বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬, ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬, ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩

জীবন বদলানোর এক নিরলস প্রচেষ্টার নাম শামছুন নাহার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০২৬, ৯:১৮ অপরাহ্ণ
জীবন বদলানোর এক নিরলস প্রচেষ্টার নাম শামছুন নাহার

শামছুন নাহার, প্রশিক্ষক, সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর সদর উপজেলায় মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের অধীনে জাতীয় মহিলা সংস্থায় কর্মরত। তিনি ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসের ২৮ ও ২৯ তারিখে বাংলাদেশ সেন্টার ফর কমিউনিকেশন প্রোগ্রামস কর্তৃক আয়োজিত UN WOMEN-এর ‘Empower’ প্রকল্পের অধীনে বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ও জেন্ডার কর্মপরিকল্পনা বিষয়ে সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর দুই দিনব্যাপী প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করেন।

এই প্রশিক্ষণে মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের পক্ষে শামছুন নাহার কর্মপরিকল্পনা তৈরিতে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। তিনি ভাবেন, এই কর্মপরিকল্পনা তাদের বিদ্যমান কর্মসূচির মধ্য দিয়েই বাস্তবায়ন সম্ভব। তিনি উপলব্ধি করেন যে, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, জীবিকার উন্নয়নসহ সহনশীল সমাজ গঠনে তাঁরও ভূমিকা রয়েছে। তিনি অসহায় নারীদের পাশে দাঁড়াতে চান।

প্রশিক্ষণ শেষে তিনি তাঁর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে তাঁদের বিদ্যমান প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে জলবায়ু পরিবর্তন ও জেন্ডার বিষয় আলোচনায় অন্তর্ভুক্তির কথা বলেন। তিনি তাঁর প্রশিক্ষণার্থীদের সঙ্গে জেন্ডার ও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে কী কী সমস্যা হয় এবং কীভাবে এর মোকাবিলা করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা করেন। এছাড়াও, দুর্যোগপূর্ব ও পরবর্তী কার্যক্রম এবং আয়ের উৎস কী কী হতে পারে, তা নিয়ে আলোচনা করেন। সেলাই কাজের পাশাপাশি নারীরা ঘরে বসে বাড়ির আঙিনায় কীভাবে সবজি চাষ করতে পারে, পুকুরে মাছ চাষ, গবাদিপশু পালন এবং কৃষিকাজে সহায়তা করতে পারে এবং কীভাবে পরিবার ও সমাজকে আরও সহনশীল করা যায়, সে বিষয়ে সচেতনতা তৈরিতে আলোচনা করেন।

শামছুন নাহারের উদ্যোগে আয়োজিত প্রশিক্ষণ ও সহায়তার মাধ্যমে জীবন পরিবর্তনের অন্যতম উদাহরণ তাঁর এলাকার আরেক নারী খাইরুল নেছা। ৩৭ বছর বয়সি খাইরুল নেছা ৪ মাস সেলাই কাজের ওপর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করার পর একটি সেলাই মেশিন কিনে ঘরে বসে ব্যবসা শুরু করেন। পরবর্তীতে শামছুন নাহারের সহযোগিতায় খাইরুল নেছা জাতীয় মহিলা সংস্থা থেকে প্রথম ৭৫ হাজার টাকা ঋণ গ্রহণ করে স্থানীয় বাজারে একটি দোকান ভাড়া করেন এবং বিভিন্ন স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য স্কুলের ড্রেস তৈরি করা শুরু করেন। পোশাক তৈরির আয় দিয়ে খাইরুল নেছা এখন স্বাবলম্বী।

আরেকজন সফল প্রশিক্ষণার্থী আম্বিয়া খাতুন। ৩৮ বছর বয়সি আম্বিয়ার স্বামী দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ। এক ছেলে ও এক মেয়ে নিয়ে মোট ৪ জনের সংসার। ঋণ গ্রহণ করে তিনি ঘরে বসে সেলাইয়ের পাশাপাশি বাড়ির উঠানে সবজি চাষ শুরু করেন। বর্তমানে তিনি ঘরে বসে আয় করছেন এবং সংসারের খরচ বহনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।

শামছুন নাহারের এই উদ্যোগ যথার্থই প্রমাণ করে যে, সঠিক সময়ে সঠিক প্রশিক্ষণ, আন্তরিক প্রচেষ্টা এবং সচেতনতার মাধ্যমে নারীরা শুধু অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হন না, বরং জলবায়ু-সহনশীল ও টেকসই জীবিকা গড়ে তুলতেও সক্ষম হন। তাঁর নিরলস প্রচেষ্টা শ্যামনগর উপজেলায় অনেক নারীর জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন এনে দিয়েছে, যা নারী ক্ষমতায়নে একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে সক্ষম হয়েছে।

Ads small one

প্রাণসায়ের খাল সংলগ্ন এলাকা বর্জ্য ও মাদকমুক্ত করার উদ্যোগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৪০ পূর্বাহ্ণ
প্রাণসায়ের খাল সংলগ্ন এলাকা বর্জ্য ও মাদকমুক্ত করার উদ্যোগ

শেখ আব্দুল আলিম: সাতক্ষীরা পৌরসভার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও বাজার কমিটির সক্ষমতা বাড়াতে এক পরামর্শ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শহরের ম্যানগ্রোভ সভাকক্ষে উন্নয়ন সংস্থা ‘রূপান্তর’-এর উদ্যোগে এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়। কর্মশালায় সাতক্ষীরা পৌর এলাকা ও প্রাণসায়ের খাল পাড়ের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন বক্তারা। তাঁরা জানান, প্রাণসায়ের খালের সৌন্দর্য বৃদ্ধি ও যাতায়াতের জন্য যে পথটি তৈরি করা হয়েছে, তা বর্তমানে গরু-ছাগল চলাচল, ময়লা-আবর্জনা এবং মাদকসেবীদের দখলে চলে যাচ্ছে। এ পরিস্থিতি নিরসনে পুরো এলাকাটিকে ধূমপান ও মাদকমুক্ত ঘোষণা করার দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি সচেতনতা বাড়াতে লিফলেট বিতরণ ও নির্দিষ্ট স্থানে বর্জ্য ফেলার জন্য ঝুড়ি (বাস্কেট) স্থাপনের প্রস্তাব রাখা হয়।
অনুষ্ঠানে রূপান্তরের প্রতিনিধি রতœা খাতুন, অণিক দত্ত এবং কর্মসূচি সঞ্চালক নাসরিন সুলতানা মৌ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া আলোচনায় অংশ নেন সাতক্ষীরা বড়বাজার কমিটির সভাপতি আব্দুর রব, সাতক্ষীরা পৌরসভার প্রতিনিধি মো. ইদ্রিস আলি, মো. রাশেদ, আব্দুল আলিম, ফরিদ আহম্মেদ ময়না এবং প্রাণসায়ের খাল সংলগ্ন ব্যবসায়ীরা।
আলোচনা পর্ব শেষে সাতক্ষীরা শহর ও প্রাণসায়ের খাল সংলগ্ন এলাকাকে পরিচ্ছন্ন ও মাদকমুক্ত রাখতে সর্বস্তরের নাগরিকদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান পৌর প্রতিনিধি মোঃ ইদ্রিস আলি ও রূপান্তরের প্রতিনিধি নাসরিন সুলতানা মৌ।

সাতক্ষীরায় তীব্র বিদ্যুৎ সংকট, স্তব্ধ জনজীবন ও বাণিজ্য

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৩৩ পূর্বাহ্ণ
সাতক্ষীরায় তীব্র বিদ্যুৎ সংকট, স্তব্ধ জনজীবন ও বাণিজ্য

নিজস্ব প্রতিনিধি: জ্বালানি সংকটের প্রভাবে সাতক্ষীরা জেলায় তীব্র বিদ্যুৎ সংকট দেখা দিয়েছে। দিনে-রাতে মিলিয়ে অর্ধেকেরও বেশি সময় বিদ্যুৎ না থাকায় দৈনন্দিন জীবনের পাশাপাশি স্তব্ধ হয়ে পড়েছে স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য ও কৃষিভিত্তিক শিল্প। দীর্ঘ লোডশেডিং ও ভোল্টেজ ওঠানামার কারণে বাসাবাড়ির ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি নষ্ট হচ্ছে। এতে চরম বিপাকে পড়েছে শিক্ষার্থীরা।
বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, জেলায় সাতক্ষীরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির গ্রাহকসংখ্যা প্রায় সাড়ে ছয় লাখ। পিক আওয়ারে বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদা থাকে প্রায় ১৫৮ মেগাওয়াট। তবে আবহাওয়াভেদে গড় চাহিদা প্রায় ১২০ মেগাওয়াট। জাতীয় গ্রিড থেকে চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ না পাওয়ায় ১০ থেকে ২০ শতাংশ, এমনকি ক্ষেত্রভেদে আরও বেশি লোডশেডিং করতে হচ্ছে।
মাঠপর্যায়ে এলাকাভেদে দিনে মাত্র তিন থেকে চার ঘণ্টা বিদ্যুৎ মিলছে। শ্যামনগরের কাশিমাড়ি ও আশাশুনির গদাইপুর এলাকার বাসিন্দারা জানান, দুই থেকে তিন ঘণ্টা পর মাত্র এক ঘণ্টার জন্য বিদ্যুৎ পাওয়া যায়। ফলে সুপেয় পানির সংকট দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে ধানের মিল, মুড়ির মিল ও খাবার পানি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের কাজ স্থবির হয়ে পড়েছে। বরফ উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় আশাশুনির মৎস্য খাতে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। ব্যাটারিচালিত যানবাহনের চালকেরাও জীবিকা সংকটে পড়েছেন।
সাতক্ষীরা সুন্দরবন প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাসুম বিল্লাহ জানান, ভোল্টেজ পরিবর্তনের কারণে ফ্রিজসহ মূল্যবান সরঞ্জাম বিকল হয়ে যাচ্ছে। এতে কোল্ড স্টোরেজ ও ফ্রিজনির্ভর ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। সামনে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা থাকলেও বিদ্যুতের অভাবে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা বিঘিœত হচ্ছে।
সাতক্ষীরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ভারপ্রাপ্ত জেনারেল ম্যানেজার মুহাঃ আজিজু রহমান সরকার জানান, গ্যাস ও জ্বালানি সংকটের কারণে জাতীয় পর্যায়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। স্বাভাবিক নিয়মে এক ঘণ্টার বেশি লোডশেডিং হওয়ার কথা নয়; তবে কোথাও দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকলে তা কারিগরি ত্রুটি বা স্থানীয় সমস্যার কারণে হতে পারে।

কলারোয়ায় মানসিক প্রতিবন্ধীকে নির্যাতনের অভিযোগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৩১ পূর্বাহ্ণ
কলারোয়ায় মানসিক প্রতিবন্ধীকে নির্যাতনের অভিযোগ

সংবাদদাতা: কলারোয়ায় গোলাম রসুল শেখ (৩৮) নামের এক মানসিক প্রতিবন্ধী যুবককে বিদ্যুতের খুঁটিতে বেঁধে মারধর ও এসিড স্প্রে করে ঝলসে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। কলারোয়া পৌর সদরের মির্জাপুর গ্রামের পশ্চিম পাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। আহত যুবক বর্তমানে কলারোয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন।
ঘটনায় ভুক্তভোগীর ভাই মো. আব্দুল গফুর শেখ বাদী হয়ে চারজনের নাম উল্লেখ করে কলারোয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযুক্তরা হলেন মির্জাপুর গ্রামের মো. সেকেন্দার আলী (৬২), মো. জিম হোসেন (২২), মোছা. মনি (৫২) ও মোছা. পপি খাতুন (৪২)।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ১০ আগস্ট বিকেলে গোলাম রসুল অভিযুক্তদের বাড়ির পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় পূর্বশত্রুতার জেরে তাঁকে আটকে খুঁটিতে বাঁধা হয়। পরে লাঠিসোটা দিয়ে মারধরের একপর্যায়ে তাঁর শরীরে এসিড স্প্রে করা হয়, এতে দুই হাত পুড়ে মারাত্মক জখম হয়। স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। ভুক্তভোগীর পরিবার ও এলাকাবাসী এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।