মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩

মুক্তচিন্তার আলো ও অন্ধকারের আঘাত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৪৫ অপরাহ্ণ
মুক্তচিন্তার আলো ও অন্ধকারের আঘাত

‎তারিক ইসলাম

‎যে সমাজ তার চিন্তাশীল ও মুক্তবুদ্ধির মানুষকে সম্মান জানাতে জানে না, সে সমাজের ভবিষ্যৎ অন্ধকার হতে বাধ্য। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, বেগম রোকেয়া এবং সাঁইজি লালন শাহ—তাঁরা কেবল তিনটি ঐতিহাসিক নাম নন; তাঁরা আমাদের মনন, মানবিকতা ও সাংস্কৃতিক সত্তার অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাঁদের চিন্তা আমাদের শিখিয়েছে কীভাবে সংকীর্ণতা আর কুসংস্কারের দেয়াল ভেঙে মুক্ত আকাশের নিচে দাঁড়াতে হয়। কিন্তু আফসোস, আজ আমাদের সমাজেই বারবার আক্রমণের শিকার হচ্ছেন এই আলো ছড়ানো মানুষগুলো।

‎সাম্প্রতিক সময়ে রবীন্দ্রনাথের প্রতিকৃতিতে কালি লেপন, নারীমুক্তির প্রতীক বেগম রোকেয়ার অবদানকে অস্বীকার করা, আর লালনের দর্শনকে হেয় করে তাঁর আখড়ায় আক্রমণের হুমকি দেওয়া—এসব মোটেও সাধারণ ঘটনা নয়। এগুলো আমাদের সাংস্কৃতিক ও চিন্তার স্বাধীনতার ওপর এক গভীর আঘাত।

‎যাঁদের চিন্তা আমাদের মানসিক মুক্তি দেয়, তাঁদের ওপরই কেন এই বারবার আঘাত? উত্তরটা সহজ। অন্ধতা ও চরমপন্থার সবচেয়ে বড় ভয় হলো আলো আর যুক্তি। রবীন্দ্রনাথ যখন সর্বজনীন ভালোবাসার কথা বলেন, রোকেয়া যখন অন্ধ সামাজিক প্রথা ভেঙে নারীর শিক্ষার কথা বলেন, আর লালন যখন জাতি-ধর্মের ঊর্ধ্বে উঠে মানবধর্মের গান গান—তখন তা আঘাত করে কুসংস্কারাচ্ছন্ন ও স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর কায়েমি স্বার্থে। তারা যুক্তি দিয়ে এই চিন্তাকে মোকাবিলা করতে পারে না, তাই বেছে নেয় অবমাননা আর হিংসার পথ।

‎একটি সুস্থ সমাজে মতভেদ থাকবেই, সৃষ্টি কিংবা চিন্তা নিয়ে সমালোচনাও হতে পারে। সুস্থ তর্ক-বিতর্কই তো একটা সমাজকে আলোর পথ দেখায়। কিন্তু ভিন্নমতকে একেবারেই মুছে ফেলার চেষ্টা করা, মননশীলতার চর্চাকে অপমান করা কিংবা আমাদের ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে সংকীর্ণতার মাপে বিচার করা কোনো প্রগতিশীল সমাজের লক্ষণ নয়।

‎আমাদের ভুললে চলবে না, বাংলাদেশ কোনো একক চিন্তার দেশ নয়। এ দেশের প্রাণশক্তিই হলো বহুত্ববাদ, যুক্তি, মানবিকতা ও মুক্তচিন্তা। রবীন্দ্রনাথের সুর আমাদের অনুভূতিকে ভাষা দেয়, রোকেয়ার জীবন আমাদের অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে শেখায়, আর লালনের গান আমাদের শেখায় অহিংসা ও সম্প্রীতি।

‎আমরা এমন এক বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখি, যেখানে রবীন্দ্রনাথের গান, রোকেয়ার প্রশ্ন আর লালনের মানবতাবাদী চেতনা নির্ভয়ে বেঁচে থাকবে—প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে। সংস্কৃতির ওপর এই অন্ধকার আঘাত আমাদের ঐক্যবদ্ধভাবে রুখে দাঁড়াতে হবে। সংকীর্ণ বিদ্বেষের বদলে জয় হোক উদার মনুষ্যত্বের, সুপ্রতিষ্ঠিত হোক চিন্তার পূর্ণ স্বাধীনতা।

‎লেখক : তারিক ইসলাম, ‎সভাপতি,সাতক্ষীরা বোটানিক্যাল সোসাইটি।

Ads small one

কিশোর গ্যাং: দায় এড়াবে কে?

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৫৪ অপরাহ্ণ
কিশোর গ্যাং: দায় এড়াবে কে?

সচ্চিদানন্দ দে সদয়

কিশোর বয়স স্বপ্ন দেখার, নিজেকে গড়ে তোলার এবং ভবিষ্যতের পথে এগিয়ে যাওয়ার সময়। অথচ এই বয়সেই যখন কেউ মাদক, চাঁদাবাজি, ছিনতাই কিংবা সহিংসতার সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে, তখন উদ্বিগ্ন না হয়ে উপায় থাকে না। শহরের অলিগলি থেকে গ্রামের হাটবাজার, পাড়া-মহল্লা থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আশপাশÑকিশোরদের দলবদ্ধ অপরাধ প্রবণতা এখন সমাজের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ। এটি শুধু আইনশৃঙ্খলার সমস্যা নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে পরিবার, শিক্ষাব্যবস্থা, সামাজিক পরিবেশ এবং রাষ্ট্রের দায়িত্ব পালনের প্রশ্ন।

 

প্রশ্ন হলো, যে বয়সে কিশোরদের হাতে থাকার কথা বই, খেলাধুলার সরঞ্জাম আর নতুন কিছু করার স্বপ্ন, সেই বয়সে তাদের কেউ কেউ অপরাধের পথে যাচ্ছে কেন? তাদের এই বিচ্যুতির দায় কি শুধু তাদের নিজেদের, নাকি এর পেছনে রয়েছে আমাদের সম্মিলিত ব্যর্থতা? কিশোর গ্যাংয়ের যাত্রা অনেক সময় শুরু হয় সাধারণ বন্ধুত্ব ও আড্ডা থেকে। কয়েকজন কিশোর একসঙ্গে চলাফেরা করে, নিজেদের একটি দল তৈরি করে। একপর্যায়ে সেই দলের মধ্যে তৈরি হয় আধিপত্য বিস্তারের প্রতিযোগিতা। কে বেশি প্রভাবশালী, কে কাকে ভয় দেখাতে পারে, কার কথায় এলাকায় অন্যরা চলবেÑএমন মানসিকতা থেকে সংঘাতের জন্ম হয়। পরে সেই সংঘাত মাদক, মারামারি, চাঁদাবাজি, ছিনতাই কিংবা গুরুতর অপরাধে রূপ নিতে পারে।

তবে সব কিশোরের দলই অপরাধী দল নয়। বন্ধুত্ব, খেলাধুলা কিংবা সামাজিক কর্মকা-ের জন্য কিশোরদের দলবদ্ধ হওয়া স্বাভাবিক। সমস্যা তখনই, যখন দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে অন্যকে ভয় দেখানো, আইন অমান্য করা এবং অপরাধকে শক্তির প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হয়। অনেক কিশোরের কাছে গ্যাং হয়ে ওঠে পরিচিতি ও প্রভাব বিস্তারের মাধ্যম। পরিবারে গুরুত্ব না পাওয়া, সামাজিকভাবে অবহেলিত বোধ করা কিংবা বন্ধুদের কাছে নিজেকে প্রতিষ্ঠার আকাক্সক্ষা তাদের ভুল পথে নিতে পারে।

 

অপরাধী দলের সদস্যরা তাদের এমন একটি ধারণা দেয় যে, ভয় দেখাতে পারলেই সম্মান পাওয়া যায়। অথচ ভয় আর সম্মান এক জিনিস নয়। এই পার্থক্যটি বুঝতে না পারার সুযোগই নেয় অপরাধপ্রবণ গোষ্ঠী। একটি শিশুর বেড়ে ওঠায় পরিবারের ভূমিকার বিকল্প নেই। কিন্তু সন্তানকে খাবার, পোশাক ও শিক্ষার ব্যবস্থা করে দিলেই অভিভাবকের দায়িত্ব শেষ হয় না। সন্তান কোথায় যাচ্ছে, কার সঙ্গে মিশছে, কী নিয়ে ভাবছে এবং কোনো মানসিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে কি না, সেদিকেও নজর দিতে হয়।

 

বর্তমানে অনেক পরিবারে অভিভাবক ও সন্তানের মধ্যে যোগাযোগের ঘাটতি দেখা যায়। কেউ কর্মব্যস্ততায় সন্তানকে সময় দিতে পারেন না, কেউ আবার সন্তানের সঙ্গে কথা বলার পরিবর্তে শুধু পড়াশোনা ও ফলাফলের ওপর গুরুত্ব দেন। ফলে কিশোরের অভিমান, হতাশা কিংবা সমস্যার কথা শোনার মানুষটি পরিবারে না থাকলে সে বাইরের মানুষের কাছে আশ্রয় খোঁজে। সেই আশ্রয় যদি ভুল সঙ্গের মধ্যে হয়, তাহলে বিপদের আশঙ্কা বাড়ে। অবশ্য কিশোর অপরাধের সব দায় পরিবারকে দেওয়া যাবে না।

 

অর্থনৈতিক সংকট, সামাজিক বৈষম্য, মাদকের সহজলভ্যতা, অপরাধীদের প্রভাব এবং নিরাপদ বিনোদনের অভাবও বিবেচনায় নিতে হবে। একটি এলাকায় খেলার মাঠ নেই, পাঠাগার নেই, সাংস্কৃতিক কর্মকা-ের সুযোগ নেই; অথচ কিশোরদের অবসর সময় কাটানোর বিকল্পও তৈরি করা হয়নিÑএমন পরিস্থিতিতে তাদের গঠনমূলক কাজে যুক্ত রাখার দায়িত্ব কে নেবে? শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কাজ শিক্ষার্থীদের পাঠ্যবই পড়ানো ও পরীক্ষায় ভালো ফল করানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে না।

 

একজন শিক্ষার্থীর আচরণ, মানসিক অবস্থা, বন্ধুত্বের ধরন এবং সামাজিক বিকাশের প্রতিও শিক্ষকদের নজর দেওয়া প্রয়োজন। কোনো শিক্ষার্থী হঠাৎ নিয়মিত ক্লাস ফাঁকি দিলে, সহপাঠীদের ভয় দেখালে, মারামারিতে জড়িয়ে পড়লে কিংবা আচরণে অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা দিলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা উচিত। তাকে সঙ্গে সঙ্গে খারাপ ছেলে হিসেবে চিহ্নিত না করে তার আচরণের কারণ খুঁজতে হবে। প্রয়োজনে অভিভাবকের সঙ্গে আলোচনা, কাউন্সেলিং এবং বিশেষজ্ঞের সহায়তা নিতে হবে। পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে খেলাধুলা, বিতর্ক, সংগীত, নাটক, পাঠচক্র ও স্বেচ্ছাসেবামূলক কর্মকা-ের সুযোগ বাড়ানো দরকার।

 

এসব কার্যক্রম কিশোরদের প্রতিভা বিকাশের পাশাপাশি দলগত দায়িত্ববোধ, সহনশীলতা ও নেতৃত্বের গুণ শেখায়। যে কিশোর নিজের যোগ্যতা প্রকাশের সুযোগ পায়, তাকে অপরাধী দলের কৃত্রিম পরিচয়ের ওপর নির্ভর করতে হয় না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কিশোরদের জীবনযাপনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। এর মাধ্যমে তারা জ্ঞান অর্জন ও যোগাযোগের সুযোগ পাচ্ছে। কিন্তু সহিংসতার ভিডিও, অস্ত্র প্রদর্শন, অপরাধকে বীরত্ব হিসেবে উপস্থাপন এবং অনলাইনে ভয় দেখানোর প্রবণতা তাদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই শুধু মোবাইল ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে সমস্যার সমাধান হবে না।

 

প্রয়োজন ডিজিটাল সচেতনতা, দায়িত্বশীল ব্যবহার এবং অভিভাবকের যথাযথ তদারকি। এর পাশাপাশি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, কিশোরদের অপরাধে ব্যবহার করছে কারা? কোনো কিশোর মাদক বহন করছে, চাঁদাবাজি করছে কিংবা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ছেÑএতেই তদন্ত শেষ হয়ে যেতে পারে না। তার পেছনে কোনো প্রাপ্তবয়স্ক অপরাধী, মাদক ব্যবসায়ী কিংবা প্রভাবশালী ব্যক্তি রয়েছে কি না, তা খুঁজে দেখা জরুরি। যারা কিশোরদের অপরাধে প্ররোচিত করে, অর্থ বা অস্ত্র সরবরাহ করে কিংবা নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে সমস্যার শিকড় অক্ষত থেকে যাবে। কিশোর গ্যাং প্রতিরোধে আইন প্রয়োগের প্রয়োজন অস্বীকার করার সুযোগ নেই। অপরাধ করলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে।

 

সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে এবং অপরাধের শিকার ব্যক্তিদের ন্যায়বিচার দিতে হবে। কিন্তু কিশোরদের ক্ষেত্রে বয়স, অপরাধের ধরন ও পরিস্থিতি বিবেচনায় সংশোধন এবং পুনর্বাসনের ব্যবস্থাও থাকতে হবে। একজন কিশোর অপরাধে জড়িয়ে পড়েছে মানেই তার ভবিষ্যৎ শেষÑএমন ধারণা বিপজ্জনক। ভুল থেকে ফিরে আসার সুযোগ না দিলে সে আরও গভীরভাবে অপরাধের জগতে ঢুকে পড়তে পারে। তাই সংশোধনমূলক কার্যক্রম, শিক্ষা ও কারিগরি প্রশিক্ষণ, মানসিক সহায়তা এবং পরিবারে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা প্রয়োজন। একই সঙ্গে অপরাধকে প্রশ্রয় দেওয়া কিংবা রাজনৈতিক বা সামাজিক প্রভাব খাটিয়ে অপরাধীদের রক্ষা করার প্রবণতা বন্ধ করতে হবে। স্থানীয় পর্যায়ে প্রশাসন, পুলিশ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, অভিভাবক, জনপ্রতিনিধি ও সমাজকর্মীদের সমন্বয়ে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে।

 

 

পাড়া-মহল্লায় কিশোরদের ঝুঁকি চিহ্নিত করা, খেলাধুলার সুযোগ তৈরি, মাদকবিরোধী কার্যক্রম এবং অভিযোগ জানানোর নিরাপদ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। কোনো কিশোর বিপথে যাওয়ার পর ব্যবস্থা নেওয়ার চেয়ে আগে থেকেই তাকে সঠিক পথে রাখার উদ্যোগ অনেক বেশি কার্যকর। কিশোর গ্যাংয়ের বিস্তার আমাদের সামনে আয়না ধরেছে। সেখানে শুধু বিপথগামী কিশোরদের দেখা যায় না; দেখা যায় পরিবারে সময়ের অভাব, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সীমাবদ্ধতা, সামাজিক উদাসীনতা এবং অপরাধীদের দাপটের চিত্রও। তাই কিশোরদের দোষারোপ করে কিংবা কয়েকটি অভিযান চালিয়ে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। প্রয়োজন অপরাধের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান এবং কিশোরদের সুস্থ বিকাশের জন্য বাস্তব উদ্যোগ।

 

আজকের কিশোর আগামী দিনের নাগরিক। তাকে অপরাধের পথে ঠেলে দিয়ে পরে তার কাছ থেকে দায়িত্বশীল আচরণ আশা করা যায় না। পরিবারকে সন্তানকে সময় দিতে হবে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে তার পাশে দাঁড়াতে হবে, সমাজকে নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করতে হবে এবং রাষ্ট্রকে অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। কিশোরদের হাতে অস্ত্র উঠলে শুধু একজন কিশোরের ভবিষ্যৎ নষ্ট হয় না, সমাজের নিরাপত্তাও প্রশ্নের মুখে পড়ে। তাই দায় চাপানোর প্রতিযোগিতা নয়, এখন দরকার দায়িত্ব পালনের সাহস। যারা কিশোরদের অপরাধে ঠেলে দেয়, তাদের থামাতে হবে; যারা ইতিমধ্যে বিপথে গেছে, তাদের ফিরিয়ে আনার পথ তৈরি করতে হবে। কারণ আজ আমরা কিশোরদের রক্ষা করতে ব্যর্থ হলে, আগামীকাল সেই ব্যর্থতার মূল্য দিতে হবে পুরো সমাজকে।

লেখক: সংবাদ কর্মী

হাজার বছরের পথ বেয়ে সুন্দরবনের দুয়ারে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৪০ অপরাহ্ণ
হাজার বছরের পথ বেয়ে সুন্দরবনের দুয়ারে

মো: মামুন হাসান

কবিগুরু আক্ষেপ করেছিলেন, দেশ দেখা হয়নি, কারণ ঘর থেকে দুই পা ফেলে একটি ধানের শিষের ওপর একটি শিশিরবিন্দু দেখার সময় হয়নি। আর জীবনানন্দ দাশ লিখেছিলেন, বাংলার মুখ দেখে তিনি পৃথিবীর রূপ খুঁজতে যান না। এই দুই পঙ্‌ক্তির মাঝখানেই আমাদের পর্যটনের সবচেয়ে বড় সত্য লুকিয়ে আছে। যে সৌন্দর্য আমাদের উঠোনেই ছড়িয়ে আছে, তাকে আমরা এখনো অর্থনীতির মানচিত্রে ঠিকঠাক বসাতে পারিনি।

হিসাবের খাতায় অনুপস্থিত সম্ভাবনা

বাংলাদেশের জিডিপিতে পর্যটন খাতের অবদান প্রায় ৩ থেকে ৪ শতাংশ। বিশ্বের গড় প্রায় ১০ শতাংশ। এই ব্যবধান নিছক পরিসংখ্যান নয়, এটি আমাদের হারানো সুযোগের মাপকাঠি। সরকারি হিসাবে খাতটিতে এখন প্রায় ৫১ দশমিক ৯ লাখ মানুষ কাজ করছেন। ২০৩০ সালের মধ্যে এ সংখ্যা ৭২ দশমিক ৮ লাখে পৌঁছানোর সম্ভাবনা আছে, আর ২০৪০ সালের লক্ষ্য ২ দশমিক ১৯ কোটি কর্মসংস্থান। লক্ষ্যটি বড়, কিন্তু অসম্ভব নয়, যদি আমরা পর্যটনকে কেবল বিনোদন না ভেবে উন্নয়নের কৌশল হিসেবে দেখি।

চতুর্দশ শতকে ইবনে বতুতা বাংলায় এসে একে বলেছিলেন প্রাচুর্যে ভরা নরক। সেই মুগ্ধ বিস্ময়ের ছিল দুই দিক: তিনি প্রাচুর্য দেখেছিলেন, আবার পথের কষ্টও সয়েছিলেন। সাত শতাব্দী পরেও আমাদের গন্তব্যগুলো একই দ্বৈততার মুখে। প্রাচুর্য আছে, পথ ও পরিষেবা অগোছালো।

গুণক প্রভাব আর ক্ষরণের গল্প

অর্থনীতিবিদেরা পর্যটনের যে শক্তির কথা বলেন, তার নাম গুণক প্রভাব বা মাল্টিপ্লায়ার ইফেক্ট। একজন পর্যটক হোটেলে যে টাকা খরচ করেন, তা নৌকাচালক, মাছচাষি, সবজি উৎপাদক, রিকশাচালক, কারিগর ও দিনমজুরের হাত ঘুরে বারবার অর্থনীতিতে ফিরে আসে। সুন্দরবনসংলগ্ন ১৫টি রিসোর্টের উদাহরণটি এ ক্ষেত্রে শিক্ষণীয়। সেখানে ১৫৩ জন কর্মীর ১৩৫ জনই স্থানীয়, অর্থাৎ প্রায় ৮৮ শতাংশ। আশপাশে গড়ে উঠেছে ৫৮টি ছোট ব্যবসা ও সেবা প্রতিষ্ঠান।

তবে মুদ্রার উল্টো পিঠও আছে, যাকে পর্যটন অর্থনীতিতে বলা হয় লিকেজ বা অর্থনৈতিক ক্ষরণ। বিলাসবহুল রিসোর্টে খাবার, আসবাব ও কর্মী যদি বাইরে থেকে আসে, তবে পর্যটকের টাকা গ্রামে না পৌঁছে শহরে বা বিদেশে ফিরে যায়। গন্তব্য তখন হয়ে ওঠে এনক্লেভ, চারপাশে দারিদ্র্য রেখে মাঝখানে এক দ্বীপ। তাই নীতির প্রথম প্রশ্ন হওয়া উচিত, পর্যটকের প্রতিটি টাকার কত অংশ স্থানীয় মূল্যশৃঙ্খলে থাকছে।

সুন্দরবন: সংরক্ষণই হোক সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ

১৯৯৭ সালে ইউনেসকো সুন্দরবনকে বিশ্ব ঐতিহ্যের স্বীকৃতি দিয়েছে। এই বন কেবল রয়েল বেঙ্গল টাইগারের আবাস নয়, লক্ষাধিক মানুষের জীবিকার ভরসাও। জেলে, মৌয়াল, গোলপাতা সংগ্রহকারী, কাঁকড়া ও চিংড়ির আহরণকারী সবাই এই বনের ওপর নির্ভরশীল। আমার কর্মস্থল সাতক্ষীরার শ্যামনগর আর কালীগঞ্জের মানুষ এ কথা প্রতিদিন হাড়ে হাড়ে জানে। কপোতাক্ষ আর ইছামতীর এই জনপদ এক দিকে প্রতাপাদিত্যের যশোরেশ্বরী মন্দিরের ইতিহাস বয়ে বেড়ায়, অন্য দিকে লোনা পানি ও ঘূর্ণিঝড়ের সঙ্গে লড়াই করে।

এখানেই দরকার ক্যারিং ক্যাপাসিটি বা ধারণক্ষমতার বিজ্ঞানসম্মত হিসাব। দিনে কত পর্যটক ঢুকবে, কোন রুটে যাবে, কোথায় থাকবে, বর্জ্য কোথায় যাবে, সবই আগে থেকে নির্ধারিত থাকতে হবে। প্লাস্টিক, শব্দদূষণ ও অনিয়ন্ত্রিত নৌযান এই ভঙ্গুর বাস্তুতন্ত্রের জন্য নীরব হুমকি।

পথ দেখাতে পারে ভুটান। দেশটি সীমিত সংখ্যক পর্যটক ও উচ্চ মূল্যের নীতি অনুসরণ করে, প্রতি রাতের জন্য নির্ধারিত টেকসই উন্নয়ন ফি নেয় এবং সেই অর্থ পরিবেশ ও জনসেবায় ব্যয় করে। কোস্টারিকা আরেকটি দৃষ্টান্ত। দেশটি বন সংরক্ষণকারী মানুষদের পরিবেশ সেবার মূল্য দেয়, আর তার ফলে এক সময় উজাড় হওয়া বনের বড় অংশ আবার সবুজ হয়ে উঠেছে। রুয়ান্ডার গরিলা পর্যটনে পারমিটের আয়ের একটি অংশ সরাসরি স্থানীয় সম্প্রদায়ের উন্নয়নে যায়। এর শিক্ষা এক: যে মানুষ বন বাঁচায়, বনের আয়ে তার ন্যায্য অধিকার থাকতে হবে। সুন্দরবনের জন্যও চাই এমন একটি কনজারভেশন ফি, যার হিসাব স্থানীয় কমিটি রাখবে এবং যা বন পুনরুদ্ধার, বাঘ সংরক্ষণ ও বিকল্প জীবিকায় ফিরে যাবে।

সংস্কৃতিই আমাদের ব্র্যান্ড

পর্যটনবিদ্যায় এখন আলোচনার কেন্দ্রে অভিজ্ঞতার অর্থনীতি বা এক্সপেরিয়েন্স ইকোনমি। জোসেফ পাইন ও জেমস গিলমোর দেখিয়েছিলেন, আধুনিক ভোক্তা পণ্য কেনে না, স্মরণীয় অভিজ্ঞতা কেনে। সেই বিচারে বাংলাদেশের হাতে যে সম্পদ আছে, বহু দেশ তা স্বপ্নেও পায় না। বাউলগান, পালাকীর্তন, যাত্রা, নবান্ন, নৌকাবাইচ, লাঠিখেলা, বৈশাখী মেলা, জামদানি, নকশিকাঁথা, শাঁখা ও মাটির শিল্প, সবই বিক্রয়যোগ্য অভিজ্ঞতা।

লালন সাঁই গেয়েছিলেন, বাড়ির কাছে আরশিনগর আছে, সেথায় এক পড়শি বসত করে। আমাদের পর্যটনের সম্ভাবনাও ঠিক তেমন, দূরে কোথাও নয়, আমাদের বাড়ির কাছেই। প্রশ্ন শুধু সেই আরশিনগরে পৌঁছানোর পথটি সাজানোর।

এ জন্য প্রতিটি অঞ্চলের একটি সাংস্কৃতিক পরিচয় গড়ে তোলা যায়, যাকে বলে ডেস্টিনেশন ব্র্যান্ডিং। কুষ্টিয়া হতে পারে বাউল ও লালন সাধনার তীর্থ, ময়মনসিংহ ও কিশোরগঞ্জ লোকসংগীত আর হাওরজীবনের আঙিনা, সিলেট চা ও পাহাড়ের জনপদ, খুলনা ও সাতক্ষীরা সুন্দরবন আর নদীজীবনের প্রবেশদ্বার। জামদানি, নকশিকাঁথা ও ইলিশের মতো পণ্য ইতিমধ্যে ভৌগোলিক নির্দেশক বা জিআই স্বীকৃতি পেয়েছে। এই স্বীকৃতিকে পর্যটনের সঙ্গে জুড়ে দিলে পণ্যের গল্প ও কারিগরের আয় একসঙ্গে বাড়বে।

জাপানের ওয়ান ভিলেজ ওয়ান প্রোডাক্ট আন্দোলন দেখিয়েছে, প্রতিটি জনপদ একটি স্বাক্ষর পণ্য নিয়ে গর্ব করতে পারলে গ্রামই হয়ে ওঠে গন্তব্য। ভারতের কেরালা রেসপনসিবল ট্যুরিজম মিশনের আওতায় হোটেলগুলোকে স্থানীয় কৃষক ও নারী উদ্যোক্তাদের কাছ থেকে সামগ্রী কিনতে উৎসাহিত করেছে। এতে পর্যটনের আয় গ্রামে থেকে যাচ্ছে, ক্ষরণ কমছে। নেপালের হোমস্টে মডেল দেখিয়েছে, একটি সাধারণ ঘরও পর্যটনের উদ্যোক্তা হতে পারে।

সতর্কবার্তা: অতিপর্যটনের ছায়া

ভেনিসের দিকে তাকালে বোঝা যায়, অতিপর্যটন বা ওভারট্যুরিজম কী ক্ষতি করে। বাসিন্দারা শহর ছাড়ছেন, শহর হয়ে উঠছে মঞ্চসজ্জা। মার্ক টোয়েন বলেছিলেন, ভ্রমণ কুসংস্কার ও সংকীর্ণ মানসিকতার প্রাণঘাতী শত্রু। কিন্তু অনিয়ন্ত্রিত ভ্রমণ যে গন্তব্যের নিজের আত্মাকেই ক্ষয় করে দিতে পারে, সে সতর্কতাও আমাদের মনে রাখতে হবে। পর্যটন যেন সংস্কৃতিকে পণ্য বানিয়ে তার প্রাণ কেড়ে না নেয়।

দক্ষ মানুষই আসল পুঁজি

আতিথেয়তা শিল্পে একটি কথা আছে, পর্যটক ভবন মনে রাখেন না, মনে রাখেন আচরণ। গাইড, হোটেল কর্মী, নৌকাচালক, রাঁধুনি, পরিবহনকর্মী ও ইভেন্ট ব্যবস্থাপক যদি প্রশিক্ষিত না হন, তবে সেরা গন্তব্যও ব্যর্থ হয়। প্রশিক্ষণ হতে হবে সনদভিত্তিক, কাজের বাস্তবতার সঙ্গে সম্পর্কিত এবং নারীবান্ধব। আমরা পলিটেকনিকে প্রতিদিন দেখি, গ্রামের তরুণ ও তরুণীরা সুযোগ পেলে অসাধারণ পেশাদার হয়ে ওঠে। প্রয়োজন কেবল সেই সুযোগটুকু।

কয়েকটি উদ্ভাবনী প্রস্তাব

প্রথমত, গ্রাম পর্যটন পাসপোর্ট। প্রতিটি গ্রামের খাবার, লোকসংগীত, হস্তশিল্প ও হোমস্টে নিয়ে একটি ডিজিটাল পরিচয়, যেখানে পর্যটক ভ্রমণের সঙ্গে সঙ্গে স্ট্যাম্প সংগ্রহ করবেন।

দ্বিতীয়ত, সুন্দরবন কনজারভেশন ফি। টিকিটের একটি নির্দিষ্ট অংশ স্থানীয় কমিটির তত্ত্বাবধানে বন সংরক্ষণ তহবিলে যাবে এবং বছরশেষে তার প্রকাশ্য হিসাব দেওয়া হবে।

তৃতীয়ত, নারী নেতৃত্বের হোমস্টে। রান্না, কারুশিল্প, গাইডিং ও ডিজিটাল বিপণনে প্রশিক্ষিত নারীরাই হবেন গ্রামীণ পর্যটনের প্রধান উদ্যোক্তা।

চতুর্থত, এক এলাকা এক স্বাক্ষর পণ্য। প্রতিটি পর্যটনকেন্দ্রে স্থানীয় কারিগরদের জন্য নির্দিষ্ট বিক্রয়কেন্দ্র।

পঞ্চমত, পর্যটন ডিজিটাল একস্টপ। বুকিং, পারমিট, নিরাপত্তা তথ্য ও অভিযোগ নিষ্পত্তি একটি অ্যাপে এনে দেশি ও বিদেশি পর্যটকের হয়রানি কমানো।

ষষ্ঠত, সবুজ প্রশিক্ষণ একাডেমি। কুয়াকাটা, সুন্দরবন ও সিলেট অঞ্চলে ইকোট্যুরিজম, প্রাথমিক চিকিৎসা, বিদেশি ভাষা, ডিজিটাল বিপণন ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দক্ষতা তৈরির কেন্দ্র।

শেষ কথা

বাংলাদেশের পর্যটনকে হতে হবে প্রকৃতিনির্ভর, মানুষকেন্দ্রিক ও সংস্কৃতিভিত্তিক। সুন্দরবনকে শুধু দেখার জায়গা না বানিয়ে সংরক্ষণের অর্থনীতিতে রূপ দিতে হবে। গ্রামকে শ্রমিক জোগানের কারখানা না বানিয়ে পর্যটনের মালিক ও উপকারভোগী করতে হবে। জীবনানন্দ যেমন বলেছিলেন, আবার আসিব ফিরে এই বাংলায়। সেই ফিরে আসার টান যদি আমরা গড়ে তুলতে পারি, তবে পর্যটক শুধু একবার আসবেন না, বারবার ফিরবেন, আর প্রতিবারই গ্রামের ঘরে একটু বেশি আলো জ্বলবে।

মো: মামুন হাসান, বিভাগীয় প্রধান, ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ, সাতক্ষীরা সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট।

কপ৩১-কে সামনে রেখে সাতক্ষীরায় জলবায়ু পদযাত্রা: ন্যায্য ক্ষতিপূরণ নিশ্চিতের দাবি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৪২ অপরাহ্ণ
কপ৩১-কে সামনে রেখে সাতক্ষীরায় জলবায়ু পদযাত্রা: ন্যায্য ক্ষতিপূরণ নিশ্চিতের দাবি

নিজস্ব প্রতিনিধি: তুরস্কে অনুষ্ঠিতব্য কপ৩১-কে সামনে রেখে ন্যায্য ক্ষতিপূরণের দাবিতে সাতক্ষীরায় জলবায়ু পদযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) গবেষণা প্রতিষ্ঠান বারসিক ও শিক্ষা সংস্কৃতি ও বৈচিত্র্য রক্ষা টিম এই পদযাত্রার আয়োজন করে।

সাতক্ষীরা শহরের পোস্ট অফিস মোড় থেকে পদযাত্রাটি বের হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

এর আগে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য দায়ী দেশ ও পক্ষগুলোকে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের ন্যায্য ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। বৈশ্বিক উষ্ণায়নে সবচেয়ে কম ভূমিকা রেখেও উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষকে এর ভয়াবহ পরিণতি ভোগ করতে হচ্ছে।

বক্তারা আরো বলেন, দিন দিন বৈশ্বিক উষ্ণতা বাড়ছে। এর প্রভাবে প্রাকৃতিক দুর্যোগের তীব্রতা ও ক্ষয়ক্ষতি বাড়ছে। বাংলাদেশের উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলা করছেন। ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, নদীভাঙন ও লবণাক্ততার কারণে তাদের বসতভিটা, কৃষিজমি, জীবিকা ও সুপেয় পানির উৎস ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বারবার দুর্যোগে নিঃস্ব হয়ে অনেক মানুষ বাস্তুচ্যুত হচ্ছেন। জীবিকার তাগিদে তাদের কেউ কেউ অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য হচ্ছেন।

তারা বলেন, কপ৩১-কে সামনে রেখে জলবায়ু ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠা, উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর অধিকার রক্ষা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতির ন্যায্য ক্ষতিপূরণ নিশ্চিতে জোরালো দাবি তুলে ধরতে হবে।

এসময় গ্রীন কোয়ালিশনের সভাপতি ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব আবু আফফান রোজ বাবুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন সাতক্ষীরা জলবায়ু পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ আশেক-ই-এলাহী, গ্রীন কোয়ালিশনের উপদেষ্টা ও মানবাধিকারকর্মী মাধব চন্দ্র দত্ত, জেলা ক্লাইমেট জাস্টিস ফোরামের সদস্যসচিব ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক শরীফুল্লাহ কায়সার সুমন, জেলা উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর সভাপতি শেখ সিদ্দিকুর রহমান, সদর উপজেলা পানি কমিটির সভাপতি মো. মফিজুর রহমান, ভূমিহীন নেতা আব্দুস সামাদ, বারসিকের প্রোগ্রাম অফিসার গাজী মাহিদা মিজান, যুব সংগঠক জাহাঙ্গীর আলম, শিক্ষা সংস্কৃতি ও বৈচিত্র্য রক্ষা টিমের সদস্য জ্যোতি সরকার প্রমুখ। #