মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩

সম্পাদকীয়/ প্রসঙ্গ: বেতনার পলি ও কৃষকের জয়গান

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬, ১:৪২ পূর্বাহ্ণ
সম্পাদকীয়/ প্রসঙ্গ: বেতনার পলি ও কৃষকের জয়গান

সাতক্ষীরায় বেতনা নদীর তীরবর্তী জনপদে এখন যে সবুজ সমুদ্রের ঢেউ দেখা যাচ্ছে, তা কেবল এক মৌসুমের বোরো আবাদ নয়; বরং তা এক দীর্ঘ লড়াইয়ের পর প্রকৃতির সাথে মানুষের সন্ধি স্থাপনের গল্প। গত কয়েক বছর ধরে জলজট আর পলির অভিশাপে যে মাটি ছিল পরিত্যক্ত, আজ সেখানে ব্রি-ধান ৮৮ আর ১০১ জাতের ধানের শীষ সোনার স্বপ্ন দেখাচ্ছে। সাতক্ষীরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে আবাদ হওয়া ৮২ হাজার ৭৩৫ হেক্টর জমির এই চিত্র বলে দিচ্ছে, অবরুদ্ধ জলাবদ্ধতার অবসান ঘটলে এই জনপদ কতটা উর্বর হয়ে উঠতে পারে।
বেতনা তীরের ধুলিহর, ব্রহ্মরাজপুর আর ফিংড়ী ইউনিয়নের কৃষকেরা দীর্ঘ ৬-৭ বছর যে কষ্ট সয়েছেন, তা বর্ণনাতীত। পানির নিচে থাকা কচুরিপানা ও আগাছা পচে প্রাকৃতিকভাবে যে জৈব সার তৈরি হয়েছে, তা এবার ফলন বৃদ্ধিতে আশীর্বাদ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ঘেরের জমিতে মাছ চাষের পর সেই পলিতে ধানের আবাদ করে দ্বিগুণ আয়ের যে সুযোগ তৈরি হয়েছে, তা এই অঞ্চলের কৃষি-অর্থনীতিতে নতুন এক মডেল হিসেবে দেখা দিতে পারে।
তবে এই সোনালী স্বপ্নের পথে এখনো কিছু কাঁটা রয়ে গেছে। কৃষকের প্রধান উদ্বেগের নাম এখন ‘ডিজেল সংকট’। বোরো আবাদ যেহেতু সম্পূর্ণ সেচ-নির্ভর, তাই শেষ মুহূর্তে তেলের অভাবে সেচ বিঘিœত হলে মাঠের ফসল মাঠেই জ্বলে যাওয়ার শঙ্কা থেকে যায়। এছাড়া ধানের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য থামানো না গেলে কৃষকের হাড়ভাঙা খাটুনির সুফল তাদের ঘরে পুরোপুরি পৌঁছাবে না।
বেতনার তীরে এখন যে নতুনের পদধ্বনি শোনা যাচ্ছে, তাকে টেকসই করতে হলে নদী খনন ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা সচল রাখা জরুরি। আমরা আশা করি, কৃষি বিভাগের সঠিক তদারকি আর প্রশাসনের ডিজেল সরবরাহ নিশ্চিত করার মধ্য দিয়ে সাতক্ষীরার কৃষকের এই ‘বাম্পার’ ফলন নির্বিঘেœ গোলায় উঠবে। বেতনার পলিভেজা মাটি যে সোনা ফলাতে পারে, এবার তার প্রমাণ মিলেছে। এখন প্রয়োজন কেবল সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা আর কৃষকের মেহনতের সঠিক মূল্যায়ন।
বেতনার তীরে এই হাসি যেন শুধু এক মৌসুমের না হয়; এটি যেন হয় সাতক্ষীরার কৃষি বিপ্লবের স্থায়ী রূপরেখা।

Ads small one

মিনা শিশুদের জন্য জনপ্রিয় টিভি কার্টুন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:১৪ পূর্বাহ্ণ
মিনা শিশুদের জন্য জনপ্রিয় টিভি কার্টুন

প্রকাশ ঘোষ বিধান

মিনা হলো দক্ষিণ এশিয়ার শিশুদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি শিক্ষামূলক অ্যানিমেশন কার্টুন। ইউনিসেফ এর উদ্যোগে শিশুদের অধিকার রক্ষা, স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং লিঙ্গ বৈষম্য দূরীকরণের বার্তা ছড়িয়ে দিতে এই কার্টুনটি তৈরি করা হয়। ১৯৯০-এর দশক থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত এটি বাংলাভাষী শিশুদের হৃদয়ে একটি বিশেষ স্থান দখল করে আছে।

মিনা কার্টুনটি শুধুমাত্র বিনোদনের জন্য নয়, বরং এর প্রতিটি পর্বের পেছনে একটি গভীর সামাজিক বার্তা থাকে। মিনাকে স্কুলে পাঠানোর জন্য তার বাবার সম্মতি আদায়ের গল্প। ডায়রিয়া প্রতিরোধে খাবার স্যালাইন তৈরি, বিশুদ্ধ পানির ব্যবহার এবং হাত ধোয়ার গুরুত্ব। ছেলে ও মেয়েদের মধ্যে খাবার বা শিক্ষার ক্ষেত্রে বৈষম্য দূর করা। বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ এবং শিশু পাচার রোধে সচেতনতা তৈরি করা।

কার্টুনের প্রধান চরিত্র মিনা। সে একজন ৯ বছর বয়সী সাহসী, বুদ্ধিমান ও অনুসন্ধিৎসু মেয়ে, যে তার গ্রামের নানা সামাজিক সমস্যার বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়। মিনার ছোট ভাই রাজু। সে মিনার সাথে বিভিন্ন অভিযানে অংশ নেয়। মিনার পোষা তোতাপাখি মিঠু। মিঠু অত্যন্ত চতুর এবং মিনার বিশ্বস্ত সঙ্গী, যে অনেক বিপদে মিনাকে বুদ্ধি দিয়ে সাহায্য করে। মিনার পোষা গরু লালি।
প্রতি বছর ২৪ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে মীনা দিবস পালন করা হয়। ইউনিসেফের সহায়তায় ১৯৯৮ সাল থেকে এই দিবসটি উদযাপিত হয়ে আসছে। যার মূল উদ্দেশ্য হলো; শিশুদের বিশেষ করে কন্যাসন্তানদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য সচেতনতা, বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ এবং সমঅধিকার রক্ষা করা।

দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন ভাষায় নির্মিত একটি জনপ্রিয় টিভি কার্টুন মীনা। ১৯৯৩ সালে প্রথম বাংলাদেশ টেলিভিশনে প্রচারিত হয়। দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোতে বিভিন্ন সামাজিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরি এবং শিশুদের জন্য শিক্ষামূলক অনুষ্ঠানের একটি অংশ হিসেবে ইউনিসেফের সহায়তায় এই কার্টুন ধারাবাহিকটি নির্মিত হয়। কার্টুন ধারাবাহিকের মূল চরিত্র বাংলা ভাষায় নির্মিত কার্টুনগুলোর মধ্যে একটি অন্যতম জনপ্রিয় চরিত্র। মীনা কার্টুন শুধু বাংলায় তৈরি হয়নি। বাংলা, হিন্দি, ইংরেজি, নেপালি-সহ ২৯টি ভাষায় মীনা তৈরি হয়েছে। মীনা কার্টুনের মীনা চরিত্রের রূপদানকারী বিখ্যাত ভারতীয় কার্টুনিস্ট রাম মোহন এবং ইউনিসেফের নিল ম্যাককি ছিলেন কার্টুন সিরিজটির স্্রষ্টা।

মীনা দিবস হলো শিশুদের সুন্দর ভবিষ্যৎ ও অধিকার নিশ্চিত করার একটি সচেতনতামূলক উৎসব। বিদ্যালয়গুলোতে শিশুদের জন্য মীনা কার্টুন প্রদর্শনী, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর আয়োজিত বিভিন্ন ইভেন্ট। শিশুদের অধিকার নিয়ে সচেতনতামূলক নাটক ও র‌্যালির আয়োজন করা হয়। গল্প বলা বা কুইজ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে শিশুদের পুরস্কৃত করে উৎসাহিত করা হয়।

মীনা কার্টুনের প্রধান চরিত্র মীনা শিক্ষার জন্য নানা প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে লড়াই করে। দক্ষিণ এশিয়ায় ছেলে ও মেয়ে শিশুর মধ্যে যে বৈষম্য করা হতো, তা দূর করতে মীনা একটি প্রতীকী চরিত্র। এই দিনে বিভিন্ন আয়োজনের মাধ্যমে শিশুদের শেখানো হয় যে ছেলে ও মেয়ে উভয়ই সমান সুযোগ পাওয়ার অধিকারী। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা, খাওয়ার আগে হাত ধোয়া, নিরাপদ পানি ব্যবহার এবং সঠিক পুষ্টি গ্রহণের মতো প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যবিধিগুলো মীনা দিবসে শিশুদের খেলার ছলে ও আনন্দের মাধ্যমে শেখানো হয়। বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ, শিশুশ্রম বন্ধ এবং শিশুদের যেকোনো ধরনের নির্যাতন থেকে রক্ষা করার সচেতনতা তৈরিতে এই দিবসটি বড় ভূমিকা রাখে।

দক্ষিণ এশিয়ায় ছেলে ও মেয়ে শিশুর মধ্যে যে বৈষম্য করা হতো, তা দূর করতে মীনা একটি প্রতীকী চরিত্র। মীনা কার্টুন চরিত্রটি শিশুদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়, যার মাধ্যমে শিক্ষণীয় বার্তাগুলো সহজে তাদের মধ্যে পৌঁছে যায়। এই দিনে বিভিন্ন আয়োজনের মাধ্যমে শিশুদের শেখানো হয় যে ছেলে ও মেয়ে উভয়ই সমান সুযোগ পাওয়ার অধিকারী।
লেখক : সাংবাদিক ও কলামিস্ট

কেশবপুর উপজেলার ভালুকঘর বাজারে বিট পুলিশিং সভা অনুষ্ঠিত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:০৬ পূর্বাহ্ণ
কেশবপুর উপজেলার ভালুকঘর বাজারে বিট পুলিশিং সভা অনুষ্ঠিত

কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি: যশোরের কেশবপুর উপজেলার সাতবাড়িয়া ইউনিয়নের ভালুকঘর বাজারে সোমবার সন্ধ্যার পর ভালুকঘর ক্যাম্প ইনচার্জ দেব কুমার এর সভাপতিত্বে বিট পুলিশিং সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

 

উক্ত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন কেশবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ হাফিজুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও চেয়ারম্যান গাজী গোলাম মোস্তফা বাবু, সাধারণ সম্পাদক ইউপি সদস্য এস এম রফিকুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল হোসাইন, ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি মাহবুর রহমান।

 

আরো উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সহ সম্পাদক মোঃ আব্দুল জব্বার, ৯ নং ওয়ার্ডের সভাপতি হায়দার আলী সহ-সভাপতি জিয়াউর রহমান, সাধারণ সম্পাদক আজহারুল ইসলাম আজু, বাজার কমিটির সভাপতি লুৎফর রহমান, সাধারণ সম্পাদক যুবদল নেতা আবু হাসানসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি। বক্তারা মাদক, চুরি, ছিনতাই, সন্ত্রাস, ইভটিজিং ও কিশোর গ্যাং প্রতিরোধ সচেতনতামূলক বক্তব্য প্রদান করেন ।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে সাতক্ষীরার প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে পরিচ্ছন্নতা অভিযান

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:৫৫ পূর্বাহ্ণ
ডেঙ্গু প্রতিরোধে সাতক্ষীরার প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে পরিচ্ছন্নতা অভিযান

সংবাদদাতা: ডেঙ্গু প্রতিরোধে সাতক্ষীরার ১ হাজার ৯৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কিন্ডারগার্টেনগুলোতে পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার পাশাপাশি কোথাও যাতে দীর্ঘ সময় পানি জমে না থাকে, সেদিকে বিশেষ নজর দিতে বলা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করতে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রুহুল আমীন বলেন, বিদ্যালয়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা অভিযান শিক্ষার্থীদের নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি শিক্ষার্থীদের নিজেদের বাড়ি, বিদ্যালয় ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে বাড়ির আঙিনা, ছাদ, ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্রসহ যেসব স্থানে পানি জমতে পারে, সেসব স্থান নিয়মিত পরিষ্কার রাখার পরামর্শ দেন।

প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগ জানিয়েছে, ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতার পাশাপাশি নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জরুরি। মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করতে বিদ্যালয়, পরিবার ও স্থানীয় পর্যায়ে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।