সড়ক যেন নীরব মৃত্যুফাঁদ!/ এম. এম হায়দার আলী
এম. এম হায়দার আলী
মাত্র একটি মাস। ক্যালেন্ডারের পাতায় ৩০টি দিন। অথচ এই একটি মাসেই সড়ক কেড়ে নিয়েছে ৪২৩টি তাজা প্রাণ। রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের চলতি বছরের
সেপ্টেম্বর মাসের সড়ক দুর্ঘটনা সংক্রান্ত প্রতিবেদনের এই পরিসংখ্যান শুধু একটি সংখ্যা নয়,এর প্রতিটি অঙ্কের পেছনে রয়েছে একটি করে পরিবার, একটি করে স্বপ্ন, একটি করে অসমাপ্ত জীবন কাহিনি। কেউ ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি, কেউ ছিলেন সন্তানের নির্ভরতার জায়গা, কেউ ছিলেন মায়ের আদরের সন্তান, কেউ আবার ছিলেন ভবিষ্যতের স্বপ্ন বুকে নিয়ে স্কুলে যাওয়া শিশু। একটি দুর্ঘটনার মুহূর্তে তাদের সব স্বপ্ন থেমে গেছে। সেপ্টেম্বরে দেশের ৪৪২টি সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৪২৩ জন, আহত হয়েছেন আরও ৬৭৪ জন। নিহতদের মধ্যে ৭৩ জন নারী এবং ৬১ জন শিশু। অর্থাৎ সেপ্টেম্বরের প্রতিটি দিন গড়ে প্রায় ১৪টি পরিবারকে শুনতে হয়েছে প্রিয়জন হারানোর খবর। প্রশ্ন হলো, এসব মৃত্যুকে আমরা আর কতদিন ‘দুর্ঘটনা’ বলে পাশ কাটিয়ে যাব ?
সড়ক দুর্ঘটনা শব্দটি শুনলেই যেন আমাদের চোখের সামনে ভেসে ওঠে একটি অনিবার্য ঘটনাÑহঠাৎ কিছু একটা ঘটেছে, মানুষ মারা গেছে, আহত হয়েছে, এরপর তদন্ত হবে, কয়েক দিন আলোচনা হবে, তারপর সবকিছু আবার আগের মতো চলবে। কিন্তু বাস্তবতা কি সত্যিই এত সরল? অতিরিক্ত গতি, বেপরোয়া চালনা, অদক্ষ চালক, ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন, দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, অনিরাপদ সড়ক, চালকদের অতিরিক্ত কর্মঘণ্টা, শারীরিক ও মানসিক অসুস্থতা, মেয়াদোত্তীর্ণ যানবাহন এবং ট্রাফিক আইন না মানার মতো কারণগুলো যখন বছরের পর বছর একই ভাবে সামনে আসে, তখন এসব মৃত্যুকে শুধু ‘দুর্ঘটনা’ বলে দায় এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ কতটুকু থাকে ? বরং বলা যায়, আমাদের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অব্যবস্থাপনা, উদাসীনতা এবং দায়িত্বহীনতার সম্মিলিত ফলেই অনেক মৃত্যু প্রতিদিন সড়কে লেখা হচ্ছে।
সেপ্টেম্বরের পরিসংখ্যানে সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ তৈরি করেছে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা। মাসটিতে ১৫৪টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১৩৯ জন নিহত হয়েছেন। যা মোট নিহতের ৩২ দশমিক ৮৬ শতাংশই মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার শিকার। তরুণদের মধ্যে মোটরসাইকেলের ব্যবহার যেমন বেড়েছে, তেমনি বেড়েছে গতির সঙ্গে পাল্লা দেওয়ার প্রবণতাও। অনেক তরুণের হাতে মোটরসাইকেল এখন প্রয়োজনের বাহন হওয়ার পাশাপাশি হয়ে উঠেছে গতি প্রদর্শনের মাধ্যম।
রাস্তার সামান্য ফাঁক পেলেই গতি বাড়ানো, এক যানবাহনকে আরেক যানবাহনের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় অতিক্রম করা, ট্রাফিক আইনকে গুরুত্ব না দেওয়া,এসব প্রবণতা শেষ পর্যন্ত অনেক পরিবারকে নিঃস্ব করে দেয়। একটি তরুণ প্রাণের কাছে হয়তো কয়েক মিনিট সময় বাঁচানো গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়, কিন্তু সেই কয়েক মিনিটের ভুলের মূল্য দিতে হয় একটি পরিবারকে সারাজীবন। সড়কে সবচেয়ে অসহায় মানুষদের একজন পথচারী। অথচ সেপ্টেম্বরে ১০৬ জন পথচারী প্রাণ হারিয়েছেন, যা মোট নিহতের ২৫ দশমিক ৫ শতাংশ। এই পরিসংখ্যান শুধু পথচারীদের অসচেতনতার কথা বলে না, বরং আমাদের সড়ক ব্যবস্থাপনার দুর্বলতাকেও চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়। কোথাও ফুটপাত নেই, কোথাও ফুটপাত থাকলেও দখল হয়ে আছে, কোথাও নিরাপদ পারাপারের ব্যবস্থা নেই, আবার কোথাও জেব্রা ক্রসিং থাকলেও সেটি ব্যবহার নিশ্চিত করার কার্যকর ব্যবস্থা নেই। ফলে রাস্তা পারাপারের সময় একজন সাধারণ মানুষকে প্রতিনিয়ত জীবনের সঙ্গে ঝুঁকি নিয়ে চলতে হয়। একদিকে দ্রুতগতির গাড়ি, অন্যদিকে অসহায় পথচারী,এই অসম লড়াইয়ের ফল অনেক সময় হয় মৃত্যু। তাই পথচারী মারা গেলে শুধু পথচারীকে অসচেতন বলে দায় শেষ করার সুযোগ নেই। নিরাপদে হাঁটার জায়গা, নিরাপদে রাস্তা পারাপারের ব্যবস্থা এবং যানবাহনের নিয়ন্ত্রিত গতি নিশ্চিত করাও রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সেপ্টেম্বরে ১৬৮টি দুর্ঘটনা বা ৩৮ শতাংশই ঘটেছে যানবাহনের নিয়ন্ত্রণ হারানোর কারণে। কিন্তু কেন নিয়ন্ত্রণ হারায় যানবাহন? উত্তর খুঁজতে গেলে আবারও ফিরে আসতে হয় অতিরিক্ত গতি, চালকের ক্লান্তি, অদক্ষতা, যানবাহনের ত্রুটি এবং সড়কের নানা সীমাবদ্ধতার কাছে। একজন চালক যখন দীর্ঘ সময় বিশ্রামহীন অবস্থায় গাড়ি চালান, তখন তার শারীরিক ও মানসিক সক্ষমতা স্বাভাবিক থাকার কথা নয়। অথচ পরিবহন খাতে চালকদের কর্মঘণ্টা, বিশ্রাম, বেতন ও স্বাস্থ্যসেবার বিষয়টি বহুদিন ধরেই আলোচনায় থাকলেও বাস্তব পরিবর্তন খুব বেশি দেখা যায় না। একজন ক্লান্ত চালকের হাতে যখন বাস, ট্রাক কিংবা যাত্রীবাহী যান তুলে দেওয়া হয়, তখন শুধু তার জীবন নয়, তার সঙ্গে থাকা অসংখ্য মানুষের জীবনও ঝুঁকির মধ্যে পড়ে।
দুর্ঘটনা ঘটছে জাতীয় মহাসড়কে, আঞ্চলিক সড়কে, গ্রামীণ সড়কে, শহরের সড়কে,অর্থাৎ নিরাপত্তার সংকটটি সর্বত্র। সেপ্টেম্বরে ১৭৮টি দুর্ঘটনা ঘটেছে আঞ্চলিক সড়কে, জাতীয় মহাসড়কে ১৪৫টি, গ্রামীণ সড়কে ৫৬টি এবং শহরের সড়কে ৬৩টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। মহাসড়কে দ্রুতগতির বাস, ট্রাক ও ব্যক্তিগত গাড়ির পাশাপাশি স্বল্পগতির বিভিন্ন যানবাহনের চলাচলও ঝুঁকি বাড়ায়। একই সড়কে যখন একটি যান ঘণ্টায় অনেক বেশি গতিতে ছুটছে এবং অন্যটি ধীরগতিতে চলছে, তখন সংঘর্ষের আশঙ্কা থেকেই যায়। তাই মহাসড়কে স্বল্পগতির যানবাহনের জন্য আলাদা সার্ভিস রোড নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা বহুদিন ধরেই আলোচিত। প্রশ্ন হলো, বাস্তবায়ন কতটা
হয়েছে ? বিভাগ ভিত্তিক পরিসংখ্যানও কম ভয়াবহ নয়। ঢাকা বিভাগে ১৩২টি দুর্ঘটনায় ১৩৪ জন নিহত হয়েছেন। মোট দুর্ঘটনার ২৯ দশমিক ৮৬ শতাংশ এবং প্রাণহানির ৩১ দশমিক ৬৭ শতাংশই এই বিভাগে। একক জেলা হিসেবে গাজীপুরে সবচেয়ে বেশি ৩৮ জন নিহত হয়েছেন। রাজধানী ঢাকাতেও সেপ্টেম্বরে ৫২টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২১ জন নিহত এবং ৪৭ জন আহত হয়েছেন। চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, বরিশাল, রংপুর ও সিলেটÑকোনো বিভাগই এই মৃত্যুর মিছিল থেকে মুক্ত নয়। অর্থাৎ এটি কোনো একটি জেলা বা একটি শহরের সমস্যা নয়; এটি জাতীয় সমস্যা।
আরও বেদনাদায়ক বিষয় হলো, এই মৃত্যুর তালিকায় সমাজের প্রায় সব শ্রেণি-পেশার মানুষ রয়েছেন। নিহতদের মধ্যে পুলিশ সদস্য, সেনা সদস্য, শিক্ষক, সাংবাদিক, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, কাস্টমস কর্মকর্তা, ব্যাংক-বীমার কর্মকর্তা-কর্মচারী, এনজিও কর্মী, রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, ব্যবসায়ী, শ্রমিক, বিক্রয় প্রতিনিধি, মসজিদের ইমাম বা খাদেম, মোটর মেকানিক, পোশাক শ্রমিক, দিনমজুর এবং ৫৮ জন শিক্ষার্থী রয়েছেন। অর্থাৎ সড়কের মৃত্যু কাউকে চিনে আসে না। ধনী-গরিব, ক্ষমতাবান-সাধারণ, শহর-গ্রাম কারও জন্য সড়ক আলাদা কোনো নিশ্চয়তা দেয় না। আজ যে মানুষটি অন্যের মৃত্যুর সংবাদ পড়ছেন, কাল তিনিই হয়তো একটি দুর্ঘটনার শিকার হতে পারেন।
দুর্ঘটনার সময় বিশ্লেষণও আমাদের ভাবায়। ভোর, সকাল, দুপুর, বিকেল, সন্ধ্যা ও রাতে সব সময়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। অর্থাৎ দিনের কোনো নির্দিষ্ট সময়কে নিরাপদ বলা যাচ্ছে না। যানবাহনের সংখ্যা বাড়ছে, কিন্তু নিরাপদ চালনার সংস্কৃতি ততটা বাড়ছে না। শহর ও মহাসড়কে যানবাহনের চাপ বাড়ছে, কিন্তু সেই তুলনায় ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, নজরদারি এবং নিরাপত্তা অবকাঠামো কতটা আধুনিক হয়েছে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। সড়কের পাশাপাশি সেপ্টেম্বরে ১১টি নৌ-দুর্ঘটনায় ১৬ জন নিহত, সাতজন আহত এবং চারজন নিখোঁজ হয়েছেন। একই সময়ে ২৩টি রেল ট্র্যাক দুর্ঘটনায় ১৯ জন নিহত এবং ছয়জন আহত হয়েছেন। অর্থাৎ মানুষের চলাচলের প্রায় প্রতিটি মাধ্যমেই নিরাপত্তার প্রশ্নটি আজ সামনে এসেছে। উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা শুধু দ্রুত চলাচলের নিশ্চয়তা দেয় না; মানুষের নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছানোর নিশ্চয়তাও দিতে হয়। রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের পর্যবেক্ষণে সড়ক দুর্ঘটনার যেসব কারণ উঠে এসেছে, সেগুলো নতুন নয়।
ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন ও সড়ক, বেপরোয়া গতি, চালকদের বেপরোয়া মানসিকতা, অদক্ষতা, শারীরিক ও মানসিক অসুস্থতা, অনির্দিষ্ট বেতন ও কর্মঘণ্টা, মহাসড়কে স্বল্পগতির যানবাহনের চলাচল, তরুণদের বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানো, ট্রাফিক আইন না জানা ও না মানা, দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, বিআরটিএর সক্ষমতার ঘাটতি এবং গণপরিবহন খাতে নানা অনিয়ম,এসব কারণ বহুবার আলোচনায় এসেছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এত আলোচনা, এত প্রতিবেদন, এত মৃত্যুর পরও পরিবর্তন কোথায় ?
শুধু দুর্ঘটনার পর মামলা করে, চালককে গ্রেপ্তার করে কিংবা তদন্ত কমিটি করে সমস্যার সমাধান হবে না। প্রয়োজন দুর্ঘটনার আগেই ঝুঁকি চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া। প্রয়োজন প্রযুক্তি নির্ভর গতি নিয়ন্ত্রণ ও নজরদারি। প্রয়োজন দক্ষ চালক তৈরির উদ্যোগ। চালকদের নির্দিষ্ট কর্মঘণ্টা, ন্যায্য বেতন, পর্যাপ্ত বিশ্রাম এবং স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা জরুরি। মেয়াদোত্তীর্ণ ও ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন সড়ক থেকে প্রত্যাহার করতে হবে। বিআরটিএ, বিআরটিসি ও ডিটিসিএর ব্যবস্থাপনা ও কাঠামোগত সংস্কার করতে হবে। রাজধানীতে আধুনিক কোম্পানি ভিত্তিক গণপরিবহন চালুর পাশাপাশি মহাসড়কে স্বল্পগতির যানবাহনের জন্য সার্ভিস রোড নির্মাণ করতে হবে। সব রেলক্রসিংয়ে গেটকিপার নিয়োগ এবং সড়ক ব্যবহার কারীদের সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য নিয়মিত ও কার্যকর প্রচারণা চালাতে হবে। তবে সব কিছুর আগে প্রয়োজন রাজনৈতিক সদিচ্ছা। কারণ নিরাপদ সড়ক কেবল পুলিশের দায়িত্ব নয়, শুধু বিআরটিএর দায়িত্ব নয়, শুধু সড়ক বিভাগের দায়িত্ব নয়। এটি রাষ্ট্রের সামগ্রিক দায়িত্ব। একটি নিরাপদ সড়ক মানে একটি শিশু নিরাপদে স্কুলে যাবে, একজন শ্রমিক কর্মস্থল থেকে ঘরে ফিরবেন, একজন বাবা সন্তানের কাছে ফিরবেন, একজন মা তার সন্তানের ফেরার অপেক্ষায় দরজার দিকে তাকিয়ে থাকবেন না আতঙ্কে।
সেপ্টেম্বরের ৪২৩টি মৃত্যু তাই আমাদের কাছে শুধু একটি মাসের হিসাব নয়; এটি একটি আয়না। সেই আয়নায় আমরা আমাদের সড়ক ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা, অব্যবস্থাপনা এবং উদাসীনতার চেহারা দেখতে পাচ্ছি। প্রশ্ন হলো, আমরা কি সেই আয়নায় তাকিয়ে নিজেদের বদলাব, নাকি পরের মাসের নতুন পরিসংখ্যানের অপেক্ষা করব ? কারণ ৪২৩ জন মানুষ কোনো সংখ্যা নন।
তারা ৪২৩টি পরিবার, ৪২৩টি অসমাপ্ত গল্প, অসংখ্য স্বপ্ন এবং অসংখ্য মানুষের কান্না। তাদের কেউ আর ফিরবেন না। কিন্তু তাদের মৃত্যু যদি আমাদের সড়ক ব্যবস্থাকে বদলে দিতে পারে, যদি একটি শিশুকে ভবিষ্যতের একটি দুর্ঘটনা থেকে বাঁচাতে পারে, যদি একজন চালককে বেপরোয়া গতি থেকে ফিরিয়ে আনতে পারে, যদি একটি ত্রুটিপূর্ণ গাড়ি সড়ক থেকে সরিয়ে নিতে পারে,তবেই এই মৃত্যুগুলোর প্রতি আমাদের দায় কিছুটা হলেও পূরণ হবে। সড়ক উন্নয়নের নামে শুধু পিচ ঢালাই, উড়ালসড়ক নির্মাণ কিংবা যানবাহনের সংখ্যা বাড়ালেই হবে না; মানুষের নিরাপদে ঘরে ফেরার অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। কারণ যে সড়ক মানুষকে গন্তব্যে পৌঁছানোর বদলে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়, সেই সড়ক যত আধুনিকই হোক, তার উন্নয়ন অসম্পূর্ণ। সেপ্টেম্বরে ৪২৩ জন চলে গেছেন। অক্টোবরের হিসাব যেন আরেকটি নতুন সংখ্যা না হয়,এটাই এখন প্রত্যাশা। সড়ককে মৃত্যুর ফাঁদ নয়, মানুষের নিরাপদ পথ বানানোর সময় এখনই। কারণ প্রতিটি মানুষই কারও না কারও অপেক্ষার নাম, প্রতিটি জীবনই একটি পরিবারের পৃথিবী।
লেখক : সাংবাদিক ও কলামিস্ট









