বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩

বীর মুক্তিযোদ্ধা স.ম আলাউদ্দীন ছিলেন আধুনিক সাতক্ষীরার রূপকার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ জুলাই, ২০১২, ১০:৫৫ পূর্বাহ্ণ
বীর মুক্তিযোদ্ধা স.ম আলাউদ্দীন ছিলেন আধুনিক সাতক্ষীরার রূপকার

মুজিবর রহমান : বীর মুক্তিযোদ্ধা জননেতা স.ম আলাউদ্দীন ছিলেন সাতক্ষীরার রূপকার। তিনি সাতক্ষীরার সার্বিক উন্নায়নে আমৃত্য লড়াই করে গেছেন। অন্যায়কে কখন প্রশ্রয় দেন নি। তিনি আজীবন গরীব দুঃখী মেহনতী মানুষের জন্য সংগ্রাম করে গেছেন। প্রথিমধ্যে ঘাতকের একটি তাজা বুলেট কেড়ে নিল সেই মানুষটিকে। আর নিভে গেল সাতক্ষীরার উন্নায়নের সেই জীবন প্রদিপ। যার জন্ম ১৯৪৫ সালের ২৯শে আগষ্ট। তালা উপজেলার নগরঘাটা ইউনিয়নে মিঠাবাড়ী গ্রামে তার বাড়ি। পিতা-মরহুম সৈয়দ আলী সরদার। স.ম আলাউদ্দীন  ১৯৬২ সালে এস,এস,সি ১৯৬৪ এইচ, এস, সি এবং ১৯৬৭ সালে খুলনা বিএল কলেজ থেকে বিএ ও ১৯৭৫ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এম এ পাস করেন। ১৯৬৭ সালের প্রথম দিকে তিনি ছাত্রলীগের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হন এবং পরবর্তীতে আওয়ামী লীগে যোগদান করেন। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে তালা কলারোয়া নির্বাচনী এলাকা থেকে প্রাদেশিক সদস্য নির্বাচীত হন। এরপর কয়েক বার তালা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সহ বিভিন্ন পদে অধিষ্টিত হন। বর্নাঢ্য রাজনৈতিক জীবনে একাধিক বার কারা বরণ করেন। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে তিনি অংশ গ্রহণ করেন এবং দেশের স্বাধীনতা রক্ষার্থে তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। তালার জালালপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষাগতার মধ্যে দিয়ে তিনি কর্মজীবন শুরু করেন। এরপর পাটকেলঘাটা বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়েও তিনি কিছুদিন শিক্ষাগতা করেন। তিনি ছিলেন সমাজসেবক গরীব দুঃখি মেহনতী মানুষের অকৃতিম বন্ধু। মৃত্যুর ২বছর পূর্বে খুলনা সাতক্ষীরা মহাসড়কের কাপাসডাঙ্গা নামক স্থানে আলাউদ্দীন ফুডস্ এন্ড কেমিক্যাল নামক একটি বিস্কুট ফ্যাক্টারী প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি বঙ্গবন্ধু পেশা ভিত্তিক স্কুল এন্ড কলেজের প্রতিষ্ঠাতা এবং অধ্যাক্ষ ছিলেন। এছাড়া সাতক্ষীরা চেম্বার অব কমার্সের প্রতিষ্ঠাতা  সভাপতি ভোমরা স্থাল বন্দর ব্যাবহারকারী সমিতির সভাপতি। সাতক্ষীরা জেলা ট্রাক মালিক সমিতির সভাপতি, মুক্তিযোদ্ধা সংহতি পরিষদের সভাপতি, ঘাতক দালাল নিমূল কমিটির সাতক্ষীরা জেলা সভাপতি, সাতক্ষীরা উন্নায়ন সংগ্রাম সমন্নয় কমিটির সভাপতি সহ অশংখ সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনের সাথে তিনি যুক্ত ছিলেন। তিনি ছিলেন সাতক্ষীরার নিরপেক্ষ দৈনিক পত্রদূতের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক। ১৯৯৬সালে ১৯শে জুন সাতক্ষীরার নিজ পত্রিকা অফিসে কর্মরত অবস্থায় রাত ১০টা ২৩ মিনিটে আততায়ীর হাতে খুন হন। তিনি ছিলেন বাঙ্গালী জাতীয়তা বাদের প্রতিষ্ঠা, গণমানুষের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় তিনি আজীবন সংগ্রাম করে গেছেন। তার অকাল মৃত্যুতে সাতক্ষীরা বাসী অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। আমৃত্যু যা সবাইকে বহণ করে যেতে হবে। ১৯৯৬সাল থেকে ২০১০সময়ের ব্যাবধানে কেটেছে অনেক বছর আজও আলাউদ্দীন হত্যার বিচার হয়নি। “বিচারের বাণী নিভৃতে কাঁদে” মরহুম আলাউদ্দীন ভাই যে দলের নেতা ছিলেন সেই দল সরকারে থাকা অবস্থায় তিনি খুন হন।  তিনি শুধু রাজনৈতীক নেতা ও সমাজ কর্মী নন তিনি ছিলেন একজন সাংবাদিকও। দীর্ঘ ১৫বছর সাংবাদিক সমাজ এই ঘৃনিত বরবর হত্যার বিচার দাবী করে মাঠে রয়েছে। স.ম আলাউদ্দীন ঘুরে বেড়িয়েছেন শহর থেকে গ্রাম কখনো মটর সাইকেল, আবার কখনও পায়ে হেটে। সাধারন মানুষের কথা তিনি শুনেছেন কারোর অভাব, আভিযোগের কথা গুলো তিনি ভাল ভাবে শুনতেন মাটি ও মানুষের সাথে তার ছিল নিবিড় সম্পর্ক। এই মানুষটির মৃত্যুতে আজ তারা শোকাহত মর্মাহত আজও সাতক্ষীরা তথা তালার পাটকেলঘাটা হাজার হাজার মানুষ স.ম আলাউদ্দীনের কথা স্বরণ করে। আলাউদ্দীন ভাইকে কে বা কারা হত্যা করেছিল সাতক্ষীরায় এটা কারও অজানা নয়। আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে মামলাটি। খুনি চক্র কেন এই জনপ্রিয় মানুষটিকে খুন করেছিল বিষয়টি সবার কাছে স্পষ্ট। দীর্ঘ ১৫বছরেও এ হত্যা কান্ডের বিচার হয়নি। সাতক্ষীরা মানুষের কাছে তিনি আজও সাতক্ষীরার রূপকার হিসাবে চিরস্বরণীয় হয়ে আছেন। আজও মানুষ তার কথা স্বরণ করে। কবর জিয়ারত করে। ফেলে আসা দিন গুলো মনে করে স্বাধীনতা সংগ্রামে তিনি ছিলেন অকুতো ভয়। নিজের জীবনকে বাজী রেখে তিনি  দেশকে স্বাধীন করেছেন। আমরা সশ্রদ্ধ চিত্তে স্বরণ করি এই মানুষটিকে। কামনা করি তার রূহের মাগফিরাত।

 

Ads small one

প্রায় ৭৫ হাজার মামলা বিচারাধীন: বিচারক ১০ গুণ বাড়ালেও জট নিরসন সম্ভব নয়: সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২৬, ১২:০৩ পূর্বাহ্ণ
প্রায় ৭৫ হাজার মামলা বিচারাধীন: বিচারক ১০ গুণ বাড়ালেও জট নিরসন সম্ভব নয়: সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ

বদিউজ্জামান: সাতক্ষীরা জেলায় বর্তমানে প্রায় ৭৫ হাজার মামলা বিচারাধীন রয়েছে। বিদ্যমান বিচারকের সংখ্যার চেয়ে দশ গুণ বেশি বিচারক নিয়োগ দেওয়া হলেও শুধু প্রচলিত বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কাঙ্খিত সময়ে এসব মামলার নিষ্পত্তি সম্ভব হবে না। তাই আদালতের মামলা জট কমাতে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি (এডিআর) এবং লিগ্যাল এইডের মাধ্যমে আপসযোগ্য মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।
বুধবার (২৯ জুলাই) বিকেলে জেলা জজ আদালতের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির মাসিক সভায় সভাপতির বক্তব্যে এসব কথা বলেন জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির চেয়ারম্যান এবং সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম।
তিনি বলেন, আপসযোগ্য মামলাগুলো লিগ্যাল এইড অফিসের মাধ্যমে উভয় পক্ষের সম্মতিতে নিষ্পত্তি করা গেলে শুধু একটি মামলারই অবসান ঘটে না, বরং দুই পরিবারের মধ্যে বিরাজমান বিরোধ ও তিক্ততারও অবসান ঘটে। এতে সামাজিক সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠিত হয় এবং আদালতের ওপর মামলার চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পায়।
তিনি আরও বলেন, বিচারপ্রার্থীদের দ্রুত ও সহজে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সরকার জাতীয় আইনগত সহায়তা কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করেছে। এ লক্ষ্যে আইন সংশোধনের মাধ্যমে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির সুযোগ সম্প্রসারণ করা হয়েছে। বর্তমানে বেশ কিছু ধরনের মামলা আদালতে দায়েরের আগে বাধ্যতামূলকভাবে জেলা লিগ্যাল এইড অফিসে আপসের উদ্যোগ গ্রহণের বিধান রয়েছে। এই উদ্যোগকে সফল করতে বিচারক, আইনজীবী, সরকারি কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট সকলের সমন্বিত সহযোগিতা প্রয়োজন।
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাইদুর রহমান এবং জেলা আইনজীবী সমিতির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট বিএম মিজানুর রহমান পিন্টু। এছাড়া বক্তব্য দেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট রিপন বিশ্বাস, পুলিশ সুপারের প্রতিনিধি, জেলা তথ্য কর্মকর্তা মোঃ জাহারুল ইসলাম, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পিপি শেখ আলমগীর আশরাফ, প্যানেল আইনজীবী খায়রুল বদিউজ্জামান, অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ মুনিরউদ্দিন, অ্যাডভোকেট ফারজানা ইয়াসমিন লিমা, অ্যাডভোকেট নাজমুন নাহার ঝুমুর, অ্যাডভোকেট মো. জিয়াউর রহমান, অ্যাডভোকেট আকরাম আলীসহ অন্যান্যরা। সভায় সাতক্ষীরা বিচার বিভাগের বিভিন্ন পর্যায়ের বিচারক, জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির প্যানেল আইনজীবী এবং বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


সভায় পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপনার মাধ্যমে লিগ্যাল এইড আইন সংশোধন-সংক্রান্ত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরেন চিফ লিগ্যাল এইড অফিসার (যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ) মো. মোস্তাফিজুর রহমান। এছাড়া বিভিন্ন আইনে আপসযোগ্য মামলার পরিধি, বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির আইনি কাঠামো এবং আপসের কার্যকর পদ্ধতি বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ নয়ন বিশ্বাস।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন চিফ লিগ্যাল এইড অফিসার (যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ) মো. মোস্তাফিজুর রহমান।
সভায় বক্তারা বলেন, আদালতের মামলা জট নিরসন, বিচারপ্রার্থীদের সময় ও অর্থ সাশ্রয় এবং সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখতে লিগ্যাল এইডের মাধ্যমে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি কার্যক্রমকে আরও বিস্তৃত ও কার্যকর করতে হবে। এ জন্য বিচার বিভাগ, আইনজীবী সমাজ, প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সকল প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সাতক্ষীরা জেলা ট্রাক মালিক সমিতির কমিটি পুনর্গঠন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬, ১১:৫০ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরা জেলা ট্রাক মালিক সমিতির কমিটি পুনর্গঠন

চার কর্মকর্তার পদত্যাগের পর সাতক্ষীরা জেলা ট্রাক মালিক সমিতির কার্যকরী কমিটি পুনর্গঠন করা হয়েছে। বুধবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানায় সংগঠনটি। এর আগে গত ২৬ জুলাই রাতে আলিপুর ট্রাক টার্মিনালে সমিতির কার্যালয়ে সভাপতি তাহমিদ শাহেদ চয়নের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জরুরি সভায় শেখ সাঈদ আহমেদ, বিপুল মমিন খান চৌধুরী, তহিদুজ্জামান ও আবু হাসানের পদত্যাগপত্র গৃহীত হয়। পরবর্তীতে সর্বসম্মতিক্রমে কুতুব উদ্দিনকে কার্যকরী সভাপতি, আকবর আলীকে সহসভাপতি, রজত হাজরাকে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং শেখ মহিবুল ইসলাম দুলালকে প্রচার সম্পাদক মনোনীত করে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়। প্রেসবিজ্ঞপ্তি

 

নিখোঁজ ব্যবসায়ী হাকিমের সন্ধানের দাবিতে পরিবারের জিডি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬, ১১:৪৯ অপরাহ্ণ
নিখোঁজ ব্যবসায়ী হাকিমের সন্ধানের দাবিতে পরিবারের জিডি

পাওনা টাকা আদায়ের কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয়েছেন সাতক্ষীরা শহরের গড়কান্দা গ্রামের চা পরিবেশক ও ব্যবসায়ী আবদুল হাকিম (শাহজাহান ম-লের ছেলে)। গত ২৪ ঘণ্টায় তাঁর কোনো সন্ধান না পেয়ে চরম উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে পরিবার। এ ঘটনায় সাতক্ষীরা সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত ২৮ জুলাই কালীগঞ্জে পাওনা টাকা আদায়ের কথা বলে বাড়ি থেকে বের হন আবদুল হাকিম। এরপর থেকে তিনি আর বাড়ি ফেরেননি এবং তাঁর ব্যবহৃত মোবাইল ফোন নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। তবে কয়েকটি অপরিচিত নম্বর থেকে ফোন করে পরিবারের কাছে বিভিন্ন অঙ্কের টাকা দাবি করা হচ্ছে।
এ ঘটনায় নিখোঁজ ব্যবসায়ীর বাবা শাহজাহান ম-ল আজ ২৯ জুলাই সাতক্ষীরা সদর থানায় একটি জিডি (নং-১৮৮২) দায়ের করেছেন। নিখোঁজ ব্যবসায়ী আবদুল হাকিম দীর্ঘদিন ধরে চায়ের ডিলারের ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। ২৪ ঘণ্টা পার হলেও তাঁর কোনো খোঁজ না পাওয়ায় স্বজনেরা গভীর উৎকণ্ঠায় রয়েছেন।প্রেস বিজ্ঞপ্তি