রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩
রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩

ইউসুফ (আ.) কি জুলেখাকে বিয়ে করেছিলেন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৪৪ পূর্বাহ্ণ
ইউসুফ (আ.) কি জুলেখাকে বিয়ে করেছিলেন

ইউসুফ (আ.) ছিলেন নবী ইয়াকুব (আ.)-এর প্রিয় ছেলে। তার নামে কোরআনে স্বতন্ত্র একটি সুরা আছে। সেখানে তাঁর জীবনকথার বিস্তারিত বর্ণনা রয়েছে। তাঁরা ছিলেন ১২ ভাই। ইয়াকুব (আ.)-এর ১২ ছেলের মধ্যে প্রথম ১০ ছেলে প্রথম স্ত্রী লাইয়া বিনতে লাইয়ানের ঘরে জন্মলাভ করেন। তিনি মৃত্যুবরণ করলে তাঁর বোন রাহিলকে বিয়ে করেন ইয়াকুব (আ.)। তাঁর ঘরে জন্ম নেন ইউসুফ (আ.) ও বেনিয়ামিন। (তাফসিরে কুরতুবি, তাফসিরে মারেফুল কোরআন, মুফতি মুহাম্মাদ শফি, অনুবাদ: মাওলানা মুহিউদ্দীন খান, পৃষ্ঠা: ৬৫৪)

ইউসুফ (আ.) ছিলেন খুবই সুদর্শন। বাবা তাঁকে অন্যদের চেয়ে বেশি ভালোবাসতেন। কেননা ইউসুফ (আ.) শৈশবে একটি বিস্ময়কর স্বপ্ন দেখেন, যা ছিল তাঁর নবী হওয়ার শুভবার্তা। এ ছাড়া ইউসুফ ছিলেন মা-হারা এতিম বালক এবং ভাইদের মধ্যে ছোট। পবিত্র কোরআনে এরশাদ হয়েছে, ‘ইউসুফ তার বাবাকে বলল, হে আব্বাজান, আমি (স্বপ্নে) দেখেছি ১১টি তারকা আর সূর্য ও চন্দ্র; তারা আমাকে সেজদা করছে।’ (সুরা ইউসুফ, আয়াত: ৪)

ইউসুফের প্রতি বাবার অতিরিক্ত ভালোবাসার বিষয়টি অন্য ভাইয়েরা মেনে নিতে পারতেন না। তারা হিংসায় জ্বলতেন। ইয়াকুব (আ.) তাদের মনোভাব বুঝতে পারতেন। তাই ইউসুফকে চোখে চোখে রাখতেন। একদিন তারা ইউসুফকে জঙ্গলের এক কুয়ায় ফেলে দেন। বাড়ি ফিরে বাবাকে ইউসুফের মৃত্যুর মিথ্যা সংবাদ দেন। ছেলের শোকে কাঁদতে কাঁদতে দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে ফেলেন বাবা ইয়াকুব। (সুরা ইউসুফ, আয়াত: ১৮)

সেই কুয়ার পথ ধরে ফিরছিল একটি কাফেলা। পানির প্রয়োজনে কুয়ায় বালতি ফেলেন কাফেরার সদস্যরা। কুয়া থেকে বালতি ওঠাতেই ফুটফুটে সুন্দর ইউসুফকে দেখতে পান তারা। তারা তাঁকে মিসরে বিক্রি করে দেন। মিসরের মন্ত্রী কিতফির তাঁকে কিনে নেন। সেখানকার প্রাসাদে তিনি বড় হতে থাকেন।

একসময় যৌবনে পা রাখেন ইউসুফ (আ.)। রূপ ও সৌন্দর্যে ভরপুর ছিল তাঁর যৌবন। চেহারা ছিল চন্দ্র ও সূর্যের মতো দীপ্তিমান। নিষ্কলুষতা ও লজ্জার আধিক্য সোনায় সোহাগার মতো কাজ করছিল তাঁর মধ্যে। মাধুর্য ও কমনীয়তার মূর্ত প্রতীক ছিলেন তিনি। (কাসাসুল কোরআন, হিফজুর রহমান, অনুবাদ: মাওলানা আবদুস সাত্তার আইনী, খণ্ড: ৩, পৃষ্ঠা: ১৭)

মিসরের মন্ত্রীর স্ত্রী জুলেখা। তিনি ছিলেন ইউসুফের প্রতি বরাবরই বিমোহিত। তাঁর রূপে আকৃষ্ট হয়ে পড়েন তিনি। নিজের মনের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। ইউসুফকে খারাপ কাজের প্রতি আহ্বান করেন। কিন্তু তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন। ইউসুফকে বশে আনতে নানাভাবে চেষ্টা করতে থাকেন জুলেখা। জাদুও করেছিলেন একবার। তবে এতে কাজ হয়নি।

একদিন ইউসুফকে ঘরে একা পেয়ে দরজা বন্ধ করে দেন জুলেখা। পাপের দিকে আহ্বান করেন তাঁকে। আল্লাহর ভয়ে তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন। জুলেখার জোরাজুরিতে উপায় না পেয়ে বন্ধ দরজার দিকে দৌড় দেন ইউসুফ। দরজা খুলে যায়।

দরজার ওপাশে আজিজে মিসর কিতফির ও জুলেখার চাচাতো ভাই দাঁড়ানো ছিলেন। জুলেখা ইউসুফের ওপর অপবাদ দেওয়ার চেষ্টা করে। সত্যতা যাচাইয়ে ছেঁড়া জামার প্রমাণ পেশ করা হলো। কিন্তু জামার পেছন দিক ছেঁড়া থাকায় জুলেখা অপরাধী সাব্যস্ত হলেন।

এ ঘটনা কোরআনে বর্ণিত হয়েছে এভাবে—‘সে (ইউসুফ) বলল, সে-ই আমার থেকে অসৎ কর্ম কামনা করেছে। তখন নারীর পরিবারের এক সাক্ষী সাক্ষ্য দিল, যদি তার জামা সম্মুখ দিক থেকে ছেঁড়া হয়ে থাকে, তবে নারী সত্য বলেছে আর সে মিথ্যাবাদীদের অন্তর্ভুক্ত। আর যদি তার জামা পেছন থেকে ছেঁড়া হয়ে থাকে, তবে নারী মিথ্যা বলেছে আর সে সত্যবাদীদের অন্তর্ভুক্ত। স্বামী যখন ইউসুফের জামাটি পেছন থেকে ছেঁড়া দেখতে পেলেন, তখন তিনি বললেন, এসব হলো তোমাদের নারীদের ছলনা, তোমাদের কূটকৌশল বড়ই কঠিন।’ (সুরা ইউসুফ, আয়াত: ২৬-২৮)

ইউসুফ (আ.)-এর ওপর অপবাদ দিয়েছিলেন জুলেখা। একটি দুগ্ধপোষ্য শিশু ইউসুফ (আ.)-এর পক্ষে সাক্ষ্য দিয়েছিল। সত্য বুঝতে পারার পরও জুলেখার সম্মান বাঁচাতে তার স্বামী কিতফির ইউসুফ (আ.)-কে কারাগারে পাঠিয়েছিলেন। (কাসাসুল কোরআন, হিফজুর রহমান, অনুবাদ : মাওলানা আবদুস সাত্তার আইনী, খণ্ড: ৩, পৃষ্ঠা: ৩০)

জেলখানায় বন্দিরা ইউসুফ (আ.)-কে বেশ সমীহ করতেন। তিনি তাদের আল্লাহর পথে দাওয়াত দেন। কেউ কেউ তার কথা মেনে নিয়েছিলেন। সে সময় মিসরের বাদশাহ এক স্বপ্ন দেখেন। সেই স্বপ্নের অর্থপূর্ণ ব্যাখ্যা কেউ দিতে পারছিলেন না। জেলবন্দি ইউসুফ (আ.) সেই স্বপ্নের ব্যাখ্যা দিয়েছিলেন। বাদশাহ বেজায় খুশি হন। তাঁকে মুক্তি দেন। পরে তিনি মিসরের খাদ্যভান্ডার ও ব্যবসা-বাণিজ্য পর্যবেক্ষণের দায়িত্ব পান।

পবিত্র কোরআনে এরশাদ হয়েছে, ‘রাজা বলল, তাকে আমার কাছে নিয়ে এসো, আমি তাকে আমার জন্য বিশেষভাবে নির্দিষ্ট করে নেব। এরপর সে (ইউসুফ) যখন তার সঙ্গে কথা বলল, তখন রাজা বলল, আজ তুমি আমাদের কাছে খুবই মর্যাদাশীল ও বিশ্বস্ত হিসেবে পরিগণিত। সে (ইউসুফ) বলল, ‘আমাকে দেশের ধনভান্ডারের দায়িত্ব দেন, আমি উত্তম রক্ষক ও যথেষ্ট জ্ঞানের অধিকারী।’ এভাবে আমি ইউসুফকে সে দেশে প্রতিষ্ঠিত করলাম। দেশের যেখানে ইচ্ছা সে নিজের স্থান করে নিতে পারত। আমি যাকে চাই আমার রহমত দিয়ে ধন্য করি, আমি সৎকর্মশীলদের কর্মফল কখনও নষ্ট করি না।’ (সুরা ইউসুফ, আয়াত: ৫৪-৫৬)

অনেকের ধারণা, ইউসুফ (আ.) জুলেখার সঙ্গে প্রেম করেছেন। কিন্তু এটি সত্য নয়। এটি একটি প্রচলিত ভুল। জুলেখার একপক্ষীয় প্রেম ছিল। জুলেখার সঙ্গে ইউসুফ (আ.)-এর বিয়ে হয়েছিল কি না—এ বিষয়ে কোরআন-হাদিস থেকে স্পষ্ট কিছুই জানা যায়নি। তবে কোনো কোনো মুফাসসির উল্লেখ করেছেন, স্বামী কিতফিরের মৃত্যুর পর এবং তওবা করার পর ইউসুফ (আ.)-এর সঙ্গে জুলেখার বিয়ে হয়েছিল। (তাফসিরে ইবনে আবি হাতিম, খণ্ড: ৮, পৃষ্ঠা: ৩৯০; তাফসিরে তবারি, খণ্ড: ১৬, পৃষ্ঠা: ১৫১)

Ads small one

ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’, ৫ জেলায় স্কুল বন্ধ ঘোষণা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৪৮ অপরাহ্ণ
ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’, ৫ জেলায় স্কুল বন্ধ ঘোষণা

বঙ্গোপসাগরে ক্রমেই শক্তি বাড়াচ্ছে নিম্নচাপ, যা রূপ নিতে পারে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ে। সম্ভাব্য এই ঘূর্ণিঝড়ের নাম ‘অর্ণব’। ভারতের আবহাওয়া বিভাগের পূর্বাভাস, আগামী ২৮ অক্টোবর অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে আঘাত হানতে পারে এটি। সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় এরই মধ্যে সতর্কতামূলক প্রস্তুতি জোরদার করেছে ওডিশা সরকার। ঝুঁকি বিবেচনায় রাজ্যের পাঁচ জেলায় ২৮ ও ২৯ অক্টোবর স্কুল, কলেজ ও অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ভারতীয় আবহাওয়া অধিদপ্তরের (আইএমডি) পূর্বাভাস অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড়টি অন্ধ্রপ্রদেশের বাপাটলা ও বিশাখাপত্তনমের মধ্যবর্তী উপকূল দিয়ে স্থলভাগে প্রবেশ করতে পারে। এ সময় বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ১১৫ থেকে ১২৫ কিলোমিটার হতে পারে। দমকা হাওয়ার গতি ঘণ্টায় ১৪০ কিলোমিটার পর্যন্ত উঠতে পারে। তবে আবহাওয়াবিষয়ক পূর্বাভাস অনুযায়ী, নিম্নচাপটি ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার প্রক্রিয়া এখনো চলমান।

সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় ওডিশার গঞ্জাম, গজপতি, রায়গড়া, কোরাপুট ও মালকানগিরি জেলায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এসব এলাকায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পাশাপাশি ঘণ্টায় ৮০ থেকে ৯০ কিলোমিটার বেগে বাতাস বইতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

রাজ্য সরকার জেলা কালেক্টর, জেলা ম্যাজিস্ট্রেটসহ গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের কর্মকর্তাদের ছুটি বাতিল করেছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিজ নিজ কর্মস্থলে অবস্থান করে প্রস্তুতি ও জরুরি কার্যক্রম তদারকির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী মোহন চরণ মাঝি দুর্যোগ মোকাবিলায় জননিরাপত্তা, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে মানুষকে সরিয়ে নেওয়া এবং দ্রুত জরুরি সাড়া দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড়ে প্রাণহানি শূন্যে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নিয়েও কাজ করছে রাজ্য সরকার।

আইএমডির পূর্বাভাসে অন্ধ্রপ্রদেশের পাশাপাশি দক্ষিণ ও উপকূলীয় ওডিশায় ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা করা হয়েছে। ঘূর্ণিঝড়টি স্থলভাগে প্রবেশের আগে ও পরে আশপাশের এলাকায় আবহাওয়ার পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে। তথ্যসূত্র: দ্য টেলিগ্রাফ

ধেয়ে আসছে ‘ঘূর্ণিঝড় অর্ণব’, কখন কোথায় আঘাত হানবে?

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৪৫ অপরাহ্ণ
ধেয়ে আসছে ‘ঘূর্ণিঝড় অর্ণব’, কখন কোথায় আঘাত হানবে?

বঙ্গোপসাগরে তৈরি গভীর নিম্নচাপকে ঘিরে ভারতের পূর্ব উপকূলে দুর্যোগের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ভারতের আবহাওয়া বিভাগ (আইএমডি) জানিয়েছে, সিস্টেমটি এখনো গভীর নিম্নচাপ অবস্থায় থাকায় একে ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ বলা যাচ্ছে না। এটি উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশ ও দক্ষিণ উড়িষ্যা উপকূলের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।

আইএমডির পূর্বাভাস অনুযায়ী, বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাত থেকে বৃহস্পতিবার ভোরের মধ্যে বিশাখাপত্তনম ও গোপালপুরের মধ্যবর্তী উপকূল দিয়ে সিস্টেমটি স্থলভাগে প্রবেশ করতে পারে। সম্ভাব্য স্থলভাগে প্রবেশের এলাকা কালিঙ্গপটনমের কাছাকাছি বলে জানিয়েছে আবহাওয়া বিভাগ।

অর্থাৎ, বুধবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি শুরু হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে বর্তমান পূর্বাভাস অনুযায়ী, স্থলভাগে ঢোকার আগে সিস্টেমটি ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা কম। তাই একে এখনই ‘ঘূর্ণিঝড় অর্ণব’ বলা ঠিক নয়। উত্তর ভারত মহাসাগরে কোনো সিস্টেম ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হলেই ‘অর্ণব’ নামটি ব্যবহার করা হবে।

গভীর নিম্নচাপটি পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে এগিয়ে উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশ ও দক্ষিণ উড়িষ্যা উপকূল অতিক্রম করবে। সম্ভাব্য এলাকা বিশাখাপত্তনম থেকে গোপালপুরের মধ্যবর্তী উপকূল, বিশেষ করে কালিঙ্গপটনমের আশপাশ।

আইএমডির সর্বশেষ পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, সিস্টেমটি বুধবার রাতেই উপকূল অতিক্রম করতে পারে। সমুদ্র তখনো উত্তাল থাকবে এবং বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত পশ্চিম-মধ্য ও উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে খুবই খারাপ সমুদ্র পরিস্থিতি বজায় থাকতে পারে।

উপকূলের কাছে বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৫৫ থেকে ৬৫ কিলোমিটার হতে পারে। দমকা হাওয়ার গতিবেগ আরও বেশি হতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

প্রাথমিকভাবে ভারতের উড়িষ্যা ও অন্ধ্রপ্রদেশেই সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে দক্ষিণ উড়িষ্যা ও উপকূলীয় অন্ধ্রপ্রদেশে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে।

দক্ষিণ উড়িষ্যায় ২৩ ও ২৪ সেপ্টেম্বর ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পাশাপাশি বিচ্ছিন্নভাবে অত্যন্ত ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। কোরাপুট, গজপতি ও গঞ্জামসহ কয়েকটি এলাকায় সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

পরিস্থিতির কারণে রাজ্যের একাধিক জেলায় স্কুল ও অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র বন্ধ রাখা হয়েছে। খুরদা, জগৎসিংহপুর, গঞ্জাম ও গজপতিতে স্কুল বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মালকানগিরিতে ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় প্রশাসনও প্রস্তুতি জোরদার করেছে। কোথাও জরুরি দল মোতায়েন করা হয়েছে, কোথাও সরকারি কর্মীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে।

উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশেও ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে উপকূলীয় অন্ধ্রপ্রদেশ, ইয়ানাম ও রায়ালসীমার বিভিন্ন এলাকায় মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) থেকে শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

শ্রীকাকুলাম ও বিজয়নগরম জেলায় ভারী বৃষ্টির কারণে বুধবার স্কুল ও অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র বন্ধ রাখা হয়েছে। উপকূলীয় অন্ধ্রপ্রদেশে অতিবৃষ্টির পাশাপাশি ঝোড়ো হাওয়া ও আকস্মিক বন্যার ঝুঁকিও রয়েছে। এ কারণে সতর্কতা জারি করেছে আইএমডি।

সরাসরি স্থলভাগে আঘাতের কেন্দ্র পশ্চিমবঙ্গ নয়। তবে সিস্টেমটির প্রভাবে রাজ্যের উপকূলীয় জেলাগুলোতেও ভারী বৃষ্টি ও দমকা হাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আইএমডি শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গে বৃষ্টি, বজ্রঝড় ও ঝোড়ো আবহাওয়ার সতর্কতা দিয়েছে। বঙ্গোপসাগরের সিস্টেমটির বাইরের ঘূর্ণাবর্ত স্থানীয় আবহাওয়ার সঙ্গে মিশে রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টির মাত্রা বাড়াতে পারে।

পরিস্থিতি খারাপ হওয়ায় মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশ, উড়িষ্যা ও পশ্চিমবঙ্গ উপকূলের কাছাকাছি সমুদ্র ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত উত্তাল থেকে অতি উত্তাল থাকতে পারে। উপকূলীয় এলাকার সাধারণ মানুষ ও পর্যটকদেরও সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

স্থলভাগে ঢোকার পর এই সিস্টেমের প্রভাব শুধু উপকূলীয় রাজ্যগুলোতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। বিহারেও ২৩ থেকে ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বজ্রপাত, বজ্রঝড় ও শক্তিশালী বাতাসের সম্ভাবনা রয়েছে বলে আইএমডির পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) ও শুক্রবার ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি এবং শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) ও রোববার ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

এই মুহূর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ‘অর্ণব’ নামে ঘূর্ণিঝড় তৈরি হচ্ছে, এমনটা নিশ্চিত নয়। আবহাওয়া বিভাগ বলছে, বঙ্গোপসাগরের বর্তমান সিস্টেমটি গভীর নিম্নচাপ হিসেবেই উপকূল অতিক্রম করার সম্ভাবনা বেশি।

২৪ দিনে প্রবাসী আয় ২৬ হাজার কোটি টাকা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৩৯ অপরাহ্ণ
২৪ দিনে প্রবাসী আয় ২৬ হাজার কোটি টাকা

 

চলতি অক্টোবরের প্রথম ২৪ দিনে প্রবাসী বাংলাদেশিরা ২১৩ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন। প্রতি ডলার ১২৩.৬৫ টাকা হিসাবে বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ২৬ হাজার ২৪০ কোটি টাকা।

রোববার (২৫ অক্টোবর) বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্রের দপ্তর থেকে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।মানচিত্র দেখুন

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী, অক্টোবরের প্রথম দিন থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত দেশে ২১৩ কোটি ৭০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। এর মধ্যে ১৯ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত— ৬ দিনেই ২৯ কোটি ৪০ লাখ ডলার এসেছে। যেখানে গত বছর অক্টোবরের প্রথম ২৪ দিনে দেশে ২০০ কোটি ২০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা।

সবমিলিয়ে চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত দেশে মোট প্রবাসী আয় (রেমিট্যান্স) এসেছে ১ হাজার ৭২ কোটি ৯০ লাখ ডলার। যেখানে আগের অর্থবছরের একই সময়ে দেশে ৯৫৮ কোটি ৮০ লাখ ডলার এসেছিল। এই হিসাবে বছর ব্যবধানে রেমিট্যান্স প্রবৃদ্ধির হার ১১ দশমিক ৯ শতাংশ।