সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩
সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩

আন্তর্জাতিক সহজ ভাষা দিবস: বোঝার অধিকার সবার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৩১ অপরাহ্ণ
আন্তর্জাতিক সহজ ভাষা দিবস: বোঝার অধিকার সবার

সাকিবুর রহমান বাবলা

মানুষের সঙ্গে মানুষের যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম ভাষা। জীবনের শুরু থেকেই ভাষার মাধ্যমে মানুষ জ্ঞান অর্জন করে, নিজের অধিকার সম্পর্কে জানে এবং জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। কিন্তু তথ্য যদি জটিল শব্দ, দীর্ঘ বাক্য কিংবা দুর্বোধ্য প্রশাসনিক পরিভাষায় উপস্থাপন করা হয়, তাহলে সেই তথ্য অনেকের কাছেই অর্থহীন হয়ে পড়ে। ফলে তথ্য থাকা সত্ত্বেও মানুষ তা বুঝতে পারে না, প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পারে না এবং কখনো কখনো নিজের ন্যায্য অধিকার থেকেও বঞ্চিত হয়। এই বাস্তবতা সামনে রেখে প্রতিবছর ১৩ অক্টোবর পালিত হয় আন্তর্জাতিক সহজ ভাষা দিবস। দিবসটির মূল বার্তাÑবোঝার অধিকার সবার আছে।

সহজ ভাষা বলতে শুধু ছোট বাক্য কিংবা পরিচিত শব্দের ব্যবহার বোঝায় না। কোনো তথ্যের শব্দচয়ন, বাক্যগঠন, বিন্যাস ও উপস্থাপন এমন হতে হবে, যাতে নির্দিষ্ট পাঠক সহজেই প্রয়োজনীয় তথ্য খুঁজে পান, তা বুঝতে পারেন এবং বাস্তবে কাজে লাগাতে পারেন। আন্তর্জাতিক সহজ ভাষা ফেডারেশনের সংজ্ঞাতেও এই বিষয়টির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, ভাষার উদ্দেশ্য পা-িত্য প্রদর্শন নয়; বরং মানুষের কাছে বক্তব্যকে স্পষ্টভাবে পৌঁছে দেওয়া।

আন্তর্জাতিক সহজ ভাষা দিবসের সূচনার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন সহজ ভাষা নিয়ে কাজ করা দুই পেশাজীবী চেরিল স্টিফেনস ও কেট হ্যারিসন হোয়াইটসাইড। তাঁরা ১৯৯০-এর দশকের গোড়ার দিকে আন্তর্জাতিক সহজ ভাষা নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার উদ্যোগ নেন। পরবর্তী সময়ে সহজ ভাষার ব্যবহার বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে একটি আন্তর্জাতিক দিবস পালনের ধারণা সামনে আসে।

২০১০ সালের ১৩ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ‘প্লেইন রাইটিং অ্যাক্ট, ২০১০-এ স্বাক্ষর করেন। এই আইন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল সরকারি সংস্থাগুলোকে জনগণের জন্য তৈরি নথিপত্র স্পষ্ট, সংক্ষিপ্ত ও সুশৃঙ্খল ভাষায় লিখতে হয়। আইনটির স্বাক্ষরের বার্ষিকীকে কেন্দ্র করে ২০১১ সালের ১৩ অক্টোবর প্রথম আন্তর্জাতিক সহজ ভাষা দিবস পালিত হয়।

একটি সরকারি চিঠি, চিকিৎসকের নির্দেশনা, ব্যাংকের ফরম কিংবা আইনি নথিÑএসবের প্রতিটি মানুষের জীবনে বাস্তব প্রভাব রয়েছে। কোনো নাগরিক সরকারি সুবিধা পাওয়ার যোগ্য হলেও আবেদনপত্রের জটিল ভাষা বুঝতে না পারলে তিনি সেই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হতে পারেন। রোগী চিকিৎসার নির্দেশনা বুঝতে না পারলে চিকিৎসা গ্রহণে ভুল হতে পারে। আবার আইনের ভাষা দুর্বোধ্য হলে সাধারণ মানুষ নিজের অধিকার ও দায়িত্ব সম্পর্কে সঠিক ধারণা লাভ করতে পারেন না।

তাই সহজ ভাষা কোনো বিশেষ সুবিধা বা অনুগ্রহ নয়; এটি কার্যকর যোগাযোগের অপরিহার্য শর্ত। তথ্য সবার জন্য উন্মুক্ত থাকাই যথেষ্ট নয়, সেই তথ্য বোঝার উপযোগী হওয়াও জরুরি। বিশেষ করে শিশু, প্রবীণ, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি এবং সীমিত শিক্ষার সুযোগ পাওয়া কিংবা শুনে তথ্য গ্রহণকারী মানুষের জন্য সহজবোধ্য তথ্যের গুরুত্ব আরও বেশি। তথ্যের ভাষা সহজ হলে নাগরিকের অংশগ্রহণ বাড়ে, ভুল বোঝাবুঝি কমে এবং সরকারি সেবার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি শক্তিশালী হয়।

ভাষাবিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান এথ্নোলগের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে বর্তমানে প্রায় ৭ হাজার ১৬৮ থেকে ৭ হাজার ১৭০টি জীবিত ভাষা প্রচলিত রয়েছে। বিশ্বজুড়ে প্রথম ও দ্বিতীয় ভাষা হিসেবে ব্যবহারের হিসাবে ইংরেজি প্রায় ১৪৫ কোটি বক্তা নিয়ে শীর্ষে এবং ম্যান্ডারিন চীনা প্রায় ১১৪ কোটি বক্তা নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। তবে মাতৃভাষাভাষীর সংখ্যায় ম্যান্ডারিন চীনা শীর্ষে। অন্যদিকে, প্রায় ২৭ কোটিরও বেশি বক্তা নিয়ে বাংলা বিশ্বের বহুল ব্যবহৃত ভাষাগুলোর মধ্যে অন্যতম এবং মোট বক্তার হিসাবে সপ্তম স্থানে রয়েছে।

যেহেতু বাংলা আমাদের মাতৃভাষা এবং বিপুলসংখ্যক মানুষের দৈনন্দিন যোগাযোগের মাধ্যম। এমনকি আমাদের দৈনন্দিন ও আঞ্চলিক ভাষার ব্যবহারের মধ্যেও নানা বৈচিত্র্য রয়েছে। তাই বাংলায় লেখা হলেই কোনো বক্তব্য সবার কাছে সহজবোধ্য হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। অপ্রয়োজনীয় কঠিন শব্দ, দীর্ঘ বাক্য, দুর্বোধ্য আইনি পরিভাষা এবং অতিরিক্ত আমলাতান্ত্রিক ভাষা সাধারণ পাঠকের জন্য বাধা তৈরি করতে পারে। যেমন, ‘যথাযোগ্য বিহিত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে’ বলার পরিবর্তে ‘প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে’ লিখলে বক্তব্যটি আরও সহজে বোঝা যায়।

সরকারি দপ্তর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম, হাসপাতাল, ব্যাংক ও বিচারসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে সহজ, স্পষ্ট ও প্রমিত বাংলা ব্যবহারের চর্চা বাড়ানো প্রয়োজন। একই সঙ্গে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিসহ বিভিন্ন পাঠকের চাহিদা বিবেচনায় তথ্যের উপযোগী বিন্যাস, পাঠযোগ্য অক্ষর এবং প্রয়োজনমতো বিকল্প মাধ্যম নিশ্চিত করা দরকার। সহজ ভাষা মানে তথ্যকে ছোট করা নয়; বরং অপ্রয়োজনীয় জটিলতা বাদ দিয়ে মূল বক্তব্য অক্ষুণœ রাখা।

সহজ ভাষার চর্চা প্রতিষ্ঠার জন্য কয়েকটি বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা দরকার। প্রথমত, সরকারি বিজ্ঞপ্তি, আবেদনপত্র, আইন ও নাগরিক সেবার নির্দেশনা সাধারণ মানুষের বোঝার উপযোগী করে লিখতে হবে। দ্বিতীয়ত, চিকিৎসা, শিক্ষা, ব্যবসা ও প্রযুক্তিসংক্রান্ত তথ্যেও পরিচিত শব্দ এবং স্পষ্ট নির্দেশনা ব্যবহার করতে হবে। তৃতীয়ত, তথ্য প্রকাশের আগে তা লক্ষ্য পাঠকের কাছে বোধগম্য কি না, তা যাচাই করা উচিত। পাশাপাশি সরকারি কর্মকর্তা, লেখক, সাংবাদিক ও যোগাযোগকর্মীদের সহজ ভাষায় লেখার প্রশিক্ষণ দেওয়া যেতে পারে।

বিশ্বে ভাষার বৈচিত্র্য যেমন মানুষের সাংস্কৃতিক পরিচয়ের অনন্য অংশ, তেমনি প্রতিটি ভাষায় সহজ ও স্পষ্ট যোগাযোগ নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। মাতৃভাষায় সঠিক তথ্য পাওয়া এবং তা সহজে বুঝতে পারা মানুষের জ্ঞান অর্জন ও সামাজিক অংশগ্রহণের পথকে প্রসারিত করে। উদাহরণস্বরূপ, বিশ্বে স্প্যানিশ ভাষার উচ্চারণ ও ব্যাকরণ তুলনামূলক সহজ হওয়ায় এটি শেখা ও আয়ত্ত করা বেশ জনপ্রিয়।

‘আন্তর্জাতিক সহজ ভাষা দিবস’ কেবল একটি দিবস উদযাপনের উপলক্ষ নয়; এটি আমাদের ভাষা ব্যবহারের অভ্যাস পর্যালোচনারও সুযোগ। কোনো তথ্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা শুধু তার বিষয়বস্তু দিয়ে নির্ধারিত হয় না; মানুষ সেটি বুঝতে ও কাজে লাগাতে পারছে কি না, সেটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। আসুন, ব্যক্তিগত, প্রাতিষ্ঠানিক ও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে সহজ, স্পষ্ট ও বোধগম্য ভাষার চর্চা গড়ে তুলি। কারণ, তথ্য তখনই সত্যিকার অর্থে মানুষের কাজে আসে, যখন মানুষ তা বুঝতে পারে। বোঝার অধিকার সবারÑএই হোক আন্তর্জাতিক সহজ ভাষা দিবসের অঙ্গীকার।

 

 

 

Ads small one

পাটকেলঘাটার সমাজসেবক আনন্দ মোহন সাধুর পরলোকগমন: সর্বস্তরের মানুষের মাঝে শোকের ছায়া

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৩৭ পূর্বাহ্ণ
পাটকেলঘাটার সমাজসেবক আনন্দ মোহন সাধুর পরলোকগমন: সর্বস্তরের মানুষের মাঝে শোকের ছায়া

পাটকেলঘাটা প্রতিনিধি: পাটকেলঘাটার টাটা গ্রুপ কেয়ার কোম্পানির স্বত্বাধিকারী কেশব কুমার সাধুর শ্রদ্ধেয় বাবা ও বিশিষ্ট সমাজসেবক আনন্দ মোহন সাধু বার্ধক্যজনিত কারণে পরলোকগমন করেছেন। সোমবার সকাল সাড়ে সাতটায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯২ বছর।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, আনন্দ মোহন সাধু দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন। রবিবার রাতে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে প্রথমে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার সকালে তিনি পরলোকগমন করেন। মৃত্যুকালে ৯২ বছর বয়স হলেও তিনি অত্যন্ত সজাগ স্মৃতিশক্তিসম্পন্ন ও একজন শ্রদ্ধাভাজন ব্যক্তি হিসেবে সর্বজনবিদিত ছিলেন। তিনি পাঁচ ছেলে ও পাঁচ মেয়ে রেখে গেছেন।

সোমবার দুপুর ১২টায় পাটকেলঘাটার কেশব লাল মহাশ্মশানে সর্বস্তরের মানুষের উপস্থিতিতে তাঁর শেষকৃত্যানুষ্ঠান ও অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন হয়। এদিকে আনন্দ মোহন সাধুর প্রয়াণে তাঁর পরিবার, আত্মীয়স্বজন, ব্যবসায়ী সমাজ ও স্থানীয় বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দসহ সর্বস্তরের মানুষের মাঝে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তাঁর মৃত্যুর খবর পেয়ে পাটকেলঘাটা বাজারে মাইকিং করা হয়।

তাঁর প্রয়াণে তালা উপজেলা ক্লাব, পাটকেলঘাটা বাজার বণিক সমিতি এবং স্থানীয় বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে মরহুমের বিদেহী আত্মার পরম শান্তি কামনা করা হয়েছে এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানানো হয়েছে।
শেষকৃত্যানুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন তালা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মৃণাল কান্তি রায়, সাবেক সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম, সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ও সাবেক কুমিরা ইউপি চেয়ারম্যান শেখ গোলাম মোস্তফা, তালা উপজেলা প্রেসক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদক সাংবাদিক গোলাম রব্বানী, সরুলিয়া ইউনিয়ন যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুল ইসলাম, হাফিজুর রহমান হাফিজ, আব্দুল রকিব সরদার, চিকিৎসক মামুনুর রহমান, মোহাম্মদ মুজিবর সরদার, আইনজীবী হুমায়ুনসহ স্থানীয় ইউনিয়ন, থানা ও জেলাসহ বিভিন্ন এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ।

জেলায় ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির তথ্য সংগ্রহ শুরু, উপকারভোগী হবেন ৪০ লাখ নারী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৩৫ পূর্বাহ্ণ
জেলায় ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির তথ্য সংগ্রহ শুরু, উপকারভোগী হবেন ৪০ লাখ নারী

Oplus_131072

পত্রদূত ডেস্ক: নারীর অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ও সামাজিক মর্যাদা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে দেশব্যাপী ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আওতায় পরিবারগুলোর তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সোমবার থেকে শুরু হওয়া এই কার্যক্রমের মাধ্যমে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে দেশের প্রায় ৪ কোটি ৪৫ লাখ পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করে অনলাইন ডেটাবেইস তৈরি করা হবে। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে নতুন করে ৪০ লাখ নারী পরিবারপ্রধানকে ফ্যামিলি কার্ড ও ভাতা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার।

সোমবার সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসন ও সমাজসেবা কার্যালয়ের আয়োজনে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি বাস্তবায়ন বিষয়ে এক প্রেস কনফারেন্সে এসব তথ্য জানানো হয়। এতে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক রহমাতুল্লাহ পলাশ, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অর্ণব দত্তসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

Oplus_131072

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি বাস্তবায়নে চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ১৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যার মধ্যে ১২ হাজার ৩০০ কোটি টাকা সরাসরি ভাতা বাবদ ব্যয় করা হবে। ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়ন নীতিমালা-২০২৬ অনুযায়ী আর্থসামাজিক অবস্থা বিবেচনায় পিএমটি (প্রক্সি মিন্স টেস্ট) স্কোরের ভিত্তিতে উপকারভোগী নির্বাচন করা হবে। তথ্য সংগ্রহের জন্য দেশব্যাপী ৬৬ হাজার ৮১৫ জন তথ্য সংগ্রহকারী ও ৬ হাজার ৬৮১ জন সুপারভাইজার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তাঁরা বিশেষায়িত ট্যাবলেট ব্যবহার করে বাড়ি বাড়ি গিয়ে পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করবেন এবং সরাসরি অনলাইন ডেটাবেইসে যুক্ত করবেন। ডুয়াল চিপ, কিউআর কোড ও এনএফসি প্রযুক্তি সংবলিত এই কার্ডের মাধ্যমে কার্ডধারীরা ব্যাংকের এটিএম বুথ, পয়েন্ট অব সেলস (পিওএস) এবং মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেসের (এমএফএস) মাধ্যমে ভাতার টাকা তুলতে পারবেন।

 


জেলা সদর ছাড়াও সাতক্ষীরার বিভিন্ন উপজেলায় এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন ও তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম ঘিরে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
তালা: তালা উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের আয়োজনে উপজেলা পরিষদ হলরুমে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. আরিফুজ্জামান। প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জান্নাতুল আফরোজ স্বর্ণা। এ সময় উপজেলা বিএনপির সভাপতি মৃণাল কান্তি রায়, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ হোসেন, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবীদ হাজিরা খাতুন, ইউপি চেয়ারম্যান এম মফিদুল হক লিটু, মো. জাহাঙ্গীর হোসেন, কামরুল ইসলাম লাল্টু, সমাজসেবা কার্যালয়ের তৌফিক ইমরান, তালা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক জোয়ার্দার ফারুক হোসেন, তালা রিপোর্টার্স ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জুলফিকার রায়হান, তালা উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি আকবর হোসেন, সাবেক ছাত্রদল নেতা মারুফ উল ইসলাম ও সাংবাদিক মিজানুর রহমানসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
আশাশুনি: আশাশুনিতে তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রমের অবহিতকরণ প্রেস কনফারেন্সে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শ্যামানন্দ কুন্ডু। তিনি জানান, আশাশুনি উপজেলার মোট ৭৬ হাজার ৮৯২টি পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হবে। এ কাজে ১১৫ জন তথ্য সংগ্রহকারী ও ১১ জন সুপারভাইজার নিয়োজিত থাকবেন। ফ্যামিলি কার্ড প্রাপ্তিতে কোনো অনৈতিক লেনদেন বা প্রতারণার ফাঁদে পা না দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি জানান, কমপক্ষে পাঁচটি ধাপে যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে প্রকৃত উপযুক্ত পরিবারকে কার্ড দেওয়া হবে। উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. দেলোয়ার হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক স. ম. হেদায়েতুল ইসলাম, সদস্যসচিব মশিউল হুদা তুহিন, জামায়াতের নায়েবে আমির মাওলানা নুরুল আবছার মুর্তজা, জেলা ও স্থানীয় প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান শেষে ১১ জন সুপারভাইজারের হাতে তথ্য সংগ্রহের ট্যাব তুলে দেওয়া হয়।

 


কলারোয়া: কলারোয়া উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরিফুল ইসলাম প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সঠিক ডেটাবেইস তৈরির গুরুত্ব তুলে ধরেন। উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা নূরে আলম নাহিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি ও অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ রইছ উদ্দিন। এতে বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

 

oplus_0

দেবহাটা: দেবহাটা উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিলন সাহার সভাপতিত্বে ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রমের অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে দেবহাটা থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই আল আমিন, উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক শেখ সিরাজুল ইসলাম, জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মাহবুবুল আলম, উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা অলিউল ইসলাম, সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা প্রদীপ কুমার দাস, সমাজসেবা কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা নাসরিন জাহান, হাজী কেয়ামুদ্দিন কলেজের অধ্যক্ষ আবুল কালাম ও স্থানীয় সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সভায় নিরপেক্ষতা ও স্বচ্ছতার সাথে তথ্য সংগ্রহের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়।

দুর্গাপূজা উপলক্ষে সারা দেশে প্রায় ১০ হাজার বিজিবি সদস্য মোতায়েন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:২৩ পূর্বাহ্ণ
দুর্গাপূজা উপলক্ষে সারা দেশে প্রায় ১০ হাজার বিজিবি সদস্য মোতায়েন

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় সারা দেশে প্রায় ১০ হাজার বিজিবি সদস্য মোতায়েন থাকবে। বিজিবি সদর দফতরের পরিচালক (অপারেশন) লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মাহবুব মুর্শেদ রহমান এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী ১৬ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত সারা দেশে প্রায় ১০ হাজার বিজিবি সদস্য মোতায়েন থাকবে।

দুর্গাপূজা যেন শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হয়, সে লক্ষ্যে বিজিবি একটি সমন্বিত নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে উল্লেখ করে লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মাহবুব মুর্শেদ রহমান বলেন, ‘এর মূল অংশ হলো নিয়মিত টহল, গোয়েন্দা নজরদারি এবং স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ ও পূজা উদযাপন কমিটির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয়। সম্ভাব্য ঝুঁকি আগেই চিহ্নিত করা, গুজব ও সাম্প্রদায়িক উসকানির বিষয়ে সতর্ক নজর রাখা এবং যেকোনও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় দ্রুত সাড়া দেওয়ার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।’

তিনি বলেন, সীমান্তের ৮ কিলোমিটারের মধ্যে এবং ব্যাটালিয়ন সদরের নিকটবর্তী এলাকাসহ মোট ২ হাজার ৭২৭টি পূজামণ্ডপে বিজিবি নিরাপত্তা সহায়তা দেবে। দূরবর্তী ও দুর্গম এলাকায় দ্রুত টহল ও সহায়তা পৌঁছে দিতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক অস্থায়ী ক্যাম্প স্থাপনের পদক্ষেপও নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, ঢাকায় বিজিবি মোতায়েন ও দায়িত্বের পরিধি সরকারের নির্দেশনা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের চাহিদার ভিত্তিতে নির্ধারিত হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে টহল, গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নিরাপত্তা সহায়তা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দেওয়ার জন্য বিজিবি প্রস্তুত থাকবে।

তিনি আরও বলেন, দুর্গাপূজা আমাদের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার দীর্ঘ ঐতিহ্যের এক উজ্জ্বল প্রকাশ। সনাতন ধর্মাবলম্বী ভাইবোনেরা যেন নিরাপদে, নির্বিঘ্নে ও আনন্দের সঙ্গে তাদের ধর্মীয় উৎসব পালন করতে পারেন, তা নিশ্চিতে বিজিবি সর্বাত্মকভাবে প্রস্তুত থাকবে।