সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩
সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩

বিশ্ব আর্থ্রাইটিস দিবস: সচেতনতা, বিজ্ঞানভিত্তিক চিকিৎসা ও ব্যথামুক্ত জীবনের প্রত্যাশা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:৩৭ অপরাহ্ণ
বিশ্ব আর্থ্রাইটিস দিবস: সচেতনতা, বিজ্ঞানভিত্তিক চিকিৎসা ও ব্যথামুক্ত জীবনের প্রত্যাশা

সাকিবুর রহমান বাবলা

১২ অক্টোবর বিশ্ব আর্থ্রাইটিস দিবস পালিত হয়। বাতজনিত রোগ সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, আক্রান্ত ব্যক্তিদের জীবনমান উন্নয়ন এবং রোগের প্রাথমিক শনাক্তকরণ ও যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করাই এ দিবসের প্রধান লক্ষ্য। আর্থ্রাইটিস শুধু বয়স্ক মানুষের সমস্যা নয়; শিশু, কিশোর, তরুণ ও কর্মক্ষম প্রাপ্তবয়স্করাও বিভিন্ন ধরনের বাতজনিত রোগে আক্রান্ত হতে পারেন। তাই ব্যক্তিগত সচেতনতার পাশাপাশি পরিবার, সমাজ, স্বাস্থ্যব্যবস্থা ও রাষ্ট্রের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

১৯৯৬ সালের ১২ অক্টোবর আন্তর্জাতিক সংস্থা আর্থ্রাইটিস অ্যান্ড রিউমাটিজম ইন্টারন্যাশনাল দিবসটি পালনের উদ্যোগ নেয়। পরবর্তী সময়ে এটি বিশ্বব্যাপী বাতজনিত রোগ সম্পর্কে সচেতনতা তৈরির একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষে পরিণত হয়। রিউমেটিক অ্যান্ড মাসকিউলোস্কেলেটাল ডিজিজেস বা বাত ও পেশি-কঙ্কালতন্ত্রের রোগের কারণে অসংখ্য মানুষ দীর্ঘমেয়াদি ব্যথা, চলাফেরার সীমাবদ্ধতা, কর্মক্ষমতা হ্রাস এবং মানসিক চাপের মুখোমুখি হন। এসব রোগের সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রভাবও ব্যাপক।

চিকিৎসাবিজ্ঞানে আর্থ্রাইটিস বলতে এক বা একাধিক অস্থিসন্ধি বা জয়েন্টের প্রদাহকে বোঝায়। এটি একক কোনো রোগ নয়; বরং বিভিন্ন কারণ ও বৈশিষ্ট্যের বহু রোগের একটি শ্রেণি। অস্টিওআর্থ্রাইটিস, রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস ও গাউট এর উল্লেখযোগ্য উদাহরণ। অস্টিওআর্থ্রাইটিসে জয়েন্টের তরুণাস্থি ও অন্যান্য গঠনগত অংশে পরিবর্তন ঘটে; রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস একটি অটোইমিউন রোগ, যেখানে রোগপ্রতিরোধব্যবস্থা ভুলবশত নিজের জয়েন্টের আবরণে আক্রমণ করে। অন্যদিকে, গাউটের ক্ষেত্রে ইউরিক অ্যাসিড থেকে তৈরি মনোসোডিয়াম ইউরেট স্ফটিক জয়েন্টে জমে প্রদাহ সৃষ্টি করে।

হাত-পায়ের আঙুল, কবজি, হাঁটু, গোড়ালি, কাঁধ ও অন্যান্য জয়েন্টে ব্যথা, ফোলা, উষ্ণতা এবং শক্ত হয়ে যাওয়া এ ধরনের রোগের সাধারণ লক্ষণ। বিশেষত সকালে দীর্ঘক্ষণ জয়েন্ট শক্ত থাকা, বারবার ফোলা কিংবা ব্যথার কারণে দৈনন্দিন কাজ ব্যাহত হওয়াকে অবহেলা করা উচিত নয়। তবে সব জয়েন্টের ব্যথাই আর্থ্রাইটিস নয়; সঠিক কারণ নির্ধারণে চিকিৎসকের মূল্যায়ন জরুরি।
আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান আর্থ্রাইটিস শনাক্তকরণ ও ব্যবস্থাপনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। রোগীর উপসর্গ ও শারীরিক পরীক্ষা, রক্তের প্রদাহসূচক ও প্রাসঙ্গিক অ্যান্টিবডি পরীক্ষা, এক্স-রে, আল্ট্রাসাউন্ড এবং প্রয়োজনে এমআরআই রোগ নির্ণয়ে সহায়তা করে। গাউটের ক্ষেত্রে প্রয়োজন অনুযায়ী জয়েন্টের তরল পরীক্ষা করে স্ফটিক শনাক্ত করা যেতে পারে। কোনো একটি পরীক্ষা দিয়ে সব ধরনের আর্থ্রাইটিস নিশ্চিত করা যায় না; রোগের ধরন অনুযায়ী পরীক্ষা নির্বাচন করতে হয়।

চিকিৎসায়ও এসেছে নতুন দিগন্ত। অস্টিওআর্থ্রাইটিসে উপযোগী ব্যায়াম, ফিজিওথেরাপি, ওজন ব্যবস্থাপনা এবং প্রয়োজনমতো ওষুধ গুরুত্বপূর্ণ। রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিসে রোগের অগ্রগতি ধীর করতে ডিজিজ-মডিফাইং অ্যান্টি-রিউমেটিক ড্রাগস এবং নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে বায়োলজিক ওষুধ ব্যবহার করা হয়। গাউটে তীব্র প্রদাহ নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি উপযুক্ত রোগীর ক্ষেত্রে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা কমানোর দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা প্রয়োজন হতে পারে। গুরুতর জয়েন্ট ক্ষতিগ্রস্ত হলে নির্বাচিত ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচার বা জয়েন্ট প্রতিস্থাপনও কার্যকর বিকল্প।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, উন্নত ইমেজিং প্রযুক্তি এবং ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবা ভবিষ্যতে রোগ শনাক্তকরণ, চিকিৎসা পর্যবেক্ষণ ও রোগীর সঙ্গে চিকিৎসকের যোগাযোগ উন্নত করতে পারে। তবে প্রযুক্তি চিকিৎসকের বিকল্প নয়; এর ব্যবহার হতে হবে বৈজ্ঞানিক প্রমাণ, রোগীর নিরাপত্তা ও নৈতিকতার ভিত্তিতে।

বাংলাদেশেও বাতজনিত রোগ মানুষের দৈনন্দিন জীবন, কর্মক্ষমতা ও পারিবারিক অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলে। দীর্ঘদিন ব্যথা সহ্য করা, বয়সজনিত সমস্যা ভেবে চিকিৎসা বিলম্বিত করা, নিজে নিজে ব্যথানাশক খাওয়া এবং অনিয়ন্ত্রিত বিকল্প চিকিৎসার ওপর নির্ভরতা পরিস্থিতিকে জটিল করতে পারে। বিশেষ করে দীর্ঘমেয়াদি ব্যথানাশক ব্যবহারে পাকস্থলী, কিডনি ও হৃদ্যন্ত্রের ক্ষতির ঝুঁকি থাকতে পারে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ গ্রহণ করা উচিত নয়।

দেশে উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে প্রাথমিক শনাক্তকরণ, রিউমাটোলজি বিশেষজ্ঞের কাছে রেফারেল, ফিজিওথেরাপি এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষার সুযোগ বাড়ানো জরুরি। সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল, বাংলাদেশ রিউমাটোলজি সোসাইটি, চিকিৎসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন যৌথভাবে সচেতনতামূলক সভা, স্বাস্থ্যশিক্ষা, চিকিৎসা পরামর্শ এবং গবেষণার উদ্যোগ নিতে পারে। প্রত্যন্ত অঞ্চলে টেলিমেডিসিনের কার্যকর ব্যবহার বিশেষজ্ঞ পরামর্শ পাওয়ার সুযোগও বাড়াতে পারে।

বিশ্বব্যাপীও বাতজনিত রোগ মোকাবিলায় গবেষণা, সাশ্রয়ী ওষুধ, পুনর্বাসন এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সংস্থা, গবেষক, নীতিনির্ধারক ও রোগী সংগঠনগুলোর সহযোগিতা এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

বিশ্ব আর্থ্রাইটিস দিবসের বার্তা হলোÑব্যথাকে অবহেলা নয়, রোগকে লুকিয়ে রাখা নয়; প্রয়োজন সময়মতো শনাক্তকরণ, বিজ্ঞানভিত্তিক চিকিৎসা ও ধারাবাহিক পরিচর্যা। পরিবারকে আক্রান্ত ব্যক্তির পাশে দাঁড়াতে হবে, কর্মক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতে হবে এবং সমাজকে রোগ নিয়ে ভ্রান্ত ধারণা ও বৈষম্য দূর করতে হবে। গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নির্ভরযোগ্য তথ্য প্রচার, সহজ ভাষায় লিফলেট ও সচেতনতামূলক ভিডিও তৈরি এবং কমিউনিটি পর্যায়ে আলোচনা এ উদ্যোগকে আরও কার্যকর করতে পারে।

সর্বোপরি, আর্থ্রাইটিস মানেই কর্মক্ষমতা হারানো বা স্বাভাবিক জীবন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া নয়। অনেক ক্ষেত্রেই দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ, উপযুক্ত চিকিৎসা, নিয়মিত শরীরচর্চা এবং জীবনযাত্রার ইতিবাচক পরিবর্তনের মাধ্যমে উপসর্গ নিয়ন্ত্রণ ও জীবনমান উন্নত করা সম্ভব। বিশ্ব আর্থ্রাইটিস দিবসে আমাদের অঙ্গীকার হোকÑসবার জন্য সচেতনতা, সুলভ চিকিৎসা, মর্যাদা এবং যতটা সম্ভব সক্রিয় ও স্বাচ্ছন্দ্যময় জীবন নিশ্চিত করা।

Ads small one

জাকারিয়া হত্যা মামলার ৬ নম্বর আসামি সাগর গ্রেপ্তার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬, ১:২২ পূর্বাহ্ণ
জাকারিয়া হত্যা মামলার ৬ নম্বর আসামি সাগর গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার আলোচিত জাকারিয়া খান হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত ৬ নম্বর আসামি মো. সাগর ওরফে মো. মোস্তাফিজুর রহমানকে (২৭) গ্রেপ্তার করেছে সাতক্ষীরা সদর থানা পুলিশ।

রোববার (১১ অক্টোবর) রাত আড়াইটার দিকে সাতক্ষীরা পৌরসভার লেকভিউ রিসোর্টের সামনে থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার সাগর সাতক্ষীরা শহরের ইটাগাছা পশ্চিমপাড়ার বাসিন্দা। তার পিতার নাম মো. হাসান উল্লেখ করা হলেও প্রকৃত নাম মো. শাহাজান আলী ওরফে বাবু।

সাতক্ষীরা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম জানান, গ্রেপ্তার আসামিকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ২ অক্টোবর রাত সাড়ে ১১টার দিকে সাতক্ষীরা শহরের প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার কার্যালয়ের প্রধান ফটকের পাশে একটি চায়ের দোকানের সামনে বিরোধের জেরে জাকারিয়া খান ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হন। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলায় সাগরকে ৬ নম্বর আসামি করা হয়েছে।

বাংলাদেশের প্রথম পেসার হিসেবে টেস্টে হাসান মাহমুদের হ্যাটট্রিক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:০২ পূর্বাহ্ণ
বাংলাদেশের প্রথম পেসার হিসেবে টেস্টে হাসান মাহমুদের হ্যাটট্রিক

বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে নতুন অধ্যায় লিখলেন পেসার হাসান মাহমুদ। আফগানিস্তানের বিপক্ষে আবুধাবিতে একমাত্র টেস্টের তৃতীয় দিনের সকালে হ্যাটট্রিক করে বাংলাদেশের প্রথম পেসার হিসেবে এই কীর্তি গড়েছেন তিনি। তার দুর্দান্ত বোলিংয়ে একের পর এক উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে আফগানিস্তান।

বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসে করা ৩৪৬ রানের জবাবে দ্বিতীয় দিন শেষে ৪ উইকেটে ২১১ রান তুলেছিল আফগানিস্তান। তবে তৃতীয় দিনের সকালে এবাদত হোসেন ও হাসান মাহমুদের বোলিংয়ে দ্রুত পাল্টে যায় ম্যাচের চিত্র। অল্প সময়ের ব্যবধানে চার উইকেট হারিয়ে বিপাকে পড়ে স্বাগতিকেরা।

দিনের শুরুতে ৩২ রান করা ইকরাম আলি খিলকে বোল্ড করে আফগানিস্তানের প্রতিরোধ ভাঙেন এবাদত হোসেন। এরপর নিজের বোলিংয়ে ঝলক দেখান হাসান মাহমুদ।

পরপর দুই বলে ইসমত আলম ও কায়েস আহমেদকে ফিরিয়ে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনা তৈরি করেন হাসান। প্রথমে ইসমতকে বোল্ড করেন তিনি। পরের বলে সুইং করা ডেলিভারিতে কায়েসের ব্যাটের কানায় লেগে আসা বল তালুবন্দী করেন উইকেটরক্ষক লিটন দাস।

হ্যাটট্রিকের তৃতীয় বলে জিয়াউর রহমানের বিপক্ষে এলবিডব্লিউর আবেদন করেন বাংলাদেশের বোলাররা। মাঠের আম্পায়ার সাড়া না দিলে রিভিউ নেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। রিপ্লেতে দেখা যায়, বল ব্যাটে লাগেনি এবং স্টাম্পে আঘাত হানত। ফলে আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত বদলে যায়। জিয়াউর রহমানকে এলবিডব্লিউ ঘোষণা করতেই হ্যাটট্রিকের আনন্দে মেতে ওঠে বাংলাদেশ দল।

এর মধ্য দিয়ে টেস্টে বাংলাদেশের তৃতীয় বোলার হিসেবে হ্যাটট্রিকের কীর্তি গড়েন হাসান। এর আগে ২০০৩ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে অলক কাপালি এবং ২০১৩ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সোহাগ গাজী টেস্টে হ্যাটট্রিক করেছিলেন। তবে হাসানই বাংলাদেশের প্রথম পেসার, যিনি টেস্টে এই কীর্তি গড়লেন।

হাসানের এই সাফল্যের পাশাপাশি এবাদত হোসেনের কার্যকর বোলিংয়ে আফগানিস্তানের ইনিংস বড় ধাক্কা খায়। একপর্যায়ে ৮ উইকেটে ২২১ রান নিয়ে লড়াই করছিল স্বাগতিকেরা। তখন ৮৭ রানে অপরাজিত ছিলেন রহমত শাহ।

বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে হাসান মাহমুদের এই হ্যাটট্রিক বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে টেস্টে দেশের পেসারদের জন্য নতুন এক মাইলফলক স্থাপন করলেন তিনি।

বার্লিন সামিট: ২৫০ মিলিয়ন ইউরো সহায়তায় বাংলাদেশে আসছে ‘নারী স্বাস্থ্য কর্মসূচি’

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৪৩ অপরাহ্ণ
বার্লিন সামিট: ২৫০ মিলিয়ন ইউরো সহায়তায় বাংলাদেশে আসছে ‘নারী স্বাস্থ্য কর্মসূচি’

জার্মানির বার্লিনে ওয়ার্ল্ড হেলথ সামিট (ডব্লিউএইচএস) ২০২৬ উপলক্ষে চ্যারিটি ক্যাম্পাসে বাংলাদেশ সরকারের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন অংশীদারদের গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক ও প্রযুক্তিবিষয়ক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১০ অক্টোবর) এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন এবং প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার।

বৈঠকে ইউরোপীয় ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকের ২৫০ মিলিয়ন ইউরোর প্রস্তাবিত ঋণের আওতায় বাংলাদেশে ‘নারী স্বাস্থ্য কর্মসূচি’ চালুর বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

এ সময় বাংলাদেশে মাতৃমৃত্যুর হার হ্রাস, জরায়ুমুখ ও স্তন ক্যান্সার প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্তকরণ এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে সার্বক্ষণিক জরুরি প্রসূতি সেবা পৌঁছে দেওয়ার জন্য আধুনিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর জোর দেওয়া হয়।

এ ছাড়া জেলা হাসপাতালগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ডিজিটাল পেশেন্ট ট্র্যাকিং ব্যবস্থা চালুর বিষয়টিও গুরুত্ব পায়।

স্বাস্থ্য খাতের এই নতুন যুগান্তকারী উদ্যোগে জাতিসংঘের জনসংখ্যা তহবিল, বার্লিনের চ্যারিটি বিশ্ববিদ্যালয় এবং বার্লিন ইনস্টিটিউট অব হেলথ প্রযুক্তিগত ও কৌশলগত সহায়তা প্রদান করছে।

বৈঠকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের নারী ও মেয়েদের জন্য মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে এই আন্তর্জাতিক অংশীদারত্ব একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।’

বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল বার্লিনের চ্যারিটি হাসপাতালের আধুনিক চিকিৎসাব্যবস্থা ও ক্যান্সার স্ক্রিনিং সুবিধাগুলো সরেজমিনে পরিদর্শন করেন এবং ভবিষ্যতে উভয় দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নয়নে যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠনের বিষয়ে একমত পোষণ করেন। বাসস।