বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩

দুই কোটি ডলারও বিক্রি করতে পারলো না বাংলাদেশ ব্যাংক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৩৮ পূর্বাহ্ণ
দুই কোটি ডলারও বিক্রি করতে পারলো না বাংলাদেশ ব্যাংক

বাজারে ডলারের সংকট রয়েছে, বিনিময় হার আরও বাড়তে পারে—এমন আলোচনা যখন চলছে, তখন উল্টো চিত্র দেখা গেলো বাংলাদেশ ব্যাংকের ডলার নিলামে। বাজারে ডলারের চাহিদা কতটা রয়েছে এবং প্রকৃত বিনিময় হার কোন পর্যায়ে আছে, তা যাচাই করতে ২ কোটি মার্কিন ডলার বিক্রির ঘোষণা দিয়েছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ছয়টি ব্যাংক মিলে কিনেছে ১ কোটি ১৫ লাখ ডলার। অর্থাৎ বিক্রির জন্য রাখা ৮৫ লাখ ডলার অবিক্রীতই থেকে গেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের মতে, এই নিলামের অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল— বাজারের প্রকৃত চাহিদা বোঝা। নিলামে সব ব্যাংককে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হলেও সীমিত সংখ্যক ব্যাংক আগ্রহ দেখিয়েছে। ফলে বাজারে ডলারের সরবরাহে বড় ধরনের ঘাটতি রয়েছে—এমন দাবির সঙ্গে নিলামের ফলাফল সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

সোমবার অনুষ্ঠিত নিলামের তথ্য মঙ্গলবার প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এতে দেখা যায়, ছয়টি ব্যাংক ১ কোটি ১৫ লাখ ডলার কেনার প্রস্তাব দেয় এবং তাদের সব প্রস্তাবই গ্রহণ করা হয়। ডলার বিক্রির দর ছিল ১২২ টাকা ৮০ পয়সা থেকে ১২৩ টাকা ৩৫ পয়সা। গড় দর ছিল ১২৩ টাকা ২২ পয়সা। কাট-অফ রেট ছিল ১২২ টাকা ৮০ পয়সা।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান বলেন, ‘‘বাংলাদেশ ব্যাংক বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) কোনও ডলার বিক্রি করতে পারেনি।’’ ব্যাংকের কাছে পর্যাপ্ত ডলার আছে বলে জানান তিনি। এ কারণে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি করা আপাতত প্রয়োজন পড়ছে না। তিনি বলেন, ‘‘বাজারে ডলারের আদৌ কোনও অতিরিক্ত চাহিদা আছে কিনা, প্রকৃত বিনিময় হার কত হতে পারে, তা দেখে থাকে বাংলাদেশ ব্যাংক। নিলামের মাধ্যমে একটি দর ব্যাংক দিয়েছে।’’

তিনি বলেন, ‘‘বাজারে ডলারের কোনও ঘাটতি নেই। আমরা সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) ২ কোটি ডলার বিক্রির ঘোষণা দিয়ে দেখলাম, ছয়টির বেশি ব্যাংক আগ্রহ দেখায়নি। ফলে ২ কোটি ডলারের পুরোটা বিক্রি করা সম্ভব হয়নি।’’

ব্যাংকগুলো চাইলে আরও ৮৫ লাখ ডলার নিতে পারতো

বাংলাদেশ ব্যাংকের এক কর্মকর্তা না প্রকাশ না করে বলেন, ‘‘কিছু মহল থেকে বলা হচ্ছিল— ব্যাংকগুলোতে ডলারের সংকট রয়েছে এবং সামনে ডলারের দাম আরও বাড়তে পারে। এসব আলোচনা বাস্তবে কতটা সত্য, তা যাচাই করতেই নিলামের আয়োজন করা হয়।’’

তিনি বলেন, ‘মোট ২ কোটি ডলার বিক্রির জন্য ছাড়া হয়েছিল। সব ব্যাংককে বিষয়টি জানানো হয়। কিন্তু মাত্র ছয়টি ব্যাংক ১ কোটি ১৫ লাখ ডলার কেনার প্রস্তাব দেয়। তাদের সব প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়েছে। তারা চাইলে আরও ৮৫ লাখ ডলার নিতে পারতো।’’

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই কর্মকর্তার বক্তব্য অনুযায়ী, নিলামের ফলাফল থেকে অন্তত এটুকু বোঝা যাচ্ছে, ব্যাংকিং খাতে ডলারের চাহিদা এমন পর্যায়ে নেই যে বাজারে ব্যাপক সংকট তৈরি হয়েছে। বরং প্রয়োজনের তুলনায় অনেক ব্যাংকের হাতে পর্যাপ্ত ডলার রয়েছে।’’

১৪ মাস পর ডলার বিক্রিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক

ডলারের এই নিলাম আরও একটি কারণে গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘ ১৪ মাস পর আবারও বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে ডলার বিক্রিতে ফিরেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর আগে ২০২৫ সালের জুলাই থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাজার থেকে ডলার কিনছিল। কারণ তখন বাজারে ডলারের সরবরাহ বাড়ছিল এবং বিনিময় হারের ওপর চাপ কমে এসেছিল।

গত ১৪ মাসে বাংলাদেশ ব্যাংক বাজার থেকে প্রায় ৬০০ কোটি ডলার কিনেছে। এর ফলে একদিকে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়েছে, অপরদিকে ব্যাংকগুলোর হাতে ডলারের তারল্যও বৃদ্ধি পেয়েছে।

সর্বশেষ গত ১ সেপ্টেম্বর বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে ৫ কোটি ডলার কিনেছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ওই নিলামে কাট-অফ রেট ছিল ১২২ টাকা ৭৫ পয়সা। অর্থাৎ, মাত্র দুই সপ্তাহের ব্যবধানে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অবস্থানে কিছুটা পরিবর্তন দেখা গেল। আগে ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে ডলার কিনছিল, এখন প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যাংকগুলোর কাছে ডলার বিক্রি করছে। তবে প্রথম বিক্রির নিলামেই পুরো ২ কোটি ডলার বিক্রি না হওয়া বাজারের চাহিদা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি বার্তা দিচ্ছে।

ডলারের দর বেড়েছে, কিন্তু সংকট কতটা?

সাম্প্রতিক সময়ে আন্তব্যাংক বাজারে ডলারের দর কিছুটা বেড়েছে। ১৫ সেপ্টেম্বর আন্তব্যাংক বাজারে ডলারের গড় দর ছিল ১২৩ টাকা ৩৫ পয়সা। আগের দিন ছিল ১২৩ টাকা ২০ পয়সা। বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় আমদানি ব্যয়ও বেড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের জুলাইয়ে দেশের আমদানি ব্যয় গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৮ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে ৬৪৪ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য আমদানির ব্যয় বেড়েছে ৮৩ দশমিক ৩ শতাংশ, যা এক মাসে ১৩৭ কোটি ডলারে পৌঁছেছে।

অপরদিকে জুলাইয়ে রফতানি আয় ১ দশমিক ৬ শতাংশ কমে ৪৩৫ কোটি ডলারে নেমেছে। ফলে আমদানি ব্যয় ও রফতানি আয়ের ব্যবধান বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে কিছুটা বাড়তি চাহিদা তৈরি করতে পারে।

তবে আমদানির চাপ বাড়লেই যে ব্যাংকিং ব্যবস্থায় ডলারের সংকট তৈরি হয়েছে, এমনটি ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই। কারণ রেমিট্যান্স, রফতানি আয়, ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা অবস্থান এবং আমদানি দায় পরিশোধের সক্ষমতা—সবকিছু মিলিয়েই বাজারের প্রকৃত তারল্য বোঝা যায়।

রিজার্ভেও স্বস্তি

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বিপিএম৬ পদ্ধতিতে গত ১০ সেপ্টেম্বর দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিল ৩১ দশমিক ৩৬ বিলিয়ন ডলার। এক বছর আগে একই সময়ে এই রিজার্ভ ছিল ২৫ দশমিক ৬৮ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে রিজার্ভ বেড়েছে প্রায় ৫ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার। ফলে বৈদেশিক মুদ্রার অবস্থানে আগের তুলনায় বড় ধরনের উন্নতি হয়েছে।

এ অবস্থায় বাংলাদেশ ব্যাংকের ২ কোটি ডলার বিক্রির উদ্যোগকে শুধু ‘ডলারের সংকট মোকাবিলায়’ নেওয়া পদক্ষেপ হিসেবে দেখলে পুরো চিত্রটি পাওয়া যাবে না। বরং নিলামের মাধ্যমে বাজারের প্রকৃত চাহিদা, ব্যাংকগুলোর ডলার ধারণক্ষমতা এবং প্রচলিত বিনিময় হারের যৌক্তিকতা যাচাই করাও এর গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্য।

বাজারের জন্য কী বার্তা?

বাংলাদেশ ব্যাংকের নিলামে ২ কোটি ডলার বিক্রির সুযোগ তৈরি করেও ৮৫ লাখ ডলার বিক্রি করতে না পারার ঘটনা বৈদেশিক মুদ্রাবাজারের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকেত। এতে বোঝা যাচ্ছে, বাজারে ডলারের দাম নিয়ে আলোচনা থাকলেও ব্যাংকিং ব্যবস্থায় ডলারের সরবরাহ একেবারে সংকুচিত হয়ে যায়নি।

বরং কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রয়োজন অনুযায়ী বাজারে ডলার দিতে সক্ষম এবং বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোরও নিজস্ব বৈদেশিক মুদ্রার অবস্থান রয়েছে। ফলে ডলারের দাম আরও বাড়বে—এমন প্রত্যাশা বা গুজবের ভিত্তিতে বাজারে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে কিনা, সেটিও এখন নজরে রাখবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

তবে আমদানি ব্যয়, বিশেষ করে জ্বালানি আমদানির চাপ বাড়তে থাকলে ভবিষ্যতে ডলারের চাহিদা বাড়তে পারে। একই সঙ্গে রফতানি ও রেমিট্যান্সের প্রবাহও গুরুত্বপূর্ণ থাকবে। তাই একটি নিলামের ফলাফল দিয়ে পুরো বৈদেশিক মুদ্রাবাজারের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ না করে ধারাবাহিকভাবে ব্যাংকগুলোর চাহিদা ও লেনদেনের প্রবণতা পর্যবেক্ষণ করাই হবে গুরুত্বপূর্ণ।

এই মুহূর্তে বাংলাদেশ ব্যাংকের নিলামের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বার্তাটি হলো—ডলারের দাম নিয়ে চাপ থাকলেও ব্যাংকিং ব্যবস্থায় তীব্র ডলার সংকটের চিত্র পাওয়া যাচ্ছে না। ২ কোটি ডলার বিক্রির সুযোগ দিয়েও ৮৫ লাখ ডলার বিক্রি করতে না পারাই তার একটি বাস্তব উদাহরণ।

Ads small one

আইনমন্ত্রীর আশ্বাসের পর দ্রুত পদায়ন: প্রায় এক বছর পর বিচারক পেল সাতক্ষীরা নারী ও শিশু ট্রাইব্যুনাল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:১৫ পূর্বাহ্ণ
আইনমন্ত্রীর আশ্বাসের পর দ্রুত পদায়ন: প্রায় এক বছর পর বিচারক পেল সাতক্ষীরা নারী ও শিশু ট্রাইব্যুনাল

কর্মজীবনের শুরুতেই সাতক্ষীরায় ছিলেন নবনিযুক্ত বিচারক মো. জাকারিয়া হোসেন
বদিউজ্জামান: দীর্ঘ প্রায় এক বছর বিচারকশূন্য থাকার পর অবশেষে বিচারক পেল সাতক্ষীরা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল। ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৬-এর বিচারক মো. জাকারিয়া হোসেনকে সাতক্ষীরা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। গত ১৭ সেপ্টেম্বর আইন ও বিচার বিভাগের প্রজ্ঞাপনে এ পদায়নের কথা জানানো হয়।

সাতক্ষীরার বিচারাঙ্গনের জন্য এ নিয়োগের বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে। কারণ, বিচারক মো. জাকারিয়া হোসেনের বিচার বিভাগীয় কর্মজীবনের শুরুই হয়েছিল সাতক্ষীরা থেকে। ২০০৬ সালের ১৫ মার্চ সহকারী জজ হিসেবে বিচার বিভাগে যোগ দিয়ে তিনি সাতক্ষীরায় দায়িত্ব পালন করেন। পরের বছর ২৪ নভেম্বর ২০০৭ সালে জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবেও সাতক্ষীরায় দায়িত্ব পালন করেন। কর্মজীবনের শুরুর সেই সাতক্ষীরাতেই দীর্ঘ দুই দশক পর এবার তিনি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক হিসেবে ফিরছেন।

প্রায় এক বছর ধরে বিচারক না থাকায় সাতক্ষীরা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচার কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছিল। বর্তমানে এ আদালতে প্রায় পাঁচ হাজার মামলা বিচারাধীন রয়েছে। নারী ও শিশু নির্যাতন মামলার পাশাপাশি আদালতটি শিশু আদালত ও মানব পাচারসংক্রান্ত মামলার দায়িত্বও পালন করে। বিচারক না থাকায় এসব মামলার কার্যক্রমেও দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হয়।

বিচারক নিয়োগের দাবিতে বিভিন্ন মহল থেকেও ধারাবাহিকভাবে উদ্যোগ নেওয়া হয়। গত ৩০ আগস্ট নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালসহ বিচারকশূন্য আদালতগুলোতে দ্রুত বিচারক নিয়োগের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। ডিস্ট্রিক্ট হিউম্যান রাইটস ডিফেন্ডার নেটওয়ার্ক, সাতক্ষীরার উদ্যোগে এবং মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় ওই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

এদিকে বিচারক নিয়োগের দাবিতে সাতক্ষীরা জেলা আইনজীবী সমিতির পক্ষ থেকে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের কাছেও লিখিত আবেদন করা হয়েছিল। গত ২৩ আগস্ট করা ওই আবেদনে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে দ্রুত একজন বিচারক পদায়নের দাবি জানানো হয়।

এরপর গত ১৩ সেপ্টেম্বর আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান সাতক্ষীরা সফরে এসে জেলা ও দায়রা জজ আদালতে বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এ সময় সাতক্ষীরার বিচার বিভাগের বিভিন্ন সংকটের পাশাপাশি দীর্ঘদিন বিচারকশূন্য নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে উঠে আসে। মতবিনিময় শেষে আইনমন্ত্রী সাতক্ষীরার বিচার বিভাগের সংকট নিরসনে কার্যকর ও দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন।

আইনমন্ত্রীর ওই আশ্বাসের মাত্র চার দিনের মধ্যেই নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে এবং অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতে আরো একজন বিচারক পদায়নের প্রজ্ঞাপন জারি হওয়ায় সাতক্ষীরার বিচারাঙ্গনে স্বস্তি ফিরেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দীর্ঘদিনের দাবির পর নতুন বিচারক নিয়োগ হওয়ায় এখন নিয়মিত বিচারিক কার্যক্রম শুরু হওয়ার পথ সুগম হলো। তবে আরো নয়জন বিচারকের পথ শূন্য থাকায় অতি দ্রুত সেসব পদে বিচারক পদানের দাবি রয়েছে আইনজীবীদের।

নবনিযুক্ত বিচারক মো. জাকারিয়া হোসেন ১৫ মার্চ ২০০৬ সালে সহকারী জজ হিসেবে বিচার বিভাগীয় চাকরিতে যোগ দেন। এরপর জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, সহকারী জজ ও সিনিয়র সহকারী জজসহ বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে যুগ্ম জেলা জজ হিসেবে পদোন্নতি লাভ করেন। সর্বশেষ তিনি ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৬-এর বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তাঁর ওই পদে দায়িত্ব পালনের তথ্যও সাম্প্রতিক সংবাদ প্রতিবেদনে পাওয়া যায়।

দীর্ঘদিন পর সাতক্ষীরা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে বিচারক নিয়োগ হওয়ায় বিচারপ্রার্থী, আইনজীবী ও মানবাধিকারকর্মীদের মধ্যে স্বস্তি দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, নবনিযুক্ত বিচারক দ্রুত দায়িত্ব গ্রহণ করে নিয়মিত বিচার কার্যক্রম শুরু করলে প্রায় পাঁচ হাজার বিচারাধীন মামলার জট ধীরে ধীরে কমবে এবং দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষায় থাকা নারী, শিশু ও অন্যান্য বিচারপ্রার্থীরা বিচার পাওয়ার ক্ষেত্রে নতুন আশার আলো দেখবেন।

মধ্যম রমজাননগর প্রাইমারি স্কুলে ইউপি সদস্য আসমা সভাপতি নির্বাচিত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:০৬ পূর্বাহ্ণ
মধ্যম রমজাননগর প্রাইমারি স্কুলে ইউপি সদস্য আসমা সভাপতি নির্বাচিত

রমজাননগর (শ্যামনগর) প্রতিনিধি: শ্যামনগর উপজেলার রমজাননগর ইউনিয়নের ১৪৩ নম্বর মধ্যম রমজাননগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠনে ইউপি সদস্য মোছা. আসমা খাতুন সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন।
১৭ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টায় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে পরিচালনা কমিটির সভাপতি পদে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতি পদে মোছা. আসমা খাতুন ও মোছা. ঝিলিক খাতুন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ১২ জন ভোটারের মধ্যে ১১ জন উপস্থিত থেকে গোপন ব্যালটের মাধ্যমে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। গণনায় আসমা খাতুন ৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন; তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ঝিলিক খাতুন পান ৫ ভোট। মাধ্যমিক শিক্ষক মান্নান হোসেনের সভাপতিত্বে নির্বাচন পরিচালনা করেন সহকারী শিক্ষক মান্নান হোসেন। এ সময় বিদ্যালয়ের ভূমিদাতা সদস্য মনোদ্বীপ কুমার ম-ল, প্রধান শিক্ষক শ্যামল চন্দ্র ম-ল, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক তপন কুমার বর্মন, সমাজসেবক মো. মুকুল হোসেন, মো. আবদুল মজিদ, মো. ইয়াসিন হোসেন, বিদ্যুৎসাহী ও অভিভাবক সদস্য রমেশ সরকার, মনিরুল ইসলাম, জেসমিন নাহার, প্রেমদাসসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সহকারী শিক্ষক মিলন হোসেন।

কলারোয়ায় শাকদাহ বালিকা বিদ্যালয়ে নবগঠিত এডহক কমিটির সংবর্ধনা ও অভিভাবক সমাবেশ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:০১ পূর্বাহ্ণ
কলারোয়ায় শাকদাহ বালিকা বিদ্যালয়ে নবগঠিত এডহক কমিটির সংবর্ধনা ও অভিভাবক সমাবেশ

নিজস্ব প্রতিনিধি: কলারোয়া উপজেলার শাকদাহ মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের আয়োজনে নবগঠিত এডহক কমিটির সংবর্ধনা ও সুধী-অভিভাবক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১৭ সেপ্টেম্বর বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রধান শিক্ষক মো. ইসরাইল হোসেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন নবগঠিত এডহক কমিটির সভাপতি ও ঢাকা ফাইনা গ্রুপ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রফিকুল ইসলাম (জয়তু)। এতে প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন ১০ নম্বর কুশোডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. আসাদুজ্জামান।
সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য অধ্যক্ষ আব্দুল ওহাব, কুশোডাঙ্গা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. আনিছুর রহমান, বিদ্যালয়ের দাতা সদস্য মাস্টার মাহমুদুল হক ও মো. শামছুর রহমান খান এবং কুশোডাঙ্গা দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষক কাজী রাশেদ জামিল মিলন। এ ছাড়া যুবনেতা ইমাম হোসেন খান, কুশোডাঙ্গা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সজীব হোসেন, স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব কামরুজ্জামান লালটু, বিএনপি নেতা জাহাঙ্গীর হোসেন, চিকিৎসক গোলাম মোস্তফা, বিএনপি নেতা ফারুক হোসেন ও আবুল কালাম উপস্থিত ছিলেন।
সমাবেশে বক্তারা বিদ্যালয়ের শিক্ষার মানোন্নয়ন, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং সুশাসন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। আলোচনা শেষে নবগঠিত এডহক কমিটির সদস্যদের ফুল দিয়ে সংবর্ধনা জানানো হয়। অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় অভিভাবকেরা উপস্থিত ছিলেন। পুরো অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শহিদুল ইসলাম।