সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩
সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩

আন্তর্জাতিক ভূ-বৈচিত্র্য দিবস: আমাদের দোরগোড়ায় ভূ-প্রকৃতির বিস্ময়

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৩৪ অপরাহ্ণ
আন্তর্জাতিক ভূ-বৈচিত্র্য দিবস: আমাদের দোরগোড়ায় ভূ-প্রকৃতির বিস্ময়

সাকিবুর রহমান বাবলা

পৃথিবী শুধু জীবজগতের আবাসভূমি নয়; জীবনের পাশাপাশি রয়েছে এক বিশাল অজীব জগৎ-শিলা, খনিজ, মাটি, জীবাশ্ম, নদী, পাহাড়, উপত্যকা, গুহা, উপকূল ও নানা ভূ-প্রাকৃতিক গঠন। এসব অজীব উপাদান এবং তাদের বৈচিত্র্য ও পারস্পরিক সম্পর্ককে বলা হয় ভূ-বৈচিত্র্য। জীববৈচিত্র্যের ভিত্তি থেকে শুরু করে মানুষের খাদ্য, পানি, আবাসন, শিল্প, প্রযুক্তি ও সভ্যতার বিকাশ-সবকিছুর সঙ্গেই ভূ-বৈচিত্র্যের নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে।

৬ অক্টোবর আন্তর্জাতিক ভূ-বৈচিত্র্য দিবস। ইউনেস্কোর ৪১তম সাধারণ সম্মেলনে ২০২১ সালে দিবসটি ঘোষণা করা হয় এবং ২০২২ সালের ৬ অক্টোবর প্রথমবার আন্তর্জাতিকভাবে দিবসটি পালিত হয়। ভূ-বৈচিত্র্যের গুরুত্ব সম্পর্কে বিশ্বব্যাপী সচেতনতা বৃদ্ধি, এর সংরক্ষণ, টেকসই ব্যবহার এবং ভূবিজ্ঞানভিত্তিক জ্ঞানকে মানবকল্যাণে কাজে লাগানোই দিবসটির অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য।

২০২৬ সালের প্রতিপাদ্য-‘আমাদের দোরগোড়ায় ভূ-বৈচিত্র্য’। প্রতিপাদ্যটি আমাদের মনে করিয়ে দেয়, ভূ-বৈচিত্র্য কোনো দূরবর্তী বা দুর্বোধ্য বিষয় নয়। আমরা যে মাটিতে দাঁড়াই, যে পানি ব্যবহার করি, যে নদী ও পাহাড় দেখি, যে শিলা ও খনিজ দিয়ে ঘরবাড়ি-সড়ক নির্মাণ করি-সবই আমাদের দৈনন্দিন জীবনের ভূ-বৈচিত্র্যের অংশ। প্রতিপাদ্যটি আমাদের নিজস্ব এলাকার ভূ-প্রকৃতি নতুন করে চিনতে ও সংরক্ষণে উদ্বুদ্ধ করে।

ভূ-বৈচিত্র্যের গুরুত্ব বহুমাত্রিক। শিলা ও ভূতাত্ত্বিক স্তর ভূগর্ভস্থ পানি ধারণ, প্রবাহ ও প্রাকৃতিক পরিশোধনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। শিলার ক্ষয় ও পরিবর্তনের মাধ্যমে মাটি গঠিত হয়, আর মাটিই কৃষি ও খাদ্য উৎপাদনের প্রধান ভিত্তি। খনিজ ও শিলা আধুনিক সভ্যতার শিল্প, প্রযুক্তি ও অবকাঠামোর অপরিহার্য কাঁচামাল। ফলে মানবকল্যাণ ও অর্থনৈতিক উন্নয়নও ভূতাত্ত্বিক সম্পদের ওপর গভীরভাবে নির্ভরশীল।

দুর্যোগ মোকাবিলাতেও ভূ-বৈচিত্র্যের জ্ঞান অপরিহার্য। ভূমিকম্প, ভূমিধস, বন্যা, সুনামি ও আগ্নেয়গিরির মতো ভূ-প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া বোঝার মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করা এবং ভূমি ব্যবহার ও অবকাঠামো পরিকল্পনা করা সম্ভব। বাঁধ, সড়ক, সেতু, সুড়ঙ্গ, ভবন, বন্দর ও পাইপলাইন নির্মাণেও ভূবৈজ্ঞানিক জ্ঞান নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অন্যদিকে; অত্যন্ত নগরায়িত ও ডিজিটাল এই পৃথিবীতে আমরা হয়তো ভূবৈচিত্র্য থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছি বলে মনে করতে পারি।

অতীতের শিলা, পলি ও জীবাশ্ম পৃথিবীর দীর্ঘ ইতিহাস এবং অতীত জলবায়ুর গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বহন করে। এসব তথ্য বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা জলবায়ু পরিবর্তনের অতীত ধারা বুঝতে পারেন এবং ভবিষ্যতের পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর পরিকল্পনা গ্রহণে সহায়তা পান। একই সঙ্গে পাহাড়, গুহা, উপকূল ও অনন্য ভূদৃশ্য ভূ-পর্যটনের ভিত্তি তৈরি করে; যা স্থানীয় অর্থনীতি, কর্মসংস্থান ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের সঙ্গেও যুক্ত।

বাংলাদেশের ভূ-বৈচিত্র্যও বিশেষভাবে সমৃদ্ধ। নদীবাহিত পলিতে গড়ে ওঠা বিস্তীর্ণ বদ্বীপ ও প্লাবনভূমির পাশাপাশি রয়েছে বরেন্দ্র ও মধুপুরের সোপানভূমি, সিলেটের টিলা-পাহাড়, চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ি অঞ্চল এবং দক্ষিণে বিস্তীর্ণ উপকূল ও সুন্দরবন। নদী, পলি, মাটি, পাহাড়, উপকূল ও ম্যানগ্রোভ ভূ-প্রকৃতির এই বৈচিত্র্য বাংলাদেশের প্রকৃতি ও মানুষের জীবনকে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য দিয়েছে।

কিন্তু নদীভাঙন, পলি সঞ্চয়, অপরিকল্পিত নগরায়ণ, পাহাড় কাটা, জলাভূমি ও বনভূমির পরিবর্তন, উপকূলীয় লবণাক্ততা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বাংলাদেশের ভূ-প্রকৃতি ক্রমাগত চাপের মুখে পড়ছে। এর প্রভাব কৃষি, পানি, জীববৈচিত্র্য, বসতি ও মানুষের জীবিকার ওপর পড়ছে। বাংলাদেশের পূর্ব ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকায় ভূমিকম্পের ঝুঁকিও ভূতাত্ত্বিক বাস্তবতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ; তাই ভূবৈজ্ঞানিক গবেষণা ও ঝুঁকি-সচেতন ভূমি ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।

ভূ-বৈচিত্র্য সম্পর্কে প্রকৃত শিক্ষা কেবল বইয়ের পাতায় সীমাবদ্ধ নয়। ভূবিজ্ঞান, ভূতত্ত্ব ও ভূগোলের পাশাপাশি মাঠপর্যায়ের গবেষণা, ফিল্ডওয়ার্ক, জিআইএস, রিমোট সেন্সিং ও স্যাটেলাইট প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভূ-পৃষ্ঠের পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ, সম্পদ শনাক্তকরণ এবং দুর্যোগের ঝুঁকি মূল্যায়ন করা যায়। বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোতে এ বিষয়ে আধুনিক গবেষণা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে পৃথিবীর পরিবর্তনশীল পরিবেশ বুঝতে সহায়তা করতে পারে। সুইজারল্যান্ড ইটিএইচ জুরিখ গবেষণার বিশ্বের মানদন্ডে ভূবিজ্ঞান এবং ভূতত্ত্ব শিক্ষার জন্য সেরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে গণ্য করা হয়।

ভূ-বৈচিত্র্য তাই কেবল পাথর, মাটি বা পাহাড়ের বৈচিত্র্য নয়; এটি পৃথিবীর সৃষ্টি ও বিবর্তনের নীরব দলিল, জীববৈচিত্র্যের ভিত্তি এবং মানবসভ্যতার অন্যতম অবলম্বন। একটি শিলা কিংবা জীবাশ্মের মধ্যেও লুকিয়ে থাকতে পারে পৃথিবীর কোটি বছরের ইতিহাস। সেই ইতিহাসকে জানা, সম্পদকে বিচক্ষণভাবে ব্যবহার করা এবং ভূ-প্রকৃতিকে সংরক্ষণ করাই টেকসই ভবিষ্যতের অন্যতম শর্ত।

‘আমাদের দোরগোড়ায় ভূ-বৈচিত্র্য’-২০২৬ সালের এই আহ্বান তাই চারপাশের মাটি, নদী, পাহাড়, উপকূল ও ভূদৃশ্যকে নতুন চোখে দেখার আহ্বান। কারণ পৃথিবীর ভূ-বৈচিত্র্য শুধু অতীতের স্মৃতি নয়; এটি আমাদের বর্তমান জীবনের ভিত্তি এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নিরাপত্তারও গুরুত্বপূর্ণ অবলম্বন।

 

Ads small one

আদালত প্রাঙ্গণে আইনগত সেবা সম্পর্কে জনসচেতনতায় বিলবোর্ড স্থাপন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৩০ অপরাহ্ণ
আদালত প্রাঙ্গণে আইনগত সেবা সম্পর্কে জনসচেতনতায় বিলবোর্ড স্থাপন
বদিউজ্জামান: ‘আইনগত সেবা পাওয়া আপনার অধিকার—নিশ্চিত করেছে সরকার’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে সাতক্ষীরায় আইনগত সহায়তা বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে একটি বিলবোর্ড স্থাপন করা হয়েছে। সোমবার (৫ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৪টায় জেলা জজ আদালত প্রাঙ্গণে বিলবোর্ডটি স্থাপন করা হয়।
বিলবোর্ড স্থাপনকালে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরার সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম, যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ মুহাম্মদ নাছির উদদীন ফরাজী, চীফ লিগ্যাল এইড অফিসার এবং যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ মোঃ মুস্তাফিজুর রহমান, লিগ্যাল এইড অফিসার ও সিভিল জজ লিটন দাস, সিভিল জজ মোঃ হাসানুল বান্না, সিভিল জজ লাবিব মেজবাহ, প্যানেল আইনজীবী খায়রুল বদিউজ্জামান ও আরা সংস্থার পরিচালক আবুল কালাম আজাদ। এ সময় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
জেলা লিগ্যাল এইড অফিস, সাতক্ষীরার উদ্যোগে স্থাপিত বিলবোর্ডে সরকারি আইনগত সহায়তা পাওয়ার বিভিন্ন সুযোগ ও পদ্ধতি তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, আর্থিকভাবে অসচ্ছল, নির্যাতিত, অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষসহ নির্ধারিত শ্রেণির নাগরিকরা সরকারি খরচে আইনগত সহায়তা পাওয়ার অধিকারী।
বিলবোর্ডের তথ্যে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, জেলা লিগ্যাল এইড অফিসের মাধ্যমে বিনামূল্যে আইনগত পরামর্শ, আইনজীবী নিয়োগ, মামলা পরিচালনা, আপস-মীমাংসা ও বিরোধ নিষ্পত্তিতে সহায়তা পাওয়া যায়। দেওয়ানি, ফৌজদারি, পারিবারিক ও অন্যান্য মামলায় প্রয়োজন অনুযায়ী আইনগত সহায়তার জন্য আবেদন করার সুযোগ রয়েছে। এমনকি চলমান মামলায়ও আইনগত সহায়তার প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট আদালতের মাধ্যমে আবেদন করার সুযোগ রয়েছে।
এতে আইনগত সহায়তা পাওয়ার যোগ্য ব্যক্তিদের মধ্যে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধার সন্তান, নির্যাতিত নারী ও শিশু, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, মানব পাচারের শিকার ব্যক্তি, দুস্থ ও অসহায় ব্যক্তি, কর্মক্ষেত্রে নিয়োজিত বা নির্দিষ্ট কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি এবং আর্থিকভাবে অসচ্ছলসহ বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
বিলবোর্ডে সরকারি খরচে আইনগত সহায়তা পেতে জেলা লিগ্যাল এইড অফিসে যোগাযোগের পাশাপাশি অনলাইনে আবেদন করার সুযোগের কথাও জানানো হয়েছে। জেলা লিগ্যাল এইড অফিস, উপজেলা লিগ্যাল এইড অফিস এবং সংশ্লিষ্ট আইনজীবী সমিতির মাধ্যমে প্রয়োজনীয় তথ্য ও সহায়তা নেওয়া যাবে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, অনেক দরিদ্র ও অসহায় মানুষ আইনি অধিকার সম্পর্কে পর্যাপ্ত ধারণা না থাকায় ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হন। এ ধরনের জনসচেতনতামূলক উদ্যোগের ফলে সাধারণ মানুষ বিনামূল্যে সরকারি আইনগত সহায়তা পাওয়ার সুযোগ, আবেদন পদ্ধতি এবং লিগ্যাল এইডের বিভিন্ন সেবা সম্পর্কে জানতে পারবেন।
জেলা লিগ্যাল এইড অফিসের এ উদ্যোগের মাধ্যমে ‘অর্থের অভাবে কোনো মানুষ যেন ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত না হন’—এই লক্ষ্য আরও কার্যকর হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন।
বিলবোর্ডটি বাস্তবায়নে রয়েছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা আরা, সাতক্ষীরা। সহযোগিতায় রয়েছে মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন ও ট্রাইডিশন এইড, অর্থায়নে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। প্রচারে রয়েছে জেলা লিগ্যাল এইড অফিস, সাতক্ষীরা।

কলারোয়ায় বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে র‍্যালি ও আলোচনা সভা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:২৩ অপরাহ্ণ
কলারোয়ায় বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে র‍্যালি ও আলোচনা সভা
কলারোয়া প্রতিনিধি: ‘শিক্ষকদের পাশে: পেশা সুরক্ষা, এর মর্যাদা বৃদ্ধি এবং আমাদের ভবিষ্যৎ গড়ার ৬০ বছর’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে কলারোয়ায় বিশ্ব শিক্ষক দিবস-২০২৬ পালিত হয়েছে।
দিবসটি উপলক্ষে সোমবার (৫ অক্টোবর) উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে র‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কলারোয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আরিফুল ইসলাম।
আলোচনা সভায় প্রধান আলোচক ছিলেন কলারোয়া সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর শশী ভূষণ পাল। সভাপতিত্ব করেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার জয়নাল আবদীন।  বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ও বক্তব্য রাখেন কলারোয়া সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর  আবু নসর, সরকারি জিকেএফ কে পাইলট হাইস্কুলের  প্রধান শিক্ষক সুদীপ বিশ্বাস, একাডেমিক সুপারভাইজার তাপস কুমার দাস, উপজেলা জামায়াতের আমীর মুহা. কামরুজ্জামান, অবসরপ্রাপ্ত  প্রধান শিক্ষক আমানুল্লাহ আমান, প্রধান শিক্ষক আখতার আসাদুজ্জামান  প্রধান শিক্ষক সাংবাদিক রাশেদুল হাসান কামরুল, সুপার মাওলানা ওসমান গনি, শিক্ষক নেতা বাকী বিল্লাহ শাহী, সহকারী শিক্ষক আরিফুজ্জামান কাঁকন। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন কলারোয়া প্রেসক্লাবের যুগ্ম আহ্বায়ক এমএ সাজেদ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক শেখ জুলফিকারুজ্জামান জিল্লু, সাংবাদিক জাহিদুর রহমান, দেলোয়ার হোসেন প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, একটি উন্নত ও মানবিক সমাজ গঠনে শিক্ষকদের ভূমিকা অপরিসীম। শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়ন, শিক্ষকদের পেশাগত মর্যাদা বৃদ্ধি এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দক্ষ ও মানবিক নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে শিক্ষকদের যথাযথ সম্মান ও সহযোগিতা নিশ্চিত করা জরুরি।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষা কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন।
সমগ্র অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সহকারী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার হারুন অর রশিদ মোল্লা।

কলারোয়ার উত্তর মুরারিকাটি পালপাড়ায় এবার দুর্গাপ্রতিমায় নতুন চমক, সাদা তিলে গড়া অনন্য শিল্পকর্ম

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:২০ অপরাহ্ণ
কলারোয়ার উত্তর মুরারিকাটি পালপাড়ায় এবার দুর্গাপ্রতিমায় নতুন চমক, সাদা তিলে গড়া অনন্য শিল্পকর্ম
কলারোয়া প্রতিনিধি: প্রতিমা নির্মাণে ব্যতিক্রমী সৃজনশীলতার জন্য ইতোমধ্যে আলাদা পরিচিতি পেয়েছে সাতক্ষীরার কলারোয়ার উত্তর মুরারিকাটি পালপাড়া। দুর্গাপূজাকে ঘিরে প্রতিবছরই নতুন কোনো শিল্পভাবনা নিয়ে হাজির হন এখানকার প্রতিমাশিল্পী ও পূজা আয়োজকরা। এরই ধারাবাহিকতায় এবার দেশীয় খাদ্যশস্য সাদা তিলের আবরণে তৈরি করা হয়েছে দুর্গাপ্রতিমা। অভিনব এই শিল্পকর্ম দেখতে প্রতিদিনই পূজামণ্ডপে ভিড় করছেন দর্শনার্থীরা।
কলারোয়া পৌরসভাধীন উত্তর মুরারিকাটি পালপাড়া সর্বজনীন পূজামণ্ডপে এবার দুর্গা, লক্ষ্মী, সরস্বতী, গণেশ, কার্তিক, অসুর ও মহিষাসুরসহ মোট ১৬টি প্রতিমা তৈরি করা হয়েছে। প্রতিটি প্রতিমার গায়ে বিশেষ পদ্ধতিতে বসানো হচ্ছে সাদা তিল। সব মিলিয়ে প্রতিমাগুলোতে প্রায় ২৫ কেজি সাদা তিল ব্যবহার করা হচ্ছে।
এর আগে ২০২৩ সালে চিনিগুঁড়া ধান দিয়ে এবং গত বছর পাটের আঁশ ব্যবহার করে প্রতিমা নির্মাণ করে চমক সৃষ্টি করেছিল পালপাড়া পূজামণ্ডপ। সেই ধারাবাহিকতায় এবার সাদা তিলের মোড়কে প্রতিমা নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, প্রতিমাগুলো নির্মাণের মূল কাজ অনেক আগেই শেষ হয়েছে। এখন প্রতিমার শরীরে আঠা দিয়ে একেকটি করে সাদা তিল বসানোর সূক্ষ্ম কাজ চলছে। তালুতে তিল নিয়ে নির্দিষ্ট জায়গায় বসিয়ে দেওয়ার এই কাজ অত্যন্ত সময়সাপেক্ষ ও শ্রমসাধ্য। প্রতিটি তিল সঠিকভাবে বসিয়ে প্রতিমার শরীরে নান্দনিক নকশা ফুটিয়ে তুলতে প্রয়োজন হচ্ছে ধৈর্য, নিখুঁত হাতের কাজ ও শিল্পীর দক্ষতা।
প্রতিমাশিল্পী খুলনার পাইকগাছার কপিলমুনির বাসিন্দা প্রহ্লাদ বিশ্বাস জানান, প্রতিমা নির্মাণ, তিল বসানো ও রঙের কাজ শেষ করতে সব মিলিয়ে প্রায় ১৫ দিন সময় লাগছে। তিনি চার সহকর্মীকে নিয়ে দিনরাত কাজ করছেন। তিল বসানোর কাজ শেষ করতে আরও দুই দিন সময় লাগতে পারে।
তিনি বলেন, “পরিষ্কার সাদা তিল হাতের তালুতে নিয়ে প্রতিমার গায়ে একে একে বসিয়ে দেওয়ার কাজটি বেশ কঠিন। প্রতিটি তিল সঠিকভাবে স্থাপন করতে যথেষ্ট সময় ও শ্রম দিতে হয়।”
পূজা মণ্ডপ কমিটির কোষাধ্যক্ষ অশ্বিন পাল জানান, এবার প্রতিমা নির্মাণ ও মণ্ডপসজ্জাসহ সব মিলিয়ে পাঁচ লাখ টাকারও বেশি খরচ হচ্ছে। তিনি বলেন, পাটের আঁশ দিয়ে প্রতিমা তৈরির পর এবারও নতুন কিছু করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়। পূজা মণ্ডপের দায়িত্বশীলদের আলোচনার মাধ্যমে সাদা তিলের মোড়কে প্রতিমা নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
তিনি আরও বলেন, “কলারোয়া উপজেলার মধ্যে আমরাই প্রতিবার নতুন কিছু করে দেখানোর চেষ্টা করি। এবারও সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে সাদা তিল দিয়ে প্রতিমা সাজানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”
পূজা মণ্ডপের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক প্রদীপ পাল বলেন, সকলের ঐকান্তিক প্রচেষ্টা ও সহযোগিতার ফলেই এই ব্যতিক্রমী কাজ সম্ভব হয়েছে। চিনিগুঁড়া ধান ও পাটের আঁশ দিয়ে তৈরি প্রতিমা দেশের সীমানা পেরিয়ে বিদেশেও প্রশংসা পেয়েছিল। এবার দেশীয় খাদ্যশস্য সাদা তিল দিয়ে তৈরি প্রতিমাটিও মানুষের নজর কাড়বে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
পালপাড়া পূজামণ্ডপ কমিটির নেতৃবৃন্দের মতে, সাদা তিল দিয়ে প্রতিমা সাজানো শুধু একটি ব্যতিক্রমী শিল্পপ্রয়াস নয়; এর মাধ্যমে কৃষিনির্ভর বাংলাদেশের মাটি, শস্য, শিকড় ও ঐতিহ্যকেও তুলে ধরা হচ্ছে। দেশীয় উপকরণকে শিল্পের সঙ্গে যুক্ত করে নতুন প্রজন্মের সামনে লোকজ সৃজনশীলতার একটি ভিন্ন দৃষ্টান্ত স্থাপন করাই তাদের লক্ষ্য।
উপজেলা হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের সভাপতি বাবু প্রকাশ হালদার জানান, এ বছর কলারোয়া উপজেলায় ৪৬টি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজা উদযাপিত হচ্ছে। এর মধ্যে উত্তর মুরারিকাটি পালপাড়া পূজামণ্ডপে সাদা তিলের আবরণে তৈরি ব্যতিক্রমী প্রতিমা ইতোমধ্যে সনাতন ধর্মাবলম্বীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের নজর কেড়েছে।
ব্যতিক্রমী এই উদ্যোগে একদিকে যেমন ফুটে উঠেছে প্রতিমাশিল্পীদের নিপুণ হাতের কারুকাজ, অন্যদিকে দেশীয় খাদ্যশস্য সাদা তিল পেয়েছে এক অনন্য শিল্পরূপ। ফলে এবারের দুর্গাপূজায় উত্তর মুরারিকাটি পালপাড়া হয়ে উঠেছে সৃজনশীলতার এক আকর্ষণীয় কেন্দ্র।