জীবন বদলানোর এক নিরলস প্রচেষ্টার নাম শামছুন নাহার
শামছুন নাহার, প্রশিক্ষক, সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর সদর উপজেলায় মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের অধীনে জাতীয় মহিলা সংস্থায় কর্মরত। তিনি ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসের ২৮ ও ২৯ তারিখে বাংলাদেশ সেন্টার ফর কমিউনিকেশন প্রোগ্রামস কর্তৃক আয়োজিত জাতিসংঘ নারী জি ক্ষমতায়ন প্রকল্পের অধীনে বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ও জেন্ডার কর্মপরিকল্পনা বিষয়ে সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর দুই দিনব্যাপী প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করেন।
এই প্রশিক্ষণে মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের পক্ষে শামছুন নাহার কর্মপরিকল্পনা তৈরিতে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। তিনি ভাবেন, এই কর্মপরিকল্পনা তাদের বিদ্যমান কর্মসূচির মধ্য দিয়েই বাস্তবায়ন সম্ভব। তিনি উপলব্ধি করেন যে, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, জীবিকার উন্নয়নসহ সহনশীল সমাজ গঠনে তাঁরও ভূমিকা রয়েছে। তিনি অসহায় নারীদের পাশে দাঁড়াতে চান।
প্রশিক্ষণ শেষে তিনি তাঁর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে তাঁদের বিদ্যমান প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে জলবায়ু পরিবর্তন ও জেন্ডার বিষয় আলোচনায় অন্তর্ভুক্তির কথা বলেন। তিনি তাঁর প্রশিক্ষণার্থীদের সঙ্গে জেন্ডার ও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে কী কী সমস্যা হয় এবং কীভাবে এর মোকাবিলা করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা করেন। এছাড়াও, দুর্যোগপূর্ব ও পরবর্তী কার্যক্রম এবং আয়ের উৎস কী কী হতে পারে, তা নিয়ে আলোচনা করেন। সেলাই কাজের পাশাপাশি নারীরা ঘরে বসে বাড়ির আঙিনায় কীভাবে সবজি চাষ করতে পারে, পুকুরে মাছ চাষ, গবাদিপশু পালন এবং কৃষিকাজে সহায়তা করতে পারে এবং কীভাবে পরিবার ও সমাজকে আরও সহনশীল করা যায়, সে বিষয়ে সচেতনতা তৈরিতে আলোচনা করেন।
শামছুন নাহারের উদ্যোগে আয়োজিত প্রশিক্ষণ ও সহায়তার মাধ্যমে জীবন পরিবর্তনের অন্যতম উদাহরণ তাঁর এলাকার আরেক নারী খাইরুল নেছা। ৩৭ বছর বয়সি খাইরুল নেছা ৪ মাস সেলাই কাজের ওপর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করার পর একটি সেলাই মেশিন কিনে ঘরে বসে ব্যবসা শুরু করেন। পরবর্তীতে শামছুন নাহারের সহযোগিতায় খাইরুল নেছা জাতীয় মহিলা সংস্থা থেকে প্রথম ৭৫ হাজার টাকা ঋণ গ্রহণ করে স্থানীয় বাজারে একটি দোকান ভাড়া করেন এবং বিভিন্ন স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য স্কুলের ড্রেস তৈরি করা শুরু করেন। পোশাক তৈরির আয় দিয়ে খাইরুল নেছা এখন স্বাবলম্বী।
আরেকজন সফল প্রশিক্ষণার্থী আম্বিয়া খাতুন। ৩৮ বছর বয়সি আম্বিয়ার স্বামী দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ। এক ছেলে ও এক মেয়ে নিয়ে মোট ৪ জনের সংসার। ঋণ গ্রহণ করে তিনি ঘরে বসে সেলাইয়ের পাশাপাশি বাড়ির উঠানে সবজি চাষ শুরু করেন। বর্তমানে তিনি ঘরে বসে আয় করছেন এবং সংসারের খরচ বহনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।
শামছুন নাহারের এই উদ্যোগ যথার্থই প্রমাণ করে যে, সঠিক সময়ে সঠিক প্রশিক্ষণ, আন্তরিক প্রচেষ্টা এবং সচেতনতার মাধ্যমে নারীরা শুধু অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হন না, বরং জলবায়ু-সহনশীল ও টেকসই জীবিকা গড়ে তুলতেও সক্ষম হন। তাঁর নিরলস প্রচেষ্টা শ্যামনগর উপজেলায় অনেক নারীর জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন এনে দিয়েছে, যা নারী ক্ষমতায়নে একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে সক্ষম হয়েছে।









