শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২৬, ২৯ শ্রাবণ ১৪৩৩
শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২৬, ২৯ শ্রাবণ ১৪৩৩

রাজপথ থেকে রাষ্ট্রপতির আসনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৬, ৯:৫৩ অপরাহ্ণ
রাজপথ থেকে রাষ্ট্রপতির আসনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

এম.এম হায়দার আলী

বাংলাদেশের রাজনীতিতে কিছু কিছু মুহূর্ত আসে, যা কেবল একটি রাজনৈতিক দলের জন্য নয়, গোটা রাষ্ট্রের জন্যই তাৎপর্য বহন করে। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে ঘোষণার সিদ্ধান্ত তেমনই একটি আলোচিত অধ্যায়। দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা, নানা চড়াই-উতরাই এবং দুঃসময়ে দলের পাশে থাকার অভিজ্ঞতা পেরিয়ে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক দায়িত্বে তার আসীন হওয়া নিঃসন্দেহে তার রাজনৈতিক জীবনের এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা।

 

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর শুধু বিএনপির মহাসচিব নন, তিনি বাংলাদেশের সমকালীন রাজনীতির একজন পরিচিত ও অভিজ্ঞ মুখ। ছাত্র জীবন থেকে রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ততা, শিক্ষকতা ও সরকারি চাকরির অভিজ্ঞতা এবং পরবর্তীতে সক্রিয় রাজনীতিতে সম্পৃক্ততা,সব মিলিয়ে তার রাজনৈতিক জীবন দীর্ঘ ও ঘটনা বহুল।

ঠাকুরগাঁওয়ের মাটিতে বেড়ে ওঠা এই রাজনীতিক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতি বিষয়ে অধ্যয়ন করতেন। কর্ম জীবনের শুরুতে শিক্ষকতা ও সরকারি চাকরিতে থাকলেও রাজনীতির প্রতি তার গভীর আকর্ষণ শেষ পর্যন্ত দেশ প্রেমিক এই মানুষটিকে সক্রিয় রাজনীতির অঙ্গনে নিয়ে আসে। সময়ের সঙ্গে বিএনপির সাংগঠনিক কাঠামোর বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করে তিনি দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে উঠে আসেন।

 

বিএনপির মহাসচিব হিসেবে তার দীর্ঘ দায়িত্ব পালন রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। দলের নানা সংকট, আন্দোলন-সংগ্রাম, মামলা-মোকদ্দমা ও রাজনৈতিক প্রতিকূলতার সময়ে তাকে সামনে থেকে দলের অবস্থান তুলে ধরতে দেখা গেছে। কখনো সংবাদ সম্মেলনে, কখনো রাজপথে, আবার কখনো দলীয় নেতাকর্মীদের পাশে, বিভিন্ন ভূমিকায় তিনি ছিলেন দৃশ্যমান। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের রাজনৈতিক বক্তব্যে গণতন্ত্র, ভোটাধিকার, আইনের শাসন ও জনগণের অধিকার বরাবরই গুরুত্বপূর্ণ স্থান পেয়েছে।

 

রাজনৈতিক মত-পার্থক্য থাকতেই পারে, কিন্তু একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে ভিন্নমত, আলোচনা ও রাজনৈতিক সহাবস্থানের প্রয়োজনীয়তা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে তার সামনে তাই সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হবে দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে সংবিধান ও রাষ্ট্রের প্রতি দায়বদ্ধতা প্রদর্শন করা। এখানেই রাষ্ট্রপতির পদটি রাজনৈতিক দলের পদ থেকে সম্পূর্ণ আলাদা।

 

মহাসচিব হিসেবে তিনি একটি দলের নেতৃত্বের অংশ ছিলেন, রাষ্ট্রপতি হিসেবে তাকে হতে হবে সব দল, মত ও শ্রেণি-পেশার মানুষের রাষ্ট্রপতি। রাজনৈতিক জীবনের অভিজ্ঞতা যদি তিনি নিরপেক্ষতা, প্রজ্ঞা ও সাংবিধানিক দায়িত্ব বোধের সঙ্গে প্রয়োগ করতে পারেন, তাহলে সেটিই হবে তার সবচেয়ে বড় সাফল্য। দেশের স্বার্থে একজন অভিজ্ঞ ও পরীক্ষিত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্তকে তাই স্বাগত জানানো যায়।

 

বিএনপি সরকারের এই সিদ্ধান্তের জন্য তাদের ধন্যবাদ জানাতেই হয়,যদি এই সিদ্ধান্ত সত্যিই জাতীয় স্বার্থ, রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতা এবং জনগণের প্রত্যাশাকে সামনে রেখে নেওয়া হয়ে থাকে। একই সাথে,সেই পদে বসে অতীতের রাজনৈতিক পরিচয়কে সম্মানের সঙ্গে ধারণ করলেও দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সংবিধানই হতে হবে প্রধান পথ নির্দেশক। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সামনে তাই এখন এক নতুন পরীক্ষা। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, প্রজ্ঞা ও অর্জনকে রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে কতটা সফল ভাবে কাজে লাগাতে পারেন,সেটিই হবে তার নতুন পরিচয়ের মূল মাপ কাঠি।

 

রাজপথের সংগ্রামী নেতা থেকে রাষ্ট্রপতির আসন, এই যাত্রা নিঃসন্দেহে দীর্ঘ পথের প্রাপ্তি। এখন প্রয়োজন অতীতের অভিজ্ঞতাকে ভবিষ্যতের দায়িত্বশীলতায় রূপ দেওয়া। কারণ রাষ্ট্রপতির আসনে বসে তিনি আর শুধু কোনো দলের নেতা নন, তিনি গোটা বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি। কারন, দেশ তার কাছে প্রত্যাশা করবে, দল নয়, রাষ্ট্র হবে সবার আগে,রাজনীতি নয়, সংবিধান হবে পথের নির্দেশনা, আর ব্যক্তিগত পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে জনগণের স্বার্থই হবে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। সর্বোপরি, আমি দেশ বরেণ্য এই মানুষটির পারিবারিক, চাকরি এবং রাজনৈতিক জীবনী ঘেটে যতটুকু জানতে পেরেছি তাতে উনি রাষ্ট্রপতি হিসেবে দেশের মানুষের কাছে আরো একবার সুনাম অর্জন করবেন, আমার এমনটি প্রত্যাশা।

লেখক : সাংবাদিক ও কলামিস্ট

Ads small one

ফিংড়ি ও আশাশুনিতে পুলিশের অভিযানে মাদকদ্রব্যসহ গ্রেপ্তার-তিন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৬, ১১:০৮ অপরাহ্ণ
ফিংড়ি ও আশাশুনিতে পুলিশের অভিযানে মাদকদ্রব্যসহ গ্রেপ্তার-তিন

আশাশুনি/নিজস্ব প্রতিনিধি: আশাশুনি থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে মাদক দ্রব্যসহ ২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারকৃতদের শুক্রবার সকালে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার প্রতাপনগর ইউনিয়নের হিজলিয়া খেয়াঘাটের বাঁধের উপর থেকে পুলিশ ২৫ গ্রাম গাঁজাসহ মাদক ব্যবসায়ী ফরিদ ঢালীকে আটক করেন। ফরিদ ঢালী প্রতাপনগর কর্মকার পাড়ার কেরামত ঢালীর ছেলে। এব্যাপারে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ৩৬(১) সারণির ১৯(ক) ধারায় মামলা (১৮/২৬) রুজু করা হয়েছে। পৃথক অভিযানে আশাশুনি সদরের আদালতপুর গ্রামের রেজাউল গাজীর ছেলে আরিফ বিল্লাহকে ৪ পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার করা হয়। এব্যাপারে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা (১৯/১৭০) রুজু করা হয়েছে।
এদিকে, ‎‎সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ফিংড়ী গ্রামে রায়হান হোসেন (২২) নামক এক মাদকাসক্ত যুবককে আটক হয়েছে। ‎জানা গেছে, ফিংড়ীর আইয়ুব আলীর পুত্র মোঃ রায়হান হোসেনকে ২পিস ইয়াবা ও ২পুরিয়া গাঁজাসহ ফিংড়ীর ঠাকুর পাড়া থেকে আটক করা হয়েছে।

 

পাটকেলঘাটায় থেকে ৫২০ লিটার তেল চুরি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৬, ১১:০৫ অপরাহ্ণ
পাটকেলঘাটায় থেকে ৫২০ লিটার তেল চুরি

পাটকেলঘাটা প্রতিনিধি: পাটকেলঘাটায় মজুমদার পেট্রোল পাম্পে রাখা দুটি ট্রাক থেকে বৃহস্পতিবার রাতে ৫২০ লিটার ডিজিল চুরি হয়েছে। জানা গেছে, পাটকেলঘাটার কালিবাড়ি মাহবুবুর রহমানের ২টি ট্রাক পাটকেলঘাটা মজুমদারের তেল পাম্পে রাতে রাখা ছিল।
যার নাম্বার যশোর টথ-১১৩৭৭৭। দ্বিতীয়টি যশোর ট ১১৩৭৬ এই নাম্বার চার দুটো প্রতিদিন বিভিন্ন রোডে চলাচল করে থাকে। ট্র্যাক ড্রাইভার শুক্রবার সন্ধ্যায় পাটকেলঘাটা প্রেসক্লাবে এসে ঘটনাটি বর্ণনা করেন। এ ঘটনায় যানবাহন চলাচলকারী মালিক ও ড্রাইভাররা চুরি আতঙ্কে রয়েছে।

ধুলিহরে পৃথক দুইটি মুদি দোকানে চুরি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৬, ১১:০৪ অপরাহ্ণ
ধুলিহরে পৃথক দুইটি মুদি দোকানে চুরি

‎নিজস্ব প্রতিনিধি: ‎সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ধুলিহর জাহানাবাজে ১৩ আগষ্ট বৃহস্পতিবার রাতে পৃথক দুইটি মুদি দোকানে দুঃসাহসিক চুরির ঘটনা ঘটেছে। দুর্বৃত্তরা দোকান দুটির ক্যাশ বাক্স ভেঙে নগদ টাকাসহ প্রায় ৮০ থেকে ৮৫ হাজার টাকার মালামাল চুরি করে নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
জানা গেছে, ধুলিহর এলাকার ব্যবসায়ী আব্দুল্লাহ সরদারের মুদি দোকানের ক্যাশ বাক্সে থাকা নগদ আনুমানিক ২,০০০ টাকাসহ বিক্রয়যোগ্য ডিটারজেন্ট পাউডার, লাচ্ছার প্যাকেট, ভোজ্য তেল, ওয়াইফাই রাউটার, কোমল পানীয় ও বিভিন্ন ব্র্যান্ডের সিগারেটসহ আনুমানিক ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকার মালামাল চুরি করে নিয়ে যায়।
‎এছাড়া একই এলাকার মৃত বাবর আলী সরদারের ছেলে শাহাদাৎ হোসেনের মুদি দোকানেও একই রাতে চুরির ঘটনা ঘটে। দুর্বৃত্তরা তার দোকান থেকে নগদ আনুমানিক ৩,৫০০ টাকাসহ একটি সোলার ব্যাটারিসহ আনুমানিক ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকার মালামাল নিয়ে কেটে পড়ে।
‎একই রাতে পরপর দুটি দোকানে চুরির ঘটনায় স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মাঝে চরম আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।