কেশবপুরে ১০২ মন্ডপে চলছে শারদীয় দুর্গোৎসবের প্রস্তুতি, থাকবে ৩ স্তরের নিরাপত্তা
এম আব্দুল করিম, কেশবপুর (যশোর): যশোরের কেশবপুরে ১০২ টি পূজা মন্ডপে চলছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার প্রস্তুতি, চলছে মন্ডপে মন্ডপে প্রতিমা তৈরী ও রংতুলির আচড়ে দেবী দুর্গার অঙ্গে নানা রঙ্গের আল্পনা আঁকার কাজ। কোথাও আবার শেষ হয়েছে সকল প্রস্তুতি। সব মিলিয়ে শুরু হয়েছে দেবী বরণের ব্যপক তোড়-জোড় ব্যাপক আয়োজন। এখন শুধুই অপেক্ষা সেই মাহেন্দ্রক্ষণের। সেই শুভক্ষণের বেশী দিন বাকীও নেই।
আগামী ১৬ অক্টোবর শুক্রবার হবে সেই প্রতিক্ষিত ক্ষণ গণনার আনুষ্ঠানিক সমপ্তি।
শুরু হবে ঢাকের তালে-তালে মন্দিরে-মন্দিরে দেবী অর্চনা। ভক্তদের আনাগোনায় মুখরিত হবে প্রতিটি পুঁজা মন্ডপ। পূঁজা শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত তারা দেবীদূর্গার আশির্বাদ পেতে মন্ডপ থেকে মন্ডপে ছুটে বেড়ায়। আলোক সজ্জা, প্যান্ডেল ও গেট সৌন্দর্যের কাজ করতে গিয়ে যেন দম ফেলার ফুসরত নাই আয়োজক কমিটির নের্তৃবৃন্দের। আগামী ১৬ অক্টোবর শুক্রবার থেকে দেবী পক্ষের ষষ্টি তিথীতে বোধন তলায় মঙ্গল ঘট স্থাপনের মধ্যদিয়ে শুরু হবে শারদীয় দুর্গোৎসব। শুরু হবে মন্দিরে মন্দিরে দেবী বন্ধনা ও পুজা অর্চনা।
শাস্ত্রীয় পন্ডিতরা বলেছেন তিথি নক্ষত্রের কারণে এ বছর দুর্গাপূজা ৫দিনের পরিবর্তে হবে ৬ দিন এবং দেবী দুর্গার আগমন ঘোড়ায় এবং কইলাশ গমন করবে নৌকায়। কেশবপুরে মোট ১০২ টি পূজা মন্ডপে দূর্গা পূজা অনুষ্ঠিত হবে।
উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সুকুমার সাহা জানান, কেশবপুর পৌরসভায় ৮টি, ত্রিমোহীনি ইউনিয়নে ১টি, সাগরদাঁড়ি ইউনিয়নে ১৬টি, মজিদপুর ইউনিয়নে ৭টি, বিদ্যানন্দকাটি ইউনিয়নে ৫ টি, মঙ্গলকোট ইউনিয়নে ৬টি, কেশবপুর সদর ইউনিয়নে ৭টি, পাঁজিয়া ইউনিয়নে ৯টি, সুফলাকাটি ইউনিয়নে ১১টি, গৌরিঘোনা ইউনিয়নে ১২টি, সাতবাড়িয়া ইউনিয়নে ১২টি ও হাসানপুর ইউনিয়নে ৮টি মন্ডপসহ সর্ব মোট ১০২টি মন্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে।
এবারের দুর্গাপূজায় আইন শৃঙ্খলার বিষয়ে কেশবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ হাফিজুর রহমান বলেন, নির্বিঘ্নে পূজা উদযাপনে ৩ স্তরের সার্বিক নিরাপত্তা বলয় রয়েছে। পুলিশ, র্যাব, আনসার-ভিডিপি ও স্বেচ্ছাসেবক বাহিনীর পশাপাশি অধিক নিরাপত্তার জন্য মন্ডপের আশপাশে সাদা পোশাকে ডিবি পুলিশ মোতায়েন থাকবে। এ ছাড়া উপজেলা ব্যাপী পুলিশের ভ্রাম্যম্যান টিম সর্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করবে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার আনোয়ার হোসেন বলেন, পূজা চলাকালীন সময়ে যাতে কোন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে তার জন্য কঠোর নজরদারির ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। সমপ্রদায়িক সমপ্রীতি বিনষ্টকারীদের বিরুদ্ধে মোবাইল কোট পরিচালিত হবে। এছাড়াও প্রতিটি মন্ডল সিসিটিভি ক্যামেরার আওতাভুক্ত থাকবে।












