বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২৬, ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩
বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২৬, ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩

জীবন বদলানোর এক নিরলস প্রচেষ্টার নাম শামছুন নাহার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০২৬, ৯:১৮ অপরাহ্ণ
জীবন বদলানোর এক নিরলস প্রচেষ্টার নাম শামছুন নাহার

শামছুন নাহার, প্রশিক্ষক, সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর সদর উপজেলায় মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের অধীনে জাতীয় মহিলা সংস্থায় কর্মরত। তিনি ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসের ২৮ ও ২৯ তারিখে বাংলাদেশ সেন্টার ফর কমিউনিকেশন প্রোগ্রামস কর্তৃক আয়োজিত জাতিসংঘ নারী জি ক্ষমতায়ন প্রকল্পের অধীনে বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ও জেন্ডার কর্মপরিকল্পনা বিষয়ে সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর দুই দিনব্যাপী প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করেন।

এই প্রশিক্ষণে মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের পক্ষে শামছুন নাহার কর্মপরিকল্পনা তৈরিতে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। তিনি ভাবেন, এই কর্মপরিকল্পনা তাদের বিদ্যমান কর্মসূচির মধ্য দিয়েই বাস্তবায়ন সম্ভব। তিনি উপলব্ধি করেন যে, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, জীবিকার উন্নয়নসহ সহনশীল সমাজ গঠনে তাঁরও ভূমিকা রয়েছে। তিনি অসহায় নারীদের পাশে দাঁড়াতে চান।

প্রশিক্ষণ শেষে তিনি তাঁর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে তাঁদের বিদ্যমান প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে জলবায়ু পরিবর্তন ও জেন্ডার বিষয় আলোচনায় অন্তর্ভুক্তির কথা বলেন। তিনি তাঁর প্রশিক্ষণার্থীদের সঙ্গে জেন্ডার ও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে কী কী সমস্যা হয় এবং কীভাবে এর মোকাবিলা করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা করেন। এছাড়াও, দুর্যোগপূর্ব ও পরবর্তী কার্যক্রম এবং আয়ের উৎস কী কী হতে পারে, তা নিয়ে আলোচনা করেন। সেলাই কাজের পাশাপাশি নারীরা ঘরে বসে বাড়ির আঙিনায় কীভাবে সবজি চাষ করতে পারে, পুকুরে মাছ চাষ, গবাদিপশু পালন এবং কৃষিকাজে সহায়তা করতে পারে এবং কীভাবে পরিবার ও সমাজকে আরও সহনশীল করা যায়, সে বিষয়ে সচেতনতা তৈরিতে আলোচনা করেন।

শামছুন নাহারের উদ্যোগে আয়োজিত প্রশিক্ষণ ও সহায়তার মাধ্যমে জীবন পরিবর্তনের অন্যতম উদাহরণ তাঁর এলাকার আরেক নারী খাইরুল নেছা। ৩৭ বছর বয়সি খাইরুল নেছা ৪ মাস সেলাই কাজের ওপর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করার পর একটি সেলাই মেশিন কিনে ঘরে বসে ব্যবসা শুরু করেন। পরবর্তীতে শামছুন নাহারের সহযোগিতায় খাইরুল নেছা জাতীয় মহিলা সংস্থা থেকে প্রথম ৭৫ হাজার টাকা ঋণ গ্রহণ করে স্থানীয় বাজারে একটি দোকান ভাড়া করেন এবং বিভিন্ন স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য স্কুলের ড্রেস তৈরি করা শুরু করেন। পোশাক তৈরির আয় দিয়ে খাইরুল নেছা এখন স্বাবলম্বী।

আরেকজন সফল প্রশিক্ষণার্থী আম্বিয়া খাতুন। ৩৮ বছর বয়সি আম্বিয়ার স্বামী দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ। এক ছেলে ও এক মেয়ে নিয়ে মোট ৪ জনের সংসার। ঋণ গ্রহণ করে তিনি ঘরে বসে সেলাইয়ের পাশাপাশি বাড়ির উঠানে সবজি চাষ শুরু করেন। বর্তমানে তিনি ঘরে বসে আয় করছেন এবং সংসারের খরচ বহনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।

শামছুন নাহারের এই উদ্যোগ যথার্থই প্রমাণ করে যে, সঠিক সময়ে সঠিক প্রশিক্ষণ, আন্তরিক প্রচেষ্টা এবং সচেতনতার মাধ্যমে নারীরা শুধু অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হন না, বরং জলবায়ু-সহনশীল ও টেকসই জীবিকা গড়ে তুলতেও সক্ষম হন। তাঁর নিরলস প্রচেষ্টা শ্যামনগর উপজেলায় অনেক নারীর জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন এনে দিয়েছে, যা নারী ক্ষমতায়নে একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে সক্ষম হয়েছে।

Ads small one

আন্তর্জাতিক যুব দিবসে টিআইবির ৯ দফা সুপারিশ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০২৬, ১০:০৫ অপরাহ্ণ
আন্তর্জাতিক যুব দিবসে টিআইবির ৯ দফা সুপারিশ

“জলবায়ুর অভিঘাত মোকাবিলা ও টেকসই উন্নয়নে দুর্জয় তারুণ্য”-এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আন্তর্জাতিক যুব দিবস উপলক্ষে সাতক্ষীরায় সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) ও ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর যৌথ উদ্যোগে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার বিকেলে সাতক্ষীরার ম্যানগ্রোভ সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এ সভায় ১১টি যুব সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

সনাক সাতক্ষীরার সভাপতি তৈয়েব হাসান সামছুজ্জামানের সভাপতিত্বে সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন সনাক-ইয়েস উপকমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক ভারতেশ্বরী বিশ্বাস। ধারণাপত্র উপস্থাপন করেন ইয়েস সদস্য হেনা পারভীন।

জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় তরুণদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সভায় টিআইবি ও সনাকের পক্ষে ৯ দফা সুপারিশ পেশ করা হয়। সুপারিশগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো— তরুণদের উদ্ভাবনী উদ্যোগে আর্থিক সহায়তা ও স্বীকৃতি প্রদান, তারুণ্যনির্ভর জাতীয় জলবায়ু কৌশল প্রণয়ন, প্রান্তিক এলাকায় নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সুবিধা নিশ্চিত করা, তরুণদের মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা তহবিল গঠন, পরিবেশবান্ধব কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সরকারি-বেসরকারি সব নিয়োগপ্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা।

আলোচনায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন সনাক সহ-সভাপতি ইয়াছীন ছিদ্দীকী, সদস্য প্রফেসর আব্দুল হামিদ, আবুল বাসার পল্টু ও ইয়েস আহ্বায়ক মো. অলিউর রহমান। বিডি ক্লিন, রেড ক্রিসেন্টসহ ১০টি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিনিধিরা জলবায়ু ঝুঁকি হ্রাসে তরুণদের ভূমিকা নিয়ে নিজস্ব মতামত ব্যক্ত করেন। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সনাকের এরিয়া সমন্বয়কারী আল-আমিন। প্রেসবিজ্ঞপ্তি

 

বুড়িগোয়ালিনীতে বিএনপির আলোচনা সভা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০২৬, ১০:০২ অপরাহ্ণ
বুড়িগোয়ালিনীতে বিএনপির আলোচনা সভা

উপকূলীয় অঞ্চল (শ্যামনগর) প্রতিনিধি: শ্যামনগর উপজেলার বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি ও স্থানীয় বাসিন্দাদের অংশগ্রহণে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার বিকেলে নীলডুমুর আলাউদ্দিন মার্কেটে এ সভা হয়। ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি রবিউল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন শ্যামনগর উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক শেখ নাজমুল হক।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে শেখ নাজমুল হক বলেন, দেশের সার্বিক উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণে তৃণমূল পর্যায়ে দলকে সুসংগঠিত করার কোনো বিকল্প নেই। তিনি দলের হাতকে শক্তিশালী করতে ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।

আলোচনা সভায় বক্তারা দলীয় কার্যক্রম আরও গতিশীল করা এবং এলাকার সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখে পাশে থাকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। সভায় স্থানীয় বিভিন্ন স্তরের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

মৎস্য ঘেরের আইলে সবজি চাষে সাফল্য পাচ্ছেন তালার কৃষকেরা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০২৬, ৯:৫৮ অপরাহ্ণ
মৎস্য ঘেরের আইলে সবজি চাষে সাফল্য পাচ্ছেন তালার কৃষকেরা

মুজিবর রহমান: মৎস্য ঘেরের আইলে সবজি আর নিচের পানিতে মাছ—সমন্বিত এই চাষ পদ্ধতিতে নতুন সম্ভাবনার পথ দেখাচ্ছেন সাতক্ষীরার তালা উপজেলার কৃষকেরা। খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়কের দুপাশে ঘেরের আইলে মাচা পদ্ধতিতে সবজি চাষ করে স্বাবলম্বী হচ্ছেন শত শত পরিবার।

তালা উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, নগরঘাটা, সরুলিয়া, খলিষখালীসহ আশপাশের ইউনিয়নগুলোতে ব্যাপকভাবে এ পদ্ধতিতে চাষাবাদ হচ্ছে। ঘেরের আইলে উৎপাদিত এসব সবজি সম্পূর্ণ ভেজালমুক্ত ও বিষমুক্ত।

সরেজমিনে দেখা গেছে, নগরঘাটা ইউনিয়নের মিঠাবাড়ি, নগরঘাটা ও শাকদাহ বিলে শত শত হেক্টর ঘেরের আইলে মাচায় ঝুলছে লাউ, মিষ্টি কুমড়া, করলা, খিরাই, বেগুন, পুঁইশাক, বরবটি, ঝিঙে ও লালশাক। কোনো কোনো ঘেরের বেড়িবাঁধে তরমুজ চাষেও সফলতা এসেছে।

পাটকেলঘাটার কৃষক শহিদুল ইসলাম জানান, ৩ বিঘা ঘেরে বাঁশ ও নেট দিয়ে মাচা তৈরিতে তাঁর খরচ হয়েছিল প্রায় ৬ হাজার টাকা। ইতোমধ্যে উৎপাদিত সবজি বিক্রি করে তাঁর আয় ৫০ হাজার টাকা ছাড়িয়েছে। পানি শুকিয়ে গেলে এই জমিতেই ধানের চাষ করবেন তিনি। আরেক কৃষক আব্দুর রহিম সরদার জানান, মাচা দুই-তিন বছর পর পর তৈরি করতে হয় বলে উৎপাদনের খরচ অনেক কমে যায়।

তালা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাজিরা খাতুন জানান, সমন্বিত এ পদ্ধতিতে মাছ ও সবজি চাষে চাষিদের সার্বিক কারিগরি সহায়তা ও পরামর্শ দিচ্ছেন মাঠপর্যায়ের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা।