বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯ ভাদ্র ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯ ভাদ্র ১৪৩৩

অন্ধকার ভেঙে কৃষ্ণের আবির্ভাব/ সচ্চিদানন্দ দে সদয়

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:০৮ অপরাহ্ণ
অন্ধকার ভেঙে কৃষ্ণের আবির্ভাব/ সচ্চিদানন্দ দে সদয়

সচ্চিদানন্দ দে সদয়

ভগবান শ্রীকৃষ্ণ সনাতন ধর্মের এক অনন্য ও সর্বজনীন চরিত্র। তাঁকে ঘিরে যেমন রয়েছে অসংখ্য পুরাণকথা, তেমনি রয়েছে গভীর দার্শনিক চিন্তা এবং ভারতীয় ইতিহাস ও সংস্কৃতিতে তাঁর দীর্ঘ প্রভাব। কৃষ্ণকে বুঝতে হলে তাই শুধু ভক্তির চোখে দেখলেই হবে না; প্রয়োজন পুরাণ, দর্শন ও ইতিহাসÑএই তিনটি পৃথক স্তরকে পাশাপাশি রেখে দেখতে হবে। জন্মাষ্টমী সেই উপলক্ষ, যখন কোটি কোটি মানুষ শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাব স্মরণ করেন। কিন্তু এই আবির্ভাবের অর্থ কী? কৃষ্ণের জন্মকাহিনির কোন অংশ পুরাণীয় আখ্যান, কোনটি দার্শনিক প্রতীক এবং কৃষ্ণভক্তি কীভাবে ইতিহাস ও সংস্কৃতির অংশ হয়ে উঠলÑএসব প্রশ্নও গুরুত্বপূর্ণ। শ্রীকৃষ্ণের জন্মের প্রধান কাহিনি পাওয়া যায় ভাগবত পুরাণ, হরিবংশ এবং বিষ্ণু পুরাণ-সহ বিভিন্ন বৈষ্ণব ঐতিহ্যের গ্রন্থে। পুরাণীয় বর্ণনা অনুযায়ী, মথুরার রাজা কংস তাঁর বোন দেবকী ও তাঁর স্বামী বাসুদেবকে কারাগারে বন্দি করেন। একটি দৈববাণী ছিলÑদেবকীর অষ্টম সন্তান কংসের মৃত্যুর কারণ হবে। এই আশঙ্কায় কংস দেবকীর সন্তানদের হত্যা করতে থাকেন। অষ্টম সন্তান হিসেবে কৃষ্ণের আবির্ভাব ঘটে কারাগারে। পুরাণের কাহিনিতে বলা হয়, কৃষ্ণ জন্মের সময় কারাগারের প্রহরীরা ঘুমিয়ে পড়েন, কারাগারের বন্ধন শিথিল হয় এবং বাসুদেব নবজাতক কৃষ্ণকে নিয়ে যমুনা পেরিয়ে গোকুলে নন্দ-যশোদার কাছে পৌঁছে দেন। সেই সময় প্রবল বৃষ্টি হচ্ছিল। অনন্তনাগ তাঁর ফণা বিস্তার করে কৃষ্ণকে বৃষ্টির হাত থেকে রক্ষা করেনÑএমন বর্ণনাও পুরাণে পাওয়া যায়। ভক্তের কাছে এগুলো ঈশ্বরীয় লীলা; গবেষকের কাছে এগুলো ধর্মীয় সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অংশ। বৃন্দাবনের কৃষ্ণকে কেন্দ্র করে অসংখ্য কাহিনি গড়ে উঠেছে। পুতনা বধ, তৃণাবর্ত, বকাসুর, অঘাসুর, কালীয়দমন, গোবর্ধন ধারণÑএসব কাহিনি কৃষ্ণের শৈশব ও কৈশোরের সঙ্গে যুক্ত। গোপাল কৃষ্ণের মাখনচুরি, গোপীদের সঙ্গে তাঁর লীলা, বাঁশির সুর এবং রাধার সঙ্গে প্রেমের আখ্যান পরবর্তী বৈষ্ণব ভক্তি-সাহিত্যকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে।পুরাণের কৃষ্ণ তাই একই সঙ্গে বালক, প্রেমিক, রক্ষাকর্তা, অসুরবিনাশী ও ঈশ্বর।পুরাণের কৃষ্ণের সঙ্গে দর্শনের কৃষ্ণের একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে। দর্শনের কৃষ্ণ আমাদের কাছে সবচেয়ে স্পষ্ট হয়ে ওঠেন শ্রীমদ্ভগবদ্গীতায়।
কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধের আগে অর্জুন যখন আত্মীয়-স্বজন, গুরু ও বন্ধুদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে হবে ভেবে দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে পড়েন, তখন কৃষ্ণ তাঁর সারথি হিসেবে তাঁকে উপদেশ দেন। এই কথোপকথনই ভগবদ্গীতার মূল বিষয়। গীতায় কৃষ্ণ মানুষের সামনে কয়েকটি মৌলিক প্রশ্ন তুলে ধরেনÑমানুষের কর্তব্য কী? কর্ম কী? আত্মা কী? জ্ঞান কী? আসক্তি কী? মুক্তি কী? ন্যায় ও অন্যায়ের মধ্যে মানুষ কীভাবে সিদ্ধান্ত নেবে?গীতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হলো কর্মের প্রতি মানুষের দায়িত্ব। মানুষের হাতে সবসময় ফল থাকে না; কিন্তু নিজের কর্মের ক্ষেত্রে দায়িত্বশীল থাকা তার কর্তব্য। এই দর্শনকে কর্মযোগ বলা হয়। আধুনিক ভাষায় বলা যায়Ñফলের নিশ্চয়তা না থাকলেও সৎ ও দায়িত্বশীল কাজ থেকে পিছিয়ে যাওয়া উচিত নয়। কৃষ্ণ মানুষকে শুধু বাহ্যিক জ্ঞান অর্জন করতে বলেননি; নিজের অস্তিত্ব, কর্তব্য ও জীবনের প্রকৃতি বোঝার কথাও বলেছেন। নিজেকে জানা, নিজের দুর্বলতা চিনতে পারা এবং সত্যকে উপলব্ধি করার চেষ্টাÑগীতার জ্ঞানভাবনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কৃষ্ণের দর্শনে ভক্তিও একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ। এখানে ঈশ্বরের প্রতি আত্মসমর্পণ, প্রেম ও বিশ্বাসের মাধ্যমে আত্মিক উন্নতির কথা বলা হয়। পরবর্তী বৈষ্ণব দর্শন ও ভক্তি আন্দোলনে এই ভাবনা আরও বিস্তৃত হয়েছে।

গীতার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হলো ইন্দ্রিয় ও মনের ওপর নিয়ন্ত্রণ।লোভ, ক্রোধ, মোহ ও অহংকার মানুষকে নিজের কাছ থেকেই বিচ্ছিন্ন করে। ফলে কৃষ্ণদর্শনে প্রকৃত যুদ্ধ শুধু বাইরের শত্রুর সঙ্গে নয়; মানুষের নিজের অন্তরের দুর্বলতার সঙ্গেও।এই কারণে কুরুক্ষেত্রকে একটি প্রতীক হিসেবেও পড়া যায়Ñমানুষের নিজের ভেতরের নৈতিক দ্বন্দ্বের ক্ষেত্র হিসেবে।কৃষ্ণকে ঘিরে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রাচীন সাহিত্যিক উৎসগুলোর মধ্যে মহাভারত, হরিবংশ, বিষ্ণু পুরাণ এবং ভাগবত পুরাণ উল্লেখযোগ্য। এগুলো বিভিন্ন সময়ে রচিত ও সংকলিত হয়েছে এবং কৃষ্ণের চরিত্র ও কাহিনিকে ক্রমে বিস্তৃত করেছে।

 

ইতিহাসের দৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলোÑকৃষ্ণের চরিত্র ভারতীয় সাংস্কৃতিক ইতিহাসে অত্যন্ত প্রাচীন এবং তাঁর উপাসনা ও ভক্তি বহু শতাব্দী ধরে বিকশিত হয়েছে।প্রাচীন ভারতীয় সাহিত্য থেকে শুরু করে গুপ্ত যুগ, মধ্যযুগের বৈষ্ণব আন্দোলন, বাংলা পদাবলি, চৈতন্যভক্তি এবং আধুনিক যুগ পর্যন্ত কৃষ্ণভক্তির ধারাবাহিক বিস্তার দেখা যায়।অর্থাৎ কৃষ্ণের ঐতিহাসিক গুরুত্ব কেবল তাঁর জন্মের নির্দিষ্ট তারিখ প্রমাণ করার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বরং ভারতীয় সমাজ ও সংস্কৃতির ওপর তাঁর দীর্ঘস্থায়ী প্রভাবই ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।কৃষ্ণকে দেবকীর অষ্টম সন্তান বলা হয়।

 

এটি কৃষ্ণজন্মের পুরাণীয় কাহিনির একটি মৌলিক অংশ। তবে ‘অষ্টম’ শব্দকে কেন্দ্র করে পরবর্তী আধ্যাত্মিক ব্যাখ্যাও রয়েছে।ভগবদ্গীতার সপ্তম অধ্যায়ে কৃষ্ণ তাঁর ‘অপরা প্রকৃতি’র আটটি উপাদানের কথা বলেছেনÑপৃথিবী, জল, অগ্নি, বায়ু, আকাশ, মন, বুদ্ধি ও অহংকার।এই আট উপাদানকে কেন্দ্র করে মহাবিশ্ব ও মানবসত্তার প্রকৃতি ব্যাখ্যা করা হয়। সুতরাং কেউ যদি ‘অষ্টম’কে এই আট প্রকৃতির সঙ্গে যুক্ত করে কৃষ্ণতত্ত্বের ব্যাখ্যা দেন, সেটি দার্শনিক বা আধ্যাত্মিক ব্যাখ্যা হিসেবে গ্রহণযোগ্য হতে পারে। এখানে পুরাণ ও দর্শনের পার্থক্যটি বোঝা জরুরি।পুরাণ বলেÑকৃষ্ণ দেবকীর অষ্টম সন্তান। দর্শন ব্যাখ্যা করতে পারেÑকৃষ্ণকে প্রকৃতি ও পরমচেতনার সম্পর্কের প্রতীক হিসেবে।

 

কৃষ্ণের শ্যামবর্ণ: রূপের বাইরে তত্ত্ব কৃষ্ণের নামের সঙ্গে ‘শ্যাম’ ও ‘ঘনশ্যাম’ শব্দ গভীরভাবে যুক্ত। ভারতীয় শিল্প ও ভক্তি-সাহিত্যে তাঁকে কখনো নীল, কখনো শ্যামবর্ণ হিসেবে চিত্রিত করা হয়েছে। এখানেও পুরাণ, শিল্প ও দর্শনের নিজস্ব ব্যাখ্যা রয়েছে।তাঁর ‘কৃষ্ণ’ পরিচয়ের সাংস্কৃতিক অর্থ। তিনি এমন এক চরিত্র, যাঁর মধ্যে একই সঙ্গে শিশুর সরলতা, প্রেমের আকর্ষণ, রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, যুদ্ধের কৌশল এবং দার্শনিক গভীরতা মিলেছে। বাংলাদেশে জন্মাষ্টমী শুধু ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়; এটি দীর্ঘদিনের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যেরও অংশ। মন্দিরে পূজা, উপবাস, কীর্তন, ধর্মীয় আলোচনা, পঞ্চামৃত নিবেদন এবং প্রসাদ বিতরণের পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানে শোভাযাত্রার আয়োজন হয়ে থাকে। ঢাকার জন্মাষ্টমীর শোভাযাত্রা বিশেষভাবে ঐতিহাসিক গুরুত্ব বহন করে।

 

সময়ের সঙ্গে এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বাংলার লোকশিল্প, সংগীত, সাজসজ্জা ও জনসম্পৃক্ততা। এখানে জন্মাষ্টমী একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণÑকীভাবে একটি ধর্মীয় বিশ্বাস সময়ের প্রবাহে একটি বৃহত্তর সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যে পরিণত হয়।পঞ্চামৃত: ধর্মীয় আচার ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য। জন্মাষ্টমীর পূজা ও কৃষ্ণভক্তির বিভিন্ন আচারে পঞ্চামৃতের ব্যবহার প্রচলিত। সাধারণত দুধ, দই, ঘি, মধু ও চিনি দিয়ে এটি প্রস্তুত করা হয়।‘পঞ্চ’ অর্থ পাঁচ এবং ‘অমৃত’ অর্থ অমৃত বা অমরত্বের সঙ্গে সম্পর্কিত ধারণা।

 

পঞ্চামৃতকে মূলত ধর্মীয় নিবেদন ও প্রসাদ হিসেবে দেখা হয়। এর সঙ্গে নানা লোকবিশ্বাস ও স্বাস্থ্যসংক্রান্ত ধারণা যুক্ত থাকলেও ধর্মীয় আচার হিসেবে এর পবিত্রতা ও সাংস্কৃতিক গুরুত্বই প্রধান। তিনটি স্তর একসঙ্গে দেখলে কৃষ্ণকে কীভাবে বোঝা যায়?শ্রীকৃষ্ণকে বোঝার জন্য তিনটি স্তরকে আলাদা করা অত্যন্ত জরুরি। পুরাণের কৃষ্ণ আমাদের দেন কাহিনিÑজন্ম, গোকুল, বৃন্দাবন, কংসবধ, রাধা, গোপী, গোবর্ধন ও অসুরবধের আখ্যান। দর্শনের কৃষ্ণ আমাদের দেন প্রশ্নের উত্তরÑকর্তব্য কী, কর্ম কী, জ্ঞান কী, ভক্তি কী, আত্মসংযম কী এবং জীবনের সংকটে কীভাবে সিদ্ধান্ত নিতে হয়।

 

ইতিহাসের কৃষ্ণ আমাদের দেখানÑকীভাবে একটি ধর্মীয় চরিত্র শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে ভারতীয় সাহিত্য, শিল্প, সংগীত, ধর্মীয় আন্দোলন ও লোকসংস্কৃতিকে প্রভাবিত করেছে। এই তিনটি স্তরকে এক করে ফেললে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে। আবার তিনটিকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করলেও কৃষ্ণের সামগ্রিক সাংস্কৃতিক গুরুত্ব বোঝা যায় না। আজ মানুষ প্রযুক্তিতে এগিয়েছে, কিন্তু নৈতিক সংকট থেকে মুক্ত হতে পারেনি। অর্থ ও ক্ষমতার প্রতিযোগিতা বাড়ছে, অথচ মানুষের মধ্যে শান্তি ও সহমর্মিতার প্রয়োজনও বাড়ছে।

কৃষ্ণের শিক্ষা আমাদের মনে করিয়ে দেয়Ñকর্তব্য থেকে পালিয়ে যাওয়া সমাধান নয়; অন্যায়ের সঙ্গে আপস করাও নৈতিকতার পরিচয় নয়; আর জ্ঞান যদি অহংকার বাড়ায়, তবে সেই জ্ঞান অসম্পূর্ণ।

তাঁর দর্শনে কর্ম আছে, কিন্তু কর্মের অহংকার নেই। জ্ঞান আছে, কিন্তু জ্ঞানের দম্ভ নেই। ভক্তি আছে, কিন্তু ভক্তির সঙ্গে আত্মশুদ্ধির কথাও আছে।তাই জন্মাষ্টমীকে শুধু একটি ধর্মীয় উৎসব হিসেবে না দেখে আত্মজিজ্ঞাসার দিন হিসেবেও দেখা যায়। কারাগারের অন্ধকারে কৃষ্ণের জন্মের পুরাণকথা আমাদের মনে করিয়ে দেয়Ñঅন্ধকারের মধ্যেই আলোর জন্ম হতে পারে। আর গীতার কৃষ্ণ আমাদের শেখানÑজীবনের কুরুক্ষেত্র থেকে পালিয়ে নয়, নিজের কর্তব্য ও বিবেককে সঙ্গে নিয়ে তার মোকাবিলা করতে হয়। শ্রীকৃষ্ণকে নিয়ে বিশ্বাসের জায়গা একান্তই ব্যক্তিগত ও ধর্মীয়।

 

কিন্তু তাঁর দর্শন ও সাংস্কৃতিক প্রভাবের জায়গাটি অনেক বিস্তৃত।তাঁকে কেউ ভগবান হিসেবে পূজা করেন, কেউ দার্শনিক হিসেবে পাঠ করেন, কেউ প্রেমের প্রতীক হিসেবে অনুভব করেন, আবার কেউ ভারতীয় সভ্যতার এক গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক চরিত্র হিসেবে বিশ্লেষণ করেন। এই বহুমাত্রিকতাই কৃষ্ণকে যুগের পর যুগ জীবন্ত রেখেছে। জন্মাষ্টমীর প্রকৃত তাৎপর্য তাই শুধু কৃষ্ণের জন্মস্মরণে নয়; বরং নিজের জীবনের অন্ধকার, অন্যায়, অহংকার ও বিভ্রান্তির বিরুদ্ধে আলো, ন্যায়, প্রেম ও বিবেককে জাগ্রত করার মধ্যেও নিহিত।

 

পুরাণ আমাদের কৃষ্ণের কাহিনি দেয়, দর্শন দেয় তাঁর বাণীর অর্থ, আর ইতিহাস দেখায়Ñকীভাবে সেই কৃষ্ণ মানুষের সভ্যতা ও সংস্কৃতির দীর্ঘ যাত্রায় এক অবিনাশী উত্তরাধিকার হয়ে উঠেছেন। জন্মাষ্টমীর পবিত্র তিথিতে প্রার্থনা হোকÑ অন্যায়ের বিনাশ হোক, শুভবুদ্ধির উদয় হোক; মানুষের হৃদয়ে জেগে উঠুক প্রেম, সত্য, ন্যায় ও মানবিকতার আলো।

লেখক: সংবাদকর্মী

 

Ads small one

নাম বদলে যাচ্ছে র‌্যাবের, সংসদে বিল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৪৪ পূর্বাহ্ণ
নাম বদলে যাচ্ছে র‌্যাবের, সংসদে বিল

র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) বিলুপ্ত করে পুলিশের আওতাধীন ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন’ (এসআরবি) নামে নতুন একটি বিশেষায়িত ইউনিট গঠনের বিধান রেখে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) আইন, ২০২৬’-এর বিল জাতীয় সংসদে উত্থাপন করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের চতুর্থ দিনে বিলটি সংসদে উত্থাপন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। সভাপতিত্ব করেন স্পিকারের দায়িত্বে থাকা ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

র‌্যাব বিলুপ্ত করে এসআরবি আইনের বিলটি উত্থাপনের পর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পরীক্ষা-নীরিক্ষার জন্য পাঠানো হয়। কামিটিকে যাচাই-বাছাই শেষে আগামী দুই কর্মদিবসের মধ্যে সংসদে ফেরত পাঠাতে বলা হয়।

উত্থাপনের আগে বিলটি নিয়ে আপত্তি জানান বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান এবং বিরোধী দলের চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তারা সংসদীয় কমিটিতে দুই দিন বাদ দিয়ে কর্মদিবস বাড়ানোর দাবি জানান। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী চার কার্যদিবসের মধ্যে বিলটি যাচাই-বাছাই শেষে ফেরত পাঠানোর প্রস্তাব করেন। চার কর্মদিবস ঠিক করে সর্বসম্মতিতে বিলটি স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়।

বিলে বলা হয়েছে, দেশের জননিরাপত্তা রক্ষা, সন্ত্রাসবাদ ও সংঘবদ্ধ অপরাধ দমন এবং পুলিশ বাহিনীকে সহায়তার জন্য আধুনিক, পেশাদার, দক্ষ ও জবাবদিহিমূলক একটি বিশেষায়িত ইউনিট প্রয়োজন। একইসঙ্গে এ বাহিনীর ক্ষমতা প্রয়োগে স্বচ্ছতা, তদারকি ও কার্যকর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে।

বিলের ১ ধারায় বলা হয়েছে, এই আইন ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) আইন, ২০২৬’ নামে অভিহিত হবে।

পুলিশের আওতায় বিশেষায়িত ইউনিট

বিলের ৪ ধারায় বলা হয়েছে, ‘পুলিশ বাহিনীর আওতাধীন স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) নামে একটি বিশেষায়িত ইউনিট থাকবে।’

সরকার প্রয়োজনের নিরিখে পুলিশ বাহিনী, শৃঙ্খলা বাহিনী এবং নির্ধারিত সংখ্যক কর্মকর্তা, আর্মড পার্সোনেল বা কর্মচারী পদায়ন বা প্রেষণে নিয়োগের মাধ্যমে এই ইউনিট গঠন করবে। ইউনিটের সদর দফতর থাকবে ঢাকায়।

এসআরবি’র একজন মহাপরিচালক থাকবেন। তিনি বাংলাদেশ পুলিশে কর্মরত অন্যূন অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের মধ্য থেকে সরকার কর্তৃক নিযুক্ত হবেন। মহাপরিচালক ইউনিটের প্রশাসনিক, আর্থিক ও অপারেশনাল ক্ষমতা প্রয়োগ করবেন।

যেসব দায়িত্ব পালন করবে এসআরবি

বিলের ১০ ধারায় এসআর-এর দায়িত্ব ও কার্যাবলি নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—

“জননিরাপত্তা রক্ষা’, ‘সন্ত্রাস ও সংঘবদ্ধ অপরাধ দমন’, ‘বেআইনি অস্ত্র, গোলাবারুদ ও বিস্ফোরক উদ্ধার’ এবং ‘মাদক, সাইবার অপরাধ, গুম ও ভূমি দস্যুতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ।”

এ ছাড়া নারী ও শিশু নির্যাতন, ধর্ষণ, মানবপাচার, অপহরণসহ মানবতাবিরোধী কাজে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ, আইনশৃঙ্খলা সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহায়তা করার দায়িত্বও থাকবে। আদালত, সরকার বা পুলিশ মহাপরিদর্শকের নির্দেশ অনুসারে এসব অপরাধের তদন্তও করতে পারবে ইউনিটটি।

তল্লাশি, জব্দ ও গ্রেফতারের ক্ষমতা

বিলের ১২ ধারায় এসআরবি-কে কোনও স্থানে প্রবেশ, তল্লাশি, জব্দ ও গ্রেফতারের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। তবে এসব ক্ষমতা ফৌজদারি কার্যবিধি ও বিদ্যমান অন্যান্য আইনের বিধান প্রতিপালন সাপেক্ষে প্রয়োগ করতে হবে।

১৩ ধারায় বলা হয়েছে, ‘তল্লাশি, আটক, জব্দ ও গ্রেফতারের ক্ষেত্রে ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী তদন্তকারী কর্মকর্তার যে ক্ষমতা, দায়িত্ব ও কার্যাবলি রয়েছে, পুলিশের সাব-ইন্সপেক্টর পদমর্যাদার নিচে নন—এমন ইউনিটের কর্মকর্তা তা প্রয়োগ করতে পারবেন।’

তবে গ্রেফতার বা আলামত জব্দ করার পর তা এসআরবি-এর কাছে আটকে রাখা যাবে না। বিলের ১৪ ধারায় বলা হয়েছে, “গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিকে বা জব্দকৃত আলামত অনতিবিলম্বে নিকটবর্তী থানা কর্তৃপক্ষের হেফাজতে সোপর্দ বা হস্তান্তর করবেন।” একই সঙ্গে এ বিষয়ে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন দাখিল করতে হবে।

ফৌজদারি মামলার তদন্ত করতে পারবে

আদালত, সরকার বা পুলিশ মহাপরিদর্শক যেকোনও সময় এসআরবি মহাপরিচালককে কোনও ফৌজদারি অপরাধ তদন্তের নির্দেশ দিতে পারবেন। মহাপরিচালক পুলিশের সাব-ইন্সপেক্টর বা তার ঊর্ধ্ব পদমর্যাদার কোনও সদস্যকে তদন্তের দায়িত্ব দিতে পারবেন।

তদন্তের সময় ফৌজদারি কার্যবিধি ও সংশ্লিষ্ট বিধিবিধান অনুসরণ করতে হবে। তদন্তের প্রয়োজনে এসআরবি-এর হাজতখানা, মালখানা ও জিজ্ঞাসাবাদ কক্ষ থাকার কথাও বিলে বলা হয়েছে।

সদস্যদের যেসব কাজ শৃঙ্খলা লঙ্ঘন

বিলের ১৭ ধারায় এসআরবি সদস্যদের বিভিন্ন শৃঙ্খলা লঙ্ঘনের বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে কর্তব্যরত অবস্থায় মাতাল বা নেশাগ্রস্ত থাকা, সহকর্মীকে আঘাত বা অসদাচরণ করা, অনুমতি ছাড়া গার্ড, চৌকি বা পেট্রোল ত্যাগ করা, আটক বা গ্রেফতার থেকে পালিয়ে যাওয়া এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার আইনসংগত আদেশ অমান্য করা রয়েছে।

এ ছাড়া দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতা, অস্ত্র-গোলাবারুদ বা সরঞ্জাম ক্ষতি বা হারানো, অসুস্থতার ভান করা, বলপূর্বক অর্থ আদায়, বেআইনিভাবে জমি দখল, সম্পদ চুরি বা ধ্বংস, অপরাধীকে আটক করতে ব্যর্থ হওয়া এবং জুয়া বা অবৈধ মাদকের সঙ্গে জড়িত থাকাকেও শৃঙ্খলা লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।

১৫ দিনের বেশি আটক থাকলে প্রতি ৭ দিনে প্রতিবেদন

কোনও সদস্যের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলা লঙ্ঘনের অভিযোগ বা আশঙ্কার যৌক্তিক কারণ থাকলে তাকে আটক করার ক্ষমতা রাখা হয়েছে। তবে আটকাদেশ প্রদানকারী কর্মকর্তাকে দ্রুত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে এবং আটক সদস্যকে লিখিতভাবে কারণ জানাতে হবে।

কোনও সদস্য ১৫ দিনের বেশি আটক থাকলে প্রতি সাত দিন অন্তর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন দিতে হবে। আর “আটককৃত সদস্যের বিরুদ্ধে প্রাথমিক কোনও প্রমাণ না থাকিলে তাহাকে অবিলম্বে মুক্তি দিতে হইবে।”

শাস্তি হিসেবে বরখাস্ত, অপসারণ, অবসর ও পদাবনতি

এসআরবি সদস্যদের শৃঙ্খলা লঙ্ঘনের জন্য গুরুদণ্ড ও লঘুদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

গুরুদণ্ড হিসেবে চাকরি থেকে বরখাস্ত, অপসারণ, বাধ্যতামূলক অবসর, চাকরি থেকে অব্যাহতি, নির্দিষ্ট সময়ের জন্য পদাবনতি, পদোন্নতি বন্ধ, সর্বোচ্চ এক বছরের জ্যেষ্ঠতা বা বেতন-ভাতা বাজেয়াপ্ত এবং নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বেতন বৃদ্ধি স্থগিত করার বিধান রয়েছে।

লঘুদণ্ড হিসেবে অনূর্ধ্ব এক মাসের বেতনের সমপরিমাণ জরিমানা, তিরস্কার, অনূর্ধ্ব ৩০ দিনের জন্য কোয়ার্টার গার্ডে আটক, অনূর্ধ্ব ৩০ দিনের জন্য ব্যাটালিয়নে আটক রেখে অতিরিক্ত ড্রিল, গার্ড বা অন্য দায়িত্ব এবং দৈনিক দুই ঘণ্টা করে সর্বোচ্চ ১৪ দিনের জন্য শাস্তিমূলক ড্রিলের বিধান রাখা হয়েছে।

তবে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে কোনও সদস্যকে এসব শাস্তি দেওয়া যাবে না।

শাস্তির বিরুদ্ধে ৩০ দিনের মধ্যে আপিল

বিভাগীয় কার্যধারায় দেওয়া আদেশের বিরুদ্ধে আদেশ প্রদানের তারিখ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে আপিল করার সুযোগ রাখা হয়েছে। ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক বা ক্ষমতাপ্রাপ্ত পুলিশ সুপারের আদেশের বিরুদ্ধে মহাপরিচালক বা তার ক্ষমতাপ্রাপ্ত অতিরিক্ত মহাপরিচালকের কাছে এবং মহাপরিচালকের আদেশের বিরুদ্ধে পুলিশ মহাপরিদর্শকের কাছে আপিল করা যাবে। আপিলের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হবে।

অভিযোগ প্রতিকার কমিটিতে মানবাধিকারকর্মী

এসআরবি সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত অভিযোগ এবং বাহিনীর সদস্যদের অভ্যন্তরীণ সংক্ষোভ নিরসনে ‘অভিযোগ প্রতিকার কমিটি’ গঠনের বিধান রাখা হয়েছে।

কমিটিতে এসআরবি-এর একজন অতিরিক্ত মহাপরিচালক, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন প্রতিনিধি, পুলিশ সদর দফতরের অন্যূন এআইজি পদমর্যাদার একজন প্রতিনিধি, আইন বা বিচার প্রশাসনে কমপক্ষে ১০ বছরের অভিজ্ঞ একজন বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তা, মানবাধিকার সংরক্ষণ ও বাস্তবায়নে কমপক্ষে ১০ বছরের অভিজ্ঞ একজন ব্যক্তি এবং ইউনিটের পরিচালক (লিগ্যাল ও মিডিয়া) থাকবেন।

কমিটি অভিযোগের বিষয়ে অনুসন্ধান করতে পারবে এবং অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করতে পারবে। পদোন্নতি, পদায়ন, বিভাগীয় শাস্তি, হয়রানি বা অন্যায্য আচরণসহ বিভিন্ন বিষয়ে সদস্যদের সংক্ষোভও কমিটি নিষ্পত্তির উদ্যোগ নিতে পারবে।

এ ছাড়া অভিযোগ অনুসন্ধানের সময় সাক্ষী ও দলিল উপস্থাপনের ক্ষেত্রে কমিটির দেওয়ানি আদালতের অনুরূপ এখতিয়ার থাকবে।

যোগদানের পর বাধ্যতামূলক প্রশিক্ষণ

বিলে এসআরবি-এর সব সদস্যের জন্য ইউনিটে যোগদানের পর নির্ধারিত মেয়াদে বাধ্যতামূলক প্রশিক্ষণের বিধান রাখা হয়েছে। সদর দফতরে একটি গবেষণা সেল থাকবে, যা অপারেশনাল ও তদন্তসংক্রান্ত তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করবে।

র‌্যাবের জনবল-সম্পদ এসআরবিতে স্থানান্তর

আইন কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে র‌্যাব গঠনসংক্রান্ত সংশ্লিষ্ট বিধান রহিত হবে। তবে নতুন বিধিমালা না হওয়া পর্যন্ত র‌্যাবের কোর্ট পদ্ধতি ও বিভাগীয় কার্যধারা বিধিমালা, ২০০৫ প্রয়োজনীয় অভিযোজনসহ এসআরবি’র ক্ষেত্রে প্রযোজ্য থাকবে।

একই সঙ্গে র‌্যাব-সংশ্লিষ্ট জনবল, আদেশ, ক্ষমতা, কর্তৃত্ব, বিদ্যমান সুবিধা, তহবিল, নগদ ও ব্যাংকে থাকা অর্থ, দায়, চুক্তি, স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি, হিসাববহি, রেজিস্টার, রেকর্ডপত্র ও সংশ্লিষ্ট দলিল এসআরবি’র অনুকূলে “তৎক্ষণাৎ স্থানান্তরিত এবং ন্যস্ত বা অর্পিত” হবে।

আইন প্রণয়নের কারণ

বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সংবলিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে অপরাধের ধরন ও প্রকৃতির পরিবর্তন এবং জাতীয় ও জননিরাপত্তার নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিশেষায়িত ও দ্রুত প্রতিক্রিয়া সক্ষমতার প্রয়োজন বাড়ছে।

এতে সন্ত্রাসবাদ, সংঘবদ্ধ ও আন্তঃদেশীয় অপরাধ, চরমপন্থা, মানবপাচার ও প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধসহ গুরুতর অপরাধ প্রতিরোধে একটি আধুনিক বিশেষায়িত ইউনিটের প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়েছে।

বিলে আরও বলা হয়েছে, এই ইউনিটের ক্ষমতা প্রয়োগের ক্ষেত্রে “আইনের শাসন, মানবাধিকার, স্বচ্ছতা, কার্যকর তদারকি ও জবাবদিহিতা” নিশ্চিত করা প্রয়োজন। সেই লক্ষ্যেই র‌্যাব-এর পরিবর্তে এসআরবি প্রতিষ্ঠার জন্য এই বিল আনা হয়েছে।

শখের আসবাবই যেন পরে বোঝা না হয়, কেনার আগে যা দেখবেন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৩৬ পূর্বাহ্ণ
শখের আসবাবই যেন পরে বোঝা না হয়, কেনার আগে যা দেখবেন

নতুন বাসায় উঠেছেন, ঘর সাজানোর পরিকল্পনা করছেন। পছন্দের একটি খাট, সোফা বা ডাইনিং টেবিল দেখেই কিনে ফেলতে ইচ্ছা হওয়াটা স্বাভাবিক। তবে আসবাব কেনার ক্ষেত্রে শুধু দেখতে সুন্দর হলেই হবে না। ঘরের আকার, ব্যবহার, বাজেট, স্থায়িত্ব এবং ভবিষ্যতের প্রয়োজন সবকিছু বিবেচনায় নেওয়া জরুরি। একটু পরিকল্পনা করে কিনলেই অপ্রয়োজনীয় খরচ ও পরে ভোগান্তি দুটোই এড়ানো সম্ভব।

নতুন বাসায় ওঠার পর অনেকেই একসঙ্গে বেশ কিছু আসবাব কিনে ফেলেন। কয়েক বছর পর দেখা যায়, প্রয়োজনের তুলনায় আসবাবের সংখ্যা বেড়ে গেছে। ঘরে চলাফেরার জায়গা কমে গেছে, অথচ দাম দিয়ে কেনা আসবাব সহজে বাদও দেওয়া যাচ্ছে না। তাই অন্দরসজ্জাবিদদের পরামর্শ, আসবাব কেনার আগে শুধু নকশা বা সৌন্দর্য নয়, ব্যবহারিক দিকটিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত।

১. দেখতে সুন্দর হলেই নয়, টেকসই কি না দেখুন

আসবাব কেনার সময় বাহ্যিক সৌন্দর্যের পাশাপাশি এর কাঠামো কতটা মজবুত, তা যাচাই করা জরুরি। সোফা কিনলে ফ্রেমের কাঠের মান, জোড়ার কাজ এবং বসার অংশের উপকরণ দেখে নিন। ভালো মানের কাঠের ফ্রেম ও পকেট স্প্রিং থাকলে সাধারণত সোফা বেশি টেকসই হয়।

খাট, ওয়ার্ডরোব বা ক্যাবিনেটের ক্ষেত্রেও কাঠ বা বোর্ডের মান, ফিটিংস ও জোড়ার কাজ ভালোভাবে দেখে নেওয়া উচিত।

২. ছোট বাসায় বহুমুখী আসবাব বেছে নিন

ঢাকার মতো শহরে অনেকের বাসার জায়গা সীমিত। তাই ছোট ঘরের জন্য এমন আসবাব বেছে নেওয়া ভালো, যা একাধিক কাজে ব্যবহার করা যায়।

যেমন— সোফা-কাম-বেড, যা প্রয়োজন হলে বিছানা হিসেবে ব্যবহার করা যায়। এক্সটেন্ডেবল ডাইনিং টেবিল, যা চারজনের জন্য ছোট রাখা যায় এবং প্রয়োজনে ছয়জনের উপযোগী করা যায়। হাইড্রোলিক স্টোরেজ বেড, যার নিচে অতিরিক্ত কাপড়, বিছানার চাদর বা অন্যান্য জিনিস রাখা যায়। এ ধরনের আসবাব ঘরের জায়গা বাঁচানোর পাশাপাশি গোছানো রাখতেও সাহায্য করে।

৩. মাপ না নিয়ে আসবাব কেনা বড় ভুল

আসবাব কেনার আগে ঘরের মাপ নেওয়া সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি। শুধু খাট বা সোফা ঘরে ঢুকবে কি না, তা দেখলেই হবে না। দরজা, সিঁড়ি, লিফট এবং করিডরের মাপও বিবেচনায় নিতে হবে।

অনেক সময় দোকানে দেখে মনে হয় আসবাবটি ঘরে সহজেই রাখা যাবে। কিন্তু বাসায় আনার পর দেখা যায় দরজা দিয়ে ঢোকানোই সম্ভব হচ্ছে না। তাই কেনার আগে মাপজোক নিশ্চিত করে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।

৪. বড় আসবাব বদলানোর বদলে সাজে পরিবর্তন আনুন

খাট, সোফা বা ডাইনিং টেবিলের নকশা খুব বেশি ট্রেন্ডনির্ভর না করে তুলনামূলক সাধারণ রাখা ভালো। এতে কয়েক বছর পরও আসবাবটি পুরোনো মনে হবে না।

ঘরের সাজে পরিবর্তন আনতে চাইলে বড় আসবাব বদলানোর প্রয়োজন নেই। ঈদ, পূজা, পয়লা বৈশাখ বা অন্য কোনো উৎসব কিংবা ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে কুশন, সোফার কভার, পর্দা, কার্পেট ও অন্যান্য ছোটখাটো ডেকোরেশন বদলালেই ঘরের চেহারায় বেশ পরিবর্তন আনা যায়।

৫. উপকরণ বাছাই করুন প্রয়োজন ও বাজেট বুঝে

কাঠ, ধাতু, প্লাইউড, এমডিএফ, মার্বেলসহ বিভিন্ন উপকরণে আসবাব তৈরি হয়। কাঠের আসবাব দেখতে আকর্ষণীয় এবং অনেক ক্ষেত্রে দীর্ঘস্থায়ী হলেও এর দাম তুলনামূলক বেশি হতে পারে।

তাই শুধু কাঠের আসবাবকেই ভালো মনে না করে বাজেট, ব্যবহারের ধরন ও ঘরের অন্দরসজ্জার সঙ্গে মিলিয়ে উপকরণ নির্বাচন করুন। কোথায় কাঠ ব্যবহার করবেন, কোথায় ইঞ্জিনিয়ারড বোর্ড বা ধাতব কাঠামো ব্যবহার করা যেতে পারে সেটিও পরিকল্পনার অংশ হওয়া উচিত।

৬. অনলাইনে কিনলে বাড়তি সতর্কতা

অনলাইনে আসবাব কেনার ক্ষেত্রে ছবি দেখে পছন্দ হয়ে গেলেই অর্ডার করা ঠিক নয়। পণ্যের দৈর্ঘ্য, প্রস্থ ও উচ্চতা ভালোভাবে যাচাই করতে হবে। আপনার ঘরের জায়গার সঙ্গে মাপ মিলছে কি না, সেটিও নিশ্চিত করুন।

পাশাপাশি ডেলিভারি, বাসায় তোলার ব্যবস্থা এবং ইনস্টলেশনের সুবিধা আছে কি না জেনে নিন। আসবাব বাসায় পৌঁছানোর পর সেটি কে, কখন এবং কীভাবে লাগিয়ে দেবে এ বিষয়গুলো আগে থেকেই পরিষ্কার থাকলে পরে ঝামেলা কম হবে।

সবশেষে, আসবাব কেনার সময় একটি বিষয় মনে রাখা ভালো ঘর ভরানোর জন্য নয়, প্রয়োজন মেটানোর জন্য আসবাব কিনুন। পছন্দের পাশাপাশি ব্যবহারিক দিক, মাপ, মান ও ভবিষ্যতের প্রয়োজন বিবেচনা করলে অযথা খরচ যেমন কমবে, তেমনি ঘরও থাকবে আরামদায়ক ও গোছানো।

৭ দিনে সালমান শাহর ৭ সিনেমা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৩৩ পূর্বাহ্ণ
৭ দিনে সালমান শাহর ৭ সিনেমা

টেলিভিশন চ্যানেল দীপ্ত টিভিতে টানা সাত দিন প্রচার হবে সালমান শাহ অভিনীত সাতটি সিনেমা। ৫ সেপ্টেম্বর (শনিবার) থেকে ১১ সেপ্টেম্বর (শুক্রবার) প্রতিদিন দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে প্রয়াত এই নায়কের সিনেমাগুলো প্রচার হবে।

দীপ্ত টিভি সপ্তাহব্যাপী এই আয়োজনকে ‘স্পেশাল ম্যাটিনি শো’ হিসেবে জানিয়েছে।

৫ সেপ্টেম্বর প্রচার হবে শাহ আলম কিরণের পরিচালনায় ‘‌বিচার হবে’ সিনেমাটি। ‌এতে আরও অভিনয় করেছেন শাবনূর, রাইসুল ইসলাম আসাদ, ডলি জহুর ও হুমায়ুন ফরীদি।

৬ সেপ্টেম্বর প্রচার হবে এম এ খালেদের পরিচালনায় ‘‌স্বপ্নের ঠিকানা’ সিনেমাটি। ‌ সালমান শাহ ছাড়াও এতে আরও অভিনয় করেছেন শাবনূর, সোনিয়া, রাজীব, ডলি জহুর ও আবুল হায়াত।

৭ সেপ্টেম্বর শিবলি সাদিকের ‘‌আনন্দ অশ্রু’ সিনেমাটি প্রচার হবে। ‌ এতে সালমানসহ আরও অভিনয় করেছেন শাবনূর, কাঞ্চি, ডলি জহুর ও হুমায়ুন ফরীদি।

৮ সেপ্টেম্বর প্রচার হবে মালেক আফসারীর পরিচালনায় ‘‌এই ঘর এই সংসার’ সিনেমাটি। এতে সালমান শাহ ছাড়া আরও আছেন বৃষ্টি, রোজী আফসারী, বুলবুল আহমেদ, আলীরাজ, তমালিকা কর্মকার ও নাসির খান।

৯ সেপ্টেম্বর জাকির হোসেন রাজুর পরিচালনায় ‘‌জীবন সংসার‌’ সিনেমাটি প্রচার হবে। এতে সালমান শাহসহ আরও দেখা যাবে শাবনূর, ফারুক, ববিতা এবং গোলাম মুস্তাফাকে।

১০ সেপ্টেম্বর প্রচার হবে রেজা হাসমতের পরিচালনায় ‘‌প্রেম পিয়াসী’ সিনেমাটি। এতে অভিনয় করেছেন সালমান শাহ, শাবনূর, আনোয়ারা, রাজীব ও মিশা সওদাগর।

১১ সেপ্টেম্বর বাদল খন্দকারের পরিচালনার ‘‌স্বপ্নের পৃথিবী’ প্রচার হবে। এ সিনেমায় সালমান শাহ ছাড়া আরও আছেন শাবনূর, রাজীব, ববিতা ও রাইসুল ইসলাম আসাদ।