মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩

সাতক্ষীরায় বৃষ্টির মৌসুমে জলাবদ্ধতায় জনপদ হুমকি স্বরুপ, সমাধান কী?

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৬, ১০:২৫ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় বৃষ্টির মৌসুমে জলাবদ্ধতায় জনপদ হুমকি স্বরুপ, সমাধান কী?

শ্যামল শীল

একটু বৃষ্টি হলেই সাতক্ষীরা শহরসহ আশপাশের অসংখ্য গ্রাম ডুবে যায়। রাস্তার উপরেই থাকে কোমর সমান পানি আর উঠানে বুক সমান। বারান্দা, ঘর, রান্নাঘরে মাছ খেলা করে। টয়লেটগুলো থাকে পানির নিচে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে পানি। পশুপাখির মরা দেহ, টয়লেটের বর্জ্য ভেসে বেড়ায় এক উঠান থেকে অন্য উঠানে। এভাবে চলে বছরের ছয় মাস। ফলে, মারা যাচ্ছে এলাকার অধিকাংশ গাছপালা। মানুষজন এলাকা ছেড়ে অন্যত্র চলে যায় বর্ষার দিনগুলোতে। আবার কেউ স্থায়ীভাবে অন্য এলাকায় ঘর তুলছে।

কয়েকবছর আগেও এই এলাকার বেশিরভাগ কৃষি জমিতে বছরে তিনটা ফসল হতো। এছাড়া পাট, সরিষা, পুঁইশাক, পালং, লালশাক, সাদাশাক, পেঁপেসহ নানান জাতের সবজি উৎপাদিত হতো এই এলাকার মাঠে। এখন বছরের অর্ধেক সময় জলাবদ্ধ থাকায় এসব ফসল করতে না পারায় মানুষজন বাধ্য হয়ে ঘেরবেড়ি করছে। ফলে, জলাবদ্ধতা মারাত্মক রূপ নিয়েছে। কারণ, ঘেরের জন্য বেড়ি/কিনারা অনেক উঁচু করে, যাতে বেশি পানি হলেও ঘেরের উপর দিয়ে পানি চলাচল করতে না পারে। ফলে যে পানিটা বিলে থাকতো সেটা রয়ে যায় লোকালয়ে। এদিকে, যাদের ঘের করার জমি নেই, অন্যের ক্ষেতে মজুরি দিতো, তারা হয়ে পড়েছে সম্পূর্ণরূপে কর্মহীন। কারণ এক বিঘা জমিতে ধান চাষে যে পরিমান মজুর লাগে। ১০ বিঘা মৎস ঘেরে তার চেয়ে কম মজুর লাগে।
পানি প্রাকৃতিকভাবে নিষ্কাশনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম নদী। কিন্তু যে খালগুলোর মাধ্যমে এলাকার পানি নদীতে পৌঁছুতো সেগুলো প্রভাবশালীদের দখলে গিয়ে এখন ঘের হিসেবে মাছ চাষ হয়। সেই খালগুলো দিয়ে পানি সরতে দেওয়া হয় না। অধিকাংশ জায়গায় খালের অস্তিত্বও নেই। খালের পাশের ঘের মালিকরা নিজের ঘেরের সাথে একত্র করে নিয়েছে খালগুলো। আবার সরকারি রাস্তার পাশ দিয়ে যে খাস জমি থাকে, যে জায়গা দিয়ে ড্রেনেজ সিস্টেম থাকতে পারতো তাও দখল করে ফেলেছে ঘের মালিকরা। তারা তাদের মৎস্য ঘেরের তিন পাশে বাধ দেয় আর একপাশের বাঁধ হিসেবে ব্যবহার করে সরকারি রাস্তা। এর ফলে, রাস্তাটাও সহজে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। তারা যদি নিজের জমিতে আলাদা বাঁধ দেয় তাহলে রাস্তা ও সেই বাঁধের মাঝখানে অটোমেটিক একটা ড্রেনেজ তৈরি হবে। যা দিয়ে লোকালয়ের পানি নদী পর্যন্ত পৌঁছাতে পারবে।

নদীর নাব্যতা হ্রাস পেয়েছে। পলি জমে নদীর তলদেশ উঁচু হয়ে গেছে, লোকালয়ের কিছু পানি নদীতে ভাটার সময় পার করার সুযোগ থাকলেও যেসকল স্লুইচ গেট দিয়ে লোকালয়ের পানি নদীতে দেওয়া হয় সেগুলোও পলি জমে অনেক উঁচু হয়ে থাকে। যা বর্ষার আগে অপসারণের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয় না। বর্ষার আগে এই মাটিটা ইট ভাটা বা এলাকার মানুষকে তোলার সুযোগ দেওয়া যেতে পারে। বর্ষায় যখন পুরো এলাকা ডুবে থাকে তখন এটা অপসারণের জন্য বাজেট এনে এলাকার প্রভাবশালীরা টাকা নয়-ছয় করার সুযোগ পায়।

এরপরও বেশিরভার পানি রয়ে যায় লোকালয়ে। বিলের পুরো পানিটা নদীতে পড়ার উপায় থাকে না। কারণ বিল নিচু, নদীর তলা উচু। আবার নদী খননে সুপরিকল্পিত উদ্যোগ দেখা যায় না। পুরা নদীটা খনন করে জোয়ার ভাটা পুনরায় চালু করতে পারলে আবারো নদীটা প্রাণ ফিরে পেতো। কিন্তু কয়েক কিলোমিটার পর্যন্ত নদী খনন করা হয়। এবং নদী কেটে খাল বানানো হয়। নদীর মাঝে কিছুটা গর্ত করে সেই মাটি নদীর ভেতরে ও পাড়ে রাখা হয়। এবং একটু বর্ষা হলেই পাড়ে রাখা মাটি ধুয়ে আবার আগের মত ভরাট হয়। পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্থানীয় নেতারা অপেক্ষা করে কখন আবারো নদী খননে বাজেট আসার। ফলশ্রুতিতে ভুগতে থাকে সেই সাধারণ জনগণ।

শহরের পানি নিষ্কাশনের প্রধান মাধ্যম বেতনা, মরিচ্চাপ, প্রাণ সায়ের খাল খনন করে তার সাথে সংযোগ খাল দখলমুক্ত করতে পারলে সহজে জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি পাবে এলাকাবাসী। এজন্য শালিখা নদীর সাথে বেতনার সংযোগ, মরিচ্চাপের সাথে ইছামতির সংযোগ পুনঃস্থাপন, প্রাণ সায়েরের সাথে বেতনা নদীর সংযোগ তৈরী করা প্রয়োজন। প্রকল্পভুক্ত সকল নদী ও খালের সিএস ম্যাপ অনুযায়ী সীমানা নির্ধারণ ও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে সীমানা পিলার বসিয়ে দেওয়া প্রয়োজন। এবং খননকৃত নদীর সকল মাটি এই সীমানা পিলারের বাইরে ফেলতে হবে, যাতে ধুয়ে আবার নদী ভরাট না হয়। গ্রাম ও শহরের পানির ড্রেন, খাল-বিল হয়ে নদীতে পড়ার সময় যাতে বাধা না পায়, কেউ দখল না করে সেটা দেখভাল করতে হবে এবং একাধিক নদীর সংযোগের ফলে পানি প্রবাহিত হয়ে নদী যাতে প্রাকৃতিকভাবে খনন হয় সেই ব্যবস্থা করতে হবে। এজন্য সকল নদী-খালের ইজারা বাতিল করা জরুরি।

জলাবদ্ধতার সময় থমকে থাকে এলাকার শিক্ষা ব্যবস্থা, উৎপাদন, কর্মসংস্থান। মূলত পরিকল্পনাহীনতা ও অদূরদর্শী রাজনৈতিক পদক্ষেপ, প্রভাবশালী অসচেতন মৎস্য ঘের মালিকের কারণেই সাতক্ষীরার জলাবদ্ধতার সমস্যার সমাধান হচ্ছে না। জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি চায় সাতক্ষীরাবাসী। কিন্তু সেই মুক্তি দিতে ব্যর্থ সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা। সরকারি দলের সদিচ্ছার ঘাটতি না থাকলে এই জলাবদ্ধতা নিরসন করা সম্ভব। ২০১১ সাল থেকে অতিমাত্রায় শুরু হওয়া জলাবদ্ধতা প্রতিবছর হয়ে আসছে।
স্থায়ীভাবে এ সমস্য নিরসনের জন্য এখনি যে প্রস্তুতি নিতে হবেÑ

এ বছরের জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য প্রস্তাবনা:
১. দখলকৃত খাল পানি চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হোক।
২. সরকারি রাস্তা ঘেরের বাঁধ হিসাবে ব্যবহার করতে দেওয়া বন্ধ করা হোক।
৩. পলি ভরাট হওয়া স্লুইস গেটের দুপাশের মাটি বর্ষার আগে অপসারণের উদ্যোগ নেওয়া হোক।
৪. বর্তমানে নদী খননের যে ধীরগতি তা রোধ করে, বর্ষার আগে নদী খনন সম্পূর্ণ করার পরিকল্পনা করা হোক।
৫. পুরো নদী একবারে খনন করে জোয়ারভাটা তরান্বিত করার উদ্যোগ নেওয়া হোক।
৬. এলাকার মাঝের রাস্তাগুলো যাতে না ডোবে সেই পরিমাণ উঁচু করা হোক।
দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার জন্য প্রস্তাবনা
৭. বেতনা নদীর সাথে শালিখা নদীর পুনঃসংযোগ স্থাপন করা হোক।
৮. বেতনার সাথে প্রাণসায়ের এর সংযোগ স্থাপন করা হোক।
৯. মরিচ্চাপ নদীর সাথে ইছামতির সংযোগ পুনঃস্থাপন করা হোক।
১০. সকল নদী খালের ইজারা বাতিল করে খাল, স্লুইচ গেট সবসময় পানি সরানোর উপযোগী করা হোক।

লেখক:সাবেক জবি শিক্ষার্থী ইতিহাস বিভাগ, ঢাকা

 

Ads small one

গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার মাধ্যমেই দেশের টেকসই উন্নয়ন সম্ভব: প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:৪২ অপরাহ্ণ
গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার মাধ্যমেই দেশের টেকসই উন্নয়ন সম্ভব: প্রধানমন্ত্রী

সরকার গণতন্ত্রের প্রতি দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, “কার্যকর ও শক্তিশালী গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার মাধ্যমেই দেশের টেকসই অগ্রগতি ও উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব।”

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ইন্টার পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের সেক্রেটারি অ্যান্ডা ফিলিপের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি উল্লেখ করেন, সরকারের সামনে এখনও কিছু চ্যালেঞ্জ আছে।

এ সময় বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিএনপি নেতাকর্মীদের গুম, খুন ও হয়রানির বিষয়গুলো তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

অপরদিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রশংসা করেন অ্যান্ডা ফিলিপ। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রীর নিয়মিত জাতীয় সংসদ অধিবেশনে অংশগ্রহণ গণতন্ত্রের জন্য শক্তিশালী বলে মনে করেন আইপিইউ সেক্রেটারি। সাক্ষাতে নারী ও তরুণদের ক্ষমতায়ন নিয়ে আলোচনা হয়।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদসহ সংশ্লিষ্টরা।

জাতীয় দল থেকে অবসরের ঘোষণা মেসির

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:৪০ অপরাহ্ণ
জাতীয় দল থেকে অবসরের ঘোষণা মেসির

অবশেষে সেই ঘোষণা এলো যেটির জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত হতে হচ্ছিল আর্জেন্টিনা ও ফুটবল বিশ্বকে। আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি লিওনেল মেসি।

সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টের মাধ্যমে নিজের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টানার সিদ্ধান্ত জানান আর্জেন্টিনার এই মহাতারকা।

ইনস্টাগ্রামে হাতে লেখা নোটের ছবি প্রকাশ করে আর্জেন্টিনা জাতীয় দল থেকে অবসরের ঘোষণা দেন তিনি। নিজের সিদ্ধান্তের কথা জানাতে গিয়ে মেসি লিখেছেন, ‘ফাইনালের পর সময় পেরিয়ে গেছে। অনেক ভেবেচিন্তে সবাইকে জানাতে চাই, আমি আর্জেন্টিনা জাতীয় দল থেকে অবসর নিচ্ছি।’

‘এটি এমন একটি সিদ্ধান্ত, যা আমাকে কষ্ট দিয়েছে—এখনো ভেতর থেকে গভীরভাবে কষ্ট দেয়। কিন্তু আমি বুঝতে পারছি, সময় এসে গেছে।’

আর্জেন্টিনার হয়ে শুধু শেষ কয়েক বছরে নয়, পুরো ক্যারিয়ারজুড়েই নিজের সর্বস্ব উজাড় করে দেওয়ার কথা জানিয়েছেন মেসি, ‘আমি সবসময় আমার সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। শুধু সাম্প্রতিক কয়েক বছরে যখন আমরা সবকিছু জিতেছি, তখন নয়; তার আগেও। এই জার্সির জন্য সবসময় লড়েছি, মাঠে সবকিছু দিয়েছি—ফুটবলের মাধ্যমে আপনাদের আনন্দ দিতে এবং আর্জেন্টাইন হিসেবে গর্বিত করতে।’

মেসির এই ঘোষণার সঙ্গে জড়িয়ে আছে তার জীবনের সবচেয়ে কঠিন এক ব্যক্তিগত অধ্যায়ও। তার বাবা হোর্হে মেসি গত ৮ আগস্ট আর্জেন্টিনার রোজারিও শহরের একটি হাসপাতালে মারা যান। তার বয়স হয়েছিল ৬৮ বছর।

ইনস্টাগ্রামে প্রকাশিত লেখার শেষে মেসি একটি বিশেষ নোটও যোগ করেছেন, ‘আমি এই কথাগুলো ২১ জুলাই লিখেছিলাম, ফাইনালের দুই দিন পর। আজ, আমার বাবার সঙ্গে যা ঘটেছে, তার পর আমি আগের চেয়েও বেশি নিশ্চিত।’

অর্থাৎ সিদ্ধান্তটি একদিনে নেওয়া নয়। বিশ্বকাপের পর থেকেই আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে সরে দাঁড়ানোর বিষয়টি নিয়ে ভাবছিলেন মেসি। বাবার মৃত্যুর পর সেই সিদ্ধান্ত আরও দৃঢ় হয়েছে।

আর্জেন্টিনার জার্সির সঙ্গে নিজের গভীর সম্পর্কের কথা তুলে ধরে মেসি লিখেছেন, ‘আমি জাতীয় দলের অংশ হতে ভালোবাসি, ভালোবেসেছি এবং সবসময় ভালোবাসবো। আমি আমার সবকিছু দিয়ে দিয়েছি। আমার আর কিছু দেওয়ার নেই। তাছাড়া দারুণ কিছু তরুণ খেলোয়াড় উঠে আসছে, যারা এখানে থাকার যোগ্য।’

দুই দশক ধরে সমর্থকদের ভালোবাসার জন্যও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক, ‘গত ২০ বছরের সব ভালোবাসার জন্য ধন্যবাদ। মাঠ থেকে আপনাদের কণ্ঠ শুনতে আমি ভীষণ মিস করবো। এখন আমি আপনাদেরই একজন হয়ে বাইরে থেকে দলকে সমর্থন করবো—ভালো সময়েও, খারাপ সময়েও; বিশেষ করে খারাপ সময়গুলোতে।’

পরিবার, কোচ, সতীর্থ ও দলের কর্মকর্তাদেরও ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি। তাদের সঙ্গে কাটানো সময়গুলোকে জীবনের ‘অবিস্মরণীয় স্মৃতি’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

আর্জেন্টিনার হয়ে মেসির ক্যারিয়ার শেষ হচ্ছে একেবারে রূপকথার মতো। ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপে দলকে নেতৃত্ব দিয়ে ৩৬ বছর পর বিশ্বকাপ জেতান তিনি। এটি ছিল আর্জেন্টিনার ইতিহাসে তৃতীয় বিশ্বকাপ। তার আগে দীর্ঘ ২৮ বছরের শিরোপা-খরা কাটিয়ে ২০২১ কোপা আমেরিকা জিতেছিল আর্জেন্টিনা। মেসির নেতৃত্বে ২০২৪ সালেও কোপা আমেরিকার শিরোপা ধরে রাখে তারা।

তবে সেই সাফল্যের আগে আন্তর্জাতিক ফুটবলে মেসির পথচলা ছিল হতাশায় ভরা। ২০১৬ সালে টানা তিনটি ফাইনালে হারের পর একবার আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছিলেন তিনি। পরে সেই সিদ্ধান্ত বদলে ফিরে আসেন এবং শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ জেতান।

আর্জেন্টিনার হয়ে মেসিই সর্বোচ্চ ম্যাচ খেলা এবং সর্বোচ্চ গোল করা খেলোয়াড়। জাতীয় দলের হয়ে ২০৩ ম্যাচে তার গোল ১২৪টি।

দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবল ইতিহাসেও সর্বোচ্চ গোলদাতা পুরুষ খেলোয়াড় তিনি। দুই দশকের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে মেসি শুধু রেকর্ডই গড়েননি, আর্জেন্টিনার ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সাফল্যগুলোরও অংশ হয়েছেন। শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপ হাতে তুলে ধরেই পূর্ণতা পেয়েছে তার স্বপ্ন।

দাপুটে জয়ে এশিয়া কাপ শুরু বাংলাদেশের

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:৩৬ অপরাহ্ণ
দাপুটে জয়ে এশিয়া কাপ শুরু বাংলাদেশের

নারী এশিয়া কাপে দারুণ জয় দিয়ে শুরু করেছে বাংলাদেশ। গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচে নাহিদা আক্তারের দুর্দান্ত বোলিংয়ে ইন্দোনেশিয়াকে ৭১ রানে হারিয়েছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।

১৩০ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুটা আক্রমণাত্মক করেছিল ইন্দোনেশিয়া। ওপেনার মারিয়া ও প্যাঙ্গেসতুতির ব্যাটিং কিছুটা শঙ্কাও জাগিয়েছিল বাংলাদেশের সমর্থকদের মনে।

তবে মারুফা আক্তারের জোড়া আঘাতে ম্যাচে ফেরে বাংলাদেশ। এরপর মেঘলা, নাহিদা ও ফাহিমাদের দারুণ বোলিংয়ে আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি ইন্দোনেশিয়া। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ১২ রান করেন ওপেনার মারিয়া।

বাংলাদেশের হয়ে সেরা বোলিং করেছেন নাহিদা আক্তার। ৪ ওভারে মাত্র ১৫ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিয়েছেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ১৭ দশমিক ৫ ওভারে ৫৮ রানেই গুটিয়ে যায় ইন্দোনেশিয়ার ইনিংস।

এর আগে দুবাই আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে টসে জিতে বাংলাদেশকে ব্যাটিংয়ে পাঠায় ইন্দোনেশিয়া। দলীয় ১৬ রানে জুয়াইরিয়া ফেরদৌস ফিরে গেলে জুটি গড়েন দিলারা আক্তার ও সোবহানা মোস্তারি।

দুজনের ৪০ রানের জুটি ভাঙে ২৭ রান করা দিলারা ফিরলে। এরপর সোবহানা মোস্তারি দলীয় সর্বোচ্চ ৪০ রান করে ফেরেন। ৪২ বলে ২ চার ও ১ ছক্কায় এই রান করেন তিনি।

শেষ দিকে স্বর্ণা আক্তারের ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে ১০০ রান পেরোয় বাংলাদেশের স্কোর। ১৮ বলে ৩ চার ও ১ ছক্কায় ৩১ রানের ক্যামিও খেলেন তিনি।

শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ১২৯ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ।