১২ নভেম্বর থেকে শুরু হতে পারে ইউপি নির্বাচন
আজহারুল ইসলাম সাদী
সাত ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে তথ্য প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এর মধ্যে প্রথম ধাপের নির্বাচনের সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ২০২৬ সালের ১২ নভেম্বর। এর মধ্য দিয়েই দেশে নতুন করে শুরু হতে যাচ্ছে স্থানীয় সরকার নির্বাচন।
রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
ইসির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রথম ধাপের ভোট ১২ নভেম্বর, দ্বিতীয় ধাপ ১৩ ডিসেম্বর, তৃতীয় ধাপ ৩০ ডিসেম্বর, চতুর্থ ধাপ ২০২৭ সালের ১৭ জানুয়ারি, পঞ্চম ধাপ ৪ ফেব্রুয়ারি, ষষ্ঠ ধাপ ২২ এপ্রিল এবং সপ্তম ধাপের ভোট ২৭ মে অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ভোট গ্রহণে শৃঙ্খলা বজায় রাখা ও ভোটারদের বিভ্রান্তি এড়াতে এবার উপজেলাভিত্তিক নির্বাচনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। অর্থাৎ, একটি উপজেলার সব ইউনিয়নে একই দিনে ভোট হবে। তবে মোট কতটি ধাপে ভোট শেষ করা হবে (সম্ভাব্য ৫ বা ৬ ধাপ), তা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো প্রক্রিয়াধীন। এ ছাড়া আসন্ন নির্বাচনে পোস্টারসহ পরিবেশবিরোধী প্রচারসামগ্রী ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা এবং কিছু নতুন নিয়ম যুক্ত হচ্ছে।
সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের লক্ষ্যে প্রতিটি কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা, বডি-ওর্ন ক্যামেরা এবং ড্রোন ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে বলে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন।
দেশের সাড়ে চার হাজার ইউনিয়ন পরিষদের মধ্যে প্রথম দফায় নির্বাচন উপযোগী এলাকাগুলোকে রাখা হচ্ছে। এ লক্ষ্যে সেপ্টেম্বর মাসেই তফসিল ঘোষণার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে কমিশন। এ বিষয়ে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সঙ্গে ইসির চার সদস্যের প্রতিনিধিদলের সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
ইসির পরিকল্পনা অনুযায়ী, পর্যায়ক্রমে দেশের ১৩টি সিটি করপোরেশন, ৩৩০টি পৌরসভা, ৫০০টি উপজেলা ও সাড়ে ৪ হাজার ইউনিয়ন পরিষদে ভোট গ্রহণ করা হবে।
সাধারণত দুই মাস সময় রেখে তফসিল ঘোষণার বাধ্যবাধকতা উল্লেখ করে সিইসি বলেন, সেপ্টেম্বর বা অক্টোবরে সময়সূচি ঘোষণা করা হলে কিছু নির্বাচন চলতি বছরের শেষে এবং কিছু আগামী বছরে অনুষ্ঠিত হবে। সময়সূচি ঘোষণার পর গড়ে দুই মাসের মতো সময় হাতে রাখা হয়।
রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাতের সময় কমিশনকে স্বাধীনভাবে কাজ করার পূর্ণ আশ্বাসের কথা জানিয়েছেন সিইসি। বর্তমানে আইনি সংস্কারের কাজ চলছে এবং আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যেসব ইউপির মেয়াদ শেষ পর্যায়ে রয়েছে, সেগুলোর ভোট চলতি বছরের মধ্যেই শুরুর তাগিদ রয়েছে। একই সঙ্গে ৯০ দিনের মধ্যে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন সম্পন্ন করার বাধ্যবাধকতাও রয়েছে।
নির্বাচনের সময় নির্ধারণে প্রাকৃতিক দুর্যোগ, দুর্গাপূজা, পরীক্ষা এবং পরবর্তী সময়ে শীতকাল, রমজান ও বর্ষার মতো আনুষঙ্গিক বিষয়গুলো বিবেচনায় রাখা হচ্ছে। বিশেষ করে পাহাড়ি এলাকায় ভোটের জন্য শুষ্ক মৌসুমকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে ইসি। সেই সঙ্গে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সেবা সহজীকরণ ও জালিয়াতি রোধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। লেখক: সংবাদকর্মী ও কলামিস্ট












