শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩

ড. আখতার হামিদ খানের কালোত্তীর্ণ পল্লী উন্নয়ন আদর্শ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:২৫ অপরাহ্ণ
ড. আখতার হামিদ খানের কালোত্তীর্ণ পল্লী উন্নয়ন আদর্শ

মো. হুমায়ুন খালিদ

বাংলাদেশসহ বিশ্বের উন্নয়নশীল অনেক দেশেই পল্লী উন্নয়নের প্রবাদ পুরুষ ও পথিকৃৎ হিসাবে স্বীকৃত ড. আখতার হামিদ খান ১৯১৪ সালের ১৫ জুলাই ভারতের উত্তর প্রদেশের অন্তর্গত আগ্রায় এক পাঠান বংশে জন্মগ্রহণ করেন। মৃত্যুবরণ করেন ১৯৯৯ সালের ৯ অক্টোবর লন্ডনে। আজ তার ২৭তম মৃত্যুবার্ষিকী। উন্নয়ন কর্মী, অ্যাক্টিভিস্ট সমাজ বিজ্ঞানী, গবেষক, শিক্ষক ও প্রশাসকসহ তাঁর পরিচয় বহুমাত্রিক অর্থ্যাৎ তিনি ছিলেন ভার্স্যাটাইল জিনিয়াস। জন্মসূত্রে অবাঙালি হওয়া সত্তেও তিনি বাংলাদেশের কৃষিক্ষেত্রে আধুনিকতা আনয়নের পথ-প্রদর্শক। তার দর্শনের আলোকে গ্রামভিত্তিক বাংলাদেশে গ্রামোন্নয়ন তথা পল্লী উন্নয়নের আধুনিক ধারণার জন্ম হয়। এই ধারণা বাস্তবায়নের অন্যতম বাহন ছিল দ্বি-স্তর বিশিস্ট সমবায় সমিতি। অর্থ্যাৎ প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রাথমিক সমিতিগুলোর সমন্বয়ে আবশ্যিকভাবে থাকবে থানা/উপজেলা পর্যায়ে অবস্থিত কেন্দ্রীয় সমবায় সমিতি। এ দুটি পর্যায়ের সমিতি হবে একে অপরের পরিপূরক ও সম্পুরক।

সমবায় সমিতি আইন ২০০১ (সর্বশেষ সংশোধিত ২০১৩) এর ৮(চ) উপধারা অনুযায়ী, ‘দ্বি-স্তর বিশিস্ট সমবায় সমিতি অর্থ্যাৎ গ্রাম পর্যায়ে গঠিত কমপক্ষে ১০ (দশ) টি প্রাথমিক সমবায় সমিতির সমন্বয়ে উপজেলা বা থানা পর্যায়ে গঠিত উপজেলা/থানা কেন্দ্রীয় সমবায় সমিতি লিমিটেডকে বুঝাইবে।’ সুতরাং দেখা যাচ্ছে যে, সমবায় অঙ্গনে যোগ্য নেতৃত্ব তৈরি, পারস্পরিক সহায়তার বন্ধন স্থাপন ও কার্যকর সমন্বয়ের মাধ্যমে সৃষ্টি হয় কেন্দ্রীয় সমবায় সমিতির মাধ্যমে। এটাই দ্বি-স্তর সমবায় সমিতির মুল কথা। আধুনিক প্রযুক্তি-নির্ভর সুশাসন অর্থ্যাৎ সততা, ন্যয্যতা, দক্ষতা, জবাবদিহিতার নীতি-আদর্শের ভিত্তিতে তহবিল সংগ্রহ ও সদস্য প্রথমিক সমিতিসমূহের উৎপাদনমুখি প্রকল্পে তহবিল বিনিয়োগ ও সমবায়ীদের নির্ভরযোগ্য অর্থ সরবারহকারী, সমন্বয় সৃষ্টিকারী, এবং দক্ষতা বৃদ্ধিকারী প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলাই কেন্দ্রীয় সমবায় সমিতির মুখ্য উদ্দেশ্য।

বাংলাদেশের অর্থনীতি, সংস্কৃতি ও সামাজিক জীবনের প্রাণকেন্দ্র হচ্ছে পল্লী। গ্রাম ও গ্রামাঞ্চল সমন্বয়ে যে ইকো সিস্টেম গড়ে ওঠে তাকে আমরা বলি পল্লী। দেশের প্রায় ৬৮ শতাংশ মানুষ গ্রামে বসবাস করে এবং এভাবেই এই পল্লী কৃষি, ক্ষুদ্র উদ্যোগ, কুটির শিল্প ও পল্লীস্থ স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকান্ডের মাধ্যমে জাতীয় উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। বিশৃঙ্খল ও অনিশ্চিত বিশ্বের মাঝে বাংলাদেশে আমাদের টিকে থাকার ভরসা হচ্ছে পল্লীকেন্দ্রিক অর্থনীতি। এই প্রেক্ষাপটেই একটি ন্যায়ভিত্তিক, অংশগ্রহণমূলক ও জনকল্যাণমুখি রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বর্তমান বিএনপি সরকার দেশের প্রতিটি মানুষকে উন্নয়নের ধারা উপধারা-উপধারায় সম্পৃক্ত করতে চায়। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে গ্রাম ও পল্লীকেই জাতীয় উন্নয়নের ভিত্তি হিসাবে বিবেচনা করছে এ সরকার। এগুলো ছাড়া প্রত্যাশিত নূতন বাংলাদেশ ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব নয়। এ ক্ষেত্রে ড. আখতার হামিদ খান সূচিত পল্লী উন্নয়ন মডেল অনুসরণ করতে হবে। কেননা ড. আখতার হামিদ খাঁনের প্রতিষ্ঠিত আদর্শ অনুযায়ী পল্লী উন্নয়ন বিষয়টি এক বা একাধিক খাতভিত্তিক ক্ষেত্রে নয়; বরং একে অপরের ওপর নির্ভরশীল উন্নয়ন ডেভেলপমেন্ট কনসেপ্টের বিষয়টি মূলত একটি সমন্বিত রূপ।

পল্লী উন্নয়নের ক্ষেত্রে প্রাতঃস্মরণীয় ড. আখতার হামিদ খান ভারতের আগ্রা বিশ্ববিদ্যালয় হতে শিক্ষালাভ করে; তৎকালিন ইন্ডিয়ান সিভিল সার্ভিস (আইসিএস) শিক্ষানবীস কর্মকর্তা হিসাবে যোগদান করেন। শিক্ষানবীসকালীন সময়েই তিনি যুক্তরাজ্যের ক্যাম্ব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে সাহিত্য ও ইতিহাসে অধ্যয়ন করেন। তিনি মূলত: ছিলেন ইংরেজি সাহিত্যের ছাত্র। ক্যাম্ব্রিজ থেকে অধ্যয়ন শেষে দেশে ফিরে আসলে তাঁর পোস্টিং হয় তৎকালীন পূর্ববঙ্গের বিভিন্ন মহকুমায়। প্রথম পোস্টিং ছিল তৎকালীন ত্রিপুরা জেলায়। ১৭৮৯ সালে প্রতিষ্ঠিত ত্রিপুরা জেলার সদর দপ্তর ছিল কুমিল্লাতে। সূতরাং গর্বের সঙ্গে বলা যায় যে, ঐতিহ্যবাহী আইসিএস অফিসার হিসাবে ড. আখতার হামিদ খানের প্রথম পোস্টিং ছিল বর্তমান বাংলাদেশের কুমিল্লা জেলায়। ১৯৪৩ সালের মহা মনন্তরের সময় ড. আখতার হামিদ খান তৎকালীন নেত্রকোনা মহকুমার প্রশাসক ছিলেন। এখান থেকে ব্রিটিশ শাসকদের রক্তচক্ষুকে অবজ্ঞা করে এবং বাংলাদেশের দরিদ্র মানুষের প্রতি অকৃত্রিম মমতা দেখিয়ে তিনি সে সময়ের সবচেয়ে দামি আইসিএস এর চাকরি থেকে ইস্তফা দেন। চাকরি পরিত্যাগ করেই চলে যান ভারতের আলীগড়ের কাছে ‘মামুল’ নামক একটি গ্রামে। সেখানে তিনি প্রধানত কৃষিকাজ শুরু করেন; স্থানীয় কিছু প্রভাবশালীদের অসহযোগিতায় ‘মামুল’ ত্যাগ করতে বাধ্য হন। তবে প্রাণ দিয়ে উপলদ্ধি করে বাস্তব অভিজ্ঞতার ঝুলিতে করে নিয়ে আসেন ভারতবর্ষের কৃষকদের বহুমাত্রিক সমস্যা।

ড. আখতার হামিদ খান চাকরি ইস্তফা দিয়ে ভারতে নানা অঞ্চলে তালা-চাবি মেরামতের কাজসহ অনেক কাজে সম্পৃক্ত থেকে মননে-মগজে সমাজের মানুষের মন-মানসিকতা সম্পর্কে বুঝতে চেষ্টা করেছেন। তিনি একটি মাদ্রাসারও নিবেদিত শিক্ষক হিসাবে পরিচিত হয়ে উঠেন। এভাবে নানা চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে ১৯৫০ সালে তিনি চলে আসেন কুমিল্লার ভিক্টোরিয়া কলেজের অধ্যক্ষ্য হিসাবে। এখান থেকেই শুরু হয় তাঁর বাংলায় সমবায় ও পল্লী উন্নয়ন কাজে মনোনিবেশ।

 

১৯৫৪ সালে সরকার তাকে ‘ভিলেজ এগ্রিকালচারাল এ- ইন্ডাস্ট্রিয়াল ডেভেলপমেন্ট (ভি-এইড)’ প্রোগ্রামের পরিচালক পদে নিয়োগ দেয়। সমবায় ও পল্লী উন্নয়ন সংক্রান্ত তার চিন্তা ভাবনার বিকাশ ও পরিপক্কতা এখন থেকেই শুরু হয়। ভি-এইড প্রোগ্রাম সফল না হলেও ড. খান সফল হয়েছেন। ভিলেজ এইড কর্মসূচিতে থাকা অবস্থায় তিনি সেখানে নূতন নূতন মাত্রা যুক্ত করতে সক্ষম হয়েছিলেন। এরপর যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান ইউনিভার্সিটিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পাঠ শেষ করেই ১৯৫৯ সালে বর্তমান বার্ড-এর প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক হিসাবেই সূচিত করেন ৪টি কর্মসূচি। যথা-

থানা ট্রেনিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট সেন্টার (টিটিডিসি);
পল্লীপূর্ত কর্মসূচি;
থানা সেচ প্রকল্প; এবং
দ্বি-স্তর সমবায় ব্যবস্থা।

উল্লেখ্য, উক্ত ৪টি কর্মসূচির সমন্বিত রূপই পল্লী উন্নয়নের ক্ষেত্রে সমন্বিত পল্লী উন্নয়ন প্রকল্প; যা (কুমিল্লা মডেল) নামে বিশ্বখ্যাত। আরও উল্লেখ্য উক্ত ৪টি কর্মসূচির আলাদা আলাদা অস্তিত্ব না থাকলেও ৪টি কর্মসূচি/প্রকল্পের ওপর ভিত্তি করে বৃহাদাকার ৪টি প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। যেমনÑ টিটিডিসি-এর ওপর ভিত্তি করে উপজেলা কাঠামো। পল্লী পূর্ত কর্মসূচি হয়েছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল ডিপার্টমেন্ট। থানা সেচ প্রকল্পের ধারণা নিয়ে গড়ে উঠেছে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনে-বিএডিসি এবং দ্বি-স্তর সমবায় ব্যবস্থা সংবলিত সমন্বিত প্রকল্প নিয়ে গড়ে উঠেছে বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড বা বিআরডিবি।

এ প্রেক্ষাপটে বলা যায় যে, যেসকল কারণে ড. আখতার হামিদ খান তথা কুমিল্লা মডেল এখন আরও বেশি প্রাসঙ্গিক তার কারণ হচ্ছে;
প্রথমত: ড. আখতার হামিদ খানের ব্রেইন-চাইল্ড কুমিল্লা মডেলের ৪টি কম্পোনেন্ট নিয়ে গড়ে উঠেছে মহীরুহু ৪টি প্রতিষ্ঠান।

দ্বিতীয়ত: ড. আখতার হামিদ খান উদ্ভাবিত ও প্রয়োগকৃত মডেলসমূহে যে সকল গুরুত্বপূর্ণ কম্পেনেন্ট ছিল সেগুলো এখন আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ। যেমনÑ জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ; বিকেন্দ্রিকৃত স্তরে এবং গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ; মানবসম্পদের উন্নয়ন; জেন্ডার সমতা; নারীদের ক্ষমতায়ন; পরিবার পরিকল্পনা; স্থানীয় সম্পদের ও সংস্থান ও সদ্ব্যবহার, সরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে স্থানীয় জনগণের কার্যকর সমন্বয়মূলক সম্পর্ক, ক্ষমতার বিকেন্দ্রিকরণ, উৎপাদন ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং সর্বোপরি টেকসই উন্নয়ন কার্যক্রম।

তৃতীয়ত: প্রতিটি কাজের জবাবদিহিমূলক মনিটরিং ব্যবস্থা;
চতুর্থত: তার প্রতিটি উদ্যোগই প্রথমে পরীক্ষামূলকভাবে শুরু হয়েছিল। এ কারণে তার গৃহীত ছোট-বড় সকল প্রকল্পই বাস্তবভিত্তিক প্রাক্কুলিত ব্যয়, সঠিক বাস্তবায়ন এবং কাঙ্খিত উপকার লাভের ক্ষেত্রে অনেকটাই নিশ্চিত হতো; যা দেশের সরকারি-বেসরকারি সকল প্রতিষ্ঠানের জন্য এখন খুব প্রযোজ্য।

প্রসঙ্গত: বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রাণ হিসেবে পরিচিত কৃষিক্ষেত্রে ড. আখতার হামিদ খানের অবদানগুলো হচ্ছে-
লাইন ধরে ধান চাষের পদ্ধতি তিনিই প্রথম কৃষকদের শিখিয়েছেন;
অধিক শস্য ফলনের জন্য ইরি ধানের বীজ তিনিই প্রথম বিদেশ থেকে আমদানী করেন;
দেশে লো-লিফ্ট পাম্পের পাশাপাশি তিনিই গভীর নলকূপের মেশিন আমদানী করেন;
জাপানী বিশেষজ্ঞদের সহয়তায় তরমুজ, উন্নত চীনা কপি, গাজর ইত্যাদির উৎপাদন ব্যবস্থার সূচনা করেন।

এজন্য ড. আখতার হামিদ খান শারীরিকভাবে আমাদের মাঝে না থাকলেও কর্ম ও আদর্শগুণে তিনি আমাদের মাঝে অমর হয়ে আছেন ও থাকবেন। আবার বাংলাদেশের পল্লী উন্নয়নের ক্ষেত্রে ড. খানের প্রাক্টিস ও আদর্শ অনুসরনের যেহেতু কোনো বিকল্প নেই সেহেতু তাঁর প্রয়াণ দিবসে আমরা শুধু তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফিরাতই কামনা করবো না; বরং একই সাথে তাঁর উদ্ভাবিত পল্লী উন্নয়ন মডেল বাস্তবায়নে সচেষ্ট হবো।

লেখক: সাবেক সচিব

Ads small one

আশাশুনির নবাগত সমাজসেবা কর্মকর্তার প্রথম অনুষ্ঠানেই অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:০৯ পূর্বাহ্ণ
আশাশুনির নবাগত সমাজসেবা কর্মকর্তার প্রথম অনুষ্ঠানেই অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ

আশাশুনি প্রতিনিধি: আশাশুনি উপজেলায় নবাগত সমাজসেবা কর্মকর্তা এস এম দেলোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। দায়িত্ব গ্রহণের পর গত ১ অক্টোবর আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস পালনের মধ্য দিয়ে তিনি প্রথম কোনো সরকারি অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন। তবে উপজেলা পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ এই সরকারি অনুষ্ঠানটিতে প্রবীণদের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি ও জনসমাগম ছিল না বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে উপজেলা পরিষদ ভবনের সামনে থেকে একটি সংক্ষিপ্ত র‌্যালি বের করা হয়, যা মাত্র ২০-৩০ হাত এগিয়ে ফটোসেশনের মাধ্যমেই শেষ করা হয়। আমন্ত্রিত অতিথি ও কয়েকজন আধা প্রবীণ এবং যুবকদের নিয়ে এই র‌্যালি সম্পন্ন হয়। এরপর উপজেলা পরিষদ সভা কক্ষে ২০-৩০ জনের অংশগ্রহণে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে হাতেগোনা কয়েকজন প্রবীণ উপস্থিত থাকলেও তাঁদের কোনো বক্তব্য বা অনুভূতি প্রকাশের সুযোগ দেওয়া হয়নি। এমনকি এনজিও প্রতিনিধি ও উপস্থিত সাংবাদিকদেরও কোনো মতামত নেওয়া হয়নি। সংক্ষিপ্ত পরিসরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, সমাজসেবা কর্মকর্তা এবং দুজন রাজনৈতিক ব্যক্তি বক্তব্য দিয়ে অনুষ্ঠান সমাপ্ত করেন।

এ ছাড়া অনুষ্ঠানে সরকারিভাবে আর্থিক বরাদ্দ থাকার পরও সমাজসেবা কর্মকর্তা অনুষ্ঠান খরচের অজুহাতে উপজেলার ছয়টি এনজিওর কাছ থেকে চাঁদা আদায় করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অনুষ্ঠানে বিতরণ করা ব্যানারে ফ্রেন্ডশিপ, উত্তরণ, ইএসডিও, বারসিক, ব্রেকিং দ্য সাইলেন্স, ন্যাজারিন মিশন ও আইডিয়াল এনজিওর নাম ও মনোগ্রাম ব্যবহার করা হয়। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ব্যানার ও নাশতা বাবদ মোট খরচ হয়েছে ৪ হাজার ৯৬০ টাকা, যা এনজিওদের কাছ থেকে তোলা চাঁদার মাধ্যমেই মূলত পূরণ করা হয়েছে। এর ফলে সরকারি বরাদ্দের টাকা আত্মসাতের পথ উন্মুক্ত হয়েছে বলে অভিযোগ সচেতন মহলের। এ বিষয়ে সচেতন নাগরিকরা অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। এ ব্যাপারে উপজেলা সমাজসেবা অফিসের ইউনিয়ন সমাজকর্মী মৃণাল স্বর্ণকার জানান, এনজিওদের কাছ থেকে টাকা আদায় করা হয়েছে এবং মোট ৪,৯৬০ টাকা খরচ হয়েছে; পরবর্তীতে তিনটি অনুষ্ঠানের জন্য ২৫ হাজার টাকার বরাদ্দ পাওয়া যাবে। তবে অভিযুক্ত উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা এস এম দেলোয়ার হোসেন সুনির্দিষ্ট অভিযোগের সরাসরি জবাব না দিয়ে অফিসে গিয়ে কথা বলার পরামর্শ দেন।

 

শরতের আলতো ছোঁয়ায় গুড়পুকুর মেলা: ঐতিহ্য, আনন্দ ও জীবিকার মেলবন্ধন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:০৬ পূর্বাহ্ণ
শরতের আলতো ছোঁয়ায় গুড়পুকুর মেলা: ঐতিহ্য, আনন্দ ও জীবিকার মেলবন্ধন

0-0x0-0-0#

মিলন বিশ্বাস: নীল আকাশে সাদা মেঘের ভেলা আর কাশের দোলায় মোড়ানো শরতের শান্ত বিকেলে অনন্য এক প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে সাতক্ষীরার শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কে। শৈশবের সোনালি স্মৃতি, প্রিয়জনদের সান্নিধ্য আর খেটে খাওয়া মানুষের জীবিকার আলোÑসবকিছুর মোহনীয় সংমিশ্রণ ঘটে চলেছে ঐতিহ্যবাহী গুড়পুকুর মেলায়। দুই বছরের দীর্ঘ বিরতি পেরিয়ে প্রায় তিন শ বছরের প্রাচীন এ মেলা যেন এক নতুন ভোরে জেগে উঠেছে। মেলার দশম দিনে উৎসবমুখর আবহের মাঝে আগত দর্শনার্থীদের নিরাপত্তায় দায়িত্বশীল পুলিশ প্রশাসনের কর্মতৎপরতাও ছিল লক্ষণীয়।

মেলার তোরণ পেরিয়ে ভেতরে পা রাখতেই নজরে আসে সব বয়সের মানবের মিলনমেলা। পরিবারের হাত ধরে খুদে পথচলা, সন্তানের হাসিমুখের জন্য খেলনার বায়না মেটানো আর কেনাকাটার নানা আয়োজনে চারপাশটা যেন জীবন্ত হয়ে উঠেছে। নাগরদোলার দোলাচল, দূর থেকে ভেসে আসা পথশিশুদের রেলগাড়ির হুইসেল, রকমারি মিষ্টির সুবাস আর গৃহস্থালি পণ্যের ঝলকানিÑসব মিলিয়ে এক প্রাণবন্ত পরিবেশ।

মেলা প্রাঙ্গণে বিরাজ করছিল এক স্নিগ্ধ ও স্বাভাবিক সুর। দর্শনার্থীরা যখন আনন্দ উদযাপনে মগ্ন, তখন অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা এড়াতে মেলার বিভিন্ন কোণে ঘুরে নজরদারি চালাচ্ছিলেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। তাঁদের এমন পদচারণায় নিশ্চিত নিরাপদ পরিবেশ পেয়ে আগতদের চোখেমুখে ছিল স্বস্তির ছাপ।

কেবল কেনাকাটার ধুম নয়, এই গুড়পুকুর মেলার ধূলিকণায় মাখানো রয়েছে সাতক্ষীরার প্রজন্মের পর প্রজন্মের স্মৃতিচিহ্ন ও আবেগ। বয়সের ভারে নয়ে পড়া প্রবীণদের কাছে এই মেলা যেন দূর শৈশবের দিনগুলো নতুন করে ছুঁয়ে দেখার এক সুযোগ, আর নবীনদের কাছে আনন্দ ও অভিজ্ঞতার দিগন্ত ছোঁয়ার রঙিন প্রান্তর। ছোটদের উচ্ছ্বল চোখের তারা আর মা-বাবার মমতাময় হাত ধরে ঘেঁষে হাঁটার দৃশ্যটি ছিল অনবদ্য।
উৎসবের এই আবহের অন্তরালে রয়েছে বহু শ্রমজীবী মানুষের জীবনসংগ্রাম ও স্বপ্নপূরণের গল্প। দেশের নানা প্রান্ত থেকে ছোট-বড় ব্যবসায়ীরা পসরা সাজিয়ে বসেছেন। জামাকাপড়, প্রসাধনী, শিশুদের খেলার সামগ্রী কিংবা খাবারÑসব দোকানঘিরেই মানুষের উপচে পড়া ভিড়। শরতের এই মেলার বেচাকেনা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য বাড়তি কিছু উপার্জনের এক বড় পথ খুলে দিয়েছে। তাই তো ক্রেতাদের উপস্থিতিতে ফুটে ওঠে তাঁদের আশাজাগানিয়া হাসি।

পণ্য বিক্রির মিষ্টি হাঁকডাক, ক্রেতা-বিক্রেতার দরদাম আর নিষ্পাপ শিশুদের খিলখিল হাসিতে এক মোহময় আবহের সৃষ্টি হয়েছে। এই প্রাঙ্গণ আর কেবল বেচাকেনায় সীমাবদ্ধ নেই, পরিণত হয়েছে সামাজিক বন্ধন দৃঢ় করার এক মানবিক উদ্যানে। শিকড় আঁকড়ে ধরে এগিয়ে যাওয়া এই ঐতিহ্য আগামীতেও যেন স্বমহিমায় টিকে থাকে, সে প্রত্যাশাই স্থানীয়দের।

এদিকে দর্শনার্থীদের সুবিধার্থে মেলার সময়সীমা আরও দুই ঘণ্টা বাড়ানো হয়েছে। মেলা কমিটির সদস্য হাসান শিকদার জানান, নতুন সময়সূচি অনুযায়ী প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত মেলা খোলা থাকবে। সময় বাড়ায় কেনাকাটা ও ভ্রমণের জন্য পর্যাপ্ত অবকাশ পাবেন দর্শনার্থীরা।
জেলা প্রশাসন ও পৌরসভার সার্বিক তত্ত্বাবধানে শহরতলির শহীদ আবদুর রাজ্জাক পার্কে ১ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ২০ দিনব্যাপী এই মিলনমেলা চলবে ২০ অক্টোবর পর্যন্ত। শিশু-কিশোরের আনন্দ-হাসি, প্রবীণদের স্মৃতিমেদুরতা আর খেটে খাওয়া মানুষের বেঁচে থাকার প্রেরণা নিয়ে গুড়পুকুর মেলা শরতের হাওয়ায় ডানা মেলেছে অনন্য এক রূপ নিয়ে।

 

 

আশাশুনিতে চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থীকে যৌ*ন নি*র্যা*ত*নের অভিযোগ, বৃদ্ধ গ্রেপ্তার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৫৯ অপরাহ্ণ
আশাশুনিতে চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থীকে যৌ*ন নি*র্যা*ত*নের অভিযোগ, বৃদ্ধ গ্রেপ্তার

আশাশুনি প্রতিনিধি: আশাশুনিতে চতুর্থ শ্রেণির ১২ বছর বয়সী এক স্কুলছাত্রীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে মো. রবিউল সরদার (৬৫) নামের এক বৃদ্ধকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঘটনার বিবরণ জানিয়ে ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা বাদী হয়ে আশাশুনি থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।

গ্রেপ্তার ব্যক্তি বাহাদুরপুর গ্রামের মৃত মোক্তার আলী সরদারের ছেলে এবং পেশায় একজন কাঠমিস্ত্রি। শিশুটি কুল্যা ইউনিয়নের গুনাকরকাটি গ্রামের বাসিন্দা এবং স্থানীয় ২৯ নম্বর গুনাকরকাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৮ অক্টোবর বৃহস্পতিবার দুপুরে রবিউল সরদার মিষ্টি কথায় শিশুটিকে ভুলিয়ে তাঁর কাঠের দোকানে নিয়ে যান। এরপর দোকানের দরজা ভেতরে থেকে আটকে শিশুটির ওপর পাশবিক নির্যাতন চালানো হয় বলে অভিযোগ। সেই সময় এক নারী বিষয়টি দেখে ফেললেও ভয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কাউকে কিছু জানাতে পারেননি।

পরপর দুই দিন ঘটনাটি চেপে রাখার পর ১০ অক্টোবর শনিবার সকালে প্রতিবেশী এক নারীর সঙ্গে কথা বলার সময় শিশুটি নিজেই সেই ভয়াবহতার বর্ণনা দেয়। মুহূর্তের মধ্যেই বিষয়টি জানাজানি হলে পুলিশে খবর দেওয়া হয়। বেলা ১টার দিকে আশাশুনি থানা-পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটির দেওয়া তথ্যের সত্যতা পেয়ে অভিযুক্ত রবিউল সরদারকে গ্রেপ্তার করে।

আশাশুনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিদুর রহমান জানান, শিশুটির বাবার এজাহারের ভিত্তিতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা রুজু করে অভিযুক্ত আসামিকে গ্রেপ্তার করে আইনানুগ প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে।