শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩

জীবন বদলানোর এক নিরলস প্রচেষ্টার নাম শামছুন নাহার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০২৬, ৯:১৮ অপরাহ্ণ
জীবন বদলানোর এক নিরলস প্রচেষ্টার নাম শামছুন নাহার

শামছুন নাহার, প্রশিক্ষক, সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর সদর উপজেলায় মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের অধীনে জাতীয় মহিলা সংস্থায় কর্মরত। তিনি ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসের ২৮ ও ২৯ তারিখে বাংলাদেশ সেন্টার ফর কমিউনিকেশন প্রোগ্রামস কর্তৃক আয়োজিত UN WOMEN-এর ‘Empower’ প্রকল্পের অধীনে বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ও জেন্ডার কর্মপরিকল্পনা বিষয়ে সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর দুই দিনব্যাপী প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করেন।

এই প্রশিক্ষণে মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের পক্ষে শামছুন নাহার কর্মপরিকল্পনা তৈরিতে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। তিনি ভাবেন, এই কর্মপরিকল্পনা তাদের বিদ্যমান কর্মসূচির মধ্য দিয়েই বাস্তবায়ন সম্ভব। তিনি উপলব্ধি করেন যে, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, জীবিকার উন্নয়নসহ সহনশীল সমাজ গঠনে তাঁরও ভূমিকা রয়েছে। তিনি অসহায় নারীদের পাশে দাঁড়াতে চান।

প্রশিক্ষণ শেষে তিনি তাঁর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে তাঁদের বিদ্যমান প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে জলবায়ু পরিবর্তন ও জেন্ডার বিষয় আলোচনায় অন্তর্ভুক্তির কথা বলেন। তিনি তাঁর প্রশিক্ষণার্থীদের সঙ্গে জেন্ডার ও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে কী কী সমস্যা হয় এবং কীভাবে এর মোকাবিলা করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা করেন। এছাড়াও, দুর্যোগপূর্ব ও পরবর্তী কার্যক্রম এবং আয়ের উৎস কী কী হতে পারে, তা নিয়ে আলোচনা করেন। সেলাই কাজের পাশাপাশি নারীরা ঘরে বসে বাড়ির আঙিনায় কীভাবে সবজি চাষ করতে পারে, পুকুরে মাছ চাষ, গবাদিপশু পালন এবং কৃষিকাজে সহায়তা করতে পারে এবং কীভাবে পরিবার ও সমাজকে আরও সহনশীল করা যায়, সে বিষয়ে সচেতনতা তৈরিতে আলোচনা করেন।

শামছুন নাহারের উদ্যোগে আয়োজিত প্রশিক্ষণ ও সহায়তার মাধ্যমে জীবন পরিবর্তনের অন্যতম উদাহরণ তাঁর এলাকার আরেক নারী খাইরুল নেছা। ৩৭ বছর বয়সি খাইরুল নেছা ৪ মাস সেলাই কাজের ওপর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করার পর একটি সেলাই মেশিন কিনে ঘরে বসে ব্যবসা শুরু করেন। পরবর্তীতে শামছুন নাহারের সহযোগিতায় খাইরুল নেছা জাতীয় মহিলা সংস্থা থেকে প্রথম ৭৫ হাজার টাকা ঋণ গ্রহণ করে স্থানীয় বাজারে একটি দোকান ভাড়া করেন এবং বিভিন্ন স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য স্কুলের ড্রেস তৈরি করা শুরু করেন। পোশাক তৈরির আয় দিয়ে খাইরুল নেছা এখন স্বাবলম্বী।

আরেকজন সফল প্রশিক্ষণার্থী আম্বিয়া খাতুন। ৩৮ বছর বয়সি আম্বিয়ার স্বামী দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ। এক ছেলে ও এক মেয়ে নিয়ে মোট ৪ জনের সংসার। ঋণ গ্রহণ করে তিনি ঘরে বসে সেলাইয়ের পাশাপাশি বাড়ির উঠানে সবজি চাষ শুরু করেন। বর্তমানে তিনি ঘরে বসে আয় করছেন এবং সংসারের খরচ বহনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।

শামছুন নাহারের এই উদ্যোগ যথার্থই প্রমাণ করে যে, সঠিক সময়ে সঠিক প্রশিক্ষণ, আন্তরিক প্রচেষ্টা এবং সচেতনতার মাধ্যমে নারীরা শুধু অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হন না, বরং জলবায়ু-সহনশীল ও টেকসই জীবিকা গড়ে তুলতেও সক্ষম হন। তাঁর নিরলস প্রচেষ্টা শ্যামনগর উপজেলায় অনেক নারীর জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন এনে দিয়েছে, যা নারী ক্ষমতায়নে একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে সক্ষম হয়েছে।

Ads small one

এই শীতে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১৩ পূর্বাহ্ণ
এই শীতে

মকবুল মাহ্ফুজ
উলের সোয়েটার পরে আছে ওষুধের দোকান
নতুন বছরের ক্যালেন্ডারের গায়ে শীতের চাদর।

এই শীতে গাছেরা কুঁজো হয়ে আছে।
হাড় কাঁপানো শীত এ বছর
আগুনে সেঁকতে হচ্ছে হাত। পা রোজ।
কার যেন কবিতায় পড়েছিলাম
‘কথা বললেই শীত কম লাগে।’
ইস্, এরা যদি কথা বলতে পারত!

মিছামিছি লোভ দেখাচ্ছে
বাবুর আলী গোলদার
কিছু ইতর প্রাণী মলমূত্র ত্যাগ করছে,
দুর্গন্ধ নাকে আসছে।
নারী কী পুরুষ চেনা দায় হচ্ছে,

সর্বাঙ্গ ঢাকা আছে।
বিরতিহীন হাঁটছে,
এপাড়া-ওপাড়া যাচ্ছে।
ফিসফিসিয়ে বলছেÑ
অনন্তকাল সুখভোগের লোভ দেখাচ্ছে।
বাহ্! সুখ যেন ওদের হাতে,
মিছামিছি লোভ দেখাচ্ছে।
সরলমনা মানুষগুলো কি বুঝতে পারছে?

 

আমি তোমার বন্ধু হতে চাই

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১২ পূর্বাহ্ণ
আমি তোমার বন্ধু হতে চাই

জহুরুল হক জুলু
সকালের রোদের চিকমিক সোনা গায়ে মেখে
যে নতুন দিনের জন্ম দেয়,
আর সন্ধ্যার আকাশে
আবিরের রঙ ছড়িয়ে

অস্তাচলে রেখে যাওয়া শেষ স্বাক্ষরÑ
শিল্পীর তুলিতে আঁকা রঙিন স্বপ্নের মতো;
আমি তার বন্ধু হতে চাই।
শীতের ভোরে
ঘাসের ডগায় জেগে থাকা শিশিরকণা

টুপটাপ ঝরে পড়ে নীরবে,
যেন একান্ত আপন ভেবে
বেদনার ভাষা জানাতে চায়Ñ
হৃদয় নিংড়ানো স্বচ্ছ সে কথা;
আমি তার বন্ধু হতে চাই।
সৌন্দর্যের ডালি সাজিয়ে, সুগন্ধ বিলিয়ে
যে নীরবে পৌঁছে যায় হৃদয়ের মনিকোঠায়,

অবশেষে একদিন
ঝরে পড়ে নিঃশব্দে,
নিজেকে নিঃশেষ করে দিয়েÑ
আমি সেই ফুলটিকে ধরে রাখতে চাই
সযতেœ স্মৃতির পাতায়;
আমি তার বন্ধু হতে চাই।
ঘুম ভাঙে কিচিরমিচির ডাকে,

হৃদয়ে জাগে অচেনা আলোড়ন।
কেউ দূর নীল আকাশে ভেসে যায়,
খাদ্যের সন্ধানে ব্যস্ত উড়াল;
সন্ধ্যা নামলে আবার
কুলায় ফেরে তৃপ্ত হৃদয়ে।
তাদের এই সহজ জীবনযাত্রা
কার না মন কাড়ে?
আমি সেই পাখিদের বন্ধু হতে চাই।

সবুজ ফসলের মাঠ মনকে ভুলিয়ে দেয়,
আলো-ছায়ার লুকোচুরি খেলায়
বাতাস দোলে ছন্দে ছন্দে;
তার ঢেউ এসে আছড়ে পড়ে
আমার হৃদয়ের তীরে।
আমি তারও বন্ধু হতে চাই।
তুমিও তবে হাত বাড়াওÑ
দিগন্ত-বিস্তৃত উন্মুক্ত হাত।

এসো, আমরা বন্ধু হই

এই সৌন্দর্যের, এই জীবনের,

এই অনন্ত মমতার।

শীতল বাতাসের এক অনুরোধ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১২ পূর্বাহ্ণ
শীতল বাতাসের এক অনুরোধ

শাহাবুদ্দীন
সবকিছুর বিনিময়ে তুমি ভালো থেকোÑ
যেমন ভোরের কুয়াশা তার অদৃশ্য আঙুল দিয়ে
ঘাসের ডগায় হেঁটে যায়,
শুধু নিঃশব্দে কিছু নরম আলো রেখে যায়।
আমি যত দিইÑ
শব্দ, সময়, স্মৃতি, অদৃশ্য আঙুলের স্পর্শÑ
সবই যেন মাটির নিচে সরে যায়;
কিন্তু তুমি ভালো থাকো,
এটাই আমার প্রার্থনা।
যেমন ঝড়ের পর একা পাতার ওপর
সন্ধ্যার আলো নেমে আসে,
তেমনি তোমার মুখে যেন
শান্তির নরম ছাপ থাকেÑ

যেখানে কেউ আহত হয় না, কেউ হারায় না।
আমি জানি, আমার দেওয়া সবকিছু
অদৃশ্য নদীর মতো বয়ে যাবে;
শুধু তুমি ভালো থেকো,
এই ভেবে নদীও থেমে যায়,
এক মুহূর্তের জন্য নিজেকে দাঁড় করায়।
তুমি ভালো থেকোÑ
যেমন হেমন্তের শেষে
শিশিরের নিচে একাকী ফুল;
শুধু নিজের উপস্থিতি দিয়ে
সমস্ত মাঠকে ভরিয়ে রাখে।
সবকিছুর বিনিময়ে,
যদি এই পৃথিবীর সমস্ত শব্দ,
সমস্ত নীরবতা, সমস্ত আকাশ
আমার হাতে এসে গলে যায়Ñ
তবু একটাই চাওয়া থাকবে:
তুমি ভালো থেকো,
যেমন নক্ষত্র নিজের আলো দিয়ে
রাত্রিকে আলোকিত রাখে,
অচল, অমোঘ, অদূর।