মেটে আলু বা গাছ আলুর দ্বিমুখী ফলনে লাভবান কৃষক
প্রকাশ ঘোষ বিধান, পাইকগাছা (খুলনা): মেটে আলু বা গাছ আলুর দ্বিমুখী ফলন কৃষকদের জন্য অত্যন্ত লাভজনক একটি কৃষি বিপ্লব হিসেবে দেখা দিচ্ছে। এই লতানো কন্দাল জাতীয় ফসলের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো এটি একই সাথে মাটির নিচে এবং গাছের কান্ডে (লতায়) ফলন দেয়। এই দ্বিমুখী ফলনের কারণেই এটি চাষ করে কৃষকেরা দ্বিগুণ লাভ করতে পারছেন।
মেটে আলু বা গাছ আলু একটি অত্যন্ত পুষ্টিকর ও ঔষধি গুণসম্পন্ন লতানো কন্দাল জাতীয় দেশীয় সবজি। অঞ্চলভেদে এটি চুপরি আলু, মাচা আলু, পেস্তা আলু, মোম আলু, মাইট্টা আলু বা আসাম আলু নামেও সমধিক পরিচিত। এই উদ্ভিদের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো, মাটির নিচে এবং লতার কান্ড বা গিঁটে আলু জন্মায়। কান্ডের গায়ে হওয়া ছোট কালচে-বেগুনি আলুগুলোকে গাছ আলু বা বুলবিল বলা হয়। মাটির নিচে হওয়া বড় বাদামি বা বেগুনি রঙের আলুগুলোকে সাধারণত মেটে আলু বলা হয়।
খুলনার পাইকগাছা উপজেলার বিভিন্ন বাড়ির গাছে গাছে মেটে আলু বা গাছ আলু আবাদ করা হয়। গাছের গোড়ায় ফল রোপন করলেই হয়, কোন পরিচর্যা করা লাগে না। কৃষকদের কাছে একটি অত্যন্ত লাভজনক ফসল মেটে আলু।
উষ্ণ ও আর্দ্র আবহাওয়ায় এর ফলন সবচেয়ে ভালো হয়. পানি নিষ্কাশনের সুব্যবস্থা সম্পন্ন উঁচু বেলে দো-আঁশ মাটি এই আলু চাষের জন্য সবচেয়ে উপযোগী। সাধারণত ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিল মাসের মধ্যে মাটির নিচে থাকা আলু কেটে কিংবা কান্ডের গাছ আলু (বুলবিল) বীজ হিসেবে মাটিতে রোপণ করা হয়। এটি মূলত মাচা, বেড়া কিংবা অন্য কোনো বড় গাছের ওপর ভর করে বেড়ে ওঠে। গাছের লতা বা কান্ড থেকে ছোট ছোট বীজ-আলু পাওয়া যায় এবং মাটির নিচে বিশাল আকৃতির প্রধান আলু উৎপন্ন হয়। একটি গাছ সাধারণত ৮ থেকে ১০ মাস বাঁচে এবং ফলন দেওয়ার পর শীতকালে লতা শুকিয়ে মারা যায়। পরবর্তী বছর মূল থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে আবার নতুন চারা গজায়। এই গাছের রোগবালাই প্রায় নেই বললেই চলে এবং অত্যন্ত কম খরচে ও কম যতেœ বাড়ির আঙিনায় বা পতিত জমিতে এটি চাষ করা সম্ভব।
মেটে আলু শর্করা, উদ্ভিজ্জ প্রোটিন, ফাইবার, ভিটামিন এবং খনিজ লবণের একটি চমৎকার উৎস। এটি শরীরের ক্ষতিকর কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে দারুণ সাহায্য করে। এতে থাকা প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন এ এবং শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী করে। প্রচুর ফাইবার বা আঁশ থাকায় এটি দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখে, যা ওজন কমাতে এবং হজমপ্রক্রিয়া উন্নত করতে সাহায্য করে। মেটে আলুতে থাকা উপাদান হাড়ের ক্ষয়রোধ করে এবং ত্বকের উজ্জ্বলতা বজায় রাখে।
রোগবালাইয়ের কম ঝুঁকি এবং একই গাছ থেকে ওপর-নিচ দুই দিকেই ফলন পাওয়ার কারণে মেটে আলু বাংলাদেশের কৃষকদের কাছে একটি অত্যন্ত লাভজনক ও নিরাপদ অর্থকরী ফসল হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছে।



