বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩

ডাকব্যবস্থার বিবর্তন মানবসভ্যতার অগ্রগতি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৩৯ অপরাহ্ণ
ডাকব্যবস্থার বিবর্তন মানবসভ্যতার অগ্রগতি

প্রকাশ ঘোষ বিধান

ডাকব্যবস্থার বিবর্তন মানবসভ্যতার অগ্রগতির এক অনবদ্য দলিল। প্রাচীনকালে গুহাচিত্র বা ধোঁয়ার সংকেত থেকে শুরু করে আজকের ডিজিটাল ইমেইল বা ই-কমার্স লজিস্টিকস-যোগাযোগের এই মাধ্যমটি সমাজ, অর্থনীতি ও সংস্কৃতিকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে।
ডাক ও ডাকব্যবস্থার বিবর্তন মানবসভ্যতার অগ্রগতির সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। সেকালের ডাক ব্যবস্থা আর একালের আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ডাক ব্যবস্থার মাঝে রয়েছে এক বিরাট রূপান্তর। সময়ের বিবর্তনে মানুষের বার্তা পৌঁছানোর মাধ্যম কীভাবে রানার বা ডাকহরকরা থেকে আজকের ডিজিটাল ই-মেইল কিংবা কুরিয়ার সার্ভিসে রূপান্তর হয়েছে, এটি তারই এক বাস্তব চিত্র।

একসময় খবরের প্রধান মাধ্যম ছিল হাতে লেখা চিঠি, যা কাগজে কলমে লিখে পাঠানো হতো। পিঠে চিঠির ব্যাগ, হাতে লণ্ঠন বা বর্ষা নিয়ে মাইলের পর মাইল হেঁটে চিঠি পৌঁছে দিতেন ডাকহরকরা বা রানার। সুকান্ত ভট্টাচার্যের রানার কবিতায় এবং তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাক হরকরা গল্পে তাঁদের এই সংগ্রামী ও রোমাঞ্চকর জীবনের চিত্র ফুটে উঠেছে।

হলুদ খাম, পোস্টকার্ড কিংবা ইনল্যান্ড লেটারে মানুষ তার সুখ-দুঃখের কথা লিখে দূর-দূরান্তে পাঠাত। ডাকপিয়নের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করা এবং চিঠি হাতে পেয়ে অশ্রুবিসর্জন কিংবা আনন্দের প্রকাশ ছিল সেকালের চিরাচরিত দৃশ্য।

রাতের অন্ধকারে ডাক নেওয়ার সময় রানারদের হাতের লণ্ঠনের আলো আর ঝুমঝুম ঘণ্টার আওয়াজ ছিল চেনা দৃশ্য। এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় চিঠি পৌঁছাতে দিন থেকে সপ্তাহ বা মাস পর্যন্ত সময় লাগত। রানারদেরও আগে রাজা-বাদশাদের আমলে প্রশিক্ষিত পায়রা কিংবা দ্রুতগামী ঘোড়া ব্যবহার করে রাজকীয় বার্তা পাঠানো হতো।

১৭শ ও ১৮শ শতকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সরকারিভাবে ডাক বিভাগ গড়ে ওঠে। ১৬৩৫ সালে ইংল্যান্ডে প্রথম সাধারণ জনগণের জন্য ডাকসেবা উন্মুক্ত করা হয়। ১৮৪০ সালে যুক্তরাজ্যে পেনি ব্ল্যাক প্রবর্তনের মাধ্যমে ডাকব্যবস্থায় বিপ্লব আসে। এর ফলে চিঠি পাঠানোর খরচ সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে চলে আসে।

আধুনিক প্রযুক্তির প্রভাবে ইন্টারনেট, ই-মেইল, স্মার্টফোন এবং ম্যাসেজিং অ্যাপের যুগে কাগজের চিঠির প্রচলন প্রায় হারিয়ে গেছে। অনেক ডাকঘর এখন আধুনিক পাকা ভবনে রূপান্তরিত হয়েছে, অনেক স্থানে সোলার প্যানেল ও ডিজিটাল সেবা চালু হয়েছে। শুধু চিঠি নয়, বর্তমানে ডাক বিভাগ পার্সেল আদান-প্রদান, ই-কমার্স ডেলিভারি, মানি অর্ডার এবং ব্যাংকিং সেবা দিয়ে থাকে।

রানারদের সেই পায়ে হাঁটা রূপ আজ রূপ নিয়েছে মোটর সাইকেল, ট্রাক ও কার্গোবাহী আধুনিক কুরিয়ার সার্ভিসে। সময়ের পরিবর্তনে চিরাচরিত রানার বা হাতে লেখা চিঠির রূপ বদলালেও, দাপ্তরিক ও জরুরি পার্সেল আদান-প্রদানে ডাকঘর এখনো তার নিজস্ব প্রয়োজনীয়তা নিয়ে টিকে আছে।

সময়ের সাথে সাথে যোগাযোগের গতি বাড়লেও হারিয়ে গেছে চিঠির সেই পুরোনো সুবাস আর রানারের ঘণ্টার চিরচেনা আওয়াজ। প্রযুক্তির এই রূপান্তর মানুষের জীবনকে করেছে অনেক বেশি গতিশীল ও সহজ।

লেখক : সাংবাদিক ও কলামিস্ট

Ads small one

সম্পাদকীয়: মাদুরশিল্প বাঁচাতে উদ্যোগ জরুরি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১২ পূর্বাহ্ণ
সম্পাদকীয়: মাদুরশিল্প বাঁচাতে উদ্যোগ জরুরি

সাতক্ষীরার ঐতিহ্যবাহী মাদুরশিল্প আজ বিলুপ্তির পথে। একসময় তালা উপজেলার বহু পরিবারের জীবিকার প্রধান অবলম্বন ছিল মাদুর তৈরি। পাটকেলঘাটার মাদুরের সুনামও ছিল দেশের বিভিন্ন এলাকায়। কিন্তু কাঁচামালের সংকট, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, মাদুরের ন্যায্যমূল্য না পাওয়া এবং প্লাস্টিক পণ্যের দাপটে এ শিল্প এখন সংকটে।
সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো, মেলে ঘাসের দাম বেড়েছে, অথচ মাদুরের বিক্রিমূল্য সেই তুলনায় বাড়েনি। ফলে শ্রম ও উৎপাদন খরচ বাদ দিয়ে কারিগরদের হাতে সামান্য অর্থ থাকছে। এ কারণে অনেকেই পেশা বদল করতে বাধ্য হচ্ছেন। একই সঙ্গে ব্যাংকঋণের অপ্রতুলতা ও সরকারি সহায়তার অভাবও শিল্পটির সংকট বাড়াচ্ছে।
এই ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখতে হলে প্রথমে মাদুরশিল্পীদের সহজ শর্তে ঋণ, কাঁচামাল সংগ্রহে সহায়তা ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। পাশাপাশি মাদুরের নকশা ও ব্যবহার বহুমুখী করে বাজার সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। ইউনিয়ন বা উপজেলা পর্যায়ে মাদুর মেলার আয়োজন এবং দেশীয় ও অনলাইন বাজারে বিপণনের সুযোগ তৈরি করা যেতে পারে।
পাটকেলঘাটার মাদুরশিল্প শুধু একটি পেশা নয়, এটি স্থানীয় ঐতিহ্য ও গ্রামীণ অর্থনীতির অংশ। তাই শিল্পটি পুরোপুরি হারিয়ে যাওয়ার আগেই সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। এতে ঐতিহ্য রক্ষার পাশাপাশি বহু প্রান্তিক পরিবারের কর্মসংস্থানও টিকে থাকবে।

 

কলারোয়ায় ৪৬টি ম-পে দুর্গাপূজা, ঝুঁকিপূর্ণ নয় কোনটিই

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:০৮ পূর্বাহ্ণ
কলারোয়ায় ৪৬টি ম-পে দুর্গাপূজা, ঝুঁকিপূর্ণ নয় কোনটিই

কলারোয়া প্রতিনিধি: সামনেই শারদীয় দুর্গোৎসব। উৎসবকে ঘিরে কলারোয়া উপজেলার সব ম-পে প্রতিমা তৈরির কাজ শেষ হয়েছে। এখন চলছে রঙ-তুলির শেষ মুহূর্তের ছোঁয়া। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় প্রস্তুতিতে কোনো সমস্যা হয়নি বলে জানিয়েছেন আয়োজকেরা।
বৃহস্পতিবার পৌরসভার তুলসীডাঙ্গা ঘোষপাড়া মাতৃমন্দির, উত্তর মুরারিকাটি পালপাড়া ও গোয়ালঘাটা পূজাম-প ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিমার নির্মাণ ও রঙের কাজ প্রায় শেষ। ম-পে ম-পে প্রতিমা দেখার জন্য স্থানীয় হিন্দুধর্মাবলম্বী মানুষের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো। উৎসব ঘিরে সর্বত্র সম্প্রীতিময় পরিবেশ বজায় রয়েছে।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, কলারোয়ায় এবার ৪৬টি ম-পে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে, যা গতবারের চেয়ে একটি বেশি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরিফুল ইসলামের সভাপতিত্বে আয়োজিত আইনশৃঙ্খলাসংক্রান্ত সভায় জানানো হয়, উপজেলার সবকটি ম-প সিসি ক্যামেরার আওতায় থাকবে। কোনো ম-পকেই ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়নি।

পৌরসভার আটটি ম-প হলোÑতুলসীডাঙ্গা ঘোষপাড়া সর্বজনীন, তুলসীডাঙ্গা গোয়ালঘাটা, উত্তর মুরারিকাটি পালপাড়া, মুরারিকাটি দক্ষিণ পাড়া, মুরারীকাটি দক্ষিণ হরিসভা, গোপীনাথপুর ঘোষপাড়া, গোপীনাথপুর দক্ষিণ পাড়া ও ঝিকরা হরিতলা সর্বজনীন পূজাম-প।
ইউনিয়ন পর্যায়ের ম-পগুলোর মধ্যে জয়নগরে আটটি, দেয়াড়ায় ছয়টি, কুশোডাঙ্গায় চারটি, জালালাবাদ, কেঁড়াগাছি ও হেলাতলায় তিনটি করে, কয়লা, লাঙ্গলঝাড়া, চন্দনপুর, কেরালকাতা ও যুগিখালিতে দুটি করে এবং সোনাবাড়িয়া ইউনিয়নে একটি ম-পে পূজা অনুষ্ঠিত হবে।
সার্বিক পরিবেশ নিয়ে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্ট কলারোয়া উপজেলা শাখার সভাপতি প্রকাশ চন্দ্র হালদার ও সাধারণ সম্পাদক দেবাশীষ দাস দেবু সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাঁরা জানান, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো রয়েছে এবং কোথাও অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। সবার সহযোগিতায় উৎসবমুখর পরিবেশে এবারও পূজা সম্পন্ন হবে বলে তাঁরা আশাবাদী।

তালায় দুর্গাপূজা ঘিরে নবাগত ওসির মতবিনিময় সভা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:০৮ পূর্বাহ্ণ
তালায় দুর্গাপূজা ঘিরে নবাগত ওসির মতবিনিময় সভা

শাহিন আলম, খলিষখালী (পাটকেলঘাটা): শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে তালার খলিষখালীতে বিভিন্ন পূজাম-পের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের সঙ্গে পাটকেলঘাটা থানার নবাগত অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তোফাজ্জল হোসেনের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেল চারটায় খলিষখালী রামকৃষ্ণ আশ্রমে এ সভা হয়।
খলিষখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সাবীর হোসেনের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পাটকেলঘাটা থানার ওসি তোফাজ্জল হোসেন।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন বিএনপি নেতা শেখ নূর আহম্মেদ ও শেখ আব্দুল হান্নান, তালা উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক নারায়ণ চন্দ্র মজুমদার, খলিষখালী পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ মো. সায়েম, সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মো. জিহাদ হোসেন এবং জয়দেব বাবু। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন তালা উপজেলা যুবদলের নেতা মেহেদী হাসান।