বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩
বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩

ইনানীর আগুন ও আমাদের দায়হীনতার সংস্কৃতি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৩০ অপরাহ্ণ
ইনানীর আগুন ও আমাদের দায়হীনতার সংস্কৃতি

মো. মামুন হাসান

সমুদ্রের কাছে মানুষ যায় নিজেকে একটু ভুলে থাকতে। ঢেউয়ের শব্দে ক্লান্তি ধুয়ে ফেলতে, নোনা বাতাসে জীবনের ব্যস্ততা কিছুক্ষণের জন্য দূরে সরিয়ে রাখতে। কিন্তু সেই সমুদ্রের তীরেই যদি একটি রাতের ঘুম পরিণত হয় জীবনের শেষ রাতে, তাহলে প্রশ্নটি শুধু একটি অগ্নিকান্ডের থাকে না; প্রশ্ন ওঠে আমাদের পর্যটনচিন্তা, আতিথেয়তার দর্শন এবং মানুষের জীবনের প্রতি আমাদের দায়বদ্ধতা নিয়ে।

কক্সবাজারের ইনানীতে অগ্নিকান্ডে দশজন মানুষের প্রাণহানি তাই নিছক একটি দুর্ঘটনা নয়। এটি বাংলাদেশের পর্যটন ব্যবস্থাপনার সামনে রাখা একটি কঠিন আয়না। সেই আয়নায় আমরা দেখতে পাচ্ছি, পর্যটককে স্বাগত জানানোর জন্য আমাদের যতটা প্রস্তুতি, তাঁকে নিরাপদে ফিরিয়ে দেওয়ার প্রস্তুতি তার তুলনায় কতটা দুর্বল।

পর্যটনশিক্ষার একজন শিক্ষক হিসেবে আমি বরাবরই মনে করি, একটি গন্তব্যের সৌন্দর্য তার পাহাড়, সমুদ্র, বন, নদী কিংবা স্থাপত্যে যতটা, তার চেয়ে বেশি নিহিত থাকে মানুষের অভিজ্ঞতায়। একজন পর্যটক একটি গন্তব্যে যান আনন্দের প্রত্যাশা নিয়ে। তিনি সেখানে অর্থ ব্যয় করেন, স্থানীয় অর্থনীতিকে সচল করেন, মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি করেন। বিনিময়ে তাঁর প্রত্যাশা খুব বেশি নয়। তিনি চান সম্মান, স্বস্তি এবং নিরাপত্তা। পর্যটন শিল্পের ভাষায় এটিই গন্তব্যের মৌলিক প্রতিশ্রুতি।

ইনানীর ঘটনায় সেই প্রতিশ্রুতিই প্রশ্নের মুখে পড়েছে। প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী, গত ১৭ অক্টোবর কক্সবাজারের উখিয়ার পাটুয়ারটেক এলাকায় তুপতুপ রেস্টো অ্যান্ড রিসোর্টে আগুন লাগে। ভবনটির নির্মাণে কাঠ ও বাঁশের মতো দাহ্য উপকরণ ব্যবহারের কথা এসেছে। ফায়ার সেফটি সনদ না থাকা এবং ভবনটি আগেই ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হওয়ার বিষয়টিও সামনে এসেছে। আগুনের প্রকৃত কারণ তদন্তেই নিশ্চিত হবে। কিন্তু পর্যটন ব্যবস্থাপনার একজন শিক্ষক হিসেবে আমার কাছে আগুন কোথা থেকে শুরু হয়েছে, তার চেয়েও বড় প্রশ্ন হলো, ঝুঁকি আগে থেকেই জানা থাকলে সেখানে পর্যটকদের থাকার সুযোগ কীভাবে অব্যাহত থাকে? এখানেই দুর্ঘটনা আর অব্যবস্থাপনার পার্থক্যটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

মনোবিজ্ঞানী জেমস রিজনের ‘সুইস চিজ মডেল’ আমাদের শেখায়, বড় দুর্ঘটনা সাধারণত একটি ভুলের কারণে ঘটে না। নিরাপত্তাব্যবস্থার একাধিক স্তরে ছোট ছোট দুর্বলতা জমতে জমতেই একসময় সেগুলো একই সরলরেখায় এসে দাঁড়ায়। তখন একটি সামান্য ত্রুটিও বড় বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। ইনানীর ঘটনাকে এই দৃষ্টিতে দেখলে দেখা যায়, একটি সম্ভাব্য আগুনের উৎসের পাশাপাশি নির্মাণব্যবস্থা, জরুরি বহির্গমন, অগ্নিনিরাপত্তা, তদারকি এবং দ্রুত উদ্ধারব্যবস্থার মতো বহু প্রশ্ন একসঙ্গে সামনে আসে। অর্থাৎ আগুন হয়তো কয়েক মিনিটে ছড়িয়েছে, কিন্তু বিপর্যয়ের ভিত্তি তৈরি হয়েছে অনেক আগে।

সমাজবিজ্ঞানী ডায়ান ভনের ‘নরমালাইজেশন অব ডিভিয়েন্স’ তত্ত্বও এখানে প্রাসঙ্গিক। কোনো নিয়ম একবার ভাঙার পর যদি বড় বিপদ না ঘটে, তখন মানুষ ধীরে ধীরে সেই নিয়মভঙ্গকেই স্বাভাবিক বলে মেনে নিতে শুরু করে। একসময় জরুরি বহির্গমনপথ না থাকাও অস্বাভাবিক মনে হয় না, অগ্নিনিরাপত্তার ঘাটতিও তেমন উদ্বেগ তৈরি করে না, ঝুঁকিপূর্ণ ভবনেও ব্যবসা চলতে থাকে। বিপর্যয় না ঘটার প্রতিটি দিন তখন নিরাপত্তার প্রমাণ বলে মনে হয়। অথচ সেটি নিরাপত্তা নয়, সৌভাগ্য। পর্যটনশিল্প সৌভাগ্যের ওপর চলতে পারে না।

একজন পর্যটক যখন কোনো হোটেল বা রিসোর্টে রাত কাটান, তখন তিনি ধরে নেন প্রতিষ্ঠানটি নিরাপদ। তিনি সাধারণত ভবনের নকশা পরীক্ষা করেন না, ফায়ার সেফটি সনদ দেখতে চান না, জরুরি বহির্গমনপথের প্রকৌশলগত মান যাচাই করেন না। এসব নিশ্চিত করার দায় রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠান এবং সেবা প্রদানকারীর। পর্যটক তাঁর অর্থ দিয়ে একটি কক্ষ ভাড়া নেন, নিজের জীবন বন্ধক রাখেন না। এই সত্যটি আমরা যত দ্রুত বুঝব, আমাদের পর্যটন তত বেশি মানবিক হবে।

পর্যটনের অর্থনীতি নিয়ে আমরা অনেক কথা বলি। কর্মসংস্থান, বিনিয়োগ, বৈদেশিক মুদ্রা, স্থানীয় ব্যবসা, পরিবহন, খাদ্যসেবা সবকিছুই পর্যটনের সঙ্গে যুক্ত। কিন্তু পর্যটনের সবচেয়ে অদৃশ্য এবং সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ হলো আস্থা। একজন পর্যটক যদি কোনো গন্তব্য সম্পর্কে মনে করেন সেখানে তিনি নিরাপদ, তাহলে সেই আস্থা অন্য পর্যটককেও সেখানে নিয়ে যায়। আবার একটি বড় দুর্ঘটনা শুধু একটি পরিবারকে শোকাহত করে না; তা একটি গন্তব্যের ভাবমূর্তিতেও দীর্ঘ ছায়া ফেলে।

পর্যটন গবেষণায় ‘ডেস্টিনেশন ইমেজ’ বা গন্তব্যের ভাবমূর্তি একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারণা। মানুষ কোনো জায়গায় যাওয়ার আগে শুধু ছবি দেখে না, সেই জায়গার নিরাপত্তা, পরিচ্ছন্নতা, সেবার মান এবং পূর্ববর্তী পর্যটকদের অভিজ্ঞতাও বিবেচনা করে। ফলে ইনানীর আগুনের খবর শুধু কক্সবাজারের একটি রিসোর্টের খবর হয়ে থাকে না; এটি বাংলাদেশের পর্যটন গন্তব্যের নিরাপত্তা নিয়ে সম্ভাব্য পর্যটকের মনে একটি প্রশ্ন তৈরি করে। আর পর্যটনে একটি প্রশ্ন অনেক সময় একটি সিদ্ধান্ত বদলে দিতে পারে।

আমরা যদি সত্যিই বাংলাদেশকে একটি প্রতিযোগিতামূলক পর্যটন গন্তব্য হিসেবে গঙে তুলতে চাই, তাহলে সৌন্দর্যের পাশাপাশি নিরাপত্তাকেও ব্র্যান্ডিংয়ের অংশ করতে হবে। একটি পর্যটনকেন্দ্রের প্রবেশপথে শুধু ‘স্বাগতম’ লেখা থাকলেই হবে না; সেখানে পর্যটককে বোঝাতে হবে, তাঁর নিরাপত্তার জন্য কী ব্যবস্থা রয়েছে। হোটেল বা রিসোর্টের বুকিংয়ের সঙ্গে খাবারের তালিকা, কক্ষের ছবি ও মূল্যতালিকার মতোই নিরাপত্তা-সংক্রান্ত তথ্যও দৃশ্যমান হওয়া উচিত।

প্রযুক্তি এখানে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। একটি আবাসন প্রতিষ্ঠানের ফায়ার সেফটি অবস্থা, লাইসেন্স, জরুরি বহির্গমনপথ এবং সর্বশেষ নিরাপত্তা পরিদর্শনের তথ্য কিউআর কোডের মাধ্যমে পর্যটকের সামনে তুলে ধরা যেতে পারে। কোনো প্রতিষ্ঠান ঝুঁকিপূর্ণ হলে অনলাইন বুকিং প্ল্যাটফর্মে তার সতর্কতাও দৃশ্যমান করা যেতে পারে। এতে নিয়ন্ত্রণের একটি অংশ পর্যটকের হাতেও চলে আসবে।

তবে বাজারের শক্তির ওপর সব দায় ছেড়ে দিলে চলবে না। রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রক ভূমিকা আরও শক্তিশালী করতে হবে। পর্যটনকেন্দ্রিক এলাকায় বিভিন্ন সংস্থার বিচ্ছিন্ন তদারকির পরিবর্তে সমন্বিত নিরাপত্তাব্যবস্থা দরকার। ফায়ার সার্ভিস, স্থানীয় প্রশাসন, পরিবেশ কর্তৃপক্ষ, উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ও পর্যটনসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান সবার কাজের মধ্যে সমন্বয় থাকতে হবে। কারণ দুর্ঘটনার পর ‘এটি আমার দায়িত্ব ছিল না’ ধরনের বক্তব্য একটি প্রাণও ফিরিয়ে আনতে পারে না।

দূরবর্তী পর্যটন এলাকায় আরও একটি বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে ভাবতে হবে। যেখানে একটি পূর্ণাঙ্গ ফায়ার স্টেশন থেকে দ্রুত পৌঁছানো কঠিন, সেখানে স্থানীয় পর্যায়ে ছোট জরুরি উদ্ধারকেন্দ্র, পর্যাপ্ত পানি, অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম এবং প্রশিক্ষিত কর্মী থাকা দরকার। পর্যটনের ভাষায় এটিই হবে ‘কমিউনিটি বেসড ট্যুরিজম সেফটি’। স্থানীয় মানুষকে শুধু পর্যটন অর্থনীতির অংশীদার করলে হবে না, তাঁদের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার অংশীদারও করতে হবে।

এখানে পর্যটন শিক্ষারও একটি নতুন দায়িত্ব তৈরি হয়েছে। আমাদের শিক্ষার্থীরা যেন শুধু হোটেলের ফ্রন্ট অফিসে অতিথিকে স্বাগত জানাতে শেখে, তা যথেষ্ট নয়। তাঁদের জানতে হবে কীভাবে জরুরি অবস্থায় একজন অতিথিকে বের করে আনতে হয়, কীভাবে আতঙ্ক নিয়ন্ত্রণ করতে হয়, কীভাবে আগুনের প্রাথমিক প্রতিরোধ করতে হয় এবং কীভাবে একটি নিরাপদ আতিথেয়তা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করতে হয়। কারণ আধুনিক আতিথেয়তা শুধু হাসিমুখে সেবা দেওয়ার নাম নয়; এটি ঝুঁকি ব্যবস্থাপনারও একটি পেশা।

দার্শনিক হান্স জোনাসের ‘দায়িত্বের নীতি’ আমাদের মনে করিয়ে দেয়, মানুষের জীবন ও ভবিষ্যতের প্রতি দায়বদ্ধতা কোনো ঐচ্ছিক নৈতিকতা নয়। পর্যটন ব্যবসার ক্ষেত্রেও এই দর্শন প্রযোজ্য। একটি রিসোর্টের মালিকের কাছে কাঠের নকশা হয়তো ব্যবসার সৌন্দর্য, কিন্তু একজন অতিথির কাছে সেটি নিরাপত্তার প্রশ্ন। একজন উদ্যোক্তার কাছে একটি সিঁড়ি নির্মাণের খরচ হয়তো ব্যয়, কিন্তু আগুনের মুহূর্তে সেটিই হতে পারে একজন মানুষের জীবনের সঙ্গে মৃত্যুর পার্থক্য। এই উপলব্ধিটিই আমাদের পর্যটন দর্শনের কেন্দ্রে আনতে হবে।

রবীন্দ্রনাথের মানবতাবাদ আমাদের মানুষকে কোনো হিসাবের অঙ্কে পরিণত না করে মানুষ হিসেবেই দেখতে শেখায়। পর্যটকও তাই। তিনি কোনো ‘কাস্টমার নম্বর’ নন, কোনো ‘বুকিং আইডি’ নন। তিনি একজন মানুষ, যাঁর সঙ্গে তাঁর পরিবারের ভালোবাসা, প্রত্যাশা ও ভবিষ্যৎ জড়িয়ে আছে। তাঁকে নিরাপদ রাখা তাই ব্যবসায়িক কর্তব্যের পাশাপাশি মানবিক কর্তব্যও।

ইনানীর আগুনে হারিয়ে যাওয়া মানুষগুলো আর ফিরবেন না। তাঁদের পরিবারের শূন্যতা কোনো তদন্ত প্রতিবেদন পূরণ করতে পারবে না। কিন্তু তাঁদের মৃত্যু যদি আমাদের পর্যটন ব্যবস্থাপনার দর্শন বদলে দেয়, যদি একটি রিসোর্টের নকশা থেকে একটি পর্যটন এলাকার নিরাপত্তা পরিকল্পনা পর্যন্ত নতুন করে ভাবতে বাধ্য করে, তাহলে সেই শোক ভবিষ্যতের বহু প্রাণ রক্ষার কারণ হতে পারে।

আমাদের মনে রাখতে হবে, পর্যটন মানে মানুষকে কোথাও নিয়ে যাওয়া নয়; পর্যটন মানে মানুষকে একটি অভিজ্ঞতার কাছে নিয়ে যাওয়া। আর সেই অভিজ্ঞতার প্রথম শর্ত আনন্দ, শেষ শর্ত নিরাপদ প্রত্যাবর্তন। আমরা পর্যটককে সমুদ্র দেখাতে পারি, সূর্যাস্ত দেখাতে পারি, পাহাড়ের মেঘ দেখাতে পারি, সুন্দরবনের নীরবতা শোনাতে পারি। কিন্তু তাঁর ঘরে ফেরার নিশ্চয়তা দিতে না পারলে আমাদের সব আতিথেয়তা অসম্পূর্ণ থেকে যায়।

ইনানীর আগুন তাই শুধু একটি রিসোর্ট পোড়ায়নি; এটি আমাদের পর্যটনচিন্তার একটি অন্ধকার দিকও উন্মোচিত করেছে। এখন আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে, আমরা কি আগুন নিভিয়ে আবার আগের মতো ফিরে যাব, নাকি এই আগুনের আলোয় নিজেদের ব্যবস্থার দুর্বলতাগুলো নতুন করে দেখতে শিখব? কারণ একজন পর্যটককে আমন্ত্রণ জানানো সহজ। তাঁকে নিরাপদে ঘরে ফিরিয়ে দেওয়াই আসল আতিথেয়তা।

মো. মামুন হাসান, বিভাগীয় প্রধান, ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ, সাতক্ষীরা সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট।

 

Ads small one

আন্তর্জাতিক তোতলামি সচেতনতা দিবস: দুর্বলতা নয়, সহমর্মিতা চাই

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:৩২ অপরাহ্ণ
আন্তর্জাতিক তোতলামি সচেতনতা দিবস: দুর্বলতা নয়, সহমর্মিতা চাই

সাকিবুর রহমান বাবলা

২২ অক্টোবর বিশ্বজুড়ে পালিত হয় আন্তর্জাতিক তোতলামি সচেতনতা দিবস। তোতলামি নিয়ে প্রচলিত ভুল ধারণা দূর করা, আক্রান্ত ব্যক্তিদের অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করা এবং তাদের সঙ্গে সহমর্মিতাপূর্ণ আচরণ গড়ে তোলাই এ দিবসের মূল উদ্দেশ্য। ১৯৯৮ সালে ইন্টারন্যাশনাল স্টাটারিং অ্যাসোসিয়েশন, ইন্টারন্যাশনাল ফ্লুয়েন্সি অ্যাসোসিয়েশন এবং ইউরোপিয়ান লীগ অব স্টাটারিং অ্যাসোসিয়েশনসের যৌথ উদ্যোগে দিবসটি প্রথম পালিত হয়। এর আগে ১৯৯৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার ওকল্যান্ডের মাইকেল সুগারম্যান একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে দিবসটি পালনের প্রস্তাব দেন।

২০২৬ সালের প্রতিপাদ্য ‘তোতলামির নানা রূপ—আপনারটি কেমন?’ এই প্রতিপাদ্য মনে করিয়ে দেয়, সবার তোতলামির অভিজ্ঞতা এক রকম নয়। এর প্রকাশভঙ্গি ও চ্যালেঞ্জও ভিন্ন হতে পারে। তাই তাদের অভিজ্ঞতা বোঝা, এই বৈচিত্র্যকে সম্মান করা এবং সচেতনতা বাড়ানো জরুরি। বিশ্বে প্রায় এক শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক এবং প্রায় পাঁচ শতাংশ শিশু কোনো না কোনো সময় তোতলামির সমস্যায় ভোগে। সাধারণত তিন থেকে পাঁচ বছর বয়সে এর লক্ষণ দেখা দেয়। ছেলেদের মধ্যে এটি মেয়েদের তুলনায় প্রায় দুই থেকে তিন গুণ বেশি দেখা যায়।

তোতলামি হলো কথা বলার গতি ও স্বাভাবিক প্রবাহের একটি সমস্যা। কথা বলার সময় একই বর্ণ বা শব্দ বারবার বলা, কোনো ধ্বনি টেনে উচ্চারণ করা কিংবা হঠাৎ আটকে যাওয়া এর সাধারণ লক্ষণ। একজন ব্যক্তি মনে মনে কী বলতে চান, তা পরিষ্কারভাবে জানলেও মুখে স্বাভাবিক ছন্দে প্রকাশ করতে অসুবিধা হতে পারে। এটি বুদ্ধির ঘাটতি, অলসতা বা মানসিক দুর্বলতার লক্ষণ নয়। কথা বলার সময় মস্তিষ্কের প্রক্রিয়া ও স্নায়বিক সমন্বয়ের পার্থক্য এবং বংশগত বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে তোতলামির সম্পর্ক থাকতে পারে। বিভিন্ন গবেষণায় বলা হয়েছে, আক্রান্ত ব্যক্তিদের প্রায় ৬০ শতাংশের পরিবারে তোতলামির ইতিহাস রয়েছে।

শিশুর ভাষা শেখার দ্রুত বিকাশের সময় তোতলামি শুরু হতে পারে। অনেক শিশুর ক্ষেত্রে বয়স বাড়ার সঙ্গে এটি কমে যায়। আনুমানিক ৭৫ থেকে ৮০ শতাংশ শিশু বিকাশজনিত তোতলামি থেকে সেরে ওঠে। তবে সবার ক্ষেত্রে এমনটি হয় না। ভয়, উদ্বেগ বা মানসিক চাপ তোতলামির মূল কারণ নয়। কিন্তু এসব কারণে সমস্যা বেড়ে যেতে পারে। তাই লক্ষণ দীর্ঘদিন থাকলে, অথবা শিশুর কথা বলা, পড়াশোনা ও সামাজিক যোগাযোগে সমস্যা হলে দ্রুত স্পিচ অ্যান্ড ল্যাঙ্গুয়েজ প্যাথলজিস্টের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

তোতলামি মোকাবিলায় স্পিচ-ল্যাঙ্গুয়েজ থেরাপি গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষজ্ঞরা ব্যক্তির প্রয়োজন অনুযায়ী কথা বলার কৌশল শেখান। তারা বাচনপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণ এবং যোগাযোগে স্বাচ্ছন্দ্য বাড়ানোর অনুশীলনও করান। তোতলামির কারণে ভয়, লজ্জা বা উদ্বেগ তৈরি হলে কগনিটিভ বিহেভিওরাল থেরাপি সহায়ক হতে পারে। তোতলামি পুরোপুরি দূর করার জন্য সর্বজনস্বীকৃত কোনো নির্দিষ্ট ওষুধ নেই। তবে অন্য কোনো মানসিক সমস্যা থাকলে চিকিৎসক প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা দিতে পারেন। ধীরে ও স্বচ্ছন্দে কথা বলার অনুশীলন, শ্বাস-প্রশ্বাসের কৌশল, বই পড়া এবং নিজের কথা রেকর্ড করে শোনা কিছুটা সহায়ক হতে পারে। তবে এসব অনুশীলনের ফল সবার ক্ষেত্রে এক নয় এবং এগুলো পেশাদার থেরাপির বিকল্প নয়।

তোতলামি মানুষের সম্ভাবনা বা সাফল্যের পথে অনিবার্য বাধা নয়। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন শৈশবে তোতলামির অভিজ্ঞতার কথা বলেছেন। অভিনেতা জেমস আর্ল জোন্স, এমিলি ব্লান্ট ও রোয়ান অ্যাটকিনসন এবং সংগীতশিল্পী এড শিরানও জীবনের বিভিন্ন সময়ে বাচনগত সমস্যার কথা জানিয়েছেন। তাদের জীবন দেখায়, কোনো একটি সীমাবদ্ধতা দিয়ে মানুষের প্রতিভা ও অর্জন বিচার করা উচিত নয়। সাফল্যের জন্য তোতলামি পুরোপুরি দূর হওয়া জরুরি নয়। তোতলামি থাকলেও একজন মানুষ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জীবন ও কর্মক্ষেত্রে এগিয়ে যেতে পারেন।

এ ক্ষেত্রে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কেউ কথা বলতে গিয়ে আটকে গেলে ধৈর্য ধরে তার কথা শুনতে হবে। মাঝপথে বাধা দেওয়া বা তার হয়ে বাক্য শেষ করে দেওয়া যাবে না। তার কথা বলার ধরন নকল করে হাসাহাসি, ব্যঙ্গ বা কটূক্তি করা বন্ধ করতে হবে। অপমানজনক নামে ডাকাও উচিত নয়। ‘আস্তে বলো’, ‘গভীর শ্বাস নাও’ বা ‘আগে ভেবে নাও’-এ ধরনের অযাচিত উপদেশ অনেক সময় তার মানসিক চাপ বাড়িয়ে দিতে পারে। বরং স্বাভাবিক চোখের যোগাযোগ রেখে তাকে কথা শেষ করার যথেষ্ট সময় দিতে হবে। শ্রেণিকক্ষ, সভা, কর্মক্ষেত্র ও সামাজিক অনুষ্ঠানে তাদের মতামত প্রকাশের সমান সুযোগ নিশ্চিত করা জরুরি।

তোতলামি কারও নিজের তৈরি সমস্যা নয়। এর পেছনে জৈবিক, স্নায়বিক ও বংশগত কারণ থাকতে পারে। তাই আক্রান্ত ব্যক্তিকে দোষ দেওয়া বা তার মেধা ও যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা অন্যায়। শুরুতেই বিশেষজ্ঞের সহায়তা, পরিবারের সহযোগিতা এবং সমাজের গ্রহণযোগ্যতা তাদের জীবনকে সহজ করতে পারে। আন্তর্জাতিক তোতলামি সচেতনতা দিবসের শিক্ষা হোক-কথা বলার ধরন নয়, মানুষের চিন্তা, প্রতিভা ও মানবিক মূল্যবোধ দিয়েই তাকে বিচার করা উচিত। সহমর্মিতা, ধৈর্য ও সম্মানের মাধ্যমে আমরা এমন একটি সমাজ গড়তে পারি, যেখানে সবাই নির্ভয়ে নিজের কথা বলতে এবং নিজের মতো করে বিকশিত হতে পারে।

 

সড়ক দুর্ঘটনা রোধে সমন্বিত প্রয়াস ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা প্রয়োজন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:২১ অপরাহ্ণ
সড়ক দুর্ঘটনা রোধে সমন্বিত প্রয়াস ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা প্রয়োজন

প্রকাশ ঘোষ বিধান

সড়ক দুর্ঘটনা বর্তমানে একটি জাতীয় সংকটে পরিণত হয়েছে। সড়ক দুর্ঘটনায় প্রতিদিন অসংখ্য প্রাণ কেড়ে নিচ্ছে এবং পরিবারগুলোকে পঙ্গু করে দিচ্ছে। এ জন্য কেবল চালকদের দায়ী না করে পুরো সড়ক ব্যবস্থাকে নিরাপদ করার ওপর জোর দিতে হবে। এই সমস্যা থেকে উত্তরণের জন্য চালক, পথচারী, সরকার, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং বিশেষজ্ঞদের যৌথ অংশগ্রহণ প্রয়োজন।

সড়ক দুর্ঘটনা রোধে একটি সমন্বিত প্রয়াস এবং সুদূরপ্রসারী দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি। প্রতিনিয়ত সড়ক দুর্ঘটনায় অসংখ্য প্রাণহানি এবং পঙ্গুত্ব বরণের ঘটনা শুধু ব্যক্তি বা পরিবারের বিপর্যয় নয়, বরং এটি জাতীয় অর্থনীতির জন্যও একটি বড় ধাক্কা। এই সমস্যা থেকে উত্তরণের জন্য কোনো একক পদক্ষেপ যথেষ্ট নয়; বরং সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, পরিবহন মালিক-শ্রমিক এবং সাধারণ জনগণের সম্মিলিত অংশগ্রহণ প্রয়োজন।

সড়ক দুর্ঘটনা রোধে যে সকল সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন। লক্কড়ঝক্কড় ও ফিটনেসবিহীন গাড়ি চলাচল কঠোরভাবে বন্ধ করতে হবে এবং নিয়মিত যানের পরীক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। ট্রাফিক আইন অমান্যকারী, বেপরোয়া চালক এবং আইন লঙ্ঘনকারীদের জন্য দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা। রাস্তায় চলাচলকারী প্রতিটি যানবাহনের নিয়মিত ফিটনেস পরীক্ষা নিশ্চিত করা এবং লাইসেন্সবিহীন বা ত্রুটিপূর্ণ গাড়ি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা। চালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদানের প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ, আধুনিক এবং দুর্নীতিমুক্ত করা। গতিসীমা মানা, সিটবেল্ট ও হেলমেট ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং মদ্যপান বা বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালানো রোধে আইন প্রয়োগ জোরদার করতে হবে।

সড়কে পর্যাপ্ত আলো, স্পষ্ট সাইনবোর্ড, জেব্রাক্রসিং এবং বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে সড়ক ও বাঁক নির্মাণ করতে হবে। নগর পরিকল্পনা ও গণপরিবহন ব্যবস্থার আধুনিকায়ন করতে হবে যাতে অতিরিক্ত ঝুঁকি কমে। মহাসড়কের বিপজ্জনক মোড় বা ব্ল্যাক স্পট চিহ্নিত করে দ্রুত সংস্কার করা এবং লেন বিভাজক (ডিভাইডার) স্থাপন করা। পথচারীদের নিরাপদ পারাপারের জন্য পর্যাপ্ত ফুটওভার ব্রিজ, আন্ডারপাস এবং জেব্রা ক্রসিং তৈরি ও তা ব্যবহারে বাধ্য করা। দূরপাল্লার মহাসড়কগুলোতে ধীরগতির যানবাহন রিকশা, ভ্যান, নসিমন জন্য আলাদা সার্ভিসের লেনের ব্যবস্থা করা।

মহাসড়কে গতি নিয়ন্ত্রণ এবং বেপরোয়া ড্রাইভিং স্বয়ংক্রিয়ভাবে শনাক্ত করতে আইটিএস বা ইন্টেলিজেন্ট ট্রান্সপোর্ট সিস্টেম চালু করা দীর্ঘমেয়াদে অত্যন্ত কার্যকর। গণপরিবহনে জিপিএস ট্র্যাকিং সিস্টেম বাধ্যতামূলক করা উচিত। চালকদের জন্য নিয়মিত পেশাদার প্রশিক্ষণ এবং মানসিক স্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে কাউন্সিলিংয়ের ব্যবস্থা করা। চালকদের নিয়মিত চোখের পরীক্ষা করা জরুরি। দূরপাল্লার চালকদের একটানা অতিরিক্ত সময় গাড়ি চালানো নিষিদ্ধ করা এবং পর্যাপ্ত বিশ্রামের সুযোগ দেওয়া জন্য মহাসড়কে বিশ্রামাগার তৈরি প্রয়োজন।

দুর্ঘটনাস্থল থেকে দ্রুত রোগী স্থানান্তরের জন্য ডেডিকেটেড অ্যাম্বুলেন্স সেবা চালু রাখতে হবে। সরকারি-বেসরকারি সব হাসপাতালে সড়ক দুর্ঘটনার শিকার ব্যক্তিদের প্রাথমিক ও জরুরি চিকিৎসা বিনা প্রশ্নে দেওয়া আইনিভাবে বাধ্যতামূলক করা প্রয়োজন।

বিদ্যালয় পর্যায় থেকেই শিশুদের ট্রাফিক নিয়ম ও সড়ক সচেতনতা বিষয়ে শিক্ষা দেওয়া। টেলিভিশন, সংবাদপত্র ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিয়মিত সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ক সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন পরিচালনা করা। সাধারণ মানুষের মধ্যে ট্রাফিক নিয়ম মেনে চলার মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে। সড়ক দুর্ঘটনা রোধ করতে কেবল একটি নির্দিষ্ট পদক্ষেপ নয়, বরং সরকার, চালক, যাত্রী এবং সাধারণ মানুষের সমন্বিত প্রয়াস প্রয়োজন।

সড়ক নিরাপত্তা কোনো একক সংস্থার দায়িত্ব নয়। পরিবহন মালিক, শ্রমিক, যাত্রী এবং সরকারের সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরের সমন্বয়ে একটি টেকসই ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করলেই কেবল সড়ক দুর্ঘটনা সর্বনিম্ন পর্যায়ে নামিয়ে আনা সম্ভব। জাতিসংঘের দ্বিতীয় দশক কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২১-২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি ৫০ শতাংশ কমিয়ে আনার লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে সম্মিলিত প্রয়াস প্রয়োজন। সড়ক দুর্ঘটনা রোধ করতে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি, কারণ এটি একক কোনো কর্তৃপক্ষ বা নিয়মের মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব নয়।

বিশ্বব্যাপী সড়ক দুর্ঘটনা ও নিহতের সংখ্যা অর্ধেকে নামিয়ে আনার লক্ষ্য অর্জনে একটি সুনির্দিষ্ট, কাঠামোগত এবং দীর্ঘমেয়াদি মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন। সড়ক দুর্ঘটনা রোধে একটি সমন্বিত উদ্যোগ এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি, কারণ কেবল বিচ্ছিন্ন পদক্ষেপের মাধ্যমে সড়কে স্থায়ী শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা অসম্ভব।

সড়ক দুর্ঘটনা রোধে সমন্বিত প্রয়াস ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা একটি নিরাপদ ও আধুনিক পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য অপরিহার্য। সড়ক দুর্ঘটনা কেবল অসংখ্য মূল্যবান প্রাণ কেড়ে নেয় না, বরং এটি একটি দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং সামাজিক স্থিতিশীলতাকেও মারাত্মকভাবে ব্যাহত করে। তাই এই সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য সব অংশীজনদের একত্রে কাজ করা এবং একটি সুনির্দিষ্ট কৌশলগত মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন।

লেখক : সাংবাদিক ও কলামিস্ট

শার্শায় দুই কেজি ৯০ গ্রাম স্বর্ণসহ এক পাচারকারী গ্রেপ্তার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:০৭ অপরাহ্ণ
শার্শায় দুই কেজি ৯০ গ্রাম স্বর্ণসহ এক পাচারকারী গ্রেপ্তার

বাগআঁচড়া (যশোর) প্রতিনিধি: যশোরের শার্শায় দুই কেজি ৯০ গ্রাম ওজনের ১৮ পিস স্বর্ণেরবার ও একটি সুজুকি মোটরসাইকেলসহ আলাউদ্দিন (৫২) নামে এক পাচারকারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বুধবার (২১ অক্টোবর) দুপুর ১টা ৩০ মিনিটের সময় আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেন যশোরের নাভারণ সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার আরিফ হোসেন।

এর আগে একই দিন সকাল সাড়ে দশটার দিকে শার্শা থানাধীন দক্ষিণ বুরুজবাগান গ্রামস্থ প্রাইম ব্রিকস্ নামক ইটভাটা সংলগ্ন নাভারণ-সাতক্ষীরা মহাসড়কের উপর থেকে আলাউদ্দিনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃত আলাউদ্দিন (৫২) উপজেলার হাড়িখালী যদুনাথপুর গ্রামের মৃত গোলাম রসুলের ছেলে।

পুলিশ জানায়, স্বর্ণের চালান পাচার হবে এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শার্শা থানা পুলিশের একটি চৌকস টিম নাভারণ-সাতক্ষীরা মহাসড়কের খাজুরা এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানকালে সন্দেহভাজন ব্যক্তি আলাউদ্দিন গ্রেপ্তার করেন পুলিশ। এসময় অপর দুই অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি সুকৌশলে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে গ্রেপ্তার আসামির হেফাজতে থাকা ১৮ পিস স্বর্ণেরবার ও একটি সুজুকি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়।

নাভারণ সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার আরিফ হোসেন জানান এঘটনায় চোরাচালান বিরোধী আইনে একটি নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে, এবং পালাতক অপর দুই আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

তিনি আরও জানান স্বর্ণের মান, আনুমানিক বাজার মূল্য নির্ধারণ ও যশোর ট্রেজারি শাখায় স্বর্ণেরবার গুলো জমা দেওয়ার বিষয় প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।