মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩

কিস্তির খাতায় বন্দী গ্রামের জীবন/ সচ্চিদানন্দ দে সদয়

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৬, ১০:৩৪ অপরাহ্ণ
কিস্তির খাতায় বন্দী গ্রামের জীবন/ সচ্চিদানন্দ দে সদয়

সচ্চিদানন্দ দে সদয়

ভোর হলেই গ্রামের রাস্তায় মানুষের চলাচল শুরু হয়। কেউ মাঠে যাচ্ছেন, কেউ বাজারের দিকে, কেউ দোকানের ঝাঁপ তুলছেন। কারও হাতে কোদাল, কারও মাথায় সবজির ঝুড়ি, কারও ভ্যানের পেছনে দিনের পণ্য। বাইরে থেকে দেখলে মনে হবেÑগ্রাম তার স্বাভাবিক ছন্দেই চলছে।কিন্তু এই স্বাভাবিক ছবির আড়ালে আরেকটি অদৃশ্য হিসাব চলছে। কারও আজ কিস্তি দেওয়ার দিন। কারও কাল। কারও আবার ব্যক্তিগত ধার করা টাকার সুদ দেওয়ার সময় ঘনিয়ে এসেছে।এই গ্রামের নাম ধরা যাক শান্তিপুর। বাংলাদেশের হাজারো গ্রামের মতোই একটি সাধারণ গ্রাম। পাকা-আধাপাকা বাড়ি, সরু রাস্তা, ছোট বাজার, মসজিদ-মন্দির, স্কুল, চায়ের দোকান আর চারপাশে কৃষিজমি।

 

গ্রামের মানুষের জীবন খুব সাধারণ। কিন্তু তাঁদের হিসাব এখন আর ততটা সহজ নয়। শান্তিপুরের রহিম মিয়া ছোট একটি মুদি দোকান চালান। দোকানে চাল, ডাল, তেল, বিস্কুট, সাবানÑসবই আছে। কিন্তু দোকানের তাক যতটা পণ্যভরা, তাঁর মাথার ভেতরের হিসাব তার চেয়েও বেশি।
একটি এনজিওর কিস্তি আছে। ব্যবসা বাড়ানোর জন্য আরেক জায়গা থেকে নেওয়া টাকা আছে। মেয়ের পড়াশোনার জন্য নেওয়া ব্যক্তিগত ধার আছে। সকালবেলা দোকান খোলার আগে তাঁর প্রথম চিন্তাÑআজ কত টাকা বিক্রি হবে? কারণ বিক্রি শুধু সংসারের জন্য নয়, কিস্তির জন্যও দরকার।

দুপুরে দোকানে ক্রেতা কম হলে তাঁর মুখ ভার হয়ে যায়। সন্ধ্যায় বিক্রি আশানুরূপ না হলে তিনি নীরবে হিসাব করেনÑআজকের টাকা দিয়ে আগামীকালের কিস্তি হবে তো? রহিম মিয়ার গল্প কাল্পনিক। কিন্তু তাঁর মতো হিসাব কষতে কষতে দিন কাটানো মানুষের সংখ্যা বাংলাদেশে কম নয়।

গ্রামের আরেক প্রান্তে কৃষক হাবিবুর রহমান। ধান চাষ করেছেন ঋণ নিয়ে। সার, বীজ, কীটনাশক, শ্রমিকÑসবকিছুর খরচ বেড়েছে। ফসল ভালো হলে তিনি ঋণ শোধ করবেন। কিন্তু প্রকৃতি কি সব সময় কৃষকের পক্ষে থাকে?কখনো অতিবৃষ্টি, কখনো খরা, কখনো জলাবদ্ধতা, কখনো রোগবালাই। ফসলের বাজারদরও নিশ্চিত নয়। অথচ ঋণের কিস্তির তারিখ নিশ্চিত। ফসল মাঠে থাকুক বা না থাকুক, কিস্তির হিসাব সামনে চলে আসে। শান্তিপুরের একটি পরিবারকে ধরা যাক। বাবা এনজিও থেকে ঋণ নিয়েছেন। মা অন্য একটি সমিতি থেকে কিছু টাকা নিয়েছেন। ছেলের চিকিৎসার সময় প্রতিবেশীর কাছ থেকে ব্যক্তিগতভাবে টাকা ধার করা হয়েছে।তিনটি ঋণ। তিন ধরনের হিসাব।

মাসের আয় সীমিত। কিন্তু টাকা দেওয়ার জায়গা তিনটি।ফলে মাসের শুরুতেই পরিবারের আয়ের বড় অংশ চলে যায় ঋণ পরিশোধে। এরপর বাজার খরচ, বিদ্যুৎ বিল, সন্তানের পড়াশোনা, চিকিৎসাÑসবকিছুর জন্য আবার টাকার প্রয়োজন হয়। তখন শুরু হয় নতুন ধার। ঋণ শোধ করতে গিয়ে নতুন ঋণ। এই চক্রই সবচেয়ে ভয়ংকর। ব্যক্তিগত সুদের টাকা গ্রামে এমন মানুষও আছেন, যাঁরা ব্যাংক বা এনজিওর নিয়মকানুনের বাইরে পরিচিতজনের কাছ থেকে টাকা ধার করেন। কারণ প্রয়োজনের সময় দ্রুত টাকা দরকার। কাগজপত্র লাগে না। অপেক্ষা করতে হয় না। কিন্তু সেই টাকার সঙ্গে যদি উচ্চ সুদের বোঝা যুক্ত হয়, তাহলে সাময়িক স্বস্তি পরে দীর্ঘস্থায়ী সংকটে পরিণত হতে পারে।মূল টাকা পরিশোধ করা কঠিন হয়ে পড়ে। সুদের টাকা জমতে থাকে।

 

একসময় ঋণগ্রহীতার কাছে মনে হয়Ñতিনি যেন একটি গর্ত থেকে বের হতে গিয়ে আরেকটি গর্তে পড়েছেন। গ্রামের চায়ের দোকান সাধারণত খবরের জায়গা। কে কোথায় গেলেন, কার ছেলে চাকরি পেল, কার মেয়ের বিয়েÑসব খবর সেখানে পাওয়া যায়। কিন্তু শান্তিপুরের চায়ের দোকানে এখন আরেকটি কথাও শোনা যায়Ñ‘কিস্তি কবে?’ ‘কত টাকা বাকি?’ ‘ওই টাকা কবে দেবে?’ ‘আরেক জায়গা থেকে ধার পাওয়া যাবে কি? ’কেউ প্রকাশ্যে বলেন, কেউ নিচু গলায়।কারণ ঋণের কথা বলা অনেকের কাছেই অস্বস্তিকর।

সবচেয়ে বড় বোঝাÑমানসিক চাপটাকার অভাব চোখে দেখা যায়। কিন্তু দুশ্চিন্তা দেখা যায় না। একজন মানুষ সারাদিন কাজ করছেন, মানুষের সঙ্গে কথা বলছেন, হাসছেন। অথচ রাতে ঘুমাতে যাওয়ার সময় তাঁর মাথায় ঘুরছেÑআগামীকাল টাকা কোথা থেকে আসবে?কিস্তি কীভাবে দেব? পাওনাদারকে কী বলব? সংসারের খরচ কীভাবে চলবে? এই প্রশ্নগুলো দিনের পর দিন চলতে থাকলে মানুষ মানসিকভাবে ক্লান্ত হয়ে পড়তে পারেন। আর এই জায়গাটিই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাওয়ার দাবি রাখে। সাতক্ষীরার আশ্শুনির বুধহাটা গ্রামের দিপংকর দত্তের আকস্মিক মৃত্যু আমাদের এই বাস্তবতার সামনে দাঁড় করিয়েছে। তাঁর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ চিকিৎসাবিজ্ঞানের বিষয়; যথাযথ চিকিৎসা-তথ্য ও তদন্ত ছাড়া কোনো সিদ্ধান্তে যাওয়া উচিত নয়।কিন্তু তাঁর জীবনকে ঘিরে যদি আর্থিক চাপ, এনজিওর কিস্তি, ব্যক্তিগত সুদ ও দুশ্চিন্তার বাস্তবতা থেকে থাকে, তাহলে সেটি নিছক ব্যক্তিগত বিষয় বলে পাশ কাটিয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই।কারণ শান্তিপুরের মতো বাংলাদেশের হাজারো গ্রামে একই গল্প ভিন্ন নামে লেখা হচ্ছে। কেউ দোকানদার। কেউ কৃষক। কেউ শ্রমিক। কেউ ছোট ব্যবসায়ী।

কিন্তু অনেকের জীবনের হিসাব একইÑআয় একদিকে, কিস্তি আরেকদিকে।এ সমস্যা শুধু গ্রামের নয়। শহরের নি¤œমধ্যবিত্ত পরিবারও ঋণের চাপের বাইরে নয়। বাড়িভাড়া, সন্তানের স্কুল, চিকিৎসা, বাজার, পরিবহনÑসব খরচের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে বিভিন্ন ধরনের ঋণ। বেতন আসার আগেই বেতনের একটি অংশের মালিক হয়ে যায় বিভিন্ন কিস্তি। ফলে বেতন বাড়লেও স্বস্তি বাড়ে না। এ যেন নতুন এক বাস্তবতাÑমানুষ আয় করছে, কিন্তু নিজের আয়ের ওপর তার নিয়ন্ত্রণ কমে যাচ্ছে। ঋণ দরকার, কিন্তু ঋণের ফাঁদ নয়ঋণ বন্ধ করা কোনো সমাধান নয়। বরং দরকার দায়িত্বশীল ঋণব্যবস্থা।

 

মানুষের আয় ও পরিশোধ ক্ষমতা বিবেচনা করে ঋণ দিতে হবে। একাধিক ঋণের ঝুঁকি কমাতে হবে। দুর্যোগ বা ব্যবসায়িক ক্ষতির ক্ষেত্রে বাস্তবসম্মত পুনঃতফসিলের সুযোগ থাকতে হবে। সবচেয়ে জরুরি হলোÑঋণগ্রহীতাকে শুধু টাকা ফেরত দেওয়ার যন্ত্র হিসেবে না দেখে মানুষ হিসেবে দেখা। শান্তিপুর কোনো নির্দিষ্ট গ্রামের নাম নয়। এটি বাংলাদেশের হাজারো গ্রামের প্রতীক।ভোরে সেখানে সূর্য ওঠে। কৃষক মাঠে যান। দোকান খোলে। স্কুলে শিশুরা যায়। বাজারে মানুষ কেনাকাটা করে। সবকিছু স্বাভাবিক। কিন্তু সেই স্বাভাবিক জীবনের ভেতর দিয়ে অনেক মানুষ প্রতিদিন অদৃশ্য এক বোঝা বহন করেন। কিস্তির বোঝা। ব্যক্তিগত সুদের বোঝা।

 

সংসারের দায়ের বোঝা।আর সবশেষেÑদুশ্চিন্তার বোঝা। আশাশুনির বুধহাটা গ্রামের দিপংকর আর নেই। তাঁর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ যা-ই হোক, তাঁর জীবনকে ঘিরে ওঠা প্রশ্নগুলো আমাদের থামিয়ে ভাবতে বাধ্য করে। আমরা কি মানুষের হাতে ঋণ তুলে দিয়ে শুধু কিস্তি আদায়ের হিসাব করছি? নাকি দেখছিÑঋণ নেওয়ার পর মানুষটি কেমন আছেন?

কারণ একটি ঋণগ্রহীতা পরিবার শুধু একটি হিসাবের খাতা নয়।সেখানে থাকে মানুষের স্বপ্ন, সন্তানের ভবিষ্যৎ, সংসারের হাসি-কান্না এবং বেঁচে থাকার সংগ্রাম। ঋণ মানুষের জীবনকে এগিয়ে নিকÑমানুষ যেন ঋণের ভারে পিছিয়ে না পড়ে। এটাই হওয়া উচিত আমাদের অর্থনৈতিক ও সামাজিক ব্যবস্থার সবচেয়ে বড় লক্ষ্য।

লেখক: সংবাদ কর্মী

Ads small one

গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার মাধ্যমেই দেশের টেকসই উন্নয়ন সম্ভব: প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:৪২ অপরাহ্ণ
গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার মাধ্যমেই দেশের টেকসই উন্নয়ন সম্ভব: প্রধানমন্ত্রী

সরকার গণতন্ত্রের প্রতি দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, “কার্যকর ও শক্তিশালী গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার মাধ্যমেই দেশের টেকসই অগ্রগতি ও উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব।”

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ইন্টার পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের সেক্রেটারি অ্যান্ডা ফিলিপের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি উল্লেখ করেন, সরকারের সামনে এখনও কিছু চ্যালেঞ্জ আছে।

এ সময় বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিএনপি নেতাকর্মীদের গুম, খুন ও হয়রানির বিষয়গুলো তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

অপরদিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রশংসা করেন অ্যান্ডা ফিলিপ। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রীর নিয়মিত জাতীয় সংসদ অধিবেশনে অংশগ্রহণ গণতন্ত্রের জন্য শক্তিশালী বলে মনে করেন আইপিইউ সেক্রেটারি। সাক্ষাতে নারী ও তরুণদের ক্ষমতায়ন নিয়ে আলোচনা হয়।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদসহ সংশ্লিষ্টরা।

জাতীয় দল থেকে অবসরের ঘোষণা মেসির

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:৪০ অপরাহ্ণ
জাতীয় দল থেকে অবসরের ঘোষণা মেসির

অবশেষে সেই ঘোষণা এলো যেটির জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত হতে হচ্ছিল আর্জেন্টিনা ও ফুটবল বিশ্বকে। আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি লিওনেল মেসি।

সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টের মাধ্যমে নিজের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টানার সিদ্ধান্ত জানান আর্জেন্টিনার এই মহাতারকা।

ইনস্টাগ্রামে হাতে লেখা নোটের ছবি প্রকাশ করে আর্জেন্টিনা জাতীয় দল থেকে অবসরের ঘোষণা দেন তিনি। নিজের সিদ্ধান্তের কথা জানাতে গিয়ে মেসি লিখেছেন, ‘ফাইনালের পর সময় পেরিয়ে গেছে। অনেক ভেবেচিন্তে সবাইকে জানাতে চাই, আমি আর্জেন্টিনা জাতীয় দল থেকে অবসর নিচ্ছি।’

‘এটি এমন একটি সিদ্ধান্ত, যা আমাকে কষ্ট দিয়েছে—এখনো ভেতর থেকে গভীরভাবে কষ্ট দেয়। কিন্তু আমি বুঝতে পারছি, সময় এসে গেছে।’

আর্জেন্টিনার হয়ে শুধু শেষ কয়েক বছরে নয়, পুরো ক্যারিয়ারজুড়েই নিজের সর্বস্ব উজাড় করে দেওয়ার কথা জানিয়েছেন মেসি, ‘আমি সবসময় আমার সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। শুধু সাম্প্রতিক কয়েক বছরে যখন আমরা সবকিছু জিতেছি, তখন নয়; তার আগেও। এই জার্সির জন্য সবসময় লড়েছি, মাঠে সবকিছু দিয়েছি—ফুটবলের মাধ্যমে আপনাদের আনন্দ দিতে এবং আর্জেন্টাইন হিসেবে গর্বিত করতে।’

মেসির এই ঘোষণার সঙ্গে জড়িয়ে আছে তার জীবনের সবচেয়ে কঠিন এক ব্যক্তিগত অধ্যায়ও। তার বাবা হোর্হে মেসি গত ৮ আগস্ট আর্জেন্টিনার রোজারিও শহরের একটি হাসপাতালে মারা যান। তার বয়স হয়েছিল ৬৮ বছর।

ইনস্টাগ্রামে প্রকাশিত লেখার শেষে মেসি একটি বিশেষ নোটও যোগ করেছেন, ‘আমি এই কথাগুলো ২১ জুলাই লিখেছিলাম, ফাইনালের দুই দিন পর। আজ, আমার বাবার সঙ্গে যা ঘটেছে, তার পর আমি আগের চেয়েও বেশি নিশ্চিত।’

অর্থাৎ সিদ্ধান্তটি একদিনে নেওয়া নয়। বিশ্বকাপের পর থেকেই আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে সরে দাঁড়ানোর বিষয়টি নিয়ে ভাবছিলেন মেসি। বাবার মৃত্যুর পর সেই সিদ্ধান্ত আরও দৃঢ় হয়েছে।

আর্জেন্টিনার জার্সির সঙ্গে নিজের গভীর সম্পর্কের কথা তুলে ধরে মেসি লিখেছেন, ‘আমি জাতীয় দলের অংশ হতে ভালোবাসি, ভালোবেসেছি এবং সবসময় ভালোবাসবো। আমি আমার সবকিছু দিয়ে দিয়েছি। আমার আর কিছু দেওয়ার নেই। তাছাড়া দারুণ কিছু তরুণ খেলোয়াড় উঠে আসছে, যারা এখানে থাকার যোগ্য।’

দুই দশক ধরে সমর্থকদের ভালোবাসার জন্যও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক, ‘গত ২০ বছরের সব ভালোবাসার জন্য ধন্যবাদ। মাঠ থেকে আপনাদের কণ্ঠ শুনতে আমি ভীষণ মিস করবো। এখন আমি আপনাদেরই একজন হয়ে বাইরে থেকে দলকে সমর্থন করবো—ভালো সময়েও, খারাপ সময়েও; বিশেষ করে খারাপ সময়গুলোতে।’

পরিবার, কোচ, সতীর্থ ও দলের কর্মকর্তাদেরও ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি। তাদের সঙ্গে কাটানো সময়গুলোকে জীবনের ‘অবিস্মরণীয় স্মৃতি’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

আর্জেন্টিনার হয়ে মেসির ক্যারিয়ার শেষ হচ্ছে একেবারে রূপকথার মতো। ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপে দলকে নেতৃত্ব দিয়ে ৩৬ বছর পর বিশ্বকাপ জেতান তিনি। এটি ছিল আর্জেন্টিনার ইতিহাসে তৃতীয় বিশ্বকাপ। তার আগে দীর্ঘ ২৮ বছরের শিরোপা-খরা কাটিয়ে ২০২১ কোপা আমেরিকা জিতেছিল আর্জেন্টিনা। মেসির নেতৃত্বে ২০২৪ সালেও কোপা আমেরিকার শিরোপা ধরে রাখে তারা।

তবে সেই সাফল্যের আগে আন্তর্জাতিক ফুটবলে মেসির পথচলা ছিল হতাশায় ভরা। ২০১৬ সালে টানা তিনটি ফাইনালে হারের পর একবার আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছিলেন তিনি। পরে সেই সিদ্ধান্ত বদলে ফিরে আসেন এবং শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ জেতান।

আর্জেন্টিনার হয়ে মেসিই সর্বোচ্চ ম্যাচ খেলা এবং সর্বোচ্চ গোল করা খেলোয়াড়। জাতীয় দলের হয়ে ২০৩ ম্যাচে তার গোল ১২৪টি।

দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবল ইতিহাসেও সর্বোচ্চ গোলদাতা পুরুষ খেলোয়াড় তিনি। দুই দশকের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে মেসি শুধু রেকর্ডই গড়েননি, আর্জেন্টিনার ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সাফল্যগুলোরও অংশ হয়েছেন। শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপ হাতে তুলে ধরেই পূর্ণতা পেয়েছে তার স্বপ্ন।

দাপুটে জয়ে এশিয়া কাপ শুরু বাংলাদেশের

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:৩৬ অপরাহ্ণ
দাপুটে জয়ে এশিয়া কাপ শুরু বাংলাদেশের

নারী এশিয়া কাপে দারুণ জয় দিয়ে শুরু করেছে বাংলাদেশ। গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচে নাহিদা আক্তারের দুর্দান্ত বোলিংয়ে ইন্দোনেশিয়াকে ৭১ রানে হারিয়েছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।

১৩০ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুটা আক্রমণাত্মক করেছিল ইন্দোনেশিয়া। ওপেনার মারিয়া ও প্যাঙ্গেসতুতির ব্যাটিং কিছুটা শঙ্কাও জাগিয়েছিল বাংলাদেশের সমর্থকদের মনে।

তবে মারুফা আক্তারের জোড়া আঘাতে ম্যাচে ফেরে বাংলাদেশ। এরপর মেঘলা, নাহিদা ও ফাহিমাদের দারুণ বোলিংয়ে আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি ইন্দোনেশিয়া। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ১২ রান করেন ওপেনার মারিয়া।

বাংলাদেশের হয়ে সেরা বোলিং করেছেন নাহিদা আক্তার। ৪ ওভারে মাত্র ১৫ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিয়েছেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ১৭ দশমিক ৫ ওভারে ৫৮ রানেই গুটিয়ে যায় ইন্দোনেশিয়ার ইনিংস।

এর আগে দুবাই আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে টসে জিতে বাংলাদেশকে ব্যাটিংয়ে পাঠায় ইন্দোনেশিয়া। দলীয় ১৬ রানে জুয়াইরিয়া ফেরদৌস ফিরে গেলে জুটি গড়েন দিলারা আক্তার ও সোবহানা মোস্তারি।

দুজনের ৪০ রানের জুটি ভাঙে ২৭ রান করা দিলারা ফিরলে। এরপর সোবহানা মোস্তারি দলীয় সর্বোচ্চ ৪০ রান করে ফেরেন। ৪২ বলে ২ চার ও ১ ছক্কায় এই রান করেন তিনি।

শেষ দিকে স্বর্ণা আক্তারের ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে ১০০ রান পেরোয় বাংলাদেশের স্কোর। ১৮ বলে ৩ চার ও ১ ছক্কায় ৩১ রানের ক্যামিও খেলেন তিনি।

শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ১২৯ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ।