বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩
বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩

সেন্টমার্টিনে আসছে পর্যটক, দ্বীপে ফিরেছে ‘ঈদের আনন্দ’

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ১০:১১ অপরাহ্ণ
সেন্টমার্টিনে আসছে পর্যটক, দ্বীপে ফিরেছে ‘ঈদের আনন্দ’

দুপুর দেড়টা। সেন্টমার্টিন জেটিঘাটের পাশের একটি মুদির দোকানে বসে চা খাচ্ছিলেন জেলে মনজুর আলম (৬৫) ও মুদিদোকানি হামিদ হোসেন (৬০)। চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতে হাসিমুখে গল্প করছিলেন তারা। কথার ফাঁকে উঠে আসে গত দুই বছরের দুঃসহ দিনগুলোর কথা। পর্যটক কম আসা, দ্বীপে রাতযাপনে বিধিনিষেধ আর বেচাকেনার মন্দায় সংসার চালাতে কতটা হিমশিম খেতে হয়েছে, সেই অভিজ্ঞতাও শোনান তারা। তবে এবার তাদের চোখেমুখে স্বস্তি আর নতুন আশার ঝিলিক।

এবারের পর্যটন মৌসুম নিয়ে জানতে চাইলে দুই জনের কণ্ঠেই ফুটে ওঠে আনন্দ। তাদের ভাষায়, দীর্ঘদিন পর যেন ‘ঈদের আনন্দ’ ফিরে আসছে দ্বীপে।

কথা হলে মনজুর আলম ও হামিদ হোসেন বলেন, ‘গত দুই বছর সেন্টমার্টিনে পর্যটনের ওপর বিধিনিষেধের কারণে সংসারে খুব টানাপোড়েন গেছে। পর্যটকদের রাতযাপন বন্ধ থাকাসহ পর্যটকের সংখ্যা কমে যাওয়ায় বেচাকেনা ছিল খুবই কম। আয় কমে যাওয়ায় সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছিল। এখন পর্যটনের ওপর বিধিনিষেধ কিছুটা শিথিল হওয়ায় আমাদের ঈদের মতো খুশি লাগছে। আগের দুই বছর ঈদেও আমাদের মধ্যে সেই আনন্দ ছিল না।’

 

শুধু মনজুর আলম ও হামিদ হোসেন নন, পর্যটননির্ভর সেন্টমার্টিনের অনেক বাসিন্দার প্রত্যাশা এবার নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর। পর্যটন মৌসুম সামনে রেখে দ্বীপের ব্যবসায়ী, জেলে, হোটেল-মোটেলসংশ্লিষ্ট কর্মী, নৌযান শ্রমিক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে নতুন আশা। পর্যটকদের আনাগোনা বাড়লে আবারও সচল হবে দ্বীপের অর্থনীতি এমন প্রত্যাশা তাদের।

এদিকে সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১ নভেম্বর থেকে সেন্টমার্টিনে পর্যটকদের যাতায়াত শুরুর কথা ছিল। তবে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচলের প্রয়োজনীয় অনুমোদন না পাওয়ায় নির্ধারিত দিনে তা শুরু হয়নি। ৫ নভেম্বর কক্সবাজার থেকে সেন্টমার্টিনের জাহাজ চলাচল শুরু হচ্ছে।

সর্বশেষ ২৭ অক্টোবর আগের সিদ্ধান্ত সংশোধন করে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব সাবরীনা রহমান স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে ২০২৬ সালের ১ নভেম্বর থেকে ২০২৭ সালের ১৫ মার্চ পর্যন্ত পর্যটকদের সেন্টমার্টিন ভ্রমণের সুযোগ রাখা হয়। রাত্রীযাপনসহ সাড়ে চার মাসে দিনে সাড়ে তিন হাজার পর্যটক ভ্রমণে যাবেন। কিন্তু এর আগে গত দুই বছর নভেম্বরে দিনে গিয়ে দিনে ফেরা এবং ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে রাতযাপনের সুযোগ ছিল। সে সময়ে দৈনিক সর্বোচ্চ দুই হাজার পর্যটক দ্বীপে যেতেন।

 

সেন্টমার্টিনে আট বছর ধরে টমটম চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন মোহাম্মদ ছিদ্দিক। পশ্চিম সৈকতে যাত্রী নিয়ে যাওয়ার পথে কথা হয় তার সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘দুই বছর ধরে আয়-রোজগার প্রায় বন্ধ। পরিবারের আট সদস্য নিয়ে সংসার চালাতে গিয়ে ঋণের বোঝা দিন দিন বেড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে পর্যটন মৌসুমে বিধিনিষেধ কিছুটা শিথিল হওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘পর্যটন মৌসুম সামনে রেখে দ্বীপের সবার মধ্যে কর্মব্যস্ততা ফিরেছে। পর্যটননির্ভর ব্যবসায়ীরা নতুন করে কর্মী নিয়োগ দিচ্ছেন। হোটেল-মোটেল ও রিসোর্টগুলোতেও সংস্কারকাজ শুরু হয়েছে। সবমিলিয়ে ঈদের আগে যেমন ব্যস্ততা দেখা যায়, দ্বীপে এখন অনেকটা তেমন পরিবেশ। আশা করছি, এবার আয় বাড়লে অন্তত কিছুটা ঋণের বোঝা কমাতে পারবো।’

দ্বীপের বাসিন্দা মোহাম্মদ জয়নাল আবেদিন। জীবিকার তাগিদে বছরের বেশির ভাগ সময় তাকে দ্বীপের বাইরে থাকতে হয়। তবে পর্যটন মৌসুম সামনে রেখে এবার ফিরেছেন নিজ দ্বীপে। তিনি বলেন, ‘দ্বীপে কর্মসংস্থানের সুযোগ কম থাকায় আমার মতো অনেক যুবকই জীবিকার সন্ধানে বাইরে চলে গিয়েছিলেন। এবার পর্যটন মৌসুমে বিধিনিষেধ শিথিল হওয়ায় তারা আবার ফিরছেন। কমপক্ষে দুই শতাধিক তরুণ পর্যটকদের ছবি তোলার জন্য ফটোগ্রাফার হিসেবে কাজ করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। শুধু ফটোগ্রাফি নয়, বাইক চালানোসহ পর্যটনসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পেশায় যুক্ত হচ্ছেন আরও অনেকে। এতে দ্বীপে নতুন করে কর্মচাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।’

শাহপরীর দ্বীপের বাসিন্দা তরুণ রহমত উল্লাহও পর্যটন মৌসুম ঘিরে মোটরসাইকেল নিয়ে সেন্টমার্টিনে এসেছেন। পর্যটকদের পরিবহনসেবা দিয়ে বাড়তি আয়ের আশায় পুরো মৌসুম দ্বীপে থাকার পরিকল্পনা তার। তিনি বলেন, ‘পুরো পর্যটন মৌসুম সেন্টমার্টিনে অবস্থান করবো। মোটরসাইকেলের পাশাপাশি টমটমও ভাড়া দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। আশা করছি, এবার আগের তুলনায় আয়-রোজগার অনেক বাড়বে। সেই প্রত্যাশা থেকেই মৌসুম শুরুর আগেই দ্বীপে চলে এসেছি।’

স্থানীয়দের মতে, বঙ্গোপসাগরবেষ্টিত প্রবালদ্বীপটির অধিকাংশ মানুষের জীবিকা পর্যটননির্ভর। কেউ দোকানপাট, কেউ মাছ ও সামুদ্রিক খাবার বিক্রি, আবার কেউ হোটেল, রিসোর্ট, রেস্তোরাঁ কিংবা নৌযানে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। ফলে পর্যটক কমলে সরাসরি প্রভাব পড়ে তাদের আয়ে। গত দুই মৌসুমের স্থবিরতা কাটিয়ে এবার নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখছেন দ্বীপবাসী।

 

দ্বীপের বাসিন্দা তৈয়ব উল্লাহ বলেন, ‘জাহাজ চলাচল শুরু হলে দ্বীপের মানুষের জীবন-জীবিকায় আবারও গতি ফিরবে। কারণ, এখানকার অধিকাংশ মানুষ পর্যটননির্ভর। পর্যটন মৌসুম অনেকের কাছে ঈদের আনন্দের মতো। এ সময়টিকে ঘিরেই স্থানীয় মানুষের সারা বছরের আয়ের বড় একটি অংশ নির্ভর করে। তবে শুধু পর্যটনের ওপর নির্ভরশীল না রেখে দ্বীপের মানুষের টেকসই জীবিকা নিশ্চিত করতে সরকারের উচিত সরকারি উদ্যোগে বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা।’

সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ফয়েজুল ইসলাম বলেন, ‘দ্বীপের অধিকাংশ মানুষ জেলে ও পর্যটননির্ভর। এখানে বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ খুবই সীমিত। ফলে জীবিকার তাগিদে অনেকেই দিনে এনে দিনে খান। পর্যটন বন্ধ বা সীমিত থাকলে তাদের আয়-রোজগারেও বড় ধরনের প্রভাব পড়ে।’

তিনি আরও বলেন, ‘দুই বছর পর পর্যটন ঘিরে দ্বীপের মানুষের মধ্যে আবারও কর্মচাঞ্চল্য ফিরেছে। তাদের মধ্যে ঈদের মতো আনন্দ বিরাজ করছে। পর্যটকদের বরণ করে নিতে দ্বীপবাসী প্রস্তুত। পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষায় স্থানীয়দের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো হচ্ছে।’

টেকনাফের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম অনীক চৌধুরী বলেন, ‘পর্যটকদের আগমন সামনে রেখে দ্বীপের মানুষের মধ্যে আনন্দ-উচ্ছ্বাস দেখা যাচ্ছে। কারণ, সেন্টমার্টিনের অধিকাংশ মানুষ পর্যটনের ওপর নির্ভরশীল। পর্যটন মৌসুমে তাদের কর্মব্যস্ততা ও আয়-রোজগার দুটোই বাড়ে।’

তিনি আরও বলেন, ‘দ্বীপবাসী যেন পুরোপুরি পর্যটনের ওপর নির্ভরশীল না হয়ে বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে পারেন, সে বিষয়েও প্রচেষ্টা চলছে। বিশেষ করে পর্যটন মৌসুমে দ্বীপের পরিবেশ সুরক্ষা, পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।’

Ads small one

৭ নভেম্বর উপলক্ষে সাতক্ষীরায় বিএনপির বর্ণাঢ্য র‌্যালি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ১২:২৫ পূর্বাহ্ণ
৭ নভেম্বর উপলক্ষে সাতক্ষীরায় বিএনপির বর্ণাঢ্য র‌্যালি

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আগামী ৭ নভেম্বর সাতক্ষীরায় বর্ণাঢ্য র‌্যালি করবে জেলা বিএনপি। বুধবার (৪ নভেম্বর) জেলা বিএনপির প্রস্তুতি সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

কর্মসূচি অনুযায়ী, ৭ নভেম্বর শনিবার বিকেল সাড়ে ৩টায় সাতক্ষীরা শহরের মোজাহারের পেট্রোল পাম্পের পাশে সদর-২ আসনে বিএনপির মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী আলহাজ আবদুর রউফের মাইক্রো গ্যারেজ থেকে র‌্যালিটি শুরু হবে।

র‌্যালিতে জেলার সব উপজেলা ও পৌর বিএনপির পাশাপাশি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের স্ব স্ব ব্যানার ও ফেস্টুনসহ অংশ নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ৮ নভেম্বর জেলার সব উপজেলায় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত হয়েছে।

বুধবার জেলা বিএনপির সদস্যসচিব আবু জাহিদ ডাবলু স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এসব কর্মসূচির কথা জানানো হয়। প্রেসবিজ্ঞপ্তি

এবার শীতে ৬ শৈত্যপ্রবাহের পূর্বাভাস

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ১২:০৫ পূর্বাহ্ণ
এবার শীতে ৬ শৈত্যপ্রবাহের পূর্বাভাস

এবার শীত মৌসুমে দেশে সর্বোচ্চ ছয়টি শৈত্যপ্রবাহের আশঙ্কা রয়েছে। এর মধ্যে দুই থেকে তিনটি শৈত্যপ্রবাহ তীব্র আকার ধারণ করতে পারে। এসব শৈত্যপ্রবাহের সময় তাপমাত্রা কমে ৪ থেকে ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে দাঁড়াতে পারে।

পাশাপাশি শীতের শেষরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে নদ-নদীর অববাহিকায় কুয়াশার ঘনত্ব বেশি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

নভেম্বর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত তিন মাসের আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এসব তথ্য জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

১ নভেম্বর প্রকাশিত পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, এ সময়ে দেশে চার থেকে ছয়টি মৃদু থেকে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। এর মধ্যে মৃদু শৈত্যপ্রবাহে তাপমাত্রা ৮ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং মাঝারি শৈত্যপ্রবাহে ৬ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নামতে পারে। এ ছাড়া দুই থেকে তিনটি শৈত্যপ্রবাহ তীব্র আকার ধারণ করতে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী তিন মাসে দেশে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। বঙ্গোপসাগরে দুই থেকে চারটি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে। এর মধ্যে এক থেকে দুটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। একই সময়ে দিন ও রাতের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকতে পারে।

পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, শেষরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের কোথাও কোথাও এবং নদ-নদীর অববাহিকায় মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে। দেশের অন্যান্য এলাকায় হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা দেখা যেতে পারে। ঘন কুয়াশার কারণে দিন ও রাতের তাপমাত্রার পার্থক্য কমে আসতে পারে। এতে তাপমাত্রা তুলনামূলক বেশি থাকলেও শীতের অনুভূতি বাড়তে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের অক্টোবর মাসে দেশে স্বাভাবিকের তুলনায় ৬৮ শতাংশ কম বৃষ্টিপাত হয়েছে। ওই মাসে ৯ অক্টোবর দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশ থেকে বিদায় নেয়। অক্টোবর মাসে বঙ্গোপসাগরে দুটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়। এর মধ্যে একটি ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’-এ রূপ নেয়। পরে ঘূর্ণিঝড়টি প্রবল ও অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়ে ২৮ অক্টোবর ভারতের অন্ধ্র উপকূল অতিক্রম করে।

অক্টোবর মাসে সক্রিয় মৌসুমি বায়ুপ্রবাহ ও ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষিপ্তভাবে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাত হয়। এ সময় বজ্রসহ দমকা ও ঝোড়ো হাওয়াও বয়ে যায়। ২ অক্টোবর সিলেটের শ্রীমঙ্গলে ওই মাসে দেশের সর্বোচ্চ দৈনিক বৃষ্টিপাত ৬৪ মিলিমিটার রেকর্ড করা হয়।

এ ছাড়া অক্টোবরের বিভিন্ন সময়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিক্ষিপ্তভাবে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যায়। সিলেটে ১৭ অক্টোবর ওই মাসে দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৭ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়।

অন্যদিকে, সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৫ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা ২৭ অক্টোবর তেঁতুলিয়ায় রেকর্ড করা হয়। মাসটিতে দেশের সর্বোচ্চ, সর্বনিম্ন ও গড় তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় যথাক্রমে ১ দশমিক ৮, শূন্য দশমিক ৪ ও ১ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি ছিল।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, নভেম্বর মাসে দেশের মাটির আর্দ্রতা ২৫ থেকে ৪৫ শতাংশের মধ্যে থাকতে পারে। বিভাগভেদে বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাসে দেখা গেছে, ঢাকা, ময়মনসিংহ, সিলেট ও খুলনায় স্বাভাবিকের তুলনায় কিছুটা কম বৃষ্টিপাত হতে পারে। অন্যদিকে চট্টগ্রাম, রাজশাহী, রংপুর ও বরিশাল বিভাগে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।

আবহাওয়ার এ পূর্বাভাস তৈরিতে প্রাপ্ত আবহাওয়া উপাত্ত, ঊর্ধ্বাকাশের আবহাওয়ার বিন্যাস, বায়ুমণ্ডলের বিভিন্ন স্তরের বিশ্লেষণ, জলবায়ু মডেল, এল-নিনো ও লা-নিনার অবস্থা এবং আন্তর্জাতিক আবহাওয়া সংস্থাগুলোর পূর্বাভাস পর্যালোচনা করা হয়েছে।

রাজধানীর বায়ুদূষণে পরিবহন খাতের দায় ৫০ শতাংশ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ১১:৪৮ অপরাহ্ণ
রাজধানীর বায়ুদূষণে পরিবহন খাতের দায় ৫০ শতাংশ

রাজধানীর বায়ুদূষণের বড় একটি অংশের জন্য দায়ী পরিবহন খাত। এ দূষণ নিয়ন্ত্রণে ফিটনেসবিহীন ও অতিরিক্ত ধোঁয়া নির্গমনকারী যানবাহন চলাচল বন্ধ, মানসম্মত জ্বালানি ও লুব্রিকেন্টের ব্যবহার নিশ্চিত এবং চালকদের পরিবেশবান্ধব গাড়ি চালানোর প্রশিক্ষণ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনরা। একই সঙ্গে সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, যানজট কমানো এবং পরিবহন খাতে বিদ্যমান আইন কঠোরভাবে বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তারা।

বুধবার (৪ নভেম্বর) রাজধানীর বনানীতে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) কার্যালয়ে কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এসব দাবি ও সুপারিশ তুলে ধরা হয়।

ক্যাবের সভাপতি এ এইচ এম সফিকুজ্জামানের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বিআরটিএর চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাবীবুর রহমান। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বায়ুমণ্ডলীয় দূষণ অধ্যয়ন কেন্দ্রের (ক্যাপস) চেয়ারম্যান ও স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আহমদ কামরুজ্জমান মজুমদার।

সভাপতির বক্তব্যে এ এইচ এম সফিকুজ্জামান বলেন, ঢাকার বায়ুদূষণের অন্তত ৫০ শতাংশের জন্য পরিবহন খাত দায়ী। এ দূষণের কারণে ক্যানসার, হৃদরোগসহ নানা ধরনের মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে। পরিবহন খাতের দূষণ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হলে অন্তত ১০ শতাংশ স্বাস্থ্যব্যয় কমানো যেতে পারে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে আইন অমান্য করাকে এখন কিছু মানুষের কাছে গর্বের বিষয় হিসেবে দেখা হয়। এ মানসিকতার কারণে সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা কঠিন হয়ে পড়েছে। পরিস্থিতির পরিবর্তনে ক্যাব, বাপাসহ অন্যান্য নাগরিক সংগঠনকে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে। সংশ্লিষ্ট অংশীজনরা যেন নিজ নিজ দায়িত্ব ও কর্তব্য যথাযথভাবে পালন করেন, সে বিষয়ে নাগরিক সংগঠনগুলোকে সোচ্চার হতে হবে।

মূল প্রবন্ধে ঢাকার বায়ুদূষণের ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরে অধ্যাপক কামরুজ্জমান বলেন, রাজধানীর আব্দুল্লাহপুর, মিরপুর-১০, গুলিস্তান ও গাবতলীসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় বায়ুদূষণের মাত্রা অত্যন্ত বেশি। এমনকি ধানমন্ডি, গুলশান ও শাহবাগের মতো এলাকাতেও মাত্রাতিরিক্ত দূষণ হচ্ছে।

গবেষণার তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, শুধু দিনের বেলাতেই নয়, মাঝরাত ও ভোররাতেও রাজধানীতে বায়ুদূষণের মাত্রা বেড়ে যাচ্ছে। এর অন্যতম কারণ সিটি করপোরেশনের রাস্তা ঝাড়ু দেওয়ার কার্যক্রম, ভবন নির্মাণকাজ এবং ভারী পণ্যবাহী ট্রাকের চলাচল। আব্দুল্লাহপুর থেকে সদরঘাট পর্যন্ত বাসরুটের অধিকাংশ এলাকাই বায়ুদূষণের ঝুঁকিতে রয়েছে। তবে নিকুঞ্জ ও বিমানবন্দর এলাকায় বায়ুর মান তুলনামূলক ভালো।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) সাধারণ সম্পাদক আলমগীর কবির বলেন, পরিবেশদূষণ রোধে ইমারত নির্মাণসংক্রান্ত আইন ও বিধিমালা থাকলেও সেগুলোর যথাযথ প্রয়োগ হচ্ছে না। ফলে নগরবাসী কার্যত একটি গ্যাস চেম্বারের মধ্যে বসবাস করছে। দূষণের কারণে মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকির পাশাপাশি চিকিৎসাব্যয়ও বাড়ছে।

তিনি অভিযোগ করেন, দূষণ নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে থাকা প্রভাবশালী রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ব্যক্তিদের একটি অংশ নিজেরাই বিভিন্ন ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। ফলে প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের কাছে সাধারণ মানুষ জিম্মি হয়ে পড়েছে।

সভায় সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা প্রতিনিধিরা বলেন, রাজধানীর সড়ক ও ফুটপাত দখল হয়ে যাওয়ায় যানজট বাড়ছে। এতে যানবাহনের জ্বালানি খরচ বৃদ্ধি পাচ্ছে। বারবার ব্রেক করা ও পুনরায় গতি বাড়ানোর কারণে কার্বন নিঃসরণও বাড়ছে।

কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) আয়োজিত আলোচনা সভা

তাদের মতে, পরিবেশ সুরক্ষায় সড়কে যানবাহনের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করার পাশাপাশি গতির ধারাবাহিকতা বজায় রাখার ব্যবস্থা করতে হবে। একই সঙ্গে যানবাহনের ফিটনেস নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

অন্যদিকে, গণপরিবহনে পুরোনো ইঞ্জিন ব্যবহার করা হচ্ছে না বলে দাবি করেন সড়ক পরিবহন মালিকপক্ষের নেতারা। তাদের মতে, মানহীন জ্বালানি তেল ও ভেজাল মবিলের কারণে যানবাহন থেকে কালো ধোঁয়া নির্গমনের পরিমাণ বাড়ছে। এ সমস্যা সমাধানে জ্বালানি তেল ও লুব্রিকেন্টের মান নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনকে (বিএসটিআই) আরও কঠোর হওয়ার আহ্বান জানান তারা। পাশাপাশি গাড়ি আমদানির ক্ষেত্রে মান যাচাই এবং চালকদের জন্য সরকারি উদ্যোগে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার দাবি জানান।

বিআরটিএর পরিচালক রুবাইয়াত-ই-আশিক বলেন, ঢাকার বায়ুদূষণ কমাতে যানবাহনের ফিটনেস ও নির্গমন পরীক্ষা আরও কার্যকর করা প্রয়োজন। মেয়াদোত্তীর্ণ, অনুপযুক্ত ও অতিরিক্ত ধোঁয়া নির্গমনকারী যানবাহনের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা এবং আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।

তিনি আরও বলেন, পরিবহন মালিকদের নিয়মিত যানবাহন রক্ষণাবেক্ষণ এবং চালকদের পরিবেশবান্ধব গাড়ি চালানোর প্রশিক্ষণ দেওয়া জরুরি। এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বয়ে কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করতে হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে গণপরিবহন বিশেষজ্ঞ ও ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) সাবেক নির্বাহী পরিচালক ড. এস এম সালাউদ্দীন বলেন, রাজধানীর বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে শুধু আইন ও নীতিমালা প্রণয়নই যথেষ্ট নয়। এগুলোর কার্যকর বাস্তবায়ন, নিয়মিত নজরদারি এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। এ ক্ষেত্রে সরকার, পরিবহন মালিক-শ্রমিক, চালক, নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও নাগরিক সংগঠনগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিআরটিএ চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাবীবুর রহমান বলেন, নানা সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও প্রতিদিন যানবাহনের ফিটনেস পরীক্ষা করা হচ্ছে। পরীক্ষায় ফিটনেসবিহীন অন্তত ১৫ থেকে ২০টি গাড়ি প্রতিদিন ডাম্পিং করা হচ্ছে। পাশাপাশি নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে। সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা ও পরিবেশ সুরক্ষায় বিআরটিএর কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।