস্ট সোমবার দুপুরে ওই বাড়িতে গিয়ে পরিবারটির হাতে নগদ অর্থ ও দুই বান টিন তুলে দেন।
এ সময় স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি ও সাংবাদিকেরা উপস্থিত ছিলেন। দীর্ঘ ২৩ বছর লালন-পালন করার পর দুই বছর আগে ক্যানসারে মা মারা গেলে আবুবকর তাঁর নানিকে নিয়ে চরম সংকটে পড়েছিলেন। সহায়তার হস্ত বাড়িয়ে দেওয়ায় প্রশাসনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে এলাকাবাসী।