প্রসঙ্গ: সীমান্তে কঠোর নজরদারি: লক্ষ্য যখন পাচার রোধ ও নিরাপত্তা
সম্প্রতি বিশ্ববাজারে তেলের মূল্যবৃদ্ধি ও অভ্যন্তরীণ বাজারে সরবরাহ সংকটের প্রেক্ষাপটে ভোজ্য ও জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুত ও পাচার রোধে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) বিশেষ তৎপরতা একটি সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয় উদ্যোগ। বিশেষ করে দক্ষিণ-পশ্চিম সীমান্তের মতো সংবেদনশীল এলাকায় বিজিবির এই কঠোর অবস্থান দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বৃহস্পতিবার নীলডুমুর ব্যাটালিয়ন (১৭ বিজিবি) থেকে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, যশোর রিজিয়নের অধীনে প্রতিদিন ৪৬৪টি টহল পরিচালনা এবং সীমান্ত সংলগ্ন ২২টি তেল পাম্পে সার্বক্ষণিক নজরদারি চালানোর বিষয়টি নির্দেশ করে যে, চোরাচালান রোধে বাহিনীটি কতটা সক্রিয়। কেবল অভিযান নয়, স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে মিলে টাস্কফোর্স গঠন এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে জনসচেতনতামূলক সভা করার বিষয়টিও ইতিবাচক। কারণ, সীমান্ত সুরক্ষা শুধু বাহিনীর একার দায়িত্ব নয়, এতে স্থানীয় জনগণের সম্পৃক্ততা অপরিহার্য।
সামনে পবিত্র ঈদুল আজহা। এই সময়টিকে কেন্দ্র করে প্রতিবছরই সীমান্ত দিয়ে অবৈধ পথে গবাদিপশু পাচারের একটি প্রবণতা দেখা যায়। বিজিবি এবার আগেভাগেই এই পথে কড়াকড়ি আরোপ করেছে, যা দেশীয় খামারিদের স্বার্থ রক্ষায় সহায়ক হবে। পরিসংখ্যান বলছে, চলতি বছরেই যশোর রিজিয়ন প্রায় ৬২ কোটি টাকার চোরাচালানি পণ্য এবং ২২ কোটি টাকার বেশি মাদক জব্দ করেছে। এই বিপুল পরিমাণ জব্দকৃত মালামাল একদিকে যেমন বিজিবির সাফল্যের স্মারক, অন্যদিকে এটি সীমান্তে চোরাকারবারিদের সক্রিয়তার এক উদ্বেগজনক চিত্রও ফুটিয়ে তোলে।
আমরা মনে করি, শুধু কড়াকড়ি বা টহল বাড়িয়ে দীর্ঘমেয়াদে চোরাচালান নির্মূল করা কঠিন। এর জন্য প্রয়োজন গোয়েন্দা নজরদারি আরও জোরদার করা এবং পাচারের মূল হোতাদের আইনের আওতায় আনা। বিশেষ করে ভোজ্য ও জ্বালানি তেলের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের পাচার রোধে পাম্প মালিক ও ডিলারদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি।
বিজিবি মহাপরিচালকের সেই প্রত্যয়—‘বিজিবি হবে সীমান্তে নিরাপত্তা ও আস্থার প্রতীক’Ñএটি তখনই সার্থক হবে যখন সাধারণ মানুষ নির্ভয়ে তথ্য দিয়ে বাহিনীকে সহযোগিতা করবে। দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিজিবির এই পেশাদারিত্ব বজায় থাকবেÑএটাই আমাদের প্রত্যাশা।







