শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩
শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩

এইচএসসির ফল পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন শুরু, করবেন যেভাবে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ১২:০৮ পূর্বাহ্ণ
এইচএসসির ফল পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন শুরু, করবেন যেভাবে

২০২৬ সালের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষার ফল পুনর্নিরীক্ষণ এবং উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়নের আবেদন শুরু হচ্ছে আজ। রবিবার (১ নভেম্বর) থেকে শুরু হয়ে আগামী ৭ নভেম্বর পর্যন্ত এ আবেদন করা যাবে।

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নির্ধারিত ওয়েবসাইটে ([https://rescrutiny.eduboardresults.gov.bd](https://rescrutiny.eduboardresults.gov.bd ) প্রবেশ করে রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর পূরণ করে বোর্ড ড্রপ ডাউন থেকে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ড নির্বাচন করতে হবে।

এরপর মোবাইল নম্বর দিয়ে পরবর্তী ধাপে গিয়ে কাঙ্ক্ষিত বিষয় বা পত্রগুলো নির্বাচন করে ফি প্রদান করতে হবে।

প্রতিটি পত্রের জন্য ১৫০ টাকা হারে ফি প্রযোজ্য এবং দ্বিপত্রবিশিষ্ট বিষয়ের ক্ষেত্রে উভয় পত্রের জন্য আবেদন করতে হবে। বিকাশ, নগদ, ডিবিএল রকেট, উপায় এবং সোনালী সেবার মাধ্যমে এই ফি পরিশোধ করা যাবে।

অনলাইন ছাড়া ম্যানুয়ালি কোনো আবেদন গ্রহণ করা হবে না বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে, এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য হলেও এ বছরই পাস করার সুযোগ পাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। তাদের জন্য বিশেষ পুনঃপরীক্ষার আয়োজন করতে যাচ্ছে সরকার। ফলে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের পরবর্তী বছরের পরীক্ষা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে না।

কারা পাবে পুনঃপরীক্ষার সুযোগ?

এ বছর এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীরা এই বিশেষ সুযোগ পাবেন। তাদের শুধু যেসব বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছে, সেসব বিষয়েই আবার পরীক্ষা দিতে হবে। অর্থাৎ সব বিষয়ে নতুন করে পরীক্ষা দেওয়ার প্রয়োজন হবে না।

আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আখতারুজ্জামান জানিয়েছেন, পুনঃপরীক্ষার তারিখ, ফরম পূরণ ও ফি-সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য ৩ নভেম্বরের মধ্যে জানানো হবে।

এ বছর এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছে ৪ লাখ ২২ হাজার ৯০৫ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে এক বিষয়ে ফেল করেছেন ২ লাখ ৯৮ হাজার ৪০ জন এবং দুই বিষয়ে ফেল করেছেন ১ লাখ ২৪ হাজার ৮৬৫ জন।

কবে হবে পুনঃপরীক্ষা?

এই সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষার সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ২ ডিসেম্বর। শনিবার (৩১ অক্টোবর) আন্তঃশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটির প্রকাশিত সময়সূচিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তির সময়সূচি অনুযায়ী, সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র প্রণয়নের কাজ চলবে ১ নভেম্বর থেকে ২০ ডিসেম্বর পর্যন্ত। এছাড়া পরীক্ষার ফরম পূরণ শুরু হবে ৩ নভেম্বর, চলবে ৮ নভেম্বর পর্যন্ত। আর সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষার ফল প্রকাশের সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ৩১ ডিসেম্বর।

বিদ্যমান বিধিমালায় এ ধরনের পরীক্ষা গ্রহণের সুযোগ নাই। ফলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের লিখিত নির্দেশনা পেলেই এই পরীক্ষা নেওয়া হবে।

এর আগে শিক্ষামন্ত্রী ডা. আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানিয়েছিলেন, আগামী এক মাসের মধ্যে বিশেষ এই পরীক্ষা আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতির জন্য প্রয়োজনীয় সময় এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি কার্যক্রমের বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।

কর্তৃপক্ষ এমন সময়সূচি নির্ধারণ করতে চায়, যাতে শিক্ষার্থীরা পুনঃপরীক্ষায় অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হলে উচ্চশিক্ষায় ভর্তির সুযোগ থেকে বঞ্চিত না হয়।

পরীক্ষার নির্দিষ্ট তারিখ, ফরম পূরণের সময় ও ফি সম্পর্কে শিক্ষা বোর্ডের আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর বিস্তারিত জানা যাবে।

যারা পুনঃপরীক্ষায়ও পাস করবে না, তাদের কী হবে?

শুধু পুনঃপরীক্ষার সুযোগ দিয়েই বিষয়টি শেষ করতে চায় না সরকার। শিক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন, বিশেষ পরীক্ষাতেও যারা উত্তীর্ণ হতে পারবেন না কিংবা যারা এ পরীক্ষায় অংশ নেবেন না তাদেরও শিক্ষার বাইরে রাখা হবে না।

তাদের কারিগরি ও কর্মমুখী শিক্ষার আওতায় এনে দক্ষ জনশক্তি হিসেবে গড়ে তুলতে বিশেষ প্রকল্প ও ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

ফল পুনর্নিরীক্ষণের সুযোগও রয়েছে

এদিকে, যারা মনে করছেন তাদের উত্তরপত্র মূল্যায়নে ভুল হয়েছে কিংবা প্রত্যাশার তুলনায় কম নম্বর পেয়েছেন, তারাও ফল পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করতে পারবেন। পুনর্নিরীক্ষণের ফলাফল ইতিবাচক হলে আর পরবর্তী বছরে পরীক্ষা দেওয়া নাও লাগতে পারে।

শিক্ষা বোর্ডের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন ১ নভেম্বর থেকে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত করা যাবে। প্রতিটি পত্রের জন্য আবেদন ফি ১৫০ টাকা।

আগ্রহী শিক্ষার্থীদের https://rescrutiny.eduboardresults.gov.bd ওয়েবসাইটে গিয়ে রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিয়ে আবেদন করতে হবে।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) প্রকাশিত হয়েছে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল। এবার ১২ লাখ ৪০ হাজার ৭৯৮ পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৬৮৫ জন। অর্থাৎ, প্রায় অর্ধেক শিক্ষার্থীই অকৃতকার্য হয়েছেন। এবার জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪০ হাজার ৮৪ শিক্ষার্থী।

Ads small one

তালায় খাবারে চেতনানাশক মিশিয়ে ৪৪ লাখ টাকার মালামাল লুট

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬, ১২:৫০ অপরাহ্ণ
তালায় খাবারে চেতনানাশক মিশিয়ে ৪৪ লাখ টাকার মালামাল লুট

পত্রদূত ডেস্ক: সাতক্ষীরার তালায় খাবারের সঙ্গে চেতনানাশক মিশিয়ে একটি বাড়িতে দুঃসাহসিক চুরির ঘটনা ঘটেছে। পরিবারের সদস্যরা চেতনানাশকের প্রভাবে অচেতন হয়ে পড়লে দুর্বৃত্তরা বাড়ি থেকে ১৮ ভরি স্বর্ণালংকার, নগদ ৪ লাখ টাকাসহ প্রায় ৪৪ লাখ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায়।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) রাত ২টার দিকে তালা উপজেলার খেশরা ইউনিয়নের হরিহরনগর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

অচেতন ও অসুস্থ অবস্থায় গৃহকর্তা সবুজ সরদার ও তাঁর বাবা মতলেব সরদারকে সাতক্ষীরার একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাতে সবুজ সরদারের বাড়িতে খাবারের সঙ্গে কৌশলে চেতনানাশক ওষুধ মিশিয়ে দেওয়া হয়। পরিবারের সদস্যরা ওই খাবার খেয়ে গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন হয়ে পড়েন। এ সুযোগে দুর্বৃত্তরা বাড়িতে ঢুকে আলমারি ও ড্রয়ার ভেঙে ১৮ ভরি স্বর্ণালংকার, নগদ ৪ লাখ টাকাসহ অন্যান্য মূল্যবান মালামাল লুট করে নিয়ে যায়।

শুক্রবার সকালে বাড়ির লোকজনের কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে প্রতিবেশীরা ঘরে গিয়ে তাঁদের অচেতন অবস্থায় দেখতে পান। পরে দ্রুত তাঁদের উদ্ধার করে সাতক্ষীরা ব্লিস হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

তালা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আলিম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। লুট হওয়া মালামাল উদ্ধার ও এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

প্রফুল্ল চন্দ্র রায়ের জরাজীর্ণ জন্মভিটায় সংস্কার, ফিরছে পুরোনো রূপ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬, ১২:৩৫ অপরাহ্ণ
প্রফুল্ল চন্দ্র রায়ের জরাজীর্ণ জন্মভিটায় সংস্কার, ফিরছে পুরোনো রূপ

প্রকাশ ঘোষ বিধান, পাইকগাছা (খুলনা): বিশ্ববরেণ্য বিজ্ঞানী আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায়ের জরাজীর্ণ পৈতৃক বাড়ি সংস্কারের কাজ শুরু করেছে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর। খুলনার পাইকগাছা উপজেলার রাড়ুলী গ্রামে কপোতাক্ষ নদের তীরে অবস্থিত ঐতিহাসিক বাড়িটির আংশিক সংস্কারের পর নতুন রূপ ফুটে উঠতে শুরু করেছে। তবে বিজ্ঞানীর স্মৃতি ও অবদান যথাযথভাবে সংরক্ষণে পুরো স্থাপনাটির সংস্কার ও আধুনিকায়নের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা, দর্শনার্থী ও গবেষকেরা।

বাঙালি রসায়নচর্চার অন্যতম পথিকৃৎ এবং বেঙ্গল কেমিক্যালসের প্রতিষ্ঠাতা আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায়ের জন্মভিটাটি দীর্ঘদিন ধরে অবহেলা ও জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে ছিল। প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে বাড়িটির মূল ভবনের কিছু অংশ সংস্কার করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে সদর মহল বা প্রধান ভবনের কয়েকটি অংশের ভগ্নদশা দূর করার কাজ চলছে। তবে অন্দরমহল, মন্দির ও সীমানাপ্রাচীরসহ অন্যান্য স্থাপনা এখনো পূর্ণাঙ্গ সংস্কারের অপেক্ষায় রয়েছে।

খুলনা আঞ্চলিক প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, বাড়িটির সংস্কারকাজের জন্য ৩৭ লাখ ৮১ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ডোমেইন এন্টারপ্রাইজ কাজটি বাস্তবায়ন করছে। চলতি বছর উত্তর পাশের দোতলা ভবনের পাঁচটি কক্ষ ও দুটি বারান্দা সংস্কার, বাইরের পলেস্তারা মেরামত এবং ভবনের চারপাশে রং করার কাজ করা হবে। তবে দরজা-জানালা এ পর্যায়ের সংস্কারকাজের আওতায় নেই। পরবর্তী সময়ে বাড়ির ভেতরের ভবন ও মন্দির সংস্কার করা হবে। প্রকল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, আগামী চার থেকে পাঁচ মাসের মধ্যে চলমান সংস্কারকাজ শেষ হতে পারে।

খুলনা আঞ্চলিক প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের পরিচালক মো. মহিদুল ইসলাম বলেন, রসায়নশাস্ত্রের পথিকৃৎ আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায়ের জরাজীর্ণ জন্মভিটা সংস্কারের কাজ শুরু হয়েছে। বাড়িটির মূল নকশা ও স্থাপত্যশৈলী অক্ষুণ্ন রেখে সংস্কার করা হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে পুরো বাড়ি সংরক্ষণের পরিকল্পনা রয়েছে। এ ছাড়া সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ ও একটি প্রদর্শনী কক্ষ তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে। প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ পাওয়া গেলে এসব কাজ শুরু করা হবে।

১৮৬১ সালের ২ আগস্ট জন্মগ্রহণ করেন স্যার আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায়। তিনি উপমহাদেশে আধুনিক রসায়ন গবেষণার বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। মার্কিউরাস নাইট্রেট আবিষ্কার এবং বেঙ্গল কেমিক্যালস প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বিজ্ঞান ও শিল্পায়নে অসামান্য অবদান রাখেন তিনি। তাঁর জন্মভিটা বাঙালির বিজ্ঞানচর্চা ও জাতীয় গৌরবের এক গুরুত্বপূর্ণ স্মারক।

স্থানীয়দের মতে, বাড়িটির পূর্ণাঙ্গ সংস্কার ও সংরক্ষণ করা গেলে এটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ও পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত হতে পারে। সুন্দরবনগামী অনেক পর্যটক যাতায়াতের পথে বাড়িটি পরিদর্শন করেন। যথাযথ অবকাঠামো ও পর্যটনসুবিধা গড়ে তোলা হলে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের আগ্রহ বাড়ার পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

এ ঐতিহাসিক স্থানকে আন্তর্জাতিক মানের বিজ্ঞান ঐতিহ্যকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার দাবিও উঠেছে। এ জন্য বিজ্ঞান জাদুঘর, গবেষণাগার, ডিজিটাল প্রদর্শনী গ্যালারি ও মিলনায়তন নির্মাণের প্রস্তাব দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিজ্ঞানী আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায়ের স্মৃতি ও অবদান ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে তাঁর জন্মভিটার পূর্ণাঙ্গ সংস্কার, সংরক্ষণ এবং পরিকল্পিত উন্নয়ন এখন সময়ের দাবি।

মরিশাসে কাচের বাক্স চাপা পড়ে ৩ বাংলাদেশি শ্রমিক নিহত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬, ১২:১৯ অপরাহ্ণ
মরিশাসে কাচের বাক্স চাপা পড়ে ৩ বাংলাদেশি শ্রমিক নিহত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারত মহাসাগরের দ্বীপরাষ্ট্র মরিশাসে কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনায় তিন বাংলাদেশি শ্রমিক নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বিকেলে দেশটির উত্তরাঞ্চলের প্লেইন-দে-পাপাই এলাকার মস্ক রোডে একটি প্রতিষ্ঠানের চত্বরে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত শ্রমিকেরা হলেন মোহাম্মদ মিরাজ হোসেন (৩৬), হোসেন মো. বেলাল (৩৭) ও সিকদার জুবায়েদ ইসলাম (২৫)। তাঁরা সবাই প্লেইন-দে-পাপাই এলাকার একটি অ্যালুমিনিয়াম উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন।

মরিশাসের সংবাদমাধ্যম ডেফি মিডিয়া ও লেক্সপ্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্থানীয় সময় বিকেল ৫টা ৫৫ মিনিটের দিকে শ্রমিকেরা একটি কন্টেইনার থেকে কাচের প্যানেলভর্তি কাঠের বাক্স নামাচ্ছিলেন। এ সময় হঠাৎ বাক্সগুলো তাঁদের ওপর পড়ে গেলে তিনজনই চাপা পড়েন। ঘটনাস্থলেই তাঁদের মৃত্যু হয়।

ডেফি মিডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতিটি কাঠের বাক্স ছিল আট ফুট লম্বা ও ছয় ফুট চওড়া। বাক্সগুলোর ভেতরে ছয় মিলিমিটার পুরুত্বের একাধিক কাচের প্যানেল ছিল। দুর্ঘটনার সময় তিন শ্রমিকই কন্টেইনারের ভেতরে কাজ করছিলেন।

খবর পেয়ে প্লেইন-দে-পাপাই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে। পরে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা উদ্ধারকাজে অংশ নেন। বাক্সের নিচে আটকে থাকা তিন শ্রমিকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে দেশটির শ্রম মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও তদন্তের উদ্যোগ নিয়েছেন। কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তাবিধি যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছিল কি না এবং শ্রমিকদের প্রয়োজনীয় ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম (পিপিই) দেওয়া হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুর্ঘটনায় নিহত শ্রমিকদের স্বজনদের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে সংশ্লিষ্ট নিয়োগকর্তাকে। পরিবারের সদস্যরা চাইলে মরদেহ বাংলাদেশে পাঠানোর খরচও নিয়োগকর্তাকে বহন করতে হবে।