শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২৬, ২৯ শ্রাবণ ১৪৩৩
শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২৬, ২৯ শ্রাবণ ১৪৩৩

আন্তর্জাতিক গৃহহীন প্রাণি দিবস: সহমর্মিতা, দায়িত্ববোধ ও সহাবস্থানের আহ্বান

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৬, ৯:৫৯ অপরাহ্ণ
আন্তর্জাতিক গৃহহীন প্রাণি দিবস: সহমর্মিতা, দায়িত্ববোধ ও সহাবস্থানের আহ্বান

সাকিবুর রহমান বাবলা

প্রতি বছর আগস্ট মাসের তৃতীয় শনিবার পালিত হয় আন্তর্জাতিক গৃহহীন প্রাণি দিবস। ১৯৯২ সালে ইন্টারন্যাশনাল সোসাইটি ফর অ্যানিমাল রাইটস এই দিবসের সূচনা করে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দিনটি পালন করা হয় রাস্তায় ও আশ্রয়হীন প্রাণিদের দুর্দশা সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, প্রাণিকল্যাণ নিশ্চিতকরণ এবং দায়িত্বশীল আচরণ গড়ে তোলার লক্ষ্যে।

গৃহহীন প্রাণি বলতে কোনো নির্দিষ্ট প্রজাতিকে বোঝায় না। বরং যেসব প্রাণি মানুষের মালিকানা, পরিচর্যা বা স্থায়ী আশ্রয় থেকে বিভিন্ন কারণে সেই আশ্রয় বিচ্যুতি হয়ে জীবনযাপন করে, তাদের গৃহহীন প্রাণি বলা হয়। এর মধ্যে কুকুর ও বিড়াল সবচেয়ে বেশি দেখা গেলেও খরগোশ, ঘোড়া, পাখি, গিনিপিগসহ বিভিন্ন পোষা প্রাণিও পরিত্যক্ত হয়ে গৃহহীন অবস্থায় পড়তে পারে। তবে বিশ্বব্যাপী গৃহহীন প্রাণির সংখ্যার সবচেয়ে বড় অংশই কুকুর ও বিড়াল।

বর্তমান বিশ্বে গৃহহীন প্রাণির সংখ্যা উদ্বেগজনক। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, কোটি কোটি কুকুর ও বিড়াল রাস্তায় বা অস্থায়ী আশ্রয়ে জীবনযাপন করছে। অতিরিক্ত বংশবৃদ্ধি, মালিকের অবহেলা, প্রাণি পরিত্যাগ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং পর্যাপ্ত আশ্রয়কেন্দ্রের অভাব এই সমস্যার প্রধান কারণ। ফলে প্রাণিগুলো খাদ্য, পানি, চিকিৎসা ও নিরাপত্তার সংকটে ভোগে এবং অনেক সময় রোগ, দুর্ঘটনা কিংবা নির্যাতনের শিকার হয়।

এই দিবসের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো প্রাণির অতিরিক্ত বৃদ্ধিসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে বন্ধ্যাকরণ কার্যক্রমের গুরুত্ব তুলে ধরা। বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিকল্পিত বন্ধ্যাকরণ গৃহহীন প্রাণির সংখ্যা কমাতে সবচেয়ে কার্যকর ও মানবিক উপায়। একই সঙ্গে “কিনবেন না, দত্তক নিন” বার্তার মাধ্যমে মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্র বা রাস্তা থেকে প্রাণি দত্তক নিতে উৎসাহিত করা হয়। এতে একদিকে যেমন একটি প্রাণি নতুন জীবন পায়, অন্যদিকে আশ্রয়কেন্দ্রগুলোর ওপর চাপও কমে।

গৃহহীন প্রাণিদের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। তারা মানুষের সহমর্মিতা, দায়িত্ববোধ ও সামাজিক সচেতনতার প্রতিফলন ঘটায়। অনেক এলাকায় পথকুকুর অপরিচিত ব্যক্তির উপস্থিতি সম্পর্কে সতর্ক সংকেত দেয় এবং পরিবেশে ফেলে দেওয়া খাদ্যবর্জ্য অপসারণেও ভূমিকা রাখে। তবে যথাযথ টিকাদান ও পরিচর্যার অভাবে কিছু প্রাণি জলাতঙ্কসহ বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে। তাই প্রাণিদের প্রতি নিষ্ঠুরতা নয়, বরং বিজ্ঞানসম্মত ও মানবিক ব্যবস্থাপনাই হতে পারে টেকসই সমাধান।

বাস্তুসংস্থান ও পরিবেশের ক্ষেত্রেও গৃহহীন প্রাণিদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। কিছু প্রাণি ইঁদুর ও অন্যান্য ক্ষুদ্র প্রাণির সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। আবার মৃত প্রাণি বা খাদ্যবর্জ্য খেয়ে পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখতেও অবদান রাখে। কিন্তু তাদের সংখ্যা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেলে জীববৈচিত্র্য ও খাদ্যশৃঙ্খলে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে অবাধে বিচরণকারী বিড়াল অনেক অঞ্চলে স্থানীয় পাখি ও ছোট বন্যপ্রাণির জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচিত হয়। তাই প্রাণিকল্যাণ এবং পরিবেশগত ভারসাম্য-দুই দিক বিবেচনায় রেখেই কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণ করা প্রয়োজন।

বাংলাদেশে প্রাণিকল্যাণ আইন, ২০১৯ অনুযায়ী গৃহহীন বা পথপ্রাণী হত্যা, নির্যাতন কিংবা অযৌক্তিকভাবে আটকে রাখার অপরাধে সর্বোচ্চ ৬ মাসের কারাদন্ড, ১০ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দন্ড হতে পারে। এছাড়া দন্ডবিধি, ১৮৬০-এর ৪২৯ ধারায় পশু হত্যা বা ক্ষতির জন্য আরও কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে। যদিও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর এ আইনের বাস্তবায়নের দায়িত্বে রয়েছে, তবুও দেশে পথপ্রাণীদের জন্য সরকারি আশ্রয় ও পুনর্বাসন ব্যবস্থা এখনও সীমিত; ফলে এ ক্ষেত্রে বেসরকারি সংস্থা ও স্বেচ্ছাসেবীরাই প্রধান ভূমিকা পালন করছে, যেমন অভয়ারণ্য, পেটস কেয়ার।

এই দিবস আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে, গৃহহীন প্রাণিরা কোনো বোঝা নয়; তারা আমাদের পরিবেশ ও সমাজেরই অংশ। তাদের প্রতি দায়িত্বশীল আচরণ, টিকাদান, বন্ধ্যাকরণ, আশ্রয় ও চিকিৎসা নিশ্চিত করা এবং প্রাণি নির্যাতনের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা আমাদের সবার কর্তব্য। সহমর্মিতা, সচেতনতা ও সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমেই মানুষ ও প্রাণীর নিরাপদ সহাবস্থান নিশ্চিত করা সম্ভব। তাই মানুষের মধ্যে প্রাণিদের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব গড়ে তুলে একটি সহানুভূতিশীল সমাজ নির্মাণে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানাই।

Ads small one

ফিংড়ি ও আশাশুনিতে পুলিশের অভিযানে মাদকদ্রব্যসহ গ্রেপ্তার-তিন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৬, ১১:০৮ অপরাহ্ণ
ফিংড়ি ও আশাশুনিতে পুলিশের অভিযানে মাদকদ্রব্যসহ গ্রেপ্তার-তিন

আশাশুনি/নিজস্ব প্রতিনিধি: আশাশুনি থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে মাদক দ্রব্যসহ ২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারকৃতদের শুক্রবার সকালে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার প্রতাপনগর ইউনিয়নের হিজলিয়া খেয়াঘাটের বাঁধের উপর থেকে পুলিশ ২৫ গ্রাম গাঁজাসহ মাদক ব্যবসায়ী ফরিদ ঢালীকে আটক করেন। ফরিদ ঢালী প্রতাপনগর কর্মকার পাড়ার কেরামত ঢালীর ছেলে। এব্যাপারে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ৩৬(১) সারণির ১৯(ক) ধারায় মামলা (১৮/২৬) রুজু করা হয়েছে। পৃথক অভিযানে আশাশুনি সদরের আদালতপুর গ্রামের রেজাউল গাজীর ছেলে আরিফ বিল্লাহকে ৪ পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার করা হয়। এব্যাপারে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা (১৯/১৭০) রুজু করা হয়েছে।
এদিকে, ‎‎সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ফিংড়ী গ্রামে রায়হান হোসেন (২২) নামক এক মাদকাসক্ত যুবককে আটক হয়েছে। ‎জানা গেছে, ফিংড়ীর আইয়ুব আলীর পুত্র মোঃ রায়হান হোসেনকে ২পিস ইয়াবা ও ২পুরিয়া গাঁজাসহ ফিংড়ীর ঠাকুর পাড়া থেকে আটক করা হয়েছে।

 

পাটকেলঘাটায় থেকে ৫২০ লিটার তেল চুরি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৬, ১১:০৫ অপরাহ্ণ
পাটকেলঘাটায় থেকে ৫২০ লিটার তেল চুরি

পাটকেলঘাটা প্রতিনিধি: পাটকেলঘাটায় মজুমদার পেট্রোল পাম্পে রাখা দুটি ট্রাক থেকে বৃহস্পতিবার রাতে ৫২০ লিটার ডিজিল চুরি হয়েছে। জানা গেছে, পাটকেলঘাটার কালিবাড়ি মাহবুবুর রহমানের ২টি ট্রাক পাটকেলঘাটা মজুমদারের তেল পাম্পে রাতে রাখা ছিল।
যার নাম্বার যশোর টথ-১১৩৭৭৭। দ্বিতীয়টি যশোর ট ১১৩৭৬ এই নাম্বার চার দুটো প্রতিদিন বিভিন্ন রোডে চলাচল করে থাকে। ট্র্যাক ড্রাইভার শুক্রবার সন্ধ্যায় পাটকেলঘাটা প্রেসক্লাবে এসে ঘটনাটি বর্ণনা করেন। এ ঘটনায় যানবাহন চলাচলকারী মালিক ও ড্রাইভাররা চুরি আতঙ্কে রয়েছে।

ধুলিহরে পৃথক দুইটি মুদি দোকানে চুরি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৬, ১১:০৪ অপরাহ্ণ
ধুলিহরে পৃথক দুইটি মুদি দোকানে চুরি

‎নিজস্ব প্রতিনিধি: ‎সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ধুলিহর জাহানাবাজে ১৩ আগষ্ট বৃহস্পতিবার রাতে পৃথক দুইটি মুদি দোকানে দুঃসাহসিক চুরির ঘটনা ঘটেছে। দুর্বৃত্তরা দোকান দুটির ক্যাশ বাক্স ভেঙে নগদ টাকাসহ প্রায় ৮০ থেকে ৮৫ হাজার টাকার মালামাল চুরি করে নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
জানা গেছে, ধুলিহর এলাকার ব্যবসায়ী আব্দুল্লাহ সরদারের মুদি দোকানের ক্যাশ বাক্সে থাকা নগদ আনুমানিক ২,০০০ টাকাসহ বিক্রয়যোগ্য ডিটারজেন্ট পাউডার, লাচ্ছার প্যাকেট, ভোজ্য তেল, ওয়াইফাই রাউটার, কোমল পানীয় ও বিভিন্ন ব্র্যান্ডের সিগারেটসহ আনুমানিক ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকার মালামাল চুরি করে নিয়ে যায়।
‎এছাড়া একই এলাকার মৃত বাবর আলী সরদারের ছেলে শাহাদাৎ হোসেনের মুদি দোকানেও একই রাতে চুরির ঘটনা ঘটে। দুর্বৃত্তরা তার দোকান থেকে নগদ আনুমানিক ৩,৫০০ টাকাসহ একটি সোলার ব্যাটারিসহ আনুমানিক ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকার মালামাল নিয়ে কেটে পড়ে।
‎একই রাতে পরপর দুটি দোকানে চুরির ঘটনায় স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মাঝে চরম আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।