বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩

কালো ধোঁয়া ও প্লাস্টিক বর্জ্যে বিপন্ন সুন্দরবন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ৩:৩৮ অপরাহ্ণ
কালো ধোঁয়া ও প্লাস্টিক বর্জ্যে বিপন্ন সুন্দরবন

তারিক ইসলাম

সুন্দরবন—বাংলার বুকে দাঁড়িয়ে থাকা এক প্রাকৃতিক প্রাচীর। ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব থেকে উপকূলীয় জনপদকে রক্ষায় এই ম্যানগ্রোভ বন যুগ যুগ ধরে প্রাকৃতিক ঢাল হিসেবে ভূমিকা রেখে চলেছে। অথচ আজ সেই রক্ষাকবচ নিজেই অস্তিত্বের সংকটে। সুন্দরবনের ভেতর দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজের কালো ধোঁয়া, তেল ও বর্জ্যদূষণ এবং পর্যটকদের ফেলে যাওয়া পলিথিন ও প্লাস্টিক বর্জ্যে বিপন্ন হয়ে উঠছে বনের অনন্য জীববৈচিত্র্য।

একদিকে মোংলা বন্দরকেন্দ্রিক আন্তর্জাতিক নৌপথে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল, অন্যদিকে পর্যটনের নামে অনিয়ন্ত্রিত নৌযানের আনাগোনা এবং পরিবেশগত নজরদারির সীমাবদ্ধতা—সব মিলিয়ে সুন্দরবন ক্রমেই পরিবেশগত ঝুঁকির মুখে পড়ছে। আইন ও প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে নানা উদ্যোগের কথা বলা হলেও দূষণ নিয়ন্ত্রণ, পরিবেশগত ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ এবং অপরাধীদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে আরও কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন।

সুন্দরবনের ভেতর দিয়ে চলাচলকারী নৌযান থেকে নিঃসৃত তেল, মবিল ও বিভিন্ন ধরনের বর্জ্য নদ-নদীর পানিতে মিশে জলজ পরিবেশের ক্ষতি করছে। এর প্রভাবে ডলফিন, কুমির, কাঁকড়া ও বিভিন্ন প্রজাতির মাছসহ জলজ প্রাণীর অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়ছে। বিশেষ করে ইরাবতী ও গাঙ্গেয় ডলফিনের বিচরণক্ষেত্রে জাহাজের শব্দ, পানির কম্পন এবং প্রপেলারের আঘাত তাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে। অন্যদিকে, জাহাজের কালো ধোঁয়া বায়ুদূষণ বাড়ানোর পাশাপাশি পরিবেশের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে।

এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে পর্যটনের নামে পরিবেশদূষণ। প্রতিদিন অসংখ্য পর্যটকবাহী লঞ্চ ও ট্রলার সুন্দরবনের বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে যাতায়াত করছে। অসচেতন পর্যটকদের ফেলে যাওয়া একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের প্লেট, পানির বোতল, পলিথিন ও অন্যান্য বর্জ্য বনের মাটি ও পানিতে জমা হচ্ছে। এসব বর্জ্য মাটির স্বাভাবিক গুণাগুণ ও জলজ পরিবেশের ক্ষতি করছে। খাদ্যশৃঙ্খলেও তৈরি হচ্ছে বিরূপ প্রভাব। বন্যপ্রাণী এসব প্লাস্টিক খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়তে পারে, এমনকি মৃত্যুর ঝুঁকিতেও পড়তে পারে। ফলে পুরো বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য হুমকির মুখে পড়ছে।

সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, এসব দূষণ ও অনিয়ম প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক নজরদারি ও জবাবদিহি আরও জোরদার করা জরুরি। পরিবেশ অধিদপ্তর ও বন বিভাগের সমন্বিত তদারকি, নৌযানের গতিসীমা নিয়ন্ত্রণ এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনার নিয়ম যথাযথভাবে কার্যকর করতে হবে। জাহাজ থেকে নদীতে তেল বা বর্জ্য নিঃসরণের মতো অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রয়োগ নিশ্চিত করা না গেলে দূষণ নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়ে পড়বে।

এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে অদূর ভবিষ্যতে সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়তে পারে। সুন্দরবন শুধু একটি বন নয়; এটি দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকা, উপকূলের নিরাপত্তা এবং দেশের পরিবেশগত ভারসাম্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সুন্দরবন বাঁচলে বাঁচবে দক্ষিণ উপকূল।

করণীয়

১. সুন্দরবনের ভেতর দিয়ে চলাচলকারী নৌযানের জন্য সুনির্দিষ্ট গতিসীমা নির্ধারণ এবং তা কার্যকরভাবে তদারক করতে জিপিএস ট্র্যাকিংসহ আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।

২. অনুমোদনবহির্ভূত নৌযান চলাচল এবং নিষিদ্ধ এলাকায় জাহাজ নোঙর করার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।

৩. পর্যটকদের প্লাস্টিক ও পলিথিন বহন নিরুৎসাহিত ও নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। প্রতিটি পর্যটকবাহী নৌযানে বর্জ্য সংরক্ষণ ও অপসারণের বাধ্যতামূলক ব্যবস্থা চালু করতে হবে।

৪. পরিবেশ অধিদপ্তর ও বন বিভাগের যৌথ উদ্যোগে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা এবং দূষণকারীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে।

৫. সুন্দরবনের ভেতর দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের পরিবেশগত প্রভাব বিবেচনায় বিকল্প নৌপথের সম্ভাব্যতা যাচাই এবং কার্যকর বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

প্রকৃতির এই অপার দানকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ, কঠোর নজরদারি এবং কার্যকর প্রশাসনিক সদিচ্ছা। সুন্দরবন রক্ষা করা কেবল পরিবেশবাদীদের দায়িত্ব নয়; এটি আমাদের অস্তিত্ব, উপকূলের নিরাপত্তা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এক অপরিহার্য দায়িত্ব।

লেখক: তারিক ইসলাম, সভাপতি, সাতক্ষীরা বোটানিক্যাল সোসাইটি।

Ads small one

ঢাকায় শুরু ৩০তম ইউএস ট্রেড শো, গুরুত্ব পাচ্ছে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ৪:৪২ অপরাহ্ণ
ঢাকায় শুরু ৩০তম ইউএস ট্রেড শো, গুরুত্ব পাচ্ছে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ

বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের লক্ষ্য নিয়ে রাজধানীতে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী ৩০তম ইউএস ট্রেড শো ২০২৬। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল ঢাকায় এ প্রদর্শনীর উদ্বোধন করা হয়। আগামী ৭ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে এ আয়োজন।

আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (অ্যামচেম) এবং ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাস যৌথভাবে এ প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে। এতে মার্কিন বিভিন্ন পণ্য, সেবা ও উদ্ভাবনী প্রযুক্তি প্রদর্শনের পাশাপাশি দুই দেশের ব্যবসায়িক অংশীদারত্ব ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের সম্ভাবনা তুলে ধরা হচ্ছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ, বীর বিক্রম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু। অনুষ্ঠানে গেস্ট অব অনার ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন। আরও উপস্থিত ছিলেন অ্যামচেম বাংলাদেশের সভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ কামালসহ সরকারি কর্মকর্তা, কূটনীতিক, ব্যবসায়ী নেতা ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা।

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘদিনের বাণিজ্যিক ও বিনিয়োগ সম্পর্ক রয়েছে। ইউএস ট্রেড শোর মতো আয়োজন দুই দেশের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন ব্যবসায়িক সুযোগ তৈরি করতে পারে। বাংলাদেশ বিনিয়োগবান্ধব অর্থনীতি গড়ে তোলা, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি ও টেকসই উন্নয়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

পরিবেশমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য বাণিজ্য ও বিনিয়োগ গুরুত্বপূর্ণ। শিল্প খাতে দক্ষতা বৃদ্ধি, পরিবেশগত স্থায়িত্ব এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক সক্ষমতা জোরদারে মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রযুক্তি, দক্ষতা ও বিনিয়োগ ভূমিকা রাখতে পারে।

মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ককে যুক্তরাষ্ট্র গুরুত্ব দেয়। মার্কিন কোম্পানিগুলোর পণ্য, সেবা ও প্রযুক্তি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে অবদান রাখতে পারে। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক অংশীদারত্ব ও বিনিয়োগ বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্র আগ্রহী।

অ্যামচেম বাংলাদেশের সভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল বলেন, তিন দশক ধরে ইউএস ট্রেড শো মার্কিন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের বাজারের সংযোগ তৈরিতে ভূমিকা রাখছে। এবারের আয়োজনও দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও ব্যবসায়িক সহযোগিতা সম্প্রসারণে নতুন সুযোগ তৈরি করবে।

প্রদর্শনীর পাশাপাশি জ্বালানি নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা ও চিকিৎসা প্রযুক্তি, নারী নেতৃত্ব, বিদেশে বিনিয়োগ, পারস্পরিক বাণিজ্য, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি এবং ডিজিটাল অর্থনীতি নিয়ে সেমিনার ও আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। এসব আয়োজনে নীতিনির্ধারক, শিল্প বিশেষজ্ঞ ও ব্যবসায়ী নেতারা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে তাঁদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরবেন।

আয়োজকেরা জানান, প্রদর্শনীতে বিভিন্ন খাতের মার্কিন পণ্য, সেবা ও প্রযুক্তি সম্পর্কে জানার পাশাপাশি ব্যবসায়িক যোগাযোগ ও অংশীদারত্ব গড়ে তোলার সুযোগ পাবেন দর্শনার্থীরা। প্রেসবিজ্ঞপ্তি

সরুলিয়া ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে সম্ভাব্য প্রার্থী মামুনুর রহমানের গণসংযোগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ৪:১৯ অপরাহ্ণ
সরুলিয়া ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে সম্ভাব্য প্রার্থী মামুনুর রহমানের গণসংযোগ

পাটকেলঘাটা প্রতিনিধি: আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সাতক্ষীরার তালা উপজেলার সরুলিয়া ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে গণসংযোগ শুরু করেছেন সাবেক ইউপি সদস্য ও ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র সহসাধারণ সম্পাদক চিকিৎসক মো. মামুনুর রহমান।

তিনি পাটকেলঘাটা বাজারের বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এবং সরুলিয়া ইউনিয়নের কাশিপুর, পুটিয়াখালী, খোর্দ ও বড়বিলাসহ বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় করছেন। এ সময় তিনি এলাকার মানুষের খোঁজখবর নিচ্ছেন এবং তাঁদের বিভিন্ন সমস্যা ও প্রত্যাশার কথা শুনছেন।

মামুনুর রহমান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তিনি এলাকার সাধারণ মানুষের সঙ্গে রয়েছেন। নির্বাচিত হলে প্রতিশ্রুতির পরিবর্তে কাজের মাধ্যমে জনগণের আস্থা অর্জন করতে চান। একটি দুর্নীতিমুক্ত, জবাবদিহিমূলক ও জনবান্ধব ইউনিয়ন পরিষদ গড়ে তোলাই তাঁর লক্ষ্য।

পাইকগাছায় বৃত্তি পরীক্ষার কেন্দ্র পরিবর্তন, ক্ষুব্ধ অভিভাবকেরা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ৪:১১ অপরাহ্ণ
পাইকগাছায় বৃত্তি পরীক্ষার কেন্দ্র পরিবর্তন, ক্ষুব্ধ অভিভাবকেরা

পলাশ কর্মকার, কপিলমুনি (পাইকগাছা): খুলনার পাইকগাছায় প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার দীর্ঘদিনের পরিচিত কেন্দ্র ২৩ নম্বর পাইকগাছা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অভিভাবক ও স্থানীয় সচেতন মহলের অনেকে। তাঁদের অভিযোগ, বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের মেয়ে বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ায় কেন্দ্রটি পরিবর্তন করা হয়েছে। তবে নীতিমালায় এ ধরনের পরিস্থিতিতে কেন্দ্র পরিবর্তনের পরিবর্তে কেন্দ্র সচিব পরিবর্তনের সুযোগ রয়েছে বলে দাবি তাঁদের।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পাইকগাছা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় দীর্ঘদিন ধরে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। আসন্ন পরীক্ষায় বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের মেয়ে অংশ নেওয়ায় কেন্দ্রটির নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এর পরিপ্রেক্ষিতে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস কেন্দ্রটি পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

অভিভাবকদের দাবি, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী, যে প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষার কেন্দ্র স্থাপন করা হবে, সাধারণত সেই প্রতিষ্ঠানের প্রধান কেন্দ্র সচিবের দায়িত্ব পালন করবেন। তবে তাঁর সন্তান বা পোষ্য পরীক্ষার্থী হলে তাঁকে কেন্দ্র সচিব করা যাবে না। এ ক্ষেত্রে অন্য উপযুক্ত কাউকে কেন্দ্র সচিব নিয়োগের বিধান রয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অভিভাবক বলেন, নীতিমালায় বিকল্প কেন্দ্র সচিব নিয়োগের সুযোগ থাকার পরও কেন পুরো কেন্দ্র পরিবর্তন করা হলো, তা বোধগম্য নয়। প্রধান শিক্ষককে কেন্দ্র সচিবের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে অন্য কাউকে দায়িত্ব দিলেই নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা সম্ভব ছিল।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আজহারুল ইসলাম বলেন, ওই বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের মেয়ে বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নেবে। তাই পরীক্ষার নিরপেক্ষতা বজায় রাখার স্বার্থে বিদ্যালয়টি থেকে কেন্দ্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে কেন্দ্র সচিব পরিবর্তনের বিধান থাকা সত্ত্বেও কেন পুরো কেন্দ্র পরিবর্তন করা হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেননি।

অভিভাবকদের মতে, কোনো বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের সন্তান পরীক্ষার্থী হলেই সেখানে পরীক্ষা গ্রহণের পরিবেশ অনুপযুক্ত হয়ে পড়ে না। নীতিমালা অনুসরণ করে বিকল্প কেন্দ্র সচিব নিয়োগের মাধ্যমেই পরীক্ষার স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখা সম্ভব। তাঁদের দাবি, দীর্ঘদিনের পরিচিত কেন্দ্র পরিবর্তনের ফলে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে বিভ্রান্তি ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তাই সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।