সম্পাদকীয়/ ঝুঁকিপূর্ণ ভবন ও অবহেলিত শিক্ষাঙ্গন: উপকূলীয় জনস্বাস্থ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত জরুরি
উপকূলীয় সাতক্ষীরা জেলায় দুটি ভিন্ন ঘটনার মধ্য দিয়ে গ্রামীণ অবকাঠামোর জরাজীর্ণ অবস্থার ভয়াবহ চিত্র ফুটে উঠেছে। একদিকে আশাশুনি উপজেলার শ্রীউলা ইউনিয়নের নাকতাড়া কমিউনিটি ক্লিনিকে পলেস্তারা খসে পড়া অতি ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের বারান্দায় বসে সেবা দিতে হচ্ছে স্বাস্থ্যকর্মীদের, অন্যদিকে সদর উপজেলার বকচরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে জলাবদ্ধতা ও ঢাকনাবিহীন খোলা ড্রেনের কারণে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি চরম হুমকির মুখে পড়েছে। স্বাস্থ্যসেবা ও মৌলিক শিক্ষাÑএই দুটি খাত যেকোনো সমাজের মূল ভিত্তি। তবে এই দুটি প্রতিষ্ঠানের বিরাজমান নিরাপত্তা ঝুঁকি স্পষ্ট করে দেয় কীভাবে গ্রামীণ অগ্রাধিকার ক্ষেত্রগুলো স্থায়ী তদারকির অভাবে মুখ থুবড়ে পড়ছে।
নাকতাড়া কমিউনিটি ক্লিনিকটি ১৯৯৮ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে প্রায় আড়াই দশকে কোনো দৃশ্যমান বড় সংস্কার দেখেনি। ছাদের ঢালাই ধসে ইতোমধ্যে রোগী ও স্বাস্থ্যকর্মী আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। দুর্ঘটনা এড়াতে মূল কক্ষ ছেড়ে বারান্দায় চিকিৎসা প্রদান কিংবা পাশের ইউনিয়ন পরিষদের কক্ষে টিকাদান কার্যক্রম পরিচালনা কোনো স্থায়ী সমাধান হতে পারে না। প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে স্বাস্থ্যসেবা প্রদান ও গ্রহণÑউভয়ই চরম উদ্বেগজনক। একইভাবে বকচরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ফটকে উন্মুক্ত ড্রেন ও মাঠে দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা শিশুদের নিরাপত্তাকে সংকটে ফেলেছে। ফলে অভিভাবকেরা সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে সাহস পাচ্ছেন না। অথচ উভয় সংকটেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে একাধিকবার অবহিত করা সত্ত্বেও প্রশাসনিকভাবে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ লক্ষ্য করা যায়নি।
কমিউনিটি ক্লিনিক ও প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো গ্রামীণ অবকাঠামোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্থান। স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং শিক্ষার পরিবেশ রক্ষায় অবিলম্বে সমন্বিত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। নাকতাড়া কমিউনিটি ক্লিনিক ভবনের দ্রুত পুনর্বাসন বা নতুন ভবন নির্মাণের আগপর্যন্ত একটি নিরাপদ বিকল্প স্থানে স্বাস্থ্যসেবা স্থানান্তর করা জরুরি। একই সঙ্গে বকচরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠের জলাবদ্ধতা দূরীকরণ এবং খোলা ড্রেনে অবিলম্বে ঢাকনা বসিয়ে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। জনগুরুত্বপূর্ণ এসব সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানে জীবনের ঝুঁকি তৈরি হওয়া কোনোভাবেই কাম্য হতে পারে না। স্থানীয় প্রশাসন ও ঊর্ধ্বতন মহলের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপই পারে এই অচলাবস্থা থেকে স্থানীয় জনগণকে রক্ষা করতে।









