শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩
শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩

আশাশুনির জেলেপাড়ায় হাহাকার: সাগরে মানা, ঘরে অভাবের ৫৮ দিন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:০৫ পূর্বাহ্ণ
আশাশুনির জেলেপাড়ায় হাহাকার: সাগরে মানা, ঘরে অভাবের ৫৮ দিন

সচ্চিদানন্দ দে সদয়, আশাশুনি: ঘাটে বাঁধা নৌকাগুলো জোয়ারের জলে দুলছে। সাগরে যাওয়ার জন্য নৌকাগুলোর এই ছটফটানি থাকলেও পাড়ে বসে থাকা মানুষগুলোর চোখেমুখে পাথরের মতো নিস্তব্ধতা। সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার উপকূলীয় জেলেপাড়াগুলোতে এখন এমনই গুমোট আবহাওয়া। সাগরে মাছ ধরার ওপর ৫৮ দিনের সরকারি নিষেধাজ্ঞা শুরু হতেই থমকে গেছে হাজারো জেলের জীবন ও জীবিকার চাকা। নেই জাল বোনার ব্যস্ততা, নেই রুপালি ইলিশের ঝিলিক; আছে শুধু অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দীর্ঘশ্বাস।
সামুদ্রিক মৎস্য সম্পদ বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকার সব ধরনের মাছ আহরণ ও বিপণন নিষিদ্ধ করেছে। দীর্ঘমেয়াদে এটি ইতিবাচক হলেও তাৎক্ষণিকভাবে উপকূলের এই জনপদে নেমে এসেছে চরম হাহাকার। অনেক ঘরে এখন দুবেলা উনুন জ্বলা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।
উপকূলের এক প্রবীণ জেলে বলেন, “সাগর আমাগো মা। মা তো অনেক দেয়, কিন্তু এই দুই মাস আমাগো ঘরে বসে থাকতে হয়। সাগরে যাওয়ার অনুমতি নেই, আবার হাত পাতারও জায়গা নেই। সরকার চাল দেবে বলছে, কিন্তু সেই চাল ঘরে আসতে আসতে ঋণের বোঝা পাহাড় হয়ে যাবে।”
নিষেধাজ্ঞার এই কঠিন সময়ে জেলেদের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গত বুধবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে এক জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। ইউএনও শ্যামানন্দ কু-ুর সভাপতিত্বে ওই সভায় উপজেলার ৪ হাজার ৫৫৫ জন নিবন্ধিত জেলের প্রত্যেককে ৭৭ কেজি করে চাল দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) শফিকুল ইসলাম জানান, দ্রুততম সময়ে প্রকৃত জেলেদের হাতে এই সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। ইউএনও শ্যামানন্দ কু-ু বলেন, “আমরা কঠোর নজরদারি রাখছি যেন প্রকৃত জেলেরা বঞ্চিত না হন।”
তবে মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা বেশ রূঢ়। অনেক জেলের অভিযোগ, নিবন্ধনের জটিলতায় প্রকৃত মৎস্যজীবীদের অনেকেই তালিকার বাইরে রয়ে গেছেন। আবার যারা তালিকায় আছেন, তাঁদের আশঙ্কাÑবরাদ্দ পৌঁছাতে দেরি হলে দাদন ব্যবসায়ীদের ঋণের জালে আটকে পড়তে হবে তাঁদের। নিত্যপণ্যের আকাশছোঁয়া দামের এই বাজারে শুধু চাল দিয়ে পরিবারের চিকিৎসা বা অন্যান্য খরচ মেটানো অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মৎস্য সম্পদ রক্ষায় এই নিষেধাজ্ঞা জরুরি হলেও বিকল্প কর্মসংস্থান ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত না করলে প্রান্তিক এই মানুষগুলোর টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়বে।
আশাশুনির জেলেপাড়ায় এখন এক অদ্ভুত স্তব্ধতা। নৌকা আছে, জাল আছে, সামনে অবারিত জলরাশিও আছে; নেই শুধু সেখানে যাওয়ার অনুমতি। প্রতিদিন বিকেলে নদীর তীরে অপলক চেয়ে থাকেন জেলেরা। তাঁদের এই দৃষ্টি যেন এক নীরব আর্তিÑকবে শেষ হবে এই প্রতীক্ষা? কবে আবার ঢেউয়ের মিতালি করে ফিরবেন রুপালি ফসলের পসরা নিয়ে?

 

দাহন ও প্রশান্তির মিলন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬, ১:১৭ পূর্বাহ্ণ
দাহন ও প্রশান্তির মিলন

জহুরুল হক জুলু
ভালোবাসা কোনো শৃঙ্খলিত জীবন নয়,
এ এক মুক্ত আকাশ-
যেখানে স্মৃতির পাখিরা উড়ে বেড়ায়
নীরবতার অসীম পরিসরে।

এটি এক অদৃশ্য অর্ঘ্য,
যা আত্মার গভীরে নিবদ্ধ থাকে,
যেমন শিশিরবিন্দু—
পত্রপল্লবের সবুজে নতজানু হয়ে
ক্ষণস্থায়ী হয়েও রেখে যায়
চিরস্থায়ী দীপ্তি।

বিদায়ের সাথে সাথে ভালোবাসা বিলুপ্ত হয় না,
কিন্তু প্রকৃত সত্য-
এটি কেবল অবয়ব পরিবর্তন করে,
পরিণত হয় এক নিঃশব্দ সংগীতে
যা শ্রুতিহীন তবু শ্রাব্য,
এক অদৃশ্য আলোকরেখায়
যা দৃশ্যহীন তবু পথপ্রদীপ।

যখন তুমি জানালায় দাঁড়িয়ে
বৃষ্টির নেমে আসা দেখবে,
মনে পড়বে—
সে একদিন এমনই নেমে এসেছিল
তোমার জীবনে বিস্ময়ের অগ্নি নিয়ে,
শান্তির জলের স্রোতে
দাহন ও প্রশান্তির এক অনির্বচনীয় মিলন।

সুন্দরবনে অপারেশন ম্যানগ্রোভ শীল্ড: পৃথক অভিযানে অস্ত্রসহ ডাকাত আটক, দু’জেলে উদ্ধার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬, ১:০৪ পূর্বাহ্ণ
সুন্দরবনে অপারেশন ম্যানগ্রোভ শীল্ড: পৃথক অভিযানে অস্ত্রসহ ডাকাত আটক, দু’জেলে উদ্ধার

 

পত্রদূত ডেস্ক: সুন্দরবনে পৃথক দু’টি অভিযানে দুর্ধর্ষ ডাকাত বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর হাতে জিম্মি থাকা ২ জেলেকে উদ্ধার এবং অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ কুখ্যাত ডাকাত দয়াল বাহিনীর এক সদস্যকে আটক করেছে কোস্টগার্ড। আটক ডাকাতদলের সদস্যের নাম তরিকুল (৩৫)। সে কয়রা থানার বাসিন্দা। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) বিকেলে কোস্টগার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রত্যক্ষ নির্দেশনায় সুন্দরবন অঞ্চলের সকল বনদস্যুর বিরুদ্ধে কোস্টগার্ড কঠোর অবস্থানে রয়েছে। এর অংশ হিসেবে কোস্টগার্ডের নেতৃত্বে “অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন” এবং “অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড” নামে দু’টি বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। “অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড”-এর অংশ হিসেবে সুন্দরবনের বিভিন্নস্থানে পৃথক দু’টি অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসব অভিযানে র্দুর্ধষ ডাকাত বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর হাতে জিম্মি থাকা একটি মাছ ধরার নৌকাসহ ২জন জেলেকে জীবিত উদ্ধার করা হয় এবং অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ কুখ্যাত দয়াল বাহিনীর একজন সদস্যকে আটক করা হয়।
কোস্টগার্ড জানায়, গত ১৫ এপ্রিল মোংলা থানাধীন জয়মনিঘোল এলাকার শুয়োরমারা খাল সংলগ্ন স্থানে মাছ ধরতে গিয়ে ২ জন জেলে বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর হাতে অপহৃত হয়। ডাকাতরা তাদের জিম্মি রেখে মুক্তিপণ আদায়ের উদ্দেশ্যে নির্যাতন চালায়।
পরবর্তীতে গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে ১৬ এপ্রিল বিকেল ৪টায় কোস্টগার্ড বেইস মোংলা কর্তৃক মুর্তি খাল সংলগ্ন এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযান চলাকালীন ১টি কাঠের নৌকাসহ ২জন জেলেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। এসময় কোস্টগার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে ডাকাতরা জিম্মিদের ফেলে বনের ভেতরে পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
পাশাপাশি, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, কুখ্যাত ডাকাত দয়াল বাহিনী শ্যামনগর থানাধীন হোগলডরা খাল সংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে গতকাল শুক্রবার সকাল ৬টায় কোস্টগার্ড স্টেশন কৈখালী উক্ত এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে ২টি একনলা বন্দুক, ৯ রাউন্ড তাজা কার্তুজসহ কুখ্যাত ডাকাত দয়াল বাহিনীর সদস্য তরিকুলকে আটক করা হয়। সে দীর্ঘদিন যাবৎ দয়াল বাহিনীর সক্রিয় সদস্য হিসেবে ডাকাতি করে আসছিল। আটককৃত ডাকাত, জব্দকৃত অস্ত্র ও গোলাবারুদের পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা এবং উদ্ধারকৃত জেলেদের পরিবারের নিকট হস্তান্তরের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

 

রৌদ্রের শক্তি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:১৯ পূর্বাহ্ণ
রৌদ্রের শক্তি

 

শহীদুল্লা হক ভূইয়া
ভোরের আভায় ভেদ করে আজ
উঠল বোশেখ রোদ,
খুশির আমেজ কমনা কিছু
উদয় হলো বোধ!

রোদ’ত নয় আর সূর্যের মূকুট
সৃষ্টি সুখের মূল,
বাংলা নববর্ষ এলো
মনের দুয়ার খুল।

মানব মনের ক্ষনিক প্রাণে
উল্লাসিত মন,
রৌদ্র দ্বগ্ধ অগ্রাহ্য করে
ছুটছে সারাক্ষণ।