শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২৬, ২৯ শ্রাবণ ১৪৩৩
শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২৬, ২৯ শ্রাবণ ১৪৩৩

হারিয়ে যাচ্ছে আশাশুনির ঐতিহ্যবাহী কুয়া-ইন্দারা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৬, ৩:১১ অপরাহ্ণ
হারিয়ে যাচ্ছে আশাশুনির ঐতিহ্যবাহী কুয়া-ইন্দারা

সচ্চিদানন্দ দে সদয়

একসময় আশাশুনির গ্রামাঞ্চলে সুপেয় পানির অন্যতম প্রধান উৎস ছিল কুয়া বা ইন্দারা। বাড়ির আঙিনায়, পুকুরপাড়ে কিংবা পুরোনো বসতভিটার পাশে ইট দিয়ে বাঁধানো গভীর কুয়া ছিল গ্রামীণ জীবনের পরিচিত দৃশ্য। বিকেল কিংবা সন্ধ্যায় কলসি নিয়ে নারীদের কুয়া থেকে পানি সংগ্রহের দৃশ্য ছিল নিত্যদিনের। সময়ের পরিবর্তনে সেই দৃশ্য এখন প্রায় হারিয়ে গেছে। আশাশুনির বিভিন্ন পুরোনো বাড়িতে এখনো কোথাও কোথাও দেখা যায় মজে যাওয়া কুয়া বা ইন্দারার অস্তিত্ব।

 

কোনোটি আগাছায় ঢেকে গেছে, কোনোটি মাটি দিয়ে ভরাট হয়ে গেছে। আবার কোনো কোনো বাড়িতে কুয়ার জায়গায় স্থাপন করা হয়েছে নলকূপ। অনেক পরিবার এখন বৈদ্যুতিক মোটরের সাহায্যে ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলন করছে। স্থানীয় প্রবীণদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আশির দশক পর্যন্ত অনেক এলাকায় কুয়া বা ইন্দারার পানি পান ও রান্নার কাজে ব্যবহার করা হতো। খাল-বিল, নদী-নালা ও পুকুরের পানি ব্যবহার করা হলেও পান করার জন্য তুলনামূলক নিরাপদ উৎস হিসেবে কুয়ার পানির ওপর নির্ভরতা ছিল বেশি।

 

স্থানীয়ভাবে কুয়াকে ‘ইন্দারা’ বলা হতো। প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, সংস্কৃত ‘ইন্দ্রাগার’ শব্দ থেকে ইন্দারা শব্দের উৎপত্তি। প্রাচীনকালে মাটির গভীরে খনন করে কূপ তৈরি করা হতো। অনেক কূপের নিচ থেকে ভূগর্ভস্থ পানি উঠে আসত। কুয়ার দেয়াল ইট কিংবা পরবর্তীকালে সিমেন্টের রিং দিয়ে বাঁধানো হতো। বাঁধানো কূপকে অনেক এলাকায় ইন্দারা এবং বাঁধানো না থাকলে পাতকুয়া বলা হতো। আশাশুনির এক প্রবীণ বাসিন্দা বলেন, “ছোটবেলায় বাড়ির কুয়া থেকেই পানি উঠত। বিকেলে কলসি নিয়ে কুয়ায় যেতে হতো।

 

কুয়াপাড়ে কয়েক বাড়ির নারীদের দেখা হতো, গল্প হতো। এখন টিউবওয়েল ও মোটরের কারণে সেই দৃশ্য আর নেই।” আরেক প্রবীণ নারী বলেন, “কুয়াটা বাড়ির খুব প্রয়োজনীয় জিনিস ছিল। কুয়ার পানি দিয়ে রান্না থেকে শুরু করে পান করার কাজও চলত। এখন পুরোনো কুয়াগুলো অনেক জায়গায় মাটি দিয়ে ভরাট করে দেওয়া হয়েছে।” স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, পুরোনো জমিদার ও বিত্তবানদের বাড়িতেও কুয়ার ব্যবহার ছিল।

 

এসব কুয়ার পানি তোলার জন্য কোথাও পাইপ ও বিশেষ ব্যবস্থার ব্যবহার করা হতো। ফলে পুরোনো বাড়ি বা জমিদারবাড়ির আশপাশে এখনো অনেক কুয়ার চিহ্ন পাওয়া যায়। তবে আশাশুনির মতো উপকূলীয় এলাকায় সুপেয় পানির সংকটের কারণে পুরোনো জলাধারগুলোর গুরুত্ব নতুন করে আলোচনায় এসেছে। লবণাক্ততা, জলবায়ু পরিবর্তন ও শুষ্ক মৌসুমে নিরাপদ পানির সংকট বাড়ায় স্থানীয়ভাবে পানি সংরক্ষণের বিকল্প উৎস নিয়ে ভাবার প্রয়োজন রয়েছে। আশাশুনির একজন শিক্ষক বলেন, “পুরোনো কুয়াগুলো সব ব্যবহার করার মতো নয়। তবে যেগুলো এখনো রয়েছে, সেগুলো পরীক্ষা করে নিরাপদ হলে সংরক্ষণ করা যেতে পারে।

 

অন্তত ঐতিহ্য হিসেবে এগুলোর অস্তিত্ব ধরে রাখা দরকার।” স্থানীয় পরিবেশকর্মীরা মনে করেন, পুরোনো কুয়া বা ইন্দারাগুলো চিহ্নিত করে তালিকা করা যেতে পারে। যেসব কূপ ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ, সেগুলো সংরক্ষণ করা প্রয়োজন। আর কোনো কূপ পুনর্ব্যবহারের সম্ভাবনা থাকলে পানি পরীক্ষা করে আধুনিক নিরাপত্তা ও বিশুদ্ধকরণ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে।

 

প্রবীণদের স্মৃতিতে এখনো ভেসে ওঠে কুয়াপাড়ের সেই দিনগুলোÑকলসির শব্দ, পানি তোলার ব্যস্ততা আর প্রতিবেশীদের গল্প। আধুনিকতার সঙ্গে সঙ্গে মানুষের জীবন সহজ হয়েছে, কিন্তু হারিয়ে গেছে গ্রামীণ জীবনের সেই পরিচিত দৃশ্য। আশাশুনির পুরোনো কুয়া-ইন্দারা এখন শুধু পানির উৎস নয়; এগুলো গ্রামীণ জনজীবন ও হারিয়ে যাওয়া জলসংস্কৃতির স্মারক। বিলীন হওয়ার আগে এসব ঐতিহ্য সংরক্ষণের দাবি স্থানীয়দের।

সচ্চিদানন্দ দে সদয়, আশাশুনি, সাতক্ষীরা

 

 

Ads small one

ফিংড়ি ও আশাশুনিতে পুলিশের অভিযানে মাদকদ্রব্যসহ গ্রেপ্তার-তিন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৬, ১১:০৮ অপরাহ্ণ
ফিংড়ি ও আশাশুনিতে পুলিশের অভিযানে মাদকদ্রব্যসহ গ্রেপ্তার-তিন

আশাশুনি/নিজস্ব প্রতিনিধি: আশাশুনি থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে মাদক দ্রব্যসহ ২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারকৃতদের শুক্রবার সকালে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার প্রতাপনগর ইউনিয়নের হিজলিয়া খেয়াঘাটের বাঁধের উপর থেকে পুলিশ ২৫ গ্রাম গাঁজাসহ মাদক ব্যবসায়ী ফরিদ ঢালীকে আটক করেন। ফরিদ ঢালী প্রতাপনগর কর্মকার পাড়ার কেরামত ঢালীর ছেলে। এব্যাপারে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ৩৬(১) সারণির ১৯(ক) ধারায় মামলা (১৮/২৬) রুজু করা হয়েছে। পৃথক অভিযানে আশাশুনি সদরের আদালতপুর গ্রামের রেজাউল গাজীর ছেলে আরিফ বিল্লাহকে ৪ পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার করা হয়। এব্যাপারে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা (১৯/১৭০) রুজু করা হয়েছে।
এদিকে, ‎‎সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ফিংড়ী গ্রামে রায়হান হোসেন (২২) নামক এক মাদকাসক্ত যুবককে আটক হয়েছে। ‎জানা গেছে, ফিংড়ীর আইয়ুব আলীর পুত্র মোঃ রায়হান হোসেনকে ২পিস ইয়াবা ও ২পুরিয়া গাঁজাসহ ফিংড়ীর ঠাকুর পাড়া থেকে আটক করা হয়েছে।

 

পাটকেলঘাটায় থেকে ৫২০ লিটার তেল চুরি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৬, ১১:০৫ অপরাহ্ণ
পাটকেলঘাটায় থেকে ৫২০ লিটার তেল চুরি

পাটকেলঘাটা প্রতিনিধি: পাটকেলঘাটায় মজুমদার পেট্রোল পাম্পে রাখা দুটি ট্রাক থেকে বৃহস্পতিবার রাতে ৫২০ লিটার ডিজিল চুরি হয়েছে। জানা গেছে, পাটকেলঘাটার কালিবাড়ি মাহবুবুর রহমানের ২টি ট্রাক পাটকেলঘাটা মজুমদারের তেল পাম্পে রাতে রাখা ছিল।
যার নাম্বার যশোর টথ-১১৩৭৭৭। দ্বিতীয়টি যশোর ট ১১৩৭৬ এই নাম্বার চার দুটো প্রতিদিন বিভিন্ন রোডে চলাচল করে থাকে। ট্র্যাক ড্রাইভার শুক্রবার সন্ধ্যায় পাটকেলঘাটা প্রেসক্লাবে এসে ঘটনাটি বর্ণনা করেন। এ ঘটনায় যানবাহন চলাচলকারী মালিক ও ড্রাইভাররা চুরি আতঙ্কে রয়েছে।

ধুলিহরে পৃথক দুইটি মুদি দোকানে চুরি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৬, ১১:০৪ অপরাহ্ণ
ধুলিহরে পৃথক দুইটি মুদি দোকানে চুরি

‎নিজস্ব প্রতিনিধি: ‎সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ধুলিহর জাহানাবাজে ১৩ আগষ্ট বৃহস্পতিবার রাতে পৃথক দুইটি মুদি দোকানে দুঃসাহসিক চুরির ঘটনা ঘটেছে। দুর্বৃত্তরা দোকান দুটির ক্যাশ বাক্স ভেঙে নগদ টাকাসহ প্রায় ৮০ থেকে ৮৫ হাজার টাকার মালামাল চুরি করে নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
জানা গেছে, ধুলিহর এলাকার ব্যবসায়ী আব্দুল্লাহ সরদারের মুদি দোকানের ক্যাশ বাক্সে থাকা নগদ আনুমানিক ২,০০০ টাকাসহ বিক্রয়যোগ্য ডিটারজেন্ট পাউডার, লাচ্ছার প্যাকেট, ভোজ্য তেল, ওয়াইফাই রাউটার, কোমল পানীয় ও বিভিন্ন ব্র্যান্ডের সিগারেটসহ আনুমানিক ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকার মালামাল চুরি করে নিয়ে যায়।
‎এছাড়া একই এলাকার মৃত বাবর আলী সরদারের ছেলে শাহাদাৎ হোসেনের মুদি দোকানেও একই রাতে চুরির ঘটনা ঘটে। দুর্বৃত্তরা তার দোকান থেকে নগদ আনুমানিক ৩,৫০০ টাকাসহ একটি সোলার ব্যাটারিসহ আনুমানিক ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকার মালামাল নিয়ে কেটে পড়ে।
‎একই রাতে পরপর দুটি দোকানে চুরির ঘটনায় স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মাঝে চরম আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।