বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ৯ বৈশাখ ১৪৩৩
বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ৯ বৈশাখ ১৪৩৩

তালায় মৎস্য ঘেরে ভাঙচুর, লুটপাটের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২২ এপ্রিল, ২০২৬, ৪:০৫ অপরাহ্ণ
তালায় মৎস্য ঘেরে ভাঙচুর, লুটপাটের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন

তালা প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার তালায় মৎস্য ঘেরের বাসা ভাঙচুর, লুটপাট, হত্যার হুমকি ও চরম নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগে তালা প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার (২২ এপ্রিল) সকালে তালা প্রেস ক্লাবে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন উপজেলার জেয়ালা নলতা গ্রামের তালা সদর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য নজরুল ইসলাম মোড়ল।

লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, গত মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) ভোরে উপজেলার জেয়ালা নলতা গ্রামের কোলাজবিলে অবস্থিত তার মৎস্য ঘেরে সশস্ত্র দুর্বৃত্তরা হামলা চালায়। এ সময় ঘেরের বাসা ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়। তার ছেলে শামিম মোড়লকে জবাই করে হত্যার চেষ্টা করা হলে সে ধস্তাধস্তি করে পালিয়ে প্রাণে রক্ষা পায়। দুর্বৃত্তরা ঘরের বাক্স ভেঙে মাছ বিক্রির ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা নিয়ে যায় বলে তিনি দাবি করেন।

নজরুল ইসলাম মোড়ল আরও বলেন, তিনি দীর্ঘ ১০ বছর ধরে নিজস্ব ও লিজ নেওয়া জমিতে মাছ চাষ করে আসছেন। তার অভিযোগ, ডুমুরিয়া উপজেলার আরশনগর গ্রামের মকবুল সরদারের ছেলে মোফাজ্জেল সরদার অবৈধভাবে সরকারি জায়গায় বসবাস করে এবং নিয়মিত তার ঘেরসহ আশপাশের ঘের থেকে মাছ চুরি করে। এ বিষয়ে প্রতিবাদ করায় তাকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয় বলে তিনি দাবি করেন।

তিনি আরও জানান, ঘটনার দিন রাতে তিনি বাড়িতে থাকলেও তার ছেলে শামিম ঘেরে অবস্থান করছিল। ভোর রাতে মোফাজ্জেল সরদার, তার ছেলে দেলোয়ার, মিজানুরসহ ৫-৬ জন অজ্ঞাত ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ঘেরের বাসায় গিয়ে দরজা খুলতে বলে। দরজা খোলার পর নজরুলকে না পেয়ে তারা শামিমকে হত্যার চেষ্টা চালায়। পরে শামিমের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত পার্শ্ববর্তী ঘের মালিক আব্দুর রহমান ও আসমত খাঁ জানান, শামিমের চিৎকারে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখেন, মোফাজ্জেল সরদার ও তার সহযোগীরা দা ও ছুরি হাতে এলাকা ত্যাগ করছে এবং নজরুল ইসলামকে যেখানে পাবে হত্যা করা হবে বলে হুমকি দিচ্ছে।

এ ঘটনায় নজরুল ইসলাম মোড়ল ও তার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানান। তিনি প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ এবং দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

 

 

Ads small one

সাতক্ষীরায় বিজিবির অভিযানে প্রায় ১০ লাখ টাকার ভারতীয় মালামাল আটক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২২ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:১৩ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় বিজিবির অভিযানে প্রায় ১০ লাখ টাকার ভারতীয় মালামাল আটক

পত্রদূত রিপোর্ট: বুধবার (২২ এপ্রিল ২০২৬) সাতক্ষীরা ৩৩ বিজিবি ব্যাটালিয়ন এর অধীনস্থ কাকডাঙ্গা, মাদরা, তলুইগাছা ও হিজলদী বিওপি এর টহলদল দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় চোরাচালান বিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে গাঁজা, ঔষধ, শাড়ি ও মোবাইল ফোনের যন্ত্রাংশ আটক করেছে।

সাতক্ষীরা ৩৩ বিজিবি ব্যাটালিয়ন জানায়, কাকডাঙ্গা বিওপির পৃথক দুইটি আভিযানে সাতক্ষীরা সদর থানার গেরাখালি ও কেরাগাছি হতে ৭ লাখ ৫২ হাজার টাকার ভারতীয় ঔষধ ও শাড়ি আটক করে।

মাদরা বিওপির আভিযানে কলারোয়া থানার উত্তর ভাদিয়ালী হতে ৩২ হাজার টাকার ভারতীয় মোবাইল ফোনের যন্ত্রাংশ আটক করে। তলুইগাছা বিওপির পৃথক দুইটি আভিযানে সাতক্ষীরা সদর থানার ভবানীপুর ও মজুমদারের খাল হতে ০১ কেজি ৭০০ গ্রাম গাঁজাসহ ৬৫ হাজার ৪৫০ টাকার ভারতীয় শাড়ি আটক করে।

এছাড়াও, হিজলদী বিওপির আভিযানে সাতক্ষীরা সদর থানার গোবরাপোতা হতে ৭০ হাজার টাকার ভারতীয় ঔষধ আটক করে ।
আটক পন্যের সর্বমোট মূল্য ৯ লাখ ১৯ হাজার ৪৫০ টাকা।

বিজিবি আরো জানায়, চোরাকারবারী কর্তৃক বর্ণিত মালামাল শুল্ককর ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে ভারত হতে বাংলাদেশে পাচার করায় জব্দ করা হয়। এভাবে ভারতীয় দ্রব্য সামগ্রী চোরাচালানের কারণে দেশীয় শিল্প ক্ষতিগ্রস্থ হবার পাশাপাশি দেশ উল্লেখযোগ্য রাজস্ব আয় হতে বঞ্চিত হচ্ছে।

 

দেশের রাজস্ব ফাঁকি রোধ করে স্থানীয় শিল্প বিকাশে বিজিবি’র এরূপ দেশপ্রেমিক ও জনস্বার্থে পরিচালিত অভিযানে উপস্থিত স্থানীয় জনগন সাধুবাদ জ্ঞাপন করে এ ধরণের অভিযান অব্যাহত রাখার জন্য অনুরোধ করেন।

 

 

শার্শায় চাঁদাবাজি ও মারপিটের অভিযোগে থানায় মামলা: আটক ১

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২২ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:০২ অপরাহ্ণ
শার্শায় চাঁদাবাজি ও মারপিটের অভিযোগে থানায় মামলা: আটক ১

বাগআঁচড়া (শার্শা) সংবাদদাতা: যশোরের শার্শায় চাঁদাবাজি ও মারপিটের ঘটনায় এজাহারভুক্ত ২নং আসামী মুকুল হোসেন নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) রাত সাড়ে ১১ টার দিকে উপজেলার রুদ্রপুর গ্রামে অভিযান চালিয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মো. শরিফুল ইসলাম মুকুলকে আটক করেন। আটক মুকুল হোসেন রুদ্রপুর গ্রামের আব্দুল ওহাব হোসেনের ছেলে।

এজাহার সূত্রে জানা যায়, বাদী শরিফুল ইসলাম ও বিবাদী আতিকুর রহমান, মুকুল হোসেন ও আব্দুল রশিদ ৫/৬ বছর পূর্বে মাছের ব্যবসা করত। ব্যবসায়িক বিভিন্ন লেনদেন সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আসামীদের সাথে শরিফুল ইসলাম বনিবনা না হওয়ার তাদের সাথে ব্যবসা বন্ধ করে দেয়। এরপর থেকে আসামীরা তার উপর শত্রুতা পোষণ করে আসছে।

 

গত ইংরেজি ১৯/০৪/২০২৬ তারিখ সকাল আনুমানিক ৭ টার সময় বাদী শরিফুল ভ্যানযোগে রাজমিস্ত্রীর কাজের উদ্দেশ্যে বাগআঁচড়ায় যাচ্ছিল। পথিমধ্যে থেকে শরিফুলকে ১ ও ২নং আসামী তাদের কাছে থাকা মোটরসাইকেল যোগে জোরপূর্বক রুদ্রপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে তুলে আনে। সেখানে ৩নং আসামী আব্দুর রশিদ আগে থেকেই উপস্থিত ছিলো।

সেখানে ৩ নং আসামী আব্দুর রশিদের হুকুমে ১ ও ২ নং আসামীদ্বয় বিদ্যালয়ের মাঠে থাকা বৈদ্যুতিক খুঁটির সাথে বাদী শরিফুল ইসলামের হাত পা বেধে বিবাদী ৩ জনের যোগসাজশে দুই লক্ষ টাকা চাঁদার দাবী করে। চাঁদার টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে লোহার রড ও হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে বাদী শরিফুলকে বেধড়ক মারপিট করে জখম করে।

 

এসময় শরিফুল ইসলামের ডাক-চিৎকারে এলাকাবাসী এগিয়ে আসলে বিবাদীরা দ্রুত স্থান ত্যাগ করে। পরে শরিফুলকে উদ্ধার করে তার স্বজনরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভর্তি করে। সেখানে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে শরিফুলকে যশোর সদর হাসপাতালে ভর্তি করে স্বজনরা। এঘটনায় শরিফুল ইসলাম বাদী হয়ে শার্শা থানায় ৩ জনের নাম উল্লেখ করে এজাহার দায়ের করে।

শার্শা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মারুফ হোসেন জানান, চাঁদাবাজি ও মারপিটের ঘটনায় এজাহার ভুক্ত ২নং আসামী মুকুলকে আটক করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। বাকী আসামীদেরকে আটকের চেষ্টা চলছে।

শিকলে বন্দী মিতু- মানবিক সহায়তা পেলে ফিরতে পারে স্বাভাবিক জীবনে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২২ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:৫৬ অপরাহ্ণ
শিকলে বন্দী মিতু- মানবিক সহায়তা পেলে ফিরতে পারে স্বাভাবিক জীবনে

{"data":{"source_platform":"mobile_2","pictureId":"b9cfa949cee04c3998ddbdd6dbeff509","appversion":"8.5.0","stickerId":"","filterId":"7580249178828180737","infoStickerId":"","imageEffectId":"","playId":"","activityName":"","os":"android","product":"retouch","originAppId":"7356","exportType":"","editType":"","alias":"","enterFrom":"enter_launch","capability_key":["filter"],"capability_extra_v2":{"filter":[{"effect_id":"7580249178828180737","resource_id":"7580249178828180737","origin":"heycan"}]},"effect_type":"tool","effect_id":"filter#7580249178828180737"},"source_type":"hypic","tiktok_developers_3p_anchor_params":"{"client_key":"awgvo7gzpeas2ho6","template_id":"","filter_id":["7580249178828180737"],"capability_key":["filter"],"capability_extra_v2":{"filter":[{"effect_id":"7580249178828180737","resource_id":"7580249178828180737","origin":"heycan"}]}}"}

মিলন বিশ্বাস: সাতক্ষীরার তালা উপজেলার খলিলনগর ইউনিয়নের প্রসাদপুর গ্রামের মোড়লপাড়ায় মানবিকতার এক হৃদয়বিদারক ঘটনা সামনে এসেছে। মিতু (২৪) নামের এক তরুণী গত প্রায় ১৫ বছর ধরে পায়ে শিকল ও বেড়ি দিয়ে বাঁধা অবস্থায় জীবনযাপন করছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শৈশব থেকেই মিতু মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। পরিবারের দাবি, প্রায়ই বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় তাকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে বাধ্য হয়ে পায়ে শিকল পরানো হয়। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই ব্যবস্থা তার জীবনের নির্মম বাস্তবতায় পরিণত হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, মিতুর পায়ে বাঁধা শিকল ও বেড়ির ওজন প্রায় ১০ কেজি, যা তার চলাফেরাকে অত্যন্ত কষ্টকর করে তুলেছে। দীর্ঘদিন এভাবে শিকলবন্দী থাকায় তার স্বাভাবিক জীবনযাপন প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
মিতুর মা হাসিনা বেগম বলেন, “মেয়েটি প্রায়ই এদিক-সেদিক চলে যায়-এই ভয়ে তাকে শিকলে বেঁধে রাখতে হয়েছে। অভাবের কারণে তার চিকিৎসা করাতে পারিনি। তবে ভালো চিকিৎসা পেলে সে সুস্থ হতে পারে।”

পারিবারিক তথ্য অনুযায়ী, প্রায় আট বছর আগে মিতুর বাবা আবুল মোড়ল মারা যান। বর্তমানে মা-ই তাকে দেখাশোনা করছেন। পরিবারে দুই বোন ও এক ভাই রয়েছে। বড় বোন বিবাহিত, আর ছোট ভাই ঢাকায় একটি বেকারিতে কর্মরত। মাসে মাত্র ৮ হাজার টাকা আয় দিয়ে পুরো পরিবারের খরচ চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
এ বিষয়ে তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. খালিদ হাসান নয়ন বলেন, “সঠিক চিকিৎসা নিশ্চিত করা গেলে মিতুর সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।”

তালা উপজেলা সমাজসেবা অফিসার আরিফুজ্জামান জানান, বিষয়টি জানার পর ইতোমধ্যে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। দ্রুত মিতুকে হাসপাতালে এনে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সহায়তার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

ঘটনাটি এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। কেউ এটিকে নিরাপত্তার প্রয়োজনে নেওয়া পদক্ষেপ হিসেবে দেখলেও, অনেকেই একে অমানবিক বলে মন্তব্য করেছেন।

সচেতন মহলের দাবি, দ্রুত চিকিৎসা, সামাজিক সহায়তা ও প্রশাসনিক উদ্যোগের মাধ্যমে মিতুকে এই শিকলবন্দী জীবন থেকে মুক্ত করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনা জরুরি।