শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২৬, ৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩
শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২৬, ৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩

মানুষের ভালোবাসাই সবচেয়ে বড় সম্পদ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৫ আগস্ট, ২০২৬, ১১:০৬ অপরাহ্ণ
মানুষের ভালোবাসাই সবচেয়ে বড় সম্পদ

সচ্চিদানন্দ দে সদয়

জীবনের শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে মানুষ যখন পেছন ফিরে তাকায়, তখন অনেক হিসাবই নতুন করে করতে হয়। যৌবনে যেসব বিষয়কে খুব গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়েছিল, বয়সের ভারে সেগুলোর অনেকটাই তুচ্ছ হয়ে যায়। অর্থ, সম্পদ, পদ-পদবি, প্রতিপত্তি কিংবা অন্যকে হারিয়ে দেওয়ার আনন্দÑসবকিছুর ওপরে তখন উঠে আসে একটি প্রশ্ন: কতটা ভালো মানুষ হয়ে বাঁচতে পেরেছি?

 

জীবনের সবচেয়ে বড় নির্মম সত্য হলো, এই উপলব্ধি আমাদের অনেকেরই আসে দেরিতে। যখন সময় থাকে, তখন আমরা সময়ের মূল্য বুঝি না। যখন সম্পর্কগুলো পাশে থাকে, তখন তার যতœ নিই না। যখন শরীর শক্তিশালী, তখন অসুস্থতা ও মৃত্যুর কথা ভাবি না। আর যখন বুঝতে শুরু করি কোনটি সত্যিকার অর্থে মূল্যবান, তখন অনেক কিছুই আর ফিরে পাওয়ার সুযোগ থাকে না।এক হাত জমির জন্য প্রতিবেশীর সঙ্গে বছরের পর বছর বিবাদ চলে।

 

সামান্য অর্থের জন্য ভাইয়ের সঙ্গে সম্পর্ক নষ্ট হয়। সম্পত্তির ভাগ নিয়ে পরিবারের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়। অথচ একদিন সেই জমি, সেই অর্থ, সেই সম্পত্তিÑসবই পড়ে থাকবে। মানুষটি চলে যাবে। তখন প্রশ্ন উঠবে না, কে কতটুকু জমি পেল; প্রশ্ন উঠবে, সম্পর্কগুলো কেন নষ্ট হলো।আমাদের সমাজে সম্পদ অর্জনের প্রতিযোগিতা যতটা প্রবল, সম্পর্ক রক্ষার চেষ্টা ততটা নয়।

 

আমরা সন্তানকে শেখাই কীভাবে ভালো চাকরি করতে হয়, কীভাবে বেশি অর্থ উপার্জন করতে হয়, কীভাবে প্রতিযোগিতায় এগিয়ে যেতে হয়। কিন্তু কতটা মানবিক হতে হয়, অন্যের কষ্ট কীভাবে বুঝতে হয়, ভুল করলে কীভাবে ক্ষমা চাইতে হয়Ñএসব শিক্ষা অনেক সময় গৌণ হয়ে যায়।অথচ মানুষের জীবনের শেষ সময়ে এসে এই মানবিক বিষয়গুলোই সবচেয়ে বেশি মনে পড়ে। একটি কঠিন কথা কখনো কখনো মানুষের মনে বছরের পর বছর ক্ষত তৈরি করে।

 

রাগের মাথায় বলা একটি বাক্য সম্পর্কের মধ্যে এমন দূরত্ব তৈরি করতে পারে, যা পরে আর সহজে মেরামত করা যায় না। অথচ আমরা কথা বলার আগে যতটা ভাবি নিজের স্বার্থ নিয়ে, ততটা ভাবি না অন্যের অনুভূতি নিয়ে।ক্ষমতার ক্ষেত্রেও একই বাস্তবতা। সামান্য ক্ষমতা হাতে এলেই কেউ কেউ দুর্বলকে ভয় দেখান, অধীনস্থকে অপমান করেন, নিজের প্রভাব জাহির করেন।

 

কিন্তু ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয়। পদ চলে যায়, প্রভাব কমে যায়, শরীর দুর্বল হয়। তখন সেই মানুষগুলোই আর পাশে থাকে না, যাদের একসময় ভয় দেখানো হয়েছিল।জীবনের শেষ সময়ে এসে বোঝা যায়Ñভয় সৃষ্টি করে মানুষের ওপর কর্তৃত্ব করা যায়, কিন্তু ভালোবাসা অর্জন করা যায় না। আমাদের সময়ের বড় একটি সমস্যা হলো, আমরা সাফল্যের সংজ্ঞাকে খুব সংকীর্ণ করে ফেলেছি। ভালো ফল, বড় চাকরি, বেশি আয়, বাড়ি-গাড়ি, সামাজিক অবস্থানÑএসবই যেন সাফল্যের প্রধান মানদ-।

 

ফলে ছোটবেলা থেকেই শুরু হয় তুলনা। কে ক্লাসে প্রথম হলো, কে ভালো বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ল, কে কত টাকা আয় করল, কে বিদেশ গেলÑএসব নিয়ে আমাদের ব্যস্ততা শেষ হয় না। কিন্তু জীবনের শেষ পর্যায়ে এসে হয়তো এসব প্রশ্নের গুরুত্ব অনেকটাই কমে যায়। ক্লাসের সবচেয়ে মেধাবী ছাত্র না হলেও জীবন ব্যর্থ হয় না। অনেক অর্থ উপার্জন করতে না পারলেও মানুষের মূল্য কমে যায় না। বরং একজন সাধারণ মানুষও অসাধারণ হয়ে উঠতে পারেন তাঁর আচরণ, সততা, দায়িত্ববোধ ও মানুষের প্রতি মমত্ববোধের কারণে।

 

একজন মানুষ কত বড় বাড়ি বানিয়েছেন, তার চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারেÑতিনি কত মানুষের জন্য দরজা খুলে দিয়েছিলেন। তাঁর ব্যাংক হিসাবে কত টাকা ছিল, তার চেয়ে বড় হয়ে উঠতে পারেÑকতজন বিপদের দিনে তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছিলেন।মানুষের আশীর্বাদÑশব্দটি হয়তো খুব সাধারণ। কিন্তু এর মধ্যে জীবনের গভীর একটি সত্য লুকিয়ে আছে। অর্থ দিয়ে অনেক কিছু কেনা যায়, কিন্তু আন্তরিক শুভকামনা কেনা যায় না। ক্ষমতা দিয়ে মানুষকে কিছু সময়ের জন্য বাধ্য করা যায়, কিন্তু হৃদয় থেকে শ্রদ্ধা আদায় করা যায় না।

 

একজন মানুষ চলে যাওয়ার পর কতজন তাঁর জন্য ভালো কথা বলেন, কতজন তাঁর অভাব অনুভব করেন, কতজন তাঁর কোনো ভালো কাজের কথা স্মরণ করেনÑসেটিই তাঁর জীবনের এক ধরনের সামাজিক উত্তরাধিকার।

এই উত্তরাধিকার গড়ে ওঠে এক দিনে নয়। প্রতিদিনের ছোট ছোট আচরণ দিয়ে। কাউকে বিপদে সাহায্য করা, একজন অসুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়ানো, প্রতিবেশীর সমস্যায় সহযোগিতা করা, কর্মচারীর সঙ্গে সম্মানজনক আচরণ করা, পরিবারের সদস্যদের সময় দেওয়াÑএসবের কোনো বাজারমূল্য নেই। কিন্তু মানুষের জীবনে এর মূল্য অপরিসীম।আজ মানুষের যোগাযোগের সুযোগ আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি। হাতে স্মার্টফোন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অসংখ্য পরিচিতি, মুহূর্তেই বার্তা পাঠানোর সুযোগ। তবু অনেক মানুষ আগের চেয়ে বেশি একা।

 

রাত জেগে কারও সঙ্গে চ্যাট করা, অদৃশ্য কোনো সম্পর্কের মধ্যে নিজের আবেগ ঢেলে দেওয়া কিংবা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় কাটানোÑএসব কখনো কখনো বাস্তব সম্পর্ক থেকে আমাদের দূরে সরিয়ে দেয়।অদ্ভুত ব্যাপার হলো, ভার্চ্যুয়াল জগতে শত শত ‘বন্ধু’ থাকলেও প্রয়োজনের মুহূর্তে পাশে থাকার মতো মানুষ হয়তো খুব কম। তাই যোগাযোগের সংখ্যা নয়, সম্পর্কের গভীরতাই গুরুত্বপূর্ণ। কতজনের সঙ্গে কথা বলি, তার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণÑকতজনের সঙ্গে সত্যিকারের সম্পর্ক আছে। জীবনের শুরুতে চাওয়া থাকে অনেক।

 

বড় হওয়ার স্বপ্ন, প্রতিষ্ঠিত হওয়ার আকাক্সক্ষা, অর্থসম্পদ অর্জনের বাসনাÑসবই স্বাভাবিক। কিন্তু জীবনের শেষ সময়ে এসে মানুষের চাওয়া আশ্চর্যভাবে ছোট হয়ে যায়। একটু শান্তি। একটু স্বস্তি। প্রিয় মানুষের মুখ। পাশে পরিচিত কারও হাত। আর কষ্ট ছাড়া বিদায়ের আকাক্সক্ষা।তখন আর কেউ হয়তো জিজ্ঞেস করে না, আপনি কত টাকা উপার্জন করেছিলেন। কত বড় পদে ছিলেন।

 

কত জমির মালিক ছিলেন। বরং মনে পড়েÑকে আপনাকে সত্যিকারভাবে ভালোবাসত, কাকে আপনি ভালোবেসেছিলেন, কার মনে আপনি কষ্ট দিয়েছিলেন।শেষ বয়সের উপলব্ধির জন্য শেষ বয়স পর্যন্ত অপেক্ষা করার প্রয়োজন নেই। বরং সুস্থ ও কর্মক্ষম অবস্থাতেই যদি মানুষ জীবনের অগ্রাধিকারগুলো ঠিক করতে পারে, তাহলে অনেক অনুতাপ এড়ানো সম্ভব। অপ্রয়োজনীয় ঝগড়া এড়িয়ে চলা, ভুল হলে ক্ষমা চাওয়া, অন্যের ভুল ক্ষমা করা, অহংকার কমানো, দুর্বল মানুষের প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়া এবং আপনজনকে সময় দেওয়াÑএসব খুব কঠিন কাজ নয়।

 

শুধু আমাদের অগ্রাধিকার বদলাতে হবে।আজ যে মানুষটি পাশে আছেন, তিনি চিরকাল থাকবেনÑএমন নিশ্চয়তা নেই। আজ যে সম্পর্কটি মেরামত করা সম্ভব, কাল হয়তো তার সুযোগ থাকবে না। তাই ভালোবাসা প্রকাশ করার জন্য আগামীকাল পর্যন্ত অপেক্ষা করার কোনো অর্থ নেই। শেষ পর্যন্ত মানুষের সঙ্গে মানুষের সম্পর্কই থেকে যায়। সম্পদ উত্তরাধিকারীরা ভাগ করে নেয়, পদ-পদবি অন্য কেউ পায়, বাড়িঘর অন্যের ঠিকানা হয়ে যায়। কিন্তু একজন মানুষের ভালো ব্যবহার, মমতা, সততা ও ভালোবাসার স্মৃতি সহজে মুছে যায় না।

 

তাই জীবনের শেষ হিসাবটা যদি আজই করা যায়, তাহলে হয়তো অনেক ভুল থেকে আমরা ফিরে আসতে পারি। কতটা সম্পদ রেখে গেলামÑএটি জীবনের একটি হিসাব। কিন্তু কতটা ভালোবাসা রেখে গেলামÑসেটিই হয়তো জীবনের সবচেয়ে বড় হিসাব। শেষ বেলায় যেন আফসোস না থাকেÑএই জীবন পেয়েও মানুষ হয়ে বাঁচার সুযোগটি আমরা নষ্ট করেছি। বরং বিদায়ের আগে যেন অন্তত মনে হয়, খুব বড় কিছু করতে না পারলেও মানুষের মনে কষ্টের চেয়ে ভালোবাসার স্মৃতিই একটু বেশি রেখে যেতে পেরেছি।

লেখক: সংবাদকর্মী

Ads small one

আজ পর্দা উঠবে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক কাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১৬ আগস্ট, ২০২৬, ১:০৪ পূর্বাহ্ণ
আজ পর্দা উঠবে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক কাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট

নিজস্ব প্রতিনিধি: বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে সাতক্ষীরায় আজ ১৬ আগস্ট থেকে শুরু হতে যাচ্ছে ‘জেলা প্রশাসক কাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬’। জেলা তথ্য কর্মকর্তা মো. জাহারুল ইসলামের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে টুর্নামেন্টের এই সময়সূচি ও ফিক্সচার প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, টুর্নামেন্টের প্রতিটি ম্যাচ প্রতিদিন বেলা সাড়ে তিনটায় শুরু হবে।
খেলার সূচি অনুযায়ীÑ ১৬ আগস্ট (প্রথম ম্যাচ): শ্যামনগর উপজেলা বনাম কলারোয়া উপজেলা। ১৭ আগস্ট (দ্বিতীয় ম্যাচ): সাতক্ষীরা পৌরসভা বনাম কালিগঞ্জ উপজেলা। ১৮ আগস্ট (তৃতীয় ম্যাচ): সাতক্ষীরা সদর বনাম তালা উপজেলা। ১৯ আগস্ট (চতুর্থ ম্যাচ): দেবহাটা উপজেলা বনাম আশাশুনি উপজেলা।
সেমিফাইনাল ও ফাইনাল: ২১ আগস্ট (প্রথম সেমিফাইনাল): দ্বিতীয় ম্যাচের বিজয়ী বনাম তৃতীয় ম্যাচের বিজয়ী। ২২ আগস্ট (দ্বিতীয় সেমিফাইনাল): প্রথম ম্যাচের বিজয়ী বনাম চতুর্থ ম্যাচের বিজয়ী।
২৪ আগস্ট (ফাইনাল): দুই সেমিফাইনালের বিজয়ী দলের শিরোপা লড়াই। ক্রীড়ামোদী দর্শকদের স্টেডিয়ামে উপস্থিত থেকে খেলা উপভোগ করার আহ্বান জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।

 

সম্পাদকীয়/ সুন্দরবন রক্ষায় অবিলম্বে বন্ধ হোক প্লাস্টিক দূষণ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১৬ আগস্ট, ২০২৬, ১:০৩ পূর্বাহ্ণ
সম্পাদকীয়/ সুন্দরবন রক্ষায় অবিলম্বে বন্ধ হোক প্লাস্টিক দূষণ

বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন কেবল আমাদের প্রাকৃতিক ঢালই নয়, জাতীয় অর্থনীতির অন্যতম মজবুত স্তম্ভ। বঙ্গোপসাগরের কোল ঘেঁষে দাঁড়িয়ে থাকা এই বন উপকূলীয় অঞ্চলকে প্রলয়ংকরী প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে রক্ষা করে, বায়ুম-লের কার্বন শোষণ করে এবং বছরে প্রায় ৪৬০ কোটি টাকার রাজস্ব যোগায় জাতীয় কোষাগারে। তবে আক্ষেপের বিষয় হলো, বেঙ্গল টাইগার, ইরাবতী ডলফিনসহ বিরল সব বন্যপ্রাণী ও জলজ প্রজাতির এই অনন্য আবাসস্থলটি আজ প্লাস্টিক ও পলিথিন দূষণের ভয়াবহ থাবায় মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে।
সুন্দরবনের ৫৪টি নদীতে প্রতিদিন গড়ে জমা হচ্ছে প্রায় ৫০ টন প্লাস্টিক ও পলিথিন বর্জ্য। জোয়ার-ভাটার টানে এসব বর্জ্য বনের ১৫ কিলোমিটার গভীরে ছড়িয়ে পড়ছে এবং গাছের শ্বাসমূল পেঁচিয়ে ধরে ম্যানগ্রোভের প্রাণশক্তি নিঃশেষ করে দিচ্ছে। থমকে যাচ্ছে গাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধি, বিপন্ন হচ্ছে ২১০ প্রজাতির মাছ, কুমির ও অন্যান্য বন্যপ্রাণীর জীবন। পাশাপাশি, যেসব নদীর ওপর ভিত্তি করে ৩০ লাখ মানুষ জীবিকা নির্বাহ করছেন, সেগুলোর বাস্তুতন্ত্র আজ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগের বন কর্মকর্তার ভাষ্যমতে, পর্যটন মৌসুমে পর্যটকদের ফেলে যাওয়া চিপস-বিস্কুটের প্যাকেট, বোতল ও ওয়ান-টাইম প্লাস্টিক বনের ভেতরে ঢুকে প্রকৃতির অপূরণীয় ক্ষতি সাধন করছে।
সুন্দরবনকে বাঁচাতে এখনই সমন্বিত ও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। বনের সীমানায় পলিথিন ও সিঙ্গেল-ইউজ প্লাস্টিক বহন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করতে হবে এবং আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর জরিমানা নিশ্চিত করা আবশ্যক। প্রতিটি ট্যুরিস্ট ভেসেল ও দর্শনীয় স্থানে সুনির্দিষ্ট ডাস্টবিনের ব্যবস্থা করা, সংগৃহীত বর্জ্য বনের বাইরে এনে রিসাইক্লিংয়ের আওতায় নেওয়া এবং প্লাস্টিকের বিকল্প হিসেবে পাটের ব্যাগ ও পরিবেশবান্ধব পাত্রের ব্যবহার জোরদার করা দরকার। খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাটসহ উপকূলীয় ১৭টি উপজেলায় চলমান সরকারের ‘রিডিউস, রিইউজ ও রিসাইকেল’ (৩জ) কৌশলের কার্যকর বাস্তবায়ন প্লাস্টিক দূষণ হ্রাসে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।
সুন্দরবন আমাদের অস্তিত্বের প্রতীক। স্থানীয় বনজীবী, ট্যুর অপারেটর, পর্যটক ও বন বিভাগের যৌথ প্রচেষ্টায় খাল ও সৈকতগুলোতে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা এবং কঠোর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি। অবিলম্বে প্লাস্টিক মুক্ত সুন্দরবন নিশ্চিত করতে না পারলে আমরা কেবল একটি বিশ্ব ঐতিহ্যকেই হারাব না, বরং পুরো দেশের পরিবেশগত নিরাপত্তাও ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেব।

সাতক্ষীরায় আওয়ামী লীগের চার নেতা গ্রেপ্তার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১৬ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৫৯ পূর্বাহ্ণ
সাতক্ষীরায় আওয়ামী লীগের চার নেতা গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরায় আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের চার নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার শহরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী আখতার হোসেন (৫৫), সাতক্ষীরা পৌর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি শেখ মোস্তাফিজুর রহমান শোভন (৩০), জেলা তাঁতী লীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ আলমগীর হোসেন (৪০) এবং কালিগঞ্জের আওয়ামী লীগ নেতা মাস্টার শফিকুল ইসলাম। সংশ্লিষ্ট থানার পুলিশ জানায়, তাঁদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা রয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাঁদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।