মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩

আশাশুনির জেলেপাড়ায় হাহাকার: সাগরে মানা, ঘরে অভাবের ৫৮ দিন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:০৫ পূর্বাহ্ণ
আশাশুনির জেলেপাড়ায় হাহাকার: সাগরে মানা, ঘরে অভাবের ৫৮ দিন

সচ্চিদানন্দ দে সদয়, আশাশুনি: ঘাটে বাঁধা নৌকাগুলো জোয়ারের জলে দুলছে। সাগরে যাওয়ার জন্য নৌকাগুলোর এই ছটফটানি থাকলেও পাড়ে বসে থাকা মানুষগুলোর চোখেমুখে পাথরের মতো নিস্তব্ধতা। সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার উপকূলীয় জেলেপাড়াগুলোতে এখন এমনই গুমোট আবহাওয়া। সাগরে মাছ ধরার ওপর ৫৮ দিনের সরকারি নিষেধাজ্ঞা শুরু হতেই থমকে গেছে হাজারো জেলের জীবন ও জীবিকার চাকা। নেই জাল বোনার ব্যস্ততা, নেই রুপালি ইলিশের ঝিলিক; আছে শুধু অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দীর্ঘশ্বাস।
সামুদ্রিক মৎস্য সম্পদ বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকার সব ধরনের মাছ আহরণ ও বিপণন নিষিদ্ধ করেছে। দীর্ঘমেয়াদে এটি ইতিবাচক হলেও তাৎক্ষণিকভাবে উপকূলের এই জনপদে নেমে এসেছে চরম হাহাকার। অনেক ঘরে এখন দুবেলা উনুন জ্বলা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।
উপকূলের এক প্রবীণ জেলে বলেন, “সাগর আমাগো মা। মা তো অনেক দেয়, কিন্তু এই দুই মাস আমাগো ঘরে বসে থাকতে হয়। সাগরে যাওয়ার অনুমতি নেই, আবার হাত পাতারও জায়গা নেই। সরকার চাল দেবে বলছে, কিন্তু সেই চাল ঘরে আসতে আসতে ঋণের বোঝা পাহাড় হয়ে যাবে।”
নিষেধাজ্ঞার এই কঠিন সময়ে জেলেদের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গত বুধবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে এক জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। ইউএনও শ্যামানন্দ কু-ুর সভাপতিত্বে ওই সভায় উপজেলার ৪ হাজার ৫৫৫ জন নিবন্ধিত জেলের প্রত্যেককে ৭৭ কেজি করে চাল দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) শফিকুল ইসলাম জানান, দ্রুততম সময়ে প্রকৃত জেলেদের হাতে এই সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। ইউএনও শ্যামানন্দ কু-ু বলেন, “আমরা কঠোর নজরদারি রাখছি যেন প্রকৃত জেলেরা বঞ্চিত না হন।”
তবে মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা বেশ রূঢ়। অনেক জেলের অভিযোগ, নিবন্ধনের জটিলতায় প্রকৃত মৎস্যজীবীদের অনেকেই তালিকার বাইরে রয়ে গেছেন। আবার যারা তালিকায় আছেন, তাঁদের আশঙ্কাÑবরাদ্দ পৌঁছাতে দেরি হলে দাদন ব্যবসায়ীদের ঋণের জালে আটকে পড়তে হবে তাঁদের। নিত্যপণ্যের আকাশছোঁয়া দামের এই বাজারে শুধু চাল দিয়ে পরিবারের চিকিৎসা বা অন্যান্য খরচ মেটানো অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মৎস্য সম্পদ রক্ষায় এই নিষেধাজ্ঞা জরুরি হলেও বিকল্প কর্মসংস্থান ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত না করলে প্রান্তিক এই মানুষগুলোর টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়বে।
আশাশুনির জেলেপাড়ায় এখন এক অদ্ভুত স্তব্ধতা। নৌকা আছে, জাল আছে, সামনে অবারিত জলরাশিও আছে; নেই শুধু সেখানে যাওয়ার অনুমতি। প্রতিদিন বিকেলে নদীর তীরে অপলক চেয়ে থাকেন জেলেরা। তাঁদের এই দৃষ্টি যেন এক নীরব আর্তিÑকবে শেষ হবে এই প্রতীক্ষা? কবে আবার ঢেউয়ের মিতালি করে ফিরবেন রুপালি ফসলের পসরা নিয়ে?

 

Ads small one

আশাশুনিতে দুই আওয়ামী লীগ নেতা গ্রেপ্তার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:০৫ অপরাহ্ণ
আশাশুনিতে দুই আওয়ামী লীগ নেতা গ্রেপ্তার

আশাশুনি প্রতিনিধি: আশাশুনিতে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় দুই আওয়ামী লীগ নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) ভোরে পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের নিজ নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন-আশাশুনি উপজেলার ১১ নম্বর কাদাকাটি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও কাদাকাটির সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান দীপঙ্কর সরকার দ্বীপ (৫১) এবং আশাশুনি উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংস্কৃতিক সম্পাদক এসএম জমির উদ্দিন গাজী (৪৯)।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আশাশুনি থানার মামলা নং-২২/১০৯, তারিখ ২১ জুন ২০২৬-এর তদন্তে সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০০৯-এর ৬/৭/৮/৯/১০/১১/১২/১৩ ধারায় প্রাপ্ত সন্দিগ্ধ আসামি হিসেবে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

আশাশুনি থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ জাহাঙ্গীর আরিফের নেতৃত্বে পুলিশের বিশেষ অভিযানে সোমবার দিবাগত গভীর রাতে দীপঙ্কর সরকার দ্বীপকে কাদাকাটি ইউনিয়নের তেঁতুলিয়া গ্রামের নিজ বাড়ি এবং এসএম জমির উদ্দিন গাজীকে দরগাহপুর ইউনিয়নের খরিয়াটি গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত দুই জনকে পুলিশি প্রহরায় সাতক্ষীরা বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়েছে।

আশাশুনিতে যুবদলের বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৫৭ অপরাহ্ণ
আশাশুনিতে যুবদলের বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ

oplus_0

আশাশুনি প্রতিনিধি: পরিকল্পিত সন্ত্রাস ও দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে সাতক্ষীরার আশাশুনিতে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে উপজেলা যুবদল।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে আশাশুনি সদরে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন যুবদলের নেতাকর্মীরা। মিছিলটি বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে জনতা ব্যাংক চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে অনুষ্ঠিত হয় প্রতিবাদ সমাবেশ।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা যুবদলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক আব্দুর রহিম ছোট। বক্তব্য দেন উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব ও বুধহাটা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আবু জাহিদ সোহাগ এবং যুগ্ম আহ্বায়ক সরদার রুহুল আমিন।

এ সময় উপজেলা ও বিভিন্ন ইউনিয়ন পর্যায়ের যুবদলের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
বক্তারা বলেন, দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে একটি পক্ষ নানা ধরনের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। দেশকে অস্থিতিশীল করার যেকোনো অপচেষ্টা প্রতিহত করতে নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তারা।

বক্তারা আরও বলেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশ উন্নয়ন ও অগ্রগতির পথে এগিয়ে যাচ্ছে। এ অবস্থায় দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে দেশের স্থিতিশীলতা নষ্টের অপচেষ্টা প্রতিহত করতে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।

সুমন হত্যা মামলায় রুবেলকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে ২ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:৫২ অপরাহ্ণ
সুমন হত্যা মামলায় রুবেলকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে ২ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর

পত্রদূত ডেস্ক: ইসলামিক বক্তা মনোয়র হোসেন মোমিনের ব্যক্তিগত প্রাইভেটকার চালক সুমন হুসাইন হত্যা মামলায় গ্রেপ্তারকৃত আসামী হাবিবুর রহমান রুবেলকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুই দিনের রিমা- মঞ্জুর করা হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে সাতক্ষীরার অতিরিক্ত মুখ্য বিচারিক হাকিম বিলাস ম-ল মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা সদর থানার উপপরিদর্শক আলমগীর হোসেনের সাত দিনের রিমা- আবেদন শুনানী শেষে এ আদেশ দেন। গ্রেপ্তারকৃত হাবিবুর রহমান ওরফে রুবেল (২৯) সাতক্ষীরা সদর উপজেলার লাবসা ইউনিয়নের কৈখালি গ্রামের আলী হোসেনের ছেলে।

নিহত সুমন হুসাইনের চাচা ইকবাল হোসেন জানান, গত ১৯ জুলাই রবিবার রাতে আর্জেন্টিনা ও তুরস্কের মধ্যে বিশ^কাপ ফুটবলের চুড়ান্ত প্রতিযোগিতা চলছিল। রাত ১১টার দিকে ভাইপো সুমন হুসাইনকে মুঠোফোনে ডেকে নিয়ে যায় অজ্ঞাতনামা লোকজন। পরদিন সকালে কৈখালি গ্রামের কেসমত দাই এর মাছের ঘের থেকে বিবস্ত্র অবস্থায় সুমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পুলিশ লাশের পাশ থেকে ৩৩ ভোল্টের বৈদ্যুতিক তার, দুটি লোহা কাটা ব্লেড ও সিমবিহীন একটি বাটাম ফোন উদ্ধার করে। এ ঘটনায় তার (ইকবাল) ভাই আব্দুল হামিদ সরদার বাড়ি হয়ে কারো নাম উল্লেখ করে ২০ জুলাই সাতক্ষীরা সদর থানায়( জিআর-৩২৭/২৬ সদর) একটি হত্যা ও লাশ গুমের চেষ্টার মামলা করেন।

 

১৯ জুলাই রাতে ফোন কলের সূত্র ধরে ১৮ সেপ্টেম্বর নিজ বাড়ি থেকে রুবেলকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরদিন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সদর থানার উপপরিদর্শক আলমগীর হোসেন রুবলেকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে সাত দিনের রিমা- আবেদন করেন।
আসামীপক্ষে রিমা- শুনানীতে অংশ নেন সাতক্ষীরা জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাড. আব্দুল মজিদ (২)। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানীতে অংশ নেন আদালতের পুলিশ উপপরিদর্শক (সিএসআই ) মাজেদুর রহমান।

সাতক্ষীরা সদর থানার উপপরিদর্শক ও মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা মোঃ আলমগীর হোসেন আসামী রুবেলের দুই দিনের রিমা- মঞ্জুর হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আদালতের নির্দেশ পাওয়ার পর তাকে কখন পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হবে তা বলা যাবে।