রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩
রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩

অবহেলা ও সংরক্ষণের অভাবে অস্তিত্ব সংকটে বুধহাটার দ্বাদশ শিব ও কালীমন্দির

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৭ নভেম্বর, ২০২৬, ৩:১৬ অপরাহ্ণ
অবহেলা ও সংরক্ষণের অভাবে অস্তিত্ব সংকটে বুধহাটার দ্বাদশ শিব ও কালীমন্দির

সচ্চিদানন্দ দে সদয়, আশাশুনি: সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার বুধহাটা বাজারের অদূরে বেতনা নদীর তীরে অবস্থিত প্রায় ৩০০ বছরের পুরোনো দ্বাদশ শিব ও কালীমন্দির। একসময় পাশাপাশি দাঁড়িয়ে ছিল ১২টি শিবমন্দির। প্রতিটি মন্দিরে ছিল কষ্টিপাথরের শিবলিঙ্গ। কিন্তু সময়ের বিবর্তন, অবহেলা ও যথাযথ সংরক্ষণের অভাবে ঐতিহ্যের বড় অংশ হারিয়ে গেছে। বর্তমানে ১২টি মন্দিরের মধ্যে ছয়টি এবং ১২টি শিবলিঙ্গের মধ্যে মাত্র দুটি টিকে আছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। অবশিষ্ট স্থাপনাগুলোও সংস্কারের অভাবে জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে।

স্থানীয় প্রবীণ শিক্ষক সাধন কুমার দে ও এলাকার বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তিদের কাছ থেকে জানা যায়, বাংলা ১১৪৬ সালে খুলনার পাইকগাছা উপজেলার রাড়ুলি গ্রামের জমিদার রাজা রাজবংশী মন্দিরটি প্রতিষ্ঠা করেন। সে সময় বুধহাটায় তাঁর কাছারি ছিল। জমিদারি খাজনা আদায়ের কাজে তিনি নৌকা বা বজরা নিয়ে সেখানে আসতেন।

স্থানীয়ভাবে প্রচলিত কাহিনি অনুযায়ী, একবার খাজনা আদায়ের কাজে এসে তিনি রাতে কাছারিতে ঘুমিয়ে পড়েন। স্বপ্নে দেবী তাঁকে বুধহাটায় মন্দির প্রতিষ্ঠার নির্দেশ দেন। গভীর রাতে ঘুম ভেঙে তিনি নদীতে একটি সাজানো পূজার ঘট ভাসতে দেখেন। দিনটি ছিল চৈত্র মাসের শেষ মঙ্গলবার। তিনি ঘটটি তুলে এনে পূজা করেন এবং সেখানে মন্দির প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেন। স্থানীয়দের বিশ্বাস, সেই উদ্যোগ থেকেই দ্বাদশ শিব ও কালীমন্দিরের গোড়াপত্তন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মন্দিরের পূজা-অর্চনা ও পরিচালনার জন্য জমিদার রাজা রাজবংশী ৭৪ একর জমি দান করেছিলেন। তবে সময়ের সঙ্গে সেই সম্পত্তি কমে বর্তমানে মাত্র ২ দশমিক ০৩ একর অবশিষ্ট রয়েছে বলে স্থানীয়দের দাবি। মন্দিরের জমির একাংশে গরুর হাট বসে। কিন্তু ওই হাট থেকে মন্দির পরিচালনা কমিটি কোনো আয় পায় না বলে অভিযোগ রয়েছে।

মন্দিরের সম্পত্তির সঠিক হিসাব নিরূপণ, জমির সীমানা নির্ধারণ এবং বেদখল হয়ে থাকলে তা উদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাঁদের মতে, সম্পত্তি যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা গেলে মন্দিরের নিয়মিত পূজা-পার্বণ ও সংস্কারকাজ পরিচালনা সহজ হবে।

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় মন্দিরটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। স্বাধীনতার পরও দীর্ঘদিন এর উল্লেখযোগ্য সংস্কার হয়নি। ১৯৭৬ সালের দিকে নওয়াপাড়ার দিনবন্ধু সরকার এবং মহাজনপুরের কার্তিক দেবনাথ ও রমেশ দেবনাথ নিজেদের অর্থায়নে সংস্কারকাজ শুরু করেন। তবে প্রয়োজনীয় অর্থের অভাবে সেই উদ্যোগ বেশি দূর এগোয়নি।

পরবর্তী সময়ে আত্মচৈতন্য সংঘের প্রতিষ্ঠাতা বিল্বমঙ্গল দেবনাথ এবং নবজাগরণী সাংস্কৃতিক সংঘের সাধারণ সম্পাদক ও সাংবাদিক সচ্চিদানন্দ দে সদয়ের তত্ত্বাবধানে মন্দিরটি রক্ষা ও সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়। বিভিন্ন সময়ে সংগঠনের পক্ষ থেকে মন্দিরের অবস্থা তুলে ধরে সংস্কারের জন্য সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। ২০২১ সালে হিন্দুধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের পক্ষ থেকে ১০ লাখ টাকা অনুদান পাওয়া যায়।

মন্দিরের পুরোহিত অসীম ব্যানার্জী জানান, এখানে প্রতিদিন নিত্যপূজা, সাপ্তাহিক হরিবাসর এবং চৈত্র মাসজুড়ে শিবপূজা ও জল ঢালার আয়োজন করা হয়। এ ছাড়া প্রতিবছর শিবরাত্রি, জন্মাষ্টমী, নামযজ্ঞ, জগদ্ধাত্রী পূজা ও সরস্বতী পূজাসহ বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠান হয়। তবে মন্দিরের উন্নয়ন ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধার অভাবে ধর্মীয় কার্যক্রম পরিচালনায় নানা অসুবিধা হয়।

বিশিষ্ট ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব ও ভাগবতীয় আলোচক বিল্বমঙ্গল দেবনাথ বলেন, “বুধহাটার দ্বাদশ শিব ও কালীমন্দির শুধু একটি ধর্মীয় উপাসনালয় নয়, এটি বহু শত বছরের ধর্মীয়, আধ্যাত্মিক ও ঐতিহাসিক ঐতিহ্যের স্মারক। এমন একটি প্রাচীন মন্দির অবহেলা ও অযত্নে পড়ে থাকা অত্যন্ত দুঃখজনক। মন্দিরটির জরুরি সংস্কার ও সংরক্ষণে উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। এ জন্য সরকার, হিন্দুধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট, স্থানীয় প্রশাসন ও বিত্তবান ধর্মপ্রাণ মানুষের সম্মিলিত সহযোগিতা দরকার।”

মন্দিরের সভাপতি সচ্চিদানন্দ দে সদয় বলেন, “এই মন্দির শুধু পূজা-অর্চনার স্থান নয়, এটি কয়েক শত বছরের ইতিহাস ও সংস্কৃতির পরিচয় বহন করে। একসময় এখানে ১২টি মন্দির ও ১২টি শিবলিঙ্গ ছিল। আজ তার অধিকাংশই হারিয়ে গেছে। ব্যক্তিগত ও সাংগঠনিক উদ্যোগে যতটুকু সম্ভব হয়েছে, তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই সামান্য। মন্দিরটির পূর্ণাঙ্গ সংস্কার ও সংরক্ষণে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা এবং বিশেষজ্ঞদের সহযোগিতা প্রয়োজন।”

মন্দিরের সাধারণ সম্পাদক অজয় পাইন বলেন, “এই মন্দির সংরক্ষণ করা গেলে এলাকার ইতিহাস ও ধর্মীয় ঐতিহ্য রক্ষা পাবে। নতুন প্রজন্মও জানতে পারবে তাদের পূর্বপুরুষদের রেখে যাওয়া সম্পদের কথা। মন্দিরের জমি জরিপ করে সঠিক সীমানা নির্ধারণ, বেদখল হয়ে থাকলে জমি উদ্ধার এবং দ্রুত সংস্কারের ব্যবস্থা করতে হবে। পাশাপাশি মন্দিরটিকে সরকারি স্বীকৃতি দিয়ে সংরক্ষণের আওতায় আনা প্রয়োজন।”

এদিকে মন্দিরটির উন্নয়ন ও ধর্মীয় কার্যক্রম সম্প্রসারণে ব্যক্তিগত ও সাংগঠনিক উদ্যোগে নতুন কিছু কাজ শুরু হয়েছে। মন্দির প্রাঙ্গণে রাধাগোবিন্দ মন্দির নির্মাণের কাজ চলছে। পাশাপাশি ভক্তদের রাত্রিযাপনের জন্য আবাসিক ভবন নির্মাণ, জগদ্ধাত্রী মন্দির ও গ্রহরাজ মন্দির প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনাও রয়েছে। উদ্যোক্তাদের লক্ষ্য, মন্দির প্রাঙ্গণকে একটি পূর্ণাঙ্গ তীর্থস্থান ও ধর্মীয় কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা।

তবে এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রয়োজন বিপুল অর্থ। এ জন্য সরকারি সহায়তার পাশাপাশি হিন্দুধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট, সংশ্লিষ্ট দপ্তর, দেশ-বিদেশে বসবাসরত সনাতন ধর্মাবলম্বী, ভক্ত ও বিত্তবান ব্যক্তিদের সহযোগিতা কামনা করেছেন উদ্যোক্তারা। তাঁদের মতে, সম্মিলিত উদ্যোগ নেওয়া গেলে মন্দিরের অবশিষ্ট স্থাপনা রক্ষা, সংস্কার ও নতুন অবকাঠামো নির্মাণ সম্ভব হবে।

সাতক্ষীরা শহর থেকে আশাশুনি সড়ক ধরে প্রায় ১৪ থেকে ১৬ কিলোমিটার পথ পেরিয়ে বুধহাটা বাজারে পৌঁছানো যায়। বাজারের কাছেই বেতনা নদীর তীরে মন্দিরটির অবস্থান। আশাশুনি সদর থেকেও সড়কপথে সেখানে যাওয়া যায়।

প্রায় তিন শত বছরের ইতিহাস ও ঐতিহ্য বহনকারী বুধহাটার দ্বাদশ শিব ও কালীমন্দির এখন সংরক্ষণের অপেক্ষায়। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সরকারি উদ্যোগ, ধর্মীয় সংগঠন ও সাধারণ মানুষের সম্মিলিত সহযোগিতায় মন্দিরটির অবশিষ্ট স্থাপনা রক্ষা এবং হারানো ঐতিহ্যের স্মৃতি সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য টিকে থাকবে এ অঞ্চলের ইতিহাস ও ধর্মীয় সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন।

Ads small one

যুক্তরাষ্ট্রে এবার ৯৭ মুসলিম প্রার্থী জয়ী, নেপথ্যে কী?

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ৯ নভেম্বর, ২০২৬, ১:০৬ পূর্বাহ্ণ
যুক্তরাষ্ট্রে এবার ৯৭ মুসলিম প্রার্থী জয়ী, নেপথ্যে কী?

ইসলামোফোবিয়া ও ইসলামবিরোধী প্রচারণার রেকর্ড বৃদ্ধির মধ্যেও যুক্তরাষ্ট্রের সদ্য সমাপ্ত মধ্যবর্তী নির্বাচনে বিভিন্ন স্তরে রেকর্ড সংখ্যক মুসলিম আমেরিকান জয়ী হয়েছেন। কাউন্সিল অন আমেরিকান ইসলামিক রিলেশনসের (কেয়ার) তথ্য অনুযায়ী, ফেডারেল, অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় পর্যায় মিলিয়ে অন্তত ৯৭ জন মুসলিম আমেরিকান প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন।

চলতি নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটিক ও রিপাবলিকান দুই দল মিলিয়ে মোট ১৬৮ জন মুসলিম আমেরিকান প্রার্থী প্রাথমিক পর্ব (প্রাইমারি) পার হয়ে চূড়ান্ত লড়াইয়ে অংশ নেন। এখনও ডাকযোগে আসা ভোট গণনা চলায় আরও এক ডজনের বেশি প্রার্থীর জয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। নিউ ইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানির সাম্প্রতিক ঐতিহাসিক বিজয় এবং তরুণ প্রজন্মের রাজনৈতিক সক্রিয়তা এই রেকর্ড জয়ে বড় অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

আমেরিকান আইনসভার উচ্চকক্ষ সিনেটে প্রথমবার কোনও মুসলিম প্রতিনিধি হিসেবে ছয় বছরের মেয়াদে নির্বাচিত হয়ে ইতিহাস গড়েছেন আবদুল এল-সাইয়েদ। এ ছাড়া প্রতিনিধি পরিষদে (হাউস অব রিপ্রেজেনটেটিভস) বিজয়ী হয়েছেন ছয়জন মুসলিম আমেরিকান। তারা হলেন, পুনর্নির্বাচিত ইলহান ওমর, রশিদা তাইব, আন্দ্রে কারসন ও লাতিফাহ সাইমন এবং নতুন বিজয়ী অ্যাডাম হামাভি ও দারিয়ালিজা অ্যাভিলা শেভালিয়ার। কেয়ারের তথ্যমতে, এই ৭ জন ছাড়া রাজ্য আইনসভা ও অ্যাটর্নি জেনারেলসহ ৩৯টি রাজ্যপর্যায়ের পদে, স্থানীয় কাউন্টি ও পৌরসভায় ১৬টি পদে, শিক্ষা ও স্কুল বোর্ডে ২৭টি পদে এবং বিচারক হিসেবে ৮ জন মুসলিম বিজয়ী হয়েছেন।

ইসলামিক পাবলিক অ্যাফেয়ার্স কাউন্সিল (এমপ্যাক) এবং অন্যান্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে প্রায় ৫৫ লাখ মুসলিম বাস করেন, যা দেশটির মোট জনসংখ্যার মাত্র ১ শতাংশ। ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমলে ও রিপাবলিকান পার্টিতে ইসলামবিরোধী বক্তব্য ও অপপ্রচার এক প্রজন্মের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে থাকা সত্ত্বেও এবার ভোটারদের উপস্থিতি ছিল অভূতপূর্ব। বিগত এক বছরে মুসলিমদের ভোটার নিবন্ধনের হার অন্তত ২৫ শতাংশ বেড়েছে এবং জরিপ অনুযায়ী ৯৩ শতাংশ মুসলিম ভোটকেন্দ্রে গিয়েছেন। এদের মধ্যে ৮০ শতাংশ ডেমোক্র্যাটদের ভোট দিয়েছেন।

তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, মুসলিম আমেরিকানরা কেবল দল দেখে নয়, বরং নীতির ভিত্তিতে ভোট দেন। অলাভজনক সংস্থা জর্জিয়া মুসলিম ভোটার প্রজেক্ট-এর যোগাযোগ পরিচালক উরুজ আলী জানান, মুসলিম ভোটাররা দলের চেয়ে নীতির ওপর ভিত্তি করে ভোট দেওয়ার প্রবণতা দেখান। অনেকেই নিজেদের দলীয় পরিচয়ের চেয়ে স্বতন্ত্র ভাবতেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।

গাজায় ইসরায়েলের হামলা ও ফিলিস্তিনিদের মানবাধিকার রক্ষা এই নির্বাচনে মুসলিম ভোটারদের বড় চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করেছে। কেয়ারের জরিপে ৭০ শতাংশ মুসলিম জানান, ইসলামফোবিয়ার প্রতিবাদ হিসেবেই তারা ভোট দিতে অনুপ্রাণিত হয়েছেন এবং ৮০ শতাংশের মতে গাজা পরিস্থিতি তাদের সিদ্ধান্তের পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে।

নতুন বিজয়ী মুসলিম নেতৃত্বের ধরণ নিয়ে মুসলিম পাবলিক সার্ভিস-এর প্রধান আহমেদ মাতি বলেন, আমাদের সম্প্রদায়ের সদস্যরা এখন জাতীয় ও স্থানীয় নীতি নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখছেন। এই জয় বছরের পর বছর ধরে চলা সামাজিক প্রচেষ্টা ও পরিশ্রমের ফসল।

অন্যদিকে, ডেমোক্র্যাটিক আবদুল এল-সাইয়েদের মতো প্রার্থীরা নিজেদের ধর্মীয় বিশ্বাস ও মূল্যবোধকে এড়িয়ে না গিয়ে গর্বের সঙ্গে তুলে ধরেই ভোটারদের আস্থা অর্জন করেছেন। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আমেরিকান রাজনীতিতে এই জয় কেবল মুসলিম সম্প্রদায়ের নয়, বরং বহুমাত্রিক আমেরিকান বৈচিত্র্যের এক বড় অগ্রগতি।

সূত্র: মিডল ইস্ট আই

রাজধানীতে এবার স্কুল বাসে আগুন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ৯ নভেম্বর, ২০২৬, ১:০২ পূর্বাহ্ণ
রাজধানীতে এবার স্কুল বাসে আগুন

রাজধানীর ভাটারার ১০০ ফিট এলাকায় একটি স্কুল বাসে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। রবিবার (৮ নভেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে এই ঘটনা ঘটে। তবে এতে হতাহতের কোনও খবর পাওয়া যায়নি।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, সন্ধ্যার দিকে জলসিড়ি ক্যান্টনমেন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের একটি বাসে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা।

ভাটারা থানার কর্তব্যরত অফিসার দেবাশীষ রায় ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে রয়েছেন। কারা, কীভাবে আগুন দিল এখনও সেটি জানা যায়নি। তদন্ত শেষে বলা যাবে।

প্রসঙ্গত, গত কয়েকদিন ধরেই রাজধানীতে বিভিন্ন বাসে আগুন, ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটছে। গতকাল শনিবারও রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ককটেল ও বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। বিশেষ করে কয়েক দিনে রাজধানীতে অন্তত আটটি বাসে আগুন ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অর্ধশতাধিক ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে করে জনমনে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।

বিভিন্ন স্থানে ককটেল বিস্ফোরণ ও গণপরিবহনে অগ্নিসংযোগের ঘটনাগুলো জনমনে আতঙ্ক তৈরি এবং নাশকতার উদ্দেশ্যে করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। রবিবার (৮ নভেম্বর) রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. আকতার হোসেন।

মিরপুরে প্রাইভেট কারের ওপর ককটেল বিস্ফোরণ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ৯ নভেম্বর, ২০২৬, ১:০১ পূর্বাহ্ণ
মিরপুরে প্রাইভেট কারের ওপর ককটেল বিস্ফোরণ

রাজধানীর মিরপুর-১ এর সনি হলের সামনে একটি প্রাইভেট কারের ওপর ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। রবিবার (৮ নভেম্বর) রাত সাড়ে ৮টায় এ ঘটনা ঘটে। তবে এতে কেউ হতাহত হননি।

মিরপুর মডেল থানার ওসি মো. হাফিজুর রহমান বলেন, সনি হলের সামনে একটি প্রাইভেট কার লক্ষ্য করে ককটেল নিক্ষেপ করে বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে। তবে কেউ হতাহত হয়নি।

তিনি বলেন, মোটরসাইকেলে করে আসা লোক এ হামলা চালিয়েছে বলে জানা গেছে। ঘটনায় জড়িতদের শনাক্তে কাজ চলছে।