শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২৬, ২৯ শ্রাবণ ১৪৩৩
শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২৬, ২৯ শ্রাবণ ১৪৩৩

সাতক্ষীরা সীমান্তে বিজিবির অভিযানে প্রায় ছাব্বিশ লক্ষ টাকার মাদক ও চোরাচালানী মালামাল আটক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট, ২০২৬, ৬:০৭ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরা সীমান্তে বিজিবির অভিযানে প্রায় ছাব্বিশ লক্ষ টাকার মাদক ও চোরাচালানী মালামাল আটক

পত্রদূত ডেস্ক: বুধবার ও বৃহস্পতিবার (১২ ও ১৩ আগস্ট ২০২৬) সাতক্ষীরা ৩৩ বিজিবি ব্যাটালিয়ন এর অধীনস্থ ভোমরা, কালিয়ানী, কুশখালি, কাকডাঙ্গা ও মাদরা বিওপি এবং বাঁকাল চেকপোষ্ট এর টহলদল দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় মাদক ও চোরাচালান বিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ভারতীয় মোবাইল ফোনের যন্ত্রাংশ ও ইয়াবা আটক করে।

সাতক্ষীরা ৩৩ বিজিবির ব্যাটালিয়ন জানায়, ভোমরা বিওপির আভিযানে সাতক্ষীরা সদর থানার বালুর মাঠ হতে ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকার ভারতীয় ইয়াবা আটক করে। কালিয়ানী বিওপির আভিযানে সাতক্ষীরা সদর থানার পাকার মোড় হতে ৭ লাখ ২০ হাজার টাকার ভারতীয় মোবাইল ফোনের যন্ত্রাংশ আটক করে।

 

কুশখালী বিওপির আভিযানে সাতক্ষীরা সদর থানার বাঘমারা হতে ২ লাখ টাকার ভারতীয় মোবাইল ফোনের যন্ত্রাংশ আটক করে। কাকডাঙ্গা বিওপির আভিযানে কলারোয়া থানার ভাদিয়ালি হতে ৬ লাখ ৩০ হাজার টাকার ভারতীয় মোবাইল ফোনের যন্ত্রাংশ আটক করে। মাদরা বিওপির আভিযানে কলারোয়া থানার আমবাগান হতে ৩ লাখ ৮০ হাজার টাকার ভারতীয় মোবাইল ফোনের যন্ত্রাংশ আটক করে।

এছাড়াও, বাঁকাল চেকপোষ্ট এর আভিযানে সাতক্ষীরা সদর থানার ঢালিপাড়া হতে ২ লাখ ১০ হাজার টাকার ভারতীয় মোবাইল ফোনের যন্ত্রাংশ আটক করে। আটক পন্যের সর্বমোট মূল্য ২৫ লাখ ৯০ হাজার টাকা।

বিজিবি আরো জানায়, চোরাকারবারী কর্তৃক বর্ণিত মালামাল শুল্ককর ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে ভারত হতে বাংলাদেশে পাচার করায় জব্দ করা হয়। এভাবে ভারতীয় দ্রব্য সামগ্রী চোরাচালানের কারণে দেশীয় শিল্প ক্ষতিগ্রস্থ হবার পাশাপাশি দেশ উল্লেখযোগ্য রাজস্ব আয় হতে বঞ্চিত হচ্ছে।

 

দেশের রাজস্ব ফাঁকি রোধ করে স্থানীয় শিল্প বিকাশে বিজিবি’র এরূপ দেশপ্রেমিক ও জনস্বার্থে পরিচালিত অভিযানে উপস্থিত স্থানীয় জনগন সাধুবাদ জ্ঞাপন করে এ ধরণের অভিযান অব্যাহত রাখার জন্য অনুরোধ করেন।

Ads small one

আন্তর্জাতিক গৃহহীন প্রাণি দিবস: সহমর্মিতা, দায়িত্ববোধ ও সহাবস্থানের আহ্বান

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৬, ৯:৫৯ অপরাহ্ণ
আন্তর্জাতিক গৃহহীন প্রাণি দিবস: সহমর্মিতা, দায়িত্ববোধ ও সহাবস্থানের আহ্বান

সাকিবুর রহমান বাবলা

প্রতি বছর আগস্ট মাসের তৃতীয় শনিবার পালিত হয় আন্তর্জাতিক গৃহহীন প্রাণি দিবস। ১৯৯২ সালে ইন্টারন্যাশনাল সোসাইটি ফর অ্যানিমাল রাইটস এই দিবসের সূচনা করে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দিনটি পালন করা হয় রাস্তায় ও আশ্রয়হীন প্রাণিদের দুর্দশা সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, প্রাণিকল্যাণ নিশ্চিতকরণ এবং দায়িত্বশীল আচরণ গড়ে তোলার লক্ষ্যে।

গৃহহীন প্রাণি বলতে কোনো নির্দিষ্ট প্রজাতিকে বোঝায় না। বরং যেসব প্রাণি মানুষের মালিকানা, পরিচর্যা বা স্থায়ী আশ্রয় থেকে বিভিন্ন কারণে সেই আশ্রয় বিচ্যুতি হয়ে জীবনযাপন করে, তাদের গৃহহীন প্রাণি বলা হয়। এর মধ্যে কুকুর ও বিড়াল সবচেয়ে বেশি দেখা গেলেও খরগোশ, ঘোড়া, পাখি, গিনিপিগসহ বিভিন্ন পোষা প্রাণিও পরিত্যক্ত হয়ে গৃহহীন অবস্থায় পড়তে পারে। তবে বিশ্বব্যাপী গৃহহীন প্রাণির সংখ্যার সবচেয়ে বড় অংশই কুকুর ও বিড়াল।

বর্তমান বিশ্বে গৃহহীন প্রাণির সংখ্যা উদ্বেগজনক। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, কোটি কোটি কুকুর ও বিড়াল রাস্তায় বা অস্থায়ী আশ্রয়ে জীবনযাপন করছে। অতিরিক্ত বংশবৃদ্ধি, মালিকের অবহেলা, প্রাণি পরিত্যাগ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং পর্যাপ্ত আশ্রয়কেন্দ্রের অভাব এই সমস্যার প্রধান কারণ। ফলে প্রাণিগুলো খাদ্য, পানি, চিকিৎসা ও নিরাপত্তার সংকটে ভোগে এবং অনেক সময় রোগ, দুর্ঘটনা কিংবা নির্যাতনের শিকার হয়।

এই দিবসের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো প্রাণির অতিরিক্ত বৃদ্ধিসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে বন্ধ্যাকরণ কার্যক্রমের গুরুত্ব তুলে ধরা। বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিকল্পিত বন্ধ্যাকরণ গৃহহীন প্রাণির সংখ্যা কমাতে সবচেয়ে কার্যকর ও মানবিক উপায়। একই সঙ্গে “কিনবেন না, দত্তক নিন” বার্তার মাধ্যমে মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্র বা রাস্তা থেকে প্রাণি দত্তক নিতে উৎসাহিত করা হয়। এতে একদিকে যেমন একটি প্রাণি নতুন জীবন পায়, অন্যদিকে আশ্রয়কেন্দ্রগুলোর ওপর চাপও কমে।

গৃহহীন প্রাণিদের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। তারা মানুষের সহমর্মিতা, দায়িত্ববোধ ও সামাজিক সচেতনতার প্রতিফলন ঘটায়। অনেক এলাকায় পথকুকুর অপরিচিত ব্যক্তির উপস্থিতি সম্পর্কে সতর্ক সংকেত দেয় এবং পরিবেশে ফেলে দেওয়া খাদ্যবর্জ্য অপসারণেও ভূমিকা রাখে। তবে যথাযথ টিকাদান ও পরিচর্যার অভাবে কিছু প্রাণি জলাতঙ্কসহ বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে। তাই প্রাণিদের প্রতি নিষ্ঠুরতা নয়, বরং বিজ্ঞানসম্মত ও মানবিক ব্যবস্থাপনাই হতে পারে টেকসই সমাধান।

বাস্তুসংস্থান ও পরিবেশের ক্ষেত্রেও গৃহহীন প্রাণিদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। কিছু প্রাণি ইঁদুর ও অন্যান্য ক্ষুদ্র প্রাণির সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। আবার মৃত প্রাণি বা খাদ্যবর্জ্য খেয়ে পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখতেও অবদান রাখে। কিন্তু তাদের সংখ্যা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেলে জীববৈচিত্র্য ও খাদ্যশৃঙ্খলে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে অবাধে বিচরণকারী বিড়াল অনেক অঞ্চলে স্থানীয় পাখি ও ছোট বন্যপ্রাণির জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচিত হয়। তাই প্রাণিকল্যাণ এবং পরিবেশগত ভারসাম্য-দুই দিক বিবেচনায় রেখেই কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণ করা প্রয়োজন।

বাংলাদেশে প্রাণিকল্যাণ আইন, ২০১৯ অনুযায়ী গৃহহীন বা পথপ্রাণী হত্যা, নির্যাতন কিংবা অযৌক্তিকভাবে আটকে রাখার অপরাধে সর্বোচ্চ ৬ মাসের কারাদন্ড, ১০ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দন্ড হতে পারে। এছাড়া দন্ডবিধি, ১৮৬০-এর ৪২৯ ধারায় পশু হত্যা বা ক্ষতির জন্য আরও কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে। যদিও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর এ আইনের বাস্তবায়নের দায়িত্বে রয়েছে, তবুও দেশে পথপ্রাণীদের জন্য সরকারি আশ্রয় ও পুনর্বাসন ব্যবস্থা এখনও সীমিত; ফলে এ ক্ষেত্রে বেসরকারি সংস্থা ও স্বেচ্ছাসেবীরাই প্রধান ভূমিকা পালন করছে, যেমন অভয়ারণ্য, পেটস কেয়ার।

এই দিবস আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে, গৃহহীন প্রাণিরা কোনো বোঝা নয়; তারা আমাদের পরিবেশ ও সমাজেরই অংশ। তাদের প্রতি দায়িত্বশীল আচরণ, টিকাদান, বন্ধ্যাকরণ, আশ্রয় ও চিকিৎসা নিশ্চিত করা এবং প্রাণি নির্যাতনের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা আমাদের সবার কর্তব্য। সহমর্মিতা, সচেতনতা ও সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমেই মানুষ ও প্রাণীর নিরাপদ সহাবস্থান নিশ্চিত করা সম্ভব। তাই মানুষের মধ্যে প্রাণিদের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব গড়ে তুলে একটি সহানুভূতিশীল সমাজ নির্মাণে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানাই।

রাজপথ থেকে রাষ্ট্রপতির আসনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৬, ৯:৫৩ অপরাহ্ণ
রাজপথ থেকে রাষ্ট্রপতির আসনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

এম.এম হায়দার আলী

বাংলাদেশের রাজনীতিতে কিছু কিছু মুহূর্ত আসে, যা কেবল একটি রাজনৈতিক দলের জন্য নয়, গোটা রাষ্ট্রের জন্যই তাৎপর্য বহন করে। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে ঘোষণার সিদ্ধান্ত তেমনই একটি আলোচিত অধ্যায়। দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা, নানা চড়াই-উতরাই এবং দুঃসময়ে দলের পাশে থাকার অভিজ্ঞতা পেরিয়ে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক দায়িত্বে তার আসীন হওয়া নিঃসন্দেহে তার রাজনৈতিক জীবনের এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা।

 

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর শুধু বিএনপির মহাসচিব নন, তিনি বাংলাদেশের সমকালীন রাজনীতির একজন পরিচিত ও অভিজ্ঞ মুখ। ছাত্র জীবন থেকে রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ততা, শিক্ষকতা ও সরকারি চাকরির অভিজ্ঞতা এবং পরবর্তীতে সক্রিয় রাজনীতিতে সম্পৃক্ততা,সব মিলিয়ে তার রাজনৈতিক জীবন দীর্ঘ ও ঘটনা বহুল।

ঠাকুরগাঁওয়ের মাটিতে বেড়ে ওঠা এই রাজনীতিক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতি বিষয়ে অধ্যয়ন করতেন। কর্ম জীবনের শুরুতে শিক্ষকতা ও সরকারি চাকরিতে থাকলেও রাজনীতির প্রতি তার গভীর আকর্ষণ শেষ পর্যন্ত দেশ প্রেমিক এই মানুষটিকে সক্রিয় রাজনীতির অঙ্গনে নিয়ে আসে। সময়ের সঙ্গে বিএনপির সাংগঠনিক কাঠামোর বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করে তিনি দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে উঠে আসেন।

 

বিএনপির মহাসচিব হিসেবে তার দীর্ঘ দায়িত্ব পালন রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। দলের নানা সংকট, আন্দোলন-সংগ্রাম, মামলা-মোকদ্দমা ও রাজনৈতিক প্রতিকূলতার সময়ে তাকে সামনে থেকে দলের অবস্থান তুলে ধরতে দেখা গেছে। কখনো সংবাদ সম্মেলনে, কখনো রাজপথে, আবার কখনো দলীয় নেতাকর্মীদের পাশে, বিভিন্ন ভূমিকায় তিনি ছিলেন দৃশ্যমান। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের রাজনৈতিক বক্তব্যে গণতন্ত্র, ভোটাধিকার, আইনের শাসন ও জনগণের অধিকার বরাবরই গুরুত্বপূর্ণ স্থান পেয়েছে।

 

রাজনৈতিক মত-পার্থক্য থাকতেই পারে, কিন্তু একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে ভিন্নমত, আলোচনা ও রাজনৈতিক সহাবস্থানের প্রয়োজনীয়তা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে তার সামনে তাই সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হবে দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে সংবিধান ও রাষ্ট্রের প্রতি দায়বদ্ধতা প্রদর্শন করা। এখানেই রাষ্ট্রপতির পদটি রাজনৈতিক দলের পদ থেকে সম্পূর্ণ আলাদা।

 

মহাসচিব হিসেবে তিনি একটি দলের নেতৃত্বের অংশ ছিলেন, রাষ্ট্রপতি হিসেবে তাকে হতে হবে সব দল, মত ও শ্রেণি-পেশার মানুষের রাষ্ট্রপতি। রাজনৈতিক জীবনের অভিজ্ঞতা যদি তিনি নিরপেক্ষতা, প্রজ্ঞা ও সাংবিধানিক দায়িত্ব বোধের সঙ্গে প্রয়োগ করতে পারেন, তাহলে সেটিই হবে তার সবচেয়ে বড় সাফল্য। দেশের স্বার্থে একজন অভিজ্ঞ ও পরীক্ষিত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্তকে তাই স্বাগত জানানো যায়।

 

বিএনপি সরকারের এই সিদ্ধান্তের জন্য তাদের ধন্যবাদ জানাতেই হয়,যদি এই সিদ্ধান্ত সত্যিই জাতীয় স্বার্থ, রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতা এবং জনগণের প্রত্যাশাকে সামনে রেখে নেওয়া হয়ে থাকে। একই সাথে,সেই পদে বসে অতীতের রাজনৈতিক পরিচয়কে সম্মানের সঙ্গে ধারণ করলেও দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সংবিধানই হতে হবে প্রধান পথ নির্দেশক। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সামনে তাই এখন এক নতুন পরীক্ষা। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, প্রজ্ঞা ও অর্জনকে রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে কতটা সফল ভাবে কাজে লাগাতে পারেন,সেটিই হবে তার নতুন পরিচয়ের মূল মাপ কাঠি।

 

রাজপথের সংগ্রামী নেতা থেকে রাষ্ট্রপতির আসন, এই যাত্রা নিঃসন্দেহে দীর্ঘ পথের প্রাপ্তি। এখন প্রয়োজন অতীতের অভিজ্ঞতাকে ভবিষ্যতের দায়িত্বশীলতায় রূপ দেওয়া। কারণ রাষ্ট্রপতির আসনে বসে তিনি আর শুধু কোনো দলের নেতা নন, তিনি গোটা বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি। কারন, দেশ তার কাছে প্রত্যাশা করবে, দল নয়, রাষ্ট্র হবে সবার আগে,রাজনীতি নয়, সংবিধান হবে পথের নির্দেশনা, আর ব্যক্তিগত পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে জনগণের স্বার্থই হবে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। সর্বোপরি, আমি দেশ বরেণ্য এই মানুষটির পারিবারিক, চাকরি এবং রাজনৈতিক জীবনী ঘেটে যতটুকু জানতে পেরেছি তাতে উনি রাষ্ট্রপতি হিসেবে দেশের মানুষের কাছে আরো একবার সুনাম অর্জন করবেন, আমার এমনটি প্রত্যাশা।

লেখক : সাংবাদিক ও কলামিস্ট

প্রায় এক যুগ শ্যামনগর উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তার পদ শূণ্য

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৬, ৯:৪৫ অপরাহ্ণ
প্রায় এক যুগ শ্যামনগর উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তার পদ শূণ্য

সুন্দরবনাঞ্চল (শ্যামনগর) প্রতিনিধি: প্রায় এক যুগ সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তার পদটি শূণ্য রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এ পদটি শূণ্য থাকায় অফিসের কার্যক্রমের কিছুটা হলেও ব্যাঘাত ঘটছে। এছাড়া এই অফিসের অন্যান্য পদও শূণ্য থাকায় কম জনবল দিয়ে উপজেলা বাসীর সেবা দিতে হিমসিম খেতে হচ্ছে।

ভারপ্রাপ্ত উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা সুত্রে প্রকাশ, ২০১৬ সালের ২৭ আগষ্ট উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তার বদলি জনিত কারণে পদটি শূণ্য হয়। এ সময় উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা হিসাবে কর্মরত ছিলেন ডাঃ সঞ্জয় বিশ্বাস। এর পর থেকে অতিরিক্ত দায়িত্ব ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসাবে বিভিন্ন সময়ে জেলা, উপজেলা ও অন্যান্য উপজেলার কর্মকর্তাবৃন্দ দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করছেন শ্যামনগর উপজেলা ভেটেরিনারী ডাঃ সুব্রত কুমার বিশ্বাস।

 

২০২২ সালের ডিসেম্বর মাসে তিনি শ্যামনগর উপজেলা প্রাণি সম্পদ অফিসে ভেটেরিনারী চিকিৎসক হিসাবে যোগদান করেন। ২০২৫ সালের মে মাস থেকে ভারপ্রাপ্ত উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করছেন। একই ব্যক্তি দুটি পদে দায়িত্ব পালন করতে যেয়ে হিমসিম খেতে হচ্ছে বলে অনেকে মত প্রকাশ করেন।

এদিকে উপজেলা প্রাণি সম্পদ অফিসে উপসহকারী প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা (প্রাণিস্বাস্থ্য) ও উপসহকারী প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তার (সম্প্রসারণ-২ জন) পদ গুলি ২০২৪ সাল থেকে বদলি জনিত কারণে, অফিস সহকারীর পদটি ২০২০ সাল থেকে অবসর জনিত কারণে, ড্রেসারের পদটি শূণ্য ও অফিস সহায়কের পদটি ২০২১ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে শূণ্য রয়েছে। সব মিলিয়ে উপজেলা প্রাণি সম্পদ অফিসে ৭টি পদ শূণ্য থাকায় অফিসের কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
জানা যায় এই অফিসে মঞ্জুরীকৃত পদের সংখ্যা ১০টি। এর মধ্যে শূণ্য পদের সংখ্যা ৭টি এবং কর্মরত পদের সংখ্যা ৩টি।

এলাকার অভিজ্ঞমহলের মতে বাংলাদেশের বৃহত্তম উপজেলা শ্যামনগর। এই উপজেলার বারটি ইউপিতে প্রায়ই পরিবারে গরু, ছাগল, ভেড়া, মহিষ, হাঁস, মুরগী সহ অন্যান্য প্রাণি পালন করে থাকেন। এসকল প্রাণির স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে উপজেলা প্রাণি সম্পদ অফিসের শূণ্য পদ পূরণ করা অতীব প্রয়োজন। এবং এ ব্যাপারে ভুক্তভোগী মহল যথাযথ কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেন।