শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩
শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩

শিক্ষায় গভীর সংকট, উত্তরণের পথ কোথায়

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬, ৬:২০ অপরাহ্ণ
শিক্ষায় গভীর সংকট, উত্তরণের পথ কোথায়

সচ্চিদানন্দ দে সদয়

একটি দেশের শিক্ষাব্যবস্থার মান প্রতিফলিত হয় শিক্ষার্থীদের জ্ঞান, দক্ষতা ও পরীক্ষার ফলাফলে। পরীক্ষার ফলাফল কেবল পাস-ফেলের হিসাব নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাঠদানের মান, শিক্ষকদের দায়িত্বশীলতা, শিক্ষা প্রশাসনের দক্ষতা এবং রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ নির্মাণের সক্ষমতা। ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল দেশের শিক্ষাব্যবস্থার এমন কিছু দুর্বলতা সামনে এনেছে, যা গভীরভাবে পর্যালোচনা করা জরুরি। ২২ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পাসের হার, প্রায় ছয় লাখ শিক্ষার্থীর অকৃতকার্য হওয়া, ইংরেজি ও তথ্যপ্রযুক্তিতে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর ব্যর্থতা এবং ২৯৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একজন শিক্ষার্থীরও পাস না করা—সব মিলিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, শিক্ষার এই সংকট থেকে উত্তরণের পথ কোথায়?

এবার ১১টি শিক্ষা বোর্ডে গড় পাসের হার ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ। গত বছর এ হার ছিল ৫৮ দশমিক ৮৩ শতাংশ। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে পাসের হার কমেছে ৬ দশমিক ৭১ শতাংশ। মোট পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৫ লাখ ৯৪ হাজার ১১৩ জন অকৃতকার্য হয়েছে। জিপিএ-৫ পাওয়ার সংখ্যাও গত বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। এই ফলাফলকে শুধু শিক্ষার্থীদের দুর্বল প্রস্তুতির পরিণতি হিসেবে দেখলে প্রকৃত সমস্যার গভীরে পৌঁছানো যাবে না। বরং খতিয়ে দেখতে হবে, শিক্ষাব্যবস্থায় কোথায় ঘাটতি তৈরি হয়েছে এবং কেন তা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হচ্ছে না।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক চিত্র ইংরেজি ও তথ্যপ্রযুক্তি বা আইসিটি বিষয়ে। ইংরেজিতে ২ লাখ ৪৩ হাজার ৫২৮ জন এবং আইসিটিতে ১ লাখ ৩৮ হাজার ৪৯৩ জন অকৃতকার্য হয়েছে। দুটি বিষয়ে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর ব্যর্থতা মৌলিক দক্ষতা অর্জনের ক্ষেত্রে বড় ধরনের ঘাটতির ইঙ্গিত দেয়।

ইংরেজি উচ্চশিক্ষা, কর্মসংস্থান, আন্তর্জাতিক যোগাযোগ ও জ্ঞান অর্জনের অন্যতম মাধ্যম। একইভাবে তথ্যপ্রযুক্তি আধুনিক বিশ্বের অপরিহার্য অনুষঙ্গ। অথচ এ দুটি বিষয়ে এত শিক্ষার্থীর ব্যর্থতা প্রশ্ন তুলছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো কি সময়োপযোগী শিক্ষা দিতে পারছে? শ্রেণিকক্ষে প্রয়োজনীয় অনুশীলন হচ্ছে কি না, পর্যাপ্ত শিক্ষক ও ব্যবহারিক উপকরণ রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা দরকার।

আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার অন্যতম দুর্বলতা মুখস্থনির্ভরতা। শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় ভালো নম্বর পাওয়ার জন্য অনেক কিছু মুখস্থ করলেও বাস্তব জীবনে সেই জ্ঞান প্রয়োগের দক্ষতা অর্জন করতে পারে না। ইংরেজি শিক্ষায় কথোপকথন, শ্রবণ ও লেখার চর্চার ঘাটতি রয়েছে। আইসিটি শিক্ষার ক্ষেত্রেও ব্যবহারিক জ্ঞান অর্জনের সুযোগ সীমিত। অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কম্পিউটার ল্যাব থাকলেও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম, ইন্টারনেট ও প্রশিক্ষিত শিক্ষক নেই। ফলে প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্বে প্রবেশ করেও শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ প্রয়োজনীয় দক্ষতা থেকে পিছিয়ে থাকছে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভিত্তিক ফলাফলও পরিস্থিতির গভীরতা তুলে ধরেছে। এবার ২৯৩টি প্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ২০২টি। অন্যদিকে শতভাগ পাস করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা মাত্র ১৩৯টি। একটি প্রতিষ্ঠানের সব শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হওয়ার পেছনে শিক্ষকসংকট, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি, পাঠদানের মান, অবকাঠামো ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনার মতো বিষয় জড়িত থাকতে পারে। তাই শুধু ফলাফল প্রকাশ করেই দায়িত্ব শেষ করা যাবে না; দুর্বল প্রতিষ্ঠানগুলোর সমস্যা চিহ্নিত করে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।

বিভাগভিত্তিক ফলাফলও শিক্ষার বৈষম্য তুলে ধরেছে। বিজ্ঞান বিভাগে পাসের হার ৭৩ দশমিক ১২ শতাংশ, মানবিকে ৪২ দশমিক ১৭ শতাংশ এবং ব্যবসায় শিক্ষায় ৫০ দশমিক ৭৭ শতাংশ। সবচেয়ে বেশি শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছে মানবিক বিভাগ থেকে, অথচ এ বিভাগেই পাসের হার সবচেয়ে কম। এর পেছনে শিক্ষার্থীদের আর্থসামাজিক অবস্থা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সুযোগ-সুবিধা, শিক্ষকসংকট ও পাঠদানের মান কতটা দায়ী, তা অনুসন্ধান করা প্রয়োজন।

এবারের ফলাফলে ছাত্রীদের এগিয়ে থাকার বিষয়টিও লক্ষণীয়। প্রায় সব বিভাগেই পাসের হারে ছাত্রীরা ছাত্রদের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে। মানবিক বিভাগে ছাত্রদের পাসের হার ৩৫ দশমিক ০১ শতাংশ, বিপরীতে ছাত্রীদের ৪৭ দশমিক ৪৯ শতাংশ। বিজ্ঞান ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগেও ছাত্রীদের সাফল্য বেশি। এটি মেয়েদের শিক্ষায় অগ্রগতির ইতিবাচক দিক। তবে ছাত্রদের পিছিয়ে পড়ার কারণও অনুসন্ধান করা জরুরি।

বোর্ডভিত্তিক ফলাফল দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শিক্ষার সুযোগ ও মানের ব্যবধান সামনে এনেছে। ঢাকা বোর্ডে পাসের হার ৬১ দশমিক ৮৩ শতাংশ। অন্যদিকে বরিশাল বোর্ডে ৪৪ দশমিক ৮৪ শতাংশ এবং যশোর বোর্ডে ৪৪ দশমিক ৯২ শতাংশ। একই দেশের শিক্ষার্থীদের মধ্যে এমন ব্যবধান কেন তৈরি হচ্ছে, তা গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে। শহর ও গ্রামের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সুযোগ-সুবিধা, শিক্ষকপ্রাপ্যতা এবং পাঠদানের মানের পার্থক্য এ ক্ষেত্রে কতটা ভূমিকা রাখছে, তা বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন।

বিশেষ করে সাতক্ষীরা, খুলনা ও বাগেরহাটের মতো উপকূলীয় অঞ্চলের শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে আলাদা করে ভাবা দরকার। এসব এলাকার অনেক শিক্ষার্থীকে দারিদ্র্য, জলবায়ুজনিত দুর্যোগ, নদীভাঙন, লবণাক্ততা, যাতায়াতের সমস্যা ও পারিবারিক আর্থিক সংকটের মধ্যে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে হয়। পরিবারের উপার্জনে সহযোগিতা করতে গিয়ে অনেকের পড়াশোনা ব্যাহত হয়। মেয়েদের ক্ষেত্রে বাল্যবিবাহের ঝুঁকিও রয়েছে। ফলে এসব অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের ফলাফল মূল্যায়ন ও উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়নে স্থানীয় বাস্তবতা বিবেচনায় নেওয়া জরুরি।

তবে শিক্ষার মানের অবনতির দায় শুধু শিক্ষার্থী কিংবা অভিভাবকের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই। শিক্ষক নিয়োগে স্বচ্ছতা, নিয়মিত প্রশিক্ষণ, শ্রেণিকক্ষে উপযুক্ত পরিবেশ, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো এবং শিক্ষা প্রশাসনের জবাবদিহি নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। একজন শিক্ষার্থী কেন ব্যর্থ হচ্ছে, তার কারণ যেমন খুঁজতে হবে, তেমনি একটি প্রতিষ্ঠান কেন শিক্ষার্থীদের সফল করতে পারছে না, সেটিও খতিয়ে দেখতে হবে।

এ ক্ষেত্রে শিক্ষকদের দায়িত্বও গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষকতা শুধু পাঠ্যবই শেষ করার কাজ নয়; শিক্ষার্থীর বোঝার ক্ষমতা, দুর্বলতা ও প্রয়োজন অনুযায়ী পাঠদান নিশ্চিত করাও শিক্ষকের দায়িত্ব। নিয়মিত মূল্যায়ন, বাড়তি সহায়তা এবং অভিভাবকদের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের পিছিয়ে পড়া ঠেকানো সম্ভব। একই সঙ্গে শিক্ষকদের যথাযথ মর্যাদা, প্রশিক্ষণ ও মানসম্মত কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।

ফলাফল প্রকাশের পর উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। ফলাফলে অসংগতি মনে হলে শিক্ষার্থীরা নির্ধারিত নিয়মে আবেদন করতে পারে। কিন্তু পুনর্নিরীক্ষণের মাধ্যমে সামগ্রিক শিক্ষাসংকটের সমাধান হবে না। প্রয়োজন শিক্ষাব্যবস্থার গভীর পর্যালোচনা। কোন বিষয়ে শিক্ষার্থীরা কেন পিছিয়ে পড়ছে, কোন অঞ্চলে ফলাফল খারাপ হওয়ার কারণ কী এবং কোন প্রতিষ্ঠানগুলো ধারাবাহিকভাবে দুর্বল ফল করছে—এসব তথ্য বিশ্লেষণ করে কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও শিক্ষা বোর্ডগুলোর উচিত ইংরেজি ও আইসিটি বিষয়ে বিশেষ কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা। প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পর্যাপ্ত শিক্ষক নিয়োগ, ব্যবহারিক শিক্ষার সুযোগ বৃদ্ধি, নিয়মিত প্রশিক্ষণ এবং দুর্বল শিক্ষার্থীদের জন্য অতিরিক্ত ক্লাসের ব্যবস্থা করতে হবে। পাশাপাশি শূন্য পাস করা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিষয়ে নিরপেক্ষ অনুসন্ধান করে সমস্যার কারণ চিহ্নিত করতে হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানগুলোকে সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।

শিক্ষার উদ্দেশ্য কেবল পরীক্ষায় পাস করানো কিংবা জিপিএ-৫ বাড়ানো নয়। শিক্ষার প্রকৃত লক্ষ্য হলো জ্ঞান, দক্ষতা, যুক্তিবোধ ও মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন মানুষ তৈরি করা। শুধু পাসের হার বাড়লেই শিক্ষার মান উন্নত হয়েছে—এমন দাবি করা যাবে না। আবার বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর ব্যর্থতাকেও স্বাভাবিক বলে মেনে নেওয়া যায় না।

এইচএসসির এবারের ফলাফল আমাদের জন্য একটি সতর্কবার্তা। প্রায় ছয় লাখ শিক্ষার্থীর অকৃতকার্য হওয়ার পেছনে ব্যক্তিগত প্রস্তুতির ঘাটতি যেমন থাকতে পারে, তেমনি রয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সামগ্রিক শিক্ষাব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা। তাই এখন প্রয়োজন দোষারোপ নয়, আত্মসমালোচনা; দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়া নয়, বরং দায়িত্ব গ্রহণ।

আজকের শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের নাগরিক, কর্মজীবী ও রাষ্ট্র পরিচালনার অংশীদার। তাদের যথাযথ শিক্ষা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হলে দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই শিক্ষার সংকটকে কেবল একটি পরীক্ষার ফলাফল হিসেবে দেখার অবকাশ নেই। প্রয়োজন শিক্ষার ভিত্তি মজবুত করা, বৈষম্য কমানো, শিক্ষকদের সক্ষমতা বাড়ানো এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জবাবদিহি প্রতিষ্ঠা করা।

প্রশ্ন এখন শুধু কতজন শিক্ষার্থী পাস করল, তা নয়; বরং আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা কতজন শিক্ষার্থীকে প্রকৃত অর্থে শিক্ষিত ও দক্ষ করে তুলতে পারছে। শিক্ষায় গভীর সংকট কাটিয়ে উত্তরণের পথ খুঁজতে হলে এই প্রশ্নের উত্তর খোঁজার পাশাপাশি কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। কারণ শিক্ষার মানোন্নয়ন কোনো একক প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তির দায়িত্ব নয়; এটি রাষ্ট্র, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষক, অভিভাবক ও সমাজের সম্মিলিত দায়িত্ব।

লেখক: সংবাদকর্মী

Ads small one

টেকনাফে মানবপাচারকারীদের সঙ্গে গুলি বিনিময়ে সেনাসদস্য নিহত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬, ১:০৩ পূর্বাহ্ণ
টেকনাফে মানবপাচারকারীদের সঙ্গে গুলি বিনিময়ে সেনাসদস্য নিহত

কক্সবাজার টেকনাফে মানবকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগের বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রতিবাদে প্রশ্নে বাংলাদেশ পাচারের এক সদস্য যোগদান করেছেন। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বিকালে রঙ্গীখা ঘূর্ণিঝড় পাহাড়ে এ প্রচারণা।

চতুষ্পদসদস্যের নাম মো. তাতাস শেখ (২৭)। তিনি একপর্যায়ে বাম কাঁধে গুলিবিদ্ধ হন। নিখুঁত রক্তক্ষরণে কার্যকরী তাকে উদ্ধার করে পরীক্ষা প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য সম্মিলিত প্রতিষ্ঠান (সিএমএইচ), রাতে নেওয়া হলে ধর্মীয় তাকে মর্যাদা দেন।

আন্তঃ বৃহৎ জনসংযোগ পরিদফের (আইএসপিআর) তথ্যের তথ্য অনুযায়ী, গো মানবা খবরে খবর পাওয়া যায়, রাণীখালী গভীর পাহাড়ে ১৫ থেকে ১৬ এর একটি সশস্ত্রী দল প্রায় ১২০ জন ও বাংলাকে জিম্মি করে তুলেছে। এ তথ্যের প্রকাশক বাংলাদেশভির ১০ পদাতিক ডিশন, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিটী) ও স্থানীয় পুলিশ সদস্য গঠিত দল আভিযান বিজানা বিক্রেতা বিক্রেতা আকালানুক্রমিক প্রকাশ্য।

এ সময় পাওয়ার সদস্য সস্ত্রীক উপস্থিতি টেরটি মানবপাচারকারী এপাতাড়ি চালায়। ব্যাঙ্গ পার্টির মধ্যে ব্যবহার করা হয়।

যুদ্ধে সেনা বার থেকে একটি পিস্তল, একটি দেশীয় বন্দুক ও চার রাউন্ড গোলাকে উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া এ ছাড়া পাচারকারী চক্রের পাঁচ সদস্যের দল এবং জিম্মিকে ৫৭ পরিস্থিতি উদ্ধার করা হয়।

ধর্মরত সেনাসদস্যের আত্মত্যাগের কথা বলা বাংলাদেশকে গভীর শ্রদ্ধা জানাতে। একই সাথে তার বিহীর আত্মার মাগফিরাত কামনা গভীর এবং শোকসন্তান সদস্যদের প্রতি সমবেদনা।

ট্রাম্প-ভ্যান্স দূরত্ব বাড়ছে, হারের পর রিপাবলিকানদের মধ্যে চরম কোন্দল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬, ১২:৪৮ পূর্বাহ্ণ
ট্রাম্প-ভ্যান্স দূরত্ব বাড়ছে, হারের পর রিপাবলিকানদের মধ্যে চরম কোন্দল

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির বিশাল পরাজয়ের পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের মধ্যকার অভ্যন্তরীণ বিভেদ প্রকাশ্যে রূপ নিয়েছে। প্রতিনিধি পরিষদ, সিনেট, গভর্নর ও অঙ্গরাজ্য আইনসভাগুলোতে শোচনীয় হারের প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে এই দুই শীর্ষ নেতা পরোক্ষভাবে একে অপরকে দোষারোপ করছেন।

সোশ্যাল মিডিয়া এক্স-এ দেওয়া এক দীর্ঘ ও সতর্ক বার্তায় জেডি ভ্যান্স মধ্যবর্তী নির্বাচনে দলের হারের পেছনে ইরান যুদ্ধ, জীবনযাত্রার উচ্চ ব্যয়, আমেরিকা ফার্স্ট নীতির অনুপস্থিতি এবং ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ককে প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। ট্রাম্প যেখানে টানা কয়েক মাস ধরে ইরান যুদ্ধের পক্ষে অবস্থান নিয়ে আসছেন, সেখানে ভ্যান্সের প্রকাশ্যে এই স্বীকারোক্তি মার্কিন সামরিক অভিযানের দেশীয় নেতিবাচক প্রভাবকেই স্পষ্ট করে তুলেছে।

অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প স্বীকার করেছেন যে ইরান যুদ্ধ নির্বাচনে প্রভাব ফেলেছে, তবে এ নিয়ে কোনও আক্ষেপ নেই জানিয়ে বলেন, সুযোগ পেলে তিনি আবারও একই কাজ করবেন।

ভ্যান্সের বিশ্লেষণ সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প অস্পষ্ট উত্তর দিয়ে বলেন, আমি জানি ও কীভাবে দেখে। আমার মনে হয় এটি ঠিকই ছিল। আমরা জানতাম পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে ওদের থামানো গেছে এবং তারা আর কখনও তা পারবে না।

এর পরেই তিনি মন্তব্য করেন, ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভ্যান্স ‘হয়তো প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন না।’ সাংবাদিকদের তিনি বলেন, হয়তো সে লড়বে না, আমি জানি না কে লড়বে। তবে যুদ্ধের বিষয়ে আমি বলতে পারি, আমি আলাদা কিছু করতাম না।

ভ্যান্সের এই বক্তব্যকে ট্রাম্পের নীতি থেকে নিজেকে খানিকটা আলাদা করার চেষ্টা হিসেবে দেখা হলেও প্রশাসন থেকে তিনি পুরোপুরি মুক্ত হতে পারছেন না। অপর দিকে ভ্যান্স ২০২৮ সালে ট্রাম্পের সম্ভাব্য উত্তরসূরি হতে পারেন বলে যে গুঞ্জন ছিল, ট্রাম্পের এই মন্তব্য তাতে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।

এদিকে কেবল শীর্ষ দুই নেতার মধ্যে নয়, নির্বাচনের এই ভরাডুবির পর পুরো রিপাবলিকান পার্টির মধ্যেই নেতৃত্ব ও দিকনির্দেশনা নিয়ে তীব্র তর্কের সৃষ্টি হয়েছে।

ফ্লোরিডার গভর্নর রন ডেসান্টিস সতর্ক করে বলেছেন, দল যদি তার দৃষ্টিভঙ্গি পুনর্মূল্যায়ন না করে তবে দীর্ঘমেয়াদি নির্বাচনি ধাক্কার মুখোমুখি হতে হবে। টেক্সাসের সিনেটর টেড ক্রুজ এক পডকাস্টে শ্রমজীবী মানুষের অর্থনৈতিক সমস্যা শোনার আহ্বান জানিয়ে বলেন, আমাদের শুনতে হবে এবং সাড়া দিতে হবে। টেক্সাস এখন নীল হয়ে যাচ্ছে। শুল্কনীতি, মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ এবং ডাটা সেন্টার নির্মাণ নিয়ে ট্রাম্পের সমালোচনার মধ্যেও ক্রুজ সুর মিলিয়েছেন।

সাবেক রিপাবলিকান সিনেটর মিট রমনি এক্স-এ ট্রাম্পের শুল্কনীতি, ‘আবেগপ্রবণ’ যুদ্ধ এবং দৃশ্যমান দুর্নীতির সমালোচনা করে লিখেছেন, বাজে নীতি এবং বাজে চরিত্র কখনও ভালো রাজনীতি তৈরি করে না। দেশ এবং আমার দলের সঠিক পথে ফেরার আশায় রইলাম।

সব মিলিয়ে ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর রিপাবলিকান পার্টি এখন বড় ধাক্কার মুখে পড়েছে। ট্রাম্পের রাজনৈতিক কৌশলেই দল সামনে এগোবে, নাকি নতুন প্রজন্মের নেতৃত্বের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর হবে, সেই লড়াই ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে সামনে রেখে এখনই শুরু হয়ে গেছে।

সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে

দালাল স্ট্রিটে উৎসব, এক ঘণ্টায় লাভ ৭ লাখ কোটি রুপি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬, ১২:৩৩ পূর্বাহ্ণ
দালাল স্ট্রিটে উৎসব, এক ঘণ্টায় লাভ ৭ লাখ কোটি রুপি

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের জয়ের পর বিশ্বজুড়ে সৃষ্ট ইতিবাচক পরিস্থিতির প্রভাব পড়েছে ভারতের শেয়ারবাজারে। অপরিশোধিত তেলের তীব্র দরপতন, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কেনাকাটার জোয়ার এবং মার্কিন শেয়ারবাজার ওয়াল স্ট্রিটের চাঙ্গা ভাবের ওপর ভর করে বৃহস্পতিবার ভারতীয় শেয়ারবাজারে বিশাল উত্থান ঘটেছে। লেনদেন শুরুর মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যেই দালাল স্ট্রিটের বিনিয়োগকারীদের সম্পদ প্রায় ৭ লাখ কোটি রুপি বেড়েছে।

বৃহস্পতিবার সকালে বম্বে স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান সূচক সেনসেক্স ১,৩০০ পয়েন্টের বেশি বেড়ে ৭৮,৬৩০ পয়েন্টে এবং নিফটি ৫০ সূচক ২৪,৩৫০ পয়েন্ট অতিক্রম করে। এটি ভারতের শেয়ারবাজারে টানা ষষ্ঠ কার্যদিবসের মতো দরবৃদ্ধির ধারা বজায় রাখলো। সকাল ১০টা ১৫ মিনিট নাগাদ সেনসেক্স ১,৪০০ পয়েন্ট বেড়ে ৭৮,৭৩৫.৭৯ এবং নিফটি ৪৩১ পয়েন্ট বেড়ে ২৪,৩৮৯.৫৫ পয়েন্টে পৌঁছায়।

লেনদেন শুরুর সময় সেনসেক্স তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর মোট বাজারমূল্য ছিল ৪৯৩.৪৪ লাখ কোটি রুপি, যা এক ঘণ্টার মধ্যেই বেড়ে দাঁড়ায় ৫০০.৯১ লাখ কোটি রুপি, অর্থাৎ প্রায় ৭ লাখ কোটি রুপির নিট বৃদ্ধি। মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর ওভারনাইট লেনদেনে মার্কিন শেয়ারবাজার এসঅ্যান্ডপি ৫০০ তিন মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছানোর পর এই প্রভাব দেখা গেলো।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে শেয়ারবাজার বাড়ার প্রধান ৩ কারণ তুলে ধরা হয়েছে।

তেলের দামে ৮ শতাংশ ধস: ডেমোক্র্যাটদের বিজয়ের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ইরান সংঘাত কমানোর দিকে হাঁটবে, বিনিয়োগকারীদের এমন প্রত্যাশায় ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ৮.৭ শতাংশ কমে ব্যারেল প্রতি প্রায় ৯৪ ডলারে নেমে আসে। তেল আমদানিনির্ভর ভারতের জন্য তেলের এই মূল্যহ্রাস আমদানি খরচ ও মূল্যস্ফীতি কমাবে এবং রুপিকে শক্তিশালী করবে।

বিদেশি বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাবর্তন: বুধবার বিদেশি বিনিয়োগকারীরা ভারতে ৭,২৮৪ কোটি রুপির শেয়ার কেনেন, যা বিগত কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ। সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরে প্রায় ৯০,০০০ কোটি রুপির শেয়ার বিক্রির পর নভেম্বরে এ পর্যন্ত তারা ১৭,০০০ কোটি রুপির বেশি বিনিয়োগ করেছেন।

ওয়াল স্ট্রিটের চাঙ্গা ভাব: রাজনীতি নিয়ে অনিশ্চয়তা কমার পর এসঅ্যান্ডপি ৫০০ ১.৬ শতাংশ এবং ডাউ জোন্স প্রায় ৩ শতাংশ বেড়েছে। এর ফলে বিশ্বজুড়ে শেয়ারবাজারে ঝুঁকির মাত্রা কমে ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

আয়নিক অ্যাসেটের গ্লোবাল ইনভেস্টমেন্ট প্রধান অঙ্কিতা পাঠক বলেন, নির্বাচনি ফলাফলে ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি কিছুটা কমবে। তবে জানুয়ারিতে নতুন আইনপ্রণেতারা শপথ নেওয়ার পর পূর্ণাঙ্গ অর্থনৈতিক প্রভাব স্পষ্ট হবে।

তিনি উল্লেখ করেন যে, মার্কিন বন্ডের সুদ ও ডলার দুর্বল হলে উদীয়মান বাজার ও স্বর্ণ উপকৃত হতে পারে। তা সত্ত্বেও তিনি সতর্ক করে বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতের ডেটা সেন্টার ও বিদ্যুৎ ব্যবহারের ওপর নতুন কংগ্রেসে নজরদারি বাড়তে পারে।

সূত্র: এনডিটিভি