বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩
বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩

গাজায় নিখোঁজ স্বজনদের অপেক্ষায় হাজারো পরিবার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৩২ পূর্বাহ্ণ
গাজায় নিখোঁজ স্বজনদের অপেক্ষায় হাজারো পরিবার

গাজায় যুদ্ধ শুরুর তিন বছর পরও নিখোঁজ স্বজনদের সন্ধানে অপেক্ষা করছেন হাজারো ফিলিস্তিনি পরিবার। কেউ ইসরায়েলি স্থল অভিযানের সময় নিজ এলাকা বা আশ্রয়শিবির থেকে নিখোঁজ হয়েছেন, কেউ ত্রাণের সন্ধানে বেরিয়ে, বাড়িঘরের খোঁজ নিতে গিয়ে কিংবা তথাকথিত ‘ইয়েলো লাইন’-এর কাছাকাছি যাওয়ার পর আর ফেরেননি।
নিখোঁজ স্বজনদের বিষয়ে কোনো নিশ্চিত তথ্য না পাওয়ায় এসব পরিবার এক অনিশ্চিত অবস্থার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। তাঁরা জানেন না, স্বজনেরা বেঁচে আছেন কি না, আটক হয়েছেন কি না, ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েছেন কি না, নাকি অজ্ঞাত মরদেহের মধ্যে রয়েছেন।

স্বাধীন মানবাধিকার কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, গাজায় এখনো ১১ হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ বা নিখোঁজ হিসেবে তালিকাভুক্ত রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়া এবং জোরপূর্বক গুমের শিকার হয়েছেন বলে সন্দেহ করা ব্যক্তিরাও রয়েছেন।

ফিলিস্তিনি সেন্টার ফর মিসিং অ্যান্ড ফরসিবলি ডিসঅ্যাপিয়ার্ডের হিসাবে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ২০২৫ সালের ৯ অক্টোবর ঘোষিত যুদ্ধবিরতি পর্যন্ত ২ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার মানুষ জোরপূর্বক গুমের শিকার হয়েছেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। তাঁরা নিখোঁজ হওয়ার পর পরিবারের সঙ্গে আর যোগাযোগ করতে পারেননি।

নিখোঁজ এসব মানুষের পরিণতি এখনো অজানা। গাজা থেকে আটক ব্যক্তিদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ প্রকাশ করেনি। একই সঙ্গে গাজায় ফেরত দেওয়া প্রায় ৬২০টি মরদেহের পরিচয়ও নিশ্চিত করা হয়নি।

স্বজন হারানো এসব পরিবারের জন্য অপেক্ষার প্রতিটি দিনই হয়ে উঠেছে নতুন এক যন্ত্রণা। প্রিয়জন জীবিত না মৃত, আটক না নিখোঁজ, ধ্বংসস্তূপের নিচে নাকি অজ্ঞাত মরদেহের তালিকায়—কোনোটিই নিশ্চিতভাবে জানতে পারছেন না তাঁরা। ফলে শোক করবেন, নাকি ফিরে আসার আশায় অপেক্ষা করবেন, সেই সিদ্ধান্তও নিতে পারছেন না।

মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই এমন তিনটি পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছে, যাদের স্বজন যুদ্ধের সময় নিখোঁজ হয়েছেন।

তিন বছর ধরে ছেলের অপেক্ষায়
মধ্য গাজা শহরের আল-নাফাক সড়কের একটি ছোট তাঁবুতে বসে মোবাইল ফোনে ছেলের ছবি দেখেন নিদাল আল-ওয়াহিদির মা-বাবা। বাড়িতে বোমা হামলায় তাঁদের ঘরবাড়ি ও ছেলের জিনিসপত্র ধ্বংস হওয়ার পর এসব ছবিই এখন তাঁদের কাছে নিদালের স্মৃতি ধরে রাখার অন্যতম মাধ্যম।

নিদালের বাবা ৬২ বছর বয়সী সুহাইল আল-ওয়াহিদি বলেন, ‘আমাদের করার মতো কিছু নেই। শুধু ছেলের ছবি দেখি আর অপেক্ষা করি। তিন বছর ধরে আমরা শুধু অপেক্ষা করেছি এবং ছেলের কোনো খবর পাওয়ার আশা করেছি।’

নিদাল ছিলেন একজন সাংবাদিক। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ভোরে সহকর্মীদের সঙ্গে উত্তর গাজার এরেজ ক্রসিং এলাকায় গিয়েছিলেন তিনি। ওই এলাকায় হামাসের হামলার পর পরিস্থিতি নিয়ে সংবাদ সংগ্রহ করতে সেখানে যাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই পরিবারের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

সুহাইল বলেন, ‘নিদাল সব সময় আমাদের চিন্তায় থাকে। আমরা আশাবাদী থাকার চেষ্টা করি এবং তার কাছ থেকে কোনো খবর পাওয়ার অপেক্ষায় থাকি।’

ছেলের সন্ধানে রেড ক্রসসহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগ করেও কোনো তথ্য পাননি বলে জানান তিনি।

‘আমরা মানবাধিকার সংগঠনগুলোর কাছে বহুবার আবেদন করেছি। কোনো আবেদনই আমাদের সাহায্য করেনি। এই যুদ্ধে দুঃখজনকভাবে মানবাধিকারের কোনো সম্মান নেই,’ বলেন তিনি।

তবে ছেলের নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টিই শুধু তাঁকে কষ্ট দেয় না। প্রতিদিনের কঠিন সময়ে যে মানুষটির ওপর তিনি নির্ভর করতেন, সেই মানুষটিকে পাশে না পাওয়ার শূন্যতাও তাঁকে কষ্ট দেয়।

সুহাইল বলেন, ‘নিদাল শুধু আমাদের ছেলে ছিল না। সে ছিল আমাদের বন্ধু, পরিবারের অবলম্বন এবং আমার ডান হাত। এখন তাকে সবচেয়ে বেশি মনে পড়ে। আমি প্রায়ই ভাবি, সে যদি এখানে থাকত, এই কঠিন দিনগুলো কতটা সহজ হতো।’

বাবা ও ভাইয়ের অপেক্ষায় পরিবার
৫৯ বছর বয়সী সাঈদ হাজ্জাজ এবং তাঁর ছেলে কাসেম হাজ্জাজ (নিখোঁজ হওয়ার সময় বয়স ১৭) ২০২৩ সালের ২৬ ডিসেম্বর নিখোঁজ হন। এরপর থেকে তাঁদের কোনো সন্ধান পায়নি পরিবার।

মধ্য গাজা শহরের ফিলিস্তিন স্টেডিয়ামে বাস্তুচ্যুত হয়ে একটি তাঁবুতে থাকেন সাঈদের স্ত্রী ৫২ বছর বয়সী মোনা হাজ্জাজ। রাতে ঘুমানোর আগে হৃদ্‌রোগের ওষুধ খাওয়ার পর দুই মেয়ের সঙ্গে স্বামী ও ছেলের স্মৃতি নিয়ে কথা বলেন তিনি।

তাঁদের মেয়ে ৩৫ বছর বয়সী নিসরিন হাজ্জাজ বলেন, ‘আমার বাবা ও ছোট ভাইকে হারানোর কষ্টে আমরা সব সময় শোকের মধ্যে আছি। আমরা বিয়ের অনুষ্ঠানে যাই না। দুই বছরের বেশি সময় ধরে আমরা মিষ্টিও খাইনি।’

তিনি জানান, স্বামী ও ছেলের নিখোঁজ হওয়ার পর তাঁর মায়ের হৃদ্‌রোগের সমস্যা দেখা দিয়েছে। দিন-রাত কান্নার কারণে তাঁর দৃষ্টিশক্তিও দুর্বল হয়ে পড়েছে।

২০২৩ সালের ২০ ডিসেম্বর ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযানের সময় উত্তর গাজা শহরের শেখ রাদওয়ানে আত্মীয়দের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিল পরিবারটি। ওই এলাকায় অভিযান চালিয়ে আশপাশের বাড়িঘর ধ্বংস করার পর হাজ্জাজ পরিবারের বাড়িতেও প্রবেশ করে ইসরায়েলি বাহিনী।

নারীদের দক্ষিণ গাজায় চলে যেতে বাধ্য করা হয় এবং পুরুষদের আটক করা হয় বলে পরিবারের সদস্যরা জানান।

নিসরিন বলেন, ‘আমরা শেষবার বাবা ও ভাইকে দেখেছিলাম নগ্ন, হাতকড়া পরানো, নির্যাতিত ও অপমানিত অবস্থায়। এরপর থেকে তাঁদের বিষয়ে আমরা আর কিছুই জানি না। তাঁরা কোথায় আছেন বা কী অবস্থায় আছেন, কিছুই জানি না।’

তথ্য জানতে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করেও কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি বলে জানান তিনি।

এই অনিশ্চয়তা পরিবারের প্রতিটি মুহূর্তকে প্রভাবিত করেছে।

নিসরিন বলেন, ‘তাঁরা এখনো আমাদের জীবনের অংশ। কিন্তু আমরা জানি না, তাঁদের জন্য শোক করব, নাকি তাঁদের ফিরে আসার অপেক্ষায় থাকব।’

তিনি আরও বলেন, ‘যাদের ওপর আমরা নির্ভর করতাম, তাঁদের ছাড়াই আমাদের চলতে হচ্ছে। দুঃখজনকভাবে সহায়তা সংস্থাগুলোও আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছে না, কারণ তাঁদের শহীদ বা বন্দি হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়নি।’

স্বজনেরা মারা গেছেন এমন কোনো সরকারি নিশ্চিতকরণ না পাওয়া পর্যন্ত তাঁদের মৃত্যুর কথা মেনে নিতে রাজি নয় হাজ্জাজ পরিবার। এখনো তাঁরা ফিরে আসার আশায় আছেন।

নিসরিন বলেন, ‘আমার বোনকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনার খরচ বহনের জন্য একটি বৃত্তি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এর জন্য মৃত্যুসনদ প্রয়োজন ছিল। আমরা তা দিতে অস্বীকার করি এবং বৃত্তিটিও ছেড়ে দিই। কারণ, এখনো যদি সামান্যও আশা থাকে যে সে জীবিত অবস্থায় ফিরে আসতে পারে, তাহলে আমরা সেই সম্ভাবনাকে শেষ করে দিতে চাই না।’

এই নিখোঁজের ঘটনা পরিবারটির আর্থিক ও দৈনন্দিন জীবনেই শুধু প্রভাব ফেলেনি; কেড়ে নিয়েছে বহু প্রতীক্ষিত পারিবারিক আনন্দও।

নিসরিন বলেন, ‘আমার ভাইয়ের স্ত্রী যখন নয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন, তখন বাবা তাঁর প্রথম নাতিকে দেখার জন্য অধীর হয়ে অপেক্ষা করছিলেন। দাদা হওয়া ছিল তাঁর স্বপ্ন। সেই স্বপ্ন পূরণ হলেও তিনি তা দেখার জন্য সেখানে ছিলেন না।’

ভাইয়ের সন্ধানে তিন বছর
গাজায় নিখোঁজ স্বজনদের সন্ধানে গঠিত একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে ৪৮ বছর বয়সী আলা আবু শাবানের নিয়মিত একটি ছবি পোস্ট করেন। ছবিটি তাঁর ছোট ভাই মোহাম্মদের। কেউ তাঁকে দেখেছেন বা তাঁর কোনো খবর জানেন কি না, সেই প্রশ্ন করেন আলা।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর গাজায় ইসরায়েলি হামলা শুরু হলে আলা পূর্ব দেইর আল-বালাহ থেকে তাঁর ভাই মোহাম্মদের পরিবারকে সরিয়ে পারিবারিক বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তাঁর স্ত্রী ও সন্তানরা আলার সঙ্গে চলে গেলেও মোহাম্মদ বাড়িতে থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

আলা বলেন, ‘সে আমাকে বলেছিল, সবকিছু দ্রুত শেষ হয়ে যাবে। বাড়ি খালি রেখে যাওয়ার কোনো মানে হয় না।’

তিনি বলেন, ‘সেদিন বিকেলেও আমরা কথা বলেছিলাম এবং তাকে চলে আসতে বলেছিলাম। সে বলেছিল, সে চলে আসবে। এরপর সেটিই ছিল তার সঙ্গে আমাদের শেষ কথা।’

এর প্রায় দুই মাস পর মোহাম্মদের ফোন থেকে এক আত্মীয়ের কাছে একটি বার্তা আসে। সেখানে মোহাম্মদ জানান, তিনি দেইর আল-বালাহ সংলগ্ন ইসরায়েলের অভ্যন্তরের কিসুফিম এলাকায় আছেন এবং পরিবারের সদস্যদের তাঁকে নিয়ে যেতে বলেন। কিন্তু ওই এলাকা তখন এতটাই ঝুঁকিপূর্ণ ছিল যে পরিবারটি সেখানে যেতে পারেনি।

আলা বলেন, ‘তিন বছর ধরে আমরা জানি না আমার ভাইয়ের কী হয়েছে, সে কীভাবে নিখোঁজ হলো, কোথায় আছে কিংবা সে জীবিত কি না।’

মুক্তি পাওয়া কয়েকজন বন্দি তাঁদের জানিয়েছেন, তাঁরা ওফার কারাগারে মোহাম্মদের নাম শুনেছেন। এরপর পরিবারটি বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও কেউ তাঁর অবস্থান নিশ্চিত বা অস্বীকার করেনি।

আলা বলেন, ‘এত দিন ধরে আমরা এই যন্ত্রণাদায়ক অপেক্ষার মধ্যে আছি। এখন আমরা তাঁর পরিবারের দেখাশোনা করি। কিন্তু তাঁর বড় ছেলে ত্রাণের অপেক্ষায় থাকা অবস্থায় নিহত হয়েছে।’

ভাইয়ের নিখোঁজ হওয়ার অনিশ্চয়তা তাঁদের বৃদ্ধ বাবা-মায়ের স্বাস্থ্যের ওপরও বড় প্রভাব ফেলেছে বলে জানান আলা।

‘আমার বাবা ও পরিবারের সবাই বিশ্বাস করেন, মোহাম্মদ একদিন ফিরে আসবে। এই আশাটাই তারা ধরে রেখেছেন, যদিও এর সঙ্গে অনেক কষ্টও আছে। কিন্তু তার কোনো খবর না পাওয়ায় তারা উদ্বেগ ও শোকে ভেঙে পড়ছেন,’ বলেন তিনি।

এখনো মুক্তি পাওয়া বন্দিদের কাছে ভাইয়ের ছবি দেখিয়ে তাঁর বিষয়ে জানতে চান আলা।

তিনি বলেন, ‘অনেক রাতে ভাইকে মনে করে কাঁদতে কাঁদতে ঘুমিয়ে পড়ি। সে আমাকে যে সহযোগিতা করত, সেটিও খুব মনে পড়ে। সবচেয়ে কষ্ট হয়, তার বাবা নিখোঁজ থাকার সময় আমরা তার বড় ছেলেকে রক্ষা করতে পারিনি। ছেলেটিও নিহত হয়েছে।’

গাজায় নিখোঁজ মানুষের পরিবারগুলোর জন্য তাই যুদ্ধ শেষ হওয়ার পরও অপেক্ষার অবসান হয়নি। প্রিয়জনের কোনো নিশ্চিত খবর না পাওয়া পর্যন্ত তাঁদের জীবন যেন আশা, উৎকণ্ঠা ও শোকের মাঝামাঝি এক অনিশ্চিত অবস্থায় আটকে আছে।

সূত্র: মিডল ইস্ট আই

Ads small one

দুই অ্যাকাউন্টে জমা আছে ১১ কোটি টাকা, এক লাখও দিতে পারছে না ব্যাংকটি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১:১২ পূর্বাহ্ণ
দুই অ্যাকাউন্টে জমা আছে ১১ কোটি টাকা, এক লাখও দিতে পারছে না ব্যাংকটি

বরিশাল জেলা পরিষদের প্রায় ১১ কোটি টাকা ফেরত না দেওয়ায় এবার ন্যাশনাল ব্যাংকের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। এ জন্য সম্প্রতি জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

এদিকে টাকা ফেরত না দেওয়ায় জেলা পরিষদের সকল উন্নয়ন কর্মকাণ্ড থমকে গেছে। এক লাখ টাকার চেক পাঠালেও তাও দিতে পারছে না ব্যাংকটি।

এ কারণে গতকাল মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) জেলা পরিষদে ডেকে পাঠানো হয় বরিশাল ন্যাশনাল ব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও ব্রাঞ্চ ইনচার্জ এ টি এম কামাল হোসেনকে। তার জবাব ছিল এমন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে, সেখান থেকে টাকা পাওয়া গেলে আপনাদের দেওয়া হবে।

বরিশাল জেলা পরিষদের নথিপত্র পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ন্যাশনাল ব্যাংকের বরিশাল শাখায় জেলা পরিষদের দুটি সেভিংস হিসাবে ১০ কোটি ৮৬ লাখ ৫৪ হাজার ৭৮৮ টাকা ৮৬ পয়সা জমা রয়েছে।

এর আগে ২০২৫ সালের ৪ জুন জেলা পরিষদ থেকে ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে জমা করা অর্থ পে-অর্ডারের মাধ্যমে ফেরত দেওয়ার জন্য বলা হয়। ওই চিঠিতে প্রথম হিসাবে ৫ কোটি ৯৯ লাখ ৮৭ হাজার ৪৯৭ টাকা ১৮ পয়সা এবং দ্বিতীয় হিসাবে ৪ কোটি ৭৯ লাখ ৩১ হাজার ৩০৬ টাকা ৭০ পয়সা জমা থাকার কথা উল্লেখ করা হয়।

জেলা পরিষদের ওই চিঠিতে দুটি পে-অর্ডারের মাধ্যমে সম্পূর্ণ টাকা প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, জেলা পরিষদ, বরিশাল বরাবরে তিন কর্মদিবসের মধ্যে প্রেরণের জন্য বলা হলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অর্থ ফেরত দেওয়া হয়নি।

২০২৫ সালের ৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দুই হিসাবে জমা থাকা মোট ১০ কোটি ৮৬ লাখ ৫৪ হাজার ৭৮৮ টাকা ৮৬ পয়সা পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে দুটি পে-অর্ডারের মাধ্যমে জেলা পরিষদে ফেরত পাঠানোর জন্য পুনরায় বলা হয়।

জেলা পরিষদের ওই চিঠিতে আরও বলা হয়, জমা করা অর্থের পে-অর্ডার না পাওয়ায় জেলা পরিষদের উন্নয়নমূলক কাজের বিল পরিশোধ করা যাচ্ছে না।

এর জবাবে ন্যাশনাল ব্যাংকের বরিশাল শাখার ব্যবস্থাপকের পক্ষ থেকে জেলা পরিষদকে লিখিতভাবে জানানো হয়, তাদের চিঠি পাওয়ার পর বিষয়টি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে যথাযথভাবে জানানো হয়েছে। প্রধান কার্যালয় থেকে মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে, ব্যাংকের তারল্য সংকট এখনও কাটেনি। এ কারণে ওই মুহূর্তে পে-অর্ডারের মাধ্যমে জেলা পরিষদের অর্থ প্রদান সম্ভব হচ্ছে না।

ব্যাংকের জবাবে আরও বলা হয়, অচিরেই তারল্য সংকটের সমাধান হবে বলে প্রধান কার্যালয় আশাবাদ ব্যক্ত করেছে এবং সংকট কেটে গেলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে জেলা পরিষদের অর্থ পরিশোধ করা হবে।

অর্থাৎ জেলা পরিষদের নথিতে থাকা ব্যাংকের লিখিত জবাবেই ব্যাংকের তারল্য সংকটের বিষয়টি সরাসরি উঠে এসেছে। এরপরই অর্থ ফেরত না পাওয়ায় বিষয়টি আরও জটিল আকার নেয়।

জেলা পরিষদের নথিতে দেখা গেছে, তাদের একটি প্রকল্পের ব্যয় বাবদ হাফেজিয়া মাদ্রাসা ঈদগাহের অনুকূলে একটি চেকের মাধ্যমে এক লাখ টাকা প্রদানের উদ্যোগ নেওয়া হয়। কিন্তু ওই চেকের অর্থ পরিশোধ না করে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ চেকটি প্রত্যাখ্যান করে দেয়।

পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, জেলা পরিষদের পক্ষে আইনজীবী আলী আহমেদ ২০২৬ সালের ৯ এপ্রিল ন্যাশনাল ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে লিগ্যাল নোটিশ দেয়। লিগ্যাল নোটিশে জেলা পরিষদের পূর্বের চিঠি এবং ব্যাংকের দেওয়া জবাবের বিষয় তুলে ধরা হয়।

সেখানে উল্লেখ করা হয়, ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জেলা পরিষদকে জানিয়েছিল, ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় থেকে মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে, ব্যাংকের তারল্য সংকট এখনও কাটেনি। এ কারণে ওই মুহূর্তে পে-অর্ডার দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তবে তারল্য সংকট কেটে গেলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে জেলা পরিষদের অর্থ পরিশোধ করা হবে।

কিন্তু নোটিশে আরও উল্লেখ করা হয়, ওই জবাবের পর জেলা পরিষদের প্রকল্প ব্যয়ের এক লাখ টাকার চেকও ব্যাংক কর্তৃপক্ষ প্রত্যাখ্যান করেছে। এতে জেলা পরিষদের কার্যক্রম ব্যাহত এবং উন্নয়ন প্রকল্পের বিল পরিশোধে সমস্যা তৈরি হয়েছে বলে লিগ্যাল নোটিশে দাবি করা হয়।

লিগ্যাল নোটিশে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে জেলা পরিষদের জমা করা সমুদয় অর্থ এক বা দুটি পে-অর্ডারের মাধ্যমে পরিশোধ করতে বলা হয়। অন্যথায় ব্যাংকের বিরুদ্ধে কেন আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, সে বিষয়ে কারণ দর্শানোর কথাও বলা হয়।

বরিশাল জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও কেন্দ্রীয় বিএনপির বরিশাল বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আকন কুদ্দুসুর রহমান জানিয়েছেন, উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের জন্য রাখা প্রায় ১১ কোটি টাকা ন্যাশনাল ব্যাংকের বরিশাল শাখায় আটকে আছে। টাকা ফেরত চেয়ে জেলা পরিষদ একাধিকবার লিখিতভাবে তাগাদা দিয়েছে, দুটি পে-অর্ডারের মাধ্যমে জমা করা অর্থ ফেরত চেয়েছে এবং শেষ পর্যন্ত আইনজীবীর মাধ্যমে লিগ্যাল নোটিশও দিয়েছে। এর জবাবে ব্যাংকের পক্ষ থেকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে, ব্যাংকটির তারল্য সংকট এখনও কাটেনি। ফলে এ মুহূর্তে পে-অর্ডারের মাধ্যমে টাকা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তবে তারল্য সংকট কেটে গেলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে জেলা পরিষদের অর্থ পরিশোধ করা হবে বলে ব্যাংকের পক্ষ থেকে লিখিতভাবে জানানো হয়। দীর্ঘদিন ধরে টাকা না পাওয়ায় উন্নয়ন কর্মকাণ্ডগুলো থমকে আছে। সামান্য এক লাখ টাকার চেকও প্রত্যাখ্যান করছেন ব্যাংক কর্মকর্তারা।

জেলা পরিষদের প্রশাসক আরও বলেন, টাকা ফেরত চাইতে গেলে ন্যাশনাল ব্যাংকের স্থানীয় শাখা থেকে কখনও ব্যবস্থাপনা পরিচালক বা এমডি, আবার কখনও চেয়ারম্যানের অনুমোদনের কথা বলা হচ্ছে। অথচ প্রশ্ন উঠেছে, গ্রাহকের কাছ থেকে আমানত গ্রহণের সময় যদি চেয়ারম্যান কিংবা এমডির অনুমোদনের প্রয়োজন না হয়, তাহলে সেই আমানত ফেরত দেওয়ার সময় কেন তাদের অনুমোদন প্রয়োজন হবে?

বেক্সিমকোর আরও দুই কোম্পানির পর্ষদ থেকে বাদ সালমান এফ রহমান

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১:০৬ পূর্বাহ্ণ
বেক্সিমকোর আরও দুই কোম্পানির পর্ষদ থেকে বাদ সালমান এফ রহমান

 

বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসের পর এবার বেক্সিমকো গ্রুপের তালিকাভুক্ত আরও দুই প্রতিষ্ঠান শাইনপুকুর সিরামিকস ও বেক্সিমকো লিমিটেডের পরিচালনা পর্ষদ থেকেও বাদ পড়েছেন সালমান এফ রহমান। এর ফলে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত বেক্সিমকো গ্রুপের তিন কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদেই আর থাকছেন না তিনি।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) সভায় শাইনপুকুর সিরামিকস ও বেক্সিমকো লিমিটেডের পুনর্গঠিত পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন দেওয়া হয়।

বিএসইসি সূত্র জানায়, বিনিয়োগকারীদের স্বার্থসহ সার্বিক বিষয় বিবেচনায় নিয়ে কোম্পানি দুটির পর্ষদ পুনর্গঠনের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। দুই কোম্পানির পৃথক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ অনুমোদন দেওয়া হয়। পুনর্গঠিত দুই পর্ষদ থেকেই সালমান এফ রহমানকে বাদ দেওয়া হয়েছে।

এর আগে গত ২৯ সেপ্টেম্বর বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসের পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠনের অনুমোদন দেয় বিএসইসি। ওই পর্ষদ থেকেও সালমান এফ রহমানকে বাদ দেওয়া হয়। ফলে তালিকাভুক্ত বেক্সিমকো গ্রুপের তিন প্রতিষ্ঠান বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস, শাইনপুকুর সিরামিকস ও বেক্সিমকো লিমিটেড; কোনোটির পরিচালনা পর্ষদেই এখন আর তিনি নেই।

দুই কোম্পানির চেয়ারম্যান এ এস এফ রহমান

বিএসইসির অনুমোদিত পুনর্গঠিত পর্ষদ অনুযায়ী, শাইনপুকুর সিরামিকসের চেয়ারম্যান করা হয়েছে সালমান এফ রহমানের ভাই আহমেদ সোহেল ফসিহুর রহমানকে (এ এস এফ রহমান)। কোম্পানিটির উদ্যোক্তা পরিচালক হিসেবে রয়েছেন ওসমান কায়সার চৌধুরী, ইকবাল আহমেদ, আজমল কবির ও কামরুন নাহার আহমেদ।

এ ছাড়া শাইনপুকুর সিরামিকসের পর্ষদে দুজন স্বতন্ত্র পরিচালক যুক্ত করার সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেছে বিএসইসি। তবে তাদের একজনেরও নাম এখনও চূড়ান্ত হয়নি।

অন্যদিকে বেক্সিমকো লিমিটেডের চেয়ারম্যানের দায়িত্বও পেয়েছেন এ এস এফ রহমান। কোম্পানিটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) হিসেবে পর্ষদে রয়েছেন ওসমান কায়সার চৌধুরী।

বেক্সিমকো লিমিটেডের পুনর্গঠিত পর্ষদে উদ্যোক্তা পরিচালক হিসেবে ইকবাল আহমেদ, আজমল কবির ও কামরুন নাহার আহমেদকে রাখা হয়েছে। স্বতন্ত্র পরিচালক হিসেবে শাহ মঞ্জুরুল হকসহ আরও একজনকে রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে দ্বিতীয় স্বতন্ত্র পরিচালকের নাম এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

পর্ষদে থাকছেন সালমান-ঘনিষ্ঠরা

বেক্সিমকো গ্রুপের তালিকাভুক্ত তিন কোম্পানির পর্ষদ থেকে সালমান এফ রহমান বাদ পড়লেও পুনর্গঠিত পর্ষদে তার ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ব্যক্তিদের অনেকেই রয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য, দেশের পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বেক্সিমকো গ্রুপ যে প্রতিকূলতার মুখোমুখি হয়েছে, তা বিবেচনায় নিয়ে সালমান এফ রহমান পর্ষদ থেকে সরে দাঁড়াতে সম্মত হন। তার কারণে কোম্পানির ব্যবসা ও শেয়ারধারীরা যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সে বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই পর্ষদ পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এরই ধারাবাহিকতায় তালিকাভুক্ত তিন কোম্পানির পর্ষদ পুনর্গঠন করা হচ্ছে।

গত বছর শেয়ারবাজারে আজীবন অবাঞ্ছিত ঘোষণা

২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বেক্সিমকো গ্রুপের ব্যবসা ও আর্থিক পরিস্থিতি নিয়ে নানা আলোচনা তৈরি হয়। একই সময়ে সালমান এফ রহমানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি কারাগারে রয়েছেন।

এর আগে ২০২৫ সালের জুলাইয়ে সালমান এফ রহমানকে শেয়ারবাজারে ‘আজীবন অবাঞ্ছিত’ ঘোষণা করে বিএসইসি। এরপর ধাপে ধাপে বেক্সিমকো গ্রুপের তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়।

প্রথমে বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসের পর্ষদ থেকে তাকে সরানো হয়। এবার একই প্রক্রিয়ায় শাইনপুকুর সিরামিকস ও বেক্সিমকো লিমিটেডের পর্ষদ থেকেও তার নাম বাদ পড়লো।ফলে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত বেক্সিমকো গ্রুপের তিন প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদে সালমান এফ রহমানের সরাসরি কোনো পদ থাকলো না।

২৭০০ বিড়াল চুরি করে মাংস বিক্রি, ভিয়েতনামে মূলহোতাসহ চক্রের ১২ সদস্য গ্রেফতার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১:০০ পূর্বাহ্ণ
২৭০০ বিড়াল চুরি করে মাংস বিক্রি, ভিয়েতনামে মূলহোতাসহ চক্রের ১২ সদস্য গ্রেফতার

ভিয়েতনামের হো চি মিন সিটিতে প্রায় ২ হাজার ৭০০টি বিড়াল চুরি ও মাংসের জন্য বিক্রির অভিযোগে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের ১২ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে স্থানীয় পুলিশ। তদন্তের অংশ হিসেবে পুলিশ বিড়াল ধরার ফাঁদ, পশম তোলার মেশিন ও ডিজিটাল স্কেল জব্দ করেছে।

অনলাইন পোর্টাল ভিএনএক্সপ্রেস ইন্টারন্যাশনাল-এর প্রতিবেদনে জানানো হয়, গ্রেফতার ব্যক্তিদের মধ্যে ৩৯ বছর বয়সী লু থান বিনকে এই নেটওয়ার্কের মূলহোতা হিসেবে চিহ্নিত করেছে পুলিশ। সম্পত্তি চুরির অভিযোগে বিন ও তার ১১ সহযোগীর বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, চক্রটির সদস্যরা রাতের বেলা ছোট ছোট দলে ভাগ হয়ে মোটরসাইকেলে করে বিভিন্ন আবাসিক এলাকায় ঘুরে বেড়াত। যেসব বাড়িতে বিড়াল পোষা হতো, সেগুলোর বাইরে ছোপ ছোপ মাছ দিয়ে ফাঁদ পেতে রাখা হতো। প্রতিটি দল প্রতি রাতে চার থেকে ১০টি করে বিড়াল চুরি করতো।

গত ৮ জুলাই ডং থান কম্যুনে চালানো এক অভিযানে এই নেটওয়ার্কের সন্ধান মেলে। সেখানে ৫০টি বিড়াল, ৫৫টি ফাঁদ ও দুটি স্কেল উদ্ধার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের মুখে ১২ আসামি স্বীকার করেছেন, তারা প্রায় ২ হাজার ৭০০টি বিড়াল চুরি করে বিক্রি করেছেন। তবে এই চক্র কত দিন ধরে সক্রিয় ছিল, তা পুলিশ এখনও নির্ধারণ করতে পারেনি।

বিড়াল চুরির পাশাপাশি বিন অন্যান্য স্বাধীন বিক্রেতাদের কাছ থেকেও বিড়াল কিনতেন। জুলাইয়ে উদ্ধার হওয়া ৫০টি বিড়ালের মধ্যে ১৩টিকে প্রকৃত মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

ভিয়েতনামে, বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলের বয়স্ক জনগোষ্ঠীর মধ্যে কুকুর ও বিড়ালের মাংস খাওয়া বৈধ। বৈজ্ঞানিক প্রমাণ না থাকলেও অনেকে মনে করেন, বিড়ালের মাংস খেলে ভাগ্য সুপ্রসন্ন হয়। দেশটির বিভিন্ন রেস্তোরাঁয় প্রকাশ্যেই এ ধরনের মাংসের খাবার বিক্রি করা হয়; তবে বিক্রেতাদের কাছে প্রাণীর উৎসের সঠিক অনুমোদনপত্র থাকতে হয়।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে ভিয়েতনামে কুকুর ও বিড়ালের মাংসের ব্যবসা বন্ধের দাবিতে আড়াই লাখেরও বেশি মানুষ এক পিটিশনে স্বাক্ষর করেন। এছাড়া ২০২১ সালে দেশটির হোই আন শহর কুকুর ও বিড়ালের মাংস বিক্রি ও গ্রহণ বন্ধের অঙ্গীকার করে।

সূত্র: এনডিটিভি